Month: November 2025

  • চট্টগ্রামে বহুতল ভবনের কম্বলের গুদামে অগ্নিকাণ্ড, ৭ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে

    চট্টগ্রামে বহুতল ভবনের কম্বলের গুদামে অগ্নিকাণ্ড, ৭ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে

    চট্টগ্রাম মহানগরীর কদমতলী এলাকায় একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মোট সাতটি ক্র কম্বলের গুদামটি সম্পূর্ণভাবে ঝলসে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়। ভবনটির পঞ্চম তলায় অবস্থিত এই গুদামটিতে আগুন লাগে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কোতয়ালী থানাধীন কদমতলী পোড়া মসজিদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল গিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা শুরু করে।

    আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, প্রথমদিকের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের একটি প্রধান কারণ হচ্ছে গুদামে সংগ্রহিত কম্বলদানের মধ্যে অগ্নিসংযোগ বা অসাবধানতা থাকতে পারে। তবে বিস্তারিত কারণ জানা যাবে তদন্তের পরে।

    স্থানীয় লোকজন ও গুদামের কর্মীরা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে আগুন নেভাতে সহায়তা করেন। এই অগ্নিকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুনের সম্পূর্ণ কারণ তদন্তের মাঝে রয়েছে।

  • তাপসের ২১ ব্যাংকের ১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ফ্রিজের আদেশ

    তাপসের ২১ ব্যাংকের ১০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ফ্রিজের আদেশ

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস সহ তার দুই ছেলে শেখ ফজলে নাশওয়ান ও শেখ ফজলে নাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা মোট ২১টি ব্যাংক হিসাব আদালতের আদেশে ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে এই হিসাবগুলোতে মোট মূল্যমান ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৪ হাজার ৭৯৫ টাকা রয়েছে।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান ব্যাংক হিসাবগুলো ফ্রিজের জন্য আবেদন করেছিলেন। আদালতে তিনি বলেন, শেখ ফজলে নূর তাপসের অর্জিত সম্পদের পুরো যোগান জানতে পারা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২১টি ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করা গেছে। যাতে অস্থাবর সম্পদ যাতে চুরি, স্থানান্তর বা অবৈধভাবে বেহাত না হয়, এজন্য এই ফ্রিজের আদেশ দেওয়া জরুরি।

    অবগতির জন্য জানানো হয়েছে, এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি দুদকের দায়ের করা মামলায় তাপসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। মামলায় বলা হয়, তাপস ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। তিনি নিজ নামে ২৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্টের মধ্যে ৩০৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫২৮ টাকা জমা এবং ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন। এর ফলে তার ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ মোট ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা। সেই সঙ্গে তিনি ২ লাখ ৬৩ হাজার মার্কিন ডলার জমা ও ২ লাখ ৫৩ হাজার মার্কিন ডলার উত্তোলন করেছেন। এই লেনদেনের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৫২৭ মার্কিন ডলার লেনদেনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।

  • প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন আয়োজনে কমনওয়েলথের সহযোগিতা চেয়ে দিন জানান

    প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন আয়োজনে কমনওয়েলথের সহযোগিতা চেয়ে দিন জানান

    আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনার জন্য কমনওয়েলথের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে-এর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন কার্যক্রমের জন্য আপনাদের সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি কমনওয়েলথের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতপ্রত্যাশী একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    অপরপক্ষে, কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বাংলাদেশের সমর্থনে আশ্বাস দেন, তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, কমনওয়েলথের ৫৬ সদস্য দেশ রয়েছে, যেখানে জি-৭ ও জি-২০-এর সদস্যরাও থেকে গেছে, ফলে বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক সম্পদটিকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    এর আগে, মহাসচিব বাংলাদেশে অবস্থানকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনা করেন, যেমন প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।

    বৈঠকে জানা যায়, নির্বাচনের আগে কমনওয়েলথ বেশ কিছু পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, যুবশক্তি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরী, সামাজিক ব্যবসা বৃদ্ধি, বেকারত্ব কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও বৈষম্য দূরীকরণের জন্য ‘থ্রি-জিরো’ ভিশন চালু রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

  • নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুলের আরও ৪৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের নির্দেশ

    নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুলের আরও ৪৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের নির্দেশ

    জানানো হলো যে, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারে বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ভারতের তদন্তকারী সংস্থা দুদক তার সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে। আদালত গুলশানের ৩৯ দশমিক ৭৫ কাঠার একটি প্লটসহ মোট ৪৮৭ শতক জমি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। এই জব্দের আদেশ প্রদান করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ। এই সম্পদের আনুমানিক মূল্য হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি ৭৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

  • আকাশের তারার মতো সাংবাদিক নিবর্তনের ধারা: অ্যাটর্নি জেনারেল

    আকাশের তারার মতো সাংবাদিক নিবর্তনের ধারা: অ্যাটর্নি জেনারেল

    দেশের আইনগুলো সাংবাদিক স্বাধিকার তথা মুক্তির পক্ষে নয়—এটা স্পষ্ট করে বলেছেন দেশের প্রধান আইনমন্ত্রী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র বিভিন্ন পথ করে রেখেছে সাংবাদিকদের নিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য। এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আকাশের অনেক তারার মতো আইনের ধারা রয়েছে, যা দিয়ে সাংবাদিকদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।’ সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বেঙল কনভারসেশন ২০২৫’ সম্মেলনের তৃতীয় দিনে এক বক্তৃতায় এই কথা বলেন তিনি। তিনি মূলত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কিত প্রতিবেদন: ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পর্বে অংশগ্রহণ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নিষেধাজ্ঞামূলক আইনের ধারা এবং তার প্রয়োগের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতা যেই থাকুক না কেন, সবসময়ই সরকারের মনোভাব থাকে সাংবাদিকদের দমন করার। তিনি উল্লেখ করেন, দেশকে উন্নত ও মুক্ত করতে হলে কেবল আইন পরিবর্তনই নয়, দেশের মানসিকতা ও মনোভাবও পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তবে শুধুমাত্র আইন পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। এর জন্য দরকার রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও মানসিক পরিবর্তন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, শুধু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করলে সমাধান হবে না, এব্যাপারে আরও গভীর আলোচনা ও পরিবর্তনের প্রয়োজন। অ্যাটর্নি জেনারেল মনে করেন, দুর্নীতি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাগুলো কমে গেছে, তবে আরও উন্নতি দরকার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পরবর্তী সরকার সকল নিষেধাজ্ঞা ও নিবর্তনমূলক আইনের পথ থেকে ফিরে আসবে এবং উন্নত গণমাধ্যম সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। এই আলোচনায় আরও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী এবং ট্রায়াল ওয়াচের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম ম্যানেজার মানেকা খান্না।

  • নির্ধারিত নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলেও উদ্বেগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    নির্ধারিত নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হলেও উদ্বেগ নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    নির্বাচনের আগের সময়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে প্রশ্নেআশা করলে তিনি নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশের পরিমাণ বাড়তে থাকবে।

    তিনি যোগ করেন, যখন তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন আইনশৃঙ্খলা খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। একদশক পেরিয়ে গেল, এরপর একে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেড় বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে নিয়েছে।

    একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মন্তব্যে তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ অপরাধ চলছে, তা দেখে মনে হয় কি আমরা এক কঠিন সময় পার করছি—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতামত থাকলেও, তিনি তাদের যোগ্যতা নিয়ে অবগত নন। কারণ বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্লেষক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করছে; তবে কারা কত যোগ্যতা নিয়ে বিশ্লেষক হয়েছে, সেটিও তার জানা নেই।

    এক প্রশ্নে ভূমিকম্প সম্পর্কেআরো জানাতে গিয়ে বলেন, অন্য কোনো দেশে ভূমিকম্পের জন্য আগাম সতর্কতা থাকলেও আমাদের দেশে এর ব্যবস্থা নেই। কিছু দেশে এমন অ্যাপ বা প্রযুক্তি রয়েছে যেখানে মাত্র দশ সেকেন্ড আগে সতর্কতা দেয়া যায়; এই বিষয়টি নিয়েও তিনি ভাবছেন। তিনি আরও বলেন, বেশ কিছু সময়ের ব্যবধানে ভূমিকম্প হলে সাধারণত দ্বিতীয়টি ছোট আকারের হয়। তবে এই বিষয়ে তারা বিশেষজ্ঞ নন, তাই বিষয়টি পরবর্তীতে আকাশবীরদের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝে নেবেন।

    অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ভবিষ্যতে ভবন নির্মাণে নির্মাণ কোডয়ের মান মানার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। বলেন, জলাশয় ভরাট করে নির্মিত ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। ভূমিকম্প হলে কারো দাঁড়িয়ে থাকার জন্য কিছু খেলার মাঠ বা খোলা জায়গা থাকা দরকার। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে।

    সাম্প্রতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অংশ হিসেবে মধ্যরাতে এক সাংবাদিককে ডিবি তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকের মাধ্যমে রিপোর্টে যে কাজটি হয়েছে, তা সাংবাদিকদের নয়, বরং অন্য ধরনের কাজ ছিল বলে তাঁরা মনে করছেন।

  • সিলেট সীমান্তে ভারতের খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

    সিলেট সীমান্তে ভারতের খাসিয়ার গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

    সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে লোভাছড়া সীমান্তের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে কানাইঘাট থানা পুলিশ। এই ঘটনা কাদেরের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত যুবকের নাম জামাল উদ্দিন, বয়স ৪৫ বছর। তিনি কানাইঘাট উপজেলার কান্দলা (বাংলাটিলা) গ্রামের মৃত মকরম আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে তিনি তার বাড়ি থেকে বের হন। তারপর রাত ১১টার দিকে ভালুকমারা গ্রামের পাশে বাংলাদেশ সীমান্তে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে রাতের অন্ধকারে মরদেহ উদ্ধার করে ওসি মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, জামাল উদ্দিন ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছিলেন সুপারির বাগানে। সেখানেই ভারতীয় খাসিয়া সুযোগ বুঝে গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তার সঙ্গীরা তাকে দ্রুত সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ভোরের দিকে কানাইঘাট থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ওস্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই মুহূর্তে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে এবং এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

  • শেখ হাসিনার পক্ষে গুমের দুই মামলার লড়াইয়ে জেডআই খান পান্না নিয়োগ

    শেখ হাসিনার পক্ষে গুমের দুই মামলার লড়াইয়ে জেডআই খান পান্না নিয়োগ

    দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনা বিবেচনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী জেডআই খান পান্না। একই সময়ে, এ দুই মামলার পলাতক আসামিদের পক্ষেও স্টেট ডিফেন্সের ব্যবস্থা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    আজ রবিবার (২৩ নভেম্বর), ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই নিয়োগ দেন। প্যানেলে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীও রয়েছেন।

    সকালে সাড়ে ১১টার দিকে গুমের দুই মামলার শুনানি শুরু হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে শুনানি করেন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর শনিবার এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হয়। অন্যদিকে, অপর মামলার জন্য শুনানির তারিখ নির্ধারণ হয়েছে ৭ নভেম্বর।

    শুনানির আগে শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্সে লড়তে আবেদন করেন জেডআই খান পান্না। ট্রাইব্যুনাল তার এই আবেদনে সাড়া দিয়ে তাকে নিয়োগ দেন। এছাড়াও, এই মামলার জন্য অতিরিক্ত আইনি সহায়তার জন্য এম হাসান ইমামকেও স্টেট ডিফেন্সে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    বর্তমানে, এই দুই মামলায় মোট ১৩ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন, সারওয়ার বিন কাশেম, ডিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিকী।

    আজ সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় তাদের বিশেষ প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করেছে। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা মোতায়েন থাকছেন। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত বলে জানানো হয়।

    গত ২০ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের এ দুই মামলার শুনানি ধার্য ছিল। তবে, প্রসিকিউশনের আবেদনের কারণে দিন পরিবর্তন করে আজ নির্ধারণ করা হয়। এর আগে, ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজত থাকা ১৩ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন বিচারক। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য সাত দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয় যা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

    অভিযোগের ব্যাপারে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর দুটি পৃথক মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। পরে, অভিযোগ আমলে নিয়ে তাহাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে ১৭ জন নামে আসামি রয়েছেন যারা টিএফআই-জেআইসি গোপন সেলে বন্দি থাকা অবস্থায় নির্যাতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

    অভিযোগে নাম রয়েছে- শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ আরও বেশ কয়েকজন সাবেক এবং বর্তমান নেতা ও সেনা কর্মকর্তার। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলার চুরান্ত নিরাপত্তা সঙ্গে নিয়ে, এই মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের রায় ২৭ নভেম্বর

    শেখ হাসিনাসহ ১২ জনের রায় ২৭ নভেম্বর

    প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের জন্য আগামী ২৭ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ মামলার এক আসামির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর এ সিদ্ধান্ত নেন। অপর ১১ আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে এখনো কোনও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। তারা তাদের নিজস্ব অধিকার বলে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লটের বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত ১৪ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও আটজনের বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তের পর ১০ মার্চ তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার মাধ্যমে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলায় অন্য আসামিরা হলেন – জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, রাজউক-এর সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য শফি উল হক, খুরশীদ আলম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের পাশাপাশি মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

    পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দের জন্য দুদক ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং অন্য একজনসহ অনেককে আসামি করা হয়। একটি মামলায় শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা ও শেখ হাসিনা অন্যতম আসামি, যেখানে মোট ১৭ জন। অন্য মামলায় আরও ১৮ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনা রয়েছেন। তৃতীয় মামলায় রাদওয়ান, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৮ জন আসামি।

    ৩০ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অন্যদিকে, বাকি তিনটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালীন সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা অযোগ্য হলেও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ গ্রহণ করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

  • চকবাজার থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ঝুলন্ত উদ্ধার

    চকবাজার থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ ঝুলন্ত উদ্ধার

    চট্টগ্রামের চকবাজার থানার এএসআই অহিদুর রহমান নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। আজ রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে থানার একটি ব্যারাকের টয়লেট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত অহিদুর রহমানের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার বনিদত্ত বাজারে। তার বাবা মো. শহীদুল্লাহ এবং মা হাসিনা আকতার। পুলিশ কর্মকর্তাদের আশপাশের বিষয় জানাতে গিয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাইট ডিউটির পর স্বস্তি পাওয়ার জন্য তিনি টয়লেটে যান। অনেকক্ষণ পরে যখন তার দরজায় কেউ টোকা দেন, তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখা যায়, তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।’ ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবার ও পুলিশ একজনের আত্মহত্যার কারণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।