Month: November 2024

  • ৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা

    ৬ বছরে মুজিববর্ষ উদযাপনে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যয় ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা

    সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার গত ছয় বছরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

    আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সংস্থাগুলো উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ব্যয়ের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে।

    উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৪-২৫ অর্থবছর থেকে মুজিববর্ষ উদ্‌যাপনের জন্য সম্পর্কিত বাজেট বরাদ্দ স্থগিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার অফিসের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তৎকালীন সরকার ২০২০–২১ বছরকে মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছিল। ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এই বর্ষ উদ্‌যাপিত হয় (১৭ মার্চ ২০২১ থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত এক বছর বাড়ানো হয়েছিল)।

    শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

    বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভার শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন।

    শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নামে দুটি কমিটি গঠন করে।

    রাজনীতিক, আমলা, সেনা সদস্য, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ১০২ সদস্যের জাতীয় কমিটির প্রধান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ‘মুজিব বর্ষ’-শুরু হয়। এ উপলক্ষে জাতীয় উদ্‌যাপন কমিটির উদ্যোগে সরকারের সকল দপ্তরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো আলাদা আলাদাভাবেও উদ্‌যাপন করে।

    কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেক অনুষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। শেখ মুজিবের ওপর ডিজিটাল ভিডিও ও ছবি সম্বলিত প্রামাণ্যচিত্র বানানো হয়। এর পাশাপাশি তাকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ, সংকলনগ্রন্থ, স্যুভেনিয়র প্রকাশ করা হয়।

    এছাড়াও, ‘মুক্তির মহানায়ক’- শীর্ষক উদ্‌বোধনী অনুষ্ঠান এবং ‘মুজিব চিরন্তন’- নামের ১০ দিনব্যাপী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    এছাড়া মুজিববর্ষের বিশেষ ওয়েবসাইট চালু, স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ, ১০০ দিনব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের ‘শতবর্ষ’ নামে বিশেষ মোবাইল প্যাকেজ সংযোগ বিনামূল্যে প্রদান এবং নামমাত্র মূল্যে বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ ঘোষণা এবং যোগাযোগ অ্যাপ ‘আলাপ’ চালু করা হয়। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করে।

    ২ দিনব্যাপী ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান এবং ‘টুঙ্গিপাড়া: হৃদয়ে পিতৃভূমি’-শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

    ২০২২ সালের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব বর্ষ সমাপ্ত হয়।

    প্রথম ঘোষণা অনুযায়ী, ‘মুজিববর্ষ’ ২০২০ সালের ১৭ই মার্চে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ই মার্চ পর্যন্ত পালন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে এর সময় ২০২১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। পরে সরকার পুনরায় মুজিব বর্ষের সময়কাল ও ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় কমিটি’ ও ‘জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’র মেয়াদ ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করে।

    মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক সময় গণনা শুরু হয় ২০২০ সালের ১০ই জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে। মুজিববর্ষের লোগোর নকশা করেন সব্যসাচী হাজরা। ‘তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর আকাশে-বাতাসে বজ্রকণ্ঠ, তোমার কণ্ঠস্বর’-এই ছিল মুজিববর্ষের আবহ সঙ্গীত।

    এ বিষয়ে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বুধবার রাতে টেলিফোনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে দেশের জন্য শেখ মুজিবের যে অবদান সেটাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তার দল আওয়ামী লীগ ও তার মেয়ের কর্তৃত্ববাদী সরকার। মুজিব বর্ষের ব্যয় হয়েছে একক বা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। জবাবদিহিহীনভাবে রাষ্ট্রের সম্পদ পরিবার ও দলের স্বার্থে অপব্যবহার করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ও জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী সেটা রাজনীতিক, আমলা, মুজিব বর্ষের কাজের ঠিকাদার, ভেন্ডরদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহার আর না হয়।’

  • আন্তর্জাতিক অপরাধ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়নি

    আন্তর্জাতিক অপরাধ অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়নি

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে। তবে এতে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়নি।

    ট্রাইব্যুনালে দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রেখে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাবনা তোলা হলেও ওই বিধানটি যুক্ত হয়নি। তবে সরকার চাইলে প্রচলিত আইনে বিদ্যমান দল বা সংগঠন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

    আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অধ্যাদেশের বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠক শেষে এদিন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর খসড়া গৃহীত হয়েছে। তবে, আমরা আইনের যে সংশোধনী করেছিলাম, উপদেষ্টা পরিষদ মনে করেছে যে, এই অধ্যাদেশের আওতায় ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে সংগঠনকে শাস্তি দেওয়া দরকার, তাহলে তারা সুপারিশ করতে পারবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে।’

    তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদ বলেছে আমরা এই বিচারকে অন্য কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে চাই না। রাজনৈতিক দল বা কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা প্রশ্ন এলে, এই আইনকে অযথাই প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হবে। আমরা এই সুযোগ দিতে চাই না। এজন্য এ বিধান বাতিল করা হয়েছে।’

    ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার দাবি আসে বা প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের অন্যান্য আইন আছে। তাই ট্রাইব্যুনালে এ বিধান থাকছে না বলে রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকল না, এমন কিছু না, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে অন্যান্য প্রচলিত আইনে পরে বিবেচনা করা যাবে,’ বলেন আইন উপদেষ্টা।

    গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের লক্ষে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন প্রণয়ন করা হয়।

    আইন ও বিচার বিভাগ পরে আন্তর্জাতিক অপরাধের সংজ্ঞা যুগোপযোগীকরণ, অপরাধের দায় নির্ধারণ, অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচার, বিদেশি কাউন্সেলের বিধান, বিচারকালে অভিযুক্তের অধিকার, অন্তবর্তীকালীন আপিল, সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত বিধান, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক তল্লাশি ও জব্দ করার বিধান, পর্যবেক্ষক, সাক্ষীর সুরক্ষা, ভিকটিমের অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার বিধান সংযোজন করে এর খসড়া তৈরি করে।

    বর্তমানে সংসদ না থাকায় এ অবস্থায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার করতে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশের খসড়া উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

  • আইসিটি’র বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচারের অনুমতিসহ আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

    আইসিটি’র বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচারের অনুমতিসহ আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ অনুমোদন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)  আইন, ১৯৭৩ সংশোধনের খসড়া অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    বুধবার (২০ নভেম্বর) সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের ১৩তম বৈঠকে অধ্যাদেশটির নীতিগত এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন করা হয়।

    ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যতা আনা, আন্তর্জাতিক আইনের প্রচলিত বিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এ আইনের বিচারকাজ নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সুপারিশের আলোকে আইসিটি আইনের আরও সংশোধন সমীচীন ও আবশ্যক,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

    আইন ও বিচার বিভাগ এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ প্রস্তাব করেছে।

    অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য

    নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধের সংজ্ঞা যুগোপযোগীকরণ, অপরাধের দায় নির্ধারণ, এবং অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে বিচারকাজ ধারণ ও সম্প্রচার সুযোগ তৈরি করা হবে।

    এছাড়া বিদেশি কাউন্সেল-এর বিধান, বিচারকালে অভিযুক্তের অধিকার, অন্তবর্তীকালীন আপিল, সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অধ্যাদেশে।

    অধ্যাদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক তল্লাশি ও জব্দ করার বিধান, পর্যবেক্ষক, সাক্ষীর সুরক্ষা, ভুক্তভোগীর অংশগ্রহণ ও সুরক্ষা বিষয়ক বিধানও সংযোজন করা হয়েছে।

    আইন ও বিচার বিভাগ মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষাবিদ, অংশীজন, সরকারি বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অধ্যাদেশটির খসড়া প্রস্তুত করেছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতাধীন অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগীকরণের বিষয়ে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে, সেহেতু’ এ অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • একাত্তরের ভুল প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব: জামায়াত আমির

    একাত্তরের ভুল প্রমাণিত হলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব: জামায়াত আমির

    একাত্তরের ভুল যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় তাহলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইব বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে যুক্তরাজ্যে বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, একাত্তরে আমরা কোনো ভুল করে থাকলে এবং তা যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়, আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইব। ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের নামে যে বিচার হয়েছে তার অবজারভেশনে এখানকার বিচারপতিরা সে রায়কে জেনোসাইড অব জাস্টিস বলেছে।

    গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দিন। এ অভ্যুত্থানে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ অংশ গ্রহণ করেছিল। এমনকি দেশের বাইরে অবস্থানরত প্রত্যেকেই যার যার সাধ্য অনুযায়ী আমাদের সাথে যুদ্ধ করেছেন।

    তিনি বলেন, জাতিগতভাবে অনৈক্য এবং দুর্নীতির কারণে আমরা জাতি হিসেবে আগাতে পারিনি। দুর্নীতি আমাদের জন্য একটি জাতীয় লজ্জার বিষয়। যুক্তরাজ্য নিজেদের দুর্নীতি থেকে অনেকটা মুক্ত রাখতে পারার কারণে সারা বিশ্বে নিজেদের একটা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু আমরা পারিনি। যারা সমাজ পরিচালনা করবেন তারা পরিচ্ছন্ন না হলে সমাজ পরিচ্ছন্ন হবে না।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা। আবু সালেহ ইয়াহইয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম উদ্দিন এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন শিল্পী কামাল হোসাইন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়ার অর্ধশতকেরও বেশি সাংবাদিক এতে অংশ নেন।

  • নতুন আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী

    নতুন আইজিপি বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ আলী

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাহারুল আলম। আর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শেখ সাজ্জাদ আলী। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তাদের নিয়োগের কথা জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

    জানা গেছে, বর্তমান আইজিপি মো. ময়নুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বাহারুল আলম। তিনি ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানসহ সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শান্তি রক্ষা বিভাগে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এর আগে ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনে দায়িত্ব পালন করেন বাহারুল আলম।

    অন্যদিকে সাজ্জাত আলী বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ১৯৮৪ সালে পুলিশে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একসময় ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ছিলেন। তাছাড়া সাজ্জাত আলী লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন। চাকরি জীবনে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশ গঠন হলে সেখানেও ডিআইজির দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত ছিলেন।

    ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যে ডিএমপি কমিশনার করা হয়েছিল মো. মাইনুল হাসানকে।

  • ‘ফিলিস্তিনের পতন হলে ইরান, সৌদি ও তুরস্ক হবে পরবর্তী টার্গেট’

    ‘ফিলিস্তিনের পতন হলে ইরান, সৌদি ও তুরস্ক হবে পরবর্তী টার্গেট’

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসির সাবেক এক প্রধান কমান্ডার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননের দেশগুলোর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে পারলে ইসরায়েল সরকার ও তার মিত্ররা ওইসব দেশসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশকে টার্গেট করা শুরু করবে।

    ইরানের এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে।

    গাজায় ইসরায়েলি সরকারের গণহত্যা ও লেবাননে হত্যাযজ্ঞে অন্তত ৪৩ হাজার ৯৭২ জন ফিলিস্তিনি এবং ৩ হাজার ৫৪৪ জন লেবাননের মানুষ নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য এলো।

    ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলি গণহত্যার পেছনে সরাসরি মদদদাতা’

    ইসরায়েল নৃশংস সামরিক আক্রমণে সবচেয়ে নিবেদিত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক, সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মোহসেন রেজায়ি।

    ইসরায়েলি ‘যুদ্ধ মনোভাবের’ কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রেজায়ি বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে শত্রুরা তথাকথিত বার্তা দিতে চায় যে, ‘পশ্চিম এশিয়া হয় তাদের জন্য একটি জায়গা অথবা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের।’

    যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলি গণহত্যার পেছনে সরাসরি মদদদাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে তারা সাম্রাজ্যবাদ ও তথাকথিত ‘পরাশক্তির মর্যাদা’ দীর্ঘায়িত করতে চায়।

    ইরান এসব ‘সহ্য করে না’

    তবে ইরান এসব ‘সহ্য করে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের রক্ষা করার বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির মধ্যে নেই।’ আঞ্চলিক প্রতিরোধ ফ্রন্টকে আরও শক্তিশালী করার কথা জানান তিনি।

    ‘মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের’ সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে মন্তব্য করে এই কর্মকর্তা বলেন, এই দুই দেশের অপরাধ বিশ্বের চোখে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং সময়ের সাথে সাথে আরও প্রতিক্রিয়া আসবে।

    তিনি বলেন, তাই ইরানের অভ্যন্তরে বিপ্লবী শক্তিসমূহের উচিত গাজা ও লেবাননের জনগণকে সাহায্য করার প্রচেষ্টায় তাদের সকল সামর্থ্য উৎসর্গ করা।

    ‘ইসরায়েলের সন্ত্রাসী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের প্রযুক্তি’

    রেজায়ি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশ সামরিক আগ্রাসন পরিচালনার সময় তাদের (ইসরায়েলকে) সব ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেয়। ইহুদিবাদী সরকার ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের বিরুদ্ধে যেসব সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে, তা এক সপ্তাহ আগে আমেরিকান অস্ত্র কারখানায় তৈরি করা হয়েছে।

    এই কর্মকর্তা ইসরায়েলি আগ্রাসনকে একটি অভূতপূর্ব ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’ হিসাবে বিবেচনা করেন। রেজায়ি বলেন, বর্তমান যুদ্ধে আমরা যা সাক্ষ্য দিচ্ছি তা হলো হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা।

  • ১৫ বছর পর সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

    ১৫ বছর পর সেনাকুঞ্জে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

    এবারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে সেনাকুঞ্জে যোগ দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে সবশেষ ২০০৯ সালে সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।

    সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ।

    ওইদিন রাতে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএসএম কামরুল আহসান এই আমন্ত্রণপত্র বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে পৌঁছে দেন।

  • বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

    বৃহস্পতিবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

    গ্যাসের পাইপলাইনের কাজের জন্য বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইসলামবাগ, লালবাগসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না। 

    বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি প্রতিস্থাপন কাজের জন্য বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) লালবাগ ডিপিডিসি সাব-স্টেশন এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না।

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা ইসলামবাগ, রহমতগঞ্জ, লালবাগ ডিপিডিসি সাব-স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, লাকসাম বাজার, চান্দিরঘাট এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যমান সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ওই সময়ে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।

    গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে যা জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে ঢাকা সফর করবে ভারতের একটি প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) পরবর্তী রাউন্ডে যোগ দিতে তাদের এই সফর।

    এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটি প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টারই ইঙ্গিত।’

    বুধবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমরা (ঢাকা-দিল্লি) স্বাভাবিক (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছি এবং এফওসি হবে সেদিকে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ।’

    এই সফরে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

    বাংলাদেশ ও ভারত–দুই দেশের জন্য দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক প্রয়োজনীয় উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

    বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে তৌহিদ বলেন, ‘কিছু সমস্যা থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। যখন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়, তখন কিছু সমস্যা দেখা দেয়। উভয়পক্ষের সুবিধার জন্য এই সমস্যাগুলো অতিক্রম করে একটি ভালো কর্ম সম্পর্ক তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য।’

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের কারণে দুদেশের মধ্যে ‘সম্পর্কের উন্নতির জটিলতা’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, তিনি প্রতিবেশী দেশে না থাকলে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হতো।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন এফওসিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। দলটিতে ঐতিহ্যগতভাবে স্বরাষ্ট্র, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ও খাদ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

    সফরকালে বিক্রম বাংলাদেশের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে বার্ষিক এফওসি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

  • হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন করায় আপত্তি নেই: দ্য হিন্দুকে ইউনূস

    হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, আওয়ামী লীগের নির্বাচন করায় আপত্তি নেই: দ্য হিন্দুকে ইউনূস

    ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দেশের পরিস্থিতি, সরকার, সংখ্যালঘু, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল, সংস্কার, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাক্ষাৎকারটির বাংলা অনুবাদ পাঠকের জন্য প্রকাশ করা হলো।


    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে বাংলাদেশ। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করেছেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, তার এতে কোনো আপত্তি নেই।

    ঢাকায় তার বাসভবনে দ্য হিন্দু-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং তার সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি তার সরকারের ১০০ দিনের শাসনের অর্জনগুলোর পক্ষে কথা বলেন এবং মৌলবাদ ও দেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    প্রশ্ন: আপনি ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১০০ দিন সম্পন্ন করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনীতির মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপনি আপনার সরকারকে কেমন মূল্যায়ন করবেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পথে রয়েছে, তবে আমি এটিকে এখনো পুরোপুরি সন্তোষজনক বলতে পারব না। অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমি আমাদের কাজকে এ-প্লাস দেব। কারণ আমরা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি, তখন দেশ প্রায় একটি ভেঙে পড়া অর্থনীতি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল—খারাপ ঋণ, প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণখেলাপি। আমরা সে পরিস্থিতি থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখনও উন্নতির প্রয়োজন আছে, তবে অগ্রগতি হচ্ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যে বাড়ছে এবং আমরা বেশ কিছু ঋণ পরিশোধ করতে পেরেছি, যা আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের ভাবমূর্তি উন্নত করেছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, আমরা বৈশ্বিক সহায়তা পাচ্ছি—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করছে এবং বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আমি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশগ্রহণকালে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা ওয়ান-স্টপ পরিষেবা চালু করেছি, যেখানে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। তাই বলতে পারি, দেশ ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।

    প্রশ্ন: আপনি নিশ্চয়ই একটি ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে কি চিন্তিত? যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়া নিয়ে কী ভাবছেন? তার একটি বিবৃতিতে বাংলাদেশের সমালোচনা রয়েছে। নতুন এ মার্কিন প্রশাসনের পর আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী যে, আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার মনে হয় না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন।

    প্রশ্ন: তিনি করেছেন, সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: বটে। এটা সরাসরি বাংলাদেশ নিয়ে নয়, বরং সংখ্যালঘুদের নিয়ে—তিনি মনে হয় না পুরো বিষয়টা ভালোভাবে জানেন। এটি একটি প্রোপাগান্ডা যা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু যখন তিনি বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা আলাদা। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের ফলে [দেশটির] পররাষ্ট্রনীতি ও দেশভিত্তিক সম্পর্ক খুব বেশি বদলায় না। যদি ট্রাম্প ২.০-এর সময়ে কিছু পরিবর্তন হয়ও, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এখন এটি একটি নতুন বাংলাদেশ—বাংলাদেশ ২.০। আমরা আশা করছি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত হতে থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ অটুট থাকবে। তারা এবং আমরা উভয়ে একে অপরের সবচেয়ে বড় সরকারি ক্রেতা। আমার দীর্ঘ কয়েক বছরে দারুণ সম্পর্ক তৈরি করেছি, তাই আশা করছি সম্পর্ক দৃঢ়তর হবে।

    প্রশ্ন: আপনি মি. ট্রাম্প যা বলেছেন সেটাকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু শুধু তিনি নন, ভারত সরকারও একাধিক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশের হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিছুক্ষেত্রে খুনের ঘটনা ঘটছে, এমনকি ধর্ষণের সন্দেহও করা হচ্ছে। আপনি কী বলবেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে আমার প্রথম ফোনকলে [১৬ আগস্ট] তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাকে স্পষ্ট করে বলেছিলাম, এটি একটি প্রোপাগান্ডা। এখানে অনেক সাংবাদিক এসেছিলন, কিছু ঘটনা নিয়ে সংবাদ হয়েছে। তবে সেগুলো ততটা না যতটা গণমাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: এর পেছনে তাহলে কারা থাকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি সঠিকভাবে জানি না, তবে এ প্রোপাগান্ডার সঙ্গে বাস্তবতার তেমন কোনো মিল নেই। এ সবগুলো ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখেছেন একদল লোক, প্রতিটা ঘটনা ঘেঁটে দেখেছেন…

    প্রশ্ন: আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আদতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ভাবছেন তারা লক্ষ্যবস্তুর শিকার। ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ মুসলিমরাষ্ট্র হবে। শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন দল সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে অনেকে মনে করছেন, আপনার সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশে এমন একটি উগ্র ইসলামিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে, যা গত ১৬ বছরে দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে আশ্বস্ত করতে আপনার সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: এ[চিত্র]টি কি আমার সঙ্গে মানায়? আমার উপদেষ্টা পরিষদের প্রত্যেক সদস্যই হয় একজন মানবাধিকারকর্মী যিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী হয়েছেন, অথবা পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিত, কিংবা জেন্ডার সমতা বা অন্যান্য সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। আপনি যদি তাদের কাছে গিয়ে উল্লিখিত অভিযোগ করেন, তারা তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করবেন।

    প্রশ্ন: তাহলে আপনি বলছেন, আপনার উপদেষ্টা পরিষদের কেউ উগ্র ইসলামিক এজেন্ডাকে সমর্থন করবেন না?

    মুহাম্মদ ইউনূস: উপদেষ্টাদের কাজ ও জীবন পর্যালোচনা করুন। তারা সবসময় মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন; এখানে নারীরাও নেতৃত্ব দিচ্ছেন—তারা কখনোই আপনি যা বলছেন সেসবের পক্ষে অবস্থান নেবেন না।

    প্রশ্ন: আরও কিছু বিষয়ে উদ্বেগ আছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ জানিয়েছে, কেবল সেপ্টেম্বরেই রাজনৈতিক সহিংসতায় ৮৪১ জন আহত এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে আটজন নিহত হয়েছেন। কিছু সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হয়েছে। কেউ কেউ বলবেন, আপনার সরকার পূর্ববর্তী সরকারের ধারাই অনুসরণ করছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: জনগণই বিচার করবে যে এ সরকার কী করছে এবং পূর্ববর্তী সরকার কী করেছিল। আমি [এ বিষয়ে] তর্কে যেতে চাই না। আমরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছি—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। অ্যাক্রিডিটেশন আইন আমরা তৈরি করিনি, আমরা কেবল এটির প্রয়োগ করছি। তবে আপনি বলতে পারেন, এটা সঠিক প্রয়োগ কি না। আমি আইনটি পরিবর্তন করতে চাই। এটি অন্য ধরনের শাসনব্যবস্থার তৈরি করা আইন।

    প্রশ্ন: রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতার কারণে আগের সরকারের নেতা-কর্মীরা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলেও উদ্বেগ রয়েছে। এমনটা ঘটবে না তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা কি আপনার কাছে আছে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি বলব, আইনের শাসন বজায় থাকুক। দ্যাটস ইট।

    প্রশ্ন: আপনি সংস্কারের জন্য কয়েকটি কমিশন গঠন করেছেন—কিন্তু সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কোনো কমিশন নয় কেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের কিন্তু একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে—সংখ্যালঘুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে কেন? আমি [সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে] বলেছি, আপনারা এ দেশের নাগরিক, সংবিধান আপনাদের সব অধিকার দিয়েছে। আমরা সবাই চাই মানবাধিকার এবং সংবিধানে উল্লেখ থাকা সব অধিকার নিশ্চিত করতে। সংবিধান কমিশনের দিকে তাকান, দেখুন এর প্রধান কে [আলী রিয়াজ]—তারপর আপনারা কী বলছেন সে মতপার্থক্য দূর করুন… না হলে এটা পুরোটাই প্রোপাগান্ডা।

    প্রশ্ন: যদি প্রতিবেশী ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রে এমন ধারণা বিশ্বাস করা হয়, তাহলে কি আপনার সরকার জনগণকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছে যে এটি প্রোপাগান্ডা?

    মুহাম্মদ ইউনূস: হয়তো বিশ্বকে অন্যভাবে বোঝানোর টাকা বা ক্ষমতা আমাদের নেই।

    প্রশ্ন: আপনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এখনও সরাসরি সাক্ষাৎ করেননি, যদিও ফোনে কথা হয়েছে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: হ্যাঁ, এখনো আমাদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। আমি যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করি, মিস্টার মোদি ততক্ষণে চলে গিয়েছিলেন। আমি বাকুতে কপ-এ অংশ নিই, কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না। বিমসটেক সম্মেলন [থাইল্যান্ডে] বাতিল হয়েছিল। আর কমনওয়েলথ সিএইচওজিএম বৈঠকে আমাদের দুজনের কেউই অংশ নিইনি। তবে তার মানে এ নয় যে, আমরা কখনো দেখা করব না। আমরা কেবল প্রতিবেশী নই, ইতিহাস ও ভূগোল আমাদের একত্র করেছে। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও আমাদের সংযুক্ত করেছে। আমি প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছি। এটা কেন এভাবে পড়ে থাকবে? এমনকি আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সার্ক নেতারা নিউইয়র্কে স্রেফ পাঁচ মিনিটের জন্য হলেও যেন বৈঠক করেন যাতে একটা বার্তা পাঠানো যায় যে, সার্ক এখনো আছে।

    প্রশ্ন: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ৫ আগস্টের ঘটনাগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলছে? এটি কি একটি ধাক্কা ছিল?

    মুহাম্মদ ইউনূস: কেন এমনটা হবে? বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারতের উদযাপন করা উচিত যে, বাংলাদেশ এমন একটি শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে যেখানে মানুষ চরম কষ্টে ছিল, অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, অনেকে গুম হয়েছিলেন এবং অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আমাদের তরুণ প্রজন্মের উদযাপনে সঙ্গে ভারতেরও অংশ নেওয়া উচিত এবং একসঙ্গে উদযাপন করা উচিত, যেমনটা অনেক রাষ্ট্র করছে।

    প্রশ্ন: আপনি বলেছিলেন, ৫ আগস্ট থেকে শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি সম্পর্কের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে…

    মুহাম্মদ ইউনূস: [প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার] আপাতত ভারতে বসবাস করাটা সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে তার যোগাযোগ। তিনি বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন, এবং সেটা রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। তিনি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন, এটিই সমস্যা।

    প্রশ্ন: সেটা কীভাবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: তিনি বাংলাদেশিদেরকে ঢাকা ও অন্যান্য শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে উৎসাহিত করছেন। তার এসব বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে। তিনি [সদ্য নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট] ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে বলছেন—যেন পুলিশ বাধা দেয়, যাতে তারা বলতে পারে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এটি আরেকটি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ।

    প্রশ্ন: আপনার সরকার ইন্টারপোলের কাছে তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছে—কেন সরাসরি ভারতকে অনুরোধ করছে না? প্রয়োগ করার মতো দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া তো এক্ষেত্রে রয়েছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করব।

    প্রশ্ন: তারপরও আপনার সরকার এখনো প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেনি। দুই দেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার মনে হয় আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি, তবে সে পর্যায়ে এখনো পৌঁছাইনি।

    প্রশ্ন: রাজনৈতিক মামলা বিষয়ক ধারার কথা উল্লেখ করে যদি ভারত বাংলাদেশের অনুরোধ গ্রহণ না করে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আপনি কি বলছেন ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করবে? হ্যাঁ, এ ধরনের ধারা রয়েছে, তবে যদি ভারত সরকার সেগুলো কার্যকর করে এবং [শেখ হাসিনাকে] দেশে রাখে, তাহলে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো থাকবে না। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার খুবই স্বল্পস্থায়ী, তাই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সব দিক এখনই মীমাংসা করা সম্ভব নয়। তবে পরবর্তী কোনো সরকারও এটি সহজে মেনে নেবে না।

    প্রশ্ন: আপনি কি অন্য ক্ষেত্রগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মসৃণভাবে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন? সম্প্রতি আমরা জ্বালানি ও বাণিজ্য সংযোগ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ দেখেছি।

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের স্বপ্ন একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ধাঁচের সম্পর্ক তৈরি করা [মুক্ত চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতাসহ]। আমরা সে দিকেই এগোতে চাই। আপনার উল্লেখ করা উদ্যোগগুলো ইতিবাচক লক্ষণ এবং আমরা সে লক্ষ্যের দিকেই এগোতে চাই। তবে সেগুলো আমাদের মূল লক্ষ্যমাত্রা থেকে এখনো অনেক দূরে। আমাদের লক্ষ্য খুবই নিবিড় সম্পর্কের একটি ইউনিয়ন গঠন। আমাদের জন্মই হয়েছে পাশাপাশি থাকার জন্য, আমরা যমজ।

    প্রশ্ন: আপনার সরকার কতটা ‘স্বল্পমেয়াদি’? নির্বাচন কখন হবে বলে মনে করেন?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমাদের সরকার গঠন করার সময় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, আমরা স্রেফ একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়ে থাকব না—যারা আসবে, নির্বাচন দেবে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ২.০-এর জন্য সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা। আমরা দীর্ঘমেয়াদি সরকার হতে চাইনি, তাই এ কাঠামো তৈরি করেছি। প্রথম দিন থেকেই স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া হিসেবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেইসঙ্গে সংস্কার কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

    প্রথমত, আমরা নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করার সম্ভাবনা আছে, কারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন সংস্থা গঠন করবেন। তবে, অন্য কিছু সংস্কার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবেন না। যেমন, আমাদের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ হবে কি না, বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না, মেয়াদ ও মেয়াদের সীমা সংক্রান্ত বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কে সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আমি বলব, নির্বাচনের ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে। তবে এ ট্রেন কোন পথে চলবে সেট আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। আর সে পথ নির্ধারণ করতে আমাদেরকে সংস্কার কমিশনের কাছে ফিরে যেতে হবে।

    প্রশ্ন: এতে কি কয়েক বছর লেগে যেতে পারে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমার কোনো ধারণা নেই। জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, তাই আমরা যত দ্রুত সম্ভব ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি।

    প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

    মুহাম্মদ ইউনূস: এটা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি, এবং বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বলেছে, সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সুতরাং তারা ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামত অগ্রাহ্য করতে পারি না।

    প্রশ্ন: তাহলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপনার কোনো আপত্তি নেই?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি রাজনীতিবিদ নই যে এ দল বা অন্য দল বেছে নেব। আমি রাজনীতিবিদদের ইচ্ছা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছি।

    প্রশ্ন: আপনি কয়েক বছর আগে (২০০৭ সালে) নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন যদিও…

    মুহাম্মদ ইউনূস: সেটা মাত্র ১০ সপ্তাহের জন্য ছিল। তারপর আমি একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেটা বন্ধ ঘোষণা করেছিলাম। অনেকে আমাকে চাপ দিয়েছিলেন, বলেছিলেন জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা দলের নাম পর্যন্ত ঠিক করেছিলাম, কিন্তু সেখানেই শেষ। তারপরও সারাজীবন রাজনৈতিক দল তৈরি করতে চাওয়ার অভিযোগ শুনতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: আপনি কি নিজেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখেন না?

    মুহাম্মদ ইউনূস: আমি নিজেকে কখনোই রাজনীতিবিদ মনে করি না।


    [ঈষৎ সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত অনুবাদ: সুজন সেন গুপ্ত]