Month: November 2024

  • ঢাকা-ইসলামাবাদ সমুদ্র যোগাযোগ: ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

    ঢাকা-ইসলামাবাদ সমুদ্র যোগাযোগ: ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

    ১৯৭১ সালে নয় মাস ব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে বাংলাদেশ। তখন ঢাকার পাশে ছিল নয়াদিল্লি। এরপর থেকে গত পাঁচ দশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবেই আখ্যায়িত হয়েছে ভারত। আর বৈরিতা ছিল ইসলামাবাদের সঙ্গে। তবে স্বাধীনতার তেপ্পান্ন বছর পর এসে এবার যেন সেই চিত্র পুরোপুরি পালটে গেল।

    শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের বৈরিতা বেড়েছে। আর এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন লেনাদেনা শুরু করেছে ঢাকা। সম্প্রতি দেশটির একটি পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। করাচি থেকে আসা জাহাজটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে সফলভাবে কন্টেইনার খালাস করেছে।

    বহু বছর পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক সংযোগ ভারতের ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে বৈকি।

    সরাসরি করাচি থেকে চট্টগ্রামে জাহাজ

    পানামার পতাকাবাহী ১৮২ মিটার (৫৯৭ ফুট) লম্বা কন্টেইনার জাহাজ ইউয়ান শিয়াং ফা ঝান পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। চট্টগ্রামের শীর্ষ কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, গত ১১ নভেম্বর জাহাজটি বাংলাদেশে পণ্য খালাস করে বন্দর ছেড়ে যায়।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশের প্রধান পোশাক শিল্পের কাঁচামাল এবং মৌলিক খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য নিয়ে এসেছে।

    পাকিস্তানি পণ্য আগে সরাসরি এভাবে বাংলাদেশে আসতো না। সাধারণত ফিডার জাহাজে করে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশে আসতো। তবে সেপ্টেম্বরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ পাকিস্তানি পণ্যের উপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

    সরাসরি সমুদ্র সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাকিস্তানের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এ নিয়ে ফেসবুকে এক পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহমেদ মারুফ লিখেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরাসরি জাহাজ চলাচল রুট একটি ‘বড় পদক্ষেপ’।

    হাসিনা ও পাকিস্তান

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিভক্ত হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ বাঙালি নিহত হয়েছে। হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় মানসে এসব গভীরভাবে দাগ কেটে আছে।

    এসব স্মৃতির কথা স্মরণ রেখে পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান পাকিস্তান একাধিকবার ক্ষমাও চাইতে বলেছিল শেখ হাসিনা সরকার। তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো তা করেনি।

    মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষত ঢাকায় শেখ হাসিনার শাসনামলে তা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। যার কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা ছিল নৃশংস যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি তা করেছেনও।

    হাসিনা ও ভারত 

    শেখ হাসিনা যখনই ক্ষমতায় ছিলেন বাংলাদেশকে ভারতের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নয়াদিল্লির সহায়তার সৌজন্যে বাংলাদেশিদের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন তিনি।

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সঙ্গে নেহরু-গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়।

    যখন তার শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে তার সম্পর্ক তাকে ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। আর স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের পতনের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

    ভারতের ‘পুতুল’ হাসিনা

    বছরের পর বছর হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিকিয়ে রাজনীতি করেছেন। এই বিপ্লবে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। জুলাই মাসে শেখ হাসিনা যখন বিক্ষোভকারীদের ‘রাজাকার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তখন তা উল্টো ফল বয়ে আনে তার জন্য।

    এ ছাড়া নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠতা’ থাকায় হাসিনাকে অনেক বাংলাদেশি ভারতের পুতুল মনে করেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারতের প্রতি অসন্তোষ জন্ম নিয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনেকে মনে করেন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত খুব বেশি হস্তক্ষেপ করেছে।

    বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ‘ভারত-বিরোধী’ মনোভাব প্রকাশ পায় যখন আগস্ট মাসে একটি জনতা পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজধানীতে ভারতীয় সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের কেন্দ্রবিন্দু ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করে।

    পাকিস্তান-বাংলাদেশ লেনাদেনা

    শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দিকে ঝুঁকেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ড. ইউনূস চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।

    বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন অধ্যায়’ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস সম্প্রতি বলেন, আমাদের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সমুদ্রসীমা সংযোগ অপরিহার্য।

    বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এই প্রস্তাবের ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি একটি ইসলামী রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকতে পারে।

    হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বিপাকে ভারত

    ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণও চাইছে বাংলাদেশ। ঢাকা এরই মধ্যে ৭৭ বছর বয়সি এই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে এবং ‘গণহত্যা, হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে তাকে ঢাকায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছে।

    জনাব ইউনূস বলেন, তার প্রশাসন হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলন দমন করার জন্য দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দিকে মনোনিবেশ করছে।

    শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ৮৪ বছর বয়সি ইউনূসকে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের লৌহ-মুষ্টিবদ্ধ শাসনের অবসানের কয়েকদিন পর ৯ আগস্ট সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।

    শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ইউনূস বলেন, আমরা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসককে ভারত থেকে প্রত্যর্পণ চাইব।

    এ মাসের শুরুর দিকে বাংলাদেশ জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার শাসনামলের পলাতক নেতাদের জন্য ইন্টারপোলের ‘রেড নোটিশ’ অ্যালার্ট জারির অনুরোধ করবে তারা।

    নিরাপত্তাহীনতায় নয়াদিল্লি

    পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

    বছরের পর বছর ধরে, ভারত চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমের উপর নজর রাখার জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে চলেছে। এখন শেখ হাসিনা নেই। তাই শঙ্কিত ভারত। আইএসআইয়ের উৎপাত এ অঞ্চরে বেড়ে যেতে পারে শঙ্কা ভারতের।

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সহিংস বিক্ষোভে হিন্দুসহ ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

    লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট
    অনুবাদ: সজীব হোসেন

  • বগুড়ায় প্রতি কেজি আলু ৪০০ টাকা

    বগুড়ায় প্রতি কেজি আলু ৪০০ টাকা

    বগুড়ায় নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে বাজারে নতুন আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন শাকসবজি উঠেছে। তবে সবকিছুর মূল্যই আকাশচুম্বী। প্রতি কেজি ভালো মানের পাগরি আলু ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোমবার শহরের রাজাবাজার, ফতেহআলী বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। মূল্য বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

    নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে বগুড়ার কৃষকরা আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজির আগাম চাষাবাদ করেন। তবে সবকিছুর মূল্য অনেক বেশি। নতুন পাগরি জাতের আলু প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাতা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। নবান্ন উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের কাছে নতুন আলুর চাহিদা বেশি। তাই তারা বাজারে আনা ছোট ও মাঝারি আকারের আলু বেশি কিনছেন। মূল্য বেশি প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেন, সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি তাই দাম একটু বেশি। তবে বিকালের দিকে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় নেমে আসে।

    রাজাবাজারে নতুন আলু কিনতে আসা শহরের শিববাটি এলাকার বিপুল চন্দ্র সাহা জানান, নবান্ন আমাদের প্রিয় উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবার নতুন চাল আর আলু দিয়ে পিঠাপুলি বানিয়ে উৎসব করা হবে। তবে এ বছর আলুর দাম বিগত দিনের চেয়ে অনেক বেশি। একই ধরনের মন্তব্য করেন শহরের ডালপট্টির সীমা মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ১ অগ্রহায়ণ নবান্ন উৎসবে নতুন কাঁচা শাকসবজির দাম চড়া থাকে। তবে এ বছর আলুর দাম অনেক বেশি। এক কেজি আলু প্রয়োজন ছিল, তাই আধা কেজি কিনেছি।’ বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেন, বাজারে কারও নজরদারি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের গলা কাটছেন।

    রাজাবাজারের ব্যবসায়ী মিজান বলেন, মহাস্থান হাটে এক পাইকারের কাছে ২০ কেজি নতুন আলু কিনেছি। দাম বেশি হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

    শহরের ফতেহআলী বাজারের খুচরা কাঁচামাল ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন জানান, আলু বড় সাইজের না হলেও উৎসবের কারণে দাম বেশি। বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তারাও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    বগুড়ার রাজাবাজার আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, প্রতি বছরই নবান্ন উৎসবের সময় বাজারে নতুন আলু আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নয়; সবাই তরকারি রান্না ও ভর্তাছানা খাওয়ার জন্য নতুন আলু কিনে থাকেন। এ সময় আলুর দাম চড়াই থাকে।

  • জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা, শিক্ষককে মারপিট ও মোবাইল ভাঙচুর

    জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা, শিক্ষককে মারপিট ও মোবাইল ভাঙচুর

    খুলনার কয়রা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোঃ হুমায়ুন বিশ্বাস নামে এক শিক্ষককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মারপিট করেছে স্থানীয় জামায়াতের নেতা কর্মীরা। ফেসবুকে জামায়াত আমীরের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করায় তাকে রোববার রাত ৯টার দিকে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এরপর থানার ওসি এবং ইউএনও কে দিয়ে ডাকিয়ে শাসিয়েছন জামায়াত নেতারা। বিষয়টি নিয়ে খুলনায় নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

    জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান লন্ডন সফরকালে আওয়ামীলীগকে নিয়ে মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের জের ধরে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হুমায়ুন বিশ্বাস তার ফেসবুক জামায়াত আমিরের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেন।

    তার সমালোচনার বিষয়টি স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হয়। শিক্ষক হুমায়ুন বিশ্বাসের পোস্টের নিচে অনেকেইে নেতিবাচক মন্তব্য করতে থাকেন। এরপর ওই শিক্ষক পোস্টটি ডিলিট করে দেন। একই সাথে এই ধরনের পোষ্টের জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি।

    রোববার রাতে স্থানীয় কয়েকজন জামায়াতের নেতাকর্মী তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেদকাশীর কাছারী বাড়িতে নিয়ে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে রেখে ব্যাপক মারপিট করে।  এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইলটি ভাংচুর করে। একই সাথে তাকে এ বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে হুমকি দেয়।

    স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ওই শিক্ষকের পরিবারের একাধিক সদস্য জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। যারা জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত তাদেরও বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

    ভুক্তভোগী শিক্ষক হুমায়ুন বিশ্বাস বলেন, গতকাল রাত ৮টার দিকে আমাকে ফোন করে ইউনিয়ন কার্যালয়ে ডাক দেয় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সুজাউদ্দিন। তবে ব্যস্ততা থাকায় আমি যেতে পারিনি।  এরপর আমাকে জামায়াত নেতা ইউনিয়নের সেক্রেটারি এনামুল, যুব নেতা আরিফুল, জামিল, সোহাগ মটর সাইকেলে এসে বাড়ির সামনে থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের সাথে যেতে না চাইলে আমাকে মারধর করে এবং আমার ফোনটি ভেঙে ফেলে।

    তিনি বলেন, একপর্যায়ে আমাকে চ্যাংদোলা করে বাইকে উঠিয়ে নিয়ে কাছারীবাড়ি ইউনিয়ন কার্যালয়ে নিয়ে কয়েকঘণ্টা বসিয়ে রাখে।  এসময় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল্লাহ, ইউনিয়ন আমীর মাস্টার নুর কামাল মামলার হুমকি এবং পুলিশের হাতে উঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানায়।

    তিনি আরো বলেন, আমি লেখাটি লেখার পর বুঝতে পারি যে এটা ঠিক হয়নি। যেকারণে ওই পোস্টটি ডিলিট করে দেই এবং অন্য পোস্টের মাধ্যমে সকলের কাছে ক্ষমা চাই। এরপরও সকলের সামনে দিয়ে আমাকে উঠিয়ে নিয়ে মারপিট করে। আমাকে যখন মারা হয় তখন সেখানে আমার অনেক ছাত্রও ছিলো। আমি লজ্জায় কুঁকড়ে মরে যাচ্ছিলাম।  এরপর ওই ঘটনা যাতে কাউকে না বলি সেজন্য আমাকে অব্যহতভাবে মুঠোফোনে চাপ দিতে থাকে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ গতকাল সোমবার সকালে ওই শিক্ষককে থানারও ওসি এবং ইউএনও ডেকে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে। সেখানে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, থানার ওসি এমদাদুল হক, ইউএনও রুলি বিশ্বাস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপর কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকের বিষয়ে ওসি ইমদাদুল হক বলেন, ওই শিক্ষকের পোস্টকে ঘিরে জামায়াত নেতারা ক্ষুব্ধ ছিলো। সেজন্য শিক্ষককে ডেকে এনে পোস্ট ডিলিটসহ এ ধরনের কর্মকান্ড না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

    উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল্লাহ মারপিটের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তাকে মারপিট করা হয়নি।  তাকে ডেকে এনে পোস্টের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিলো।  তিনি রাজি না হওয়ায় বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

  • সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    সোনারগাঁয়ে মেঘনা গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

    নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে মেঘনা গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেঘনা পাল্প এন্ড পেপার মিলস লিমিটেড ফ্যাক্টরির ৬ তলা একটি ভবনে সোমবার ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে টিস্যু তৈরির মেশিনারিজ সামগ্রী, কাঁচামাল, গোডাউনে মজুদ রাখা মালামাল, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের দাবি, আগুনে তাদের ছয় তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকলবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পুরো ভবনে থাকা মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ঝাউচর এলাকায় অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ফ্রেশ টিস্যু পেপার ফ্যাক্টরির গোডাউনে সোমবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কিভাবে ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা একে একে ফ্যাক্টরির বিভিন্ন ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সোনারগাঁ, গজারিয়া, গজারিয়া বিসিক ফায়ার স্টেশন, বন্দর, কাঁচপুর ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে।

    এছাড়া মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। সাড়ে চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ৬ তলা ভবনের পুরো অংশ পুড়ে যায়।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের জিএম (কোম্পানি এ্যাফেয়ার্স) খন্দকার শফিকুল আলম জানান, আগুনে টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ফ্লোরের সব মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করতে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে।

    মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, আগুনে তাদের ফ্যাক্টরির মেশিনারিজ সামগ্রী ও মালামাল পুড়ে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুদ্দিন জানান, সকাল সোয়া ৫ টার দিকে ফ্রেশ টিস্যু ফ্যাক্টরির ছয় তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে সাড়ে ৫ টার মধ্যে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন স্টেশনের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে।

  • মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে: এ্যানি

    মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে: এ্যানি

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংস্কারের জন্য তিন মাসের বেশি সময় দরকার হওয়ার কথা না। জনগণ দ্রুত নির্বাচন চায়। তাই আগামী মার্চ-এপ্রিল মাসে নির্বাচন দিতে হবে।

    সোমবার বিকেলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ কলেজ মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গুম-খুন ও গণহত্যার দায়ে বিচার দাবিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি গণসমাবেশের আয়োজন করে।

    জেলা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও মাহাবুবুল হক নান্নু, নির্বাহী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জেলা বিএনপির (দক্ষিণ) সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন, বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ জমাদ্দার ও সদস্য সচিব নাছির হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন জোমাদ্দার, সাধারণ সম্পাদক শাহিন তালুকদার প্রমুখ।

    এ্যানি আরও বলেন, জনগণের জন্য আমরা আন্দোলন, সংগ্রাম ও লড়াই করেছি। জনগণের জন্য দেশটা গড়তে চাই। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে কথায় ও কাজে মিল রাখা।

  • বিডিআরের নির্দোষ সদস্যদের চাকরি পুর্নবহালের দাবি

    বিডিআরের নির্দোষ সদস্যদের চাকরি পুর্নবহালের দাবি

    ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের সময় জামালপুরের ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সদরদপ্তরে কোনো বিশৃঙ্খলা বা বিদ্রোহের ঘটনা না হলেও ৫২ জন সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। চাকরির চিত্র বিডিআর এর সদস্যদেরকে চাকরিতে পুনর্বাহালের দাবি জানানো হয়েছে।

    সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানিয়েছেন চাকরিচ্যূত সাবেক বিডিআর সদস্যরা।

    চাকরিচ্যূত সদস্যদের পক্ষে হাবিলদার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম লিখিত বক্তৃতায় জানান, ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জামালপুরে ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সৈনিকরা অধিনায়কের নির্দেশ মোতাবেক অস্ত্রসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ডিউটিতে নিয়োজিত হয় এবং অধিনায়কের আদেশক্রমেই ডিউটি শেষে অস্ত্রাগারে অস্ত্র জমা করে।

    জামালপুর ব্যাটালিয়ন সদরে কোনো প্রকার ফায়ারিং বা অনাকাঙ্খিত ঘটনা সংঘটিত হয়নি, যা তৎকালিন জামালপুর জেলার ডিসি ও এসপি মহোদয় পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষ করেছেন।

    পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সেনা সদরে হাজির হওয়ার নির্দেশ আসলে অধিনায়ক ও উপঅধিনায়কের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সৈনিকদের মাঝে অধিনায়ক ও উপ-অধিনায়কসহ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তৎকালিন জামালপুর জেলার ডিসি আব্দুল মাবুদ এবং জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন বক্তব্য দেন।

    এছাড়া জামালপুর ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের যাতে কোনো প্রকার হয়রানি না হতে হয় সে জন্য অধিনায়ক লে. কর্ণেল মিজানুর রহমান মহোদয় ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়ন জামালপুরের কোনো প্রকার বিদ্রোহ বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়নি মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র দেন, যা সবার মধ্যে বিতরণের জন্য নির্দেশ দেন। ওই ভিডিও সিডি এবং প্রত্যয়নপত্রের ফটোকপি আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ১৭ মে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জামালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ পরিদর্শক আ. মতিন জামালপুর সদর থানায় একটি মিথ্যা সি.আর মামলা করেন। ১৮ মে এ মামলায় জামালপুর ব্যাটালিয়ন সদর হতে ইউনিফরম পরা অবস্থায় ৪৪জন বিডিআর সদস্যকে গ্রেফতার করে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠান। মামলাটি পরবর্তীতে সরকারি আদেশে প্রত্যাহার করে নতুন করে স্পেশাল কোর্টের আদেশনামা স্পেশাল কোর্টের মামলা নং ০৫/২০১০।

    ২২ মাস পরে ২০১১ সালের ১৬ মার্চ  স্পেশাল কোর্ট ৫২ বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ও জরিমানা করেন। কিন্তু বিগত ২২ মাসের হাজতবাস কারাদণ্ডের সহিত অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি বিধায় এতকিছু প্রমাণাদি থাকা সত্বেও নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করা অসম্ভব ছিল, অথচ রাইফেলস অর্ডার ১৯৭২ মোতাবেক বিচারের পূর্বে কোনো বিডিআর সদস্যকে জেলহাজতে পাঠানোর কোনো বিধান নেই।

    তিনি বলেন, বিশেষ আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ করা হলেও আদালত চলাকালিন কোনো কথা বলার অনুমতি ছিল না বিধায় প্রহসনের বিচারে নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করা অসম্ভব ছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে আমাদেরকে বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সাজা সম্পূর্ন ভোগ করে মুক্ত হতে হয়েছে। আমাদের পরিবারগুলো অত্যন্ত গরিব যাহা সবারই জানা। চাকরির উপর নির্ভর করে আমাদের সংসার চালাতে হতো। চাকরি হারা হয়ে বর্তমানে আমাদের পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    জুলাই-আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতন হয়েছে। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা ৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়ন জামালপুরের চাকরিচ্যুত নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যরা নিম্নবর্ণিত দাবিগুলো উপস্থাপন করছি।

    বিশেষ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় নির্বাহী আদেশে বাতিল, চাকরিচ্যুত ৬ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সব সৈনিকদের বেতনভাতা ও পূর্ণ সুযোগ সুবিধাসহ চাকরিতে পূর্ণবহাল, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ঢাকায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পূনরায় তদন্তপূর্বক দোষীদের বিচার যারা নির্দোষ তাদের মুক্তি দিয়ে চাকরিতে পূর্নর্বহাল, পিলখানার হত্যাকাণ্ডটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বিধায় তথাকথিত বিডিআর বিদ্রোহ কথাটি বাতিল করা ও বিশেষ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগকারী বিডিআর সদস্যরা যারা বিস্ফোরক মামলায় ১৬ বছর ধরে কারা অন্তরীন আছে, তাদেরকে অনতি বিলম্বে মামলা হতে অব্যাহতি পূর্বক মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তারা।

  • চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করে প্রজ্ঞাপন জারি

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। 

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। যেহেতু সংসদ ভাঙিয়া যাওয়া অবস্থায় রহিয়াছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইয়াছে যে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে। সেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।

    এতে বলা হয়, এই অধ্যাদেশ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা- স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪ নামে অভিহিত হবে। ইহা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, আদেশ, নির্দেশ বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্ৰাধান্য পাইবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত সকল সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা হইবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন- ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহের চাকরির যে সকল পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর বা অনূর্ধ্ব ৩২ বছর উল্লেখ রয়েছে, সর্বত্র উক্ত বয়সসীমা ৩২ বছর প্রতিস্থাপিত হবে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা বা ক্ষেত্রমত প্রবিধানমালা বহাল থাকবে।

    এতে আরও বলা হয়, এই অধ্যাদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যাদেশের বিধানের সহিত সংগতিপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে অস্পষ্টতা বা অসুবিধা দূর করিতে পারিবে।

  • ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

    ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল করেছে নবগঠিত সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এছাড়া পরের দুই বিসিএস অর্থাৎ ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিশনের সিদ্ধান্তমতে, ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা বাতিল, ৪৫তম বিসিএসের খাতা মূল্যায়ন করতে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো এবং ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল পুনরায় প্রকাশ করবে পিএসসি।

    ২০২৪ সালের ৮ মে শুরু হওয়া ৪৪তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা গত ২৫ অগাস্ট স্থগিত করা হয়। দুই দফায় স্থগিত হওয়ার আগে ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে মোট ১১ হাজার ৭৩২ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ পরীক্ষা বাতিলের কারণে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীকে আবার মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ‘শিগগিরই’ জানানো হবে।

    ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা পুনরায় তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবগঠিত পিএসসি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়া এ পরীক্ষার ফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ মে এতে উত্তীর্ণ হন ১০ হাজার ৬৩৮ জন। এখন তাদের সঙ্গে প্রিলিমিনারিতে পাস করা আরও সমান সংখ্যককে নির্বাচিত করে লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত করা হবে। আগে উত্তীর্ণ ১০ হাজার ৬৩৮ জন প্রার্থী যারা লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের ফল বহাল থাকবে। নতুনদের নিয়ে এ ফলাফল পুনরায় প্রকাশ করবে পিএসসি।

  • খাদ্যের মান যাচাইয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলেন উপাচার্য

    খাদ্যের মান যাচাইয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খেলেন উপাচার্য

    দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) খাদ্যের মান যাচাইয়ে ডাইনিং পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেলেন হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা। 

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) আইভি রহমান হলের ডাইনিং পরিদর্শন এসে উপাচার্য খাবারের মান যাচাইয়ে তিনি এমনটা করেন। এসময় তার সঙ্গে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন হলের হল সুপার, প্রক্টর, বিভিন্ন শাখার পরিচালক ও অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, উপাচার্য  শিক্ষার্থীদেরকে হলের ডাইনিং এ নিয়মিত খাওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। ছাত্রীরাও তার এ ধরণের উদ্যোগের জন্য উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

    ঢাকা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর উত্তরা-১২ নম্বর সেক্টর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ডিবি কার্যালয়ে  আনা হচ্ছে।