সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে শুক্রবার বনবিভাগের কর্মকর্তারা এক অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি দেশীয় বন্দুক এবং চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছেন। এ সময় তারা কোনো দুষ্কৃতিকারীকে আটক করতে পারেননি। ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরা বিভাগের কেঁচির খালের বাইনতলার এলাকায়, যেখানে বনবিভাগের টহলদল সন্দেহজনক কিছু দৃষ্টিগোচর হয়। বনকর্মীরা তখন দুষ্কৃতিকারীদের ধাওয়া করে, যারা বনপ্রান্তের গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে এই অস্ত্র ও গুলির সন্ধান পান। ঘটনা প্রসঙ্গে বনবিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বনজঙ্গল ও বন্যপ্রাণি রক্ষায় তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকেন এবং এই ধরনের অপরাধ দমন করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলিগুলো এখন পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলচ্ছে। বনদস্যুদের দমন এবং সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে এই অভিযান আরও জোরালোভাবে চালানো হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
Category: সারাদেশ
-

গোবিপ্রবি’র শিক্ষক বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত শুরু
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বুধবার রেজিস্ট্রার মোঃ এনামউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক হিসেবে अवসর শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও, তিনি তার পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্সের সুপারভাইজারের স্বাক্ষর, এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সময়মতো জমা দেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি) লিখিতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।
এ পরিস্থিতিতে, ঘটনা তদন্তের জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মোঃ কামরুজ্জামان, আর সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন রেজিস্ট্রার মোঃ এনামউজ্জামান। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক।
উল্লেখ্য, এই তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-

খুলনায় নুর আজিম বাহিনীর শীর্ষ সহযোগী ফয়সাল আটক
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকা থেকে নুর আজিম বাহিনীর পরিচিত শীর্ষ সহযোগী ফয়সালকে আটক করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল নুর আজিমের অনুপস্থিতিতে বাহিনীর কম-কোহর দায়িত্ব পালন করছিল এবং তাকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খুঁজছিলো।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈমুর ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সন্ত্রাসী নুর আজিমের অনুপস্থিতিতে ফয়সাল বাহিনীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছিল। সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। আজ তার সঠিক অবস্থান জানতে পেরে পরিপক্ক পরিকল্পনায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ফয়সালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের আছে। পুলিশ বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। অভিযান চলাকালীন ও আটককালে বিশেষ কোনো প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়নি বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।
-

খুলনায় ট্যাংক লরি থেকে অকটেন চুরির সময় ৫ জন আটক
খুলনায় পদ্মা ডিপো থেকে ট্যাংক লরি থেকে অকটেন চুরি করার সময় পাঁচজনকে ধরে নজিরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে খুলনার খালিশপুর থানার এলাকার পদ্মা ডিপোতে।
ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে এনএসআই খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের সদস্যরা ডিপোতে ইউনিট করে অভিযান চালায় এবং সন্দেহভাজন পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। তাদের কাছ থেকে মোট ১০ লিটার অকটেন জব্দ করা হয়।
আটকদের মধ্যে মাগুরার ট্যাংকলরি চালক ইমরান ও তার সহযোগী হেল্পার সম্রাট, মিন্টি, রানা ও বিল্লাল রয়েছেন। তারা আটককালে ট্যাংক লরি (খুলনা মেট্রো-ঢ, ৪১-০০৭১) থেকে ড্রামে তেল উত্তোলন করতে গিয়ে ধরা পড়েন।
ঘটনার পর ভ্রাম্যমান আদালত বসানো হয়। খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুন ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী প্রতিজনের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জব্দকৃত তেলও কাস্টডিতে নেওয়া হয়।
এই অভিযান সম্পর্কে আরও তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের তেল চুরির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই নিরাপত্তা তৎপরতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
-

খুলনায় ট্যাংকলরি থেকে অকটেন চুরির চেষ্টা, ৫ জন আটক
খুলনায় পদ্মা ডিপো থেকে অকটেন চুরির চেষ্টা চলাকালে পাঁচজনকে আটক করেছে এনএসআই খুলনা মেট্রো।
এনএসআই খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে খালিশপুর থানাধীন পদ্মা ডিপো এলাকায় ট্যাংক লরি থেকে ১০ লিটার অকটেনসহ তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন কর্মকর্তারা।
আটকদের মধ্যে ছিলেন মাগুড়ার ট্যাংকলরি চালক ইমরান ও হেল্পার সম্রাট, মিন্টি, রানা ও বিল্লাল। সংশ্লিষ্ট ট্যাংক লরিটির নাম্বার ছিল খুলনা মেট্রো-ঢ, ৪১-০০৭১।
পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা খানুন তাদেরকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ এর ধারা ২০(১) অনুযায়ী দণ্ডিত করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইসঙ্গে চুরি করা ওই তেল জব্দ করা হয়েছে।
এনএসআই সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
-

খুলনায় নুর আজিমের বাহিনীর প্রধান সহযোগী ফয়সাল গ্রেফতার
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কোলে গ্রেপ্তার হয়েছে শহরের কুখ্যাত সন্ত্রাসী নুর আজিমের বাহিনীর প্রধান সহযোগী ফয়সাল। শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নগরীর টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকা থেকে ঘটনাস্থলীয় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ফয়সালের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজা হচ্ছিল এবং আজ নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান করা হয়েছিল।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈমুর ইসলাম বলেন, “নুর আজিমের অনুপস্থিতিতে ফয়সালই বাহিনীর কার্যত নেতৃত্ব দিত। সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। আমরা দীর্ঘদিন তাকে ধরার চেষ্টা করছিলাম; আজ তার সঠিক অবস্থান জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।”
গ্রেপ্তারির পর ফয়সালকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলার প্রামাণ্যতা যাচাই ও তদন্ত চলছে। আপাতত তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী কর্তব্য পরিচালনা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
-

জার্মান পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধিদল খুলনায়—জলবায়ু ঝুঁকি ও সমাধান নিয়ে মতবিনিময়
ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানির পার্লামেন্টের পরিবেশ বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিনিধি দল গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা সফর করেছে। সফরের অংশ হিসেবে দুপুরে প্রতিনিধি দল নগরীর এক অভিজাত হোটেলে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়।
বৈঠকে কেসিসি প্রশাসক অতিথিদের খুলনার জনগণের পক্ষ থেকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। সমুদ্রপৃষ্ঠের বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব মোকাবিলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান দরকার বলে তিনি জোর দিয়েছেন।
প্রশাসক মঞ্জু জার্মান সহায়তার প্রশংসা করে বলেন, ২০১০ সাল থেকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন জার্মান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করে এসেছে এবং শহরে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য আগত প্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানান।
ফেডারেল জার্মান সংসদের পরিবেশ কমিটির প্রতিনিধি দলটি ৭ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে সফর করে আসছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল শহরাঞ্চলে থাকা জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করা। বিকেলে তারা জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় খুলনায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের স্থানীয় ক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।
সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে জার্মান সরকারের কাছে আগামী কার্যক্রমে সমর্থন চাইতে বলা হয়—বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, প্রকৃতি নির্ভর সমাধান, উন্নত ড্রেনেজ ও পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলোতে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী জার্মান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট সদস্য ও পরিবেশ বিষয়ক কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান মাইকেল থিউস। দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য সাচছা ভান বিক, ম্যানুয়েল ক্রাউথাউসেন, ড. ফ্রানজিসকা কার্সটেন, জুলিয়া ছানেইদার, ভাইওলেটা বুক এবং পলিসি অফিসার ইলেফদেরিওস আসলানিডিস। বাংলাদেশে যোগদানের সময় কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, এডভাইজার শেখ মাহমুদুল আহসানসহ অন্যান্য স্থানীয় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোঃ জাকির হোসেন।
প্রতিনিধিদল এবং কেসিসির এই সংলাপটি খুলনার জলবায়ু প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
-

খুলনায় ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত
খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের খান মোহাম্মাদপুর গ্রামে পারিবারিক ঝগড়ার জেরে এক অভিনেত্রিক (sic) ঘটনা ঘটেছে; ছেলের লাঠি আঘাতে মা নিহত হয়েছেন।
ঘটনা শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে সাড়ে আটটার দিকে সংঘটিত হয়। নিহত মিম্মি বেগম (৪৪) স্থানীয় বাসিন্দা ও হামিদুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পারিবারিক বিবাদ বাড়তেই মামলায় নামাজকরা—নাদিম ইসলাম তার মাকে আক্রমণ করে। তিনি পাশের গাছের ডাল দিয়ে মিম্মি বেগমের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মারা যান।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মিম্মিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে আইচগাতি ক্যাম্পের পুলিশ পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছেলেকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। তবে অভিযুক্তকে ক্যাম্পে নেওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলের সুরক্ষার্থে পুলিশকে কাছেই থাকা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্কেল এসপি এ সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিবি পুলিশের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রূপসা উপজেলার আইচগাতি ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করা হবে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে; নিহত মিম্মির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিকটস্থ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই হঠাৎ ঘটনার কারণে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
-

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ৩১ শিক্ষার্থী আর্ককেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিপারমেন্টের ৩১ জন শিক্ষার্থী একাডেমিক উৎকর্ষের স্বীকৃতি হিসেবে আর্সকেইউ-বার্জার এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং চেক তুলে দেওয়া হয়।
এছাড়াও, ‘থিসিস অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মোঃ মোস্তাকিম বিল্লাহ। তারকা তাহসিন তন্নি দ্বিতীয় এবং সুমাইয়া খাতুন তৃতীয় স্থান পান। এর পাশাপাশি, রাব্বি ও হৃদয় নামে দুটি শিক্ষার্থী কেড়ে নেন কমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড।
বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ডিগ্রি লাভকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে মোঃ হাসিবুল ইসলাম মিশু, কানিজ ফাতিমা খুশি, মোঃ মিজানুর রহমান ও আমিনা তাবাস্সুম প্রমা। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পুরস্কার পান বৃষ্টি পাইক, সুরেশ বিশ্বকর্মা, তাসাদ্দুক হোসেন, শেখ ফারিয়া ফাইজা ও মোঃ হাসান শাহরিয়ার। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা হলেন তাহমিন রহমান, ফাতিমা করিম খুশি, তিথী সরকার, সুরেশ বিশ্বকর্মা, মধুশ্রী রায় ও শেখ সাকিব রহমান। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পুরস্কৃত হন মোঃ আশিফুর রহমান অমি, সুরাইয়া নওশিন, বৃষ্টি পাইক, সুরেশ বিশ্বকর্মা ও কানিজ ফাতিমা খুশি। আর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন আফ্রিদা বিনতে আমির হামীন, এথেনা বারিকদার, তাহমিন রহমান, মোঃ ফেরদৌস মন্ডল রনি, সীমান্ত সাহা রাতুল ও মোঃ নাদিম হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থাপত্য বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. রুমানা আসাদ। সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম; রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান; বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার ও পরিচালক মোঃ মোহসিন হাবিব চৌধুরী; চিফ বিজনেস অফিসার (সেলস ও মার্কেটিং) একেএম সাদিক নেওয়াজ; চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং জেনারেল সেলস ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।
স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ও এক্সটার্নাল রিসোর্স কো-অর্ডিনেটর শিবু প্রসাদ বসু।
বক্তারা বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং এই সম্মান ভবিষ্যৎ জীবনে তাদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বার্জার পেইন্টস এই উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইমন কুমার সাহা বিষ্ণুপদ ও এথেনা বারিকদার। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বার্জার পেইন্টসের কর্মকর্তাসহ অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
-

খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
প্রতিনিধিদল ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি পার্লামেন্টের পরিবেশ委员会 থেকে বুধবার খুলনায় পৌঁছেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো শহরজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জগুলোকে গভীরভাবে বুঝে নেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। দুপুরে একটি আধুনিক হোটেলে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেসিসির পক্ষ থেকে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, খুলনা দেশের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এই অঞ্চল সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির, লবণাক্ততা ব্যাপকতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাধান জরুরি।
