Month: September 2025

  • এক দিনের জন্য বন্ধু শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোর শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

    এক দিনের জন্য বন্ধু শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোর শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

    এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারের পরেও নিশ্চিত ছিল না বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠতে। তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফল। পরিস্থিতি ছিল স্পষ্ট—আফগানিস্তান হারলেই বাংলাদেশ সুপার ফোরে ওঠার সুযোগ পাবে।

    সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট প্রেমীদের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে কথার লড়াই সাধারণ ছিল। তবে আফগানিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগের রাতে এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ফেসবুকে অনেক বাংলাদেশি প্রকাশ্যে শ্রীলঙ্কাকে সমর্থন জানাতে শুরু করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা একদিনের জন্য মনে করেন তারা ‘ডাই-হার্ড ফ্যান’।

    শ্রীলঙ্কাও বাংলাদেশকে হতাশ করেনি। রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে তারা আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্বপ্নের সুপার ফোরে পা রাখে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও এটি এক ধরণের উৎসাহের বার্তা। তারা এখন এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায় এবং জয় দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের পথ শুরু করতে চায়। তাদের লক্ষ্য, প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া। আজ (শনিবার) দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি শুরু হবে।

    সুপার ফোরে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের জন্য শ্রীলঙ্কাকে হারানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে দুই মাসে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ তিনবার শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করেছে, যার মধ্যে অনেকটাই মনে করা হয় তারা শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের খেলার ধরন ও পিচের এইচএম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যার সাহায্যে সাম্প্রতিক তথ্যসমূহকে কাজে লাগাচ্ছে।

    এশিয়া কাপে মোট ১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে লঙ্কানরা ১৫ বার জিতেছে, তিনবার ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ চারবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে দু’বার জয় পেয়েছে। প্রথম আসরে, ২০১৬ সালে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩ রানে জিতেছিল। ২০২২ সালে তাঁরা বাংলাদেশকে দুই উইকেটে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়। সেই আসরেই শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

    আজকের ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কিছুটা বিশ্রাম পেয়েছে। গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর তারা চার দিন বিশ্রাম নিয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার জন্য কঠিন এই সময়টা হয়েছে—তাদের আরও দুই ম্যাচ খেলতে হয়েছে ঘামের গরম আবহাওয়া আর দ্রুত সময়ে। পাশাপাশি, তাঁরা দুবাই থেকে আবুধাবি যেতে বাধ্য হয়েছে, যেখানে উইকেট খেলা কঠিন হয়ে উঠেছে। এবার দেখা হবে, দুবাইয়ের স্পোর্টিং উইকেটে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন কি বাংলাদেশ।

    নাম ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোয়াডে অখণ্ডনীয় নেতা লিটন দাস উইকেটরক্ষক হিসেবে থাকছেন, এছাড়া তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ Hamiltonে, ইমন, সাইফ হাসান, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি, শামিম হোসেন, নুরুল হাসান, শেখ মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান, শরিফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

    শ্রীলঙ্কার স্কোয়াডে অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা থাকছেন, অন্য খেলোয়াড়রা হলো পাথুম নিশাঙ্কা, কুশাল মেন্ডিস, কুশাল পেরেরা, নুয়ানিডু ফার্নান্দো, কামিন্দু মেন্ডিস, কামিল মিশারা, দাসুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ভেল্লালাগে, চামিকা করুনারুত্নে, মাহিশ থিকসানা, দুশমান্থ চামিরা, বিনুরা ফার্নান্দো, নুয়ান থুশারা ও মাথিশা পাথিরানা।

  • আফ্রিদির সঙ্গে কুকুরের মাংস বিতর্ক: আবারও উত্তপ্ত হলো পরিস্থিতি

    আফ্রিদির সঙ্গে কুকুরের মাংস বিতর্ক: আবারও উত্তপ্ত হলো পরিস্থিতি

    সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রখ্যাত ক্রিকেটার ও সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি একটি নতুন করে আলোচিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইরফান পাঠানের পূর্বেকার মন্তব্যের বিষয়ে। পাকিস্তানের সামা টিভিতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরফান পাঠান যে কুকুরের মাংস খাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করে আফ্রিদিকে ব্যঙ্গ করেছিলেন, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আফ্রিদির অভিযোগ, পাঠান এইসব ঘটনা সাজিয়ে বলছেন শুধুমাত্র নিজেকে একটি ‘মহান ভারতীয়’ হিসেবে প্রমাণ করতে। তিনি যোগ করেন, ‘‘পাঠান সবসময় পেছন থেকে কথা বলে। যদি সত্যিই সাহস থাকে, সোজা সামনে এসে চোখে চোখ রেখে কথা বলুক। আমি সেই মানুষকে পুরুষ মনে করি, যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কথা বলে।’’ভারতের জনপ্রিয় গণমাধ্যম দ্য লাল্লনটপ-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাঠান এক পুরোনো ঘটনা মনে করে বলেন, ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরের সময় তিনি প্লেনে আফ্রিদির সঙ্গে ছিলেন। তখন আফ্রিদি তাকে ‘কিড’ বলে সম্বোধন করেন এবং তার চুল ছুঁয়ে মজা করেন। এরপর পাঠান জবাবে বলেন, ‘‘তুমি কখন আমার বাবা হয়ে গেলে?’’পাঠান আরও দাবি করেন, এক সময় তিনি আফ্রিদিকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘তূমি কুকুরের মাংস খেয়েছ, তাই এতক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছেন।’’ উপস্থিত সবাই হয়তো হাসি চেপে রাখতে পারেননি, আর আফ্রিদি কিছু বলতে পারেননি।এ বিষয় নিয়ে আফ্রিদি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই ঘটনা পুরোপুরি সাজানো। আমি কখনোই এমন কিছু বলিনি বা করিনি। পাঠান মিথ্যা বলছেন, কারণ তিনি নিজের ভাবমূর্তি সুন্দরভাবে তুলে ধরার জন্য পাকিস্তানিদের অপমান করতে চাইছেন।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘তার সারাজীবনই নিজের পরিচয় ভারতীয় প্রমাণ করার চেষ্টা। আপনি দেখবেন, সে সবসময় পাকিস্তানিদের কটাক্ষ করে কথা বলবে।’

  • পাকিস্তান ফের বাংলাদেশে আসছে

    পাকিস্তান ফের বাংলাদেশে আসছে

    ২০২৬ সালে ভারতের কলকাতা এবং শ্রীলঙ্কায় বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। এই মহাযজ্ঞের উত্তাপ পত্তন হওয়ার আগেই বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হবে নতুন এক উচ্চপ্রতিরোধ্য সিরিজ। আগামী বছর মার্চের শেষ সপ্তাহে শক্তিশালী পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, যেখানে তারা মুখোমুখি হবে দুই টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে।

    আশ্চর্যজনকভাবে, এই সিরিজে থাকছে না কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, যা আগে আইসিসির ফিটপ্লান-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ সিরিজের মাধ্যমে টাইগারদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হচ্ছে। কারণ পাকিস্তান সফরের আগেই বিশ্ব মঞ্চে লড়াই চালিয়ে যাবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল, আইসিসি বিশ্বকাপে ততটাই গুরুত্ব দিয়ে। এই বৈশ্বিক লড়াই শেষ করে, ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে আতিথ্য দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।

    সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৬ মার্চ ওই সিরিজের প্রথম লড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ তারিখেই শুরু হবে এই সিরিজের প্রথম টেস্ট, যেখানে খেলা হবে বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু নির্ধারিত হয়েছে সিলেটের পাহাড়ঘেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে।

    তবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ পুরোপুরি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে খেলাধুলার এই আসর পরিচালিত হবে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা হবে, চট্টগ্রামে এটি হবে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে সিরিজের আয়োজন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তাবিত সূচি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে পাঠিয়েছে, এবং পিসিবির সম্মতিই চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হবে। পাকিস্তান সিরিজের পর টাইগারদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও এক কঠিন চ্যালেঞ্জ—নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি হোম সিরিজ, যা তাদের জন্য নতুন এক পর্যায়ের শুরু হবে।

  • হাসিবুল শান্ত ও সালমা খাতুন হলেন জাতীয় দলের নির্বাচক

    হাসিবুল শান্ত ও সালমা খাতুন হলেন জাতীয় দলের নির্বাচক

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবশেষে নতুন সংযোজন করেছে দেশের ক্রিকেটের নির্বাচক প্যানেলে। পুরুষ দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং এই সম্মাননা বাংলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আনন্দের খবর হলো, নারী দলের নির্বাচক হিসেবে প্রথমবারের মতো নিয়োগ দেওয়া হলো একজন নারী, তিনি সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতунিকে। তিনি এখন আমাদের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তারা দুজনেই কাজ করবেন বর্তমান প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ শিপনের সঙ্গে।

    আজ বিকেলে বিসিবির জরুরি সভার শেষে বোর্ডের মিডিয়া ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হাসিবুল শান্ত জাতীয় দলে খেলাধুলার সঙ্গে সঙ্গে বয়সভিত্তিক দলে নির্বাচকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় দলে আনতে সহযোগিতা করেছে। অন্যদিকে, সালমা খাতুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নারী দলের নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সালমা ২০১৪-১৫ সালে আইসিসির সেরা অলরাউন্ডার নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন। মিঠু মনে করেন, এই নতুন সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও দলগত ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক ওপেনার হান্নান সরকার জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন, কোচিংয়ে মনোযোগী হওয়ার জন্য। এরপর থেকে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও আবদুর রাজ্জাক ধীরে ধীরে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট দল ব্যস্ত ছিল বড় বড় সিরিজ খেলায়—জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সময়েই শূন্যপদে নতুন নির্বাচক নিয়োগের জন্য জোর আলোচনা চলছিল। অবশেষে বিসিবি সেই শূন্যতা পূরণ করল।

    এদিকে, নারী ক্রিকেটের জন্য প্রথমবার আলাদা নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সালমা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে নিয়মিত ছিলেন তিনি এবং দেশের জন্য অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন। মাঠের বাইরে থেকে এবার তিনি নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গঠনে বড় দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরুষ ও নারী দুই দলের জন্যই একসঙ্গে নতুন নির্বাচক নিয়োগ দেওয়া হলো। হাসিবুল শান্তর অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের পেস আক্রমণ ও টিমের কৌশলগত দিকগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখাতে সহায়তা করবে বলেই মনে করছেন বোর্ডের officials। অন্যদিকে, সালমা খাতুনের নেতৃত্ব ও খেলার অভিজ্ঞতা নারীর ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এমনটাই আশা করছেন বিসিবি। এই নিয়োগ দুই দলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ সম্পন্ন জয়

    শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রতিশোধ সম্পন্ন জয়

    অ্যাশেজ ক্রিকেট এশিয়ান কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশ এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে নিজের গৌরব ফিরিয়ে আনল। সুপার ফোরে উঠার পর, বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা আগের দিন থেকেই আশা করেছিলেন যে তারা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রমাণ করবে। গ্রুপ পর্বে খেলার নির্দিষ্ট মানসম্মত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় বেশ কিছু অস্বস্তি এবং সন্দেহের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে তারা দেখাল, তাদের কাছে হার মানা কঠিন সত্যি। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অসাধারণ দলগত প্রচেষ্টায় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই জয়টি যেন তাদের প্রতিশোধের ইঙ্গিত।

    শুরুতেই শ্রীলঙ্কার দাসুন শানাকা ঝলমলে হাফ সেঞ্চুরির পরও, মুস্তাফিজুর রহমানের বলেই বাংলাদেশ তাদের লক্ষ্য ১৬৮ রানে আটকে দেয়। ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের জন্য ভাল শুরুর বিকল্পটা ছিল না কারণ, ইনিংসের প্রথম ওভারেই টানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায়। তবে লিটন দাস ও সাইফ হাসান দুরন্ত আক্রমণ চালিয়ে দলের জয় পাতে জন্য পথ তৈরি করে দেন। সাইফের পর হাফ সেঞ্চুরি করে হৃদয়ও নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দেখান, এবং তাদের দুজনের ইনিংসে বাংলাদেশের পুঁজি প্রতিষ্ঠিত হয়। পঞ্চাশের কাছাকাছি পৌঁছে চেষ্টা চালিয়ে যান, আর এটা নিশ্চিত করে যে বাংলাদেশ তার জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে শুরু হয়, কারণ টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামলেও প্রথম ওভারে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারান। তিনি পাথুম নিশাঙ্কার সুদক্ষ ডেলিভারিতে ঝলক দেখাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝিতে আউট হন। তবে ব্যাটসম্যানরা দুর্দান্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। লিটন ও সাইফ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন—বিশেষ করে সাইফ চার ও ছক্কায় দ্রুত রান যোগ করেন। এই দুজন পাওয়ার প্লেতে দলের জন্য ৫৯ রান সংগ্রহ করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হলে তারা উইকেট হারায় লিটন ও সাইফের ঝাঁপিয়ে পড়ার পর।

    সাইফ তার প্রত্যাশিত হাফ সেঞ্চুরি সম্পন্ন করেন ৩৬ বলে, আর হৃদয় ধীরে ধীরে খেলতে থাকেন। একদিকে তিনি ঝোড়োভাবে আঘাত হানেন, অন্যদিকে তার সাজানো জুটি সতর্কতার সঙ্গে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দেয়। এরপর, শ্রীলঙ্কার বলের বিপরীতে হৃদয় দ্রুত রান তুলতে থাকেন—৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকান, যা তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দীর্ঘ দিন পর ফিরেছে। সক্রিয় ভাবে খেলতে থাকা হৃদয় ও শামীম হোসেন শেষ মুহূর্তে ধীরগতি না দেখিয়ে দ্রুত রান সংগ্রহে মনোভাব নিয়ে একে অপরের সঙ্গে ঘরোয়া সঙ্গীতে অন্যরকম স্পন্দন বাড়ান।

    শেষে, নাসুম আহমেদ ও শামীম হোসেন দলকে জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বলে মনে করে ক্রিকেট অনুরাগীরা।

    অপরদিকে, শ্রীলঙ্কার ইনিংস শুরুও ছিল উড়ন্ত। ওপেনিং জুটিতে তারা ৪৪ রান তুলে ঝড়ো সূচনা করে। তবে, এর পরে ধীরগতি শুরু হয়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা খুব ভালো শুরু করলেও, শেষ পর্যন্ত ১৭০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ডেথ ওভারে বেশ দক্ষভাবে বোলিং করেন এবং তিন উইকেট তুলে নেন। মূলত, শ্রীলঙ্কার শানাকা কিছুটা ধীরগতির হলেও শেষ দিকে রানের চালানি চালান এবং অপরাজিত ৬৪ রানের ইনিংস খেলে যান। তবে, বাংলাদেশ তাদের ধারাবাহিক সংগ্রামে নিজেদের মানপ্রমাণ করে বিশ্বের শক্তি দেখিয়েছেন, এবং এই জয়ে তারা সুপার ফোরে পৌঁছানোর পথে একদ langkah এগিয়ে গেল।

  • পর্তুগাল এবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে

    পর্তুগাল এবার ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে

    অবশেষে গত সপ্তাহে পর্তুগালের সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে দেশটি। এই ঘোষণা একদিকে যেমন ফিলিস্তিনের জন্য নতুন এক পشة অঙ্গীকার, অন্যদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মতো পর্তুগালও এ ব্যাপারে সংহতি প্রকাশ করছে। আগামী রবিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি ঘোষণা করবে।

    পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো র‌্যাঙ্গেল সম্প্রতি লিসবনে এক বক্তব্যে বলেছেন, ফিলিস্তিনের জাতিসংঘে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারটি এখন তাদের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের পিছনে মূলত আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    পর্তুগাল আন্তর্জাতিক মহলে অন্যতম উন্নত দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। এই জোটের বেশ কিছু দেশ—যেমন সুইডেন, সাইপ্রাস, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ে—আগে থেকেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশেষ করে গাজায় হামাস-ইসরায়েল সংঘর্ষের শুরু থেকেই স্পেন এবং তার পরে এই স্বীকৃতির পথে এগিয়েছে অন্যান্য দেশ। স্পেনের পর বাংলাদেশও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এবার সেই পথে হাঁটছে পর্তুগাল, যা ইইউর চতুর্থ দেশ হিসেবে এই স্বীকৃতি দিচ্ছে।

    তবে, লিসবন সতর্কভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে ইইউ যে অবস্থান নেবে, লিসবন সেটাকেই সমর্থন করবে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নয়। সূত্র: রয়টার্স।

  • সাইবার হামলায় ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

    সাইবার হামলায় ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

    ইউরোপের বড় বিমানবন্দরগুলোতে চেক-ইন এবং বোর্ডিং পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কলিন্স অ্যারোস্পেসের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে লন্ডনের হিথরো, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। কলিন্স অ্যারোস্পেস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটির কারণে তারা আপাতত পরিষেবা দিতে পারছে না এবং এই ত্রুটির সমাধানে সময় লাগবে।

    বিশ্বের বেশ কিছু বিমান পরিবহন সংস্থা এবং বিমানবন্দরে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিষেবা ব্যবহৃত হয়। ইউরোপভিত্তিক বেশিরভাগ বিমানসংস্থাই কলিন্স অ্যারোস্পেসের মাধ্যমে চেক-ইন এবং বোর্ডিং এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই সাইবার হামলার ফলে এগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে, যার কারণে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

    লন্ডন, ব্রাসেলস এবং বার্লিনের বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই যাত্রীদের ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে। তবে ইউরোপের অন্যান্য বড় কিছু বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে; যেমন ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ ও জুরিখের বিমানবন্দরে বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।

    ব্রাসেলস বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক না হবে, ততক্ষণ তারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাত্রীদের সেবা প্রদান চালিয়ে যাবে। এ পরিস্থিতি কিছুটা সময়সাপেক্ষ, যদি শিগগিরই কলিন্স অ্যারোস্পেসের সাইবার হামলার সংঘটন সমাধান না হয়, তবে ফ্লাইটের ডিপার্চার সময় প্রায় ৫৪ মিনিট পিছিয়ে যাবে, বলছেন ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের একজন কর্মকর্তার বরাতে।

  • সুদানের দারফুরে মসজিদে ড্রোন হামনায় নিহত ৭৮

    সুদানের দারফুরে মসজিদে ড্রোন হামনায় নিহত ৭৮

    সুদানের দারফুর অঞ্চলের একটি মসজিদে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় মেডিক্যাল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করে বলছে, ভয়াবহ এই হামলাটি ঘটেছে দিনটি শুক্রবার ভোরে, দারফুরের এল-ফাশ শহরে। হামলার জন্য স্থানীয় সময় সকালে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করা হলেও, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি তারা।

    গত দুই বছর ধরে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত প্রবলেম্ভভাবে চলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি আরএসএফ শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং এল-ফাশের সম্পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর লড়াই চালাচ্ছে। এই শহরটি দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে এখনো তিন লাখেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক অবরুদ্ধ হয়ে জীবন বিপন্ন করছেন।

    একটি প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, ভোরের ফজরের নামাজের সময় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে বহু মানুষ প্রাণ হারান। চিকিৎসা সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে। ঘটনার স্থান থেকে মৃতদেহ পরিষ্কারে কাজ চলছে।

    বিবিসির ফুটেজ যাচাই করে দেখা গেছে, সেখানে প্রায় ৩০টি মরদেহ সাদা কাপড়ে ঢেকে বা কাফনের পোশাকে মোড়ানো অবস্থায় মসজিদের পাশেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

    এই সপ্তাহে নয়, একাধিকবার এল-ফাশে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস আক্রমণ চালাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শহরটির কাছে অবস্থিত, বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য উত্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্র ‘আবু শৌক’ শিবিরেও ভয়াবহ হামলা হয়েছে।

    ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের (এইচআরএল) স্যাটেলাইট ছবি দেখাচ্ছে, আশ্রয়কেন্দ্রের বড় অংশ এখন আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, ফুটেজে দেখা গেছে, আরএসএফ সেনারা জয়েন্ট ফোর্সের সদর দপ্তরে প্রবেশ করেছে, যা আগে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ড ছিল।

    বিস্তারিত যাচাইয়ে জানা গেছে, সেনাদের উপস্থিতি সেখানে দৃশ্যত দৃশ্যমান, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। এই অগ্রগতি হলে এল-ফাশের বিমানবন্দর ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তর সরাসরি আরএসএফের হামলার লক্ষ্য হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরএসএফ শহরে থাকা সাধারণ লোকজনকে টার্গেট করে থাকতে পারে, কারণ অধিকাংশ বাসিন্দাই এক জাতিগোষ্ঠীর। আরএসএফ তাদের শত্রু হিসেবে দেখে।

    ফ্রেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এই সংঘাত ক্রমশ জাতিগত রূপ নিচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি জানিয়েছেন, আরএসএফ দখলকৃত এলাকায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে অনেক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু, তাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়, এবং তারা বলে ফেলে যে, তারা কোনো গোত্রীয় সংঘাতের সঙ্গে জড়িত নয়।

  • ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের বাজারে অগ্নিগйর, ক্রেতারা কিনতে পারছেন না

    ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের বাজারে অগ্নিগйর, ক্রেতারা কিনতে পারছেন না

    বাংলাদেশ থেকে আসা ইলিশের খবর শুনে অনেকেই সত্যিই আনন্দিত হয়েছিলেন ভারতের কলকাতা শহরে বসবাসরত মানুষজন। তবে, বাংলাদেশি মাছের বেশি দাম ও উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতাদের মাঝে আগ্রহ কমে গেছে। তাই অনেক ক্রেতা এখন আর ইলিশ কিনতে পারছেন না এবং এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে যে, ভবিষ্যতেও কি বাংলাদেশ থেকে ইলিশের আমদানি আবার চালু হবে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বৃহস্পতিবার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশের ইলিশের জন্য ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় লেক মার্কেট, গারিয়াহাট ও মানিকতলা এলাকায় খুচরা মাছের দোকানদাররা হাওয়ার পাইকারি বাজার থেকে ৫ থেকে ২৫ কেজি করে ইলিশ সংগ্রহ করেন। এ সময় শোনা গেছে যে, গুজরাট থেকে বড় এক চালান বাংলাদেশি ইলিশের আসছে, যা বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাজারে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা বলছেন, গুজরাটের ইলিশ বাজারে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সুবিধাজনক। বর্তমানে কলকাতায় বাংলাদেশের এক কেজির বেশি ওজনে একটি ইলিশের দাম ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রূপি বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ২৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকা।

    অন্যদিকে, গুজরাটের সেই একই সাইজের ইলিশ খুচরা বাজারে ৮০০ থেকে ১১শ রূপিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হিমায়িত ইলিশও বাজারে আসছে, যার মূল্য প্রায় ১৫০০ রূপি।

    কলকাতার মাছ আমদানি পরিষদের সেক্রেটারি আনোয়ার মাসুদ জানান, ‘বাংলাদেশি ইলিশের দাম কমার কোনো আশা দেখghịে। বর্তমানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, বেশিরভাগ মানুষই কিনতে চাইবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী সোমবার মার্কেট পর্যবেক্ষণের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে, আর বাংলাদেশি ইলিশ আমদানি করা হবে কি না।’

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পেট্রাপোল বন্দরে গত মঙ্গলবার ৫০ টন বাংলাদেশি ইলিশ গেছে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ টন ইলিশ প্রবেশ করেছে।

    অমর দাস নামে এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘ডায়মন্ড হারবার থেকে যদি ভালো মানের বড় মাছ পাই, তাহলে আমি ১০০ কেজি স্টক করতে পারি। কিন্তু এখন আমি শুধু ২০ কেজি বাংলাদেশি ইলিশ নিয়েছি কারণ ক্রেতাদের আগ্রহ খুব কম। তখন এই মাছগুলো মজুদ করাটাও লাভজনক নয়।’

    মানিকতলার রাজু দাস জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি মাছের গঠন ভালো হলেও ছোট আকারের কারণেই দাম অনেক বেশি। যদি বড় মাছের দামে এই রকম দাম হতো, তবে বাজারে বাংলাদেশি মাছের চাহিদা কমে যেত। ডায়মন্ড হারবারের মাছ থাকলে বাংলাদেশি মাছের জন্য কোনো ক্রেতাই থাকত না।’

    তবুও, কলকাতার অনেক মানুষ এখনও বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি আলাদা টান অনুভব করেন। তাদের মধ্যে একজন আখ্যান মুখার্জি জানালেন, ‘আমি মাছ বিক্রেতাকে আগে থেকে বলেছি যেন আমাকে বাংলাদেশের ইলিশ দেন। শুক্রবার একটির দাম উঠে ২ হাজার ৫০ রূপি।’

  • সাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে

    সাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড় সুপার টাইফুনে রূপ নিতে পারে

    ফিলিপাইনসাগরে সৃষ্টি হওয়া সামুদ্রিক ঝড়টি বর্তমানে টাইফুনে রূপ নিয়েছে। ‘নান্দো’ নামের এই ঝড়টি আগামী সোমবার সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের জাতীয় আবহাওয়া ব্যুরো। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে, ফিলিপাইনের অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগগুলি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, নিচু এলাকাগুলো এবং ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা লোকদের জন্য। একে মোকাবেলা করতে, প্রেসিডেন্ট মারকোসের নির্দেশে সকল জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যেন জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা যায়।

    টাইফুনের আঘাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু জরুরি নিয়মও জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রে সব ধরনের নৌচলাচল বন্ধ রাখা, মদ্যপান নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং ছোট নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রযাত্রা আপাতত নিষেধ। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে।

    এছাড়াও, মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যারা ঘরবাড়ি থেকে বের হতে পারেননি বা নৌকা চালাতে সক্ষম নয়, তারা নিরাপদে থাকতে পারেন।

    সরকারি কর্তৃপক্ষ আবহাওয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যবিভাগ ও উদ্ধারকারি দলগুলো প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি, জলপথ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাঁধের অবস্থা দেখা, পাথর ও খনি এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে যাতে করে কোনো বিপদ এড়ানো যায়।

    ডিআইএলজি (অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার বিভাগ) সতর্ক করে বলেছে, ‘ঝুঁকি কমাতে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করতে সবাইকে দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জনগণকে সতর্ক থাকার, কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করার এবং স্থানীয় নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রসহবাসী আবহাওয়া দপ্তর জানান, ‘নান্দো’ সোমবারের মধ্যে সুপার টাইফুনে পরিণত হতে পারে এবং বাতানেস-বাবুয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে। এর ফলে, বাতানেস, কাগায়ান, ইলোকোস নর্তে, ইলোকোস সুর এবং কাগায়ানের উপকূলবর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে করে জনসাধারণ সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে পারে।