Category: বিশ্ব

  • জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা

    জর্জিয়ায় পারিবারিক বিবাদে এক ভারতীয় গুলি করে স্ত্রীসহ চার আত্মীয়কে হত্যা

    যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলে পারিবারিক বিবাদের জের ধরে শুক্রবার ভোরে এক ভারতীয় ব্যক্তির গুলিতে স্ত্রীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতীয় কনস্যুলেট শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে—জানায় এনডিটিভি।

    ঘটনাটি স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ব্রুক আইভি কোর্ট এলাকার ১০০০ ব্লকে ঘটে, বলে জানিয়েছে গুইনেট কাউন্টি পুলিশ। সেখানে পৌঁছালে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ পাওয়া যায়; প্রত্যেকের শরীরে গুলিবিদ্ধ ও প্রাণঘাতী চিহ্ন ছিল।

    পুলিশ নাম উল্লেখ করে জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বিজয় কুমার (৫১) এবং তিনি আটলান্টার বাসিন্দা। নিহতরা হলেন তাঁর স্ত্রী মীমু ডোগরা (৪৩), গৌরব কুমার (৩৩), নিধি চন্দর (৩৭) ও হরিশ চন্দর (৩৮)।

    ঘটনার সময় বাড়িতে তিনটি শিশু উপস্থিত ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিজেদের রক্ষা করতে শিশুরা একটি আলমারির ভেতরে লুকিয়ে পড়েছিল; তাদের মধ্যে একজন ৯১১-এ ফোন করে গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিতে সক্ষম হলে পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শিশুরা আহত হননি এবং পরে পরিবারের এক সদস্য তাদের নিয়ে যান।

    আটলান্টায় নিযুক্ত ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল এক বিবৃতিতে ঘটনার প্রতি গভীর শোক ব্যক্ত করেছে। কনস্যুলেট জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শোকাহত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    গুইনেট কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চারটি অ্যাগ্রাভেটেড অ্যাসল্ট (গুরুতর হামলা), চারটি ফেলনি মার্ডার (ফৌজদারি হত্যার) অভিযোগ, চারটি ম্যালিস মার্ডার (উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার) অভিযোগ, একটি প্রথম ডিগ্রির শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এবং দুটি তৃতীয় ডিগ্রির শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    পুলিশ ও কনস্যুলেটের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধে সংঘটিত একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছে। মামলা ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা জানালে তা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

    আগামী টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ খেলতে ভারতের মাটিতে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ দলকে। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তুলে বিসিবি mehrfachবার আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেরা ম্যাচ স্থানান্তর করার অনুরোধ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরও আইসিসি থেকে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশ দল শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার করা না হলেও প্রাকটিক্যালভাবে এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাব্যতা অত্যন্ত কম—এমনটি বলেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

    শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকী লিখেছেন, ভারতে পাকিস্তান ও ভারতের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেওয়া হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসির অবস্থান ভিন্ন ছিল। তিনি আরও বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ প্রমাণ করে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার খবর প্রকাশ পেয়েছে। ঠিক বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্মভূমি থাকা এক মুসলিম শ্রমিক মনজুর আলম লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়—এই ঘটনার কথাই তিনি উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন।

    বিশ্বকাপ ইস্যুর সূচনা মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেয়ার ঘটনায়। ভারতের কিছু উগ্র হিন্দু নেতার হুমকির পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল—এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিসিবি পরে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলায় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছিল। ফারুকী বলেছেন, এসব ঘটনা যদি দীর্ঘদিন ধরে চালানো বাংলাদেশবিরোধী ঘৃণা প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যার ফলশ্রুতিতে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাস্তব ও গুরুতর বলে মানতে হবে।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মনজুর আলম লস্কর, বয়স ৩২। তিনি উস্থি থানার রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় এক দশক ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সেখানে থাকা সত্ত্বেও স্থানীয়রা তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়—প্রথমে ২৫ হাজার রুপি দাবি করা হলেও পরে স্ত্রীকে অজানা নম্বর থেকে কল করে ৬ হাজার রুপি পাঠাতে বলা হয়। পরিবারের পাঠানো ৬ হাজার রুপির পরে বুধবার রাতে জানানো হয় যে মনজুরকে হত্যা করা হয়েছে।

    মনজুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর, যিনি রাঙ্গিলাবাদ গ্রামের পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, অভিযোগ করেছেন হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদীদের দ্বারা সংঘটিত। তিনি বলছেন, যে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করেছিল এবং তার সহযোগীরাই তার ভাইকে হত্যা করেছে। নিহতের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় স্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার করতে সাহায্য করার।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও রহস্যজনক মৃত্যুর একটি ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে। উশতির তৃণমূল নেতৃত্ব এটিকে পরিকল্পিত সন্ত্রাস বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে বিজেপি বা তাদের মিত্র শাসিত রাজ্যগুলো এই তৎপরতা পরিচালনা করছে যাতে সংখ্যালঘু বাঙালি ভাষাভাষীদের চলাচল আতঙ্কিত করা যায়। তৃণমূল এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ব্যর্থ হয়েছে।

    ঘটনার খবরে টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয় নেতারা দায়ীদের দ্রুত গ্রেফতার ও যথাযথ তদন্তের দাবি করেছেন, আর এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল

    যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে গেল

    জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মানবিক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে সংগঠনের সঙ্গে বিচ্ছেদের সব ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে।

    এটি ছিল লাখ বছরের পুরনো রাজনৈতিক লক্ষ্য—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডব্লিউএইচও থেকে বেরোতেই চেয়েছেন। প্রথম প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে তিনি একবার সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন তা সফল হয়নি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তিনি এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যা আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সংস্থা থেকে বের হওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছে।

    আইন অনুযায়ী ডব্লিউএইচও থেকে বের হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এক বছরের নোটিশ দেওয়া এবং সংগঠনের কোঠাগুলো পরিশোধ করে নেওয়ার শর্ত মেনে চলতে হতো। এখনও সংস্থার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বাকি আছে।

    আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়ত এই টাকা পরিশোধ নাও করতে পারে। ডব্লিউএইচওর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন যে পাওনা না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হওয়া সমস্যাগ্রস্ত হবে; আইনগত দিক থেকে এটি ঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে কোনো রকম বৈধতা মিলবে না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সংগঠনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায়ের শক্ত করে কোনো গ্রহণযোগ্য উপায় নেই।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডব্লিউএইচওকে দেওয়া সকল সরকারি তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে কর্মরত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সমস্ত কর্মী ও ঠিকাদারদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কমিটি, পরিচালনা পর্ষদ, শাসন কাঠামো এবং কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপে তার আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণও বাতিল করেছে।

    সূত্র: সিএনএন।

  • ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত বিমান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

    ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত বিমান থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার

    ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসির প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিধ্বস্ত একটি বিমান থেকে শুক্রবার দশজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে সাতজন কেবিন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী রয়েছেন। বিধ্বস্ত বিমানটি এটিআর ৪২-৫০০ ধরনের টারবোপ্রপ উড়োজাহাজ, যা সাধারণত মাঝারি ক্ষমতার স্বল্পসড়ক ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

    এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে যে উড়োজাহাজটি ইন্দোনেশীয় এয়ার ট্রান্সপোর্ট (আইএটি) সংস্থার ছিল। রির্পোট অনুসারে বিমানটি গত ২৮ জানুয়ারি জাকার্তা থেকে মৎস্যসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসি দ্বীপে জরিপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আইএটির মূল দফতর থেকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    দক্ষিণ সুলাওয়েসি দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী কর্মকর্তা অ্যান্ডি सুলতান জানিয়েছেন, বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পরই অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। শুক্রবার সকালে মারোস জেলার বুরুসারাউং পাহাড়ের কাছে ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহগুলি পাওয়া যায়। ওই স্থানটি জাকার্তা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

    ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    সূত্র: এএফপি, রয়টার্স

  • অন্ধ্রপ্রদেশে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করে পশ্চিমবঙ্গের মঞ্জুর আলমকে পিটিয়ে হত্যা

    অন্ধ্রপ্রদেশে ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করে পশ্চিমবঙ্গের মঞ্জুর আলমকে পিটিয়ে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার এক শ্রমিককে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলুতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর; তিনি ৩২ বছর বয়সী এবং দীর্ঘ সময় ধরে অন্ধ্রপ্রদেশে জরির কাজ করতেন।

    সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মঞ্জুরকে মুসলিম ও ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করে চুরির অভিযোগ তুলে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্থানীয় উগ্রবাদী দলের লোকেরা তাকে প্রথমে অপহরণ করে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ২৫ হাজার রুপি দাবি করে।

    মঞ্জুরের পরিবার জানায়, গত মঙ্গলবার অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ৬ হাজার রুপি যোগাড়ও করেন, কিন্তু বুধবার তারা জানতে পারেন মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।

    রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণপুর গ্রামে জন্মভূমি থাকা মঞ্জুর সেখানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যেই পরিচিত ছিলেন। তবু তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখান থেকে চলে যেতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

    মঞ্জুরের পরিবার ক্ষতিগ্রস্থদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে এবং এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

    টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাভাষী মুসলিমদের ওপর চলমান সহিংসতায় এটি একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। অনুসন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দিকে নজর দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।

  • কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    কাশ্মীরে ২০০ ফুট খাদে সাঁজোয়া যান পড়ে, ১০ ভারতীয় সেনা নিহত

    জম্মু ও কাশ্মীরের ডোডা জেলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ভাদেরওয়াহ-চাম্বা আন্তরাজ্য সড়কের খানি টপ নামে ৯ হাজার ফুট উচ্চতার এলাকায় ঘটে।

    সেনাবাহিনীর বরাত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ থেকে ২১ জন জওয়ানকে বহনকারী একটি বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া যান খানি টপ থেকে সামান্য নিচের দিকে চলছিল। তখনই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। প্রতিকূল আবহাওয়া ও পিচ্ছিল পাহাড়ি রাস্তা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয়বাসী দ্রুত উদ্ধার-কর্মসূচি শুরু করলে ঘটনাস্থলেই চারজন জওয়ানের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়, বলে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন।

    বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত ১০ জন জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হোয়াইট নাইট কোরের নির্দেশনায় আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে উধমপুর কমান্ড হাসপাতালে এয়ারলিফট করা হয়েছে। ডোডার অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার সুমিত কুমার ভূটিয়াল জানিয়েছেন, আহতদের জীবন রক্ষার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন এখনও উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চালাচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতেARN তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। এক বার্তায় তিনি নিহত জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারসমূহের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও নিহত জওয়ানদের পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত জওয়ানদের পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সহানুভূতি জানাচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শেষে আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প

    গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা শেষে আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প

    দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে এবং সেই আলোচনার ভিত্তিতে তিনি আট ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

    ট্রাম্প তাঁর নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মটিতে বলেন, দাভোসে নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে ‘ভাল ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠক থেকে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।

    প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি ওই সমাধান চূড়ান্ত হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর জন্যই ভালো হবে। সেই ভিত্তিতেই ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা তিনি স্থগিত রাখছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নামের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হচ্ছে এবং অগ্রগতির তথ্য পরে জানানো হবে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা — প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ দূত এবং অন্যান্য সদস্যরা — ওই আলোচনায় যুক্ত থাকবেন এবং তারা সরাসরি তাকে জানাবেন।

    এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের কাছ থেকে আমদানি হওয়া ‘কোনোও সব ধরনের’ পণ্যের ওপর তিনি ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন; পরে সেই হার ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি হুমকি দিচ্ছিলেন। এই আট দেশের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক — সবাইই ন্যাটোর সদস্য দেশ।

    ট্রাম্প আরও বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ‘তাৎক্ষণিক আলোচনা’ চান, তবে জোরপূর্বক কোনো ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা নেই। তিনি আর্কটিক অঞ্চলের গলমান বরফ এবং সেখানে বর্ধিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তুলে ধরে জানিয়েছেন, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    দেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন; পিটুফিক ঘাঁটিতে বর্তমানে শতাধিক মার্কিন সামরিক সদস্য স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। রাশিয়া ও চীনের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে পুরো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের গুরুত্ব বাড়ছে, এবং সেই প্রেক্ষিতে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বও বেড়েছে—তিনি এ কথাও বলেন।

    ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার বা বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি তুলে রাখার কথা বলেছিলেন, কিন্তু দাভোসে আলোচনার পর তিনি ওই হুমকি প্রত্যাহার করে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুল্ক আরোপ না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • দাভোস আলোচনার পর আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

    দাভোস আলোচনার পর আট দেশের ওপর শুল্ক হুমকি প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প

    দাভোসে ন্যাটো ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র — এমনটি জানিয়ে তাঁর আগে থেকে করা আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি তুলে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রাখা ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে না।

    ট্রাম্প দাভোসে এক বৈঠকের পর নিজের সোশাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, ওই আলোচনা ‘‘খুবই ফলপ্রসূ’’ হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত ‘‘ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি রূপরেখা’’ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যদি খসড়া চূড়ান্ত হয় তবে তা যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর শীর্ষ দেশগুলোর জন্যই উপকারী হবে।

    ট্রাম্প জানান, এই বোঝাপড়ার আলোকে ১ ফেব্রুয়ারির সরকারি সময়সীমার মধ্যে যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে যেত তা তিনি আর আরোপ করছেন না। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আরও আলোচনা চলছে এবং এগিয়ে যাওয়ার তথ্য সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

    এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড—এই আটটি দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, যদি প্রয়োজন হয় পহেলা জুন থেকে সেই হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। তবে দাভোসে আলোচনা হওয়ায় এই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।

    ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ওপর সংস্লিষ্ট ভাবনা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, যদিও তারা ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের কারণে ওই ভূখণ্ডের বিষয়ে আগ্রহী, যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করে সেটা অধিগ্রহণ করবে না। তিনি আর্কটিক অঞ্চলের গলনশীল বরফ, খনিজ সম্পদের মূল্য এবং রাশিয়া-চীনসহ প্রতিদ্বন্দ্বীদের আগ্রহের প্রসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেছেন।

    ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রাখে। বর্তমানে দ্বীপটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত সামরিক সদস্যরা অবস্থান করে থাকে—এর ফলে ভূখণ্ডটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়ে।

    ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা চালানোর জন্য তিনি দেশের বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তাদের ও বিশেষ দূতদের অন্তর্ভুক্ত রেখে একটি টিম গঠন করবেন, যারা সরাসরি তাকে অগ্রগতি সম্পর্কে জানাবেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং কৌশলগত সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি ধরা পড়ায় গ্রিনল্যান্ডকেও এখন কৌশলগতভাবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমন সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো হলে তা ন্যাটো ও মার্কিন কৌশলগত স্বার্থকেও প্রতিফলিত করবে।

    সংক্ষেপে, দাভোসে আলোচনার পর ট্রাম্প শুল্ক আরোপ সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য পরিকল্পনা থেকে সরলেন, তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার খবর তিনি সময়মতো জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

  • করাচির গুল প্লাজার এক দোকান থেকে ৩০ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    করাচির গুল প্লাজার এক দোকান থেকে ৩০ দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজার একটি দোকান থেকে ৩০ জন দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে, বাকিদের পরিচয় উদ্ধারে কাজ চলছে।

    করাচির দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, “গুল প্লাজার দ্বিতীয় তলায় ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামের দোকানটি থেকে ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে; বাকিদের খোঁজ চলছে।”

    তিনি বলেন, এই উদ্ধার কার্যক্রমের ফলে গুল প্লাজায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৬১ এ পৌঁছিয়েছে। এখনও ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

    ঘটনাটি ঘটেছিল ১৭ জানুয়ারি শনিবার, যখন প্লাজার বেসমেন্টে আগুন লেগে তা দ্রুত পুরো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আগুনের মাত্রা এতটাই প্রবল ছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পুরো রাখরাত, প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে।

    ১৯৮০ সালে নির্মিত এই পাঁচ তলা শপিং কমপ্লেক্সটির আয়তন এক ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়। এখানে প্রায় ১২০০টির বেশি দোকান ছিল এবং অধিকাংশ দোকান আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য মতে, করাচিতে এর আগে এত বড় ও বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড দেখা যায়নি।

    ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এই বিশাল হতাহতের একটি বড় কারণ হিসেবে প্লাজা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা চরম অনুপস্থিতিকে দায়ী করেছে। করাচি ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্লাজায় মোট ২৬টি গেইট থাকা সত্ত্বেও চলাচলের জন্য কার্যত মাত্র দুটি গেইট খোলা থাকত; বাকি সব গেইট সবসময় বন্ধ থাকতো। আগুন লাগার সময়ও বেশিরভাগ ফটক খোলা ছিল না, ফলে শতশত মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পাশাপাশি মার্কেটে থাকা অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্রপাতিও কার্যকর ছিল না।

    উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক আসাদ রাজা বলেন, “প্রাথমিক আনুসন্ধানে দেখা গেছে যে অনেক দোকানের শাটারকে আগুন থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল; পরে এটিই তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে দোকান মালিক ও কর্মচারীরাও রয়েছেন।”

    করাচি পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কমিশনার সৈয়দ হাসান নাকভি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্তে সিন্ধ প্রদেশ সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ওই কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। করাচি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, মৃতের সংখ্যা ভবিষ্যতে ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    ঘটনাস্থল ও উদ্ধার তৎপরতা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    সূত্র: এএফপি

  • শিনজো আবের হত্যায় অভিযুক্তকে আজীবন কারাদণ্ড

    শিনজো আবের হত্যায় অভিযুক্তকে আজীবন কারাদণ্ড

    জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তেতসুইয়া ইয়ামাগামিকে নারা ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, বুধবার রায় ঘোষণা করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    ঘটনাটি হয়েছিল ২০২২ সালের জুলাইয়ে। জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নারা-য়ে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতার সময় হাতে তৈরি বন্দুক দিয়ে আবে-কে লক্ষ্য করে গুলি করেন ইয়ামাগামি; ঘটনাস্থলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবে মারা যান; মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৭।

    বিচালনার শুরুতেই—অক্টোবরে—ইয়ামাগামি হত্যার দায় স্বীকার করেন, ফলে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অনস্বীকার্য ছিল। কিন্তু শুনানিতে সবাই যে ব্যাপারে নজর রেখেছিল তা ছিল ঘটনাটির তীব্রতার ওপর দিতে হবে কি না। রায় ঘোষণার সময় বিচারক শিনিচি তানাকা গুলির ঘটনায় ‘জঘন্য’ শব্দটি ব্যবহার করে বলেন, বড় জনসমাবেশে বন্দুক ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি একটি দুষ্কৃতিমূলক অপরাধ।

    পক্ষে থাকা কৌঁসুলিরা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে নয়—তারা ইয়ামাগামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি করেছিলেন। তারা আবে—জাপানের দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী—কে নৃশংসভাবে হত্যাকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুগের এক বহুল পরিমাণে মারাত্মক ও নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    অপরদিকে ইয়ামাগামির আইনজীবীরা আদালতে তার কাজের পেছনে পারিবারিক সমস্যাসহ ইউনিফিকেশন চার্চ সম্পর্কিত সমস্যা থাকার কথা তুলে ধরে ২০ বছরের কম রাজনৈতিক কারাদণ্ড দাবি করেন।

    রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না—তা নিয়ে আইনজীবীরা জানিয়েছে, তারা ইয়ামাগামির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। হত্যাকান্ডটি তখন দেশটিকে দীর্ঘ সময় স্তব্ধ করে দিয়েছিল এবং রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল।