Month: November 2024

  • এ আর রাহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন সায়রা

    এ আর রাহমানের সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন সায়রা

    গত কয়েক দিনে নেটপাড়া উত্তাল অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রাহমান ও সায়রা বানুর বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা নিয়ে। স্ত্রী সায়রা বানুর সঙ্গে তাঁর ২৯ বছরের দাম্পত্যজীবন শেষ হচ্ছে—এমন ঘোষণায় অবাক ভক্ত-অনুসারীরা। বিচ্ছেদ নিয়ে তুমুল চর্চার মধ্যে মুখ খুললেন সায়রা।
    রাহমান নিজেও ভেবেছিলেন একসঙ্গে ৩০তম বর্ষে পদার্পণ করবেন। কিন্তু তা আর হলো কই। এর মাঝে নয়া গুঞ্জন রাহমানের দলের বেসিস্ট মোহিনীকে ঘিরে। কারণ, রাহমানের বিবাহবিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসার ঘণ্টাখানেকের মাথায় তিনিও নিজের স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে ঘোষণা করেন, তাঁরা আলাদা হচ্ছেন। এর পর থেকে মোহিনী ও রাহমানের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন অনেকে। ইতিমধ্যেই চেন্নাই ছেড়েছেন সায়রা বানু। মুম্বাইয়ে রয়েছেন তিনি।

    রাহমান ও মোহিনীকে নিয়ে ক্রমাগত যে ধরনের তথ্য প্রকাশ্যে আসছে, তাতে বিরক্ত পরিবার। ইতিমধ্যেই বাবার পাশে দাঁড়িয়েছেন ছেলেমেয়েরা। রাহমান নিজেও এ ধরনের তথ্য মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নয়তো মানহানির মামলা করবেন তিনি।

    এ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সায়রা বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন ধরেই আমি অসুস্থ। সেই কারণে চেন্নাই ছেড়ে মুম্বাইয়ে এসেছি। আমি সবকিছু থেকে বিরতি নিতে চেয়েছিলাম আসলে। সব ইউটিউবার ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের অনুরোধ করছি রাহমানের নামে কোনো খারাপ কথা বলবেন না। তাঁর কোনো দোষ নেই। তাঁর মতো মানুষ হয় না। আমার দেখা সেরা মানুষ।’

    শেষে সায়রার সংযোজন, তিনি কেবলই শারীরিক অসুস্থতার জন্য চেন্নাই ছেড়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি জানতাম, আমি চেন্নাইতে না থাকলেই লোকজন ভাববে, সায়রা কোথা গেল? আসলে আমার চিকিৎসা চলছে। চেন্নাইতে রাহমানের এত ব্যস্ততা থাকে যে ওখানে থাকলে এটা সম্ভব হতো না। আমি রাহমান কিংবা ছেলেমেয়েদের বিরক্ত করতে চাইনি।’

    এই বিচ্ছেদ নিয়ে এ আর রাহমানের স্ত্রীর আইনজীবী বন্দনা শাহ জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিক্ততা এই বিচ্ছেদের নেপথ্য কারণ। উভয় পক্ষই আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন মিটিয়ে নিতে। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়।

    ফলে দীর্ঘ দাম্পত্যের পর এই সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট কষ্ট হয়েছে তাঁর। কিন্তু সায়রা অপারগ। তাঁদের বিচ্ছেদের পর বিপুল অঙ্কের খোরপোশ পাবেন সায়রা, এই নিয়ে ইতিমধ্যে নানা কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

  • ইসরায়েলে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল হিজবুল্লাহ

    ইসরায়েলে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল হিজবুল্লাহ

    ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রায় আড়াই শ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। রোববার রাতে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, এদিন ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল ও তেল আবিব লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা।

    এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, প্রথমবারের মতো তারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে আশদ নৌঘাঁটিতে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। পরে সংগঠনটি আবার জানায়, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে তেল আবিবের একটি ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ মুহুর্মুহু হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া তেল আবিবের উপকণ্ঠে গ্লিলট সেনাবাহিনী গোয়েন্দা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা।

    হামলার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে প্রথমে এ সম্পর্কে এএফপির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এর আগে তারা জানায়, তেল আবিবের উপকণ্ঠসহ উত্তর-পূ্র্ব ও মধ্য ইসরায়েলের একাধিক জায়গায় সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশপথে হামলা হলে এমন সাইরেন বাজানো হয়।

    পরে এএফপির সঙ্গে কথা হয় ইসরায়েলি বাহিনীর। তখন তারা জানায়, হিজবুল্লাহর ছোড়া প্রায় আড়াই শ ক্ষেপণাস্ত্র লেবানন থেকে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। এর আগে রোববারই ১৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছিল তারা। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, এর মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকতেই ধ্বংস করা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অন্তত চারটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে মোহাম্মদ আফিফ নামে হিজবুল্লাহর একজন মুখপাত্র নিহত হন। এরপর গত বুধবার এক বক্তৃতায় হিজবুল্লাহপ্রধান নাইম কাসেম বলেন, বৈরুতে ওই হামলার জবাব তেল আবিবে হামলার চালানো মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে।

    চিকিৎসা সেবা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, রোববারের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা কিছুটা গুরুতর। আর ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীরের তুলকারেম শরণার্থীর শিবিরের কয়েকটি বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র (ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়)। এতে ১৩ জন আহত হন।

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে হামলা জোরদার করে ইসরায়েল। প্রথমে আকাশ পথে হামলা হলেও, পরে দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করেন ইসরায়েলের সেনারা। ইসরায়েলি বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তখন থেকে হিজবুল্লাহ একদিনে সবচেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ২৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন ইসরায়েলে ৩৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল।

    ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো। ২০০৬ সালে একবার যুদ্ধেও জড়িয়েছে তারা। গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করে দুই পক্ষ। প্রথমে তা সীমিত পর্যায়ে থাকলেও গত সেপ্টেম্বর থেকে তীব্র আকার ধারণ করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৬৭০ জন নিহত হয়েছেন।

  • তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বুটেক্স ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

    তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বুটেক্স ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিটাক মোড়ে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরা। রোববার রাত ১০টায় এ সংঘর্ষ শুরু হয় বলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী শামীমুর রহমান জানান।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির জেরে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়। রাত ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। একপর্যায়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে বিটাক মোড়ে অবস্থান নিয়ে উত্তর দিকে বুটেক্স এবং দক্ষিণ দিকে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন।

    রাত পৌনে একটার সময়ও সেখানে উত্তেজনা চলছিল।

  • ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ শ্রম অধিকারের ১১ দফার বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ শ্রম অধিকারের ১১ দফার বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশে শ্রম অধিকার–সংক্রান্ত ১১ দফার দ্রুত বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র। এসব দফা বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধাও (জিএসপি) পাওয়া যাবে।

    আজ রোববার ঢাকায় সচিবালয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সফররত কেলি এম ফে রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমন আশাবাদের কথা শোনান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় বাণিজ্যসচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কত দ্রুত শ্রম অধিকারের এই ১১ দফা বাস্তবায়ন করতে পারি, সেটা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। এগুলো করতে পারলে আমরা অবশ্যই জিএসপি সুবিধা পাব।’

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি আলোচনায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের বিষয়ে জোর দেয়। এসব অধিকার এখনো আছে, তবে বিপরীতে রয়েছে নানা শর্ত। যুক্তরাষ্ট্র চায় শর্তগুলো শিথিল করা হোক। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব দফা বাস্তবায়নে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের একটি দল বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে যায়। ওই কর্মপরিকল্পনায় মোটাদাগে ১১টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রথমটিই হচ্ছে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, শ্রমিক ও শ্রম অধিকারকর্মীদের যাঁরা নিপীড়ন করেন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান, তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরপরই রয়েছে শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কাজ করে, এমন কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ ছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলো যে মানের অধিকার ভোগ করে, সে অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বিদ্যমান শ্রমবিধি সংশোধন।

    আরও যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর (ইপিজেড) শ্রমিকেরা যাতে পুরোদমে ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আইনের ৩৪ নম্বর ধারা সংশোধন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় (এসইজেড) সেটির প্রয়োগ এবং সেখানকার শ্রমিকেরা যাতে সংগঠিত হতে পারেন ও সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষিতে সক্ষম হন, তা নিশ্চিত করা; ট্রেড ইউনিয়ন করার আবেদনের প্রক্রিয়া ৫৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা; শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার বিদ্যমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে অপেক্ষমাণ থাকা সব আবেদনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ; বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও এ জন্য তহবিল বরাদ্দ দেওয়া; আরও শ্রম পরিদর্শকের পদ অনুমোদন এবং নিবন্ধন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার অভ্যাস বন্ধ করা ইত্যাদি।

    বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এসব বিষয়ে প্রধানত কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রমিকের জীবনযাপন, মানোন্নয়ন ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। আমরা সবাই এক লাইনেই কাজ করছি। আমরা আমাদের দিক থেকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে তাগিদ দিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা আমাদের শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যূনতম মজুরিসহ অন্যান্য বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন।’

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হয়, এ বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘কথা বলেছি। জিএসপি সুবিধা থাকলে এটা দিতে হতো না। বলেছি, জিএসপি সুবিধায় আমরা থাকতে চাই। শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্য রপ্তানির যে সুবিধা আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পাচ্ছি, সেটা আমরা সব জায়গায় চাচ্ছি। তাঁদেরও বলেছি। কিন্তু তাঁরা সেই লাইনে কোনো কথা বলেননি।’

  • নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করল জাতীয় নাগরিক কমিটি

    নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করল জাতীয় নাগরিক কমিটি

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত আইনের অধীনে গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে অন্তর্বর্তী সরকার ইসি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এটি গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের আগে ইসি গঠনের প্রতিবাদে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ওই বক্তব্য তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

    এদিকে আজই শপথ নিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত অনুসন্ধান কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি গত বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগ দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ আমলে তৈরি আইনে এই নিয়োগ ও শপথের বিষয়েই বিরোধিতা জাতীয় নাগরিক কমিটির।

    সংগঠনটির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে তৎকালীন অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের একটি আইন প্রণয়ন করেছিল, যা “প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন-২০২২” হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের ওই আইন তখন বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ওই আইনের অধীনে নির্বাচন কমিশন গঠনের সার্চ কমিটি গঠন করে। অথচ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ওই আইন বাতিল করাটাই যুক্তিযুক্ত হতো।’

    লিখিত বক্তব্যে এ–ও বলা হয়, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে সার্বিক প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা তাদের কাজ। বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন কাজ শুরু করেছে দুই মাসও হয়নি। তাদের প্রথম কাজই হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পদ্ধতি ঠিক করা। তারা কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগেই ইতিমধ্যে সরকার ইসি গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করে।

    নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনও আইনটি বদলানোর পক্ষে বলে উল্লেখ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সংগঠনটি বলেছে, ইতিমধ্যে সংস্কার কমিশন একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরি করেছে, যা সরকারের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। সার্চ কমিটি গঠন করে ফেলায় এ কাজ আর এগোবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ইসি গঠনে সার্চ কমিটি গঠনের আগে সংস্কার কমিশনের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তবে সার্চ কমিটি গঠিত হয়ে যাওয়ার পর এই দফায় কমিশন গঠনের জন্য নিয়োগের আইনটির সংস্কার অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

    সরকারের ইসি গঠনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় জাতীয় নাগরিক কমিটি। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সরকার গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী জনগণের অভিপ্রায়কে পুরোপুরি ধারণ করতে পারছে না। আজও ফ্যাসিবাদী সরকারের রাষ্ট্রপতি বহাল রয়েছেন, যিনি গণহত্যাকারী হাসিনার হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর অধীনে কোনো ধরনের নিয়োগ বৈধ হতে পারে না। জাতীয় নাগরিক কমিটি অবৈধ রাষ্ট্রপতির অধীনে ফ্যাসিস্ট আইনি কাঠামোয় গঠিত নির্বাচন কমিশন প্রত্যাখ্যান করছে এবং অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনসহ আইনটি বাতিল করে নতুন আইনের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জোর দাবি জানাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কালাকানুনের অধীনে ইসি গঠন করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করেছে।

    নির্বাচন কমিশন সংস্কারের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার নির্বাচন কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়েছে বলে জাতীয় নাগরিক কমিটির লিখিত বক্তব্যে মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, এ কাজ গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র ও জনগণ অভ্যুত্থানের শরিক। কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। জাতীয় নাগরিক কমিটি বলেছে, তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্য উপদেষ্টাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন দেখতে চায়। ড. ইউনূস দৃঢ়তার সঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবেন বলে শিক্ষার্থী, তরুণসমাজ ও অভ্যুত্থানের শরিকেরা প্রত্যাশা করেন।

    তিন মাসের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে এই সরকার ইতিমধ্যে কাজের ক্ষেত্র ও সীমা অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই সরকার গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত। কাজেই সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ধারণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপে নির্বাচন নিয়ে তড়িঘড়ি করা যাবে না। এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্পন্ন না করে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিলে এই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাজ তিন মাসের বেশি সময়ে নিষ্পন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হবে, যা সরকারের বৈধতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

    নাগরিক কমিটি আরও বলেছে, ‘ড. ইউনূসকে মনে রাখতে হবে, তিনি ছাত্র-জনতার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। তরুণ শিক্ষার্থী সমাজসহ আপামর জনগণের কাছেই তিনি দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে সংস্কার হবে না, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনতে চাই না। জনগণ গণ–অভ্যুত্থানের স্পিরিটবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।’

    লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘এখনো সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এই সরকার জনগণের অভিপ্রায়কে প্রতিনিধিত্ব করবে তথা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করার দিকে অগ্রসর হবে না, এটাই আমাদের দাবি। ড. ইউনূস ও তাঁর সরকারকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ সংবিধানের আইনি কাঠামোয় নির্বাচন দিতে এত শহীদ প্রাণ দেননি। তা ছাড়া গণ–অভ্যুত্থানের দাবি কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপের লক্ষ্যে সব ধরনের সংস্কার-পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে অভ্যুত্থানের লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল।’

    সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সদস্য সারোয়ার তুষার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সিইসি

    নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব।’

    আজ রোববার শপথ গ্রহণ শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় মূল ভবনের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। এ সময় নির্বাচন কমিশনাররা সঙ্গে ছিলেন।

    নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ফার্স্ট অব অল শপথ নিয়েছি। শপথের সম্মানটা রাখতে চাই। শপথ সমুন্নত রাখতে চাই। আমি এটাকে নিজের জীবনের বড় অপরচুনিটি হিসেবে দেখছি, এই দায়িত্বটাকে। অপরচুনিটি টু সার্ভ দ্য নেশন। দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ একটা নির্বাচনের জন্য অনেক সংগ্রাম করেছে। অনেক আন্দোলন করেছে বিগত বছরগুলোয় এবং অনেকে রক্ত দিয়েছে। আমি তাদের একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য সর্বোচ্চটুকু করব।’

    সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই মিলে, আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়েই কিন্তু (নির্বাচন) করতে হবে। আমরা একা পারব না। আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। দেশবাসীর সহযোগিতা লাগবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা লাগবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা এই জাতিকে একটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেব।’

    ভোটার তালিকা করতে হবে

    এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সংস্কার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একটা নির্বাচন করতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার তো লাগবেই। উদাহরণ—এখন নানা রকম কথা হচ্ছে। কেউ প্রোপরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন, আবার কেউ বলে আগের সিস্টেমে ইলেকশন। সংবিধানে যদি এটা ফয়সালা না হয়, আমরা নির্বাচনটা করব কীভাবে? নির্বাচন করতে গেলে নতুন প্রজন্ম, যারা ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বছরের পর বছর, তাদের তো ভোটার তালিকায় আনতে হবে। ভোটার তালিকা করতে হবে।…কোথায় কোথায় সংস্কার দরকার হবে, ইন্টারভেনশন দরকার হবে, সেটি পাব, যেহেতু নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য একটা কমিশন কাজ করছে। পরামর্শ আসুক, আমরা দেখি কোনটা কোনটা গ্রহণযোগ্য হয়। যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে আমাদের।’

    সংবিধান ঠিক না হলে যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে

    সংবিধান সংস্কার কমিশন কাজ করছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘তাঁরাও সংবিধানের বিষয়ে সাজেশন দেবেন। …আমি ও আমার টিম সংবিধানের প্রোডাক্ট। সংবিধান যদি ঠিক না হয়, তাহলে আমাদের যাত্রা এলোপাতাড়ি হয়ে যাবে। সুতরাং এ কার্যক্রমও শেষ হোক। সব সুপারিশ আসুক। বেশিদিন তো নেই। উনারা তো বলছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। অতি অল্প সময়, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন।’

    এবারের মতো সুযোগ আগে ছিল না বলে উল্লেখ করেন নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমরা নই, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করবে। তারা ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে বলে আসছে তারা ভোটের অধিকার চায়, অবাধে ভোট দিতে চায়। সুতরাং তাদের সঙ্গে পাব। তাদের ডিমান্ডটা বাস্তবায়নে আমরা সহযোগিতা করব। সুতরাং আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। তারাও জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ।’

    কবে নির্বাচন দেবেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘দিনক্ষণ দিয়ে তো এখন বলা যাবে না। কিছু সংস্কার, যেগুলো দরকার আছে, সেগুলো করে…আগে আমি দায়িত্বটা নিই, একটু বুঝে নিই, কাজকর্মটা বুঝে নিই। আমাকে একটু বুঝতে তো দেবেন, ভাই।’

  • শেখ হাসিনার ভুয়া দাবি: গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি

    শেখ হাসিনার ভুয়া দাবি: গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার (২৩ নভেম্বর) একটি অডিও রেকর্ড প্রচার করা হয়। সেই রেকর্ডে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে মূলত দাবি করা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

    ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয়। রিউমার স্ক্যানার রোববার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে।

    রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অডিওতে শেখ হাসিনা বলেন:

    ‘আবু সাঈদ গুলি খাওয়ার পর তার সঙ্গী–সাথিরা যে তাঁকে টেনে নিয়ে গেল, কোথায় নিয়ে গেল? যার গুলি লাগবে, তাকে তো সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা। হাসপাতালে নিলে, অপারেশন করবে, বুলেট বের করবে, তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করবে। আবু সাঈদকে কিন্তু  হাসপাতালে নেয় নাই। নিয়েছিল চার-পাঁচ ঘণ্টা পরে। চার-পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার পর, ডাক্তাররা যখন চিকিৎসা করে, তখন সে মৃত্যুবরণ করে।’

    শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে মূলত দাবি করা হয়েছে যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

    ফ্যাক্ট চেক

    রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে’ শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং বেলা ২টা ১৮ মিনিটে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিস্তেজ হয়ে রাস্তায় ঢলে পড়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়। তিনটার দিকেই রিকশা করে তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছানো হয়।

    রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই দ্য ডেইলি স্টার-এ বিকেল ৪টা ১ মিনিট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেদিন বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আবু সাঈদ নিহত হন। ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দিন বেলা ২টার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আহত হন আবু সাঈদ। পরে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আশিকুল আরেফিন।

    পরে রিউমার স্ক্যানার টিম অনুসন্ধানে আবু সাঈদের গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় ঢলে পড়ার মুহূর্তের সময় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঘটনার দিন বেলা ২টা ১৬ মিনিটে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ফেসবুক পেজের একটি লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই লাইভ ভিডিওটির ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হতে, ১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তাঁকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে এবং ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে কয়েকজন ব্যক্তিকে তাঁকে (সাঈদ) তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। লাইভ ভিডিওর টাইমলাইন অনুযায়ী, আবু সাঈদ বেলা ২টা ১৮ মিনিটে নিস্তেজ অবস্থায় রাস্তায় ঢলে পড়েন।

    আরও অনুসন্ধানে ‘Fahmed Riad’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সেদিন ১৬ জুলাইয়ের পোস্টে রিকশায় আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ের একটি ছবি পাওয়া যায়, যার টাইমফ্রেমে ছবিটি ২টা ২৭ মিনিটে তোলা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    অপর দিকে বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এক প্রতিবেদনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রমাণপত্রের ছবি পাওয়া যায়। প্রমাণপত্র অনুযায়ী, আবু সাঈদকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে ঢাকা পোস্টের একটি প্রতিবেদনেও মৃত্যুর প্রমাণপত্রের অন্য একটি ছবি পাওয়া যায়।

    দৈনিক ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে ৪টা ১৩ মিনিটে আবু সাঈদের মৃত্যুর ব্যাপারে হাসপাতালের মৃত্যুর প্রমাণপত্রের তথ্যের বরাতে লেখা হয়, আবু সাঈদকে বেলা ৩টা ৫ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়।

    রিউমার স্ক্যানারের সৌজন্যে

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ফেসবুক পেজ BRUR Campus এ ‘সরাসরি রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে’ শিরোনামে বেলা ৩টা ৫৯ মিনিটের একটি লাইভে শিক্ষার্থীদের আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রতিবাদে তাঁর মৃতদেহ নিয়ে মিছিল করতে করতে রংপুর মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে মূল সড়কে আসতে দেখা যায়।

    উপরিউক্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৪-৫ ঘণ্টা পর নয়, বরং সেদিন গুলিতে নিস্তেজ হয়ে ঢলে পড়ার পরই তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয় এবং বেলা ৩টার দিকে রিকশা করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আবু সাঈদের মৃত্যু

    আবু সাঈদের মৃত্যুর ২ মাস ৮ দিন পর প্রকাশিত আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাঈদের মুখ থেকে ঊরু পর্যন্ত ছিল ছররা গুলির চিহ্ন। ছররা গুলি ঢুকে তাঁর শরীরের ভেতরের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি করেছিল। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর মাথার বাঁ দিকেও আঘাতের কারণে রক্ত জমাট ছিল।

    ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবু সাঈদের খাদ্যনালি ও ঊরুর রক্তনালি জখমের কারণে রক্ত জমাট বাঁধে। এই রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদ শকে চলে যান ও মৃত্যু ঘটে।

    ময়নাতদন্তের বিষয়ে চিকিৎসক রাজিবুল ইসলাম বলেন, ‘অসংখ্য ছররা গুলির আঘাতে আবু সাঈদের শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয় এবং তাঁর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া আপনারা দেখেছেন যে সাঈদ ডান পায়ে হাত দিয়ে পড়ে গিয়েছিল। তাঁর ডান ঊরুতেও ছররা গুলি লেগেছিল। সেখানে ফিমোরাল আর্টারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। তলপেটেও গুলির আঘাত ও রক্তক্ষরণ পেয়েছি। এসব আঘাতের কারণে শক ও রক্তক্ষরণের কারণে আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে।’

    আবু সাঈদের মাথায় আঘাতের বিষয়ে রাজিবুল ইসলাম বলেন, তাঁর মাথার বাঁ দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সেটি তিনি পড়ে গিয়ে বা পারিপার্শ্বিক অন্য কারণে হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর কারণ নয়। তাঁকে গুলি করা না হলে তাঁর মৃত্যু হতো না।

    উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বরে ভিন্ন এক শিক্ষার্থীর ছবিকে আবু সাঈদের দাবি করে তাঁর মৃত্যু নিয়ে অপতথ্য প্রচার হলে সে বিষয়ে একটি ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমার স্ক্যানার টিম। সে সময় ওই পোস্টগুলোতেও আবু সাঈদকে ৫ ঘণ্টা পর হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করা হয়েছিল, যা ওই ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে অসত্য হিসেবে শনাক্ত করে রিউমার স্ক্যানার।

    সবশেষে রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুতরাং গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর আবু সাঈদকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি মিথ্যা।

  • এজলাস থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যারিস্টার সুমন

    এজলাস থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যারিস্টার সুমন

    হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতে তোলার সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক কামরুল হাসানের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এ সময় এজলাস থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক এই সংসদ সদস্য।

    এর আগে ব্যারিস্টার সুমনকে আদালতে তোলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দুপুর ১টার দিকে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যানে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। ভ্যান থেকে নামিয়ে আদালত ভবনে প্রবেশের সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার শাস্তি চেয়ে নানা স্লোগান দেন। এ সময় শত-শত মানুষের ভিড় থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

    পুলিশের দাবি জানায়, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার ঢল নামে। সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের নির্দেশে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন। এ ঘটনার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর উপজেলার চন্দনা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে ব্যারিস্টার সুমনসহ ১৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় মামলা করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিটন রায় জানান, ১৬ জুলাই হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর চুনারুঘাট থানায় করা মামলায় ব্যারিস্টার মনকে প্রধান আসামি করা হয়। এই মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে আবেদন করলে বিচারক মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    হবিগঞ্জ আদালতের এপিপি নূরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

  • রুশ হামলার আশঙ্কায় কিয়েভে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    রুশ হামলার আশঙ্কায় কিয়েভে দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

    রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ইউক্রেনের কিয়েভে থাকা মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    মার্কিন দূতাবাস বুধবার এক জরুরি সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, রাশিয়া ‘একটি উল্লেখযোগ্য বিমান হামলার’ পরিকল্পনা করছে। তাই দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিমান হামলার সতর্কতা ইউক্রেনের নাগরিকদের জীবনের একটি দৈনন্দিন সত্য। রাজধানী কিয়েভ ঘন ঘন রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। তবে দূতাবাস খুব কমই এই ধরনের সতর্কতা জারি করে।

    এর একদিন আগেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ ভূখণ্ডে হামলা চালায়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (অ্যাটাকমস) দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে হামলা চালায় ইউক্রেন।

    অন্যদিকে, এ হামলার পর ক্রেমলিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এ ধরনের যেকোনো হামলার জন্য তারা ‘উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব’ দেবে

    মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, ‘আমরা এটিকে পশ্চিমাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি নতুন ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছি এবং আমরা উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাব।’

    কিয়েভে মার্কিন দূতাবাস সম্ভাব্য আক্রমণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি, তবে শহরটিতে মার্কিনিদের বিমান হামলার সতর্কতার ওপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ সকাল ৮টার কিছু আগে রাজধানীতে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    নগর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধে এক হাজার দিনের মধ্যে কিয়েভে প্রায় ১ হাজার ৩৭০টি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা মোট ১,৫৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলেছে।

    শহরের সামরিক প্রশাসনের সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা গেছে, এ সময়কালে কিয়েভ লক্ষ্য করে আড়াই হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে অর্ধেক হামলার ঘটনা ঘটেছে এ বছরই।

     

  • যুক্তরাষ্ট্র তহবিল না দিলে যুদ্ধে হারবে ইউক্রেন, স্বীকারোক্তি জেলেনস্কির

    যুক্তরাষ্ট্র তহবিল না দিলে যুদ্ধে হারবে ইউক্রেন, স্বীকারোক্তি জেলেনস্কির

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটনের অর্থ সমর্থন না পেলে যুদ্ধে পরাজিত হবে ইউক্রেন। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। খবর বিবিসির

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। তবে ২০২৪- এর নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ডেমোক্রেট দলের। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, তার আগেই এমন শঙ্কার কথা জানালেন জেলেনস্কি।

    ফক্স নিউজকে ইউক্রেনের নেতা বলেন, ‘ইউরোপে যদি আমরা ঐক্য হারাই, তা হবে খুবই বিপজ্জনক, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে– যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের একতা।’

    ফক্স নিউজ ট্রাম্পকে সমর্থনকারী একটি ডানপন্থী গণমাধ্যম। ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে ওয়াদা করেন যে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইউক্রেনের পেছনে ব্যয় করা বন্ধ করবেন তিনি। যুদ্ধের পেছনে অর্থশ্রাদ্ধ না করে– তা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জীবনমান আরও উন্নত করা হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

    এই প্রেক্ষাপটে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্বীকার করেন যে, ‘অর্থ সাহায্য বন্ধ করা হলে, মনে হয় আমরা হেরে যাব। যেকোনোভাবেই হোক আমরা অবশ্যই থাকব, যুদ্ধ করব, আমাদের নিজস্ব (সমরাস্ত্র) উৎপাদন ব্যবস্থাও আছে – তবে অবশ্যই সেটা জেতার জন্য যথেষ্ট নয়, এমনকী টিকে থাকার পক্ষেও পর্যাপ্ত না।’

    যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাজী করাতে পারবেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা ততোটা সহজ হবে না, তবে তিনি পারবেন, কারণ তিনি পুতিনের চেয়ে শক্তিশালী।’

    ব্যাখ্যা করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর কাছে অপরিমেয় শক্তি, কর্তৃত্ব ও অস্ত্রসজ্জা রয়েছে। তিনি চাইলে, যেকোনো জ্বালানি সম্পদের দামের পতন ঘটাতে পারবেন। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস হচ্ছে জ্বালানি খাত।

    এর আগে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাটাকমস মিসাইল ব্যবহারের অনুমতি দেয় বাইডেন প্রশাসন। অনুমতি পাওয়ার একদিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার তা ব্যবহারও করেছে ইউক্রেন।

    ইউক্রেনকে অ্যান্টি-পার্সোনাল ল্যান্ড মাইন-ও সরবরাহ করেছে বাইডেন প্রশাসন। যা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

    তবে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, রুশ সেনারা সম্মুখভাগের বিভিন্ন অবস্থানের দখল নিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক – ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)।