Category: জাতীয়

  • জুলাই-আগস্টে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলো সরকার

    জুলাই-আগস্টে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলো সরকার

    বাংলাদেশ সরকার লুট হওয়া অস্ত্রের খোঁজ দিতে পারলে বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন লুট হওয়া অস্ত্রের তথ্য দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ অর্থ পুরস্কার পাচ্ছেন। তিনি জানান, পুরস্কারের পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের জন্য বিভিণ্ণ। পিস্তল ও শটগান হলে পাবেন ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেলে ১ লাখ টাকা, এসএমজি থাকলে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এবং এলএমজি পেলে পুরস্কার হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া, লুট হওয়া গুলির জন্য প্রতি গুলির জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে। যেকোনো তথ্যদাতা তার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    বলেন, গত বছর গণআন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ, ফাঁড়ি ও কারাগারভুক্ত গোপন গোষ্ঠী অস্ত্রের লুট করে। এসব অস্ত্রের মধ্যে কিছু ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, এখনও প্রায় ৭০০ অস্ত্র উদ্ধার বাকি থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, সম্প্রতি গাজীপুরে পুলিশ কমিশনারের অঙ্গীকার ও রাস্তা বন্ধ করে চলাচলের ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারের এই আচরণ অপ্রয়োজনীয় ও জনভোগের কারণ হয়েছে। এজন্য তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

    এছাড়াও, ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের এক কর্মকর্তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোল ও বিএসএফের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    শেষে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এখন উন্নতির দিকে। বর্তমানে মব সন্ত্রাস কিছুটা কমলেও তা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে। সরকারের লক্ষ্য—নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা—তার জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।

  • প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য: দেশ স্থিতিশীল, ভোটে প্রস্তুত

    প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য: দেশ স্থিতিশীল, ভোটে প্রস্তুত

    আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে নিজস্ব দৃঢ়তার কথা এ সময় আবারও ব্যক করলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরকার প্রত্যক্ষriteriaত প্রস্তুত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের জন্য। সোমবার (২৫ আগস্ট) কক্সবাজারের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পর্যটন শহরটি হোটেল বে ওয়াচে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। এক বছর আগে ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের ফ্যাসিস্টমুক্তি এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়েছি। এখন দেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রস্তুতি নেয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং স্টেবল অবস্থা এসেছে। তাই, আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় গিয়ে দায়িত্ব নেবে, যাতে এই নির্বাচনের মাধ্যমে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ড. ইউনূস। বলেন, রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের ভয়াবহ পরিকল্পনা থেকে সশস্ত্র দখলদারদের থামানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ২০১৭ সালে মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় রোহিঙ্গারা। তাদের ফেরানোর উপায় খুঁজতে চলছে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যার উদ্যোগে অংশগ্রহণ করছেন দেশের সহায়ক সংস্থা, উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকরা এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পাওয়া। এরই মধ্যে প্রায় আট বছর অতিক্রম করছে, যখন অবরুদ্ধ ও গণহত্যার শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে।

  • পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশিকে বৃত্তি দেবে পাকিস্তান

    পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশিকে বৃত্তি দেবে পাকিস্তান

    উচ্চশিক্ষার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করবে পাকিস্তান। এছাড়াও, দেশটি ১০০ জন সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করে। এতে জানানো হয়, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান করিডোর’ চালু করতে পেরে আনন্দিত। এই প্রকল্পের আওতায়, পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে, যার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১২৫টি বৃত্তি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে। একই সময়ে, ১০০ জন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও, পাকিস্তান কারিগরি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা ৫ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে একমত

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় সমাধানে একমত

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য একমত হয়েছে। উভয়পক্ষ আলোচনা ও পরস্পরের অবস্থান তুলে ধরার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান যে গণহত্যা ও অন্য অপকর্ম করেছে, তার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা। এছাড়া, পাকিস্তান থেকে আটকেপড়া বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে যাবেন—এ বিষয়েও বাংলাদেশ আশাবাদী। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, দুই দেশ অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চায় এবং সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এগুলো পেছনে ফেলতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, এই ভালো সম্পর্ক স্থাপন ও বজায় রাখতে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সমাধান খুঁজে বের করতে উভয় পক্ষ একত্রে কাজ করবে।

    রোববার, ঢাকা সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, একে অন্যের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়ে, দুপক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো স্মুথলি ও সুসংহতভাবে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি কার্যত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব করতে উৎসাহ দেয়।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় উঠে এসেছে, অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যেমন হিসাব-পত্র ও টাকার ব্যাপারে সমাধান করতে হবে। এছাড়া, গণহত্যার জন্য পাকিস্তান যেন দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে। পাশাপাশি, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আটকেপড়া মানুষজনকে ফেরত নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। তৌহিদ হোসেন আবার বলেন, ৫৪ বছর ধরে চলা এই সমস্যা একদিনে সমাধান হওয়ার আশা কেউ করে না, কেবল আলোচনা ও আন্তরিকতা দিয়ে এগুলো অতিক্রম করতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের বলছিলেন, এই বিষয়ের জন্য একটি অগ্রগামী পদক্ষেপ হয়েছে, যেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, একাত্তর ইস্যুতে ১৯৭৪ সালের ত্রিপक्षীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে মোশাররফের দুঃখ প্রকাশের বিষয় আলোচনায় এসেছে। তবে, তৌহিদ হোসেন এর উত্তর দেন, এই চুক্তি বা দুঃখ প্রকাশের বিষয় আমাদের সমস্যা সমাধানে কোনো অবদান রাখে না; আমরা নিজেদের অবস্থান বলে দিয়েছি।

    পররাষ্ট্র বিনিময়ের সময়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান স্বাক্ষর করে একটি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। এর মধ্যে থাকছে: ভিসা মুক্ত চুক্তি (সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য), বাণিজ্য বিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির সহযোগিতা, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যেকার পারস্পরিক সহযোগিতা ও, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ওপেন ইনস্টিটিউটের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা।

    বৈঠকের আগে, সকাল ১০টায়, দুই নেতার মধ্যে একান্ত বৈঠক হয়। এরপর, আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়, যেখানে ইসহাক দার পাকিস্তানের প্রতিনিধি দল নেতৃত্ব দেন এবং তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন। আলোচনা শেষে, দেশ দুটির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

    সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দার জন্য এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে সরকার। এরপর তিনি বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ও সাক্ষাতের জন্য সরকারি বিভিন্ন দফতরে যান এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডঃ শফিকুর রহমানের বাসায় সাক্ষাৎ করেন।

    উল্লেখ্য, এই সফর শুরু হয় গত শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসহাক দার উপস্থিতিতে। এর আগে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায় এসেছেন। এই সফর বাংলাদেশের মামলার মধ্যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বললেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী বললেন, একাত্তরের অমীমাংসিত ইস্যু দুইবার সমাধান হয়েছে

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত ইস্যু দুটি পৃথক সময়ে সমাধান হয়েছিল। রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

    সাংবাদিকেরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ অমীমাংসিত কতিপয় ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে, ইসহাক দার বললেন, ১৯৭৪ সালে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মুশাররফের সফরের মাধ্যমে এই বিষয়ে কিছুটা দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি সমাধান হয়েছিল। তিনি আরও বললেন, আপনারা আপনার হৃদয় পরিষ্কার করুন। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

    তথ্য অনুযায়ী, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এক চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
    – দুই দেশের সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা মওকুফের চুক্তি;
    – দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন;
    – দুই দেশের ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা;
    – দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সহযোগিতা;
    – বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদ (আইএসএসআই) এর মধ্যে সহযোগিতা।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় পৌছেছেন। এটি এক যুগের মধ্যে পাকিস্তানের প্রথম কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর। সফরের প্রথম দিনই তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    অতীতে, ২৭ এপ্রিল ইসহাক দার ঢাকায় আসার কথা থাকলেও, ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের মধ্যে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে তার সফর স্থগিত হয়।

  • বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চুক্তি ও চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের শেষে এসব চুক্তি ও স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার মধ্যে।

    বৈঠকের আগে সকালে অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন ইসহাক দার। এই বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করার দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসা বিলোপ চুক্তি, যা সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে রয়েছে দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলোর (বাসস ও এপিপিসি) মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, পাশাপাশি বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর সঙ্গে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইস্লামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা।

    দুই দেশের কর্মকর্তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করেছেন। সকাল ১০টায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ইসহাক দার তাঁর দলের নেতৃত্বে থাকলেও, ঢাকায় বেশ কিছু সরকারি ও ব্যক্তিগত সফর করেন। তিনি বাংলাদেশে মোটরশিল্প, বিনিয়োগ ও সম্পর্ক জোরদার সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের সফরকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়, যেখানে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    সন্ধ্যায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদের জন্যে বিশেষ একটি সৌজন্যভোজে অংশ নেন। এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাকিস্তানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা শুধু সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়েই আলোচনায় থাকেননি, বরং তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় গোপন সাক্ষাতের পরিকল্পনাও করেছেন।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এদিকে, ইসহাক দার গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ঢাকায় আসেন প্রথমবারের মতো। এর আগে, জুলাইয়ে ঢাকায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এবং গত বুধবার পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ঢাকা সফরে আসেন। এ সময় তারা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অর্থনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    সংক্ষেপে, এই সফর ও স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি দুজন দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

  • ধর্ষণের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর কারাগারে

    ধর্ষণের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর কারাগারে

    ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিজনক সম্পর্ক ও ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের মামলায় পুলিশ কনস্টেবল সাফিউর রহমান (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আদালত আজ এই কনস্টেবলের কারাগারে পাঠের আদেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আগামী রোববার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এটি নিশ্চিত করেছেন।

    ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ অগাস্ট রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে, যখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নারী ব্যারাকের ভিতরে অন্য একজন সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের আড়ালে ভিকটিম নারীর শয়ন ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে সাফিউর। অভিযোগ অনুযায়ী, সাফিউর তেরদিন আগে বিবাহের প্রলোভনে ওই নারীকে সাময়িকভাবে ঐছা করেন। এর আগে পেছের ৫ মাসে, সপ্তাহে দুইবার করে, ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সেই সময়ের ঘটনাগুলোর ভিডিও চিত্র আইফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করেন।

    গত ২২ আগস্ট এই ঘটনার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। মামলার বিবরণে দেখা যায়, সাফিউর তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন, তারপর বিভিন্ন সময় নিরိত্তে তাকে ধর্ষণ করেন। স্পষ্টত তারা প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে থাকলেও, ভিকটিমের সন্দেহ ছিল যে, তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

    আদালত বলেছেন, এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত তদন্তের জন্য রিমান্ড অনুমোদন করবেন। তবে এই মুহূর্তে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত না থাকায়, রিমান্ডের শুনানির জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি গোপনীয়তা ও সততার সাথে তদন্তাধীন রয়েছে, যাতে আসল ঘটনার প্রকৃতি ও দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা যায়।

  • আনসার মোতায়েন থাকবে ৬ লাখের বেশি ভোটকেন্দ্রে: মহাপরিচালক

    আনসার মোতায়েন থাকবে ৬ লাখের বেশি ভোটকেন্দ্রে: মহাপরিচালক

    আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশের ভোটকেন্দ্রে সাড়ে 6 লাখের বেশি আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ জন্য নতুন করে এক লাখ 80 হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের আনসার একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    মহাপরিচালক আরও জানান, নির্বাচনের সময় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। যদি কোনও নাশকতার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দ্রুত कार्यवाही করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আনসার বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রতিটি সদস্যের উন্নত প্রশিক্ষণ জরুরি। যারা প্রশিক্ষণে টিকে থাকছেন, তারা বোঝানো হয় যে, তারাই ভবিষ্যতে আনসার বাহিনীতে সেবাকাজে অংশ নেবেন।

    এ সময় আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফিদা মাহমুদ, উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ রফিকুল ইসলাম, একাডেমি কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ নুরুল আবছার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

    সূত্র থেকে জানা যায়, গত 10 আগস্ট থেকে 23 আগস্ট পর্যন্ত আনসার, এপিসি ও পিসি সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ চলেছে। এতে মোট 1,160 জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে 1,151 জন পুরুষ এবং 9 জন নারী। এর মধ্যে 1,136 জন সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন এবং 24 জন অকৃতকার্য হন। প্রশিক্ষণে মৌলিক শরীরচর্চা, সাধারণ ও অস্ত্রের ড্রিল, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম, নারী ও শিশুর সুরক্ষা, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও সামাজিক উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো শেখানো হয়।

  • সীমানা নির্ধারণে বিশ্লেষণী ও নিরপেক্ষ কাজের চেষ্টা করি: সিইসি

    সীমানা নির্ধারণে বিশ্লেষণী ও নিরপেক্ষ কাজের চেষ্টা করি: সিইসি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় পেশাদারিত্বমুখর, নিরপেক্ষ ও জনপ্রতিনিধি-উপযোগী প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ১২টায় নির্বাচন ভবনে এ শুনানির সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

    সিইসি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করা। আইন অনুযায়ী, নতুন খসড়া সীমানা নিয়ে যে কোনও দাবি বা আপত্তি উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এই দাবিগুলো আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। আজকের শুনানিতে আপনাদের যৌক্তিক যুক্তি ও মতামত উপস্থাপন করতে হবে।

    প্রথম দিনে কুমিল্লা অঞ্চলের মোট ১৮টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণে জমা পড়া দাবিগুলো নিয়ে এই শুনানি চলবে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ৩০ জুলাই দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করে। এই প্রক্রিয়ায় ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গাজীপুর জেলাকে একটি নতুন আসন দেওয়া হয় এবং বাগেরহাটের আসন সংখ্যা কমিয়ে তিনটি করা হয়।

    এর মধ্যে রোববার সকাল থেকে শুরু হয়ে এ দিন বিকেল পর্যন্ত কুমিল্লা অঞ্চলের দাবিগুলো নিয়ে আলাপচারিতা অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের সচিব জানিয়েছেন, এ দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ৩ ও ৫ আসনের দাবিগুলো সকাল ১২টা থেকে দেড়টার মধ্যে; কুমিল্লা-৬, ৯, ১০ ও ১১ আসনের দাবিগুলো আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে; আর নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫, চাঁদপুর-২ ও ৩, ফেনী-৩ ও লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩ আসনের দাবিগুলো বিকেল ৩:৩০ থেকে ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে।

    এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন ভবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের নিয়ম মেনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রক্রিয়ার শেষে চার দিন ধরে চলতে থাকা এই শুনানি শেষ হলে, ২৭ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত সীমানা ঘোষণা করবে ইসি। এরপরই ৩০০ আসনের সংসদীয় সীমানার গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকতর সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য কার্যকর এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ ৯ দগ্ধ

    সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ ৯ দগ্ধ

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি আধা-গোড়া ঘরে ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে নারী ও শিশুসহ মোট নয় জন দগ্ধ হন। তাদের সবাইকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটে শনিবার ভোররাতে (২৩ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার হিরাজিল গ্রামে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল এটি গ্যাস লাইন থেকে আগুন লাগার কারণে হয়েছে, কিন্তু পরে জানা যায় ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকেই বিস্ফোরণ হয়। ফলে ঘরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং ওই ঘটনায় পরিবারের নয়জন দগ্ধ হন।

    আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মিরন মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি, ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে ফুটো হয়েছে। ওই বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং এতে পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ঘর বা আশপাশে অন্য কোনও গ্যাসের গন্ধ বা আলামত পাওয়া যায়নি। সব কিছুই নির্দেশ করে যে, ফ্রিজের কম্প্রেসার থেকেই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল।”

    ঘটনায় দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— দিনমজুর তানজিল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫), তাদের দুই সন্তান তৃষা আক্তার (১৭) ও আরাফাত (১৫), সঙ্গে আরও একজন দিনমজুর হাসান (৩৫), তার স্ত্রী সালমা বেগম (৩২) ও তাদের তিন সন্তান ইমাম উদ্দিন (১ মাস), জান্নাত (৪), ও মুনতাহা (১১)।

    জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বলেন, “ভোরে হাসপাতালে আনা ৯ জন দগ্ধ রোগীর মধ্যে হাসানের শরীরের ৪৪ শতাংশ, সালমার ৪৮ শতাংশ, আসমার ৪৮ শতাংশ, তৃষার ৫৩ শতাংশ, জান্নাতের ৪০ শতাংশ, মুনতাহার ৩৭ শতাংশ এবং এক মাসের শিশু ইমামের শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তবে তানজিল ইসলামের শরীরের আঘাতের গুরুত্বরতা কম হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়ি পাঠানো হয়েছে।”

    ঘটনাস্থলে থাকা দগ্ধ হাসানের ছোট ভাই রকিবুল জানান, তার ভাই ও ভগ্নিপতি দিনমজুরের কাজ করতেন এবং সিদ্ধিরগঞ্জের একটি আধা-সেমিপাকা ঘরে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে রাতে হঠাৎ বিস্ফোরণের মাধ্যমে। এতে তাদের দুই পরিবারের সদস্যরা দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।