Month: November 2025

  • বিএনপির পরিকল্পনা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার

    বিএনপির পরিকল্পনা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে—এমন পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত ইমাম-খতিব জাতীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে যে, দেশের ইমাম, খতিব এবং মুয়াজ্জিনরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা অসংখ্য সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানুষের নৈতিক এবং আত্মিক উন্নয়নে প্রশংসনীয় অবদান রাখছেন। দেশের একটি নৈতিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনে এ সকল ধর্মীয় নেতাদের অবদান অমূল্য। সেই ভাবেই, যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আর্থিক সহায়তা প্রদান।

    একারণে, বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে, প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানী ভাতা প্রদান করবে। যদি এবারের সংসদ নির্বাচনে তারা সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে এই কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

    অতিরিক্তভাবে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টকে শক্তিশালী করে আরও বেশি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে দলের। এর সাথে তিনি আলেম ও ওলামাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাধারণ মুসলমানদের চেয়ে আপনারা ইসলাম বিষয়ে বেশি সুসংগঠিত এবং বিশুদ্ধ জ্ঞানে সমৃদ্ধ। একজন মুসলমানের জন্য আবশ্যক, তওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের প্রতি অটুট বিশ্বাস। এছাড়া, কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত—এসব ইসলামবিধানের মূল ভিত্তি। এই পাঁচটি বিষয়ের উপরে সকল মুসলমানের সম্মতিও রয়েছে, তবে মাঝে মাঝে রাজনীতি বা দলীয় স্বার্থে এসব বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাসঘেঁটেই ইসলামকে এগিয়ে নিতে হবে, যাতে ধর্মের মূল আদর্শ অক্ষুণ্ন থেকে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনোই ইসলামের মূল নীতি-মূলবোধের সাথে আপস করবে না। আবারও বলি, দেশে তখনকার স্বৈরাচারী সরকারের রচিত সংবিধানে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও আস্থার কথা ছিল না। এখনো সেই বিশ্বাসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এর মধ্যে নেই। কেন এ পরিবর্তন হলো, সেটাই এখনো স্পষ্ট নয়।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি সব সময় ইসলামের স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ছিল। ২০২৪ সালে রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান বন্ধের মতো ঘটনা ছিল প্রমাণ, এটা ছিল ইসলাম ও ইসলামী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত নেতা-কর্মীদের ওপর সরকারী দমন-পীড়নের প্রতিবাদেও বিএনপি বিক্ষোভ ও কর্মসূচি দিয়েছিল।

    শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসার ডিগ্রি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ হাজারের অধিক মাদ্রাসা ও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রত্যেকটি মসজিদসহ ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনদের জন্য এই দিকটি গুরুত্বপুর্ণ। বিএনপি ভবিষ্যতে এই সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের জন্য পৃথক সার্ভিস রুল প্রণয়ন এবং তাদের দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উৎসাহ দেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    অতীতে চালু থাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের দুর্যোগপ্রতিরোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নমূলক কাজে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ মুসলমানের ধর্মীয় জীবন আরো সুন্দর ও নিরাপদ হবে, পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও সমাজে ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    অশেষ দলে দলে ঈমানদার মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা, শান্তি এবং সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। ভবিষ্যৎ স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বাস্তবসম্মত বাংলাদেশের জন্য বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সকল সম্মানিত ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা ও দোয়ার আকাঙ্খা প্রকাশ করেন।

  • নির্বাচকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের জন্য ‘হুমকি’ ও ‘মাফিয়াতন্ত্র’ কায়েমের ইঙ্গিত: চট্টগ্রাম জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা

    নির্বাচকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসনের জন্য ‘হুমকি’ ও ‘মাফিয়াতন্ত্র’ কায়েমের ইঙ্গিত: চট্টগ্রাম জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের নিন্দা

    চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী দ্বারা দেওয়া ভাইরাল বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জরুরি বিবৃতি প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। দলটির দাবি, আফজাল বক্তব্যটি নির্বাচনের পরিস্থিতিতে একটি শঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যেখানে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, হুমকি-ধামকি এবং প্রশাসনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার গভীর ইচ্ছা প্রকাশ পায়।

    রোববার চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম-সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, পাবলিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি, গত ২২ নভেম্বর শাহজাহান চৌধুরী এক বক্তৃতায় পুলিশ-প্রশাসনকে জামায়াত দলের নেতাদের निर्देशन অনুযায়ী কাজ করতে, মামলার নির্দেশ ও গ্রেফতারি চালাতে বলেছেন। তিনি আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলের মার্কার প্রচার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে জামায়াতের প্রার্থী অনুযায়ী উন্নয়ন বরাদ্দ দিতে বলেছেন।

    বিবৃতিতে দলটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক দলে পরিণত করার চেষ্টাকরছে যা ভোটের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। তারা আরও জানায়, এই ধরনের বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করা এবং প্রশাসনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা যা একদমই কাম্য নয়।

    ডটর্য়াটিং করে জানা যায়, বাংলাদেশের জনগণের মুক্তিযুদ্ধের পর স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ, যেখানে প্রশাসন ও জনসাধারণের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নীলনকশা পরিলক্ষিত হচ্ছে যা দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

    নাগরিক পার্টি স্পষ্টভাবে বলেছে, পুলিশ ও প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের গোলাম নয়, তারা প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। দলটি প্রশাসনকে দলীয়করণ করার প্রচেষ্টা বন্ধ করতে এবং সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা প্রত্যাশা করে, বর্তমান সরকার জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে তদারকি ও নিরপেক্ষ রাখবে যাতে সব নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত হয় এবং একটি সত্যিকার মৌলিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

  • শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, গ্রেফতার ডিBNP’র দাবি

    শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, গ্রেফতার ডিBNP’র দাবি

    চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর ‘প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে’ কথাবার্তা দ্রুত দেশবাসীর মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে ফেলেছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে চট্টগ্রাম বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এই দাবি জানান। তারা বলেন, জামায়াতের নেতা শাহাজাহান চৌধুরীর মন্তব্য প্রমাণ করে, তারা আবারও এক ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত, দল বা সরকারের কোনও মতামত নয়।বিবৃতিতে নেতারা বলেন, শাহাজাহান চৌধুরীর এই মন্তব্য শুধু দায়িত্বহীন নয়, বরং ষড়যন্ত্রপ্রসূত, অগ্রহণযোগ্য এবং স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিচয়। এটি নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও উত্তেজনাকর করার একটি স্পষ্ট চেষ্টা, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে। তারা আরও উল্লেখ করেন, এই ভাষ্য প্রশাসনের প্রতি হুমকি, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত এবং ভোটাধিকার খর্ব করার অপপ্রয়াস, যা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের জন্য পরিকল্পিত একটি অপচেষ্টা। শাহাজাহান চৌধুরীর ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে স্বৈরশাসনের মনোভাব যা অতীতের মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের স্মৃতি আবারো মনে করিয়ে দেয়। নেতারা বলেন, স্বাধীন, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সব দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু তার বক্তব্য নির্বাচন ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে উসকানি দেয়ার মতো, যা একদিক দিয়ে অগ্রহণযোগ্য। এই বক্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকিতে ফেলে। বিবৃতিতে তারা শাহাজাহান চৌধুরীকে তড়িৎ retract করে নিজেকে ক্ষমা চাইতে এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। এছাড়া, এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বিএনপি সবসময় অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে থাকবে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে চট্টগ্রাম জিইসি কনভেনশনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী ও দলের প্রভাবশালী নেতা শাহাজাহান চৌধুরী বলেছিলেন, ‘সংবাদে আসবে, আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেফতার ও মামলা হবে।’ তবে, এই বক্তব্যের সময় জামায়াতের আমির উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি স্কুলের শিক্ষককে নির্দেশনা দিতে হবে, পুলিশ যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সরকারি উন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আমাদের নেতাদের কাছে পৌঁছাতে হবে।’ এ বিষয়ে জানা যায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, এই বক্তব্যটি তার ব্যক্তিগত মতামত। তিনি বললেন, প্রশাসন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে কাজ করবে, দলীয় হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই, কারণ সেটি দেশের সুশাসনের জন্য বিরোধী।

  • বিএনপি ক্ষমতা পেলে গণমাধ্যম সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি ক্ষমতা পেলে গণমাধ্যম সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে তারা গণমাধ্যমের সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসি আয়োজিত মিডিয়া সংস্কার বিষয়ক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি খুব স্পষ্ট। আমরা ৩১ দফার মাধ্যমে একে তো বলেছি যে আমরা স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমের স্বপ্ন দেখি এবং সেটি বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য আমরা একটি কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

    তিনি জানিয়েছেন, সেই কমিশন ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে এবং রিপোর্টও প্রস্তুত। তবে দুঃখের সঙ্গে জানান, রিপোর্টের ব্যাপারে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি জনগণের ভোটে আমরা সরকার আসি, তাহলে এই খাতের উন্নয়নে আমরা অগ্রাধিকার দেবে।

    স্থানীয় সময় বলছেন, বিএনপি যখনই সরকারে এসেছে, তখনই চেষ্টা করেছে গণমাধ্যমকে উন্নত ও আদর্শগতভাবে বলিষ্ঠ করে তুলতে। বর্তমান সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও বিএনপির কোনো না কোনো ইতিবাচক দিক ছিল বলে তিনি তুলে ধরেছেন।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের অনেক ইউনিয়ন বা সংগঠন রয়েছে— বিএফইউজে, ডিআরইউসহ। তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে আপনাদের দলীয় হোতে দেখা যায়। কিছু সাংবাদিক বা জার্নালিস্ট দলীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বিভিন্ন পেশাগত মূল্য থেকে দূরে সরে যেতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, if সাংবাদিকরা প্রভাবশালী বা দলীয় হয়ে যান, তাহলে সেটি ক্ষতিকর হবে।

    গত ১৫ বছরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, এই সময়ে গণমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা প্রভাব বিস্তার করেছে। এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের উচিত শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং স্বাধীনতা রক্ষা করা।

  • জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল নিষেধাজ্ঞা জারি

    জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল নিষেধাজ্ঞা জারি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের প্রার্থীরা এখন থেকে কোনো ধরনের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বা র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সাধারণ জনতার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

    আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) এক গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারা জানান, নির্বাচনী প্রচারণার নামে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে দেখা যায় প্রচুর মোটরসাইকেল র‌্যালি ও শোভাযাত্রা। এ ধরনের কর্মসূচির ফলে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে এবং কিছু আহতও হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে, জামায়াতের নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, যে কোনও পরিস্থিতিতে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সেই জন্য তারা সকল নির্বাচনী এলাকায় এখন থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বন্ধের ঘোষণা দেন।

  • আওয়ামী লীগ করার জন্য যেন বিচার না হয়, এই আশঙ্কায় আমির হোসেনের আবেদন

    আওয়ামী লীগ করার জন্য যেন বিচার না হয়, এই আশঙ্কায় আমির হোসেনের আবেদন

    শুধু আওয়ামী লীগ করার কারণেই যেন যেন কোনও ধরনের বিচার না হয়, এমনই আবেদন করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, যিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে এই আবেদন তোলেন। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কুষ্টিয়ায় জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে ছয়জনকে হত্যা ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানি চলাকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রসিকিউশন পক্ষের সূচনামূলক বক্তব্য শেষে এই আবেদন করেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মন্তব্য শোনেন। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বিচারকাজ শুরু হলে প্রথমে হনিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সূচনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন প্রসিকিউটার মিজানুল ইসলাম, যা মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের উল্লেখ সঙ্গে এ অপরাধের দায় মুক্তির কোনও সুযোগ নেই বলেও মনে করছেন তারা। এই মামলায় চারজনের সবাই পলাতক রয়েছেন, তবে আসামিদের অনুপস্থিতিতেও বিচার চলার আইন প্রণয়ন আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউটর। তার এই কথায় ট্রাইব্যুনালও সম্পৃক্ত হন এবং জানানো হয় যে, এই বিচার কোনও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে হত্যা করেন হানিফরা—যার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। সেই সঙ্গে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, ‘আমি প্রসিকিউশন পক্ষের কিছু অংশের সাথে একমত, তবে আমরা (আসামিরা) আওয়ামী লীগ করি। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার জন্য যেন বিচার করা হয় না।’ ট্রাইব্যুনাল এই মন্তব্যের জবাবে বলেন, ‘আমরা এখানে ন্যায়বিচার করতে এসেছি, এর জন্য আল্লাহকে সাক্ষী করে বলছি, কোনো নির্দোষ মানুষ যেন অত্যাচারে বিচার না হয় এবং অভিযুক্তরাও তাঁদের ন্যায়বিচারের অধিকার রাখে।’ এ মামলায় মোট ৩৮ জন সাক্ষী রয়েছে, যার মধ্যে শহীদ পরিবারের ৮ জন, প্রত্যক্ষদর্শী ৮ জন, আহত ৮ জন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৬ জন, পুলিশ ১ জন, সাংবাদিক ১ জন, জব্দ তালিকা ২টি, বিশেষজ্ঞ ২ জন, তদন্তকারী ২ জন। এই সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী শুনানি ৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়। হানিফ ছাড়া অন্য তিন আসামির মধ্যে আছেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতা রহমান। আদালত আদালতে চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং অন্যরা। এর আগে, ২৮ অক্টোবর হানিফসহ পলাতক চার আসামির পক্ষে অভিযোগ দাখিলের সময় অভিযোগের ব্যাপারে আলোচনা হয়। সেই সময়, শুরুতে এই বিষয়ে প্রসিকিউটরদের সমালোচনা করা হয়, এরপর আসামির পক্ষ থেকে তিনটি অভিযোগ তুলে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। এর আগে ২৭ অক্টোবর এই শুনানি সম্পন্ন হয়। ২৩ অক্টোবর পলাতক চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ও তাদের হাজির করার নির্দেশনা জারি হয়, তবে তারা আদালতে আসেনি বলে তাদের জন্য নোটিশে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এই ঘটনাগুলোর কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দাখিল করেন।

  • প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার রায় নির্ধারিত ১ ডিসেম্বর

    প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলার রায় নির্ধারিত ১ ডিসেম্বর

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দের আন্দোলনে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের মামলার রায় ঘোষণা হবে আগামী ১ ডিসেম্বর। মামলার যুক্তিতর্ক শেষে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকা চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ তারিখ নির্ধারণ করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    দুদকের আইনজীবীরা জানান, মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে দেখা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ রেহানাকে। এছাড়া মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তার মেয়েও অন্তর্ভুক্ত, মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার সব যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন হয়।

    সাক্ষীদের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ করেছেন শেখ হাসিনা। এতে মূল আসামিদের জেল মৃত্যুদণ্ডের শঙ্কাও দেখা যাচ্ছে বলে দুদকের আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন।

    পূর্বাচলে শেখ হাসিনা পরিবারের জন্য প্লট চাওয়ার সময়, শেখ রেহানা নিজের জন্যও প্লটের আবেদন করেছিলেন। পরে, ক্ষমতার দৌরাত্ম্য কাজে লাগিয়ে রাজউককে প্লট বরাদ্দের আদেশ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাসিনার অস্বচ্ছভাবে হলফনামা দিয়ে ১০ কাঠা সরকারি জমির মালিক হন রেহানা। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করে।

    আদালতে ৩২ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দির পাশাপাশি, অবৈধ নির্দেশনামা ও ভুয়া হলফনামাসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করেন দুদকের আইনজীবীরা। মঙ্গলবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ১ ডিসেম্বর দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করার জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

    সাক্ষীদের বক্তব্যে উঠে আসে, শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দের জন্য সেদের ওপর চাপ দেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। এতে, যদিও তিনি নিজে প্লট পাননি, আদালত এই মামলার মূল আসামি হিসেবে তার নামও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। দুদকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায়ে হাসিনা-রেহানা ছাড়াও টিউলিপেরও যাবজ্জীবনের শাস্তি হতে পারে।

    অভিযুক্ত একমাত্র গ্রেফতার আসামি হিসেবে রায়ে রাজউকের সাবেক কর্মকর্তা খুরশিদ আলমের আইনজীবীরা বলেন, তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে উচ্চতর কর্তব্য পালন করছিলেন।

    অভিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াখি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, তদন্তের সঙ্গে যুক্ত দুই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদও এই মামলার আসামি।

  • রামগঞ্জে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীর হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেপ্তারী অভিযানে পুলিশ

    রামগঞ্জে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীর হত্যাকা-ের ঘটনায় গ্রেপ্তারী অভিযানে পুলিশ

    লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর ওপর জোড়পূর্বক হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের নাগমুদ বাজারে। কথাকাটাকাটির জেরে স্থানীয় এক যুবক ওই ব্যবসায়ীককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    নিহত আনোয়ার হোসেন (৫০) ভোলাকোট ইউনিয়নের সাহারপাড়া গ্রামের আলী রেজা বেপারীর ছেলে। অপরাধী ইউছুফ একই গ্রামের মাইঝের বাড়ির এরশাদ মিয়ার ছেলে, যা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে দোকানে বসেছিলেন আনোয়ার। এসময় হঠাৎ ইউছুফ সেখানে এসে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ইউছুফ তাকে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানেই ধারালো চাকু দিয়ে বুক ও পেটে আঘাত করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আনোয়ারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আনোয়ার ও ইউছুফের মধ্যে কী কারণে কথাকাটাকাটি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    নিহত আনোয়ারের স্ত্রী জান্নাত আক্তার সাথি বলেন, তার স্বামীকে কেন হত্যা করা হলো, সেটার কারণ তিনি জানেন না। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আমির ফয়সাল জানান, নিহতের বুক ও পেটে বেশ কয়েকটি ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু ঘটায়।

    রামগঞ্জ থানা ওসি আব্দুল বারী বলেন, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউছুফ নামে একজন আনোয়ার হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে গেছে। তার খোঁজে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচন তপশিল ঘোষণা করবে ইসি: সানাউল্লাহ

    ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচন তপশিল ঘোষণা করবে ইসি: সানাউল্লাহ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের সময়সূচী ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তিনি এ কথা জানান।

    নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য কোনও ধরনের ব্যত্যয় বা অনিয়মের চেষ্টা কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। তিনি আরও জানান, আগামী সংসদ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক, এতে ভোটার উপস্থিতি ব্যাপক হবে।

    তিনি নিশ্চিত করে বলেন, কোনও পর্যবেক্ষক বা সংস্থা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করতে পারবে না। পর্যবেক্ষকদের তালিকা দশ দিন আগে, অর্থাৎ তপশিল ঘোষণার দশদিন আগে নির্বাচন কমিশন জমা দেবে। মানহীন বা অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্টতা না থাকা পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন মাথায় নেয়ার দরকার নেই। हम শুধু যোগ্য ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের চাই। বিদেশি নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পর্যবেক্ষক হতে পারবে। তাদের আবেদন অবশ্যই দেশের আইন-নীতি অনুযায়ী করতে হবে।

    কমিশনার জানান, নির্বাচনের আগের দিন, দিনকাল ও পরের দিন—এই তিন দিন পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া, ভুয়া বা অবৈধ পর্যবেক্ষকদের চিহ্নিতকরণ ও নিষিদ্ধ করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পর্যবেক্ষকদের পরিচয়পত্রে যোগ হবে কিউআর কোড (QR Code), যা জালিয়াতি রোধে সহায়ক হবে।

  • কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যার মামলায় হানিফের সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ ডিসেম্বর

    কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যার মামলায় হানিফের সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ ডিসেম্বর

    কুষ্টিয়ায় জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের সময় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। এই ঘোষণা আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর একটি আদেশ দিয়ে দেয়। সাক্ষ্যপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনাল পর প্রথম দিন সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন আদালতের কৌঁসুলি মো. মিজানুল ইসলাম।

    অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে অন্য তিনজন হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। হানিফসহ এই চারজনের বিরুদ্ধে ২ নভেম্বর আদালত বিচারের আদেশ দেয়, এর আগে ৬ অক্টোবর অভিযোগ গৃহীত হয়। এই সময় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ১৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    তবে নির্ধারিত দিনে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, ফলে ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির না হওয়ার জন্য দুটি জনপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেয়। এরপর ২৩ অক্টোবর এই পলাতক আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করেন ট্রাইব্যুনাল।

    হানিফের বিরুদ্ধে তিনটি মূল অভিযোগ গৃহীত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো “কমান্ড রেসপনসিবিলিটি”, যেখানে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের বাধা দিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের যথাযথ কার্যক্রমের সময় ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে সমর্থন জানানো।

    আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ার একটি বৈঠকে ‘ছাত্র জনতাকে হত্যার জন্য সরাসরি নির্দেশ’ দেওয়া এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যা।