Category: বিশ্ব

  • করাচির গুল প্লাজার দোকান থেকে ৩০ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    করাচির গুল প্লাজার দোকান থেকে ৩০ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির বিখ্যাত গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে ৩০ জন দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। করাচি পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

    করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বুধবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের দোকান থেকে ৩০টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে; বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ চলছে।”

    এই ৩০টি মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ফলে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১-এ। তিনি আরও জানান, এখনও ৪০-এর বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার। প্রথমে প্লাজার বেসমেন্টে আগুন লাগে এবং এরপর তা অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে পুরো পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। প্রধান সূত্রগুলো বলছে, আগুনের সূত্রপাত বড় সম্ভাব্যতায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে।

    ১৯৮০ সালে নির্মিত এই পাঁচতলা শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় এবং এখানে প্রায় ১,২০০টিরও বেশি দোকান ছিল। আগুনে এসব দোকানের অধিকাংশই ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে, করাচিতে এত ব্যাপক মাত্রার আগুন আগে দেখা যায়নি।

    ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ওই কমপ্লেক্স পরিচালনায় উদাসীনতাকেই বড়হারে দায়ী করেছে হতাহতের কারণ হিসেবে। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুল প্লাজায় মোট ফটক বা গেটের সংখ্যা ছিল ২৬টি, কিন্তু চলাচলের জন্য নির্ধারিত দুটি বাদে বাকি সব গেট প্রায় সবসময় বন্ধ রাখা হতো। আগুন লাগার সময়ও ওই多数 ফটক খোলা ছিল না, ফলে শত শত মানুষ ভবনটিতে আটকা পড়ে। পাশাপাশি মার্কেটের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রপাতিও ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল।

    ব্রিফিংয়ে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা আরও বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি কেউ কেউ আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করে দোকানের শাটারগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন; পরে সেটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকান মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।”

    করাচি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুল প্লাজা অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে সিন্ধ রাজ্য সরকার একটি তদন্তকমিটি গঠন করেছে এবং সেই কমিটিই ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, জানিয়েছেন করাচি পুলিশ প্রধান ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি।

    এই ঘটনার খবর প্রথম এসেছিল এএফপি সূত্রে। উদ্ধারকার্য এবং তদন্ত চলছে, বর্তমান তথ্য সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে সংখ্যা ও বিবরণ পরিবর্তিত হতে পারে।

  • শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড

    শিনজো আবে হত্যায় অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে আজীবন কারাদণ্ড

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে জাপানের বিচারপ্রক্রিয়ায় আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সাড়ে তিন বছর আগে এ ধাঁচের নিপীড়ক ঘটনা জাপানকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল; বুধবার সেই হত্যাকাণ্ডের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।

    ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-র এক নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চে। তখন ৬৭ বছরের শিনজো আবে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন; হাতে তৈরি বন্দুক নিয়ে হঠাৎই ওই মঞ্চে তেতসুইয়া ইয়ামাগামি গুলি চালান। ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই গ্রেপ্তার হন; নিহত আবের বয়স ছিল ৬৭ বছর, এবং তখনই ইয়ামাগামির বয়স ছিল ৪৫।

    নারা জেলা আদালতে বিচারের সময় অক্টোবরে প্রথম শুনানিতে ইয়ামাগামি তার দায় স্বীকার করেছিলেন, তাই দোষ প্রমাণে আলাদা লড়াই ছিল না। রায় ঘোষণার মূল প্রশ্ন ছিল সাজার তীব্রতা কত হবে। রায় পড়ার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা এই ঘটনার বর্ণনা ‘‘জঘন্য’’ বলে করেন এবং বলেন, বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

    প্রসিকিউটররা হত্যার জন্য অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড চান, তারা এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের যুগে জাপানে বিরল ও অত্যন্ত মারাত্মক একটি ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। অপরদিকে রক্ষাকারী আইনজীবীরা মামলার পটভূমি হিসেবে ইউনিফিকেশন চার্চ-সম্পর্কিত পারিবারিক সমস্যা তুলে ধরে ২০ বছরের কম কালের সাজা চেয়েছিলেন।

    আচরণ ও রায়ের পর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইয়ামাগামির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না। এঘটনাটি দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে এবং বহু মানুষের মনে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

  • ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কাবাস দিয়ে বলেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকে তবে ওই দেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। এই মন্তব্যের বিবরণ প্রথম দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিলে।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের ‘কেটি প্যাভলিচ টুনাইট’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, “তারা এমন কিছু করার চেষ্টা করলে তাদের উচিত নয়। আমি আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে।”

    তিনি জানান, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় জো বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন।

    এর আগে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড জানিয়েছেন, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের পেছনে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা জড়িত থাকতে পারে। সোলাইমানিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে নিহত করা হয়েছিল।

    ট্রাম্প এই বিষয়ে আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতারা একে অপরকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি বারবার বলছেন: “আমার স্পষ্ট নির্দেশনা আছে—যদি কিছু ঘটে, তারা পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে।”

    ট্রাম্প পূর্বেও জানিয়েছিলেন যে, যদি ইরান তার হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং কূটনৈতিক সংযোগ রাখার বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।

    একই সময় ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন হাজারের বেশি নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়েও ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এধরণের হত্যা বা প্রদর্শনকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জবাব দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে জানানো হয়েছে যে এসব হত্যাকাণ্ড আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায়।

    খামেনি বলেছেন, তারা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায় না, কিন্তু অভ্যন্তরীণ অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না এবং আন্তর্জাতিকভাবে যারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত—তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এইভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চস্বর হুঁশিয়ারি ও পাল্টাপাল্টি অভিযুক্তি চলায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার ওপর নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু — যে বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে; খবরটি প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প এই বোর্ডের আজীবন বা অনির্দিষ্টকালের চেয়ারম্যান থাকবেন বলে জানা গেছে। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই স্থানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, যেসব দেশ এক বিলিয়ন ডলার করে দেবে তারা বোর্ডের আজীবন সদস্য হয়ে উঠতে পারবে।

    একাধিক কূটনীতিক সতর্ক করেছেন যে ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে; ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, বোর্ডটি হয়ত ভবিষ্যতে জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করবে। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গারি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভিয়েতনাম বোর্ডে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ সদস্য হিসেবে এতে যুক্ত হলো ইসরায়েল।

    এ সময় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যাদের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তারা যদি ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ড’-এ জায়গা পায়, তাহলে ওই সংস্থার নৈতিকতা ও বিশ্বসাম্য কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় গণহত্যার অভিযোগে কয়েকদিন আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, গত বছরের নভেম্বরে তুরস্কও গাজায় গণহত্যার অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এসব অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ট্রাম্পের বোর্ডে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বিতর্ক ও সমালোচনার নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।

  • ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলা হবে’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন — যদি তারা তার বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র চালায় বা তাকে হত্যার হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে ‘‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা’’ হবে বলে সতর্ক করেছেন। খবরটি প্রথমে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিল।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নিউজ নেশনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কেটি প্যাভলিচের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘তারা যদি আমার বিরুদ্ধে এমন কিছু করে, তাহলে পুরো দেশটাই উড়িয়ে দেওয়া হবে—আমি এ ব্যাপারে আগে থেকেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি।’’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ইরানের সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সরাসরি মুখ খুলে কথা বলা উচিত ছিল এবং প্রয়োজনে সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একে অপরকে রক্ষা করা উচিত।

    তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের কাছ থেকে উদ্ধৃত এক তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইরানি কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার নেপথ্যে থাকতে পারে এমন ষড়যন্ত্র। সোলাইমানিকে ২০২০ সালে ট্রাম্প সরকারের সময়ই একটি মার্কিন বিমান অভিযানেই নিহত করা হয়।

    ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেও প্রশাসনিক পর্যায়ে এধরনের কঠোর অবস্থান নিয়েছেন—এমনকি এক সময়ে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন যদি তারা তাকে হত্যার চেষ্টা করে। তবে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তারা এমন কোনও কাজ করেনি; করলে ‘‘এটি তাদের জন্য ভয়াবহ ফল বয়ে আনত।’’

    সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করেছেন ট্রাম্প। এসব ঘটনার মধ্যেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আরোপ করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে—যদিও তাকে জানানো হয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে এসব হত্যার ঘটনা আপাতত বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটিকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে খামেনি দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘গ্রাস’ করতে চায় এবং বাইরের শক্তির পরিকল্পনা দেশকে দুর্বল করার উদ্দেশ্য বহন করে। তিনি সেপ্টেম্বর করে বলেছেন, দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে তারা আগ্রহী নয়; কিন্তু অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কারওও ছাড় দেওয়া হবে না।

    এই তপ্ত বিবাদে প্রতিপক্ষ দু’পক্ষের বক্তব্যই ঘটনাস্থল ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ট্রাম্পের একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি ও ইরানের নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়ার পর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে সংকট কেমন ভাবে বেড়ে উঠে তা নিঃসন্দেহে নজরকাড়া বিষয় হয়ে পড়েছে।

  • ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর যোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত শান্তি পরিষদ ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে, খবর জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরা।

    ট্রাম্প নিজেকে বোর্ডের আজীবন—or অনির্দিষ্টকালীন—চেয়ারম্যান রাখা করেছেন এবং তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের এতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যারা বোর্ডে আজীবন সদস্য হতে চান, তাদের প্রতি দেশ ১ বিলিয়ন ডলার করে দেবে এমন শর্ত রয়েছে।

    এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, বেলারুস, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভিয়েতনাম এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে; সর্বশেষ তালিকায় ইসরায়েলও যুক্ত হলো। কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, ট্রাম্পের এই প্রতিষ্ঠান যদি শক্তি বা গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে তা হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকেও ট্রাম্প নিজে উস্কে দিয়েছেন।

    তবে নেতানিয়াহুর যোগদানকে নিয়ে বিতর্ক তীব্র। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং কিছু দেশ তাকে গাজার ঘটনায় দায়ী করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে—যার ফলে অনেকের কাছে তাকে ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে নেওয়া সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তুরস্ক গত বছরের নভেম্বরে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনে নেতানিয়াহু ও তার সরকারের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

    এই পটভূমিতে নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত নেতাকে বোর্ড অব পিসে তুলে নিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন না করে সমালোচনা করায় অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সমালোচকরা বলছেন, এমন অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ন্যায় ও মানবाधিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত এই মঞ্চ বিশ্ব কূটনীতি ও শান্তির প্রচেষ্টাকে ধাঁধাঁতে ফেলতে পারে।

  • ন্যাশনাল গার্ড না দিলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত: ট্রাম্প

    ন্যাশনাল গার্ড না দিলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন অনেকে। তবে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি বেশ আস্থা রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি বলেছেন, এমনটা না করা হলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।

    লস অ্যাঞ্জেলেস ও এর আশপাশে এলাকায় এই বিক্ষোভ শুরু হয় গত শুক্রবার। রোববার তা আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। এদিন রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। সড়ক অবরোধসহ গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাশনাল গার্ডের ২ হাজার সদস্যকে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের অনুরোধ সাপেক্ষে সেখানে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। তবে এবার ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসমের অনুরোধ ছাড়াই বাহিনীটি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। তার এমন পদক্ষেপের বিরোধিতাও করেছেন নিউসম। তবে তা কানে তোলেননি ট্রাম্প।

    নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় সহিংস, উসকানিমূলক দাঙ্গা মোকাবিলার জন্য ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর সিদ্ধান্তটি চমৎকার ছিল। আমরা যদি এমনটা না করতাম, তা হলে লস অ্যাঞ্জেলেস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত।’

    গভর্নর গাভিন নিউসম ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসের সমালোচনা করে ট্রাম্প লেখেন, ‘চরম অযোগ্য গভর্নর গাভিন নিউসম ও মেয়র কারেন বাসের বলা উচিত ছিল, “ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আপনি খুবই অসাধারণ। আপনি ছাড়া আমরা কিছু করতে পারতাম না।” তবে তারা আমেরিকা ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের সঙ্গে মিথ্যা বলাকে বেছে নিয়েছেন।”

  • উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি, পদত্যাগের ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি, পদত্যাগের ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    বিরোধীদের ‘দমন করতে’ আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘটনায় উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়া। এরই মাঝে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল হঠাৎ করেই ‘উত্তর কোরিয়াপন্থীদের’ হুমকির কথা উল্লেখ করে সামরিক আইন জারি করেন। পার্লামেন্টে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড’র অভিযোগ তোলেন।

    মঙ্গলবার আকস্মিক সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: সংগৃহীত

    প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এশিয়ার গণতান্ত্রিক এ দেশটিতে আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘোষণায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন নাগরিকরা। দ্রুতই এটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে বাইরের কোনো হুমকিতে নয়, বরং বিরোধী দলকে ‘দমন করতে’ এ সিদ্ধান্ত নেন ইউন সুক।

    ঘটনার প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে গতকাল রাতেই সমবেত হন হাজার হাজার মানুষ। একই সময় প্রেসিডেন্টের ওই পদক্ষেপ জরুরি এক ভোটাভুটির মাধ্যমে আটকে দিতে পার্লামেন্টে ছুটে যান আইনপ্রণেতারা।

    পরে সর্বসম্মতিক্রমে ভোটে হেরে যান প্রেসিডেন্ট ইউন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আবার হাজির হন। রায় মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে ঘোষণা দেন সামরিক আইন প্রত্যাহারের। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট নিজের দল থেকেই বহিষ্কারের শিকার হতে পারেন।

    এমন উত্তপ্ত পতিস্থিতিতে আজ বুধবার গণমাধ্যমে শেয়ার করা এক বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন জানান, জরুরি সামরিক আইনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করছেন।

    তিনি জনগণের মাঝে ‘বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টির জন্য’ ক্ষমা চেয়েছেন। কিম বলেন, আমি সামরিক আইন সংক্রান্ত সব ঘটনার দায়িত্ব নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্টের কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

  • ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব

    ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব

    সামরিক জোটে ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব মার্ক রুট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো শান্তি আলোচনায় আরও অস্ত্র পাঠিয়ে দেশটির হাতকে শক্তিশালী করা।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে কোনো মূল্যে ন্যাটোর সদস্য হতে চাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে জোটের সদস্যপদ সম্প্রসারণই ইউক্রেনে তিন বছরের যুদ্ধের ‘উত্তপ্ত পর্যায়ের’ অবসান ঘটাতে পারে।

    ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ফ্রন্ট পূর্ব দিকে এগোচ্ছে না। এটি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    মার্ক রুট বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ইউক্রেন শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। শান্তি আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কীভাবে তা পরিচালনা করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    জুলাইয়ে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন সদস্যপদ পাওয়ার পথে রয়েছে।

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কেউ কেউ যুদ্ধ চলাকালীন এবং দেশের সীমানা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হওয়ার আগে ইউক্রেনকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে পিছপা হয়েছে। ইউক্রেনে যোগ দিতে হলে ৩২টি দেশকে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হতে হবে।

    ৩০ বছর আগে হাঙ্গেরির রাজধানীতে সই করা একটি চুক্তির আওতায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিময়ে সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছিল ইউক্রেন। সেই সময়ের হিসেবে যা ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রের সমান।

    ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি দৃঢ় বিবৃতি জারি করে বুদাপেস্ট চুক্তিকে ‘কৌশলগত নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে অদূরদর্শিতার স্মারক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, আমরা নিশ্চিত যে ইউক্রেনের নিরাপত্তার একমাত্র আসল গ্যারান্টি এবং রাশিয়ান আগ্রাসনের প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ন্যাটোতে ইউক্রেনের পূর্ণ সদস্যপদ।

    ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সাংবাদিকদের বুদাপেস্টের নথির একটি কপি দেখান। তিনি বলেন, এই নথি- এই কাগজ ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা এবং ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্রদের অবশ্যই যতক্ষণ সময় লাগে ততক্ষণ তাদের আত্মরক্ষার জন্য যা করা দরকার তা করতে হবে। আবার যুদ্ধটি আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হবে বলেও আশা করেন তিনি।

  • প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেলো নামিবিয়া

    প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পেলো নামিবিয়া

    নামিবিয়ার ক্ষমতাসীন এসডব্লিউএপিও দলের নেত্রী নেতুম্বো নান্দি নাদাইতওয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। দায়িত্ব নিলে তিনি হবেন নামিবিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দেশটির নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করে। খবর রয়টার্সের।

    ৭২ বছর বয়সী নান্দি নাদাইতওয়া বর্তমানে নাবিবিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার জয়ের মধ্য দিয়ে এসডব্লিউএপিও দলটির ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ আরও বাড়ছে। ১৯৯০ সালে দলটির নেতৃত্বে নামিবিয়া দক্ষিণ আফ্রিকার কাছ থেকে স্বাধীন হয়। এরপর ৩৪ বছর ধরে দলটি ক্ষমতায় আছে।

    নামিবিয়ার নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুসারে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নান্দি ৫৭ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে তার প্রয়োজন ছিল ৫০ শতাংশের বেশি ভোট।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ঘোষণা করার পর নান্দি নাদাইতওয়া বলেন, নামিবিয়ার জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভোট দিয়েছেন।

    ষাটের দশকে নান্দি যখন এসডব্লিউএপিওতে যোগ দেন, তখন দলটি স্বাধীনতার জন্য লড়ছিল। নামিবিয়ায় গণতান্ত্রিক যুগ শুরু হওয়ার পর নান্দি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অসংখ্য জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    নির্বাচনে নান্দির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন পান্দুলেনি ইতুলা। ইনডিপেনডেন্ট প্যাট্রিয়টস ফর চেঞ্জ (আইপিসি) দলের এ নেতা নির্বাচনে প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।

    নামিবিয়ায় আলাদা করে জাতীয় পরিষদেও ভোট হয়েছে। এসডব্লিউএপিও দলটি সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। জাতীয় পরিষদে ৯৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে ৫১টিতে জয়ী হয়েছে দলটি। পরিষদে আইপিসি ২০টি আসনে জয়ী হয়েছে। তারা জাতীয় পরিষদে বিরোধী দল হচ্ছে।

    তবে আইপিসি বলেছে, তারা নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে তারা।

    গত ২৭ নভেম্বর নামিবিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন কারিগরি জটিলতা এবং ব্যালট পেপারের ঘাটতি দেখা দেয়। এমন অবস্থায় কিছু কিছু জায়গায় ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানো হয়। এতে ফলাফল ঘোষণা করতে দেরি হয়ে যায়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনে এসডব্লিউএপিওর এ বিজয় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ, উচ্চমাত্রার বেকারত্ব ও অসমতা নিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল। তবে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে ভূমিকার কারণে গ্রামীণ এলাকা এবং বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে দলটি শক্ত সমর্থন ধরে রেখেছে।

    বিশ্লেষক রাক্কেল আন্দ্রিয়াস বলেন, নান্দি নাদাইতওয়া এসডব্লিউএপিওর বিভক্ত হয়ে পড়া বিভিন্ন অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন এবং দলের অন্য সদস্যদের মতো তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই।