Month: October 2025

  • ইসরায়েলের নিপীড়নEvidence: দগ্ধ, বাঁধা ও ক্ষতচিহ্নযুক্ত ফিলিস্তিনি মরদেহ ফেরত

    ইসরায়েলের নিপীড়নEvidence: দগ্ধ, বাঁধা ও ক্ষতচিহ্নযুক্ত ফিলিস্তিনি মরদেহ ফেরত

    যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা উপত্যকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল থেকে ফেরত আসা ফিলিস্তিনি ব্যক্তির দেহে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ার মতো নৃশংসতার চিহ্ন রয়েছে। ফুটানোর মতো দগ্ধ, হাতে-পায়ে বাঁধা and নির্যাতনের দাগ সহ মরদেহগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই বর্বরতার প্রমাণ বহন করে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ফিরে আসা মরদেহগুলো পশুর মতো বাঁধা অবস্থায় ছিল, চোখের বাঁধন পরানো ছিল এবং দগ্ধ ও নির্যাতনের দাগ ছিল, যা গোপন বর্বরতার গভীরতা প্রকাশ করছে।” তিনি আরও বলেন, “এই দেহগুলোর ক্ষতচিহ্নগুলো অস্বীকার করা অসম্ভব, এবং অনেকের মধ্যে সরাসরি হত্যা ও হত্যার পর পশুপাখির মতো বাঁধার দাগ দেখা গেছে।”

    ডাক্তার ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কিছু মরদেহে অঙ্গচুরির চিহ্নও রয়েছে। অর্থাৎ, কিছু পরিবার তাদের প্রিয়জনের দেহে অঙ্গের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন। এটি দখলদার বাহিনীর পরিকল্পিত অপরাধের ধারাবাহিক, যেখানে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হয়।”

    সংস্থাটি আরও জানায়, “এতগুলো নিঃসঙ্গ ও নিরীহ ফিলিস্তিনি ব্যক্তির মৃতদেহ দেখিয়েছে যে, তাদের হত্যা ছিল নির্মম ও পরিকল্পিত। আহতদের বোঝাতে, শরীরে দগ্ধ ও ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে এবং কিছু দেহে দেখা যাচ্ছে সাঁজোয়া যান দিয়ে পিষে ফেলার মতো চিহ্ন।”

    বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রমাণগুলো স্পষ্ট করে যে, অনেককে গ্রেফতারের পরে নির্বিচারে, ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের সরাসরি লঙ্ঘন।” তারা জানায়, “প্রাথমিকভাবে আমরা দাবি করছি, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত জরুরি, যাতে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে পারা যায়।”

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে ইসরায়েল থেকে ৩০ জনের মরদেহ গ্রহণ করেছে, যাদের শরীরে ‘নির্যাতন ও পোড়ার’ চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর আগে যুদ্ধ শেষে, গাজার মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করে যে, ইসরায়েল মোট ১২০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে।

    এভাবেই চলমান এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, মানবতা ও মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন বাড়ছে।

  • পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত ৪০

    পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর অভিযানে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিহত ৪০

    অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়েছে আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী স্পিন বোলদাক শহরে ভয়ঙ্কর এ হামলা চালিয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১৭৯ জন আহত হয়েছেন। স্পিন বোলদাক আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকা, যেখানে এ হামলায় নারী ও শিশু সহ বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করিমুল্লাহ জুবাইর আগা জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশুসহ সাধারণ নাগরিক।

    গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে চলা সংঘাতে দু’দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের উপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এরপর ১৫ অক্টোবর তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতিতে বসে, যা গতকাল ১৭ অক্টোবর দুপুর ১টার সময় শেষ হয়। বিরতি শেষ হতেই পাকিস্তানি সেনারা স্পিন বোলদাক শহরে অবস্থান নেয় ও ভয়ঙ্কর আক্রমণ চালায়। হামলায় অনেক বাড়িঘর, দোকানপাঠ ধ্বংসের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যারা বেঁচে রয়েছেন, তারা এ হামনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।

    নিহতদের বেশিরভাগই বলে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। হাজি বাহরাম নামের এক ব্যক্তি তোলো নিউজকে বলেছেন, “আমি কখনও এত অবিচার দেখেছি না। এক দেশ, যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করে, তারা এখানে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের ওপরে হামলা চালিয়েছে। এটা বড়ই উদ্বেগজনক ও দুঃখজনক।”

    পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি স্পিন বোলদাক শহরের বিভিন্ন স্থান—নোকলি, হাজি হাসান কেলাই, ওয়ার্দাক, কুচিয়ান, শহীদ ও শোরবাকে বিভিন্ন সময় পাকিস্তানি স্থলবাহিনী আর্টিলারি গোলা নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় অনেক বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কিছু মানুষ হতাহত হয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের চলমান সংঘাতের মূল কারণ হল পাকিস্তানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান (টিটিপি)। কয়েক বছর ধরেই এ গোষ্ঠী পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ থাকলেও, তারা আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য দিন দিন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টিটিপি, যেখানে তালেবান সরকার ২০২১ সালে আফগানিস্তানে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গোষ্ঠীর সশস্ত্র কার্যক্রম আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান তাদের মদত ও আশ্রয় দেয়, তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    গত ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামলা চালিয়ে শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদ নিহত করেন পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এর দু’দিন পর ১১ অক্টোবর আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তান ও আফগান সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। চার দিন দীর্ঘ সংঘাতের পরে ১৫ অক্টোবর আবারো ৪৮ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়। আজ দুপুর ১টার সময় সেই বিরতি শেষ হয়, আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনারা। এ ঘটনায় বহু পরিবার আবারও ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাহত হয়েছে।

  • শেখ হাসিনা এবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি: দ্য টেলিগ্রাফ

    শেখ হাসিনা এবার মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি: দ্য টেলিগ্রাফ

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের দোনর Facing হতে পারেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ শুক্রবার (১৭ অক্টোবরে) এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউलিপ সিদ্দিকের খালা হিসেবে উল্লেখ করে, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “প্রাণঘাতী অস্ত্র” ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে প্রায় ১,৪০০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।প্রসিকিউশনের মতে, এই নির্দেশে দমন অভিযানে নিহতদের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সময়ে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল, যেখানে আনুমানিক ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে—মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও প্রেরণাদায়ক ভাষণে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বন্ধের জন্য ভিন্নভিন্ন দল ও সংগঠনের বিক্ষোভের মাধ্যমে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশব্যাপী শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য আন্দোলনে রূপ নেয়।

    ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশের বাইরে চলে যান। ঠিক তখনই ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে বিক্ষোভকারীরা। একইদিন ঢাকার এক ব্যস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হন—এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম রক্তক্ষয়ী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    তার শাসনামলে নানা অভিযোগ উঠেছিল যেমন সঙ্গে ব্যাপক ভোট কারচুপি, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার, নির্যাতন ও গুমের ঘটনাও প্রচুর ছিল। বিশেষ করে শিশু গুমের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।প্রসিকিউটর ময়নুল করিম জানান, তাদের সংরক্ষিত ফোন রেকর্ড, অডিও-ভিডিও প্রমাণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন যে, শেখ হাসিনা সরাসরি এই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলছেন, “আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারব যে, তিনি মৃত্যুদণ্ডের জন্য বিচারযোগ্য। তারই নির্দেশে এইসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে”।

    আদালত ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে জুলাইয়ে গ্রেফতার করা হয় ও তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। মামুন স্বীকার করেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিলেন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন, “শেখ হাসিনা ১,৪০০ বার মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য”। তবে মানবিক কারণে, কমপক্ষে একটিই মৃত্যুদণ্ডের তরপে দাবি জানান। তার উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বলেন, “তিনি ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন, নিজের ও পরিবারের স্বার্থে। তাকে এখন এক কঠোর অপরাধীতে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তার বর্বরতা প্রকাশ পেয়েছে এবং তিনি কোনো অনুশোচনা দেখাচ্ছেন না”।

    আগামী রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকে শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবেন, যা আশা করা যাচ্ছে, পরবর্তী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। নভেম্বরের মধ্যভাগে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

    অভিযোগ প্রমাণিত হলে শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির জন্য নিলাম অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার ফলে অর্থের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

    তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, যখন বিক্ষোভকারীরা সহিংসতা চালিয়েছিলেন, তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। পাশাপাশি, শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আদালত অবমাননায় ছয় মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলমান।

    অন্যদিকে, ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক—যে এই বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন—তিনি এখনো বাংলাদেশে অনুপস্থিতই রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার খালার প্রভাবের অধীনে রেখে নিজের পরিবারের জন্য জমির প্লট বরাদ্দে প্রভাব খাটিয়েছেন। তিনি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে বিএনপিকে। তবে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

  • চীনের ছয় শীর্ষ জেনারেলসহ মোট নয়জন সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

    চীনের ছয় শীর্ষ জেনারেলসহ মোট নয়জন সামরিক কর্মকর্তা বরখাস্ত

    চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের nine জন শীর্ষ জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে, যা দেশের সামরিক শুদ্ধিকরণের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপকে তারা কার্যত দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান的一 অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পদক্ষেপটি কেবল দুর্নীতি মুক্ত করার নয়, বরং রাজনীতি ও সংগঠনের শুদ্ধিকরণেরও সূচনা নির্দেশ করতে পারে।

    চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই নয়জন আপাতত মারাত্মক আর্থিক অপরাধের সন্দেহে রয়েছে। তাদের বেশিরভাগই তিন তারকা জেনারেল এবং পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফোরামের সদস্য। সংস্থাটির মতে, এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কঠোর অভিযানের অংশ, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা হয়তো রাজনীতি শুদ্ধিকরণের ধারাও হতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই সব জেনারেলরা দলের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী। তারা এখন সামরিক আদালতের বিচারে আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের সূত্রপাত চলতি বছরের জুলাই মাসে, যখন সামরিক বাহিনীতে দূষিত প্রভাব ও অপবিত্রতা দূর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে, অস্ত্রের শুদ্ধিকরণের লক্ষ্য্যে চলা এই অভিযানে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীও তাদের শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য ইতিমধ্যেই শাস্তি পেয়েছেন।

    অর্থনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শি জিনপিং এর এই শুদ্ধিকরণ উদ্যোগ আসলে নিজ ক্ষমতা প্রমাণের একটি চেষ্টাই। তারা মনে করেন, এই প্রচেষ্টা পার্টিকে অন্তর থেকে পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার মনোভাবকে দৃঢ় করতে পারে।

    বিশ্লেষকরা আরো উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের শুদ্ধিকরণ কার্যক্রম অপ্রতিরোধ্যভাবে চলবে, যাতে করে শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও আরেকটু অধিক শৃঙ্খলিত সামরিক বাহিনী গড়ে উঠতে পারে। এখন দর্শকদের নজর থাকবে ২০ শে অক্টোবরের দলীয় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কোন মহল বা নেতারা যোগ দেন এবং তার মাধ্যমে এই আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

  • মাদাগাস্কারের নতুন প্রেসিডেন্ট কর্নেল রান্দ্রিয়ানিরিনা

    মাদাগাস্কারের নতুন প্রেসিডেন্ট কর্নেল রান্দ্রিয়ানিরিনা

    মাদাগাস্কারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সেনাবাহিনীর কর্নেল মাইকেল রান্দ্রিয়ানিরিনা। এর আগে দেশ থেকে পালিত হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রি রাজোয়েলিনা। এরপর সামরিক বাহিনী পাল্টা আঘাত হেনে ক্ষমতা কব্জা করে। দেশটির উচ্চ সাংবিধানিক আদালত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে রান্দ্রিয়ানিরিনার নিয়োগ অনুমোদন দেয়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশজুড়ে পানি ও জ্বালানি সংকটের কারণে ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কারফিউ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও ১০০ জন। এই খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আল-জাজিরা অনলাইন।

    আল-জাজিরার রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুক্রবার প্রতিদ্বন্দ্বী রান্দ্রিয়ানিরিনা বলেছেন, ‘আজ আমাদের দেশ ঐতিহাসিক মোড় নিয়েছে। দেশের মানুষের পরিবর্তনের জন্য আমাদের তীব্র আকাঙ্খা ও ব্যাপক ভালোবাসা আমাদের নতুন যাত্রার পথ দেখিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশবাসীর স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করব। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনেরা, সঙ্গে ছিলেন আন্তর্জাতিক দূতিপূর্ণ দল, যেমন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা।

    নতুন দায়িত্ব গ্রহণের সময় রান্দ্রিয়ানিরিনা বলেন, ‘দেশের সকল বাহিনী ও সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমরা একটি সামগ্রিক পরিবর্তন আনতে কাজ করব। আমরা অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি এবং দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। এর আগে সামরিক বাহিনী পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং পার্লামেন্ট ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়েছে।’

    আল-জাজিরার সাংবাদিক ফাহমিদা মিলার মন্তব্যে দেখা যায়, রান্দ্রিয়ানিরিনা দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তার পরিকল্পনাগুলো সাবধানে নির্বাচন করেছেন। তিনি মনে করেন, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো সাংবিধানিক নির্দেশিকা ও শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করা। ৫১ বছর বয়সী এই ক্যাপটেন ইউনিটের কমান্ডার অরক্ষিত ১৮-২৪ মাসের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সর্বসম্মত প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যে তিনি সেনাবাহিনী বা সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ডের অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং তার নতুন ভূমিকা গ্রহণের সময় সাংবিধানিক আদালতের সমর্থন ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।

    অন্যদিকে, রাজোয়েলিনার সমর্থকেরা এই পরিস্থিতিতে তার প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে তার ভূমিকা অপরিহার্য। এরই ফলস্বরূপ, ২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অনেকের আহত ও হতাহত হন। আদালত এই ঘটনার পর নেওয়া আইনি ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এরপর ১১ অক্টোবর ক্যাপসাটের সামরিক কর্তারা ঘোষণা করেন, তারা কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির আদেশ দেবে না বলে জানান। এই সব ঘটনাক্রম দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

  • আনসার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও বরখাস্ত

    আনসার ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও বরখাস্ত

    বেনাপোল স্থলবন্দরে অবৈধ পণ্যচালান পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে আনসারের দুই প্লাটুন কমান্ডার অব্যাহতি পেয়েছেন এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আল আমিন সিকদারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরভেড় বাইপাস সড়কের ট্রাক টার্মিনালের সামনে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ঢাকা মেট্রো ট-২২-৭৫৬৬ নম্বরের একটি ট্রাক থেকে অবৈধ পণ্যচালান আটক করে। এর পর ২৩ সেপ্টেম্বর ব্যানেপোলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে উঠে আসে, ওই দিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বন্দরের কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালের ৯, ১০, ১১ নম্বর গেট ও ছোট আচড়া মোড়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা অবৈধ পণ্যচালানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ দলের মধ্যে নাজমুল হক, কৃষ্ণ কুমার দাস, আনন্দ কুমার দাস ও মোঃ রাসেল শেখ ছিলেন। এছাড়াও, বন্দরের আনসার ক্যাম্পের প্লাটুন কমান্ডার অসিত কুমার বিশ্বাস ও ইয়ামিন কবিরের নাম ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তদন্তের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এসব আনসার সদস্যের অবিলম্বে বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ১৫ অক্টোবর থেকে তাদের বায়োমেট্রিক হাজিরাও স্থগিত করা হয়েছে।

    মাঝে, বেনাপোলের বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি আল আরাফাত সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আল আমিন সিকদার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এর ফলে, কর্তৃপক্ষ তাকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বরখাস্ত করে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (উপ-সচিব) শামীম হোসেন রেজা নিশ্চিত করে বলেন, ‘যাতে কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তি গোষ্ঠী সন্দেহের আওতায় আর বন্দরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে বন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কঠোর নজরদারি ও নজরদারি জোরদার করা হবে।

  • দেশ থেকে দেড় যুগে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার: অ্যাটর্নি জেনারেল

    দেশ থেকে দেড় যুগে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার: অ্যাটর্নি জেনারেল

    অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে দেশে প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে খবর বেরিয়েছে। তিনি শুক্রবার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় জিয়া সাইবার ফোর্সের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরেন।

    প্রধান আলোচক বলেন, “৮০-এর দশক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশের বিপুল অর্থ বাইরে চলে গেছে, যার পরিমাণ প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার। এ মানে, প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা দেশের মোট অর্থের ২১ লাখ কোটি টাকার সামান্য একটু বেশি। দেশের এক বছরের বাজেটের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা, আর এই অঙ্কের তুলনায় তিন বছরের বাজেটের সমান অর্থ লুটপাটের শিকার হয়েছে।”

    আসাদুজ্জামান আরও বলেন, “এই লুটেরা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে যারা অর্থ লুট করছে, তারা সবাই এই লুটেরাদের কথা জানে। সাইবার ফোর্স এই লুটেরাদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যাপারে তথ্যবহুল রিপোর্ট দিচ্ছে, যাতে জনগণ জানতে পারে কে আসল দোষী।”

    তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ লুটপাটের পক্ষে নয়। তারা লুটের বিরুদ্ধে, হত্যা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য জিয়া সাইবার ফোর্সের মতো সংগঠন তৈরি হয়েছে, যারা দেশের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।”

    উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা সমন্বয়ক মাহাবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, সিনিয়র সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান, পৌর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাবলু।

  • দিঘলিয়ার হাজীগ্রাম মিনি স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে

    দিঘলিয়ার হাজীগ্রাম মিনি স্টেডিয়ামকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে

    দিঘলিয়ার আলহাজ্ব মদিয়া স্বাধীন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ১৬ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’ এর ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল; মাদক ছেড়ে খেলাধুলায় নিজের শক্তি ও মনোবল গড়ে তুলো। মূল বার্তা হলো, তরুণ সমাজকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, দিঘলিয়ার মাঠগুলো উন্নত হলে এখানকার তরুণরা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে। শুক্রবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে দিঘলিয়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলা হবে, যেখানে প্রতিটি ইউনিয়নে থাকবে ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ। আজিজুল বারী হেলাল জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের তরুণরা যদি খেলাধুলায় যুক্ত হয়, তাহলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তারা শক্তভাবে লড়াই করে উঠতে পারবে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, দিঘলিয়ার মাঠ ও ক্লাবগুলোকে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন তাঁরা। তিনি জানিয়ে দেন, দিঘলিয়ার হাজীগ্রাম মিনি স্টেডিয়ামকে সম্পূর্ণভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হবে। বিএনপি খেলাধুলা ও ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি স্মরণ করেন, দিঘলিয়া ওয়াইএমএ ক্লাব একসময় খুলনার প্রথম বিভাগ ফুটবলে পরিচিত দল ছিল। এখানকার ক্রীড়াবিদরা জাতীয় পর্যায়ে দেশের সুনাম কুড়িয়েছেন। তারাই আবার সেই গৌরব ফিরে পাবে, বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুব সমাজের হাত ধরে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় হাজীগ্রাম একাদশ ট্রাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে পানিগাতী একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি আজিজুল বারী হেলাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ সাইফুর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রকিব মল্লিক, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সেতারা সুলতানা ও অন্যান্য। সভাপতিত্ব করেন হাজীগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি এস এম মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান শেখ। მათের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন পর্যায়ক্রমে শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, শেখ মোসলেম উদ্দিন, খন্দকার ফারুক হোসেন, মোল্লা বেলাল হোসেন, বাদশা গাজী, কুদরত-ই-এলাহী স্পিকার, আবুল কালাম আজাদ, জিয়াউর রহমান, আব্দুল কাদের জনি, গাজী মনিরুল ইসলাম। ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকদের উপচেপড়া আগ্রহে এই ফাইনাল খেলাটি উপভোগ করা হয়।

  • রাজনৈতিক সহযোদ্ধার শূন্যস্থান কখনোই পূরণ হবে না

    রাজনৈতিক সহযোদ্ধার শূন্যস্থান কখনোই পূরণ হবে না

    জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি বিভাগের সবস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালানো হয়েছে। হামলা, মামলা, খুন, গুমের মতো সহিংসতার পাশাপাশি পুলিশি হয়রানীতে অনেককে ঘর-বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়-স্বজন থেকে একান্তে থাকা পর্যন্ত করতে হয়েছে বছরের পর বছর। তবুও কেউ যেন জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী থেকে পিছপা হননি। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু তাহের হীরা ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। তিনি আমৃত্যু জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তার মতো রাজনৈতিক সহযোদ্ধারShূন্যস্থান কখনোই পূরণ হবার নয়। তবে, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি তেক রহমানের নেতৃত্বে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে হাজারো নেতা-কর্মীর আত্মার শান্তি ফিরবে। তাদের এই চিরস্মরণীয় সংগ্রামের স্বার্থকতার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের জয় করতে হবে।

    গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু তাহের হীরার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মন্টু। তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার। যার যোগ্যতা ও ক্ষমতা আছে, তার প্রতি ভোট দিতে হবে। আর যারা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি, তাদের জবাবদিহি করতে হবে না, এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এক পর্যায়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্র চালিয়ে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে, যাতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না হয়। এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বোঝাতে হবে, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যক্তির প্রচার-প্রচারণার পরিবর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের পক্ষ থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।

    প্রবন্ধে আরও বলা হয়, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনুর সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও যুগ্ম-আহবায়ক তৈয়েবুর রহমান। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, আনোয়ার হোসেন আনো, মোঃ আবুল কাশেম, হুমায়ুন কবির রুবেল, মোঃ রফিকুল ইসলাম, এমডি আনিসুর রহমান, লিটন মোল্লা, মাহাবুর রহমান নান্টু, পিন্টু জোমাদ্দার, মোঃ রুবেল, মেহেদী হাসান বাবু, হাফিজুর রহমান, কামাল ব্যাপারী, সালমা হায়দার সেলিম, মোল্লা জাহিদুর রহমান, কামরুল ইসলাম ভুট্টো, আরমান হোসেন শিকদার, নয়ন মোড়ল, আলী পাকবাজ জুয়েল, মোঃ মাসুদ হোসেন, অমল মন্ডল, মাহিনুর রহমান, আবু তাহের মাতব্বর, মোঃ রয়েল, মোঃ শামিম সরদার, জিএম হারুন অর রশীদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবুল কাদের জনি, ব্রজন ঢালী, আবু তাহের, শাহাবুদ্দিন, যোগেশ্বর সানা কার্তিক, নিয়াম মল্লিক, আজাদ, সাঈদ ও হাবিব প্রমুখ।

    অবশেষে উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর কয়রায় যুব সমাবেশে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক আবু তাহের হীরা পাইকগাছায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দলটি।

  • নগরীতে যুবকের উপর হামলা, স্ত্রী ও সন্তানের সামনে গুলি চালানো

    নগরীতে যুবকের উপর হামলা, স্ত্রী ও সন্তানের সামনে গুলি চালানো

    নগরীর কাস্টমস ঘাট এলাকায় শুক্রবার দুপুরে এক যুবকের জীবন ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। সোহেল নামের ওই যুবক his স্ত্রী টুম্পা বেগম ও সন্তান তাসকিনের সঙ্গে বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে ছয় দুর্বৃত্ত ওই পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ঘরে প্রবেশ করে সোহেলের দিকে গুলি চালায়। বিশেষ করে এক গুলি তার চোখের নিচে বিদ্ধ হয়, যার ফলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছে।

    সোহেল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মিশনবাড়ীয়া গ্রামের স্বপন শিকদারের ছেলে। এর আগে, ৩ আগস্টও একই স্থানে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, তখনও তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসা নেন। পুলিশের সূত্রে জানা যায়, সোহেলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা, একটি মাদক মামলা এবং একটি নারী নির্যাতনের মামলাও রয়েছে। তবে তিনি আগেও জামিনে ছিলেন।

    উপ-পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদক মামলা নিয়ে তার সঙ্গে বিরোধ ছিল। তার উপর হামলার পেছনে মাদক বিরোধী শত্রুতা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে কারণে এর আগে গ্রেফতারও হয়েছিল। এখন অতি দ্রুত দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও আটক করার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর কাস্টমস ঘাট এলাকায় ইমরান মুন্সিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই মাসে নগরীতে চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে সমাজে।