বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তিনি এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনা কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন আছেন। এই অবস্থায় তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সরব হয়েছেন নেতাকর্মীরা। খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, খালেদা জিয়া সব শঙ্কা কাটিয়ে আবার হাসি মুখে ফিরবেন। তিনি সবাইকে দোয়া ও prayers এর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এর ফলে বর্তমানে তার পক্ষ থেকে সকল নির্বাচনী কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে, যেন তার এই সময়টা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
Category: সারাদেশ
-

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র নির্বাচনী কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ
সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও গণতন্ত্রের কঠোর রক্ষক বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং জীবন-মরণসংকটের মুখোমুখি হওয়ায়, খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রচারণা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অতীতের মতোই, আজ রোববার থেকে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, থানাসহ ইউনিয়ন এলাকাগুলোতেও খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা কার্যক্রম আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব ধর্মের উপাসনালয়ে—মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডায় এই দোয়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। নগরী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা যাচ্ছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে ফিরে এলে নির্বাচনী কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।
-

খুলনায় নারী পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
খুলনায় হাইওয়ে পুলিশের এক নারী সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি হাউজিং এস্টেটের নারী পুলিশ ব্যারাক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত কনস্টেবল মিমি খাতুন (২৭) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাত নম্বর ফুলবাড়ি এলাকার নবীন বিশ্বাসের মেয়ে এবং ইমরান হোসেনের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে সহকর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে দেখতে পান, তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। খবর পেয়ে ব্যারাকের কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল সম্পন্ন করে সন্ধ্যায় রাত ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে মরদেহ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তারা জানান, মিমি হাইওয়ে রিজিওনের একজন নারী পুলিশ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং ওই ব্যারাকে থাকতেন। তবে, তার আত্মহত্যার কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। কোনো সুইসাইড নোট মৃতদেহের কাছে পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রাথমিক প্রতিবেদনে আত্মহত্যা উল্লেখ করা হয়েছে। খুলনা কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
-

খুলনায় আদালতের সামনে প্রকাশ্যে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
খুলনায় আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের সামনে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রকাশ্যে দুজনকে ধারালো অস্ত্র ও গুলির মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে, যা পুরো এলাকাকে আতঙ্কে ঢেকে দিয়েছে।
নিহত দুজনের নাম হল ফজলে রাব্বি রাজন (২৮) এবং হাসিব (২৯)। রাজন রূপসার বাগমারার দক্ষিণ ডাঙ্গা এলাকার ইজাজ শেখের ছেলে এবং হাসিব নতুন বাজার এলাকার মান্নান হাওলাদারের সন্তান। এই দুজনই খুলনার স্পষ্টভাবে পরিচিত সন্ত্রাসী শেখ পলাশের অনুসারী বলে জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে এসে বিচারপ্রার্থী দুজনকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন।
আদালত চত্বরে হত্যাকাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পুলিশ নানা সরঞ্জামাদি দিয়ে স্থানটি স্যানিটারাইজ করেছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম এ সম্পর্কে বলেন, আচমকা এই ঘটনা ঘটেছে এবং নিহত দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ, চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল পড়ে আছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ষড়যন্ত্র তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপর দিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার রোকনুজ্জামান জানান, আহতদের মধ্যে হাসিব ঘটনাস্থলে নিহত হন, আর রাজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। এই দুজনেই সন্ত্রাসী পলাশের বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও রয়েছে। তারা আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো আদালত চত্বরের পরিবেশ আতঙ্কে ভরে যায়। আইনজীবীরা এই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ জনমনে আতঙ্ক বেড়ে গেছে।
-

বড় ভাই আইসিইউতেই, দেখার পথে ছোট ভাইসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু
যশোরের একটি হাসপাতালে বড় ভাই আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায় তাকে দেখতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ছোট ভাইসহ দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কের জগহাটি জোড়াপুল ব্রিজের কাছে (বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— মহেশপুর উপজেলার আলিসা গ্রামের আফিল উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে সেলিম রেজা (৪৫) ও একই গ্রামের মো. তাহাজ্জেলের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (৪২)। এর মধ্যে সেলিম রেজা শহীদুল ইসলামের ছোট ভাই, যিনি বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি আছেন।
নিহতদের প্রতিবেশী মো. আব্দুল হাকিম জানান, যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আহত মহেশপুরের সেলিমের বড় ভাই শহীদুল ইসলাম আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তার মারাত্মক অবস্থা দেখে হঠাৎ করে সেলিমকে ফোন করে হাসপাতালে আসার জন্য বলা হয়। সেলিম দ্রুত মোটরসাইকেলে করে তার ছোট ভাই ইব্রাহিমসহ হাসপাতালে ছুটে যান।
এমন সময়, জগহাটি জোড়াপুল এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সেলিম ও ইব্রাহিম মারা যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি তদন্ত করছে।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ বলেন, দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকারী বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে, এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
-

কয়রা-পাইকগাছায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও জনকল্যাণে কোনো কাজ করেননি
খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র কখনোই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বাপ্পি আরও বলেন, পাইকগাছা-কয়রা অঞ্চলের আগের জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হলেও তারা এলাকার মানুষের জন্য সত্যিই জনকল্যাণমুখী কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেনি। ফলস্বরূপ, এই অঞ্চলের জনগণ ভোটের গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছে। তিনি তাদের বললেন, আপনারা ভোট কেন্দ্রে আসুন, আমাকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিন, যেন আমি আপনারাের এলাকার উন্নয়ন করতে পারি। আমি আমার না, আপনারা ও আপনার এলাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য কাজ করতে চাই। গতকাল বৃহস্পতিবার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথাবার্তা বলেন তিনি। ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম সানা সভার সভাপতিত্ব করেন। আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব বলেন, গত ১৭ বছর ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার নিজ ভোট নিজেকেই দিতে হবে। বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে উন্নয়ন ও সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। কাউকে দখলদারি, চাঁদাবাজি বা অত্যাচার করার সুযোগ দেওয়া হবে না। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সদস্য আশরাফুল আলম নান্নু, এমএ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাঈদ বিশ্বাস, কয়রা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বাবুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী, জেলা জাসাসের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদ, বিএনপি নেতা টিএম মঞ্জুর আলম নান্নু, জিএম আব্দুল গফফার, জিএম সিরাজুল ইসলাম, ওসমান গনি খোকন, সাইফুজ্জামান, মোল্লা আইয়ুব হোসেন, জি এম গোলাম রসুল, মহতাশিম বিল্লাহ, বুলবুল আহমেদ, বিল্লাল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, আব্দুস সোবহান গাজী, নাজমুল হুদা, মোস্তাফিজুর খোকন, হাবিবুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, স্বরোজিত ঘোষ, জামাল জাফরিন, আবুল কালাম কাজল, মেহেদী হাসান সবুজ, সাব্বির রহমান বাবু, মামুন হোসেন, ইমরান হোসেন, শহিদুল ইসলাম, রুহুল আমিন গাজী, সাইদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও ইয়াসিন আরাফাত সহ আরও অনেকে।
-

খুলনা শহরের বায়ু দূষণের স্তর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ কেসিসি প্রশাসকের
খুলনা মহানগরির বায়ু দুষণের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ। তিনি বলেন, অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন অপরিহার্য৷ তাঁরা এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে, তিনি শিক্ষকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের অনুরোধ জানান এবং খুলনাকে একটি স্বাস্থ্যকর শহরে পরিণত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
-

দেশের মুক্তির সনদ তারেক রহমানের ৩১ দফা
মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, পতিত আওয়ামী সরকার বিগত ১৬ বছরে দেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে নতুন করে সুসাজিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের সংস্কারে আমাদের নেতা তারেক রহমান দুই বছর আগে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিলেন। এই দফাগুলোর মধ্যেই দেশের মূল সমস্যা ও সমাধানের পথ স্পষ্ট হয়েছে। এই ৩১ দফা হচ্ছে দেশের মানুষের মুক্তির মূল পাথেয়। বৃহস্পতিবার খুলনায়Running খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে একটি প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এই সভাটির আয়োজন করে বিএনপি’র ১৬ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে। মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, যিনি বলেন, ‘জুলাই মাসের অভ্যুত্থান দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। ক্ষমতার লোভে তারা কতটা নির্মম হতে পারে, দেশবাসী সেটাই দেখেছে। দেশের স্বনামখ্যাত রাজনৈতিক ইতিহাসকে হার মানান এই দুঃশাসন এক যুগে আইয়ামে জাহেলিয়ার সাথে তুলনা করা যায়। তিনি আরও বলেন, ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণআবেগের মাঝে খুলনার আইনশৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। পঞ্চদশ মাসে খুলনা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কমপক্ষে ৯৪ জনের খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অসংখ্য খুন মাদক ব্যবসার চক্রান্তে, যারা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের দমন না করতে পারা এই নগরীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সকলের ঐক্য অপরিহার্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ মোস্তফা কামাল, পরিচালনা করেন শওকাত আলী বিশ্বাস লাবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফিজুর রহমান মনি, মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, মোঃ মুজিবুর রহমান, জাকির ইকবাল বাপ্পি সহ অনেকে। অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন সাজ্জাদ আহসান পরাগ, কাজী আব্দুল জলিল, মাহমুদ আলম বাবু মোড়ল, আলহাজ্ব শেখ হাবিবুর রহমান, শেখ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, মোহাম্মদ কাজী নজরুল ইসলাম, আবুল ওয়ারা, কামরুজ্জামান রুনু, ওয়াহিদুজ্জামান হাওলাদার, আরিফুল ইসলাম বিপ্লব, সাইফুল ইসলাম, কাদের মল্লিক, ইয়াসিন মোল্লা, আবু বক্কার মীর, মনিরুল ইসলাম, সোহরাব মোল্লা, শেখ হায়দার আলী, আল আমিন দেওয়ান ও মোহাম্মদ চঞ্চলসহ আরও অনেকে।
-

অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি
জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত বিজয়কে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নানা ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলছেন, বিএনপি একমাত্র দল যার দীর্ঘ দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা রয়েছে। জনগণের সমর্থন পেলে, এই অভিজ্ঞতাগুলো দেশের কল্যাণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি অতীতের ভুলমুক্ত শিক্ষা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের লড়াইকে বিভ্রান্ত করার অনেক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তা সফল হয়নি। সেই অপচেষ্টার মোকাবিলা করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসে প্রবেশের সময় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সবাই তাকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর নির্বাহী পরিচালকসহ ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারা এই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তার পরে তিনি ২১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম জামাল উদ্দিন, হান্নান মোল্লা ও হীরা মিয়ার বাসায় গেছেন এবং পরিবারে খোঁজ-খবর নিয়ে দোয়া কামনা করেন। সেই সঙ্গে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উপকূলের মানুষের সংকট নিরসনে নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি ঘোষণার জন্য খুলনা প্রেসক্লাবে নাগরিক সংলাপে অংশ নেন। এছাড়া তিনি সাউথ সেন্ট্রাল রোডস্থ খান-এ-সবুর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এর পাশাপাশি তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার কর্মকর্তাদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতুরাজ্জামান মর্তুজা, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, কাজী মোঃ রাশেদ, আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দিপু, ইউসুফ হারুন মজনু, আনোয়ার হোসেন, গিয়াস উদ্দিন বনি, মজিবর রহমান ফয়েজ, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, শামসুজ্জামান চঞ্চল, ওহিদুজ্জামান খসরু, ইশহাক তালুকদার, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, মাহবুব হোসেন, মেশকাত আলী, রবিউল ইসলাম রবি, মেজবাহ উদ্দিন মিজু, আসলাম হোসেন, রিয়াজুর রহমান, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হোসেন আলম, খান মইনুল ইসলাম মিঠু, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোহাম্মাদ আলী, খান শহিদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম লিটন, মাজেদা খাতুন, ফিরোজ আহমেদ, ওহেদুর রহমান বাবু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শহিদুল ইসলাম লিটন, খান রাজিব, রাজিবুল আলম বাপ্পি, এ আর রহমান, সেলিম বড় মিয়া, শামসুল আলম বাদল, জামাল মোড়ল, তরিকুল আলম, পারভেজ মাড়ল, সাখাওয়াত হোসেন, জাহিদুল ইসলাম খোকন, মোল্লা আলী আহমেদ, মাসুদ রুমী, রবিউল আলম, শফিউদ্দিন আহমেদ, আসমত হোসেন, শামীম রেজা, মামুনুর রহমান রাসেল, ইমতিয়াজ সেজান, সোহেল খন্দকার, নজমা আক্তার ও লাকি আক্তার সহ বিভিন্ন নেতাকর্মী।
-

সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও কেডিএ’র যৌথ উচ্ছেদ অভিযান
খুলনার সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কে অবৈধ দখলদারদের দখল মুক্ত করতে বৃহস্পতিবার এক যৌথ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানটি পরিচালনা করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে এ অভিযান, যেখানে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক পরিবহন কাউন্টার ভেঙে ফেলা হয়। এই কার্যক্রমের সময় কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে, এই সড়কটি শহরে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হিসেবে বিবেচিত। তবে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এক বড় অংশ দখল থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষে এই সড়কটি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। জনস্বার্থে এই অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং সড়কটি দখলমুক্ত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অভিযানে ৩০টিরও বেশি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সামনে আরও শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেটি চালিয়ে যাওয়া হবে।
কেসিসির পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আবিরুল জব্বার বলছেন, নগরীর অন্যতম প্রবেশপথ সোনাডাঙ্গা বাইপাস সড়কের পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, কারণ অবৈধ দখলদাররা এই সড়কটি দখল করে রেখেছিল। সড়কের কর্মক্ষম প্রয়োজন ৬০ ফুট প্রশস্ততা হলেও দোকান ও বাস কাউন্টার গড়ে ওঠায় এই কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ইজারা ও ভাড়া নিয়েই বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। হঠাৎ করে এই উচ্ছেদে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করে, তারা ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
