Category: বিনোদন

  • ‘ধুরন্ধর টু’: ৪ দিনে বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    ‘ধুরন্ধর টু’: ৪ দিনে বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    বলিউড তারকা রণবীর সিং দীর্ঘ আড়াই বছর পর দর্শকদের ফিরিয়ে এনেছেন বড়পর্দায়—গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর এবার ফিরে এসেছে সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর টু’। আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে চালু হলে তৎক্ষণাৎ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে।

    বক্স অফিস রিপোর্টে কিছু ভিন্নতা থাকলেও দেখা যাচ্ছে, মুক্তির প্রথম চারদিনে ছবিটির আয় ছিল অভূতপূর্ব। স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চারদিনে ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি (গ্রস), আর বিশ্বব্যাপী মোট আয় হয়েছে ৬৯১.৩২ কোটি রুপি। এটিকে বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অপরদিকে বলি মুভি রিভিউ সূত্রে বিশ্বব্যাপী চারদিনের মোট আয় হিসেবে বলা হয়েছে প্রায় ৬৯৫ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ৯০৯ কোটি টাকার বেশি। এই দুই রিপোর্টের স্বল্প ব্যবধান বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে রিপোর্টিং পদ্ধতি ও রাউন্ডিংয়ের কারণে।

    সমালোচকদের রায় মিশ্র ধরনের। দ্য টেলিগ্রাফের অগ্নিভো নিয়োগী সিনেমাটিকে কিছু অংশে অতিরিক্ত রক্তপাত ও প্রকাশ্য সহিংসতার জন্য সমালোচনা করেছেন এবং বলেন, ‘ধুরন্ধর টোন বা সূক্ষ্মতার অভাব আছে।’ হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পার্টের ধারাবাহিকতা পুরোপুরি মেলেনি, তবু রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের টান সিনেমাটিকে এগিয়ে নিয়েছে।’ এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৩/৫ দিয়েছেন এবং টুকরো টুকরো আকর্ষণ ও প্রদর্শনকে ছবির প্রধান বলিষ্ঠতা হিসেবে দেখেছেন। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫/৫ রেটিংয়ে বলেছেন, ‘গল্প বলার তীর্থভূমি শক্ত—বহনশীল প্লট টুইস্ট ও বর্ণনাগত গভীরতা দর্শককে ধরে রাখে।’

    রিলিজের প্রথম দিনেই ‘ধুরন্ধর টু’ কয়েকটি রেকর্ড গড়েছে। পেইড প্রিভিউসহ প্রথম দিনের আয় মিলিয়ে এটি এখন সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রথমদিন আয়কারী ভারতীয় সিনেমার তালিকায় রয়েছে—শীর্ষে আছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’ (২৬০ কোটি রুপি)। একইভাবে বিশ্বব্যাপী একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী ভারতীয় ছবির তালিকায় দেখায় এটি দ্বিতীয় অবস্থান। এছাড়া হিন্দি ভার্সনে একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী সিনেমার তালিকায় ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষে উঠে এসেছে, তারপর পেছনে পড়েছে ‘জওয়ান’ ও ‘পুষ্পা টু’।

    বক্স অফিস বিশ্লেষকদের চোখে ছবির ভবিষ্যৎ ইতিবাচক। মুক্তির আগেই অনেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ভারতীয় বাজারে ‘ধুরন্ধর টু’ ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে—যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩২১ কোটি টাকার সমান। প্রসঙ্গত বক্স অফিস বিশ্লেষক তরণ আদর্শ বলেন, ‘যখন দর্শকের চাহিদা মিটে যায়, ব্যবসার সীমা কার্যত ছাড়িয়ে যায়—পুষ্পা, জওয়ান ও প্রথম ধুরন্ধরই সেই প্রমাণ।’ ছবির স্বচ্ছন্দ ব্যবসা তুলনা টানে যে বড় হিটগুলি জীবনীকালীনও উচ্চ ফলাফল দেখিয়েছে।

    চলচ্চিত্রটির নির্মাণ ও অভিনয় টীমও জোরদার। প্রথম পার্টে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সারা অর্জুন; দ্বিতীয় পার্টেও তিনি রণবীরের সঙ্গে রয়েছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে—অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না ও আর. মাধবনকে। ছবিটির বাজেট আনুমানিক ২৮০ কোটি রুপি এবং প্রযোজকরা হলেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    নিজস্ব প্রত্যাশা ও শুভাশীর্বাদে সিনেমার পক্ষ থেকে ও প্রযোজকরা আশাবাদী যে ‘ধুরন্ধর টু’ কেবল খোলার সপ্তাহেই নয়, পুরো মেয়াদে বড় ব্যবসা করবে। অভিজ্ঞ বিশ্লেষক এবং প্রযোজক উভয় পক্ষই মনে করেন—যদি দর্শক সমর্থন অব্যাহত থাকে, তাহলে ছবির আয় আরও বাড়বে এবং নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

  • ধুরন্ধর টু: চার দিনে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০৯ কোটি টাকার আয়

    ধুরন্ধর টু: চার দিনে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯০৯ কোটি টাকার আয়

    দীর্ঘ আড়াই বছর পর রণবীর সিং বড় পর্দায় ফিরেছেন ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের মাধ্যমে। আদিত্য ধর পরিচালিত প্রথম অংশটি গত বছর মুক্তি পেয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রচণ্ড সাড়া ফেলেছিল; ফলে সিক্যুয়েলের প্রতি আগ্রহ আর প্রত্যাশা দুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।

    ‘ধুরন্ধর টু’ ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়—মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই এটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। স্যাকনিলক জানায়, প্রথম চার দিনে ভারতের আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১.৯৭ কোটি রুপি (গ্রস), এবং বিশ্বব্যাপী ওই সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ৬৯১.৩২ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৯০৪.৫৮ কোটি টাকার সমতুল্য বলে বলা হয়েছে।

    অন্য একটি প্রতিবেদন—বলি মুভি রিভিউ—প্রকাশ করেছে যে চার দিনে বিশ্বব্যাপী মোট আয় প্রায় ৬৯৫ কোটি রুপি (গ্রস), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০৯ কোটি টাকার বেশি। এই বিভিন্ন আয়সংক্রান্ত ফিগারগুলির পার্থক্য বিভিন্ন উৎসের সংগ্রহপদ্ধতি ও বিনিময় হার বিবেচনায় নিতেই হয়ে থাকে।

    সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের সমালোচক মন্তব্য করেছেন, ছবিটিতে রক্তপাত ও সহিংসতার মাত্রা বেশি এবং কিছু অংশে সূক্ষ্মতার অভাব রয়েছে, যা প্রথম অংশ থেকে প্রত্যাশিত হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ রেটিং দিয়ে বলেছেন—এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পার্টের মতো নিখুঁত না হলেও রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা ছবিটিকে উঁচুতে নিয়ে গেছে।

    এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ৫-এ ৩ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘ধুরন্ধর টু’ মূলত রণবীর সিংয়ের শো; ছবির কিছু অংশ গল্পের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ রেটিং দিয়ে বলেছেন, গল্প বলার ধরন শক্ত ও টুইস্টভরা, যা দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখে।

    রেকর্ডের দিক দিয়ে ‘ধুরন্ধর টু’ বেশ কিছু সাফল্য দেখিয়েছে। মুক্তির প্রথম দিনে (পেইড প্রিভিউ সহ) এটি একঝাঁক রেকর্ড গঠন করেছে—ভারতীয় সিনেমার মধ্যে একদিনে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে স্থান করেছে; শীর্ষে রয়েছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’ (প্রথম দিনের আয় প্রায় ২৬০ কোটি রুপি)। তাছাড়া একদিনে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি আয়কারী ভারতীয় সিনেমার তালিকায়ও এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে ‘ট্রিপল আর’ (২২২ কোটি) ও ‘বাহুবলি টু’ (২১৪ কোটি) আছে। আরও দিক থেকে, হিন্দি ভার্সনে একদিনে সবচেয়ে বেশি আয়কারী সিনেমার তালিকায় ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে, এতে ‘জওয়ান’ ও ‘পুষ্পা টু’কেও পিছনে ফেলা হয়েছে।

    বক্স অফিস বিশ্লেষকদের অনুমান ও প্রযোজকদের আশা উভয়ই উচ্চ। মুক্তির আগেই অনেক বিশ্লেষক বলেছিলেন, ভারতীয় বাজারে ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি আয় করতে পারে—যার সমতুল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১৩২১ কোটি টাকার মতো। বক্স অফিস বিশ্লেষক তরণ আদর্শ মত দিয়েছেন যে, যদি দর্শকদের চাহিদা মেটানো যায় তো ব্যবসার সীমা আকাশই হতে পারে; এর আগে ‘পুষ্পা’ ও ‘জওয়ান’ এর মতো ছবির উদাহরণ থেকেও তা দেখা গেছে।

    কিছু প্রযোজক ও মালিকও উচ্চ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন, ১ হাজার কোটি রুপির আয়ের নীচে গেলে তারা সন্তুষ্ট হবেন না। ঐতিহাসিকভাবে এমন বেশ কিছু ছবিই ছিল যা নিজ নিজ ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে—এমন সম্ভাবনা ‘ধুরন্ধর টু’ নিয়েও শোনা যাচ্ছে।

    অভিনয়ে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে প্রথম ছবিতে বড় পর্দায় অভিষেক করেছিলেন সারা অর্জুন; সিক্যুয়েলেও তিনি রণবীরের সঙ্গে রয়েছেন। তার পাশাপাশি আরও আছেন অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবন প্রমুখ। প্রায় ২৮০ কোটি রুপি বাজেটে ছবিটির প্রযোজনায় ছিলেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    সংক্ষেপে, মুক্তির প্রথম কয়েক দিনে ‘ধুরন্ধর টু’ বাণিজ্যিকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝেও দর্শকপ্রিয়তার চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে ছবিটি কী পরিসরে ব্যবসা বাড়ায়, সেটাই এখন নজর কেড়েছে বক্স অফিসবিশ্বের।

  • মনিকা কবির বিয়ে করলেন—বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    মনিকা কবির বিয়ে করলেন—বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    রাশিয়ান বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবির আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন। তিনি নিজেই রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

    ভিডিওতে দেখা যায় নবদম্পতি আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন এবং খুনসুটি করছেন। ক্যাপশনে মনিকা লেখেন, ‘আমরা বিয়ে করেছি। বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান।’ তিনি জানান, ঘরোয়া পরিবেশে মালা বদল এনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

    গত আগস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মনিকা জানিয়েছিলেন, পাঞ্জাবিওয়াল ছেলেদের তিনি খুব পছন্দ করেন এবং তিনি মূলত বাংলাদেশের ছেলেকেই বিয়ে করতে চান—এবার সেই ইচ্ছা পূরণ হল।

    তবে মনিকার সাম্প্রতিক জীবন নিয়ে বিতর্কও ছিল। ঢাকার রাস্তায় এক পথচারীকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন এবং ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বর্তমান বিয়ের খবর শেয়ার করা হলেও সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও মামলার বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে।

  • ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    ধুরন্ধর টু: চার দিনে আয় প্রায় ৯০৯ কোটি টাকা

    দীর্ঘ আড়াই বছরের বিরতির পর রণবীর সিং বড়পর্দায় ফিরে এসেছেন ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের দ্বিতীয় অংশে। আদিত্য ধর পরিচালিত প্রথম পর্বটি মুক্তির পর থেকে বড় সাফল্য হতেছিল এবং ভক্তদের মধ্যে সিক্যুয়েল নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে — সেই প্রত্যাশাই এবার রূপ নিয়েছে।

    ‘ধুরন্ধর টু’ ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় এবং খুব দ্রুত বক্স অফিসে জোয়ার তোলে। বিভিন্ন বক্স অফিস ট্র্যাকার ও সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রথম চার দিনের আয় নিয়ে একেবারে চোখে পড়ে এমন ফলাফল দেখা দিয়েছে। স্যাকনিল্ক-এর রিপোর্ট অনুযায়ী সিনেমাটি চার দিনে ভারতে আয় করেছে ৫৪১.৯৭ কোটি রুপির (গ্রস), আর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬৯১.৩২ কোটি রুপিতে — যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকার সমান। অন্যদিকে বলি মুভি রিভিউর রিপোর্ট বলছে, চার দিনে বিশ্বব্যাপী আয় ৬৯৫ কোটি রুপির কাছাকাছি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০৯ কোটি টাকারও বেশি।

    সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। দ্য টেলিগ্রাফের একজন সমালোচক বলেন, ছবিতে রক্তঝরা দৃশ্য ও নৈরাশ্যের উপাদান আছে, এবং সেই কাঁচামাটির সাহস আছে, কিন্তু প্রথম অংশের যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য ছিল তা পুরোপুরি ধরে রাখা যায়নি। হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-তে ৪ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে এটি একটি রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পর্বের নির্ভুলতার সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের টান ছবিটিকে উঁচুতে নিয়ে গেছে।

    এনডিটিভির রাধিকা শর্মা ছবি কে ৫-তে ৩ রেটিং দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘ধুরন্ধর টু’ মূলত রণবীর সিংয়ের শো—কিন্তু ছবির কিছু অংশ বিতর্কিত ও শক্তপোক্ত। নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ রেটিং দিয়ে উল্লেখ করেছেন, কাহিনীর বল এবং একের পর এক টুইস্ট ছবিটিকে আকর্ষণীয় রাখে; বর্ণনার গভীরতা বলযোগ্য।

    বক্স অফিস রেকর্ডে ‘ধুরন্ধর টু’ প্রথম দিন থেকেই বাজিমাত করে। মুক্তির প্রথম দিনে (পেইড প্রিভিউ সহ) এটি ভারতের ভেন্যুগুলোতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়কারী ভারতীয় সিনেমা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে—শীর্ষে আছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’ (প্রথম দিন আয় ≈ ২৬০ কোটি রুপি)। একই তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে ‘ট্রিপল আর’ (≈২২২ কোটি) ও ‘বাহুবলি টু’ (≈২১৪ কোটি)। হিন্দি ভাষাভিত্তিক সিনেমার মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষে উঠে এসেছে, এতে শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ ও আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’কেও পিছনে ফেলা হয়েছে।

    বক্স অফিস বিশ্লেষকরা মুক্তির আগেই এই ছবিকে বড় সংখ্যক ব্যবসা করার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। কিছু বিশ্লেষকের অনুমান—ভারতে ‘ধুরন্ধর টু’ ১ হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত আয় করতে পারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩২১ কোটি টাকার কাছাকাছি)। বক্স অফিস বিশ্লেষক তরণ আদর্শ মন্তব্য করেছেন, দর্শকের চাহিদা পূরণ করলে সীমা হয়ে যায় আকাশ; ‘পুষ্পা’, ‘জওয়ান’ ও ‘ধুরন্ধর’ প্রথম পর্বই প্রমাণ করেছে যে এমনটা সম্ভব।

    সিরিজের মালিকপক্ষ ও নির্মাণদলও উচ্চাভিলাষী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিহারের পুরনিয়ার সিনেমা মালিক বিশেক চৌহান স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে না যায় তবে তিনি সন্তুষ্ট হবেন না। প্রযোজকরা অতীতের বড় হিটগুলোকে সামনে রেখে আশা প্রকাশ করেছেন যে ‘ধুরন্ধর টু’ও সেই কাতারে যোগ দিতে পারবে।

    চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা সংক্রান্ত কিছু তথ্য: রণবীর সিংয়ের নায়িকাদের মধ্যে ছিলেন সারা অর্জুন, যিনি প্রথম ছবিতেই বড় পর্দায় অভিষিক্ত হয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় পর্বেও প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন। আরও অভিনয় করেছেন—অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবন প্রমুখ। ছবিটির আনুমানিক বাজেট ছিল ≈২৮০ কোটি রুপি এবং প্রযোজনায় আছেন আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপান্ডে।

    সংক্ষেপে, ‘ধুরন্ধর টু’ রিলিজের প্রথম চার দিনে বক্স অফিসে উল্লাস ও সমালোচনার তৈরি মিলিত প্রতিক্রিয়া আজকের সিনেমা জগতকে নতুন করে আলোচনা শুরু করিয়েছে। দর্শক প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী সপ্তাহের ব্যবসা কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • মনিকা কবিরের বিয়ে: বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    মনিকা কবিরের বিয়ে: বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান

    রুশবংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবির আগস্টে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে পাঞ্জাবিওয়াল ছেলেরা তাঁর বেশ আকর্ষণ করে, তবুও তিনি নিজেও একজন বাংলাদেশি ছেলেকে বিয়ে করতে চান। সেই কথাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।

    রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে মনিকা নিজেই বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায় নবদম্পতি আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন, খুনসুটি করছেন এবং কাছে থেকেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপভোগ করছেন।

    ক্যাপশনে মনিকা লেখেন, “আমরা বিয়ে করেছি। বর বাংলাদেশি যুবক ওয়াহিদ জামান। ঘরোয়া পরিবেশে মালা বদলের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।” সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ওই ক্লিপে অতিথি ও আত্মীয়দের উপস্থিতিতে শান্ত ও প্রাইভেট পরিবেশেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত মেলে।

    মনিকার हालের সময়ে একটি বিবাদও ছিল। সম্প্রতি ঢাকার রাস্তায় এক পথচারীকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং সেই ঘটনার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। বিয়ের খবর ঘোষণার পাশাপাশি ওই ঘটনার প্রসঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    উত্তেজনা ও সমালোচনার মাঝেও মনিকা ও ওয়াহিদ যে ঘরোয়াভাবে বিয়ে করেছেন, তা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • প্রথমবার বাবা–ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান, চাঁদরাতে প্রকাশ

    প্রথমবার বাবা–ভাইকে নিয়ে জাহিদ নিরবের গান, চাঁদরাতে প্রকাশ

    দেশের তুখোড় কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে অনবদ্য হয়েছে জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীত। এবার নিজের পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার গান প্রকাশ করছেন তিনি। ঈদুল ফিতরের চাঁদরাতে মুক্তি পাবে তাঁর কাওয়ালী শৈলীর গান ‘শুকরিয়া হাসনাহ’।

    গানটি প্রকাশ হবে জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে। পাশাপাশি প্রাইম ব্যাংক নিবেদিত ভিডিওটি প্রকাশ করা হবে প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেলে।

    জাহিদ নিরব জানালেন, বাড়িতেই তাদের সঙ্গীতচর্চা হয়ে উঠেছিল—’আব্বা হারমোনিয়ামে, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই’—এভাবেই শুরু। এই প্রজন্মের সঙ্গে মঞ্চেও যে তাল-মিল রয়েছে, সেই পরিবেশ থেকেই তিনি এবার বাড়ির মানুষগুলোর অংশগ্রহণে গানটি রেকর্ড করেছেন। গানে হারমোনিয়ামে রয়েছেন তার বাবা, তবলা বাজিয়েছেন বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম, গিটারে আছেন ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড়, আর রাবাবে সুর বেঁধেছেন মেহেদী হাসান তামজিদ—মুন্সীগঞ্জের সেই পরিচিত মঞ্চ এখন গান হিসেবে সকলের সামনে আসছে।

    গানের কথা সাজিয়েছেন মঞ্জুর এলাহী। তিনি বলেন, “গানটির কথায় উঠে এসেছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে সৃষ্টিকর্তার অজস্র অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা—কতটুকু আমরা সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, তা ভেবে এই গানটি তৈরি।”

    ওই গানের জন্মটা একটু অন্যরকম। নিরব জানান, এটি মূলত প্রাইম ব্যাংকের ‘হাসানাহ’ জিঙ্গেল হিসেবে তৈরি ছিল। লাইনগুলো ভালো লাগায় অনুমতি নিয়ে তিনি সেটিকে পূর্ণাঙ্গ গান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ভিডিও নির্মাণে অনেক দিনের সহযোগী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তাঁর টিমের অবদান বড় ছিল।

    এই ঈদটা নিরবের কাছে একটু বিশেষ—গতবছর তিনি বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন, তাই বিয়ের পর এটি তার প্রথম ঈদ। জানালেন, “এবারের ঈদ আমার জন্য আলাদা—সবকিছু যেন একটু নতুন লাগে।” তবু বিশ্রিতেই সময় নেই; নিয়মিত কাজ আর ঈদের বিশেষ প্রজেক্টে ব্যস্ততা মিশে আছে তার দৈনন্দিনে।

    গতকালের কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ঈদের ছবি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব—এতে তানিম নূর অনেক সাহায্য করেছেন। রায়হান রাফীর পরিচালিত ছবিটি ‘প্রেশার কুকার’-এও একটি গান আছে, গানটি গান করেছেন অঙ্কন কুমার; কথা ও সুরও তারই। নিরব বলেন, “দারুণ একটা কাজ হয়েছে।”

    ঈদ উপলক্ষে টিভির নাটকগুলোতেও তার সুর রয়েছে। ‘তবুও মন’ নাটকের জন্য ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ শিরোনামের গানটির কথা লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত নিরবের, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। এছাড়া ‘লিলিথ’ নাটকের ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান—এই গানের কথা লিখেছেন তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব ছিলেন প্রযোজনা ও সুরে সক্রিয়। প্রকাশ পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ‘মিউ’-র গান ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুদের জন্য লেখা ‘মিউ মিউ মিউ’। পাশাপাশি জিঙ্গেল ও প্রবাসীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের মিউজিক ভিডিওর কাজও করেছেন; তার একটি আনপ্লাগড ভার্সন শিগগিরই প্রকাশের অপেক্ষায়।

    নিয়মিত সিনেমা-টিভি ও ওয়েব কাজের পাশাপাশি তিনি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর মিউজিক ডিরেক্টর। ধারাবাহিকটির ঈদ বিশেষ এপিসোডও উৎসাহ বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে গান, নাটক, সিনেমা—প্রায় প্রতিটি ধাঁচের কাজে ব্যস্ত থাকা নিরবের জন্য 올해 ঈদ যেন সত্যিই আনন্দ আর কাজের সমাহার হয়ে উঠেছে।

  • দিলজিৎ দোসাঞ্জের ১৪ কনসার্টে আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি

    দিলজিৎ দোসাঞ্জের ১৪ কনসার্টে আয় প্রায় ৯৪৩ কোটি

    কেবল গান-বিনোদন নয়—কনসার্ট এখন বিশাল একটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক ডিল-লুমিনাটি ট্যুর সেই বাস্তবটাই প্রমাণ করল। মাত্র ১৪টি শোতে, ১৩টি শহর ঘেঁটে এই ট্যুর থেকে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকা।

    টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে প্রায় ২২১ কোটি টাকা, স্পনসরশিপের আওতায় যোগ হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকারও বেশি—প্রতিটি শো যেন একেকটি ছোট অর্থনীতি চালিত কেন্দ্র।

    কিন্তু সবচেয়ে চোখে পড়া ছিল পরোক্ষ আয়ের পরিসর। ভ্রমণ, হোটেল, খাবার ও কেনাকাটাসহ ভক্তদের খরচ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। জরিপে দেখা গেছে দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশই অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত থাকেন—ফলত: স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা লক্ষণীয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    দর্শক উন্মাদনা ছিল আশ্চর্যজনক: ১৪টি শোতে মোট দর্শকসংখ্যা ৩,২০,০০০ ছাড়িয়েছে, আর দিল্লির এক কনসার্টেই উপস্থিত ছিল প্রায় ৫৫,০০০ মানুষ। প্রতিটি শো আগাম হাউসফুল ছিল। বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত বড় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা না করলেও এই সাফল্য দিলজিৎকে অবশ্যই বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে বিশেষভাবে তুলে এনেছে।

    শুধু রাজস্বই নয়—এই ট্যুর নতুন কর্মসংস্থানের দ্বারও খুলে দিয়েছে। প্রায় ১,১৮,০০০ কর্মঘণ্টা সৃষ্টি হয়েছে; লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা খাতে হাজারও মানুষের কাজে যোগ হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি কনসার্ট এখন শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এক পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম।

    সংক্ষেপে, দিলজিৎ দোসাঞ্জের এই ট্যুর দেখাল কনসার্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিশাল আর্থিক সম্ভাবনা—সঙ্গীতের আনন্দ আর অর্থনৈতিক গতি, দুটোই একসঙ্গে নিয়ে।

  • মাত্র ১৪ শোতে ৯৪৩ কোটি আয়, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ট্যুরে তৈরি হলো বিশাল অর্থনীতি

    মাত্র ১৪ শোতে ৯৪৩ কোটি আয়, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ট্যুরে তৈরি হলো বিশাল অর্থনীতি

    কনসার্ট কি শুধু গান-শোবিজ? দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক ‘ডিল-লুমিনাটি’ ট্যুর প্রমাণ করল—একটি মেগা শো নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারে। মাত্র ১৪টি কনসার্টে ১৩টি শহরে ঘোরার পর ট্যুরটি মোট প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকার আয় করেছে।

    অর্থের খোলস ছুঁড়ে দেখলে আয় বিভাজন স্পষ্ট। টিকিট বিক্রি থেকেই এসেছে প্রায় ২২১ কোটি, স্পনসরশিপ থেকে যোগ হয়েছে ৩৩ কোটি, আর ট্যাক্স ও ফি হিসেবে সরকারি কোষাগারে গড়িয়েছে ১১৪ কোটিরও বেশি। প্রতিটি শো যেন নিজের জায়গায় একটি ছোট আর্থিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

    কিন্তু সবচেয়ে চমকটা ছিল পরোক্ষ আয়ে—ভ্রমণ, হোটেল, খাওয়া-দাওয়া, কেনাকাটা ও স্থানীয় সেবা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। প্রায় ৩৮% দর্শক অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন পর্যন্ত সেখানে থেমে গেছেন, ফলে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসায় ব্যাপক সুবিধা গেছে।

    দর্শক উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৪টি শোয়ে মোট উপস্থিতি ছিল প্রায় ৩২০,০০০ জন, এবং দিল্লির এক কনসার্টে মাত্র একটিই অনুষ্ঠানে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫,০০০। প্রতিটি শো আগেই হাউসফুল ঘোষণা করা হয়েছিল।

    এই ট্যুর শুধু বিনোদনই জোগায় না—কাজও সৃষ্টি করে। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে; লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ বহু খাতে লোকচাহিদা বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, প্রত্যেক কনসার্ট এখন গৃহস্থালি বিনোদনের বাইরে একটি প্রতিষ্ঠান-সমেত অর্থনৈতিক আন্দোলন।

    বিশ্বমঞ্চের বড় তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলে এখনও কিছু জায়গায় এগোতে হবে, তবু এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দেখা যায়—একজন শিল্পীর কনসার্ট কেবল মঞ্চ নয়; তা শহরের অর্থনীতি, রোজগার ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

  • চাঁদরাতে প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে গান প্রকাশ করবেন জাহিদ নিরব

    চাঁদরাতে প্রথমবার বাবা-ভাইকে নিয়ে গান প্রকাশ করবেন জাহিদ নিরব

    দেশজুড়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের কণ্ঠে শোনা যাবে জাহিদ নিরবের সুর ও সংগীত—আর এবার সেই গানটি তিনি করেছেন পুরো পরিবারের সঙ্গে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নির্মিত কাওয়ালী ঘরানের ‘শুকরিয়া হাসনাহ’ শিরোনামের গানটি চাঁদরাতে প্রকাশ পাবে।

    গানটি জাহিদ নিরবের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি ভিডিওটি দেখা যাবে প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, যা প্রাইম ব্যাংক এই প্রকল্পটির নিবেদন।

    জাহিদ নিরব বলেন, ‘বাসায় আমরা সব সময় একসঙ্গে গান করি। আব্বা হারমোনিয়াম বাজান, আমি মাইক্রোফোনের সামনে গাই—এভাবেই আমার সংগীত জীবনের শুরু। বড় ভাই জুবায়েদ আল নাঈম তবলা, ছোট ভাই হাসিবুল নিবিড় গিটার এবং মেহেদী হাসান তামজিদ রাবাব বাজিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জের সেই মঞ্চের পরিবেশনা এবার গান আকারে তুলে দিচ্ছি।’

    গানটির কথা সাজিয়েছেন মঞ্জুর এলাহি। তিনি বলেন, ‘কথাগুলো অসাধারণ—সৃষ্টিকর্তার অগণিত নিয়ামতের প্রতি আমরা কতটুকু কৃতজ্ঞ তা বোঝাতে চেয়েছি। সেই উপলব্ধিই এই গানের মুল ভাবনা।’

    জানিয়েছেন, গানটি মূলত প্রাইম ব্যাংকের ‘হাসানাহ’ জিঙ্গেল হিসেবে শুরু হলেও তিনি তার কথাবার্তা ও ভাবনা ভালো লাগায় অনুমতি নিয়ে পুরো গানটি তৈরি করেছেন। গানটির ভিডিও নির্মাণে অনেক বছরের সহযাত্রী কাওসার ইসলাম প্রান্ত ও তার টিমের বড় ভূমিকা রয়েছে, যা এই মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত করেছে।

    নিরব জানান, এইবারের ঈদ তার জন্য বিশেষ—গত বছর বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর এটি প্রথম ঈদ। ‘‘বিয়ের পর প্রথম ঈদ—সবকিছুই একটু আলাদা অনুভূত হচ্ছে,’’ তিনি বলেন।

    তবে ব্যস্ততা কম নেই। চলতি সময়ে তিনি নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ঈদের জন্য বিভিন্ন প্রজেক্টে জড়িত। ঈদের ছবিটি ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’র পুরো সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল; তানিম নূর তার কাজটি সহজ করেছেন। এছাড়া রায়হান রাফীর পরিচালিত ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায়ও একটি গান রয়েছে, যা গেয়েছেন অঙ্কন কুমার—কথা ও সুরও তারই।

    নাটকের কাজও কম নয়—‘তবুও মন’ নাটকের জন্য ‘এভাবেও হতে পারে প্রেম’ শিরোনামে গানটি লিখেছেন তারিক তুহিন; সুর ও সংগীত করেছেন নিরব, কণ্ঠ দিয়েছেন সালমান ও মাশা। নাটক ‘লিলিথ’-এর ‘পিছু ডেকো না’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দোলা রহমান; কথার লেখক তানিন নিনাত।

    রমজানেও নিরব সক্রিয় ছিলেন—রিলিজ হয়েছে বেশ কিছু কাজ। ওয়েবফিল্ম ‘মিউ’-র জন্য তিনি করেছেন ‘কেন এমন হয়’ এবং শিশুতোষ গান ‘মিউ মিউ মিউ’। পাশাপাশি জিঙ্গেলের কাজও চলছিল; প্রবাসীদের নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের একটি মিউজিক ভিডিও করেছেন, যার একটি আনপ্লাগড ভার্সনও শিগগিরই প্রকাশ হবে।

    এর বাইরে তিনি ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন ৫-এর মিউজিক ডিরেক্টর। ধারাবাহিকটির বিশেষ ঈদ এপিসোডও থাকায় কাজের তৎপরতা আরো বেড়েছে। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ জাহিদ নিরবের কাছে কাজ আর আনন্দে পরিপূর্ণ—পরিবারের সঙ্গে গান প্রকাশ হচ্ছে, নতুন-নতুন প্রজেক্টে ব্যস্ততা বাড়ছে, এবং ব্যক্তিগতভাবেও এটি তার জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত।

  • ১৪টি কনসার্টে দিলজিৎ আয় করলেন প্রায় ৯৪৩ কোটি

    ১৪টি কনসার্টে দিলজিৎ আয় করলেন প্রায় ৯৪৩ কোটি

    কনসার্ট মানেই কেবল গান-শো নয়—এটা বড় একটি অর্থনৈতিক পদচিহ্নও তৈরি করে। সেই বাস্তবতাই ফের প্রমাণ করলেন বলি ও পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দিলজিৎ দোসাঞ্জ। মাত্র ১৪টি শো ও ১৩টি শহরে তাঁর ‘ডিল-লুমিনাটি’ ট্যুর থেকে মোট আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকার আশেপাশে।

    টিকিট বিক্রি থেকেই এসেছে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ২২১ কোটি টাকা। স্পনসরশিপ থেকে হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটির বেশি। টিকিট ও স্পনসরশিপ ছাড়াও মিডিয়া ও আনুষঙ্গিক উৎস থেকে আয় যোগ হয়েছে, ফলে প্রতিটি শো একেকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে।

    তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল পরোক্ষ অর্থনৈতিক প্রভাব — ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেল, খাবার ও কেনাকাটা মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার সম্পূরক অর্থনীতি। স্ট্যাটিসটিক অনুযায়ী দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশই অন্য শহর থেকে এসে কয়েকদিন অতিরিক্ত রয়েছেন, ফলে কনসার্টগুলোর আশপাশের পর্যটন ও ব্যবসায় অপেক্ষিত চাহিদা বেড়েছে।

    দর্শক উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো ছিল। ১৪টি শোতে মোট দর্শকসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি; বিশেষ করে দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। প্রতিটি শো আগেভাগেই হাউসফুল হয়েছে। বিশ্বমঞ্চের বড় তারকাদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা গেলে এখনও কিছু জায়গায় পিছিয়ে থাকতে পারে, তবু এই ট্যুর দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে শানিত করেছে।

    ট্যুরটি শুধু বিনোদন নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি করেছে—লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা ক্ষেত্রে এই আয়োজন সরাসরি ও পারোক্ষে কাজের সৃষ্টি করেছে; মোট মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টার কর্মসংস্থান।

    সংক্ষেপে, দিলজিৎের এই ট্যুর দেখিয়েছে যে আধুনিক কনসার্ট artık শুধু স্টেজ ও সাউন্ড সিস্টেম নয়—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম, যা স্থানীয় ব্যবসা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানকে গতানুগতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।