Month: October 2025

  • স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ২ লাখ টাকার বেশি

    স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ভরিতে ২ লাখ টাকার বেশি

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে, যা শতকরা ভিত্তিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি দাম এবার ৩ হাজার ১৫০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে, যা নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কিমত হিসেবে এটি রেকর্ড হয়েছে।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার রাতে প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য now দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭২৬ টাকা। এর আগে, শনিবার (৪ অক্টোবর) প্রতি ভরি ২ হাজার ১৯৩ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি মূল্য এখন ২ লাখ ৭২৬ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের জন্য নির্ধারিত মূল্য ১ লাক হে ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা এবং সনাতন প্রথায় প্রাপ্য স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এই দাম যে কোনও বিক্রয়মূল্যতে স্বর্ণ বিক্রির সময় সরকারের নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬% ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন এবং মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্যও হতে পারে।

    অন্যদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা ও সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশ

    সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশ

    সেপ্টেম্বরে দেশের মোট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৬ শতাংশে। এর আগে আগস্ট মাসে এটি কিছুটা কমে ৮.২৯ শতাংশ ছিল। এই মাসে দেশের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত দুই ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবিকার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পরও দেশের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্ক সবাই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সদ্য প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এই হার মানে, যদি একটি পণ্যের দাম ১০০ টাকায় চলে, তাহলে এখন সেটি কিনতে হবে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সায়, যা আগের মাসের চেয়ে বেশি।

    মূল্যস্ফীতি সাধারণত এক ধরনের করের মতো, যেখানে জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে এবং মানুষের আয়ের হার না বাড়লে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যায়। এর ফলে মানুষকে ধার দেনা করে খেতে হবে, বা খরচ কমিয়ে দিতে হবে খাদ্য, কাপড়-চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাতে। যদি মজুরি বা আয় বৃদ্ধি কম হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে এবং আসলে তাদের বাস্তব আয় কমে যায়।

    গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, আর এই অর্থবছরের জন্য সরকারি লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৬.৫ শতাংশের মধ্যে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিও গ্রহণ করেছে। তবে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) লক্ষ্য ছিল গড় মূল্যস্ফীতিকে ৬.৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা। কিন্তু এখনো এই লক্ষ্যমাত্রার ওপর থাকায়, তা পুরণ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭.৬৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৭.৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে ৮.৯৮ শতাংশে গিয়েছে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে, দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ভোগাচ্ছে এমন উদ্বেগ বাড়ছে।

    অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। ভারতের বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ২.০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১.৫ শতাংশ, নেপালে ১.৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২.২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪.৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩.৬ শতাংশ।

    বিশেষ করে, এই মাসে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি বেড়েছে। গ্রাম এলাকায় গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৪৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শহরে তা ৮.২৮ শতাংশ। এডিবি ভবিষ্যদ্বাণী করছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট মূল্যস্ফীতি থাকবে ৮ শতাংশের কাছাকাছি। কিন্তু তারা সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটি হবে উচ্চতম হার।

    সব মিলিয়ে, দক্ষিণ এশীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে, তবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ কিছু দেশে খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা shows that কঠোর মুদ্রানীতি, সুষ্ঠু বাজার তদারকি ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলে মূল্যস্ফীতিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান কমছে: বিশ্বব্যাংক

    মুদ্রাস্ফীতি কমলেও দারিদ্র্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান কমছে: বিশ্বব্যাংক

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা উন্নতির পর প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে মূল অর্থনৈতিক সূচকগুলো কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪.৮ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে যাওয়ার কারণে বেসরকারি ভোগে সামান্য বৃদ্ধিও দেখা যেতে পারে। ফলে গত অর্থবছরের তুলনায় এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।

    বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হয়ে ৬.৩ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আজ (৭ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। একই সময়ে, এশিয়ার উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের সঙ্গেও পরিচিতি করানো হয়।

    বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমি, চীফ ইকনোমিস্ট ফ্রানজিসকা লেসলোট ওহসেজ, и নাজসুস সাকিব খানসহ অন্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে বিনিয়োগের পরিমাণ সামান্য বাড়ার অপেক্ষা রয়েছে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এই অগ্রগতি সীমিত করতে পারে। আমদানি স্বাভাবিক হলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য কিছুটা ঘাটতির দিকে যেতে পারে। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নতি এবং রাজস্ব আদায়ের বৃদ্ধির কারণে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে থাকতেও পারে।

    মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে বললে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি কিছুটা কমলেও, ২০২৫ সালের আগস্টে সেটি ৮.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যমূল্যস্ফীতি ২০২৪ সালের নভেম্বরে ১৩.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালের আগস্টে ৭.৬ শতাংশে নামলেও, এখনও তা মোট প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিনিময় হার স্থির থাকা এবং খাদ্য সরবরাহের পুনরুদ্ধার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে।

    নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও মুদ্রাস্ফীতি থেকে বেশি থাকায় কিছুটা হলেও পার্থক্য থাকছে, তবে দারিদ্র্য দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে দেশের দারিদ্র্য হার দাঁড়াতে পারে ২১.২ শতাংশে, যা ২০২৪ সালের ২০.৫ শতাংশের তুলনায় একটু বেড়ে গেছে। শ্রমশক্তির অংশগ্রহণও কমে গেছে, ২০২৩-২০২৪ সময়কালে তা ৬০.৯ শতাংশ থেকে ৫৮.৯ শতাংশে নেমেছে, মূলত নারীর অংশগ্রহণ হ্রাসের কারণে। এই সময়ে প্রায় ৩০ লাখ শ্রমশক্তি বাইরে রয়েছে, যার মধ্যে নারী এখনো বৈষম্যহীনভাবে কম। মোট কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ২০ লাখে, যার ফলে কর্মসংস্থান-জনসংখ্যার অনুপাত ৫৬.৭ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দিক থেকে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এখনো উদ্বেগের কারণ। খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি না হলেও এটি মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ব্যাংকের শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য আইনি কাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। অগ্রাধিকার হিসেবে আমানত সুরক্ষা, জরুরি তরলতা এবং সহায়তা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এছাড়া, ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সামান্য কমে ৪.০ শতাংশে দাঁড়ানো সম্ভব, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪.২ শতাংশ। দুর্বল বিনিয়োগ অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে, ফলে বৃদ্ধির হার কেবল ০.৮ শতাংশের কাছাকাছি। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যবসা খরচের উচ্চতা অব্যাহত থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে সরকারি বিনিয়োগও কমে গেছে। অ্যাডিপি বাস্তবায়নেও কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।

    অবশেষে, প্রতিবেদনে কর-রাজস্ব বৃদ্ধির গুরুত্বের কথাও বলা হয়েছে। দেশের কর-জিডিপি হার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় নেমে আসছে, যা উন্নয়নের পথে বড় বাঁধা তৈরি করছে। অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কর আহরণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • সোনার মূল্য ফের বৃদ্ধি: ভরি ২ লাখ ছাড়ালো

    সোনার মূল্য ফের বৃদ্ধি: ভরি ২ লাখ ছাড়ালো

    দেশের সোনার বাজারে এক দিন আগেই ভরির দাম প্রথমবারের মতো ২ লাখ টাকার নিচে নামলে আবার এক দিনের মধ্যে দাম মন্থরভাবে বাড়তে শুরু করেছে। সর্বোচ্চ মানের সোনার দাম এবার ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৬৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকায় পৌঁছেছে।

    মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় যে, সোনার দাম আবারও বেড়ে গেছে। এর ফলে, গত চার দিনে ভরিপ্রতি সোনার মূল্য ৬ হাজার ৮৬৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নতুন দাম আজ বুধবার থেকে কার্যকর হবে।

    এ দিকে, জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দাম বৃদ্ধির পর থেকে আগামীকাল থেকে দেশের বাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনা কিনতে হলে খরচ হবে নিম্নরূপ: মানের সূচক অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের (হলমার্ক করা) এক ভরি সোনা কিনতে লাগবে ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের সোনা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৩১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ টাকায় বিক্রি হবে।

    এর আগে, আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) পর্যন্ত, বিক্রির সময় দেশের বাজারে ভরি প্রতি সোনার দাম ছিল: ২২ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৯১ হাজার ৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৫ টাকা।

    বাজারে আজ থেকে, ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৪৬৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের ১ হাজার ৩৯৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ১ হাজার ২০২ টাকা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ২৭ টাকা বাড়বে।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও বৃদ্ধির দেখা মিলেছে। এবার এক ভরি রুপার সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৬ টাকা। অন্যদিকে, মানের রুপা হিসেবে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য হয়েছে ৪ হাজার ৬৫৪ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৮০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

    অতএব, ভরিতে ২১ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৯৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৮৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ৬৩০ টাকা।

  • সোনা-রুপার দামে টানা রেকর্ড, স্বর্ণের ভরি দাম ভরিতে বেড়ে ২ লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা

    সোনা-রুপার দামে টানা রেকর্ড, স্বর্ণের ভরি দাম ভরিতে বেড়ে ২ লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারো নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আজ এক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের নতুন স্বর্ণের দামের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বিএজুুস (বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি) জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে।

    বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিং এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন পারফেক্ট মানের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য ছিল ২ লাখ ২ হাজার ১৯৫ টাকা, যা এখন নতুন রেকর্ডের জন্য উঠে এসেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সোনার বিভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী দাম ঠিক করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৯০৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের জন্য দাম বেড়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ টাকা হয়েছে। একইভাবে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এখন ১৪২ হাজার ৩০০ টাকা।

    উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে স্বর্ণের দাম অনেকটা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭ অক্টোবর ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৭২৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৯১,৬০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ হাজার ৫৭৮ টাকা বৃদ্ধি পाकर ১৬৪,২২৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে ২ হাজার ১৯২ টাকা বাড়িয়ে ১,৩৬৫,৪৪৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছিল।

    আরো বিভিন্ন সময় স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির ফলে বাজারে অন্য রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যার ফলে এখন নতুন দামে পৌঁছেছে।

    অপরদিকে, রুপার দামেও বড় ধরনের বৃদ্ধি এসেছে। বর্তমানে, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের ১ ভরি রুপার মূল্য ৪ হাজার ৯৮০ টাকা, যা আগে ছিল ৪ হাজার ৬৫০ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটে, রুপার দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৩০৩, ২৬৯ এবং ১৯৮ টাকা। গত অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বাজারে এই তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি, ধানের শীষের ওপর টানাটানি অযৌক্তিক

    মির্জা ফখরুলের দাবি, ধানের শীষের ওপর টানাটানি অযৌক্তিক

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের কারো মার্কা বা নির্বাচনী প্রতীকের জন্য কোন ধরনের অবাঞ্ছিত চাপ বা টানাটানি আমরা সহ্য করব না। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ধানে শীষের ওপর এই ধরনের অস্বাভাবিক চাপ কেন? তারা বলেন,’শাপলা মার্কা না দিলে ধানের শীষ বাতিল করতে হবে’—জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এটা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ধানের শীষ প্রতীকের উপর অপ্রতিরোধ্য চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে শহীদ নাজিরউদ্দিন জেহাদের স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে, বুধবার (৯ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এনসিপি নেতাদের এক আড়াই ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি পথ খোলা: এক, শাপলা প্রতীক স্বীকৃতি দেওয়া, বা দুটি, ধানের শীষ ও সোনালি আঁশ প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।

    মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু ব্যক্তি বা দল হুমকি দিচ্ছে, ‘তাদেরকে যদি অন্য মার্কা দেওয়া না হয়, তাহলে আমাদের ধানের শীষ প্রতীকও বাতিল করতে হবে’। কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে জানান, ‘আমরা কারো মার্কা বা প্রতীক নিয়ে আলোচনা করিনি। তাহলে, এই ধরনের টানাটানি কেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের ফেরার একমাত্র পথ। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘সারা দেশে ধানের শীষের স্লোগান উঠেছে, যা প্রমাণ করে এটি অপ্রতিরোধ্য। ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চক্রান্তকারীরা পিছিয়ে পড়বে।’

    ফখরুল আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরলে দেশের মানুষই চূড়ান্ত বিজয় লাভ করবেন। এর জন্য একমাত্র পথ হলো, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। কিছুAnnouncements বা রাজনৈতিক দল এককভাবে আইন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, তারা যেনো দীর্ঘ সংগ্রাম করে এসেছে—শ্রেণি, স্বাধিনতা ও গণতন্ত্রের জন্য। তারা বারবার সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে। দুর্ভাগ্য, তাদের লড়াই কখনোই যেনো হাড় ভাঙা আঘাত নয়। তবে তারা বারবার উঠে দাঁড়িয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় হাসিল করেছে।’

    হাসিনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘হাসিনা’ নামটি যদি সম্মানজনকভাবে মনে করা হয়, তাহলে তার জন্য একটু শান্তি বা সম্মান থাকবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনি দেশের বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দিকসহ মোট দেশের সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক ক্ষতি করেছেন। তার শাসন আমলে দেশের দুর্নীতি, অব্যবস্থা ও অস্থিরতা আরও বেড়েছে।

    ফখরুল বলেন, ‘কিছু মানুষ বা সংগঠন খুবই মনোযোগ দিয়ে JULY আন্দোলনকে নিজেদের আন্দোলন বলে দাবি করছে। তবে বলছি, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে এসেছে। দেশের জন্য তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে এবং সেটা আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে চলবে।’

  • জুলাই স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জামায়াতের

    জুলাই স্বাক্ষরের আগে পিআর পদ্ধতি নিশ্চিতের দাবি জামায়াতের

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্প্রতিকালের গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে যে, জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত সনদে নিশ্চিত করতে হবে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতি। দলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিআর পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়টি যেন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন এবং নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পর্যায়ে বৈঠক ও আলোচনা করে এটি বাস্তবায়ন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন আলোচনাসভা, সেমিনার ও সম্পাদকীয়তে এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা ও কার্যকারিতা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ পিআর পদ্ধতিতে ভোট দিতে চায়, এটি স্পষ্ট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার যা একান্ত প্রয়োজন।

    অতীতে কিছু দল ও কুচক্রী মহল এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন, কিন্তু তার যুক্তি হলো, সারা বিশ্বেই এই পদ্ধতি জনপ্রিয় এবং কার্যকর। তিনি সরকারের কাছে আবারো জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের স্বাক্ষরের আগে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই পদ্ধতিটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

    এছাড়াও, তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, দেশের কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী ও ফ্যাসিবাদী দের দোসররা দীর্ঘদিন থেকে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূলধারাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে, বিএনপি, ইনু-মেননসহ অন্য কয়েকটি দল তাদের পছন্দের নেতা ও কর্মকাণ্ড চালাতে সরকারি বা প্রশাসনিক পদে হস্তক্ষেপ করছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবারও বিতর্কিত ও হঠকারি নির্বাচন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি অভিযোগ করেন, অনেকের মুখে দেশের স্বার্থের কথা শোনা গেলেও, তারা প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনের সংস্কারে সহযোগিতা করছে না। সব দলের অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।

    প্রসঙ্গক্রমে, তিনি বলেন, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি নতুন কিছু নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও কার্যক্ষম। বাংলাদেশেও নানা আলোচনা, সেমিনার ও মতবিনিময়ে এই পদ্ধতির সুফল তুলে ধরা হয়েছে। তাই, তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের স্বাক্ষরের আগে জাতীয় স্বার্থে এই পদ্ধতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

    অন্যদিকে, মিয়া গোলাম পরওয়ার বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট দের দোসর ১৪ দল, ইনু-মেনন ও সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, তারা ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানা অপকর্ম ও ষড়যন্ত্র করছে। এই সমস্ত চক্রান্ত ও দুষ্টচক্রের কারণে দেশের স্বার্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এরূপ অপরাধীদের বিচারের জন্য নিয়মিত ট্রাইব্যুনাল গঠন হয়েছে, সেই বিচার প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, কালো শক্তির প্রভাবে সুষ্ঠু ও জনগণের দাবি মেনে নেওয়া নির্বাচন সম্ভব নয় বলে তিনি সতর্ক করেন।

    এমন পরিস্থিতিতে, রাজধানীতে জামায়াতের উদ্যোগে এক বিশাল গণমিছিল হয়েছে। জুমার নামাজের পর এই মিছিলের আয়োজন করা হয়, যা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, উত্তর ও দক্ষিণ মহানগর নেতৃবৃন্দ ও হাজারো দলীয় কর্মী অংশ নেন। তাৎক্ষণিক, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এই গণমিছিল দেশের জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক এক অংশ। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত এবং অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

    মিছিলের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানের মাধ্যমে তাদের দাবি ও অবস্থান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মিছিল শেষ হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

    অতঃপর, দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের মৌলিক অধিকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন, সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য এই ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত জরুরি। মূলত, তারা নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের এই আন্দোলন শুধু জামায়াতের দাবি নয়, এটি সমগ্র জাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্য। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা ঘোষণা করেন, এই আন্দোলন ও দাবি জারি থাকবে এবং সকলের সমর্থন ও একাগ্রতা দিয়ে এই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া হবে।

  • সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়: রেজাউল করীম

    সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চায়: রেজাউল করীম

    অন্তর্র্বর্তী সরকার বিএনপিকে গোপনে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি শুক্রবার ঢাকা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের এক সমাবেশে এ কথা বলেন।

    রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি শ্রমিকরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, এই অভ্যুত্থানের ফলে দেশে ইসলামপন্থিদের ক্ষমতায় যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ৫৪ বছর ধরে চলে আসা নির্বাচনী অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে আগামীতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সাধারণ জনগণ বর্তমানে সরকারের এই স্ববিরোধী ধারা কঠোরভাবে সমালোচনা করছে। রেজাউল করীম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার চুপিসারে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর চক্রান্ত করছে। তবে জনগণ এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক এবং এগিয়ে এসে তা প্রতিরোধ করবে।

    এছাড়াও, সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, সমাজে এক শ্রেণির অতি ধনী হবে এবং অন্য দলটি গাছতলায় বসবাস করবে—এটাই কেউ চায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের পক্ষের শক্তি বনাম ইসলামের বিপক্ষের শক্তির মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে: দুদু

    নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে পারে: দুদু

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, যদি এই সময়ে নির্বাচনে না দেখা যায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবে তিনি এ কথা বলেন।

    শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি, জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরবে। তবে, এক বিষয়ের প্রতি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, তা হলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা। বর্তমান সময়ে মানুষ তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি; তাদের ভোটের অধিকার অনেকটাই কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রত্যেকবারই ভোটের নামে তামাশা দেখানো হয়েছে। তাই, আসন্ন নির্বাচনটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ভূমিকা সমালোচনা করে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ভারতের কখনোই গণতন্ত্রের বা স্বাধীনতার পক্ষে নয়। তারা নিজের স্বার্থের জন্য সবসময় বাংলাদেশকে ব্যবহার করে এসেছে। দেশের মানুষকে তারা শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। পাশাপাশি, তারা প্রচার চালাচ্ছে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অনেক হিন্দু নাগরিকই নিজস্ব সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন, ভারতের এই অভিযোগের সত্যতা নেই। এজন্য আমাদের অবশ্যই সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

    শামসুজ্জামান দুদু জানান, দেশবিরোধী শক্তি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর প্রভাবশালী গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনা আশ্রয় নিচ্ছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ যেভাবে চলার কথা, সেটি হলো তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। তবে, সেটি এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। সরকার ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকলেও, আমরা বিশ্বাস করি, এই ফেব্রুয়ারি নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, বাংলাদেশে বিরোধী ষড়যন্ত্র জোরদার হচ্ছে, যেখানে পরস্পরশক্তি কাজে লাগাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের এক ভয়ঙ্কর শক্তি; যেখানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাও আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী নাগরিক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম তালুকদার (বাদল)। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান (মনির), দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, তাঁতি দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এড. মোঃ মজিবুর রহমান টোটন প্রমুখ।

  • তারেক রহমানের আশ্বাস: প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের পাশে থাকবে রাষ্ট্র

    তারেক রহমানের আশ্বাস: প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের পাশে থাকবে রাষ্ট্র

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের সঙ্গে থাকবে রাষ্ট্রের সহায়তা, বাধা নয়। শনিবার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে আমরা আনন্দে উদযাপন করছি সব কন্যাশিশুর স্বপ্ন দেখার, শিখার, নেতৃত্ব দেওয়ার এবং মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপনের অধিকার।

    তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, একজন বাবার দৃষ্টিকোণে মেয়েদের ক্ষমতায়ন কেবল একটি নীতির বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি মেয়ের জন্য একই স্বাধীনতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে—এমন প্রত্যাশা যা একজন বাবা-মা তার সন্তানদের জন্য চায়।

    তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার সব সময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ঐতিহ্যবাহী কাজ করে এসেছে, এবং ভবিষ্যতেও সেই উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় আমরা দেখেছি, তিনি কেমনভাবে তৈরি পোশাক শিল্পকে শুধু একটি শিল্প হিসেবে নয়, বরং আশার প্রতীক করে তুলেছিলেন। এতে লক্ষ লক্ষ নারী আনুষ্ঠানিক কাজে যোগদান করে অার্জন, সম্মান ও স্বাধীনতা লাভের সুযোগ পান। সেই সময়ের নেতৃত্বে নারী কল্যাণ ও উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়, যেখানে নারী বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের অধীনে মেয়েদের শিক্ষা একটি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যা কেবল সুবিধা নয়, বরং সকলের জন্য আবশ্যক। নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ঘোষণা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মেয়েকে বিদ্যালয়ে রাখতে সহায়তা করে, যার ফলশ্রুতিতে পরিবেশের পরিবর্তন, শক্তিশালী সমাজ তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উম্মোচন হয়।{

    তারিসহ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের স্কুলে অংশগ্রহণের পরিমাণ সমান হয় ছেলে মেয়েদের, যা বাল্যবিবাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বিশ্বের স্বীকৃতি পায়। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, যখন শাসনব্যবস্থা মেয়েদের মর্যাদা ও ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করে, তখন অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

    বিএনপি ভবিষ্যৎ নীতিমালায় এ ধরনের ঐতিহ্য ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এর মাধ্যমে কিছু মৌলিক উদ্যোগ গ্রহণের কথা তুলে ধরেন:

    ১. পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু, যাতে সহায়তা সরাসরি পরিবারের মূল স্তম্ভের হাতে পৌঁছায়।
    2. নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ, ব্যবসায় প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা।
    3. শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ, যাতে শহর বা গ্রামে থাকা প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
    4. নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাজনীতি ও শাসনে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো।
    5. মর্যাদা ও স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করে মেয়েদের ভয়মুক্ত জীবন গড়ার ব্যবস্থা।
    6. পরিবারের কল্যাণ, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে নারীর অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দেওয়া।

    শেষে তিনি বলেন, আমরা শূন্য শব্দে বিশ্বাস করি না, বরং বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে কাজ করি। প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্নের সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব থাকবে, বাধা হয়ে না।