বিএনপি যদি আবারো ক্ষমতায় আসে, তারা দেশের অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা করছে বলে দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত ইমাম-খতিব জাতীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের সব ইমাম-খতিব ও মুয়াজ্জিনরা সমাজের মূল সংস্কারক। তারা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধির জন্য কাজ করে চলেছেন। এ কারণেই এই পেশার মানুষরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই মহান কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাদের আর্থিক সঙ্গতিসহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মনে করে বিএনপি। তিনি জানান, মাসে নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ অর্থ একে জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনী বছরে (ফেব্রুয়ারি) এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী করার জন্য ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’ কে শক্তিশালী করে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি বলেন। তারেক রহমান উপস্থিত আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ধর্মীয় জ্ঞান সাধারণ মানুষ থেকে অনেক বেশি। একজন মুসলমান ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক বিশ্বাসগুলো– তা হলো তওহিদ, রিসালাত ও আখিরাত—অবশ্যই বিশ্বাস থাকতে হবে। এছাড়া, কালেমা, নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত—এগুলি ইসলামের মূল স্তম্ভ। এই মূলনীতিগুলোর মধ্যে কোনো আপোস থাকে না। ইসলামি ঐক্য সবার মধ্যে দৃঢ়, তবে ধর্মীয় বিষয়ের রাজনৈতিক ব্যবহার কিংবা ভিন্নমত মাঝে মাঝে মতবিরোধ তৈরি করে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ইসলামের সকল বিধান অনুসরণে কোনো বাধা নেই। তবে ধর্মীয় ইস্যুতে বিভ্রান্তি বা ভিন্নমত সৃষ্টি করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি না করতে নেতা-ওলামাদের সর্তক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিএনপি এক শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্বাসী, যেখানে সব মানুষ নিরাপদে নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারবে। বিএনপি কখনোই ইসলামের মূল নীতিগুলোর সঙ্গে আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না বলে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন তিনি। তারেক রহমান স্মরণ করিয়ে দেন, স্বৈরাচারী শাসকরা স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেনি। তবে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে কেন সেটি আর থাকছে না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিএনপি সব সময়ই ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার। ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও অন্য ইস্যুতে দলটি একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেয়। মূলত, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উন্নতির জন্য ২০০৬ সালে তাদের ড предмет দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান স্বীকৃতি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল মনে করেন তিনি। বর্তমানে দেশে মোট ৫০ হাজারের বেশি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ ছাত্র পড়াশোনা করছে। দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাদানে এসব কার্যক্রমের বাইরে থাকা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় বিএনপি পরবর্তী পরিকল্পনায় এগিয়ে এসেছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে ইমাম-খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সার্ভিস রুল প্রণয়নের বিষয়টি অন্যতম। তিনি বলেন, অনেক মসজিদে নিয়োগের বিষয়টি মসজিদ কমিটির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে, যা অযৌক্তিক। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সার্ভিস রুল কার্যকর করবে। অন্যান্য দাবিগুলোরও দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি সরকারের সময় প্রথম মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলা ও উন্নয়নের নানা উদ্যোগে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি শেষালে বলেন, ইমান, ইসলাম আর দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় দরকার ঐক্য। আগামী জোটের জন্য তিনি বলেন, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যের ধারাবাহিকতা অবলম্বন করে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য রাখবে বিএনপি। সবশেষে তিনি দেশের সম্মানিত ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।
Category: রাজনীতি
-

নির্বাচনী সময়ে নিরপেক্ষ প্রশাসনের জন্য হুমকি এবং মাফিয়াতন্ত্রের আশঙ্কা
চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ভাইরাল বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। দলটি মনে করে, এই বক্তব্য সুশাসন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি এবং মাফিয়াতন্ত্র কায়েমের ইঙ্গিত বহন করে। রোববার দলটির চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম-সমন্বয়কারী (দপ্তর) আরিফ মঈনুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা জানায়, বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, তারা জানতে পেরেছে যে, গত ২২ নভেম্বর শনিবারচট্টগ্রামের প্রবীণ জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী পুলিশ-প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াতের নেতাদের উঠবস করানোর, মিথ্যা মামলা দেওয়ার এবং গ্রেফতার proceedings চালানো। এছাড়া তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জামায়াতের মার্কার প্রচার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্থানীয় জামায়াত প্রার্থীর জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ প্রদান করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেন, শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যে পুলিশ-প্রশাসনকে ক্ষমতাসীন দলের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতায় যাওয়ার কর্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস রয়েছে। এই ধরনের অজস্র ঘৃণ্য প্রচেষ্টার নিন্দা ও কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়। দলটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে, রাজনীতির সুবিধা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে মাফিয়াতন্ত্র কায়েমের অপচেষ্টা আর চলবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের জনগণের আশা ছিল নতুন ও সুবিচার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার। সেই লক্ষ্যে তারা সকল সময় জনগণের নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তারা সবসময় সচেষ্ট। জাতীয় নাগরিক পার্টি-চট্টগ্রাম মহানগর সবসময়ই মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা বিশ্বাস করে, পুলিশ ও প্রশাসন দেশের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে, কোনও দলবিশেষের গোলাম হয়ে থাকবে না। প্রশাসনকে দলীয়ীকরণ করার অপচেষ্টা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বড় একটি বাধা। তারা এই ধরনের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানায়। তারা আশা করে, বর্তমান সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রশাসন নিরপেক্ষ ও দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়।
-

শাহাজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ ও গ্রেফতার দাবি বিএনপি’র
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরীর সেই বিতর্কিত বক্তৃতা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্য, ‘প্রশাসন আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে’, এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এ বক্তব্যের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে, তার দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি তুলে সমর্থন ব্যক্ত করেছে। রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে দলের আহ্বায়ক মোঃ এরশাদ উল্লাহ ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান এ কথা বলেন। বিএনপি নেতারা বলেন, শাহাজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি একটি নতুন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় লিপ্ত। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, দলের নয়। তারা বলেছেন, এ মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন, ষড়যন্ত্রমূলক, ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের প্রকাশ। তার এ বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল ও উত্তেজিত করে তুলতে চেয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক মানসিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রশাসনের প্রতি হুমকি, নির্বাচনী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের আশা প্রকাশ এবং ভোটাধিকার খর্বের জন্য এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসের যে কোনও প্রচেষ্টার অংশ। নেতারা বলেন, এমন নোংরা ও উসকানিমূলক ভাষা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়, সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতারা আরও বলে, তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সব সময় সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। উল্লেখ্য, শনিবার রাতের এক নির্বাচনী সম্মেলনে, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান, সেখানে বক্তব্য দেয়ার সময় শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে প্রশাসন নিয়ে আসতে হবে আমাদের আওতায়। আমাদের কথায় উঠবে, বসবে, মামলার আওতায় আসবে, গ্রেফতার হবে।’ তবে এই বক্তব্যের সময় জামায়াতের আমির উপস্থিত ছিলেন না। আরও জানানো হয়, তিনি বিভিন্ন প্রান্তের প্রার্থী ও নেতাদের জন্য নির্দেশনা দিয়ে অপপ্রচেষ্টা চালানোর চেষ্টা করেছেন। এ বিষয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, দলের নয়।’ তিনি আরও জানান, প্রশাসন অবশ্যই স্বাধীনভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে কোনও দলীয় হস্তক্ষেপ না ঘটে এবং সুশাসন ব্যাহত না হয়।
-

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেবে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে গণমাধ্যমের সংস্কারকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখবেন। আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) চীনা মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-বিজেসি আয়োজিত ‘মीडिया সংস্কার প্রতিবেদন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল জানান, তাদের প্রতিশ্রুতি খুবই পরিষ্কার, তারা ৩১ দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম গড়তে চায়। এজন্যই তারা প্রথমে একটি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, এই কমিশন ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং এর প্রতিবেদনও প্রস্তুত। তবে দুঃখের বিষয়, এই রিপোর্টের ওপর আলোচনা এখনো হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি জনগণের ভোটে তারা সরকার গঠন করতে পারেন, তাহলে গণমাধ্যমের স্বাধিকার ও সংস্কার বিষয়টি তারা সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেবেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই তারা গণমাধ্যমের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সময়োপযোগী কাজের জন্য তার তারকার সদুপযোগী উদ্যোগের জন্য বিএনপির প্রশংসা করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা বিভিন্ন ইউনিয়ন, যেমন বিএফইউজে, ডিআরইউসহ, দুই দলের বিভ্রান্তির কারণে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আপনাদের নিজেদের মধ্যে দলীয় অভিমত সৃষ্টি হলে সমস্যা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি অতীত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, এই সময়ে গণমাধ্যম ফ্যাসিবাদী শাসনকে লালন করেছে। তাই এখন সাংবাদিকদের উচিত, স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কঠোরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া।
-

জামায়াতের নির্বাচন প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিষেধাজ্ঞা জারি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে, জামায়াতের প্রার্থীরা আর কোনও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রিপোর্ট আসে যে, জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা আশঙ্কাজনক। এর প্রেক্ষিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত গতিতে সিদ্ধান্ত নেন যে, নির্বাচনী মাঠে নিরাপত্তা ও জনসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য তারা জোর দিয়ে জানান, এখন থেকে দেশের সকল জেলা এবং মহানগরে অব্যাহতভাবে চলমান নির্বাচনী প্রচারণায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হলো। আজ, সোমবার (২৪ নভেম্বর), দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমে জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে মোটরসাইকেল চালানোর সময় অনেক দুর্ঘটনা ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। তাই, দেশের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
-

জন্মদিনে নারী নিরাপত্তায় ৫ প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ। এই বিশেষ দিনে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়স্পর্শী পোস্টে জানান জাতির উন্নয়নে নারীর নিরাপত্তা ও ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা তার মূল লক্ষ্য। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নিজের জন্মদিনে তিনি স্ত্রী জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি গভীর ভাবনা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান লিখেছেন, প্রযুক্তির আগ্রসরতায় আমাদের জীবনের প্রতিটি দিক একাধিকভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। দিন চালানোর জন্যের দৈনন্দিন রুটিন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির প্রভাব দৃশ্যমান। তিনি স্বীকার করেন যে, নিজের যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই পরিবর্তনগুলো আমাদের জন্য একদিকে সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে হুমকির ক্ষেত্রও বেড়ে গেছে।
সময়ের বিবর্তনে তাঁর থেকে মনে হয়—আমাদের প্রজন্ম একদিকে এগিয়ে গেলেও, আমাদের কন্যাদের জন্য বিশ্ব আরও বেশি ভিন্ন, এবং এসব পরিবর্তনের মাঝে থাকতে গিয়ে কিছুটা উদ্বেগও কাজ করে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ উন্নয়নধারায় থাকলে, নারীদের সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়নে উদ্যোগ নেয়া জরুরি। নারীরা সৌন্দর্য, সাহস ও সক্ষমতার প্রতীক; তারা যেন নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে, তার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে সচেতনতা ও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান ব্যক্ত করেন যে, প্রতিদিনই অসংখ্য নারী হেনস্থা, হুমকি, বিদ্বেষ ও সহিংসতার শিকার হন—তাদের জন্য কথার স্বাধীনতা, শিক্ষা, পেশাদার জীবন ও নিজের জীবনের অধিকার রক্ষা করাটা বাধ্যতামূলক।
তিনি প্রকাশ করেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি পাঁচটি মূল অগ্রাধিকার প্রকল্প গ্রহণ করছে, যাতে রয়েছে:
1. ন্যাশনাল অনলাইন সেফটি সিস্টেম— যেখানে নারীরা দ্রুত ও সহজভাবে সাইবার হয়রানি, হুমকি ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ জানাতে পারবে, ২৪/৭ হটলাইন, অনলাইন পোর্টাল ও প্রশিক্ষিত রেসপন্ডার সংবলিত মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।
2. পাবলিক লাইফে নারীর সুরক্ষা প্রোটোকল— বিভিন্ন পেশাজীবী নারীর জন্য আইনি সহায়তা, দ্রুত রিপোর্টিং ও গোপনীয়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
3. ডিজিটাল সেফটি শিক্ষা— স্কুলে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ, যেখানে শিক্ষকদের মাধ্যমে বাস্তবমুখী নিরাপত্তা বিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
4. সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে কমিউনিটি পর্যায়ক্রমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা— যেমন কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং ট্রমা-সেনসিটিভ রেসপন্ডার নিয়োগ।
5. নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় উদ্যোগ— লিডারশিপ ট্রেনিং, মেন্টরিং নেটওয়ার্ক, ও কাজের স্থানেই চাইল্ড ডে কেয়ার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করে নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে।
তারেক রহমান বলছেন, নারী উন্নয়ন মানে জাতির উন্নয়ন। তিনি আরও যোগ করেন যে, নারীরা যত বেশি নিরাপদ, সমর্থিত ও ক্ষমতায়িত, বাংলাদেশ ততই অপ্রতিরোধ্য হবে। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, কন্যাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশ গড়তে এক সঙ্গে কাজ করতে।
-

জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ আরও আটটি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, বিভিন্ন দলের আলাদ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে চাইছে এই জোট। এতে করে ভোটারদের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপি সমর্থিত দলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট আসন রাখার গুঞ্জন থাকায়, অবশেষে জামায়াতে ইসলামীও একই পথ নিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনী পদ্ধতি (প্রPOR), আগামী নভেম্বরের জন্য গণভোটের পরিকল্পনা এবং জুলাইয়ে সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয়সমূহের নানা দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও তার সমমনাদলসমূহ সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর ফলে, এই সম্ভাবনাও বেড়ে গেছে যে, আসন সমঝোতা বিষয়টি এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই জামায়াত ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচনি মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তাদের প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন, এবং প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে উপস্থিত হচ্ছেন। যেখানে অন্য প্রার্থী বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কোনও নজরে আসেনি। এর ফলে, তারা নির্বাচন পর্যায়ে বেশ শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
আট দলের শরিক দলের জন্য জামায়াত কিছু আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে জানা গেছে, তবে এখনো কংকাল কোনও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জামায়াতের আরও একটি সূত্র জানাচ্ছে, তারা সংসদে আট দলের নেতাদের দেখতে চায় এবং প্রয়োজনে ১০০টি আসন পর্যন্ত ছাড় দিতে প্রস্তুত। তবে বর্তমানে এই আট দল একমত যে, প্রতিটি আসনে যেই মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হবে, সেইকেই নির্বাচনে পাঠানো হবে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এড. এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, এই আট দল এখন নিজেদের জয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ইসলামের বিজয়কেই তারা লক্ষ্য করছে। তিনি জানান, এখনো কেউই আসন ভাগাভাগির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, প্রতিটি আসনে এভাবে প্রার্থী দিয়ে বিজয় অর্জন। এছাড়া, বিভিন্ন পেশার মানুষদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রমতে, বর্তমানে জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি, অন্তত চারজন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, কয়েকজন সাবেক ছাত্র সংসদের ভিপি ও জিএস এবং অন্যান্য জনপরিচিত নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যারা চলতি সময়ে সম্মুখসারির রাজনীতির নেতৃস্থানীয় ছিলেন।
আরও জানা যায়, সম্প্রতি জামায়াত দেশের বেশ কিছু সুপরিচিত ধর্মীয় বক্তা ও স্কলারদের মনোনয়ন দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন, ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি, যাকে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে, যদিও জামায়াতের একজন সূত্র এই তথ্য সরাসরি অস্বীকার করেনি। বরং তারা জানিয়েছে, দেশের খ্যাতনামা আলেমদের সংসদে আনতে তারা বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার একটি আসনে জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা আমির হামজা মনোনয়ন পেয়েছেন। পাশাপাশি, এমন কিছু আলেম রয়েছেন যারা সরাসরি জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত না হলেও, তাদের মনোনয়ন দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে দলটি।
-

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল: দীর্ঘদিনের কলঙ্কের অবসান
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ে জাতির দীর্ঘদিনের কলঙ্ক অনেকাংশে মোচন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এটি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এখনও অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য ও কার্যকারী। তবে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে একতরফা রায় দেওয়া হয়েছিল, যা অবৈধ ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্তের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এমন বিবৃতি দিয়ে তার পক্ষের দাবি, এখন আবার এই ব্যবস্থাকে পুনর্বহাল করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও কলঙ্কের অবসান ঘটছে।
আখতার আরও বলেন, আগামী নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ করার জন্য বেশ কিছু অস্পষ্টতা দূর করতে হবে। সংশোধনী ও বিধিনিষেধ পরিষ্কার করলে সবাই নিশ্চিতভাবে এটি মানবেন। তিনি জানান, এনসিপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে যদি এই অস্পষ্টতা তুলে ধরা হয় এবং তার নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম-আহবায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ডা: তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পথে ফিরছে বলে মনে করছেন কলেকটিভাম এ নেতারা।
-

হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানের; রায়ও কার্যকর হবে বলে মন্তব্য সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং তার রায়ও বাস্তবায়িত হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যারা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেখাচ্ছেন, তাদেরই এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আজ শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো কেবল একটি রাজনৈতিক দল ছিল না, বরং এটি একটি মাফিয়া সংগঠন। এই সংগঠনের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলীন করে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক ধারায় অন্য দলের কার্যক্রমকে বাধা দেওয়া উচিত নয়। আমাদের এমন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ১৯৭১ সালের শহীদদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়। সরকারকে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শেখ হাসিনার রায় কার্যকর করতে হবে, যা অবশ্যই হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে, তাদেরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। ৮ দলের একটি দল আমি-ডামির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তাদের সঙ্গে অন্যান্য দলের ঐক্য গঠন নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। পাশাপাশি জামায়াতকে বিভ্রান্তিমূলক পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং তাদের জনগণের দাওয়াকে সমর্থন দেওয়ারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ছাত্র গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র ৩৬ দিনে হয়নি। যারা ২৪ বছরের চেতনায় এককভাবে রাজনৈতিক পেশা চালাতে চাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই আওয়ামী লীগের শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে আর করদ রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা গুপ্ত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
-

মির্জা ফখরুলের মন্তব্য: পিআর বা গণভোট মানুষের বোঝার বাইরে
বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ‘পিআর’ বা ‘গণভোট’ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অবগত নয়। শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে ‘মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাব বললেন। তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখনো গণভোটের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বোঝে না এবং শেষ পর্যন্ত বুঝবে কি-না, সন্দেহ আছে। বিগত সরকারগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশে একটি ভয়ংকর ও দানবীয় সরকার শাসন পরিচালনা করেছে। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোক বসানোর জন্য দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে, শহীদ জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি সব সময় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তিনি সমাজে নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, এত ধর্মপ্রিয় দেশের মধ্যে কেন এত অন্যায়, কেন এত পাপ, এবং মানুষ কেন চুরি-দুর্নীতি করে সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেয়। তিনি বলেন, একটি মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকা স্বত্ত্বেও একটি ভালো মানুষ তৈরি করার ক্ষেত্রে সেই আগ্রহ কোথায় চলে যায়। আলোচনা সভাসংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।
