Month: September 2025

  • নুর ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    নুর ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

    আজ রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আলটিমেটাম দেন। ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করতে চাই—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা রাজপথে কঠোর কর্মসূচিতে নামবো। কী ধরনের আন্দোলন হবে, তা সময়ক্রমে স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং সরকারও বুঝবে তার জন্য সফলতা অপেক্ষা করছে।’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার নূরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠন করেছে, যার কার্যকাল নির্ধারিত হয়েছে ৩০ কার্যদিবস। কিন্তু এই সময়সীমা প্রতারণামূলক। যদিও ঘটনাস্থলে সেনা ও পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নূরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে—তাইও, এ সবের পরও এ পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নূরকে হাসপাতালে থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও, নতুন শারীরিক জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফারুক হাসান বলেন, ‘গতকাল রাতে হঠাৎ করে নূরের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার নাকের হাড় ভাঙা হয়েছে, ম্যান্ডিবল বা চোয়ালের অংশে ডিসপ্লেসমেন্ট হয়েছে, ফলে ডান পাশের চোয়াল আংশিক অবসাদগ্রস্ত। বর্তমানে তিনি সলিড খাবার খেতে পারছেন না এবং ডাক্তাররা তাকে শুধু লিকুইড খাবার খেতে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া লিভারে আঘাতজনিত জটিলতা দেখা দিয়েছে, তাই তাকে আরও কিছু দিন হাসপাতালে থাকতে হবে।’

    গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ডা. মোহাম্মদ ইউনূস প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুত নূরের বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার গড়িমসি করছে এবং একের পর এক ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাম বলছে, যা সরকারের সদিচ্ছার অভাব নির্দেশ করে।’

    তাদের অভিযোগ, ‘সরকারের এই টালবাহানা মর্যাদার সাথে প্রতারণামূলক। ফলে, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারও যখন এটার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তখন দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে নুরের চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাব। সরকারের দয়া বা দাক্ষিণ্য বিষয় নয়, আমরা নিজ উদ্যোগে এই ব্যবস্থা করব।’

  • নির্বাচন না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়: সালাহ উদ্দিন

    নির্বাচন না হলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে যায়: সালাহ উদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, যদি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়, তাহলে এটি জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টাও সময়মতো নির্বাচন আয়োজনের জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি তাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে স্পষ্ট মনোভাব প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের পাশাপাশি ৭ জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ তারা চান না।

    শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘৭ জুলাইয়ের সনদ হবে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দলিল। এটি যেন প্রশ্নের বাইরে থাকে এবং ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে না পড়ে, এই বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রয়োজন হলে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করে সনদ চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চাই আলোচনার মাধ্যমে সব বিষয় নিষ্পত্তি হোক। আমরা জোর দিয়ে বলছি, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। এর জন্য কোনো শর্ত দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি চলমান থাকবে সংস্কার ও বিচার কার্যক্রম। এগুলোর ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং নির্বাচনের মাধ্যমেই আমাদের রাজনৈতিক অধিকার পূরণ হবে।

    সালাহ উদ্দিন আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে ৭ জুলাইয়ের সনদ তৈরি হয়েছে, তবে এটি এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। কিছু সংশোধনী প্রয়োজন, যেগুলো তিনি মূলত জানাবেন। কিছু বিষয় প্রাথমিকভাবে আলোচনার বাইরে ছিল, সেগুলোও তিনি কমিশনের নজরে আনবেন এবং খসড়া সংশোধন করবেন। বিএনপি পক্ষ থেকে সনদে স্বাক্ষর করতে দুজনের নামও দেওয়া হয়েছে। তারা প্রস্তুত, সই করার জন্য।

    তিনি বলেন, ‘সনদের সঙ্গে একটি অঙ্গীকারনামায়ও সইয়ের কথা রয়েছে, তবে সেটি কি সনদের অংশ হবে বা হবে না, এ বিষয়ে আমাদের কিছু ধারণা আছে। এই ব্যাপারে আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি।’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলের সম্মতিপ্রাপ্ত বিষয়গুলো সনদে অন্তর্ভুক্ত ও বাস্তবায়িত হবে। বিভিন্ন দলের প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন এবং সাংবিধানিক উপায়ে তা বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে, তিনি জানান, কোনও অপ্রয়োজনীয় বা অদূরপ্রসারী সংবিধান সংশোধনে তারা সম্মত নয় এবং অপ্রয়োজনীয় আইনি পরিবর্তনগুলো এড়ানোই তার লক্ষ্য। আইনানুগ পরামর্শের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়েও তিনি নজর দিয়েছেন।

    ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল­াহসহ অন্যান্য দলের নেতারা।

  • জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না: হেফাজত আমির

    জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমী মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকবে না: হেফাজত আমির

    হেফাজত ইসলামের আমির এবং প্রবীণ ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, যদি কখনও আওয়ামী লীগ সরকারে আসে, তবে ইসলাম পন্থী দেওবন্দী কওমী মাদ্রাসা ও আধ্যাত্মিক সুন্নি ধারার (আলীয়া ও সুন্নিয়াত) মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব সংকুচিত হয়ে থাকবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, জামায়াত ও কওমী ধারার দুশমন হয়ে উঠবে এ সরকার। এই পরিস্থিতিতে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, যদি কোনোভাবে ফেরাউনের জাতি ক্ষমতায় আসে, তাহলে তারা এই ধারা ও মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্বকে একেবারে বিলীন করে দেবে। আমি কসম করে বলছি, আপনি নিজেই দেখবেন এই সত্যতা। আল্লাহপাক আমাদের সবকে হেফাজত করুন। বাবুনগরী গত বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর মাসে, হাটহাজারী ডাকবাংলো মাঠে এক শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এসব বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে হেফাজত ইসলামের সাবেক আমির তার স্মরণসভার আনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে অন্য আলেম ওলামা, শায়খ ও মুরুব্বিরা বক্তব্য রাখেন, যেমন মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা হারুন ইজহারের মতো নেতৃবৃন্দ। সূত্র: শীর্ষ নিউজ অনলাইন।

  • জামায়াতে ইসলামীর ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা

    জামায়াতে ইসলামীর ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা

    জাতীয় নির্বাচনের জন্য সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঁচ দফা গণদাবি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণা দেয়া হয় সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে। সংগঠনের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই দাবিগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা আমাদের পাঁচ দফা গণদাবি জনসম্মুখে উপস্থাপন করছি। দাবিগুলো হলো: প্রথমত, জাতির স্বার্থে জুলাই মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রেপ্রেজেন্টেশন) সম্পর্কিত পদ্ধতি চালু করা জরুরী। তৃতীয়ত, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া, অর্থাৎ একটা সত্যিকারের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা, দুর্নীতি ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিচার যেন দৃশ্যমান হয়। পঞ্চমত, স্বৈরাচারী শক্তির দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তারা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, কলামিস্ট, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই পিয়ার পদ্ধতি বা প্রোপোরশনাল নির্বাচনের পক্ষে। এ কারণেই, জনগণের দাবি পূরণে কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করেন তারা। এই পরিস্থিতিতে, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য একজোট হয়ে গণআন্দোলন চালানো ছাড়া উপায় নেই বলে সমর্থন দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব নেএনসিপির

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের প্রস্তাব নেএনসিপির

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আলোচনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে, যার একটি হলো সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন বিষয়গুলো। এগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব অর্ডিন্যান্স বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। তবে, রাষ্ট্র কাঠামোর বেশ কিছু বিষয় রয়েছে যা সংবিধানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে এবং বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কতটা টেকসই হবে, এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু আশঙ্কা রয়েছে।রোববার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সরকার প্রধান উপদেষ্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূস।আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে হাইকোর্টে সংবিধানে সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং বেশ কিছু সংশোধনী বাতিলও হয়েছে। এর ফলে, আমরা বুঝতে পারছি কীভাবে সংবিধানের মূল পরিবর্তনগুলো টেকসই ও কার্যকর করা যায়, সেটা নির্ধারণে সবাইকে একসাথে ভাবতে হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে, একটি গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান ও নতুন লিখিত ধারা, উপধারা ও অনুচ্ছেদসমূহের মধ্যে দিয়ে যে সংশোধনী ও সংস্কার প্রস্তাবগুলো আমরা সম্মত হয়েছি, সেগুলো সুদৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব। এজন্য আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ঐক্যবদ্ধ সম্মতিতে পৌঁছাতে হবে।আখতার হোসেন আশা প্রকাশ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তিনি বলেন, কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে আবেদন জানাবেন যে, কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে এই প্রসেসটি সবার কাছে প্রশ্নাতীত করে তোলা যায় এবং কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করা সম্ভব।

  • বাঁশবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, পুলিশ কর্মকর্তা সহ নিহত দুজন

    বাঁশবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত ৩, পুলিশ কর্মকর্তা সহ নিহত দুজন

    নড়াইল-যশোর মহাসড়কে একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক ও বাসের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনার ফলে নিহত হলেন তিনজন। এর মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও দুজন বাসযাত্রী রয়েছেন। ঘটনাটি রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙুড়া বাজার এলাকায় ঘটে।

    সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম এই দুর্ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নিক্কন আঢ্য (৩৫), যশোর শহরতলীর বসুন্দিয়া এলাকার আক্তার হোসেন, এবং যশোরের ভেকুটিয়া এলাকার আবু জাফর, যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কে একটি বাঁশবোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময় ঢাকা থেকে যশোরগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে বাসটি দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটির পিছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশের বেশ কিছু অংশ ভেঙে যায় এবং ভেতরে বাঁশ ঢুকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মারা যান আক্তার হোসেন। গুরুতর আহত হন আবু জাফর ও এসআই নিক্কন আঢ্য।

    আহতরা প্রথমে যশোরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আবু জাফর মারা যান। পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিক্কন আঢ্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়, তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এসআই নিক্কন আঢ্য যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নিশিকান্ত আঢ্যের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ৩৭তম ব্যাচের আউটসাইড ক্যাডেট। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি লোহাগড়া থানার লাহুড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রে যোগদান করেন। এর আগে তিনি র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি আদালত থেকে ফেরার পথে প্রাণ হারান।

    এসআই নিক্কনের মৃত্যুতে নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলামসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে এগিয়ে যান। পরিবারের মঞ্জুরিতে সোমবার সকালে জেলা পুলিশ লাইন্সে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, এরপর তার মরদেহ যশোরের পুকুরিয়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আশাকরি সেখানেই দুপুরের মধ্যে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

  • ৫ মাসের সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করলেন মা

    ৫ মাসের সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করলেন মা

    রংপুরের তারাগঞ্জে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে যেখানে পাঁচ মাসের নিজের শিশুসন্তানকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা তুলসি রানী পুতুলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামে। ঘটনার খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ ফারুক নিশ্চিত করেছেন।

  • শেখ মুজিবসহ হাসিনা ছিলেন সেনাবিদ্বেষী: মাহমুদুর রহমান

    শেখ মুজিবসহ হাসিনা ছিলেন সেনাবিদ্বেষী: মাহমুদুর রহমান

    ক্ষমতাচ্যুৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পারিবারিকভাবে সেনাবিদ্বেষী ছিলেন বলে সম্প্রতি স্বীকার করেন বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার পিতা, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, দুজনই সেনাবিরোধী মানসিকতা পোষণ করতেন। আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক মামলার সাক্ষ্যদানকালে মাহমুদুর রহমান এসব কথা জানান।

    তিনি উচ্ছেদ করে বলেন, পিলখানায় দেশের সেনাবাহিনীকে নির্মমভাবে হত্যার পর শেখ হাসিনা বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তার বাসা থেকে উচ্ছেদ করেন। তদ্ব্যতীত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    আজকের এই সাক্ষ্যদান ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ের ঘটনার সামনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি এ মামলার ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারসহ তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন মাহমুদুর রহমান। এদিন, জনপ্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।

    গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মাহমুদুর রহমান ও নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি। পরে ট্রাইব্যুনাল তাদের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করে দেয়।

    এর আগের দিন, অর্থাৎ ৯ সেপ্টেম্বর, মামলার ১৪তম দিনে ছয়জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এখন পর্যন্ত মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

  • নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ শুরু, ধাপে ধাপে পৌঁছাবে ভোটের সামগ্রী

    নির্বাচনি মালামাল সরবরাহ শুরু, ধাপে ধাপে পৌঁছাবে ভোটের সামগ্রী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে নির্বাচনি সামগ্রী সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে এগিয়ে এগুলোর পৌঁছানো নিশ্চিত করা হচ্ছে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংরক্ষণ করার জন্য। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচনি মালামাল সংরক্ষণ চলাকালে নির্বাচন ভবনের প্রতিটি কোণে এই দৃশ্য দেখা যায়।

    নির্বাচন কমিশনের উপসচিব রাশেদুল ইসলাম জানান, লালগালা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের লক, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, বড় হোসিয়ান ব্যাগ, ছোট হোসিয়ান ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদার কিছু অংশ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলছিলেন, বড় ও ছোট হোসিয়ান ব্যাগের চাহিদার সবগুলোই এখন দাখিল হয়েছে এবং ধাপে ধাপে অন্যান্য মালামালও আসছে।

    এখন পর্যন্ত কেনাকাটা ও সরবরাহের মধ্যে রয়েছে আট ধরনের মালামাল। এর মধ্যে লালগালা ২৩ হাজার কেজি চাহিদার মধ্যে এক চতুর্থাংশই এখন পৌঁছে গেছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের জন্য ৫০ লাখ লক চাহিদা রয়েছে, এর মধ্যে পাঁচ লাখ সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। একইভাবে, ৮ লাখ ৪০ হাজার দফতরিক সিলের চাহিদার মধ্যে পাঁচ লাখের সরবরাহ শুরু হয়েছে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই। মার্কিং সিলের চাহিদা ছিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার, তবে দেড় লাখ সামগ্রী সরবরাহ শুরু হয়েছে। ব্রাস সিলের চাহিদা নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার, তবে রিটেন্ডার হওয়ায় বেশ কিছু বিলম্ব হচ্ছে। গনি ব্যাগের চাহিদা ১ লাখ ১৫ হাজার, সেটিও এখন পর্যন্ত সরবরাহ শুরু হয়নি; কারণ রিটেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, বড় হোসিয়ান ব্যাগের চাহিদার সবটাই ইতিমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে, যা ৭০ হাজারের বেশি। এছাড়া ছোট হোসিয়ান ব্যাগের জন্য চাহিদা ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার, সেটিও সম্পূর্ণভাবে সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

    অগাস্টের শুরুর দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনি সরঞ্জাম কেনাকাটা শেষ হবে। লোকাল পারসেজ প্রক্রিয়ায় আটটি আইটেমের মধ্যে একটির পুনরায় দরপত্র দিতে হয়েছে, তবে আমি বিশ্বাস করি সময়সীমার মধ্যে সব কিছুই শেষ হবে।

    প্রতিটি কেন্দ্র ও বুথের জন্য ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন ২১ ধরনের সামগ্রী। রোজার আগে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পরিকল্পনা করছেন ইসি। পাশাপাশি, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

  • মাদারীপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হলো হত্যা মামলার আসামিকে

    মাদারীপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হলো হত্যা মামলার আসামিকে

    মাদারীপুরের শিবচর বাজারে রাকিব মাদবর নামে একজন যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। রোববার রাত আটটার দিকে শহরের প্রধান সড়কের ইউসিবি ব্যাংকের সামনের এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে যায়। দ্রুত স্থানীয় মানুষ তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে পথেই তার মৃত্যু হয়।

    রাকিব শিবচর উপজেলার চরশ্যামাইল এলাকার নাসির মাদবরের ছেলে। তিনি সম্প্রতি ইবনে ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। এই হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে পুরো শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শিবচর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

    শিবচর থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, রাত আটটার সময় রাকিবকে গিরিজাগামী পুলিশের সামনের সড়কে দেখা যায়। এ সময় পাঁচ থেকে ছয়জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে দ্রুত সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত হওয়া রাকিবকে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু অবস্থার অবনতি होয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পথে তার মৃত্যু হয়।

    ওসি আরো জানান, ঘটনাটির স taken সত্যতা নিশ্চিত করে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, এর পিছনে শত্রুতা ও পূর্বের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্তের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, ৬ মে উপজেলার চরশ্যামাইল সর্দারকান্দি এলাকার কালাম সর্দারের ছেলে ইবনে সামাদকে এক দল লোক দুর্বৃত্তেয়ে কুপিয়ে আহত করে। এরপর তিনি ভর্তি ছিলেন ঢাকা মেডিকেলে। ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়। ইবনে সামাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে একজন ছিলেন রাকিব।