Category: জাতীয়

  • নতুন মামলায় গ্রেফতার পলক-আতিক, কিরণের রিমান্ড মঞ্জুর

    নতুন মামলায় গ্রেফতার পলক-আতিক, কিরণের রিমান্ড মঞ্জুর

    জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে হোসেন নামে এক ট্রাক চালকের মৃত্যু ঘটনার ধারাবাহিক মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহম্মেদ পলক এবং উত্তরা পূর্ব থানার এসআই আতিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মিজবাহ উর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

    এর আগে আদালতে পলক ও আতিককে গ্রেফতার করার জন্য আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত ৪ জুন তাদের সাত দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। শুনানির দিন বুধবার এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তেমনি কিরণের বিরুদ্ধে ৬ দফা ধার্য্য ছিল এবং তার রিমান্ডের শুনানি আজকেরদিনে অনুষ্ঠিত হয়।

    সকাল সাড়ে ১০ টায় শুনানি শুরু হয়। প্রথমে পলককে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর আতিক ও কিরণের মামলার শুনানি চলে। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বৈধতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ১৮ জুলাই সারাদেশে মোট বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। এই সময়ে উত্তরা এলাকায় শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা হামলা চালায়। হামলাকারীরা গুলি করে প্রাণহানি ঘটায়, বিশেষ করে কিরণ সহ অন্যান্যরা। কিরণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তদন্তের সুবিধার্থে তার রিমান্ডে নেওয়া জরুরি, তাই সর্বোচ্চ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের দাবি করেন তিনি।

    অপরদিকে, কিরণের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন জানান। তিনি বলেন, গত ৪ জুন রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আজ প্রায় ১১৭ দিন পরে শুনানি হচ্ছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নাতীত। তিনি জানান, তিনি এই ঘটনায় জড়িত নন। তাঁর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি খুবই কঠিন। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিনের জন্য আবেদন করেন।

    প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এসআই আতিকুর রহমান বলেন, এই আসামিকে আদালতে হাজির করতে ছয়বার প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে, কিন্তু অনিবার্য কারণে তার উপস্থিতি সম্ভব হয়নি। জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

    অথচ, আদালত কিরণের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ও আতিকের গ্রেফতার দেখানোর আবেদনও অনুমোদন দেন।

    অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানার চার নম্বর সেক্টরে এক ব্যবসায়ী ইশতিয়াক মাহমুদসহ অন্যরা অংশগ্রহণ করেন। ওই দিন তিনি ও অন্যরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়। গুলিবর্ষণে ইশতিয়াকের পেটে গুলি লাগে, তিনি দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

    তাছাড়া, ২৯ অক্টোবর ইশতিয়াক মাহমুদ বাদী হয়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ১২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    মোহাম্মদপুরে ১৯ জুলাই গুলিতে ট্রাকচালক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রিনা বেগম ৩১ আগস্ট মামলা দায়ের করেন।

  • জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮০ জনের মৃত্যু: বিআরটিএ

    জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮০ জনের মৃত্যু: বিআরটিএ

    জুলাই ماهে দেশজুড়ে মোট ৪২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৮০ জন, আহত হয়েছেন আরও ৫৪২ মানুষ। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর চেয়ারম্যান আবু মমতাজ סাদ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে বিভাগীয় অফিসের মাধ্যমে।

  • সব চ্যালেঞ্জ মুখোমুখি, সুস্থ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    সব চ্যালেঞ্জ মুখোমুখি, সুস্থ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যে কোনো পরিস্থিতিতে, যতই চ্যালেঞ্জিং হোক না কেন, আমাদের সুস্থ ও স্বনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একসঙ্গে উদ্যোগ গ্রহণ এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য প্রকাশিত ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব খুবই বেশি কারণ এটি স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত জাতি গঠন ও দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি অপরিহার্য। না হলে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত সম্ভব নয়। তাই, যে কোনো পরিস্থিতি হোক বা যতই চ্যালেঞ্জিং হোক, আমাদের অবশ্যই সুস্থ ও শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি, বেসরকারি, সুশীল সমাজ, আন্তর্জাতিক ও সমাজসেবা সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা—সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে অসংক্রামক রোগ দিন দিন বিস্তৃত হয়ে চলেছে। বাংলাদেশের স্থান ও জনগোষ্ঠীর অবস্থান ভৌগোলিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি আরও সংকটময় করে তুলেছে। এ কারণে এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি বিষয়, যা শুধু স্বাস্থ্য খাতেরই না, বরং দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নেও গভীরভাবে জড়িত।

    ড. ইউনূস সাধারণত: বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে অসংক্রামক রোগের কারণে, যেখানে ৫১ শতাংশ মারা যান ৭০ বছরের নিচে, যাকে আমরা অকাল মৃত্যু বলে থাকি। দেশের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের অনেকাংশই যাচ্ছে এই রোগের কারণে। একজনের ক্যানসার বা অন্যান্য গুরুতর রোগ হলে পরিবারকে অনেক অর্থ সংগ্রহ করতে হয় এবং অনেক সময় বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে চিকিৎসা করাতে হয়। একারণে দেশের অনেক অর্থ খরচ হয় বিদেশী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে। এজন্য অত্যন্ত জরুরি, রোগের প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এই কাজের জন্য একা স্বাস্থ্য বিভাগ সক্ষম নয়; সকল মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। খাদ্য, কৃষি, শিক্ষা, ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত—প্রত্যেকটি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেকখাতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণের দরকার। এ জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করে তার উপর জোরদার নজরদারি ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধুমাত্র সচেতন থাকলেও কাজ হয় না; বাস্তবতা হলো জীবনের প্রতিটি দিকের উপর এর প্রভাব পড়ছে। তরুণ সমাজের ওপর তামাকের বিরুদ্ধে সচেতনতা জরুরি, না হলে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়বে।

    সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হয়ে চিনি বা অন্য খাদ্য উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। নাগরিক সমাজ, যুবশক্তি ও নারীদের স্বাস্থ্যবান্ধব নীতিমালা ও কার্যক্রমের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বলেন।

    তিনি বলেন, ‘যৌথ ঘোষনা’ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কারিগরি সহযোগিতা দরকার। তিনি বিশ্বাস করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেল থেকে এই উদ্যোগের সফলতার সম্ভাবনা বেশি। এ জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারী মন্ত্রণালয়গুলোকে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বলেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    একই সঙ্গে, তিনি বলেন, প্রতিটি কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্য গভীর মনিটরিং, উপযুক্ত জনবল ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে আহ্বান জানান।

    অবশেষে, তিনি বলেন, ‘যৌথ ঘোষণা’ স্বাক্ষর মাধ্যমে আমরা দেশের জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করলাম। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক আন্তরিক উদ্যোগ। এর সফল বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য আরও উন্নত হবে এবং এটি দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • এনবিআর এর ৪১ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বদলি

    এনবিআর এর ৪১ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বদলি

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৪১ জন অতিরিক্ত কর কমিশনারকে একযোগে নতুন কর্মস্থলে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই বদলি কার্যক্রমটি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে, যাতে কর্মকর্তারা অবিলম্বে নতুন পরিবেশে যোগদান করতে পারেন। মঙ্গলবার এনবিআর কর প্রশাসন থেকে প্রকাশিত এক চিঠিতে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এত সংখ্যক কর্মকর্তাদের একসঙ্গে স্থানান্তর এর আগে দেখা যায়নি।

    বদলির এই প্রক্রিয়ায় ঢাকার বিসিএস (কর) একাডেমির পরিচালক হাফিজ আল আসাদকে ঢাকার কর অঞ্চল-২০ এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়েছে। একইভাবে, শেখ শামীম বুলবুল নরসিংদী কর অঞ্চল, ছায়িদুজ্জামান ভুঞা নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চল, বেগম হাসিনা আক্তার খান গাজীপুর কর অঞ্চল, মর্তুজা শরিফুল ইসলাম ঢাকার কর অঞ্চল-৬, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ঢাকার কর অঞ্চল-১সহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কর অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।

    এছাড়াও, মোঃ নাসেরুজ্জামান ঢাকার কর অঞ্চল-২, মোঃ মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-১, মোঃ নাঈমুর রসুল চট্টগ্রামের কর অঞ্চল-২, ফখরুল ইসলাম খুলনা কর অঞ্চল, আশরাফুল ইসলাম ঢাকার কর অঞ্চল-৩, মোহাম্মদ শাহ্ আলম ঢাকার কর অঞ্চল-৪, মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাত ঢাকার কর অঞ্চল-১১, মোহাম্মদ আব্দুল­াহ খুলনা কর আপিল অঞ্চল, মিজানুর রহমান ঢাকার কর অঞ্চল-১৫, মোঃ মঈনুল হাসান এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, ইভানা আফরোজ সাঈদ ঢাকার কর অঞ্চল-৮, তাহমিনা আক্তার ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-৩, শামীমা পারভীন এনবিআরের সিআইসি, সাহেদ আহমেদ চৌধুরী বড় করদাতা ইউনিটে, ফারজানা সুলতানা ঢাকার কর অঞ্চল-১৪, শামীমা আখতার ঢাকার কর অঞ্চল-১০, মৌসুমী বর্মন কর পরিদর্শন অধিদপ্তরে, মোঃ আবদুর রাজ্জাক ঢাকার কর অঞ্চল-১৬, মোঃ জসীমুদ্দিন আহমেদ ঢাকার কর অঞ্চল-১২, তারিক ইকবাল ঢাকার কর অঞ্চল-৭, মোঃ ফারুকুল ইসলাম ঢাকার কর অঞ্চল-২, মাসুম বিল্লাহ ঢাকার কর অঞ্চল-২১, সারোয়ার মোর্শেদ ঢাকার কর অঞ্চল-২৩, মাসুদুল করিম ভূঁইয়া ঢাকার কর অঞ্চল-১৮, মেহেদী হাসান ঢাকার কর আপিল অঞ্চল-১, হাছিনা আক্তার চট্টগ্রাম কর আপিল, শান্ত কুমার সিংহ ঢাকার কর অঞ্চল-১৭, রিগ্যান চন্দ্র দে’কে বিসিএস (কর) একাডেমি, ফারজানা নাজনীন কুমিল্লা কর অঞ্চল, সুমন দাস এনবিআর এর প্রথম সচিব, শেখ মোঃ কামরুজ্জামান কর পরিদর্শন পরিদপ্তর, তাপস কুমার চন্দ বৃহৎ করদাতা ইউনিট, মোঃ মোশাররফ হোসেন দিনাজপুর কর অঞ্চল, মোঃ আব্দুল মালেক ঢাকার কর অঞ্চল-৫ এবং আরিফুল হক রাজশাহী কর অঞ্চলে বদলি করা হয়েছে।

  • ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় এস আলমসহ ২৬ জন আসামি

    ২০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় এস আলমসহ ২৬ জন আসামি

    দুদক অর্থাৎ দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ তুলেছে যে, ঋণের নামে মোট ২০৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। অভিযোগ অনুযায়ী, এস আলম গ্র“পের মালিক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক দুই পরিচালক রন হক শিকদার ও রিক হক শিকদারসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যে মামলাটি মঙ্গলবার ঢাকাপ্রদর্শন করে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১)। সংস্থাটির মহাপরিচালক মোঃ আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন ও ব্যবসায়ী যারা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেন। এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা আন্তর্জাতিক মানের জালিয়াতি ও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন কৌশলে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ১১ কোটি ১০ লাখ টাকার ঋণ উত্তোলন করে। এরপর তারা এই অর্থের পরিমাণ সুদসহ এখন মোট ২০৭ কোটি ৪২ লাখ ২২ হাজার ৭৬৯ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এই অর্থের মধ্যে কিছু অর্থ পরবর্তীতে অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং কর্মকাণ্ডের অংশ। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ড বিধি ৪০৯, ৪২০, ১০৯, ১২০খ, এছাড়াও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত ৪১৮ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট

    জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত ৪১৮ জন: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট

    জুলাই মাসে দেশে চলন্ত গাড়ি ও যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটে ৪৪৩টি, যেখানে নিহত হয়েছেন ৪১৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৫৬ জন। এই তথ্য প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তারা জানিয়েছে, নিহতের মধ্যে নারী রয়েছেন ৭২ জন (১৭.২২%) এবং শিশু ৫৩ জন (১২.৬৭%)। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে মোটরসাইকেল চালকদের সঙ্গে, এর মধ্যে নিহত ১০৯ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৬.০৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার এখন ২৯.৫৭ শতাংশ, যা সাধারণ দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পথচারী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৯২ জন, অর্থাৎ ২২ শতাংশ, আর যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৬ জন, যা ১৩.৪০ শতাংশ। এছাড়াও, এই সময়ের মধ্যে চারটি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জনের প্রাণ হারিয়েছেন। রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ জন এবং আহত ৭ জন।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে দেশের ৯টি প্রধান দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং তাদের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যার মধ্যে ২৬.০৮% ঘটেছে। এর পর রয়েছে বাস দুর্ঘটনা ৯.৮০%, ট্রাক-পিকআপআরোহী ৭.১৭%, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স ৪.৭৮%, তিন-হুইলার ২৫.৮৪%, স্থানীয় যানবাহন ২.৮৭%, বাইসাইকেল-রিকশা ১.৪৪%।

    পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটেছে দেশের স্বনামধন্য মহাসড়কগুলোতে, যেখানে মোট ৪৫.৮২% দুর্ঘটনা, আঞ্চলিক সড়কে ৩৩.৬৩% এবং গ্রামীণ সড়কে ১০.৮৩%। শহরাঞ্চলে দুর্ঘটনার হার ৮.৩৫%। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে ২৬.৪১% দুর্ঘটনা এবং ২৫.১১% প্রাণহানি। অপরদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। জেলাওয়ারীতে, ঢাকার জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা হয়েছে ৪৭টি, যার মধ্যে নিহত হয়েছেন ৩৪ জন। আর জয়পুরহাট জেলায় দুর্ঘটনার সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ৩টি, যেখানে ১ জন নিহত হন।

  • সাগরীয় নিম্নচাপ দুর্বল হতে শুরু করেছে

    সাগরীয় নিম্নচাপ দুর্বল হতে শুরু করেছে

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই নিম্নচাপটি বর্তমানে উপকূলীয় ওড়িশা এবং তার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। এটি প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে বলে Meteorological Department এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেছেন, এই নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলের কাছে অবস্থিত। এটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকার দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ওড়িশার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। তিনি আরও জানান, এটি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকবে।

    আবহাওয়া অফিসের মতে, এই নিম্নচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের পার্থক্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাসহ উত্তর বঙ্গোপসাগরে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই ঝড়ো হাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।

    মৎস্যজীবীদের জন্য আগেই সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অবিলম্বে সতর্ক থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি চলাচল থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

  • স্থায়ী নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীকের সরানো, অধ্যাদেশ জারি

    স্থায়ী নির্বাচন থেকে দলীয় প্রতীকের সরানো, অধ্যাদেশ জারি

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে এখন থেকে দলীয় প্রতীকের ব্যবহারroch হবে না। এ জন্য সরকার সম্প্রতি জনপ্রিয়তা বাড়ানো অধ্যাদেশ জারি করেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ধারা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেটি গত ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষর করেন এবং এরপর ১৯ আগস্ট এটি সাধারণের কাছে প্রকাশ করা হয়।

    এর আগে, ১ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চারটি পৃথক অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়। এরপর ২৪ জুলাই এর অনুমোদন পেয়ে এগুলো গেজেটে প্রকাশিত হয়।

    এটি মনে করা হচ্ছে, ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক কার্যকর হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এবং স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনও এই প্রক্রিয়ায় দলের প্রতীক বাদ দেওয়ার পক্ষে সুপারিশ করেছিল।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক দলের সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকা বহু যোগ্য ব্যক্তিও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করবেন। এই উদ্যোগ যাতে সাধারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরো বেশি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সমতামূলক করে তোলে, সেটাই লক্ষ্য।

  • কারিগরি ভুলের কারণে বিমানে বদলি, শাস্তি ও শোকজ কার্যক্রম শুরু

    কারিগরি ভুলের কারণে বিমানে বদলি, শাস্তি ও শোকজ কার্যক্রম শুরু

    সম্প্রতি দেশের বিমানের কিছু ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটি দেখা যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিভিন্ন দ্রুত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর এই বিষয়ে গণমাধ্যমে জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা-আবুধাবি ফ্লাইটে টয়লেটের ফ্ল্যাশের ঘটনাটি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও জানানো হয়েছে, এই বছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত কারিগরি সমস্যা গুলোর বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতিটি ফ্লাইটের রেকর্ড ও অপারেশনাল ডেটা বিশ্লেষণ করে মূল সমস্যার কারণ সনাক্ত করবে। যদি কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিমান বলেছে, এই ধরণের সমস্যা পুনরায় না ঘটতে এর্তেথে করণীয় নির্ণয়ে কমিটি সুপারিশ দেবে। এই জন্য দশ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিলের পরিকল্পনা রয়েছে। একতরফা দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে জনবল পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দুজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, আর আরো কয়েকজনের বদলির সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও একজন প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে, এবং অন্য একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    বিমান আরও জানিয়েছে, কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তারা বিভিন্ন গন্তব্যের (যেমন–জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম, আবুধাবি ও শারজাহ) আউটস্টেশনে অতিরিক্ত চাকা মজুত রাখা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চাকা প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় চাকা সংগ্রহের জন্য ক্রয় আদেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, জেদ্দায় বিমানের চাকা ফেটে যাওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিচালক (ফ্লাইট অপারেশন) তদারকি করছেন। প্রকৌশল ও ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধানও তদারকিতে জোর দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১৮ আগস্ট) থেকে রাত্রিকালীন বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালু হয়েছে। একইসঙ্গে বিমানের ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বিস্তারিত অডিট ও পুনরায় মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। এই প্রসঙ্গে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা করে কম্পোনেন্ট সার্ভিসেস প্রোগ্রাম (সিএসপি) তালিকা আবার পর্যালোচনা হচ্ছে, পাশাপাশি রেকমেন্ডেড স্পেয়ার পার্টস লিস্ট (আরএসপিএল) অনুযায়ী যন্ত্রাংশের মজুতের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। যন্ত্রাংশের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে টেইলরড পার্ট প্যাকেজ (টিপিপি) ব্যবস্থাও পর্যালোচনার মধ্যে।

    আরও দীর্ঘমেয়াদি সমর্থন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকৌশলীদের জন্য রিকারেন্ট প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। তাছাড়া, নতুন অ্যাপ্রেন্টিস মেকানিক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে প্রযুক্তিগত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতাগুলো উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • আন্দোলনে আহতরা মারাত্মক মানসিক দুঃখে ভুগছেন

    আন্দোলনে আহতরা মারাত্মক মানসিক দুঃখে ভুগছেন

    জুলাইয়ে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের মধ্যে বড় সংখ্যক মানুষ মারাত্মক মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছেন এবং বেশির ভাগই তীব্র আঘাতের পর মানসিক চাপের সাথে লড়ছেন। বাংলাদেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) পরিচালিত এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্য জানানো হয় সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে, যেখানে বলা হয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি মনোস্তাত্ত্বিক সমস্যা মোকাবেলার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ওই সেমিনারটি ছিল ‘বিয়ন্ড দ্য হেডলাইনস: মেন্টাল হেলথ কন্সিকোয়েন্স অব দ্য জুলাই আপরাইজিং এ্যান্ড মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’ শীর্ষক কেন্দ্রীয় আলোচনাসভা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির আয়োজন করে। সেমিনারটি দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল—প্রথম ভাগে ‘মেন্টাল হেলথ ইম্প্যাক্ট অব ভায়োলেন্স এ্যান্ড ট্রমা’ বিষয়ের উপস্থাপনায় সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ শামসুল আহসান জানান, আহত ২১৭ জনের মধ্যে বিষণ্নতার হার ৮২.৫ শতাংশ এবং পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভোগা মানুষের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ। অন্য অংশে ‘ইম্প্যাক্ট অব ট্রমা ও ভায়োলেন্স এ্যান্ড চাইল্ড এ্যান্ড অ্যাডোলোসেন্ট পপুলেশন’ শিরোনামে অধ্যাপক ডাঃ নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ তুলে ধরেন, শৈশবের ট্রমা ও সহিংসতা কিভাবে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ ও মানসিক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক রোগ ও আচরণগত সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডাঃ আফজালুন নেসা এবং সঞ্চালক ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ খালেদ মাহবুব মোর্শেদ মামুন। মনোরোগবিদ্যায় অবদান রাখা বিশেষজ্ঞেরা বলেন, আহতদের মধ্যে অনেকেরই বিষণ্ণতা ও তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার রোগীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে উদ্বেগ। তারা মনে করেন, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার পরও অনেকের মনোভাব সন্দেহজনক বা উদ্বিগ্ন থাকছে। এজন্য রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানসিক চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং কেন্দ্র চালুর প্রয়োজন। ডাঃ আহসান আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএমইউ, ডিএমসিএইচ, এনআইএমএইচ, সাজেদা ফাউন্ডেশন ও ব্র্যাকের সমন্বয়ে ‘বিশেষ মানসিক স্বাস্থ্য টিম’ গঠন করা হয়েছে, যারা প্রাথমিক প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নে কাজ করছে। এই টিমের মাধ্যমে যাদের মানসিক সমস্যা এখনো গজিয়েছে না, তাদের রক্ষায় মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তারা কাউন্সেলিং, গ্রুপ সেশন এবং প্রয়োজনে কিছু ওষুধের ব্যবহার করছেন। গুরুতর আহতদের জন্য মনোস্তাত্ত্বিক অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। আগে থেকেই যাদের মানসিক সমস্যা রয়েছে, সেই সমস্যা আর বাড়তে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানোর জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে, যেখানে বিএমইউর ডাক্তাররা সহায়তা প্রদান করবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করে, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, শিশুর মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন, সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এড, প্রমাণভিত্তিক থেরাপি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযথ সহায়তা প্রদান। পারিবারিক সহানুভূতি, সচেতন শিক্ষক ও নিরাপদ সমাজের সাথে যৌথ উদ্যোগ শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে। অভিভাবকদের অনুরোধ, শিশুর মানসিক কষ্ট বা পরিবর্তন শনাক্ত করলে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ নিন কারণ দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জটিলতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বিএমইউসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা এই ব্যাপারে হটলাইন চালু করেছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হচ্ছে। ডাঃ মাহজাবিন মোর্শেদ বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করে, সাইকোলজিক্যাল থেরাপি, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থা সমন্বয় করে থাকেন। পরিবার, শিক্ষক ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একসাথে কাজ করলে শিশুদের মানসিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়। শিশুর মানসিক কষ্ট বা পরিবর্তন লক্ষ্য করলে দেরি না করে মনোবিজ্ঞানীর সহায়তা নেওয়া জরুরি। তারা বলে থাকেন, দ্রুত হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতের জটিলতা কমানোর মূল চাবিকাঠি। এই পেশাজীবীরা শুধু চিকিৎসকই নন, তারা শিশুর জন্য সহায়ক, পথপ্রদর্শক এবং ভবিষ্যৎ রক্ষাকারী। বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ নাহরীন আখতারও উল্লেখ করেন, ট্রমা, সহিংসতা ও মানসিক অস্থিরতা রোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সবাই যৌথভাবে দায়িত্বশীল ও যত্নশীল হতে হবে।