জুলাইয়ে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের মধ্যে বড় সংখ্যক মানুষ মারাত্মক মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছেন এবং বেশির ভাগই তীব্র আঘাতের পর মানসিক চাপের সাথে লড়ছেন। বাংলাদেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) পরিচালিত এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্য জানানো হয় সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে, যেখানে বলা হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি মনোস্তাত্ত্বিক সমস্যা মোকাবেলার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ওই সেমিনারটি ছিল ‘বিয়ন্ড দ্য হেডলাইনস: মেন্টাল হেলথ কন্সিকোয়েন্স অব দ্য জুলাই আপরাইজিং এ্যান্ড মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’ শীর্ষক কেন্দ্রীয় আলোচনাসভা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির আয়োজন করে। সেমিনারটি দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল—প্রথম ভাগে ‘মেন্টাল হেলথ ইম্প্যাক্ট অব ভায়োলেন্স এ্যান্ড ট্রমা’ বিষয়ের উপস্থাপনায় সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ শামসুল আহসান জানান, আহত ২১৭ জনের মধ্যে বিষণ্নতার হার ৮২.৫ শতাংশ এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভোগা মানুষের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ। অন্য অংশে ‘ইম্প্যাক্ট অব ট্রমা ও ভায়োলেন্স এ্যান্ড চাইল্ড এ্যান্ড অ্যাডোলোসেন্ট পপুলেশন’ শিরোনামে অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ তুলে ধরেন, শৈশবের ট্রমা ও সহিংসতা কিভাবে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ ও মানসিক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ ও আচরণগত সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডাঃ আফজালুন নেসা এবং সঞ্চালক ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ খালেদ মাহবুব মোর্শেদ মামুন। মনোরোগবিদ্যায় অবদান রাখা বিশেষজ্ঞেরা বলেন, আহতদের মধ্যে অনেকেরই বিষণ্ণতা ও তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে উদ্বেগ। তারা মনে করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পরও অনেকের মনোভাব সন্দেহজনক বা উদ্বিগ্ন থাকছে। এজন্য রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানসিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং কেন্দ্র চালুর প্রয়োজন। ডাঃ আহসান আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএমইউ, ডিএমসিএইচ, এনআইএমএইচ, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ব্র্যাকের সমন্বয়ে ‘বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য টিম’ গঠন করা হয়েছে, যারা প্রাথমিক প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে কাজ করছে। এই টিমের মাধ্যমে যাদের মানসিক সমস্যা এখনো গজিয়েছে না, তাদের রক্ষায় মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তারা কাউন্সেলিং, গ্রুপ সেশন এবং প্রয়োজনে কিছু ওষুধের ব্যবহার করছেন। গুরুতর আহতদের জন্য মনোস্তাত্ত্বিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। আগে থেকেই যাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে, সেই সমস্যা আর বাড়তে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানোর জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে, যেখানে বিএমইউর ডাক্তাররা সহায়তা প্রদান করবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করে, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, শিশুর মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন, সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এড, প্রমাণভিত্তিক থেরাপি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ সহায়তা প্রদান। পারিবারিক সহানুভূতি, সচেতন শিক্ষক ও নিরাপদ সমাজের সাথে যৌথ উদ্যোগ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। অভিভাবকদের অনুরোধ, শিশুর মানসিক কষ্ট বা পরিবর্তন শনাক্ত করলে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নিন কারণ দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জটিলতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বিএমইউসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা এই ব্যাপারে হটলাইন চালু করেছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডাঃ মাহজাবিন মোর্শেদ বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করে, সাইকোলজিক্যাল থেরাপি, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা সমন্বয় করে থাকেন। পরিবার, শিক্ষক ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একসাথে কাজ করলে শিশুদের মানসিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়। শিশুর মানসিক কষ্ট বা পরিবর্তন লক্ষ্য করলে দেরি না করে মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া জরুরি। তারা বলে থাকেন, দ্রুত হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতের জটিলতা কমানোর মূল চাবিকাঠি। এই পেশাজীবীরা শুধু চিকিৎসকই নন, তারা শিশুর জন্য সহায়ক, পথপ্রদর্শক এবং ভবিষ্যৎ রক্ষাকারী। বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ নাহরীন আখতারও উল্লেখ করেন, ট্রমা, সহিংসতা ও মানসিক অস্থিরতা রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সবাই যৌথভাবে দায়িত্বশীল ও যত্নশীল হতে হবে।
Month: August 2025
-

অভিনেত্রী জেসমিনের ভয়ঙ্কর যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার গল্প
অভিনয় শিল্পে অনেকেই নানা ধরনের সমস্যা Facing করেন, বিশেষ করে নারীরা। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই যৌন হয়রানির শিকার হন। এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার গল্প সম্প্রতি শেয়ার করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী জেসমিন ভাসিন। তিনি জানান, সিরিয়ালে কাজ করার পাশাপাশি তিনি বিগ বসের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তবে অডিশন দেওয়ার সময় তার সাথে যা হয়েছিল, তা ছিল এক ভয়ঙ্কর ঘটনা।
জেসমিনের ভাষায়, ঘটনাটি ঘটে মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায়। তিনি হোটেলে গিয়ে দেখলেন, আরও কিছু তরুণী অডিশনের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রথমে সব কিছু স্বাভাবিক মনে হলেও কিছুক্ষণ পরে পরিস্থিতি তলানিতে পৌঁছে যায়। তিনি বলেন, ‘প্রেমিকের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমাকে একটি দৃশ্যে অভিনয় করতে বলা হয়, যেখানে আমাকে আটকাতে বলা হয়। আমি ভয়ে ভয়ে সেই বিষয়টি করছিলাম। কিন্তু পরিচালক সন্তুষ্ট হচ্ছিলেন না। হঠাৎ করে তিনি হোটেলের কক্ষে থাকা দরজা বন্ধ করে দিয়ে অন্য কিছু করার চেষ্টা করতে থাকলেন।’
জেসমিন বললেন, ‘পরিচালক স্পষ্টতই মদ্যপ ছিলেন। আমি পরের দিন প্রস্তুতি নিয়ে আসতে চাইলাম, কিন্তু তিনি রাজি হননি। উল্টো জোর দিয়ে বলেন, “আজই অভিনয় করতে হবে।” তখন তিনি আরও খোলামেলাভাবে নির্দেশনা দিতে শুরু করেন এবং হুমকি-ধামকি দেন।’
অভিনেত্রীটি এই পরিস্থিতি থেকে কৌশলে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, কখনো আবার হোটেল রুমে একাই কোনো মিটিং করবেন না। তিনি অন্য শিল্পীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘অনেক সময় কাস্টিং কল বলে আসা সবোটাই সত্য নয়। বেশির ভাগই কিছু অসাধু মানুষের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে যেন নিশ্চিত হয়েন এটি বৈধ এবং নিরাপদ।’
সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস।
-

মুজিবের ছবি নিয়ে পোস্টের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার গুজব বিভ্রান্তি: রিউমার স্ক্যানার নিশ্চিত
গতকাল ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। এ দিনটিতে দেশের বিভিন্ন অংশে বিনোদন অঙ্গনের তারকারা সামাজিক মাধ্যমে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে poster ও পোস্ট শেয়ার করেছেন। তবে এরই মধ্যে একটি গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় যে কিছু জনপ্রিয় তারকাকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ার জন্য অর্থ দেয়া হয়েছে। এই ভুয়া তথ্যের সত্যতা খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ।
গুজবের অংশ হিসেবে একটি ভাইরাল হয়েছে একটি কথিত ব্যাংক স্টেটমেন্টের ছবি। সেখানে দেখা যায়, একজন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের নামে এসসিবি (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক) এর অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩ ও ১৪ আগস্টের মধ্যে নয়জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ হাজার টাকা করে ট্রান্সফার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এই ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে রিউমার স্ক্যানার বিস্তারিত তদন্ত চালায়। তারা নিশ্চিত করে যে, এই স্টেটমেন্ট সম্পূর্ণ ভুয়া।
তাদের পরীক্ষায় দেখা যায়, যে অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দেখানো হয়েছে সেটি ১৩ সংখ্যার, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রকৃত অ্যাকাউন্ট নম্বর মূলত ১১ ডিজিটের। পাশাপাশি, এই নম্বরের সঙ্গে কোনো বাস্তব অ্যাকাউন্টের মিল পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যগুলো অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
এছাড়া, ভাইরাল হওয়া এই কৃত্রিম স্টেটমেন্টে গ্রহীতার নাম উল্লেখ থাকলেও আসল এসসিবি স্টেটমেন্টে ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট নম্বর বা গ্রহীতার নাম প্রকাশ করা হয় না। রিউমার স্ক্যানার জানায়, অনলাইনে সহজলভ্য একটি টেমপ্লেটে এসসিবির লোগো বসিয়ে এই ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। অতীতে এই ধরনের টেমপ্লেট ব্যবহার করে অনেক ব্যাংকের ভুয়া স্টেটমেন্ট তৈরি করার ঘটনা দেখা গেছে। সংস্থাটির মূল্যায়নে, এই পোস্টগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
-

ইউটিউবার এলভিস যাদবের বাড়িতে গুրման হামলা
ভারতের জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা ও বিখ্যাত বিগ বস বিজয়ী এলভিস যাদবের বাড়িতে আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ভোরে, ১৭ আগস্ট, তার বাড়ির বাইরে মুখোশধারী তিনজন তালগোল করার মতো করে গুলি চালায়। ভারতীয় গণমাধ্যমে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পালানোর আগে তার বাসভবনের কাছে দুই রাউন্ড গুলি চালায়। গুরুগ্রাম পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার জানান, এলভিস যাদব তখন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি হরিয়ানা রাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের এক সূত্র বলছে, হামলার সময় পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাসায় উপস্থিত ছিলেন, তবে কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছে।
এলভিসের পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই ঘটনায় তিনি কোনো হুমকি পেয়েছেন বলে তাদের জানানো হয়নি। বর্তমানে তিনি হরিয়ানার বাইরে আছেন।
পুলিশ আরও বলেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা হবে। এর আগে প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে যখন কৌতুকশিল্পী কপিল শর্মার কানাডার ক্যাফেতে গুলির ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়ার সাথে সাথে বলিউডে শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, এই হামলার পিছনে সালমান খানের ঘনিষ্ঠদের ওপর আঘাত করতে চাইছে⋯
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের আনুসঙ্গিক তদন্ত চলছে এবং তারা এই সরঞ্জামগুলোকে খুঁজে বের করার জন্য চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। কিছু জল্পনা রয়েছে যে, এই হামলার পিছনে পাশবিক সংগঠন লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের হাত থাকতে পারে, যারা আগে স্বীকার করেছে হিন্দি বিনোদন জগতের বিভিন্ন তারকার ওপর হামলার দায়িত্ব। বিশেষ করে, এলভিস যাদবের মতো সালমান অনুসারীদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
-

শেখ হাসিনার মতো আচরণ করবেন না: বাঁধন
গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে গণপিটুনির শিকার হন আজিজুর রহমান নামের এক রিকশাচালক। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালন করতে গিয়েছিলেন, সেই সময় জনরোষের শিকার হন। জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দেয়।
তিনি এ বিষয়ে আরও জানান, গতকাল (১৬ আগস্ট) শনিবার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জেনিফার জেরিনের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এই ঘটনার জন্য আজিজুর রহমানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।
এ ঘটনায় নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী বাঁধন লিখেছেন, “আপনাদের কে মানুষের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেয়া হয়েছে? শেখ হাসিনার মতো আচরণ করবেন না— দেখেছেন তো তার শেষ কোথায় দাঁড়িয়েছে? তার পতনের পর আশা করেছিলাম মানুষের মধ্যে কিছু শিক্ষা হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই একই আচরণ এখনও অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তোমরা বলতে পারেন, কারা কি করতে পারবে বা পারবে না? মানুষের নিজস্ব বিবেক ও বিচার-বুদ্ধি আছে। কেউ যদি নিজস্ব ইচ্ছায় শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, সেটি তার ন্যায়সঙ্গত অধিকার। এর জন্য আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না বা এর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। কাউকে শ্রদ্ধা জানানোর কারণে তাকে ‘ভুল’ বলবেন না। নিজের মতামত না মিললেও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত।”
বাঁধন বলছেন, “একটা কথা বলি—আপনাদের সস্তা মানসিকতা দেখে আমি হাসি। এক সময় গুজব ছড়ানো হয়েছিল, ‘আমি জুলাই বিদ্রোহের সময় ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০০ কোটি টাকা পেয়েছি। এখন শোনা যাচ্ছে, আমরা শেখ মুজিব নিয়ে পোস্ট করার জন্য মাত্র ২০,০০০ টাকা পেয়েছি!’ এভাবে হাস্যকর ব্যাপার কি সত্যিই কেউ এতো বড় ঝুঁকি নেয় শুধুমাত্র কিছু টাকার জন্য?”
তিনি আরও বলেন, ‘এখন বুঝে রাখুন, মিথ্যা, সস্তা গুজব বা হুমকি দিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সময় বদলে গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে, বিশ্বায়ন হয়েছে। মানুষ এখন সব কিছু বুঝে শুনে। একজন সত্যিকার নেতা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে না, অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি গোপনীয়তা রক্ষা করেন না, কথায় বিশ্বাস গড়ে তোলে। গুজব ছড়ায় না, বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করে।’
অভিনেত্রী বলেন, ‘ক্ষমতার মোহে বিভ্রান্ত হবেন না। মনে করবেন না এখনো আপনি মানুষকে নাড়াচাড়া করে চালাতে পারবেন। এই নিয়ন্ত্রণের সুতো অনেক আগে কেটে গেছে। জেগে উঠুন, নইলে ইতিহাস আরও কঠোর শিক্ষা দিয়ে আপনাকে শিক্ষা দেবে।’
সবশেষে বাঁধন লিখেছেন, ‘একজন সত্যিকার নেতা এবং মানবিক মানুষ হওয়া জরুরি। নইলে আপনি শেষমেশ শেখ হাসিনার মতো এক ব্যর্থ প্রতিলিপিতে পরিণত হবেন। বিশ্বাস করুন, এই ট্র্যাজেডির দ্বিতীয় পর্বের দরকার নেই।’
-

সুপারম্যান খ্যাত অভিনেতা টেরেন্স স্ট্যাম্প মারা গেছেন
বিলিওনিয়ার এবং সুপারম্যানের খ্যাতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেতা টেরেন্স স্ট্যাম্প আর নেই। তার মৃত্যু হয় রোববার, ১৭ আগস্ট, সকালে, বয়স ছিল ৮৭ বছর। এ খবর নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা, যদিও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেমন এপি ও এনবিসি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
টেরেন্স স্ট্যাম্প বিশ্বজুড়ে তার অভিনয় ক্ষমতার জন্য পরিচিত, বিশেষ করে তিনি ‘সুপারম্যান’ এবং ‘সুপারম্যান ২’ সিনেমায় খলনায়ক জেনারেল জোডের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ‘সুপারম্যান’ সিনেমায় ও ১৯৮০ সালে আসা সিক্যুয়ালেও তিনি এই সংকীর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। এই অনবদ্য কাজের জন্য তিনি দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
‘সুপারম্যান’ ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাগ। এই চরিত্রে তার অভিনয় তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি এনে দিয়েছিল। তার মৃত্যু খবরে পশ্চিমা শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহকর্মী ও ভক্তরা শোক প্রকাশ করে মরহুমের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছেন।
টেরেন্স স্ট্যাম্প লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ‘বিলি বাড’ সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেন, যা তার ক্যারিয়ারের সূচনালগ্নে সাড়া ফেলে দেয়। প্রথমেই তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে অস্কার ও বাফটা অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন।
১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব প্রিসিলা, কুইন অব দ্য ডেজার্ট’ চলচ্চিত্রে তিনি ট্রান্সজেন্ডার চরিত্র ‘বার্নাডেট’ হিসেবে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে তিনি থ্রিলার, কমেডি এবং ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার ছবিতে আরো অভিনয় করেন। তাঁর এই অসামান্য কর্মযজ্ঞ সিনেমা শিল্পে অনন্ত প্রেরণা হয়ে থাকবে।
-

উয়েফা সুপার কাপ ফাইনালে ফিলিস্তিন শিশু হত্যার প্রতিবাদ জানাল
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলমান রয়েছে বছরের পর বছর ধরে। প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর শোনা যায়, যার মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। এই ব্যাপক মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর পাশাপাশি ক্রীড়াজগতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে উয়েফার উদ্যোগ।
ইতালির উদিনেতে অনুষ্ঠিত ব্লুনার্জি স্টেডিয়ামে গতকাল রóbবার টটেনহাম হটস্পার ও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) এর মধ্যবর্তী ফাইনাল ম্যাচের আগে, মাঠে ‘শিশু ও বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধ করো’ শিরোনামে ব্যানার প্রদর্শন করে উয়েফা। এই ব্যানারটি দুটি দলের ফুটবলাররা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকা সময় উপস্থাপন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বার্তার প্রতিফলন।
সেই দিনই নয়, ফাইনালের শুরুতেই সেই প্রতিবাদ আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পায়। ম্যাচে অংশ নেওয়া দুটি দলের ফুটবলাররা ক্রীড়াক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে, গাজা উপত্যকার দুটি শিশুকে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেন। উয়েফার পক্ষ থেকে সেই দুই শিশু গাজা থেকে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। তাদেরকে নিয়মিত উয়েফা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আধিকারিকভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়, যা ন্যায্যতা ও মানবতার প্রতীক।
উয়েফার এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সৌভাগ্য ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য αυτήও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন মানবতা ঝুঁকির মুখে। ম্যাচের সময় বা কোনও সময়ে স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক বার্তা বা নমনীয়তা প্রদর্শনের ব্যাপারে উয়েফার কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপার কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরাক ও আফগানিস্তানের শরণার্থী শিশুকেও আনানো হয়েছিল। তবে, সেখানে নির্দিষ্ট কোনও দেশের যুদ্ধের উল্লেখ ছিল না।
এছাড়াও, ৭ আগস্ট ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছিল যে, সুলেইমান নামে একটি শিশু, যিনি ‘ফিলিস্তিনের পেলে’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, দক্ষিণ গাজা উপত্যকার একটি হামলায় নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল প্রতিধ্বনি তুলে, মোহাম্মদ সালাহসহ বহু ফুটবল তারকা এই বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সালাহ তার সোশ্যাল মিডিয়ায় সুলেইমানের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, “আপনাদের কি বলতে পারবেন সে কোথায়, কীভাবে এবং কেন মারা গিয়েছে?”
ফাইনাল ম্যাচটি ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টে দেয়। এই ম্যাচে, পিএসজি প্রথমে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও, নাটকীয়ভাবে শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে টোটেনহামকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা সুপার কাপ জিতে নেয় পিএসজি। এই ম্যাচের মধ্যে শিক্ষণীয় বার্তা ও মানবতার স্পর্শ ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলে, যা মানবিক সম্ভাব্যতা ও শান্তির ডাক দেয়।
-

বাংলাদেশের রান পাহাড়ে চাপা পড়েছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের আধিপত্যশীল ব্যাটিংয়ের ফলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের শো-ডাউন শুরুতেই উজ্জ্বল উদাহরণ দেখিয়েছে, যেখানে তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৭ রান সংগ্রহ করেছে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেছেন ইয়াসির খান, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দলের বিপর্যয় পতন রুখে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের হয়ে ৩৪ রানে এক উইকেট লাভ করেছেন হাসান মাহমুদ। জবাবে বাংলাদেশ শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে, প্রথম ওভারেই অভিজ্ঞ নাঈম শেখকে হারায় ৫ রানে। যদিও প্রতিপক্ষের আক্রমণের মাঝে সাইফ হাসান ও জিশান আলমের উত্তেজনাপূর্ণ ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা দেখাচ্ছিলো, যা জোড়া উইকেট জুটিতে ৮৬ রান যোগ করেছেন। সাইফ ৩২ বলে ৫৭ রান করে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন। তবে তার বিদায়ের পর আর কেউই আধিপত্যের মান বজায় রাখতে পারেনি। আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের দ্রুত পতনের কারণে বাংলাদেশ অপ্রতিদ্বন্দ্বী অসঙ্গতিতে পড়ে, যার ফলে তারা পুরোপুরি আউট হয়ে যায়। এর আগে, পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটার খাজা নাফি ও ইয়াসির খান দুর্দান্ত সূচনা করেন, তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শক্ত ভিত্তি তৈরি হয় দলটির জন্য। খাজা ৩১ বলে ৬১ রান করে আউট হলেও ইয়াসির বেশিদূর যাননি, তবে ৪০ বলের বিপুল ৬২ রান করেন। তারপর, তিনে নামা আব্দুল সামাদ ২৭ বলে অপরাজিত ৫০ রান করেন। এই ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পাকিস্তান নির্ধারিত লক্ষ্য ছুঁই ছুঁই করে ফেলেছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি কঠিন পরিস্থতি, যা তাদের পরবর্তী ম্যাচে উন্নতি করতে সাহস দেয়।
-

আফ্রিদির সঙ্গে ইরফানের তর্কের গল্প: কুকুরের মাংস খেয়েছে বলে আঙুল তোলে আফ্রিদি
প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্ক ও বাদানুবাদের ঘটনা কখনো কখনো মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এরই এক উদাহরণ শেয়ার করেছেন সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। তিনি জানান, ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে তার সঙ্গে শহীদ আফ্রিদির একটি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। ওই সময়ই ইরফান বলেন, আফ্রিদি কুকুরের মাংস খেয়েছে বলে পোড়াকণ্ঠে মন্তব্য করেন, যার কারণেই সে দীর্ঘক্ষণ এভাবে চিৎকার করছে।
সম্প্রতি ‘দ্য ল্যালানটপ’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরফান সেই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরে ছিলেন তারা। করাচি থেকে লাহোরে ফিরছিলেন দুই দল ক্রিকেটার। সেই সময়েই হঠাৎ আফ্রিদি তার দিকে এগিয়ে আসে। মাথায় হাত দিয়ে চুল এলোমেলো করে দিতে শুরু করে এবং প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, “কেমন আছো, বাচ্চা?” ইরফান তখন জবাব দেন, “তুমি আমার বাবা হয়েগো কখন?” এই আচরণ ছিল খুবই বাচ্চাদের মতো। আফ্রিদি তখন আর বাঁচে না, বাজে কথা বলতে শুরু করে এবং কাছের একটি সিটে বসে পড়ে।
সেসময় পাশে ছিলেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক। এ নিয়েও ইরফান বলেন, “আমি তখন তাকে প্রশ্ন করি, এখানকার কোথায় কি ধরনের মাংস পাওয়া যায়। তখন সে বলল, বিভিন্ন ধরনের মাছ-মাংসের কথা। আমি তখন জানতে চাই, কুকুরের মাংস কি পাওয়া যায় কি না। এই সময় আফ্রিদিও আশেপাশে ছিল। রাজ্জাক শুনে শক খেয়ে বলে, ‘ইরফান, তুমি এটা কেন বললে?’ আমি তখন বলি, ‘সে কুকুরের মাংস খেয়েছে, সেই জন্যই এত দীর্ঘ আওয়াজ করছে।’
ইরফান আরও জানান, তখন আফ্রিদি রাগে লাল হয়ে যায়। তবে কিছু বলে ওঠেনি। তবে আবার কিছু বলতে গেলে, আমি তাকে বলতে থাকি, ‘দেখো, সে আবারও (কুকুরের মতো) আওয়াজ করছে।’ এরপর আর মুখ খোলা রাখেনি। এই ঘটনাটির পর থেকে আফ্রিদি বুঝতে পারে যে, কখনও মুখোমুখি তর্কে আমি হারব না। ফলে এরপর থেকে আর তার সঙ্গে তর্কে জড়ায়নি।”
-

বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ছাড়া এশিয়া কাপের পাকিস্তান স্কোয়াড ঘোষণা
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আগামী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজ ও এশিয়া কাপ ২০২৫ এর জন্য ১৭ সদস্যের ক্রিকেট দল ঘোষণা করেছে। এই স্কোয়াডে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মত অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
দলের অধিনায়ক হিসেবে অলরাউন্ডার সালমান আলী আঘাকে রেখে দলটি সাজানো হয়েছে। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলো— অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ফখর জামান, শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফ। পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা— সাইম আইয়ুব, খুশদিল শাহ ও হুসেইন তালাতকেও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া স্কোয়াডে রয়েছে মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, উইকেটকিপার মোহাম্মদ হারিস, অপ্রকাশিত কিছু তারকা— আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, হাসান আলী, হাসান নওয়াজ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান মির্জা ও শান্তিপূর্ণভাবে দলে সুযোগ পেয়েছেন suliফিয়ান মোকিম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হবে আফগানিস্তান ও স্বাগতিক আমিরাত। সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে ২৯ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর ৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর আবুধাবি ও দুবাইয়ে চলবে এশিয়া কাপ ২০২৫।
পিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “এটি মূলত সেই দলের প্রতিচ্ছবি, যারা টানা তিনটি সিরিজে অংশ নিয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ধারাবাহিকতা ও জয়ের ধারা বজায় রাখা।”
সালমান মির্জার দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “যে পারফর্ম করবে, সে-ই অধিকার পাবে খেলার। সালমান বাংলদেশে বেশ ভালো পারফর্ম করেছে।
অন্যদিকে, বাদ পড়া দুই তারকা— বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান নিয়ে আলোচনা চললেও, আকিব বলেন, “আমরা বলতে চাই না যে বাবর-রিজওয়ান আর ফিরবে না। যারা এখন খেলছে তাদের সুযোগ দেওয়া দরকার। তাদের ক্যারিয়ার চলমান, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”
সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন মনে করেন, “তিন ম্যাচের ছোট পর্যবেক্ষণে কারো মূল্যায়ন করা কঠিন। বাবর প্রথম ম্যাচে ভালো খেলেছে, তবে উন্নতির জন্য জায়গা রয়েছে। বাবর-রিজওয়ান যদি অন্যদের মতো পারফর্ম করে, তবে তারা অবশ্যই ফেরার সুযোগ পাবেন।”
দলের বিবরণী অনুযায়ী পাকিস্তানের ১৭ সদস্যের স্কোয়াড হলো— সালমান আলী আঘা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, হারিস রউফ, হাসান আলী, হাসান নওয়াজ, হুসেইন তালাত, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ হারিস (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান মির্জা, শাহী আফ্রিদি ও সুফিয়ান মোকিম।
ত্রীদেশীয় সিরিজের সূচি শারজাহতে —
– ২৯ আগস্ট: আফগানিস্তান বনাম পাকিস্তান
– ৩০ আগস্ট: আমিরাত বনাম পাকিস্তান
– ১ সেপ্টেম্বর: আমিরাত বনাম আফগানিস্তান
– ২ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তান
– ৪ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম আমিরাত
– ৫ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তান বনাম আমিরাত
– ৭ সেপ্টেম্বর: ফাইনালএশিয়া কাপ ২০২৫ এর সূচি (আবুধাবি ও দুবাই) হলো—
– ৯ সেপ্টেম্বর: আফগানিস্তান বনাম হংকং
– ১০ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম আমিরাত
– ১১ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম হংকং
– ১২ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম ওমান
– ১৩ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা
– ১৪ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম পাকিস্তান
– ১৫ সেপ্টেম্বর: আমিরাত বনাম ওমান, শ্রীলঙ্কা বনাম হংকং
– ১৬ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান
– ১৭ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তান বনাম আমিরাত
– ১৮ সেপ্টেম্বর: শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তান
– ১৯ সেপ্টেম্বর: ভারত বনাম ওমানঅন্ততোর জন্য সাপেক্ষে, ফাইনাল হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।
