Category: রাজনীতি

  • বিএনপির শোকজে ফজলুর রহমানের লাগামহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ

    বিএনপির শোকজে ফজলুর রহমানের লাগামহীন বক্তব্যের প্রতিবাদ

    বিএনপি রাজনৈতিক নেত্রী ও দলীয় নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বেপরোয়া ও আড়াআড়ি মন্তব্যের প্রতিবাদে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে দলটি। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামপন্থী দলসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে অপ্রতিক্রিয়ামূলক ও বিভ্রান্তিকর কথা বলে সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপরই রোববার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির প্রেস উইং এই শোকজ নোটিশ পাঠায়।

    নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফজলুর রহমান সমাজের প্রতি আহতকর বক্তব্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থান ও শহীদে সম্মানও লংঘন করেছেন। দলের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর এই মন্তব্য যে কীভাবে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, তা তুলে ধরে, দলের নেতাদের নির্দেশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    বিএনপির দপ্তর থেকে পাঠানো শোকজ নোটিশে বলা হয়, আপনি জুলাই-আগস্ট期间 অনুষ্ঠিত গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী ছাত্র-জনতার প্রতি অসম্মানজনক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। এইবিষয়ে আপনার উক্তি সম্পূর্ণভাবে দলের আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাবিরুদ্ধ। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের মর্যাদা অমান্য করা এই মতবাদের মাধ্যমে আপনি নীতি পরিপন্থী বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। এতে সবার আন্দোলন ও শহীদদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে বলে দল মনে করে।

    নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এই গণঅভ্যুত্থানে সাড়ে চারশোরও বেশি নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং দেড় হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের বীরোচিত ভূমিকা অস্বীকার বা অবজ্ঞা করা সম্পূর্ণ অন্যায়। দল এই অবস্থায়, এই ধরনের মন্তব্যের জন্য আপনি কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব না, তার কারণ দেখতে দল আপনাকে লিখিত জবাব দিতে বলেন।

    আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে আশ্রয় নেওয়া অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। সর্বশেষ তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামী ছাত্রশিবির, যারা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি মন্তব্য করেন, এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তিকর ও destructive কৌশল অবলম্বন করে আসছে।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আন্দোলনে শীর্ষ ভূমিকা ছিল ইসলামপন্থী ওই সংগঠনের। তিনি সাধারণ মানুষকে বলছেন, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তারা কেবল নাটক pilotos, তাদের আসল স্বার্থ কিছু নয়; তারা এখনো দেশের রাজনীতিতে অন্ধকার ছায়া ফেলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের পরিশুদ্ধ নির্বাচন হলে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় ফিরবে।

    ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলি এখনো শক্তিশালী রকমের সংগঠিত; তাদের সাংগঠনিক শক্তি, অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা সরকারী বিভিন্ন দপ্তর—প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থা থেকে ব্যাংক, বাজার, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করছে।

    অবশেষে তিনি বলেন, জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন আরও কমে গেছে, প্রায় ৭ শতাংশের নিচে। তবে তারা নিজেদের ছায়া-প্রভাব শক্তিশালী করে রাখতে সচেষ্ট, যা বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

  • জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত জমা

    জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত জমা

    জুলাইয়ের সনদ পত্র পুনঃপরীক্ষা করে ২৩টি রাজনৈতিক দল তাদের মূল্যবান মতামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। এরআগে, ১৬ আগস্ট রাতে প্রেরিত খসড়ায় কিছু ত্রুটি থাকার কারণে সংশোধন করে আরও নিশ্চিত ও নিখুঁত খসড়া পাঠানো হয়। সম্প্রতি, ২০ আগস্ট বুধবার, কমিশন তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী ও মতামত প্রদানের জন্য সময়সীমা বাড়িয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। মঙ্গলবার বিকেলে জানা গেছে যে, এই সময় সীমা শেষ হওয়ার আগেই ২৩টি দল তাদের মতামত প্রদান করেছেন। এই দলগুলো মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), জামায়াতে ইসলামি, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ১২ দলীয় জোট, গনফোরাম, বাসদ, গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে, এতদিনে সাতটি রাজনৈতিক দল এখনও তাদের মতামত প্রদান করেনি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চূড়ান্ত খসড়ার ওপর আর কোনও মতামত দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানো হবে না।

  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকবে না, রিজভীর দাবি

    পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকবে না, রিজভীর দাবি

    বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতिक প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির প্রত্যেকটি দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, যদি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, তাহলে জনগণের হাতে প্রার্থী নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে না। বরং তাদের ভোট দিতে হবে দলের প্রতীকে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই পদ্ধতি রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী করে তুলতে পারে। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ পিআর পদ্ধতি কী, তা সম্পর্কে অবগত নয়, কারণ আগে কখনোই দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থায় এটি দেখা যায়নি। হঠাৎ কিছু কিছু রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির কথা বলছে, যা আসলে নির্বাচনের স্বাভাবিক ধারাকে বিঘ্নিত করতে চায়।

    শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাশে ময়দানে জেলা বিএনপি’র নবায়ন এবং প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, কিছু দল পিআর ও সংস্কারের কথাই বলছে মানে তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচনে বিলম্ব সৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষিত, শ্রমজীবী ও ভদ্র সমাজের মানুষ বিএনপির সদস্য হবে। তবে কেউ চাঁদাবাজ বা দখলবাজ হলে তার স্থান নয় দলের মধ্যে। যারা গণতন্ত্রের গলা টিপে রেখেছে, তারা বিএনপি’র সদস্য হতে পারবেন না। দলের যোগ্য সদস্যরা হবে সমাজের গুণীজন।

    রিজভী জানান, এই দেশটি ৩০ লাখ মা-বোনের ত্যাগে স্বাধীন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, তা শেখ হাসিনা চালিয়েছিল বাংলাদেশের উপর। বাংলাদেশের মানুষ তাকে পরাজিত করেছে এবং দেশের পুনর্গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’র অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মোস্তাক মিয়া, জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, জেলা শাখার নবায়ন কার্যক্রমের টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    অনুষ্ঠানের শেষে অতিথি নবায়ন ও সদস্য সংগ্রহের কার্যক্রমের জন্য ফর্ম বিতরণ করেন। পাশাপাশি, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে মিছিল সহকারে উপস্থিত হয়।

  • ফজলুর রহমানের অবমাননাকর বক্তব্যের শোকজ বিএনপির

    ফজলুর রহমানের অবমাননাকর বক্তব্যের শোকজ বিএনপির

    নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট অবস্থানে থাকার বদলে লাগামহীন ভাষণ ও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিএনপি তার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে, যেখানে তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিএনপির বিশ্বাস, ফজলুর রহমানের অসচেতন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেশদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গি ফুটিয়ে তুলছে। তাঁর বক্তৃতায় ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ও মহান গণঅভ্যুত্থানের প্রতি অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনাকে আঘাত করেছে বলে মনে করছে দলটি।

    গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি অবজ্ঞামূলক মন্তব্যের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়। সূত্র জানিয়েছে, এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত জুলাই-আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান বলে পরিচিত আন্দোলনে বিএনপি ও তার নেতাকর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অসংখ্য ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ছাত্র-জনতার এই সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি বিভিন্ন সময় তাদের অবজ্ঞা ও অমর্যাদা প্রকাশ করেছেন, যা দলের অঙ্গীকার ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পরিপন্থী বলে মনে করা হয়। বিএনপি তার কঠোর ভাষ্য, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি জনমতের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল ভিত্তিগুলির বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া, তিনি দাবি করেছেন যে, ৫ আগস্টের আন্দোলনে সর্বাধিক অবদান ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে এবং তারা দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেছে।

    ফজলুর রহমান বলেছেন, এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অর্থসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের প্রশাসন, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নিজের শক্তি বিস্তৃত করেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের জনভিত্তি এখন কমে গেলেও তারা এখনো ছায়া-শক্তি হিসেবে নিজেদের ভাবছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশে কিছু অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে এই সংগঠন।

    এমনকি, তিনি বলে থাকেন, উন্নত ও স্থিতিশীল দেশের জন্য সুষ্ঠু বিশ্লেষণে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত, কিন্তু অন্যদিকে জামায়াতের প্রভাব দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি এই মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছে, যা ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দলের জন্য অনুকূল নয়।

  • সম্পর্ক উন্নয়নে একাত্তরের ইস্যু সমাধান জরুরি: এনসিপি

    সম্পর্ক উন্নয়নে একাত্তরের ইস্যু সমাধান জরুরি: এনসিপি

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের গুরুতর অন্তরায় হিসেবে এখনও মূর্ত থাকা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কিছু অমীমাংসিত ইস্যু। ঢাকায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের অনুভূতি ও ধারণাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের মনোভাব আর বিশ্বাসের ভিত্তিতে, এনসিপি মনে করে, দীর্ঘ সময়ের মধ্যে যে শত্রুতার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে উন্নতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, ঐতিহাসিক এই ইস্যু সমাধান করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেন। বৈঠক শেষে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ধারণাগুলো তাদের কাছে স্পষ্টভাবে পেশ করা হয়েছে। তারা বলেছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে অতীতে যে শত্রুতার সম্পর্ক ছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটানোর জন্য এখনই উপায় খুঁজে নেওয়া উচিত।

    আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেশি বড় ভাই বা আধিপত্যপূর্ণ আচরণের পরিবর্তে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বজায় রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, প্রাচীন বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মধ্যে মতবিরোধ বা ঝগড়া কমিয়ে আনতে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

    অন্যদিকে, দলটির প্রতিনিধিরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সংঘটিত ইতিবাচক পরিবর্তন ও সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন। পানি নিয়ে যে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, সেটি সমাধানে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও, ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিনিময়, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়ন, এবং সার্ক জোটের কার্যকলাপ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    সর্বশেষে, একাত্তরের বিরোধ ও পুরনো ইস্যু সমাধানের ব্যাপারে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করে তারা বলেছে, তারা দ্রুত এই বিষয়গুলো সমাধান করতে প্রস্তুত। এনসিপি মনে করে, এসব ঐতিহাসিক বিষয়গুলো নির্বিঘ্নে সমাধান সময়ের দাবী, যাতে ভবিষ্যতে সম্পর্ক উন্নতি ও স্থিরতা বজায় রাখা যায়।

  • মির্জা ফখরুলের বক্তব্য: সব কিছু এক বছরে ঠিক হবে না

    মির্জা ফখরুলের বক্তব্য: সব কিছু এক বছরে ঠিক হবে না

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই ধারণা সত্যিই ভুল যে এক বছরেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে যে রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য কাজ করছি, সেখানে দীর্ঘদিনের অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য এবং দুর্নীতির বোঝা অনেক। একদিনে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এটাই বাস্তবতা। এক বছরের মধ্যে সবকিছু স্মুথলি স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

    মির্জা ফখরুল আরো বলেন, গত ৫৩ বছরে আমাদের দেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের উপায় বা বিধান গড়ে উঠতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন সময়ের সূচনা হয়েছে, কিন্তু হঠাৎ করে সবকিছু সম্পূর্ণভাবে সংস্কার করা সম্ভব নয়। এটি চিন্তার বিষয় নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    আজ, শনিবার (২৩ আগস্ট), জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটা সুরক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বিশেষ করে বলেন, রাজনীতি মানে বিচ্ছিন্নভাবে বা জোড়াসাঁতার দিয়ে কাজ করা নয়। এর জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, দলের নেতাকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তরিকতা। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি ক্রমশ বেড়ে চলেছে, যা দেশের সংকটের মূল কারণ। সবকিছু নির্ভর করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর, যারা ক্ষমতায় এসে কীভাবে দেশ বদলে ফেলবে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু বিভিন্ন বছর ধরে সরকার সেই ভোটের মূল্যায়ন করতে পারেনি এবং দেশকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। তিনি আবারও বলেন, সবকিছু এক বছরের মধ্যে স্বাভাবিক করার স্বপ্ন বা ধারণা বাস্তব নয়।

    তিনি যোগ করেন, আমাদের সবকিছু নির্ধারণ করে আসছে সরকারি আমলারা। তার মতে, একজন স্কুল শিক্ষকের সমস্যার সমাধান করতে তাকে ঢাকায় যেতে হয়, যার কোনো প্রয়োজন নেই। এ ধরনের সিস্টেমে দুর্নীতি আর বৈষম্য চলতেই থাকবে। সেই জন্য, একজন সাধারণ মানুষ রাতারাতি কিছু বদল করতে পারবেন না—এটাই বাস্তবতা।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা বিপ্লবের কথা ভাবতে পারছি না। বরং আমাদের উচিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা ন্যুনতম ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এভাবেই দেশের জন্য সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব।

  • বিএনপিসহ ২৩ দল জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে মতামত দিয়েছে

    বিএনপিসহ ২৩ দল জুলাই সনদ পর্যালোচনা করে মতামত দিয়েছে

    জুলাই সনদ বিষয়ক পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে ২৩টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কাছে জমা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল যখন কমিশন পূর্ববর্তী খসড়াটির কিছু ত্রুটি শনাক্ত করে ১৬ আগস্ট রাতে সংশোধিত এবং নির্ভুল খসড়া পাঠায়। এরপর, ২০ আগস্ট বুধবার, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ২২ আগস্ট বিকেল তিনটা পর্যন্ত দলগুলো তাদের মতামত দাখিলের সময় দেওয়া হবে। আজ বিকেল তিনটা পর্যন্ত মোট ২৩টি রাজনৈতিক দল তাদের মতামত প্রতিনিধিরা জমা দিয়েছেন। এগুলো হলো বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, আমজনতার দল, গণফোরাম, বাসদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), জাতীয় গণফ্রন্ট, মার্কসবাদী সমাজতান্ত্রিক দল, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। তবে, জানা গেছে যে, এখনও সাতটি দল তাদের মতামত দেয়নি। কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত খসড়ার উপর মতামত প্রদানের জন্য আর কোনও সময় বাড়ানো হবে না।

  • শেখ হাসিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হতে হবে: মির্জা ফখরুল

    শেখ হাসিনার বিচার এই দেশের মাটিতেই হতে হবে: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ প্রমাণিত হয়েছে যে শেখ হাসিনা এই বর্বর হত্যাকাণ্ড ও গুমের জন্য দায়ী। তার বিচার অবশ্যই এই দেশের মাটিতেই হবে এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতেই হবে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গঠিত ভুক্তভোগী পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

  • পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী

    পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের সুযোগ থাকবেনা: রিজভী

    বহুল আলোচিত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের হাতে প্রার্থী বাছাইয়ের কোনও সুযোগ থাকবে না। ভোট দিতে হবে নিজ নিজ দলের প্রতীককে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পিআর পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলো আরও বেশি কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। রিজভী বলেন, দেশের মানুষ এখনও এই পদ্ধতির বিষয়ে সচেতন নয়, কারণ পূর্বে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কখনো এই পদ্ধতির ব্যবহার দেখেনি দেশবাসী। হঠাৎ করেই কিছু রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির কথা বলছে। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের লোকনাথ ট্যাংকের পাড়ে জেলা বিএনপির সদস্য নবায়ণ ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী অভিযোগ করেন, কিছু দল পিআর এবং নির্বাচনে সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করতে চাইছে, যা বিএনপি বোঝে। তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষিত, শ্রমিক ও ভদ্র সমাজের মানুষই বিএনপির সদস্য হবে। তবে যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে দলের সদস্য হতে চাইবে না। যারা গণতন্ত্রকে কণ্ঠরোদের মাধ্যমে দমন করে রেখেছিল, তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবে না। আসল সদস্য হবে সমাজের গুণীজন এবং দেশপ্রেমিকরা। রিজভী উল্লেখ করেন, এ দেশটি কড়া ত্যাগের বিনিময়ে ৩০ লাখ মা-বোনের আবেগের সঙ্গে অর্জিত। তিনি বলেন, সাড়ে ৮ লাখ বছর আগে মানব সমাজে যে হিংস্রতা ছিল, শেখ হাসিনা সেই হিংস্রতা বাংলাদেশের ওপর চালিয়েছিল। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাকে পরাজিত করে নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি’s অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন দলের টিম লিডার আহসান উদ্দিন খান শিপন প্রমুখ। পরে তিনি নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির জন্য ফর্ম বিতরণ করেন। পাশাপাশি, এই কর্মসূচির কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিলসহ সমাবেশে অংশ গ্রহণ করে।

  • সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ সালের ইস্যু সমাধানের গুরুত্ব উসাইন করলেন এনসিপি

    সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ সালের ইস্যু সমাধানের গুরুত্ব উসাইন করলেন এনসিপি

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এখনও সমাধান না হওয়ায় দুদেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের কিছু বিষয়, যা এখনও পুরোপুরি মিমাংসা হয়নি। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলো।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের কার্যালয়ে এনসিপির কমিটি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেন এনসিপির সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠকের পরে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, তারা পাকিস্তান সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণের অভিজ্ঞতা ও ধারণাগুলি তাদের কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বিগত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যে শত্রুতা ও বিভাজন ছিল, তা থেকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই, একাত্তরের যুদ্ধের মতো ইস্যুগুলিকে দ্রুত সমাধান করতে হবে, এই বিষয়টিতে সব পক্ষের ঐকমত্য থাকতে হবে।

    আলোচনায় উঠে আসে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সহ বিভিন্ন খাতে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা। এ জন্য বড় ভাই বা আধিপত্যবাদের মনোভাব একান্তই এড়িয়ে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক যেন ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

    পক্ষে ইসহাক দার নিজেকে উপস্থাপন করেন, দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে যদি পুনরায় যুদ্ধ দাঁড়ায়, তবে নদীসহ পানি বিষয়ক নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে। পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিখেছে কিভাবে সম্পর্ক উন্নয়ন করা যায়। সম্প্রতি তারা ওষুধ শিল্পে কিছু সহযোগিতা চালু করেছে, যার মাধ্যমে দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গড়ে তোলা সম্ভব। এরপর সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়, এভাবে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্ভব বলে বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়।

    সার্ক বা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা নিয়ে আলোচনা হয় এবং ভারতের কারণে এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির অবস্থানেও আলোচনা হয়, যাতে করে এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

    সবশেষে, ইসহাক দারকে বলে দেওয়া হয় যে, একাত্তরের সমস্যাগুলো তৎক্ষণিক সমাধান জরুরি। তারা জানান, পাকিস্তান এই বিষয়ে প্রস্তুত এবং দ্রুত সমাধানে সুবিধা হবে। এই আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সদয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।