Category: আন্তর্জাতিক

  • নরওয়ের জেলেদের জালে আটকা পড়লো মার্কিন সাবমেরিন

    নরওয়ের জেলেদের জালে আটকা পড়লো মার্কিন সাবমেরিন

    চলতি সপ্তাহে নরওয়ের জেলেদের একটি দল মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে এসেছিল। তখন ৭ হাজার ৮০০ টন মার্কিন নৌবাহিনীর পারমাণবিক চালিত একটি সাবমেরিন তাদের জালে জড়িয়ে পড়ে এবং কোস্টগার্ডের কাছে অ্যালার্ম কল পৌঁছে যায়। জেলেরা প্রথমে এটিকে বড় কোনও মাছ ভাবলেও সেটি যে সাবমেরিন হতে পারে তা কল্পনাতীত ছিল। এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার এই খবর জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রমসো উপকূলে মাছ ধরার সময় জেলেরা ভেবেছিল, তাদের জালে হালিবুট নামের এক ধরণের বড় সামুদ্রিক মাছ আটকা পড়েছে। তবে তাদের জালে ধরা পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭৭ ফুট দীর্ঘ ও ৭ হাজার ৮০০ টন পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ইউএসএস ভার্জিনিয়া। একটি নরওয়েজিয়ান কোস্ট গার্ড জাহাজের সঙ্গে বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এটি। প্রায় দুই নটিক্যাল মাইল দূরত্ব পর্যন্ত সাবমেরিনটি তাদের জাল টেনে নিয়ে যায়।

    সম্প্রচারকারী এনআরকে নিউজ জানিয়েছে, হ্যারাল্ড এনগেন নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের একটি গ্রামে হালিবুট সরবরাহ করছিলেন। তখন তিনি একটি বার্তা পান, যেটিতে বলা হয়, একটি মার্কিন সাবমেরিন ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি যাত্রা করার সময় নৌকার জালে আটকে পড়েছে এবং সেটি নৌকাটিকে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

    এনগেন বলেছিলেন, ‘আমি মাছ ধরার জালের ওপর দিয়ে যাত্রা করা অন্যান্য জাহাজের কথা শুনেছি। তবে এই অঞ্চলে কেউ কখনও সাবমেরিনের কথা শুনেনি।’

    মার্কিন ৬ষ্ঠ নৌবহরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট পিয়ারসন হকিন্স ইনসাইডারকে বলেন, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং ঠিক কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে নৌবাহিনী।

    জেলেদের ধ্বংস হওয়া জালের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নরওয়ের কোস্ট গার্ড ও মার্কিন নৌবাহিনী উভয়ই।

    ১৯৯৯ সালে একই রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেটি বেশ দুঃখজনক হয়ে ওঠে। একটি ব্রিটিশ মাছ ধরার নৌকার জালে রয়্যাল নেভি আটকে পড়ে এবং নৌকাটি ডুবে যায়। এতে চার ক্রু’র মৃত্যু হয়।

  • রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

    রাশিয়ার অভ্যন্তরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে হামলার অনুমতি দিলেন বাইডেন

    ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এই সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক মাস ধরে এটিএসিএমএস নামক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, যাতে কিয়েভ তার নিজ সীমান্তের বাইরে হামলা করতে পারে।

    রোববার এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় ঘোষণা দিয়ে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেরাই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে।’

    এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, এটি ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক জোট ন্যাটোর ‘সরাসরি অংশগ্রহণ’ হিসেবে গণ্য হবে।

    তবে রোববার পর্যন্ত পুতিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও ক্রেমলিনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা একে গুরুতর উত্তেজনা বৃদ্ধি বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। আগস্টে কিয়েভ ওই অঞ্চলে ঝটিকা আক্রমণ করে।

    বাইডেন প্রশাসন কার্যত ইউক্রেনকে জানিয়ে দিল যে, তারা বর্তমানে রাশিয়ার যে ছোট অংশ দখল করে রেখেছে, তা ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে সহায়তা দেবে। দখলকৃত এ অঞ্চল ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।

    কিয়েভভিত্তিক ইউক্রেনীয় সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান সের্হি কুজান বিবিসিকে বলেন, বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত দেশটির জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।

    ‘যুদ্ধের গতিপথ বদলাবে না, তবে এ সিদ্ধান্ত আমাদের বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে,’ বলেন তিনি।

    এটিএসিএমএস মিসাইল প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব পারি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের ইউক্রেনে যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাইডেন এটিএসিএমএস ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।