Month: September 2025

  • এরদোয়ান: গাজা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি গণহত্যার কেন্দ্র

    এরদোয়ান: গাজা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, এটি গণহত্যার কেন্দ্র

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধের নয়, বরং ইসরায়েলের পরিচালিত গণহত্যা চলছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তিনি মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এক আবেগপূর্ণ ভাষণে এই কথাগুলো বলেন।

    এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনেই গাজা ৭০০ দিনের বেশি সময় ধরে গণহত্যার মুখোমুখি। গত ২৩ মাসে ইসরায়েল প্রতি ঘণ্টায় একজন শিশুকে হত্যা করছে। এসব সংখ্যা নয়; প্রতিটি জীবনই মূল্যবান, প্রতিটি মৃত্যু একটি ঘৃণ্য হত্যা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন পর্যন্ত আধুনিক ইতিহাসে এমন মানবিক বিপর্যয় আর দেখা যায়নি। শিশুদের অজ্ঞান করার ওষুধ ছাড়াই অঙ্গচ্ছেদ এবং অমানবিক হাসপাতাল অভিযান চালানো হচ্ছে। এসবই সভ্যতার জন্য লজ্জাজনক। গাজা কোথাও যুদ্ধ চলছে না—এখানে দুটি পক্ষের লড়াই নয়, এটি একতরফা আগ্রাসন, গণহত্যা এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের নীতি।’

    এরদোয়ান ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর প্রশংসা করেন এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিউইয়র্কে উপস্থিত থাকতেই পারলেন না, কিন্তু তুরস্ক ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে কথা বলছে, যাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধৈর্য্য হারানো এই পরিস্থিতি এখন মানবতার জন্য এক অনিরাপদ চ্যালেঞ্জ।’

    তিনি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর, বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের গণহত্যাকারী চক্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। এরদোয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল কেবল গাজা ও পশ্চিম তীরের দখলে নয়, সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন, লেবানন ও কাতারে তাদের আক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

    তিনি বলেন, ‘বিশ্ব নেতাদের উচিত মানবতার জন্য এই সময়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো। আজকের এই পরিস্থিতি নারীর অধিকার, শিশুর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচার—সবার মৌলিক মানবাধিকারকে ধূলিসাৎ করছে।’

    এরদোয়ান আরও প্রশ্ন রাখেন, ‘শিশুরা যখন ক্ষুধা ও ওষুধের অভাবে মারা যায়, তখন কি সেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব? গত শতকে মানবতা এমন নৃশংসতা দেখতে পায়নি’। তার ভাষ্য, ‘গাজায় চলমান এই গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এখনো অব্যাহত থাকলে, এ সত্যি বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক ও অকল্যাণকর।”

  • সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১২৪

    সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাতে তাইওয়ানে নিহত ১৪, নিখোঁজ ১২৪

    দক্ষিণ চীন সাগরে উদ্ভূত ভয়ঙ্কর সুপার টাইফুন রাগাসার প্রভাবে তাইওয়ানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৪ জন, এবং বর্তমানে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ১২৪ জন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় হুয়ালিয়েন জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা লি কুয়ান-তিন। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে এই ঝড় হুয়ালিয়েনে ব্যাপক আঘাত হেনেছে, যা জেলাটির বেশ কিছু অংশে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।

    লি কুয়ান-তিন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীদের সর্বশেষ তথ্য মতে, এই ঝড়ে এখন পর্যন্ত হুয়ালিয়েনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজের সংখ্যা আপডেট হয়ে আরো বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা এখন ১২৪ জন।’

    ফায়ার সার্ভিসের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, প্রবল বর্ষণের কারণে হুয়ালিয়েনের একটি বড় হ্রদের সীমানা ভেঙে পড়েছে, যার ফলশ্রুতিতে পুরো শহর পানিতে ভাসছে। শহরের অনেক স্থান দোতলা উচ্চতার পানিতে ডুবে গেছে। এই পরিস্থিতির বিপরীতে উদ্ধারকারীরা দ্রুত কাজ চালাচ্ছেন।

    এক রোববারের প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, এই ঝড়ের কারণে তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরের তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ঝড়ো হওয়া এবং ভারী বর্ষণ হয়েছে। হংকংয়ে সোমবার থেকে পূর্ববর্তী ১০ নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

    ফলপ্রকাশে, বিশ্বের বহু বিজ্ঞানী ও আবহাওয়া বিশ্লেষক রাগাসাকে এক সুপার টাইফুন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এটি সাধারণ নিম্নচাপ থেকে উদ্ভূত ঝড়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। ফিলিপাইন, চীন এবং তাইওয়ানের আবহাওয়া সংক্রান্ত কর্মকর্তারা এই ঝড়কে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন হিসেবে গণ্য করছেন।

    সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে ফিলিপাইনের উপকূলে আঘাত হেনেছে রাগাসা, তখন এর বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার। এই ঝড় কাগায়ানের বাতানিজ দ্বীপের দক্ষিণে আছড়ে পড়েছে, যা থেকে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের দূরত্ব প্রায় ৭১০ কিলোমিটার।

    প্রভাবের কারণে দক্ষিণ চীন সাগরের তীরে থাকা ফিলিপাইন, তাইওয়ান, হংকং এবং চীনের গুয়াংডং প্রদেশে রোববার থেকে ঝড়ো হওয়া ও ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। হংকংয়ে একটি পরিবারের মা ও তার ৫ বছরের ছেলেকে সাগরের জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হংকংয়ের উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের সময় তরঙ্গের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৩ ফুট।

    তবে এখন পর্যন্ত ফিলিপাইন ও তাইওয়ান থেকে কোনো হতাহতের খবরে রিপোর্ট আসেনি।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই ঘূর্ণিঝড়কে যুক্তরাষ্ট্রে বলা হয় হারিকেন। যখন কোনও হারিকেন ব্যাপক এলাকা ব্যাপ্তি ও শক্তিতে পৌঁছে যায় এবং গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে, তখন তাকে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেন বলা হয়। ফিলিপাইন ও চীনের আবহাওয়া বিশ্লেষকরা রাগাসাকে ক্যাটাগরি ৫ হারিকেনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

  • আখতারকে ডিম ছোড়ে মিজান জামিনে মুক্ত

    আখতারকে ডিম ছোড়ে মিজান জামিনে মুক্ত

    নিউইয়র্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে, যখন তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। উল্লেখ্য, তার বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক পুলিশ কোনো চার্জ দায়ের করেনি।

    বিশদে জানানো হয়, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে বের হবার সময়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে অবস্থানে থাকা আখতার হোসেনের ওপর হামলা চালায় কিছু আওয়ামী লীগ কর্মী।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তখনই যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে ডিম ছুড়েন। পাশাপাশি, তাসনিম জারার নামাও অশালীন ভাষায় গালাগাল করে তার কণ্ঠস্বর উচ্চ করে ওঠেন অন্য কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আখতার হোসেনসহ অন্যান্যদের নিরাপত্তা দেয়। সেই ঘটনার পর, ২২ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে পুলিশ মিজানকে গ্রেপ্তার করে।

    নিউইয়র্ক আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মিজান এখন রেহাই পেয়েছেন। এই ঘটনায় নিম্নশ্রেণীর প্রবল উত্তেজনা ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটে, যা নিউইয়র্কের কমিউনিটিতে আলোচনার বিষয় হয়েছে।

  • গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আবশ্যক: ম্যাক্রোঁ

    গাজায় স্থিতিশীলতার জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আবশ্যক: ম্যাক্রোঁ

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল military force এড়ানো যাবে না। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী বছর দুয়েক ধরে হামাসকে দমন করতে গাজায় যে অভিযান চালাচ্ছে, তা স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত নয়। তিনি জানান, এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা অপরিহার্য।

    মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া এক ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসছে, যার লক্ষ্য ছিল হামাসকে সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ করা। তবে, এখনো হামাসের হাজার হাজার যোদ্ধা জীবিত রয়েছে, যা পরিস্থিতির মাহাত্ম্যকে আরও জটিল করে তুলছে। এ কারণে তিনি মনে করেন, কেবলমাত্র সামরিক পদক্ষেপ দ্বারা এই সংকটের সমাধান আসন্ন নয়।

    ম্যাক্রোঁ আরো বলেন, এই পরিস্থিতির সমাধানে সর্বাত্মক এবং বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্তি দিতে হবে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ অবিচ্ছিন্ন রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্তা দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

    উল্লেখ্য, গত সোমবার ফ্রান্স ও ইসরায়েল যৌথভাবে একটি বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজিত করে, যেখানে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি ও মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আলাপ হয়। এই সম্মেলনে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগালসহ বেশ কিছু দেশ অংশ নেয়, তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সম্মেলন বর্জন করে।

    তথ্যসূত্র: সিএনএন

  • ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    ফিলিস্তিনের সমর্থনে ইতালিতে ডাকা ধর্মঘট ও বিক্ষোভে উত্তেজনা

    গাজায় ইসরাইলের আইসিপি হামলার বিরুদ্ধে ইতালির হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। দেশব্যাপী এই বিক্ষোভের কারণে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে, বন্দর ও রাস্তাঘাটে যানচলাচল ব্যাহত হয়েছে, সেই সঙ্গে ট্রেন সেবাও বিপর্যস্ত। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল ও কানাডার মতো দেশগুলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু ইতালি এই উদ্যোগ থেকে এখনো নিজেদের সরিয়ে রেখেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে স্বীকৃতি দিলে এটি ফলপ্রসূ হবে না। যদি কাগজে-কলমে একটি অবাস্তব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে বিষয়টি সমাধানের না হয়েও মনে হতে পারে যে সমীপটে সাফল্য এসেছে। এটি বাস্তবে সমস্যার সমাধান করবে না।’

    সোমবার, ইতালির ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দেশজুড়ে বাইরে রাস্তায় নামেন অন্তত ৮০টি শহরের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বন্দরকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা। মিলান ও রোমের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মিলান থেকে পালেমো পর্যন্ত বহু পৌরসভায় ইতালির মুসল্লিরা রাস্তায় নেমেছেন। জেনোয়া ও লিভোর্নোতে ডক শ্রমিকরা বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেন, তাদের অভিযোগ, ইতালি ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করে একটি নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুরিন ও বোলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম অবরোধ করে। রোমের টারমিনি রেলস্টেশনে প্রায় ২০,০০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ১৭ বছর বয়সী মাইকেলেঞ্জো এজেন্স ফ্রান্স-প্রেসকে (এএফপি) বলেন, আমি এই দুঃখিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এসেছি।

    মিলানের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনের কাছে গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবিতে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন পতাকা পুড়ালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি কালো পোশাকধারী দল পুলিশের দিকে পাথর, ধোঁয়া বোমা ও লোহার রড ছুঁড়লে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বোলোনিয়ায় প্রধান রিং রোডে অবরোধ করা হয়। পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেন, এই ভাঙচুর কোনোভাবেই গাজা-সংক্রান্ত স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, এই ধরনের সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তার মতে, এসব ঘটনা গাজার মানুষের পরিস্থিতি পরিবর্তন করবে না, বরং এটি ইতালির নাগরিকদের জন্য ক্ষতি ডেকে আনবে।

    অপরদিকে, বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে যে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সংসদে গাজা-ইসরাইল ইস্যুতে পরিষ্কার অবস্থান ব্যক্ত করেননি। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লাইন বলেন, ‘যখন যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তখন তিনি নিজের প্রিয় খাবার নিয়ে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন।’ পরে তিনি মিলানের ব্যাপক সহিংসতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।

    অপরদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ‘জর্দান নদীর পশ্চিমে কোন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না।’ প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগো বলেন, ‘এ ধরনের স্বীকৃতি অন্ধকার শক্তিকে উস্কে দেবে।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

  • খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় হলে ডুমুরিয়া-ফুলতলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে

    খুলনা-৫ আসনে ধানের শীষ বিজয় হলে ডুমুরিয়া-ফুলতলায় সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে

    জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু বলেছেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার সমর্থকরা এখনও চুপচাপ নেই। তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে। একদিকে একটি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন জিতাতে পিআর পদ্ধতিতে প্রচার চালানো হচ্ছে, যা মূলতঃ আওয়ামীলীগের কূটচাল। এজন্য আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে ফ্যাসিবাদ ও মৌলবাদকে রুখে দিতে হবে। খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া ও ফুলতলার বাসিন্দারা খুবই সৌভাগ্যবান; কারণ এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আন্তরিক মনোযোগ রয়েছে। যদি ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হয়, তাহলে এই ত্রিপাক্ষিক অঞ্চলে ডুমুরিয়া-ফুলতলাতেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে, এ বিশ্বাস আমি সকলের মাঝে ব্যক্ত করছি। তাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতারণা থেকে বিরত থেকে সকল ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষের একত্রিত শক্তিতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা, ১৪টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি। প্রাক্ দূতাবাসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতাদের উপর আওয়ামী দখলদার সন্ত্রাসীদের অপ্রতুল আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে আরও গণহত্যা চালানো আওয়ামী লীগের স্থান একটুও থাকবে না। হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হত্যার পরও তাদের দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ মোশাররফ হোসেন মফিজ, জেলা বিএনপি’র সদস্য হাফিজুর রহমান হাফিজ, মোঃ মাহবুবুর রহমান, সরদার আব্দুল মালেক ও আশরাফুল ইসলাম নূর, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা শেখ সরোয়ার হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ মশিউর রহমান লিটন, শেখ ফরহাদ হোসেন, জিএম মিজানুর রহমান লিটন গোলদার, মোঃ আঃ রশিদ শেখ, জিএম মশিউর রহমান, অরুণ গোলদার, শেখ শাহিনুর রহমান, শেখ রেজওয়ান হোসেন, শেখ মতিয়র রহমান বাবু, মোঃ রফিকুল ইসলাম, খান আছাদুজ্জামান মিন্টু, শেখ শাহানুর রহমান ও উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক বিএম সৈয়দ আহমেদসহ আরও অনেকেই।

  • খুলনায় ভোক্তা-অধিকার অভিযান চালিয়ে লাখো টাকা জরিমানা

    খুলনায় ভোক্তা-অধিকার অভিযান চালিয়ে লাখো টাকা জরিমানা

    খুলনা বিভাগে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়গুলো গত मंगलवार বিভিন্ন স্থান জুড়ে বিস্তারিত অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের সময় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ও ক্রয় ভাউচারের সঠিকতা পরীক্ষা করা হয়, পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা মূল্যের থেকে বেশি বিক্রি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আরিশা মেডিকেল হলের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। প্রনব কুমার প্রামাণিকের নেতৃত্বে নান্না বিরিয়ানি ও কোরিয়ান জুস এন্ড ফাস্টফুডের মোড়ক অপব্যবহার এবং অন্যান্য অপরাধে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০০ টাকা ও ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

    নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো এই পর্যায়ের অভিযানে রাজ্জাকের ফুচকা, বরিশাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারসহ সবাইকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, মাগুরা, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলার কার্যালয় এই ধরনের অভিযান চালিয়ে ছোট বড় অসংখ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড ধার্য করে। অভিযানে ধরা পড়া ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগকেই পণ্য মান পরীক্ষায় লিপ্ত থাকায় জরিমানা করা হয়।

    এমন ধারাবাহিক অভিযান মূলত সাধারণ ক্রেতাদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে বাজারে পণ্য মূল্য ও গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

  • জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায়

    জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায়

    সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর লবী বলেছেন, দেশের জনগণ এখন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য অধীর আগ্ৰহে অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। নির্বাচন সময় একতরফা হয়ে গেছে, ভোটের দিন-রাত ব্যালট বাক্স ভরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন ও শক্তি যাচাইয়ের কোন সুযোগ থাকেনি। এর পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রূপান্তরকামী কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা ছিল সময়ের চাহিদানুযায়ী। কিন্তু বর্তমান সময়ে কিছু দল আওয়ামী সরকারের পথ অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পছন্দের নেতা নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করার চেস্টা করছে। আলী আসগর লবী জানান, যদি মানুষ তাঁদের ভোটে সংসদে পাঠায়, তাহলে তিনি এই অঞ্চলের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা না করে সংগঠন ও উন্নয়নে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত করে কাজ করবেন। মঙ্গলবার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বাজারে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ৩১ দফা পরিকল্পনার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুলনা জেলার উত্তর ডুমুরিয়ার চারটি ইউনিয়নে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রঘুনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রব আকুঞ্জি ও পরিচালনা করেন সদস্য সচিব শাহেদুজ্জামান বাবু। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, খুলনা নগর মহিলা দলের আহবায়ক ও সাবেক এমপি সৈয়দা নার্গিস আলী, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ এবং জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এড. সেতারা সুলতানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান ইসমাইল হোসেন, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রেহেনা ইসলাম, শেখ সরোয়ার হোসেন, সরদার আব্দুল মালেক, মোল্লা মাহবুবুর রহমান, শেখ হাফিজুর রহমান, মশিউর রহমান লিটন, ফরহাদ হোসেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, খোকন তালুকদার প্রমুখ।

  • আসামিদের জামিনে মুক্তি পেলেন নবজাতকের মা ও নানি

    আসামিদের জামিনে মুক্তি পেলেন নবজাতকের মা ও নানি

    অবশেষে জামিন পেলেন ১৩ দিনের নবজাতকের মা শাহাজাদী ও তার নানি নার্গিস বেগম। মঙ্গলবার খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাদের জামিনের জন্য আবেদন করা হয়, যেখানে বিচারক মোঃ শরীফ হোসেন হায়দার তা অনুমোদন করেন। দুপুরের দিকে কারাগারে জামিনপত্র পৌঁছানোর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আইনজীবী শেখ রফিকুজ্জামান জানান, সকালে আদালতের প্রত্যয়ন পত্র গ্রহণের পর খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন, যেখানে বিচারক বিশেষ বিবেচনা এবং একমাত্র তাদের মানবিক পরিস্থিতি দেখে বিনা জামানতে জামিন দেন। খুলনা কারা কর্তৃপক্ষের জেলার মোহাম্মাদ মুনীর হোসাইন জানান, জামিনের কপি আসার পর দুপুরের দিকে নার্গিস বেগমকে কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় সোয়া ৩টা সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শাহাজাদীকে মুক্তি দেওয়া হয়। জানা যায়, রোববার হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে থাকা শাহাজাদীকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহীন কবির তাকে আদালতে হাজির করেন। কিন্তু ওই সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিনের শুনানি সম্ভব হয়নি, ফলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এ সময় তিনি নবজাতক সন্তানসহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে স্থানান্তর করে। সেখানে পৃথক কেবিনে চিকিৎসা চলতে থাকে। সোমবার শাহাজাদীর পক্ষে জামিনের জন্য আবেদন করা হলেও নিম্ন আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে মঙ্গলবার জামিন পাওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শাশুড়ি বাড়ি থেকে তার কোনও খবর নেওয়া হচ্ছে না, যা তাকে খুবই হতাশ করে। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর নগরীর রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহাজাদীর (৩৬) কোলজুড়ে আসে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। পরিবারের আগের চার কন্যার সঙ্গে এবার পুত্র সন্তান শুভকামনা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির। কিন্তু ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে চলে যান সিরাজুল, এরপর আর খবর রাখেননি। পরিবারে চাপ ও হতাশার মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর একই হাসপাতালে চার দিন বয়সী এক নবজাতকের চুরি ঘটে। দ্রুতই সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় নবজাতকটি উদ্ধার হয়। পরিবারের কাছ থেকে শিশুটি ফিরে পাওয়ার পর তাকে জেলখানায় আটক করা হয়। কারণ, শাহাজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলায় নার্গিস বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহাজাদী চিকিৎসাধীন থাকাকালে দাবি করেন, তার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

  • খুলনায় গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ জন

    খুলনায় গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ জন

    খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার জামিরা বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগের আদলে এক যুবক আলমগীর হোসেনের গণপিটুনির ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাটি ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর, যখন আলমগীর হোসেনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী এ ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ফুলতলা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামিরা ও টোলনা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় এবং তাদের আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইফুল, রুমান মোল্যা ও নাসির খান। পরে তাদের পাটিগণ্ডায় আদালতের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়।

    ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান চালায় এবং মোট ১৩ আসামির মধ্যে এই তিনজনকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

    উল্লেখ্য, নিহত আলমগীর হোসেনের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অপবাদে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে এবং বিচার দাবি করছে স্থানীয় মানুষ।