Month: September 2025

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় খোকন গ্রেফতার

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় খোকন গ্রেফতার

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অজয় কর খোকনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই অভিযানে ডিবির একাধিক সদস্য অংশ নেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অজয় খোকন সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল ও সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, অজয় খোকনের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা রয়েছে কি না, বা তিনি কি আগে কোনো সহিংসতায় জড়িত ছিলেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অজয় কর খোকন ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।

  • সাবেক মন্ত্রী কামরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

    সাবেক মন্ত্রী কামরুল ৫ দিনের রিমান্ডে

    শাহবাগে জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যার মামলায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদিকুর রহমান এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

    মামলার তদন্তকারক, শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম খান পুলক, আসামির ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন, আর আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের জন্য আবেদন করেন অ্যাডভোকেট আফতাব আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেপ্তারির পর তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিতে হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে চাঁনখারপুল এলাকায় ছাত্র ও সাধারণ জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন মো. মনির। আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম মামলার ৭ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।

  • কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার পরিকল্পনা

    কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ফেরার পরিকল্পনা

    দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা থেকে পিছিয়ে পড়ার পর দেশের গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ এখন কলকাতা থেকে নতুন করে রাজনীতির পুনর্গঠন শুরু করে দিয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির অনেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং সেখান থেকেই ফের দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম Scroll-এ প্রকাশিত এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ হাবিবে মিল্লাত ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় সাত সপ্তাহ ধরে ঢাকায় লুকিয়ে ছিলেন। পরে তিনি দেশের সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। নিজের ভাষায়, পালানোর সময় তিনি গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং হেঁটে ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় সীমান্ত অতিক্রম করেন। কলকাতায় পৌঁছেই initialভাবে ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছিলেন। সুবিধার জন্য অর্থের অভাবে চার রাত মাটিতে শুতে হয়েছিল তাকে।

    হাবিবে মিল্লাত জানান, ঢাকায় চলমান আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অন্তত ৬৩৭টি ঘটনায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও কর্মী মার খেয়েছেন, কিছু নিহতও হয়েছেন। এ ছাড়া দলের ১১৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য বর্তমানে কারাবন্দি।

    বর্তমানে কলকাতায় স্ত্রীসহ এক ভাড়া অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন ডা. মিল্লাত। সেখান থেকেই আন্তর্জাতিক মাধ্যমে বাংলাদেশি রাজনীতির লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। কানাডাভিত্তিক think tank গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্সের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর থেকে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করানো এবং আওয়ামী লীগের জন্য আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ খুলে দেওয়া।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দিল্লিতে যান। এর পর থেকে দলটির কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে হাবিবে মিল্লাতসহ শতাধিক নেতা ভারতে পালিয়ে যান। তাঁদের অনেকেই এখন কলকাতায় অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তাঁরা ভার্চুয়াল বৈঠক করছে, কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বসছেন এবং সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করছে—এছাড়াও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন কর্মীদের সঙ্গে।

    সম্প্রতি বিডিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতায় আওয়ামী লীগ একটি অফিস খোলে। এই খবর Bangladesh-এ অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে“中国 সরকারের অবমাননা” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাকে অফিস বলা হচ্ছে, তা মূলত একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে তারা মাঝে মাঝে বসেন—এটি অফিস নয়। তিনি আরও বলেন, কলকাতার একটি শপিং মলে তিনি একটা কফিশপে বসে আছেন ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

    নাদেল আরও জানান, তিনি কলকাতায় সাধারণ জীবন যাপন করছেন, ব্যাংকে লাইন দিচ্ছেন, বাজার করছেন ও দর কষাকষি করছেন। তবে তাঁর দলের সঙ্গে আনুগত্য কমেনি। তিনি বলেন, যদি অফিস বলতে হয়, তাহলে কলকাতায় অন্তত পাঁচ-ছয়টি স্থান রয়েছে যেখানে তাঁরা বসেন বা যোগাযোগ রাখেন।

    আরেকটি বার্তা দেন, পশ্চিমবঙ্গের নিউ টাউনে থাকা আওয়ামী লীগের ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন। তিনি দৈনিক ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশের ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি হত্যা কাণ্ডের মামলা রয়েছে। তিনি জানান, দেশের আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করছেন।

    সাদ্দাম বলেন, সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাথে দেখা হয়, যা তিনি খুবই হৃদয়গ্রাহী ও অনুপ্রেরণামূলক মনে করেন।

    অন্যদিকে, হাবিবে মিল্লাতও আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, তাহলে সংগঠনের শক্তির মাধ্যমে বড় ধরনের সফলতা অর্জন সম্ভব।

    বিরোধী দলগুলোর موقف অনেকটাই বিপরীত। বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে, এবং তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অচিরেই শেষ বলে মনে করছে। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগকে তার অতীতে শাসনের জন্য কঠোর শাস্তি পেতেই হবে।

    এছাড়াও, এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরবে, কিন্তু খুবই ধীরগতিতে। তাঁদের মতে, জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বাস করবেন না।

    ভারতের কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তেমন ভালো ছিল না। অতীতে এই জোটের কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতা ও উসকানি বৃদ্ধি পায়—এই কারণেই ভারতের জন্য আওয়ামী লীগ ছিল সুবিধাজনক।

    প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা শিকরি বলেন, ভারতের স্বার্থে সুষ্ঠু, মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়া উচিত। অন্যদিকে, গবেষক আদিত্য গোদারা মনে করেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা বা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা—দুটোই ভারতের জন্য সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তিনি বলেন, ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, পরবর্তী ক্ষমতাসীন দল হিসেবে কোনোটির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা।

    তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ফেরে, সেটি সময়ের ব্যাপার। তবে পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা ছিল আওয়ামী লীগের মূল ঘাঁটি। পঞ্চাশ বছর পর আবারও তাঁরা সেই কেন্দ্র থেকেই পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এবার পথ অনেক কঠিন, রাজনীতি অনেক বেশি জটিল। ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ ও জনমত পরিবর্তনের কারণে আওয়ামী লীগকে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এখনো এক অনিশ্চিত ব্যাপার।

  • সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ নাগরিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে ভোট দিতে আগ্রহী। একই সময়ে, দেশজুড়ে অতি পরিচিত জামায়াতে ইসলামীকে ভোটের জন্য পছন্দ করেছেন ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ। এরপরই রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যাদের প্রতি মানুষ এখন ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশের বেশি সমর্থন দেখিয়েছেন। এই তথ্য উঠে এসেছে ইনোভিশন কনসালটিং নামে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার মাসিক জরিপ থেকে।

    বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ন্যাশনাল আর্কাইভসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে সংস্থাটি ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’র দ্বিতীয় পর্বের ফলাফল প্রকাশ করে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫৭.৫ শতাংশ ভবিষ্যতের সরকার থেকে আইন-শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এই সঙ্গে, তারা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বড় অগ্রাধিকার দিতে চান, যা ৫৪.৬ শতাংশ। দুর্নীতি বা অনিয়ম কমাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী ও আধুনিক করার দাবিও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ উত্তরদাতা ভারত (৭২.২%) ও পাকিস্তানের (৬৯%) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করেন। তবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ কম দেখা গেছে, যেখানে ভারতের প্রতি সমর্থন বেশি।

    ভোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থীর যোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ (৬৫.৫%), এরপর রয়েছে প্রার্থীর পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা (১৪.৮%) এবং দলের প্রতীক (১৪.৭%)। তরুণ ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দেয় প্রার্থীর কর্মক্ষমতা, আবার প্রবীণরা ঝুঁকছেন দলের প্রতীকের প্রতি।

    দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও অসন্তুষ্টির হার অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্টি (৩৩.৪৩%) ও সবথেকে কম সন্তুষ্টি (১৫.৫২%) পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী উচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করেছে (৩০.৩৪%), যদিও এর অসন্তুষ্টিও যথাক্রমে ১৯.৭৪%। বিএনপি পেয়েছে ২১.৫% সন্তুষ্টি এবং ২৭.৬% অসন্তুষ্টি।

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়ে জনমত বিভক্ত। ৪৫.৭৯% মনে করেন, সব দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দিতে হবে, অন্যদিকে ৪৫.৫৮% মনে করেন, বিচারাধীন থাকা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে বেশি সমর্থন দেয়ার রায় দিয়েছে।

    পরবর্তী সরকার গঠনে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছে বিএনপি (৩৯.১%), জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন ২৮.১% জন। একই সময়ে, নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করা হয়, বিএনপিই সবচেয়ে বেশি সম্ভবত নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবে।

    অতীতের নেতাদের মধ্যে, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি, এর মধ্যে জেনারেশন-জেডের বেশি মানুষ শেখ মুজিবকে সমর্থন করে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা কিছুটা মেরুকৃত, যেখানে ২১.৬% উত্তরদাতা তাকে শূন্য রেটিং দিয়েছে।

    ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসালটিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রুবাইয়াত সরওয়ার। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিআরএআইএন-এ নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান এবং দি ডেইলি স্টার-এর সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম।

    ইনোভিশন জানিয়েছে, ‘পিপলস পারসেপশনস অন ইলেকশন সার্ভে’ একটি সামাজিক গবেষণা উদ্যোগ, যা ভয়েস ফর রিফর্ম ও বিআরএআইএনের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।

    পূর্বের মার্চ মাসে এই সংস্থা একটি জরিপ করেছিল, যেখানে দেখা যায়, আগামী নির্বাচনে ৪১.৭% মানুষ বিএনপি-কে ভোট দিতে চাইবে, অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ভোটের জন্য ৩১.৬% পছন্দ। তখন ৫৮% ভোটার চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন চান। নিখোঁজ আওয়ামী লীগ এখনও মাত্র ১০% মানুষ পছন্দ করেছিল, যা এই বছরের সেপ্টেম্বরের জরিপে বেড়ে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ হয়েছে।

  • দগ্ধ ফায়ার ফাইটার শামীম মারা গেছেন

    দগ্ধ ফায়ার ফাইটার শামীম মারা গেছেন

    গাজীপুরের টঙ্গীতে কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হওয়া ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদ (৪২) আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি টঙ্গী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, শামীম আহমেদ গুরুতর দগ্ধ হন ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগেছিল। তিনি তিন সন্তানের বাবা ছিলেন।

    অধ্যাপক মোঃ নাসির উদ্দিন, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বলেন যে, ফায়ার ফাইটার শামীমের দগ্ডের পরিমাণ ছিল সম্পূর্ণ। তিনি জানান, আজ বিকেল তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    সোমবার গাজীপুরের টঙ্গীতে সাহারা মার্কেটের কেমিক্যাল গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ সময় চারজন ফায়ার ফাইটার আহত হন। আহতদের সবাইকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

  • গানের শিল্পী জুবিন গর্গের সিঙ্গাপুরের দুর্ঘটনায় মৃত্যু

    গানের শিল্পী জুবিন গর্গের সিঙ্গাপুরের দুর্ঘটনায় মৃত্যু

    সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বাংলা ও বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে, যখন তিনি নর্থইস্ট ফেস্টিভ্যালের অনুষ্ঠানের জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু আচমকাই সমুদ্রে পড়ে যান এবং বেশ কিছুক্ষণ অচেতন ছিলেন।

  • ফের মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী মিথিলা

    ফের মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী মিথিলা

    মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫ এর Crown জয় করলেন তানজিয়া জামান মিথিলা। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি গ্রিনহাউজে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অভিনেত্রী তমা মির্জা এবং মডেল-অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল তার হাতে মুকুট পরিয়ে দেন।

    এটি প্রথম নয়, ২০২০ সালের মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ বিজয়ী ছিলেন মিথিলা। তবে প্রথমবার বিজয়ী হওয়ার পরে তিনি বিশ্ব মঞ্চে যাননি। এবারই প্রথম তাঁকে মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়, যা আগামী নভেম্বরে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হবে ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা।

    মিথিলা নিজেকে তুলে ধরে বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। দেশের সম্মান রক্ষায় আমি মর্যাদা, সাহস ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করব।”

    তানজিয়া মিথিলা তার মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি আজ যা কিছু, তা আমার মায়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। তিনি সবসময় আমার শক্তি ও অনুপ্রেরণা। এই সফলতা শুধু আমার না, তারও স্বপ্নের প্রতিফলন।”

    বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি, তিনি ২০১৯ সালে বলিউডে পা দেন। ভারতের হায়দরাবাদে পরিচালক হায়দার খানের পরিচালনায় ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় অভিনয় করেন। এর আগেও তিনি বলিউডের সিনেমা ‘দাবাং’, ‘কমান্ডো’, ও ‘দঙ্গল’-এ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। সুপারহিট এই সিনেমায় তাঁর বিপরীতে ছিলেন ‘মিস্টার ভুটান’ সাঙ্গে। সিনেমাটি ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর মুক্তি পায়।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে শিরিন শিলা এবং ২০২৪ সালে আনিকা আলম মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ খেতাব অর্জন করেন।

  • কলকাতায় আদালতে তোলা হলো বাংলাদেশি মডেল শান্তা পাল বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

    কলকাতায় আদালতে তোলা হলো বাংলাদেশি মডেল শান্তা পাল বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

    ভারতে অবৈধভাবে থাকার অভিযোগে দুই মাস আগে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশের মডেল শান্তা পালকে আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা বৃহস্পতিবার কলকাতার মুখ্য বিচার বিভাগীয় আদালতে এই অভিযোগপত্র পেশ করে। সরকারী কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই মামলায় প্রতারণা, ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি, অভিবাসন আইন এবং প্লেয়ার্স আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শান্তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনিয়ে বিচারক অতনু মণ্ডলের এজলাসে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে, ভারতের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং প্যান কার্ড তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সৌমিক দত্ত ও শেখ মুমতাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র পেশ করা হয়, তবে তাদের অভিযোগপত্র ভার্চুয়ালি কারাগার থেকে পড়া হয়। নির্দিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতে থাকছিলেন এই বাংলাদেশি মডেল। গত জুলাই মাসে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ কলকাতার গলফ গ্রীন থানার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। বর্তমানে শান্তা ও তার সঙ্গে থাকা তিনজনকে আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত কারাগারে রাখা হয়েছে।

  • ডিভোর্সের পাঁচ বছর পর শবনম ফারিয়া বিবাহিত

    ডিভোর্সের পাঁচ বছর পর শবনম ফারিয়া বিবাহিত

    প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রথম সংসার শেষ করে anew বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। শুক্রবার বাদ আসর, দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে এই নতুন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন ফারিয়া।

    শবনম ফারিয়া এর আগে ২০১৮ সালে হারুনুর রশীদ অপুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তখন অপু ছিলেন একটি বেসরকারি বিপণন সংস্থার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক। তিন বছরের প্রেমের পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের আংটি বদল হয়, এবং পরের বছর জানুয়ারিতে তাদের বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তবে দাম্পত্য খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালাকের জন্য স্বাক্ষর করেন।

    বিয়ের বিষয়ে ফারিয়া তখন কিছুটা তিক্ততা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমার বিয়ের অনুভূতি ছিল জটিল—আতঙ্কের মতো। বিবাহের পরে নানা ধরনের ব্যক্তিগত সমস্যা এবং আবেগের সম্মুখীন হয়ে মনে হয়েছিল, এই অধ্যায়টাও হয়তো শেষ। তবে সময়ের সাথে সাথে, পরিবারের সিদ্ধান্তে, তিনি নতুন জীবন শুরু করতে রাজি হন।

    জানা গেছে, ফারিয়ার দ্বিতীয় স্বামী তানজিম তৈয়ব রাজশাহী থেকে আসা। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।

  • জুবিন গার্গের মৃত্যুতে আয়োজকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ, মামলা দায়ের

    জুবিন গার্গের মৃত্যুতে আয়োজকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ, মামলা দায়ের

    ভারতের জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যক্ষ গাফিলতির অভিযোগ উঠে আসছে, যার ফলে আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে মারা যান ৫২ বছর বয়সী এই শিল্পী। মূলত নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কাজের ফাঁকে বেলেপাথর পানিতে নেমে ডুব দিয়ে ফেরত না আসায় এই ঘটনা ঘটে।

    নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালের আয়োজকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, যে কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অভিযোগে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে একটি এফআইআর (মামলা) দায়ের করেছেন একজন আইনজীবী।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটির আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিরাপদ পরিকাঠামো নিশ্চিত না করেই তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই অবহেলার কারণেই গায়কের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, ইভেন্টের ম্যানেজারকেও একই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য আক্রোশের মুখে পড়তে হয়েছে।

    শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ওই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল যেখানে জুবিন গার্গে পারফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল। তবে, তার আগের দিন ডাইভিং করার সময় পানিতে ডুবে গিয়ে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন তিনি। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর কারণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও প্রাথমিকভাবে ডুবে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের ঘটনা জানা গেছে।

    ২০২২ সালে ভারতীয় গায়ক কেকে (কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ) মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল, এবং সেই বিতর্ক এখন আবার তেজি হয়ে উঠল। জুবিন গার্গের মৃত্যু এই বিতর্ককে নতুন করে সামনে আনল।