নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নবীন রোডম্যাপ ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপি দলের নেতারা একযোগে খুশি প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমের কাছে তারা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ইসির নতুন নির্দেশনা ও প্রস্তুতি দেখে তারা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে। এতে আমি খুবই আশাবাদী হতে পেরেছি যে নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূল বিষয় হলো, আমরা খুবই খুশি, আমরা খুবই আনন্দিত।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলে যে, এই রোডম্যাপ কি সাধারণ মানুষ ও দেশের জন্য সুসংবাদ, তিনি বলেছিলেন, ‘অবশ্যই।’ এছাড়াও, বিএনপি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা পুরো জাতির জন্য একটি সুসংবাদ। মানুষ এখন নির্বাচনমুখী হতে পারবে। সবাই অপেক্ষা করছে—একটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন হোক এবং এর মাধ্যমে একটি ভোটাধিকারপ্রাপ্ত সরকার গঠন হয়। সেই সরকার বা সংসদ জনগণের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে এবং জবাবদিহিতা থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমাদের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার হবে এবং দক্ষতা উন্নয়ন হবে।’ অন্যদিকে, বিএনপির আন্তর্জাতিকস্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের ঘোষণা জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘উপযুক্ত সময়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। এখন রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, সেটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা।’
Category: রাজনীতি
-

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়বে: আবদুল্লাহ তাহের
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না, তাহলে দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়বে। তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তাহের বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিল তারা দেশের সংস্কার করবেন এবং দেশের মানুষও সংস্কার চান। তবে এই সংস্কার প্রসঙ্গে কিছু দল বিষয়ে নোট অফ ডিসেন্ট (অস্বীকৃতি প্রকাশ) করছে, যা বোঝায় তারা সংস্কার চায় না। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি তারা সংস্কার চান না? তিনি আরও বলেন, বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্র চলছে যেন সংস্কার প্রক্রিয়া সফল না হয়। আমাদের মানতে হবে, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে গ্রহণ করেছি, একইভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। তাহের আরও বলেন, রোডম্যাপ ঘোষণা হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কিভাবে হবে তা স্পষ্ট করতে হবে। তিনি পিআর (প্রিজাইস) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতে ফিরে যেতে চাই না। যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ বিপর্যয়ে পড়বে। তাহের বলেন, যারা পিআর পদ্ধতিতে ভোট দিতে চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের জন্য যা কল্যাণকর, তা আসলে গ্রহণ করা হবে। তবে মতানৈক্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলবো, পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচন রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। তাহের যোগ করেন, নির্বাচনের মাস নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না; তবে সংস্কার শেষ না করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা চাই, আপনারা ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন হোক। তবে আগে নির্বাচনের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলোর বিষয় সমাধান করতে হবে।
-

নির্বাচনী রোডম্যাপে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা অব্যাহত: সালাহউদ্দিন আহমদ
দু-একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, যদি কোন অস্বচ্ছতা বা সংশয় উপস্থাপিত হয়, তবে সেটা আমাদের সাথে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব। আমাদের কোনও অবস্থায় ঐক্য বিনষ্ট হবে না, বরং আলোচনা মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও দ্বৈতভাব দূর করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, আমরা চেষ্টাচরিত্রা করছি যেন কোনো গুমের ঘটনা না ঘটে। তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বলছি, জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ দিলে, তাদের গুমের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে আমরা যা দরকার সেটা করব। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংগ্রাম করে যাচ্ছি যেখানে গুমের শিকার হয়ে কাউকে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়াদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি ভাগ্যবান যে আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। আমার কিছু সহকর্মীর ভাগ্য হয় না, যারা এখনো নির্যাতনের শিকার।
অপরাধের জন্য বিগত সরকারের কোনো অনুশোচনা নেই বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, তাদের কারণে মানুষ তাদের অপরাধ স্বীকার করতে পারছে না। বরং জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া হয়েছে। এরপরও কি মানুষ তাদের রাজনীতিতে গ্রহণ করবে? কেউ ক্ষমা করেনি এবং তারা ক্ষমা চায়নি।
তিনি আবারো জানান, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপে অস্পষ্টতা সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। যদি কিছু সংশয় থাকে, তাহলে আলোচনায় বসা উচিত। ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা বন্ধ করে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী, যা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে গুমের শিকার কয়েকজনকে ফিরে পেয়েছি। অন্যদের ফিরে পাওয়ার আশাও ছিল, কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তিনি বললেন, সরকার আসার সময় বহু আশা ছিল যে তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনবে বা তাদের খোঁজ দিয়ে সমস্যার সমাধান করবে। এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য দেয়নি।
গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হয়েছিলেন। ঐ সময় আরও চারজনের সাথে একই সময় গুম হয়েছিলেন। তিনি জানান, ফিরিয়ে আনার পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি এখনো সয়ে বেড়াচ্ছেন, কারণ মামলা থেকে অব্যাহতি চান। তিনি আরও জানান, তার তিন বন্ধু এখনও গুমের শিকার, যার সাক্ষী তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, যারা তাকে গুম করেছিল, তারা এখনো চাকরি করছে।
বিএনপির আন্দোলনের সময় ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গুম হন শ্রমিকদল নেতা মো. ফজলুর রহমান কাজল। পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার চায়ের দোকান থেকে তুলে নেওয়া হয়। তিন মাসের মধ্যে তাকে কারাগারে দেখতে পারেননি। পরে খবর পাওয়া যায়, তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখেন, তার বাবা মারা গেছেন, তিনি বলেন, ‘তিন দিন ধরে কিছু খাইনি, কারাগার অভ্যন্তরে নির্যাতন চলছিল।’ সজল কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অভিযোগ করেন, তার বাবাকে ধরপাকড়ের সময় থেকে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বর্তমানে তার পরিবারের এই ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি সততা ও সাহসের প্রতীক।
-

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদ আনার চেষ্টা চলছে
দেশে উদারপন্থী রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের একটি বইয়ের প্রকাশনায় এই মন্তব্য করেন তিনি। বইটির লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম, যা ইতি প্রকাশন প্রকাশ করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মধ্যে আমরা আছি। সেই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য হলো, গণতন্ত্রের মূলধারা—উদারপন্থী ও মধ্যপন্থি রাজনীতি ও গণতন্ত্র—কে সরিয়ে দেয়া এবং এর পরিবর্তে একভিন্ন সাম্প্রদায়িক ও উগ্রবাদী রাজনীতির সূচনা করা। এই পন্থা দেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। আমাদেরকের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে উদারপন্থী গণতন্ত্রকে ফিরে আনতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে, তারা সন্দেহ করছে—কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কি হবে নির্বাচনের ব্যাপারে। তিনি বলেন, নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী, এবং যা ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা সময় মতো অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, নির্বাচন না হলে দেশের ক্ষতি মহা, এবং এই দুর্যোগে যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে, সেটি আরও সম্ভাবনা বাড়াবে।
মির্জা ফখরুল সোচ্চারভাবে বলছেন, বিভিন্ন দেশ ও মহলে এই ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে পুনরায় মোকাবিলা করার চেষ্টা চলছে। তাই, অন্যতম প্রধান দাবি হলো দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব—এমনটাই তার অভিমত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন—নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি সুশাসন, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পথে এগিয়ে যাব।
-

ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপি আনন্দিত
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, যা বিএনপি দলটি ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কথা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়। তিনি বলেছেন, ‘রোডম্যাপ ঘোষণাটি আমাদের জন্য আশাব্যঞ্জক। এটি দেখিয়ে দেয় কমিশন ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের মূল্যবান বার্তা হলো, আমরা খুশি এবং আমাদের মনোভাব খুবই ইতিবাচক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনগণের জন্য এটি একটি সুসংবাদ এবং আমাদের প্রত্যাশা খুব দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ এই রোডম্যাপের মাধ্যমে মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কবে নাগাদ নির্বাচন হবে এবং কোন পথে দেশ এগোবে। বিএনপি মহাসচিবের মূল্যবান মন্তব্যের পাশাপাশি দলটির সিনিয়র নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেলে বনানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নির্বাচনের এই রোডম্যাপ ঘোষণা দেশের জন্য একান্তই শুভ সংকেত। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে। সবাই আশা করছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন সরকার গঠন হবে এবং সংসদ প্রতিষ্ঠা পাবে, যা জনগণের জন্য দায়বদ্ধ এবং জবাবদিহির মধ্যে থাকবে। তিনি ভবিষ্যতেও অর্থনীতি দ্রুত সুদৃঢ় হবে এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরিত হবে বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এ রোডম্যাপ ঘোষণা দেশের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এর সমর্থন ছিল। এখন সরকারের উচিত, এই রোডম্যাপ অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, যাতে জনগণের আশা পূরণ হয়। তাদের এই প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতে একটি নতুন সরকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
-

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের দিকে এগোবে: আবদুল্লাহ তাহের
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা উল্লেখ করেন।
তাঁরা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো যে, তারা দেশের সংস্কার চালাবে এবং জনগণও সেই পরিবর্তন চায়। কিন্তু এই সংস্কার প্রসেসে কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট দেখাচ্ছে, যা বোঝায় যে তারা সংস্কার চায় না। এ বিষয়টি অশুভ ষড়যন্ত্রের অংশ বলে তিনি অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বীকৃতি দিয়েছি, এবং এই স্বীকৃতি অনুযায়ী সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু, ন্যায্য নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচনী পদ্ধতি স্পষ্ট করতে হবে। তাঁরা পিআর (প্রিপারেটিভ রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষপাতী। তাঁরা বলেন, তারা কখনো আওয়ামী জাহেলিয়াতের পথে ফিরে যেতে চান না। যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারাও কেন্দ্র দখল ও ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। গড়পরতা সিদ্ধান্ত না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
আবদুল্লাহ তাহের আরও বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, আসুন আলোচনা করি। দেশের স্বার্থে যা কল্যাণকর, সেটাই নেওয়া হবে। তবে মতের সংঘর্ষ পরিস্থিতি উন্নতি না এনে শুধু সমস্যা বাড়ায়। তাই তিনি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান, পিআর পদ্ধতি ভিত্তিক নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য সময়কাল নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি ছিল না। তবে সংস্কার শেষ না করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা চান, সরকারের ঘোষিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তবে নির্বাচনের আগে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলোর সমাধান করা জরুরি বলে তিনি জোর দেন।
-

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে দু-একটি দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট-ақ বলেছেন, যদি কোনও সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আসুন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করি। কোনোভাবেই ঐক্য ভেঙে যাওয়া উচিত নয়; বরং আলোচনা ও কথোপকথনের মাধ্যমে দইয়ে বিভাজন ও দোদুল্যমানতা দূর করতে হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে কেউ গুম হয় না। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বলতে চাই, যদি জনগণ আমাদের ক্ষমতায় আনার সুযোগ দেয়, তাহলে গুমের মতো নেক্কারজনক ঘটনাগুলো রোধ করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। আমরা একটি বাংলাদেশ গড়তে সংগ্রাম করছি যেখানে কেউ গুমের শিকার হয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।
শুক্রবার ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এই সব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আরো বলেন, আমার ভাগ্য ভালো যে, আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে পারছি। আমার অনেক সহকর্মীর সেই সৌভাগ্য হয়নি।
অপরাধের জন্য বিগত সরকারের কোনো অনুশোচনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। বরং, জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে তারা নানা অপবাদ ও অপরাধের অভিযোগ তোলে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ কি তাদের রাজনীতি পুনরায় স্বাগত জানাবে? তারা ক্ষমা চাইনি এবং এখনও চাইতে নারাজ।
তিনি আবারও উল্লেখ করেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। যদি কোনো সংশয় থাকে, তাহলে আসুন আলোচনা করি। ঐক্য ভাঙার কোনও সুযোগ নেই; বরং আলোচনার মাধ্যমে সকল বিভ্রন্তি দূর করতে হবে।
আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে গুম হওয়া কয়েকজন ব্যক্তি ফিরে এসেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন আরও অনেকের ফিরে আসার সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু এখনও কিছুই পারেননি সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অনেক আশ্বাস দিয়েছিল—যাদের গুম হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বা অন্তত তাদের তথ্য দিয়ে বিচার শুরু করা হবে। এখনো তারা কিছুই আদায় করেনি।
গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেছেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হন। এরপর তিনি আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, যারা একই সময়ে গুম হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি ও অন্য একজন ফিরে এলেও তিনজন এখনও নিখোঁজ। তার নামে একটি মামলাও করা হয়েছে, যেখানে তার বিচার হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মামলাটি থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন, কারণ তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। তিনি জানিয়েছেন, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা এখনো সরকারের চাকরিতে থাকছেন।
আরেক স্মরণীয় ঘটনা হলো, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলনের সময় মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজল আটক হন। পুলিশ হেফাজত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার চায়ের দোকান ছিল। ২৮ তারিখে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন থানার মাধ্যমে পুলিশ পল্টন ও কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করে। সেখানে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি পরিবারের সদস্যরা। শোনেন, তার বাবা মারা গেছেন হাসপাতালে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ব্যবহারের ছিল।
সজল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার বাবাকে ধরা থেকে শুরু করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আটকের পরে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত হয়নি। এই কষ্ট ও দুর্ব্যবহার তার মনে গভীর আঘাত করেছে।
-

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঢালাও পরিকল্পনা ভঙ্গুর: তাহের
নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত রোডম্যাপের ঘোষণা নিয়ে বিষদ মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপ্রয়োজনীয় ভঙ্গুর নকল পরিকল্পনা হতে পারে। আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে একটি নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।
ডা. তাহের উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোন আপত্তি নেই। তারা ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে, একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য নির্বাচন বাস্তবায়নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান জরুরি। এর মধ্যে জুলাই চার্টার আইনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে এবং এর ভিত্তিতেই নির্বাচন পরিচালিত হতে হবে। তবে, এই বিষয়গুলো না করে নির্বাচন কমিশন ডিজাইনের নামে যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তাকে তিনি মনে করেন একটি স্বচ্ছ নির্বাচন সফলতাকে হঠাৎ ভঙ্গুর করে ফেলতে পারে।
তাহের আরও বলেন, আমরা সরকারি ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি করবো জুলাই চার্টার আইনের প্রতিফলন ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য। এছাড়া, পুরনো ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির মধ্যে একটা নির্ধারিত হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপের ঘোষণা দণ্ডনীয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রায়ই ভুল পথে পরিচালিত হয় এবং এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান জানাবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনগণ একমঞ্চে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কল্পনা করছে। যদি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে দেশের জনগণ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দুর্নীতি ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করবে। এই নির্বাচন থেকে আমরা একটি নতুন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি।
এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মো মাহফুজুর রহমান। বক্তব্য দেন জামায়াত কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারি সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমসহ আরও অনেকে।
-

ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে বিএনপির খুশি
আরেকজন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন আোরণের জন্য রোডম্যাপের ঘোষণা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা। সালাহউদ্দিন জানান, সময়মতো এই রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা ছিল। তারা আশাবাদী, এই রোডম্যাপ অনুসারে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সদৃশ, সংগ্রামী নাগরিকশিক্ষিত ও দায়বদ্ধ সরকার রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হবে।
-

নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে গুজব ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি কোনও সংশয় থাকে, তাহলে আসুন তার সমাধান ও আলোচনা করি। কোনওভাবেই ঐক্য ভাংগার চেষ্টা চলবে না; বরং আলোচনা ও গণতান্ত্রিক পথ দিয়ে এই বিভেদের অবসান ঘটাতে হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন তার জন্য আমরা সবাই সংগ্রাম করছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি বলেন, যদি জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে সরকারে বসাতে চায়, তাহলে আমরা গুম, অপহরণ ও অপ্রকাশিত অভিযোগের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমাদের লক্ষ্য এমন এক বাংলাদেশ গড়া যেখানে কোনো নাগরিক গুমের শিকার হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।
শনিবার, ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আরো বলেন, আমি ভাগ্যবান যে আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, কারণ আমার অনেক সহকর্মী সেই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দোষত্রুটির জন্য তারা কোনও অনুশোচনা করেনি। উল্টো তারা বিচারাধীন আন্দোলনকারীদের অপরাধী বলে প্রচার করছে। এরপরও কি জনগণ তাদের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে? মানুষ কি কখনো ক্ষমা করবে? তারা ক্ষমা চায়নি।
তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা ছড়াচ্ছে, আলোচনার মাধ্যমে এসব সময় দুঃশিস্য দূর করতে হবে। একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিভাজন কাটিয়ে উঠতে হবে। কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট করতে দেয়া যায় না।
আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তো গুমের শিকার কয়েকজন ফিরে আসলেও, আরও অনেকের খোঁজ এখনো মেলেনি। তারা আশার আলো দেখিয়েছিলেন যে, সরকার গুমেরাদের ফেরত আনবে বা তথ্য দিয়ে বিচার শুরু করবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কিছুই হয়নি।
গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, তিনি ২০১৭ সালের মার্চে গুম হওয়া এক ব্যক্তির পরিচয়। তিনি জানায়, আরও চারজনের সঙ্গে তিনি গুমে ছিলেন। দুইজন ফিরে এলেও, তিনজন এখনও আটকে রয়েছেন। ফিরে আসার পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্রের মামলায় সাজা হয়, যা এখনো বহাল। তিনি অজ্ঞাত জেলখানায় থাকায় এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি দাবি করেন, তার গুমের সময়কার সাক্ষী তিনি, কিন্তু পরবর্তীতে গুমকারীরা এখনও সরকারি চাকরিতে বহাল আছেন।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির আন্দোলন চলাকালে, রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে সজল বলেন, তার বাবার দোকান ছিল। একদিন পুলিশ তুলে নিয়ে যায়, তারপর বিভিন্ন থানায় মামলা, কারাগার এবং হাসপাতালের মধ্য দিয়ে তার বাবার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর আগে তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে কিছুই খেতে পারেননি, এবং পুলিশ তাঁকে নির্যাতন করেছে।
সজল কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, বাবাকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। বাবার মৃত্যুর এক ঘণ্টা আগে তিনি শেষবারের মতো বাবার সঙ্গে দেখা করেন। তার থাকায় তিনি যান হৃদরোগ হাসপাতালে, যেখানে বাবাকে মৃত অবস্থায় পেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, বাবার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা আমরাও একসময় বুঝতে পারি।
