Category: আন্তর্জাতিক

  • রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিক আটক

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিক আটক

    রাশিয়ার দখলকৃত কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হয়ে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ব্রিটিশ ভাড়াটে সেনাকে আটক করেছেন রুশ সেনারা।

    রোববার রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা টাস এবং অন্যান্য গণমাধ্যম ওই ব্রিটিশ নাগরিককে জেমস স্কট রিস অ্যান্ডারসন বলে শনাক্ত করেছে।

    টাস জানিয়েছে, ব্রিটেনের এক ভাড়াটে সেনাকে আটক করা হয়েছে। তিনি তার নাম জেমস স্কট রিস অ্যান্ডারসন বলে জানিয়েছেন। তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    বার্তা পাঠানোর মাধ্যম টেলিগ্রামে রাশিয়াপন্থি একটি চ্যানেলে গতকাল পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা এক তরুণ হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। পেছন থেকে তার হাত বাঁধা। তিনি জানান, তার নাম জেমস স্কট রিস অ্যান্ডারসন এবং তিনি একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন।

    তবে বার্তাসংস্থা রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে ওই ভিডিও এবং আরআইএ ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্য জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে বলেছে, ওই নাগরিক আটক হওয়ার পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা।

    ইউক্রেনের সেনাবাহিনী গত আগস্টে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী কুরস্ক অঞ্চলে আচমকা হামলা চালায়। অঞ্চলটির একটি অংশ এখনো ইউক্রেনীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। কিয়েভ বলেছে, তারা এরই মধ্যে ওই অঞ্চলে দখল করা ৪০ শতাংশের বেশি এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। রুশ সেনারা সেখানে পাল্টা অভিযান জোরদার করেছেন।

     

     

  • কী ঘটছে পাকিস্তানে, কতদিন চলবে?

    কী ঘটছে পাকিস্তানে, কতদিন চলবে?

    ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানী ইসলামাবাদে প্রবেশ করেছে পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের হাজারও সমর্থক। মঙ্গলবার সকালেই রাজধানীর চারপাশে স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে ইসলামাবাদে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ছয়জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন—এর খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ ঠেকাতে পাকিস্তান সরকার সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যারিকেড স্থাপন করেছিল, যাতে বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে না পারে। এর আগে ইমরান খান তার সমর্থকদের পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করার আহ্বান জানান।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি সাংবাদিকদের জানান, বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থান করতে পারে, তবে তারা শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এই বিক্ষোভ এমন সময়ে ঘটছে, যখন ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে। কারণ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সোমবার তিনদিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছেছেন।

    কী ঘটছে

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পেশোয়ার থেকে ইমরান খানের সমর্থকদের একটি গাড়িবহর গত রোববার ‘লং মার্চের’ অংশ রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে রওনা দেয়। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। এই গাড়িবহরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। এই প্রদেশে খানের দল ক্ষমতায়। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের নিকটবর্তী বড় খোলা এলাকা ডি-চকে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা করেছিল।

    বিক্ষোভকারীরা সোমবারই ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে পৌঁছে যান। পথে তাদের ব্যাপক বাধাঁর সম্মুখীন হতে হয়। তবে এই সময়ে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং সড়কগুলো শিপিং কনটেইনার দিয়ে অবরোধ করে অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ চৌকিতে আগুন জ্বলছে এবং মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের ঠিক বাইরে এবং পাঞ্জাব প্রদেশের অন্যান্য স্থানে ২২টি পুলিশ যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদ শহরের প্রবেশপথগুলোতে স্থাপিত ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করেন এবং একটি বড় মিছিল শহরের জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করতে দেখা যায়। পরে বহরটি ইসলামাবাদের বাণিজ্যিক এলাকা ‘ব্লু এরিয়া’ হয়ে ডি-চকের দিকে অগ্রসর হয়। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো, যেমন পার্লামেন্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং সচিবালয়ের বাইরে সৈন্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভ চলতে কতদিন

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বলেছেন, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারপরও পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্রতি ‘সংযম’ দেখাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিক্ষোভকারীরা সীমা অতিক্রম করে, তাহলে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালানোর অনুমতি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, কারফিউ জারি করা বা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশটির সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদের আওতায় রাজধানীতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর এক সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনীকে অনুচ্ছেদ ২৪৫-এর আওতায় মাঠে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অস্থিতিশীলতা এবং সশস্ত্র হামলাকারীদের শক্ত হাতে দমন করা হয়। এ ছাড়া, ‘দেখামাত্র গুলি’ করার নির্দেশও জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি বলেন, রেঞ্জারসরা (আধাসামরিক বাহিনী) গুলি চালাতে পারে এবং তাদের অনুমতি দেওয়া হলে—পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কোনো বিক্ষোভকারীই (ইসলামাবাদে) থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে কেউ এখানে (ডি-চকে) পৌঁছাবে, তাকেই গ্রেফতার করা হবে।

    এদিকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এই বিক্ষোভ মিছিলকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। পিটিআই জানিয়েছে, প্রায় দুই ডজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

    বিগত কয়েকদিনে, বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে সরকার। পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইমরান খানের হাজার হাজার সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাতে বিক্ষোভ মিছিল রোধ করা যায়। এই সংখ্যাটি প্রায় ৪ হাজার।

    অপরদিকে সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ইসলামাবাদ ও নিকটবর্তী রাওয়ালপিন্ডির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেবল তাই নয়, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব ধরনের আন্তঃনগর গণপরিবহন ও টার্মিনাল বন্ধ রাখা হয়েছে।

    পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা কামরান বঙ্গাশ বলেছেন, বিক্ষোভকারীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং আমরা ইসলামাবাদে পৌঁছাবই। তিনি আরও বলেন, আমরা একে একে সব বাধা অতিক্রম করব।

     

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর মামলা বাতিল

    ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনের ফল পাল্টানোর মামলা বাতিল

    আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দেশের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন, তখন তার বিরুদ্ধে কোনো ফেডেরাল ফৌজদারি অভিযোগ থাকবে না।

    ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসট্রিক্ট জাজ তানিয়া চুটকান ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বেআইনিভাবে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ সোমবার (২৫ নভেম্বর) দ্রুত বাতিল করে দেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ আদালতে পেশ করা এক ফাইলিং-এ স্বীকার করেন, জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট বা বিচার মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘস্থায়ী রীতি অনুযায়ী তারা ক্ষমতাসীন কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করে না।

    আদালতে আরেকটি ফাইলিং-এ স্মিথ একটি অপেক্ষামান আপিল থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার জন্য আটলান্টার আপিল আদালতকে অনুরোধ করেন।

    ট্রাম্প ২০২১ সালে তার মেয়াদ শেষে হোয়াইট হাউস থেকে যাবার পর তিনি শত শত রাষ্ট্রীয় গোপনীয় দলিল ফ্লোরিডায় তার বাসভবনে জড়ো করে রেখেছিলেন বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেই মামালা ফ্লোরিডার এক বিচারক বাতিল করেছিলেন। স্মিথ সেই মামলা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে আপিল করেছিলেন।

    প্রসিকিউটর বলেন, দুটি মামলার গুনগত মান এবং ন্যায্যতা নিয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই, যদিও তিনি বলছেন অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে।

    ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে ঘোষণা দেন, ‘আমাকে অন্য যেসব মামলার মুখোমুখি হতে বাধ্য করা হয়েছে, সেগুলুর মত এই মামলাগুলোও বেআইনি এবং শূন্য, এগুলো কখনোই আদালতে আনা উচিত ছিল না’।

    তিনি বলেন, করদাতাদের ১০ কোটি ডলার নষ্ট করা হয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টির রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং আমার বিরুদ্ধে লড়াই-এর জন্য। এটা ছিল একটি রাজনৈতিক ছিনতাই, এবং আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময়, তারপরও আমি টিকে আছি শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও, এবং জিতেছি।

    নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছিলেন, তিনি যদি জয়ী হন, তাহলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ‘দু সেকেন্ডের মধ্যেই’ জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের আগেই স্মিথ জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে চলে যাবার পরিকল্পনা করছিলেন।

    ওয়াশিংটনের মামলায়, রিপাবলিকান দলের প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলে যখন দেখা যায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন তাকে পরাজিত করেছে, তখন তিনি রাজ্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়েছিলেন ফলাফল পাল্টে দিতে।

    প্রসিকিউটররা জাজ চুটকানকে অনুরোধ করেন মামলা ‘উইদাউট প্রেজুডিস’ বাতিল করতে, যার ফলে ২০২৯ সালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবার পর অভিযোগগুলো তার বিরুদ্ধে পুনর্জীবিত করার রাস্তা খোলা থাকবে।

    ট্রাম্পের বড় আইনগত বিজয়

    এর আগে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, মামলা পরিচালনাকারি স্পেশাল কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ-এর পক্ষে কাজ করা প্রসিকিউটরদের এই পদক্ষেপ রিপাবলিকান দলের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের জন্য বড় এক আইনগত বিজয়। ট্রাম্প ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং ২০ জানুয়ারি তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।

    জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের যে নীতির কথা প্রসিকিউটররা বলেছেন, সেটা ১৯৭০-এর দশক থেকে অনুসরণ করা হচ্ছে। এই নীতির সারমর্ম হচ্ছে, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে বিচারের মুখে দাঁড় করালে তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করা হবে, কারণ এর ফলে তিনি দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

    নির্বাচন বানচাল করার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা তুলে নেওয়ার অনুরোধে প্রসিকিউটররা বলেন, ডিপার্টমেন্টের নীতি অনুযায়ী, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার আগেই মামলা বাতিল করতে হবে।

    প্রসিকিউটররা মামলা বাতিলের অনুরোধ করে ফাইলে লেখেন, এই ফলাফল অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আনা মামলার গুনগত মান বা মামলার ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে হয়নি।

    গোপনীয় দলিল মামলা

    একইভাবে, স্মিথের দফতর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হবার পর বেআইনিভাবে গোপনীয় দলিল রেখে দেওয়ার মামলা পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানার পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তবে প্রসিকিউটররা ইঙ্গিত দেন, তারা একটি ফেডেরাল আপিল কোর্টে অনুরোধ করবে, গোপনীয় দলিল নিয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে ট্রাম্পের দুজন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা ফিরিয়ে আনার জন্য।

    ট্রাম্পের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এটাকে আইনের শাসনের জন্য বিরাট বিজয় বলে বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্প চারটি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন – স্মিথের দায়ের করা দুটো মামলা, এবং নিউ ইয়র্ক আর জর্জিয়ার রাজ্য আদালতে দায়ের করা দুটো মামলা। নিউইয়র্ক মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন আর জর্জিয়ার মামলাটা ঝুলে আছে।

    সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক মন্তব্যে ট্রাম্প সোমবার তার বিরুদ্ধে আনা মামলার তীব্র নিন্দা করে মামলাগুলোকে আমাদের দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময় বলে বর্ণনা করেন।

    স্মিথকে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনেরাল মেরিক গারল্যান্ড নিয়োগ করেছিলেন। স্পেশাল কাউন্সেল হিসেবে স্মিথ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলায় অভিযোগ গঠন করেন যেখানে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ আনেন। স্মিথের এই পদক্ষেপ তাই একটি অসাধারণ পথ-বদল।

    নজিরবিহীন বিব্রতকর পরিস্থিতি

    প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন, চলমান ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি একজন প্রেসিডেন্টের নির্বাচন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টেকে নজিরবিহীন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।

    এখানে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয় শুধু রাজনৈতিক জয় ছিল না, তা একটি আইনগত বিজয়ও ছিল।

    ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে তার পরাজয়ের পর ট্রাম্প ভোট সংগ্রহ এবং সার্টিফাই করার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে আনা চারটি ফেডেরাল অভিযোগ তিনি ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে অস্বীকার করেন।

    প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প আবার জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের উপর তদারকি করবেন এবং ধারণা করা হচ্ছিল তিনি ২০২০ নির্বাচন সংক্রান্ত ফেডেরাল মামলা তুলে নেওয়ার আদেশ দেবেন।

    গোপনীয় দলিল সংক্রান্ত মামলা ফ্লোরিডার বিচারক আইলিন ক্যানন জুলাই মাসে বাতিল করেছিলেন। স্মিথ-এর দফতর জাজ ক্যাননের রুলিং-এর বিরুদ্ধে আপিল করে। তারা সোমবার ইঙ্গিত দেয় যে আপিলের যে অংশ ট্রাম্পের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য, সেগুলো তারা চালিয়ে যাবেন।

    গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায় দেয়, হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন তারা কাজ সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলোর জন্য প্রেসিডেন্টের দায় মুক্তি আছে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীরা আগে বলেছিলেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বাতিল করার চেষ্টা করবেন।

    তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে

  • কেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরতে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

    কেন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে দ্রুত ফিরতে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদেরকে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

    সম্প্রতি ইমেল বার্তার মাধ্যমে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের মধ্যে এমনিতেই দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হঠাৎ এমন সতর্কবার্তায় অনেকে রীতিমত চিন্তায় পড়ে গেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘বিদেশি সব শিক্ষার্থীরা এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে’।

    রিপাবলিকান পার্টির নেতা ট্রাম্প এবার ক্ষমতায় বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এই অভিযানের ফলে যারা বেকায়দায় পড়তে পারেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

    অভিবাসী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা ‘হায়ার এড ইমিগ্রেশন পোর্টালে’র তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে চার লাখেরও বেশি।

    যদিও ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনে কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়ে বলছেন, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের রাখার জন্য তারা বড় ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা করবেন।

    ট্রাম্পের হবু প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে তারা নির্বাসনের তালিকায় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য বিশাল হোল্ডিং সুবিধা তৈরি করবে।

    অভিজ্ঞ অভিবাসন কর্মকর্তা ও ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘সীমান্ত জার’ টম হোম্যান বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ভয়ঙ্কর অপরাধী ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি- এমন মানুষজনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিবেন।

    সে হিসেবে শিক্ষার্থীদের খুব একটা ভয় পাওয়ার কথা না বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

    অধ্যাপক ইস্ট বলছেন, অভিবাসন নিয়ে অনিশ্চয়তার ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এখন ভীষণ চাপে রয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাবেন কি না, সেটি নিয়েও এখন অনেক শিক্ষার্থী চিন্তায় রয়েছেন।

    নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগামী ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নিবেন। ফলে তার আগেই নিজেদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের শীতকালীন ছুটি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলো বলছেন, ২০১৬ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতার থেকেই অফিস অব গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সতর্কতা হিসেবে এই পরামর্শটি দিচ্ছে।

    উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ থেকে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যেখানে বেশ কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ ছাড়াও উত্তর কোরিয়া ও ভেনেজুয়েলার নাগরিকদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

    প্রথম দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু কঠোর নিয়ম চালু করার প্রস্তাব করেছিলেন রিপাবলিকান এই নেতা।

    ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের মতো ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটিও তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের ২০ জানুয়ারির আগে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে একটি ওয়েবিনার পর্যন্ত আয়োজন করতে দেখা গেছে, যেখানে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

    কঠোর অভিবাসন নীতির মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে চালু হওয়া একটি কর্মসূচির ইতি টানতে চাচ্ছেন, যে কর্মসূচিটি শিশু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে এতদিন সুরক্ষা দিয়ে আসছিলো।

    বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখন তাদের পড়াশোনা ও একাডেমিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন, তাদেরই একজন হলেন ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের আর্লহাম কলেজে অধ্যয়নরত জাপানি নাগরিক অই মায়েদা।

    অই মায়েদা বলেন, ২০২৬ সালের মে মাসে আমার স্নাতক পাস করার কথা। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে যে, আমাদের জন্য মার্কিন প্রশাসন একটু বেশিই বিপজ্জনক হতে চলেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে সামনে ভালো কিছু হওয়ার বিষয়ে আমি খুব একটা আশাবাদী না।

    তিনি আরও বলেন, (ট্রাম্প) বলেছেন যে, তিনি শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চান, কিন্তু বেশ কয়েকবার তাকে এর বাইরেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। কাজেই আমি মনে করি, তার এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় প্রভাব পড়তে পারে, যার ফলে তাদেরকে নিজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়াও বেশ সহজ হয়ে যাবে।

  • উত্তাল পাকিস্তান, শান্ত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    উত্তাল পাকিস্তান, শান্ত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    পাকিস্তানে পিটিআই সমর্থকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি সংবিধান মেনে চলারও তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের

    সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাই এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের পরামর্শ দেই।

    একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের দাবি জানাতে এবং সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানান এ মার্কিন কর্মকর্তা।

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে গত ২৪ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থকরা। সোমবার রাতে পিটিআই এর বিক্ষোভ মিছিল ইসলামাবাদে প্রবেশ করলে শ্রীনগর হাইওয়েতে একটি গাড়ির আঘাতে চার রেঞ্জার্স ও দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন।

    ওই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর। তার নেতৃত্বে খাইবার পাখতুনখোয়া, হাজারা, ডিআই খান এবং বেলুচিস্তান থেকে আসা মিছিল একত্রিত হয়ে ইসলামাবাদের হাকলা ইন্টারচেঞ্জে প্রবেশ করে। বিক্ষোভে যোগ দেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী বুশরা বিবি এবং দলের শীর্ষ নেতারাও।

    তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানি রাজধানীতে প্রবেশের পথে একাধিক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করে।

    তবে গাড়ির ধাক্কায় একাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার পরপরই ইসলামাবাদে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে ‘শুট-অ্যাট-সাইট’ (দেখামাত্র গুলি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

    এ অবস্থায় পিটিআই’কে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। তবে ইসলামাবাদে সমাবেশের বিষয়ে এখনো অনড় ইমরান সমর্থকরা। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডি-চক পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বুশরা বিবি।

    এর আগে এক দফা আলোচনায় বসেছিলেন সরকার ও পিটিআই প্রতিনিধিরা। এতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন আমির মুকাম, আয়াজ সাদিক ও মোহসিন নকভি। পিটিআইর পক্ষে ছিলেন আসাদ কায়সার, শিবলী ফারাজ ও ব্যারিস্টার গওহর। তবে আলোচনা থেকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

  • চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ

    ঢাকায় গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিজেপির বিধায়করা।

    ‘চিন্ময় মহাপ্রভুর নিঃশর্ত মুক্তি চাই’- এমন পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের।বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

    তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীর সব হিন্দুদের ঐকবদ্ধ হতে হবে। আজ কলকাতায় বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ দেখালেন। তবে বাংলাদেশে যদি হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার অতিসত্বর বন্ধ না হয় তাহলে আমরা আরও জোরালো বিক্ষোভ শুরু করব।’

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে সমাবেশ করে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস এই মঞ্চেরও মুখপাত্র। ওই সমাবেশের পরপরই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ ওঠে।এরপর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে গত ৩১ অক্টোবর বিএনপি নেতা ফিরোজ খান (পরে বহিষ্কৃত) বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে দায়েরকৃত এ মামলায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

    ওই মামলায় গতকাল (২৫ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।পরে তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।আজ (২৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালতে তাকে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।

    অপরদিকে তার পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে তার জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

  • ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ শ্রম অধিকারের ১১ দফার বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রেড ইউনিয়ন করার শর্ত শিথিলসহ শ্রম অধিকারের ১১ দফার বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র

    বাংলাদেশে শ্রম অধিকার–সংক্রান্ত ১১ দফার দ্রুত বাস্তবায়ন চায় যুক্তরাষ্ট্র। এসব দফা বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধাও (জিএসপি) পাওয়া যাবে।

    আজ রোববার ঢাকায় সচিবালয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক শ্রমবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি সফররত কেলি এম ফে রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এমন আশাবাদের কথা শোনান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এ সময় বাণিজ্যসচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা কত দ্রুত শ্রম অধিকারের এই ১১ দফা বাস্তবায়ন করতে পারি, সেটা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। এগুলো করতে পারলে আমরা অবশ্যই জিএসপি সুবিধা পাব।’

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি আলোচনায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের বিষয়ে জোর দেয়। এসব অধিকার এখনো আছে, তবে বিপরীতে রয়েছে নানা শর্ত। যুক্তরাষ্ট্র চায় শর্তগুলো শিথিল করা হোক। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব দফা বাস্তবায়নে প্রতিনিধিদলকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের একটি দল বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি কর্মপরিকল্পনা জানিয়ে যায়। ওই কর্মপরিকল্পনায় মোটাদাগে ১১টি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রথমটিই হচ্ছে ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, শ্রমিক ও শ্রম অধিকারকর্মীদের যাঁরা নিপীড়ন করেন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালান, তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এরপরই রয়েছে শ্রমিকনেতা ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কাজ করে, এমন কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এ ছাড়া রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলো যে মানের অধিকার ভোগ করে, সে অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বিদ্যমান শ্রমবিধি সংশোধন।

    আরও যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোর (ইপিজেড) শ্রমিকেরা যাতে পুরোদমে ট্রেড ইউনিয়ন করতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) আইনের ৩৪ নম্বর ধারা সংশোধন ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় (এসইজেড) সেটির প্রয়োগ এবং সেখানকার শ্রমিকেরা যাতে সংগঠিত হতে পারেন ও সম্মিলিতভাবে দর-কষাকষিতে সক্ষম হন, তা নিশ্চিত করা; ট্রেড ইউনিয়ন করার আবেদনের প্রক্রিয়া ৫৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা; শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে তার বিদ্যমান অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে অপেক্ষমাণ থাকা সব আবেদনের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ; বার্ষিক বাজেটের মাধ্যমে শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও এ জন্য তহবিল বরাদ্দ দেওয়া; আরও শ্রম পরিদর্শকের পদ অনুমোদন এবং নিবন্ধন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করার অভ্যাস বন্ধ করা ইত্যাদি।

    বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘এসব বিষয়ে প্রধানত কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। শ্রমিকের জীবনযাপন, মানোন্নয়ন ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। আমরা সবাই এক লাইনেই কাজ করছি। আমরা আমাদের দিক থেকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাণিজ্য আরও বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে তাগিদ দিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। তাঁরা আমাদের শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যূনতম মজুরিসহ অন্যান্য বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন।’

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যে প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্ক দিয়ে পণ্য রপ্তানি করতে হয়, এ বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘কথা বলেছি। জিএসপি সুবিধা থাকলে এটা দিতে হতো না। বলেছি, জিএসপি সুবিধায় আমরা থাকতে চাই। শুল্ক ও কোটামুক্ত পণ্য রপ্তানির যে সুবিধা আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পাচ্ছি, সেটা আমরা সব জায়গায় চাচ্ছি। তাঁদেরও বলেছি। কিন্তু তাঁরা সেই লাইনে কোনো কথা বলেননি।’

  • যুক্তরাষ্ট্র তহবিল না দিলে যুদ্ধে হারবে ইউক্রেন, স্বীকারোক্তি জেলেনস্কির

    যুক্তরাষ্ট্র তহবিল না দিলে যুদ্ধে হারবে ইউক্রেন, স্বীকারোক্তি জেলেনস্কির

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি স্বীকার করেছেন যে, ওয়াশিংটনের অর্থ সমর্থন না পেলে যুদ্ধে পরাজিত হবে ইউক্রেন। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। খবর বিবিসির

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সব ধরনের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। তবে ২০২৪- এর নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ডেমোক্রেট দলের। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, তার আগেই এমন শঙ্কার কথা জানালেন জেলেনস্কি।

    ফক্স নিউজকে ইউক্রেনের নেতা বলেন, ‘ইউরোপে যদি আমরা ঐক্য হারাই, তা হবে খুবই বিপজ্জনক, তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে– যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের একতা।’

    ফক্স নিউজ ট্রাম্পকে সমর্থনকারী একটি ডানপন্থী গণমাধ্যম। ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে ওয়াদা করেন যে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইউক্রেনের পেছনে ব্যয় করা বন্ধ করবেন তিনি। যুদ্ধের পেছনে অর্থশ্রাদ্ধ না করে– তা দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের জীবনমান আরও উন্নত করা হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

    এই প্রেক্ষাপটে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি স্বীকার করেন যে, ‘অর্থ সাহায্য বন্ধ করা হলে, মনে হয় আমরা হেরে যাব। যেকোনোভাবেই হোক আমরা অবশ্যই থাকব, যুদ্ধ করব, আমাদের নিজস্ব (সমরাস্ত্র) উৎপাদন ব্যবস্থাও আছে – তবে অবশ্যই সেটা জেতার জন্য যথেষ্ট নয়, এমনকী টিকে থাকার পক্ষেও পর্যাপ্ত না।’

    যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাজী করাতে পারবেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটা ততোটা সহজ হবে না, তবে তিনি পারবেন, কারণ তিনি পুতিনের চেয়ে শক্তিশালী।’

    ব্যাখ্যা করে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর কাছে অপরিমেয় শক্তি, কর্তৃত্ব ও অস্ত্রসজ্জা রয়েছে। তিনি চাইলে, যেকোনো জ্বালানি সম্পদের দামের পতন ঘটাতে পারবেন। প্রসঙ্গত, রাশিয়ার প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস হচ্ছে জ্বালানি খাত।

    এর আগে ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাটাকমস মিসাইল ব্যবহারের অনুমতি দেয় বাইডেন প্রশাসন। অনুমতি পাওয়ার একদিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার তা ব্যবহারও করেছে ইউক্রেন।

    ইউক্রেনকে অ্যান্টি-পার্সোনাল ল্যান্ড মাইন-ও সরবরাহ করেছে বাইডেন প্রশাসন। যা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা।

    তবে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। অন্যদিকে, রুশ সেনারা সম্মুখভাগের বিভিন্ন অবস্থানের দখল নিচ্ছে বলে জানিয়েছে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক – ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)।

  • বাইডেনের ‘বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের’ প্রতিক্রিয়া জানালো রাশিয়া

    বাইডেনের ‘বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের’ প্রতিক্রিয়া জানালো রাশিয়া

    বিদায় বেলায় জো বাইডেনের ‘বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত’ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর আসার পর এ নিয়ে কথা বলেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, রাশিয়া মনে করে আমাদের ভূমির গভীরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সিদ্ধান্তের অর্থ হলো- উত্তেজনা বৃদ্ধির নতুন দফা।

    সম্প্রতি খবর এসেছে, রুশ ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার জন্য ইউক্রেনকে দূরপাল্লার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন বাইডেন।

    এমন খবরে চটেছেন স্বয়ং নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। ডেমোক্র্যাটরাও এর তীব্র সমালোচনা করছেন। ট্রাম্প জুনিয়র এক্স-এ লিখেছেন, ‘মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স মনে হয় এটা নিশ্চিত করতে চায় যে, আমার বাবা শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জীবন বাঁচানোর সুযোগ পাওয়ার আগেই তারা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করবে।’ তিনি বাইডেনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অকথ্য ভাষায় কিছু কথাও লিখেছেন।

    এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, যদি এ জাতীয় সিদ্ধান্ত প্রকৃতপক্ষে প্রণয়ন করা হয় এবং কিয়েভ সরকারকে জানানো হয়, তবে অবশ্যই এটি গুণগতভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি ‘নতুন দফা’। সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার ক্ষেত্রটির নতুন পরিস্থিতি এটি।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, মস্কোর অবস্থান সবার কাছে একেবারে পরিষ্কার হওয়া উচিত। এসব সংকেত সম্মিলিত পশ্চিমারা ইতিমধ্যে পেয়েছে।

  • বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ করলো সৌদি

    বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ করলো সৌদি

    বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে জাতীয় ও গোষ্ঠী প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধের কথা জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খবর সৌদি গ্যাজেট ও গালফ নিউজের। 

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা তুলে ধরে সৌদির বাণিজ্যমন্ত্রী ড. মাজেদ আল-কাসাবি জানিয়েছেন, বিভিন্ন প্রতীক ও লোগোতে ধর্মীয় ও গোষ্ঠী প্রতীকের অপব্যবহার বা ভুল ব্যবহার বন্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এসব প্রতীক ও লোগো ব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী নিজ নিজ প্রতীক ও লোগো পরিবর্তনের জন্য সরকারি গেজেট প্রকাশ থেকে ৯০ দিন সময় পাবে।

    সৌদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আগে থেকেই বাণিজ্যিক বিষয়াবলীতে সৌদির পতাকা ব্যবহার নিষিদ্ধ আছে। এই পতাকায় কালেমা খচিত আছে। এতে আরও আছে একটি পাম গাছ এবং দুটি তরবারির চিহ্ন।
     
    নতুন নির্দেশনায় সৌদি আরবের পতাকা, কোনো নেতার ছবি বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মুদ্রিত কোনো বস্তু, পণ্য, মিডিয়া-বুলেটিন বা বিশেষ উপহারেও ধর্মীয় ও গোষ্ঠী প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।