Category: বিশ্ব

  • ইরান প্রত্যাখ্যান করলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, কাতারের মধ্যস্থতায় অনীহা

    ইরান প্রত্যাখ্যান করলো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, কাতারের মধ্যস্থতায় অনীহা

    মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝেমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তেহরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল শুক্রবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফারস সরকারীয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার একটি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবটি তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন যে ইরান নিজেই যুদ্ধবিরতির জন্য আবেদন করছে; তবে তেহরান সেই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের বক্তব্যে বলা হয়েছে তারা কোনো নতি স্বীকার করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটিই প্রাণপণ প্রমাণ যে যুদ্ধক্ষেত্রে তারা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই না।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি মধ্যস্থতা বৈঠক শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আমেরিকার ‘অগ্রহণযোগ্য’ শর্তাবলি বজায় থাকলে তারা কোনও মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসবে না। ইরানের মূল দাবি-সমূহের মধ্যে রয়েছে: মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাহিনী প্রত্যাহার, এবং এক মাসের যুদ্ধে ধ্বংস হওয়া স্কুল, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।

    তুরস্ক, মিসর ও কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে, তবে এখন পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষত কাতার এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয়ভাবে এগোতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আমেরিকা ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও কাতার এখনও কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

    সিএনএন আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানায়, এক মাস ধরে চলা সংঘাতে যদিও মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করেছে ইরানের যুদ্ধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গোয়েন্দা মূল্যায়নে দেখা গেছে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও কামিকাজি ড্রোন আগের মতোই সক্রিয় ও ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যেতে প্রস্তুত থাকার ছক দেখাচ্ছে। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং কড়া অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ইরান বর্তমানে আলোচনার চেয়ে মাঠের লড়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার হুমকির পরও ইরানের অনড় অবস্থান ওয়াশিংটনের জন্য বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

  • নিখোঁজ পাইলট খুঁজতে গেলে মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ভূপাতিত: মেহের নিউজ

    নিখোঁজ পাইলট খুঁজতে গেলে মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ভূপাতিত: মেহের নিউজ

    ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন এক কর্মকর্তা, এমন সংবাদই বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে। সেই বিমানের পাইলট ও ক্রু খোঁজার জন্য পাঠানো একটি মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও ওই এলাকায় গেলে সেটি ভূপাতিত করা হয়েছে—এমন দাবি করেছে ইরানের মেহের নিউজ এজেন্সি।

    মেহেরের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং সেই আঘাতে হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হয়। নিউজ এজেন্সিটি আঘাতের সূত্র ও সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

    হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর বর্তমান অবস্থা বা ভিতরে থাকা আরোহীদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না সেটিও অনিষ্পষ্ট। পেন্টাগন বা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    এর আগে তাসনিম নিউজ জানিয়েছিল যে নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের জন্য মার্কিন বাহিনী ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং হারকিউলিস-১৩০ অভিযানিক বিমান ব্যবহার করে কয়েক ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েছে। একই সংবাদমাধ্যমে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, মার্কিন উদ্ধারচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। মেহেরের হেলিকপ্টার হামলার খবর সেই দাবিটিকে আরও জোরালো করেছে।

    এখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে পক্ষে-পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রাথমিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার স্বরূপ ও ফলাফল বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল ও প্রতিবেশী সংস্থাগুলো থেকে পরবর্তী কোন প্রতিক্রিয়া বা সংবাদ এলে সেটি ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যাখ্যা বা আপডেট দেওয়া হবে।

  • ইরান বলছে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফ-৩৫ ভূপাতিত

    ইরান বলছে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফ-৩৫ ভূপাতিত

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, নতুন ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশটির আকাশসীমায় একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, পুরো বিমাটি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এটি ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হওয়া দ্বিতীয় এফ-৩৫।

    আইআরজিসি জানায়, বিমানটি সম্পূর্ণভাবে ভূপাতিত হওয়ায় পাইলট সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি এবং পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাব্যতা খুবই কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ দাবি সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এর আগে ১১ মার্চ আইআরজিসি মধ্য ইরানের আকাশসীমায় প্রথমবারের মতো একটি এফ-৩৫ বিমান আঘাত করার দাবি করেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের কয়েকটি দাবি নাকচ করে দিয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকারও করেছে যে তাদের একটি এফ-৩৫ মিশন শেষে জরুরি অবতরণ করেছিল এবং পাইলট তখন স্থিতিশীল অবস্থায় ছিলেন। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপের ওপর তাদের কোনো বিমান ভূপাতিত হয়নি।

    এফ-৩৫ বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন নির্মিত এবং এটি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র সংঘাতে এফ-৩৫ ধ্বংসের স্বাধীন ও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার পর ইরানের সামরিক বাহিনী পাইলট খোঁজার কাজ শুরু করেছে এবং গ্রেফতারে সহযোগিতা করলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় টেলিভিশনে বিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। পুলিশের বরাতে জানানো হয়েছে, বিমানটি সম্ভবত কোহগিলুয়েহ ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশে বিধ্বস্ত হতে পারে। ভিডিওতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাইলট খুঁজে পেতে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয় এবং কাউকে আটক করতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

    সোচ্চারভাবে এই ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই এখনো মেলেনি এবং পরিস্থিতি বর্তমানে পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক দফতর থেকে কোনো সমন্বিত প্রশংসাপত্র বা স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া না গেলে এই দাবিগুলো বিষয়ে সন্দেহই থাকবে।

  • হরমুজ সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানে ডিজেল লিটারে ৫২০ রুপি, পেট্রোল ৪৫৮ রুপি

    হরমুজ সংকটের মধ্যেই পাকিস্তানে ডিজেল লিটারে ৫২০ রুপি, পেট্রোল ৪৫৮ রুপি

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবেই পাকিস্তানে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। দেশটিতে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে—ডিজেলের দাম লাফিয়ে প্রায় ৫৫% বেড়ে লিটারপ্রতি ৫২০ রুপি এবং পেট্রোল ৪২% বাড়িয়ে লিটারপ্রতি ৪৫৮ রুপিতে পৌঁছেছে।

    এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিত্য যাপন ও পরিবহন খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পরিবহন সেক্টর ও নিত্যপণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বোঝা বেড়েছে।

    স্থানীয়রা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। এক নাগরিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘৪৬০ রুপি লিটার পটলে মানুষ কীভাবে সংসার চালাবে? প্রথমে প্রতি লিটারের দাম ৫৫ রুপি বাড়ানো হয়েছিল, এরপর আরও ১৩৭ রুপি—দরিদ্রদের ওপর এটি অন্যায়।’ এ ধরনের আর্তনাদের সঙ্গে প্রশাসনের ইতিবাচক উদ্যোগও এখন অনেকাংশে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহনের নিকোণে—এই পরিস্থিতির মূল কারণগুলোর একটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতির তীব্রতার কারণে ওই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে পারস্য উপসাগরে প্রতি মাসে পর্যাপ্ত জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়ে রয়েছে, যার মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।

    এই বাধার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি বিপন্ন এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে—ফলশ্রুতিতে পাকিস্তানে তেলের তীব্র চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মূল্যচাপ আরও তীব্র হবে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।

    এই পরিস্থিতির মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানের দুটি জাহাজ নিরাপদে পার হয়েছে। তিনি বলেছেন, আরও ২০টি পাকিস্তান পতাকার জাহাজ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং উপপ্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রচেষ্টার কারণে এই সফলতার সুযোগ হয়েছে।

    তবে বিশ্লেষকরা ও সাধারণ মানুষ উভয় পক্ষই বলছেন, অল্প কিছু জাহাজের সফল পারাপারের খবর দ্রুত বাড়তি মূল্যচাপ ও সরবরাহঝুঁকি নিরসন করবে না। সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং তুলনামূলকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বা রিলিফ নীতির ব্যবস্থা করা।

  • জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পরে ইসলামাবাদে ৩০ দিন সব গণপরিবহন ফ্রি ঘোষণা

    জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পরে ইসলামাবাদে ৩০ দিন সব গণপরিবহন ফ্রি ঘোষণা

    আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে ধারাবাহিক উত্থান ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাব পরেই পাকিস্তানে রাতারাতি জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ইসলামাবাদে আগামী ৩০ দিনের জন্য সব গণপরিবহন বিনা ভাড়ায় চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকবি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নির্দেশে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি শনিবার থেকে কার্যকর হবে এবং এর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় করবে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দেশে জ্বালানির নতুন মূল্য ঘোষণা করেন জ্বালানিমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। ঘোষণা অনুযায়ী পেট্রোলের দাম প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে প্রতিলিটার ৪৫৮.৪০ রুপি (প্রায় ১.৬৪ ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেলের দাম প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়ে প্রতিলিটার ৫২০.৩৫ রুপি (প্রায় ১.৮৬ ডলার) করা হয়েছে।

    জ্বালানিমন্ত্রী বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকার চেষ্টা করেছে দাম আগের স্তরেই রাখার, কিন্তু যুদ্ধের কোনো সুচনা না থাকায় মূল্যবৃদ্ধি সব পথ বিবেচনা করে অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

    সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ভাড়া-মুক্ত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের জরুরি ও দৈনন্দিন চলাচলের বোঝা কিছুটা কমানো। তবে উপার্জন ও খরচের নতুন বাস্তবতায় আগামির দিনে সরকারি সহায়তা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    সূত্র: আল জাজিরা, রেডিও পাকিস্তান

  • হাদি হত্যাকাণ্ডে তিন আসামিকে ফের ১৪ দিনের রিমান্ড

    হাদি হত্যাকাণ্ডে তিন আসামিকে ফের ১৪ দিনের রিমান্ড

    ওসমান হাতি হত্যার মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ, তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন এবং অভিযুক্তদের দেশ ছেড়ে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমাকে কলকাতার আদালত ফের ১৪ দিনের জেল রিমান্ডে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই রিমান্ড শেষে তাদের কলকাতার বিধাননগর মহকুমা আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়।

    কলকাতার বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত চলমান মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক নথি আদালতে জমা দেয়। তবে মূল দুই অভিযুক্ত—ফয়সাল এবং আলমগীর—দিল্লিতে পৃথক ইউএপিএ মামলায় এনআইএর হেফাজতে থাকায় তাদের সরাসরি আদালতে হাজির করা যায়নি। ফিলিপ সাংমাকে দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে এবং ফয়সাল ও আলমগীরকে দিল্লিতে এনআইএর হেফাজত থেকে ভার্চুয়ালি আদালতে তোলা হয়।

    বিচারকের নির্দেশে পরবর্তী শুনানির তারিখ হিসেবে ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ তারা বিধাননগর আদালতে তোলা হয় এবং আদালতের অনুমতিতে ২৩ মার্চ এনআইএ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে নিয়ে যায়; এরপর থেকেই তারা দিল্লিতেই রয়েছেন।

  • হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে — ইউএনসিটিএডি

    হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ: বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে — ইউএনসিটিএডি

    কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত অবরুদ্ধ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (ইউএনসিটিএডি)। বুধবার সংস্থাটির প্রকাশিত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে যে, বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যে এক প্রধান সঞ্চালন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবিরের সীমায় চলে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, কিন্তু মার্চে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬টিতে। অর্থাৎ এক মাসের মধ্যে জাহাজ চলাচলে প্রায় ৯৫ শতাংশ হ্রাস দেখা গেছে।

    ইউএনসিটিএডি বলেছে, এই ‘প্রতিবন্ধকতা’ মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের আঘাত সৃষ্টি করেছে। সরবরাহে বিঘ্ন পড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভোক্তা চাহিদায়। এর পাশাপাশি সমুদ্রপথে বন্যায়নের কারণে বিমান কার্গো, বন্দর লজিস্টিক্স ও অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থাও প্রতিকূলভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

    সংস্থাটির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, যদি এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা আরও অবনতি ঘটে এবং জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে জ্বালানির দাম দীর্ঘসময় ধরে বাড়তে পারে। এর ফলেও বিশ্বজুড়ে স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির চাপ জেগে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসার জন্য দামী জীবনের সূচনা করতে পারে।

    প্রতিবেদনে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের মতো অঞ্চলগুলো—যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল—তারা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকির সম্মুখীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কৌশলগত পদক্ষেপ না নিলে আন্তর্জাতিক বাজার ও অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল হতে পারে।

    সূত্র: সিএমজি।

  • ইরানের অবরোধে উপসাগরে আটকা পড়েছে ২,১৯০ জাহাজ

    ইরানের অবরোধে উপসাগরে আটকা পড়েছে ২,১৯০ জাহাজ

    হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে আরব উপসাগরে অন্তত ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। বুধবারের এই পরিস্থিতিতে আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাস ট্যাংকার রয়েছে।

    নৌ পরিবহন বিশ্লেষকরা বলছেন, আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি অত্যন্ত বড় গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজও আছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করতে পেরেছে — সাধারণত এই পথে একদিনে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে।

    যেগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের একটি নির্ধারিত করিডোর দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪৮টি জাহাজ ওই করিডোর ব্যবহার করেছে; ওইগুলোর বেশিরভাগ ইরান বা তেহরানের মিত্র দেশগুলোর সম্পদ বলে জানানো হয়েছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরে ইরান এই নৌ পথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু করেছে — পার্থক্য এই পথের মাধ্যমে বিশ্বের আনুমানিক ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। যেসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে তাদের থেকে ইরান ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত শুল্ক আদায় করছে — এটাই আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ‘তেহরান টোল বুথ’ হিসেবে পরিচিত। যদিও তেহরান মালয়েশিয়া ও কিছু মিত্র দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই মাশুল মওকুফ করার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    মালয়েশিয়া জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপারা এনার্জি এবং এমআইএসসি-র মালিকানাধীন কয়েকটি ট্যাংকার চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়ালালামপুরকে তেহরান আশ্বস্ত করেছে যে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা স্বত্ত্বেও তাদের জাহাজে টোল আরোপ করা হবে না, তবে বৈধতার অপেক্ষায় নোঙর করে থাকা জাহাজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিলম্ব ঘটতে পারে।

    চীন জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটায় দেখা গেছে, দুইটি কন্টেইনার জাহাজ উপসাগর ছেড়েছে—বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি প্রথমবার কোনো ইরানি নয় এমন কন্টেইনার জাহাজের প্রস্থান।

    আরও কিছু জাহাজ বের হতে পেরেছে; এর মধ্যে রয়েছে ভারতের হয়ে চলাচলকারী একটি গ্রিক পরিচালিত অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার এবং জরুরি সরবরাহ বহনকারী কয়েকটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাংকার। তবে মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অনেক নাবিক রাতে জাহাজ চালানো বা ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

    ইরানের এই বিরোধের কারণে সৌদি আরব ও কাতারসহ প্রধান জ্বালানি উৎপাদকদের রফতানি কার্যত স্থবির রয়েছে; শত শত জাহাজ ও আনুমানিক ২০,০০০ নাবিক উপসাগরে বা তার আশেপাশে আটকে আছেন। পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করে করাচিতে পৌঁছেছে এবং আরেকটি বিকল্প পথে বন্দরে এসেছে; দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও চালান আসার আশা রয়েছে।

    এই সংকট আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। ব্রিটেন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে চীন ও পাকিস্তান অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং না মানলে কড়া সামরিক পদক্ষেপের সতর্কতা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন কৌশলগত এই জলপথে বাণিজ্য সচল রাখতে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক সমাধান খুঁজছে।

  • তেহরানের শতবর্ষী পাস্তুর ইনস্টিটিউট-এ হামলা, ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

    তেহরানের শতবর্ষী পাস্তুর ইনস্টিটিউট-এ হামলা, ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের রাজধানী তেহরানে স্থাপিত শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’—এ হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। এখনো নিশ্চিত কোনও পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি; যুক্তরাষ্ট্র না ইসরায়েল—কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

    ইরান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা কেন্দ্রটি শত্রুদের আক্রমণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোস্টে তিনি কেন্দ্রটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে ভবনটির অনেক অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং ভিতরের অবকাঠামোও বহুলাংশে নষ্ট দেখা গেছে।

    কেরমানপুর ইনস্টিটিউটটিকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেছেন, পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানের ওপর এই আগ্রাসন জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অভূতপূর্ব লঙ্ঘন।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের দিক থেকে অভিযুক্ত পক্ষ সম্পর্কে স্পষ্ট দাবি না জানানো হলেও, ঘটনার ছবি ও ক্ষতির পরিমাণ দেখিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে যে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ও গবেষণার অবকাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত এসেছে।

    একই সময়ে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতের এক মাসে ইরানে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ৯০,০৬৩টি আবাসিক ভবন, ২১,০৫৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭৬০টি শিক্ষাকেন্দ্র।

    ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভসহ দেশটির বহু ঐতিহ্যবাহী স্থানও হামলার শিকার হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ইসফাহানের সাতদশ শতকের চেহেল সোতুন প্রাসাদ এবং ইরানের প্রাচীনতম জুমা মসজিদ ‘মাসজিদ-ই জামে’।

    সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি বলেন, এই ধরনের হামলা কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইরানি পরিচয় ও ঐতিহ্যের ওপর ‘পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত আক্রমণ’। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘আজ আমরা সেই নৈতিক ও আইনি নিয়মগুলোর সম্পূর্ণ পতন দেখছি, যা আগে সংঘাতগুলোকে সীমিত করত।’

    ঘটনাস্থল ও আক্রমণের মিলিত প্রভাব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, বিশেষত গবেষণা ও জনস্বাস্থ্যের সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এ ধরনের আক্রমণ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানবিক আইনকে কৌশলগতভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • তেহরানের শতবর্ষী ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    তেহরানের শতবর্ষী ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত শতবর্ষী চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরান’-এ হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। হামলাটি কারা চালিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র না ইসরায়েল—তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে এই তথ্য জানান। ওই পোস্টে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে গৌণ অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো ব্যাপকভাবে নষ্ট দেখা যায়।

    কেরমানপুর কেন্দ্রটিকে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, এই আঘাত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানের ওপর এই হামলা জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন।

    পাস্তুর ইনস্টিটিউটটি ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং আন্তর্জাতিক পাস্তুর নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে বিশ্বস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাই এই ধরণের আঘাতকে কেবল একটি ইমারত-ভাঙচুর না বলেই, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিপ্রেক্ষিত থেকে দেখা হচ্ছে।

    ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষে ইরানে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রয়েছে ৯০,০৬৩টি আবাসিক ভবন, ২১,০৫৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ৭৬০টি শিক্ষাকেন্দ্র।

    সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপরও আঘাত এসেছে—ইরানের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৫৬টি জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভসহ দেশটির নামকরা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতেও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর তালিকায় রয়েছে ইসফাহানের সপ্তদশ শতাব্দীর চেহেল সোতুন প্রাসাদ এবং দেশের প্রাচীনতম জুমার মসজিদ মাসজিদ-ই জামে।

    সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী রেজা সালেহি আমিরি এই হামলাগুলোকে আইনি কোনো ভিত্তি ছাড়াই ইরানি পরিচয়ের ওপর একটি “পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত আক্রমণ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “আজ আমরা সেই নৈতিক ও আইনি নিয়মগুলোর সম্পূর্ণ পতন দেখছি, যা আগে সংঘাতগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করত।”

    ঘটনার দায় কার না তার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান চলছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও এই সংঘর্ষজনিত ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা