Category: রাজনীতি

  • রিজভীর মন্তব্য: মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়

    রিজভীর মন্তব্য: মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমাদের সমাজ দ্বিধাবিভক্ত এবং বিভ্রান্ত। কেউ মাজার ভাঙছে, কেউ লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছে—এগুলো কখনোই রাসুলুল্লাহ (সা.)’র শিক্ষা নয়। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী further বলেছিলেন, পৃথিবীর মানুষের জন্য মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)’র জীবন আরবের ইতিহাসের এক বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তাকে অনুসরণ করে মানবতা, শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা মোহাম্মদ (সা.)’র আদর্শ থেকে অনেক দূরে। তার থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং বিভিন্ন ফেরকা বিভাজন, ইসলামের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অন্ধকারের মাঝে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সামান্যতম ifলন বা আদর্শ অনুসরণ করলে এই দেশের অঙ্গাঅঙ্গি অসামঞ্জস্য, অন্যায়, বিদ্বেষ, পাপাচার, হানাহানি এবং রক্তপাত অনেকটাই কমে আসত। রিজভী আরও বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয়—আমরা মহানবী (সা.)’র আদর্শকে অনুসরণ করি না। তাকে গ্রহণ করি না, তার সাদামাটা জীবন ও ব্যক্তিত্বের মূল্যক্ষণ না করে বরং তার শিক্ষাকে অবহেলা করি। এই কারণে সমাজে দুর্নীতি, অনাচার ও হিংসার আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে। মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।

  • ৩০ দল থেকে জাতীয় পার্টির নিষেধাজ্ঞার দাবি

    ৩০ দল থেকে জাতীয় পার্টির নিষেধাজ্ঞার দাবি

    জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য দাবি জানিয়েছে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের নেতারা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত একটি সংহতি সমাবেশে তারা একত্রিত হয়ে এই দাবি জানান।

    এই সমাবেশের মূল আগ্রহ ছিল জ আপনি নেত্রীর ওপর হামলার ঘটনা, তার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার, পাশাপাশি জাপা ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগের আহ্বান জানানো।

    সমাবেশে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ অন্তত ৩০টির বেশি স্বনামধন্য দল যোগ দিয়েছিল।

    নেতারা বলেছেন, এখন সময় এসেছে অবিলম্বে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের অবসান ঘটানোর। তারা উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পেছনে দায়ী, এবং সরকারের দোসর হয়ে জাপা ও ১৪ দল শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনকে বাড়াতে সক্রিয়। সম্প্রতি জাপা’র মাথা চাড়া দিয়ে উঠা একচেটিয়া ক্ষমতা লালন ও এর মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য নেতারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অবিলম্বে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেন তারা।

    বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলা কারা করছে? ড. ইউনূসের কাছে বারবার বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন স্তরে হাসিনার অনুগত উপদেষ্টারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নুরের উপর হামলা কোনো একটি দলের উপর নয়, বরং সেটি দেশের ওপর চালানো একটি হামলা এবং দেশের গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। এটি ছিলো গত জুলাইয়ে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি বিদায় নিলেও, যারা এই ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করেছিল, তারা এখনও সক্রিয়। এ জন্য দেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ, মুক্ত গণতন্ত্রী বাংলাদেশ দেখতে চায়।

    গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, নুরের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন, এখনও কাউকেও গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ জরুরি, নতুবা সরকার ঘেরাও করা হবে। নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা জাপাকে দেশে আবার রাজনীতি করতে দেবে না; আওয়ামী লীগ ও জাপার অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

    নাগরিক সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য কিছু অপচেষ্টা হচ্ছে। তবে তারা নতুন করে নির্বাচন চায় এবং সংস্কার করলে নভেম্বরে নির্বাচন হলে তারা অংশগ্রহণ করবে।

    ইসলামী আন্দোলনের নেতা আশরাফ আলী আকন্দ দাবি করেন, তিনি জাপাকে নিষিদ্ধ করতে সমর্থ। তারা চায় যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আর জন্ম না নেয়।

    হেফাজতের নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, নুরকে আঘাত করা হয়নি, সেই আন্দোলনের নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, সমস্ত সহযোগি দলকে নিষিদ্ধ করে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে থাকলেন।

    বেলা ৩টায় সমাবেশের কথা থাকলেও দুপুর থেকেই সমর্থনকারী নেতাকর্মীরা মিছিল শুরু করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের নেতারা ক্ষত্রে ক্ষত্রে যোগ দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে বক্তব্য দেন এবং তাদের মধ্যে অভ্যুত্থানের দাবির পাশাপাশি দেশকে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

  • জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা

    জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা

    রাজধানীর বিজয় নগর এলাকায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভয়াবহ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। ফায়ার সার্ভিসের নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী, ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানিয়েছেন, তারা জানিয়েছেন কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর। তবে তারা এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সহিংসতার ঘটনায় যোগ দিয়েছে এক ধরনের চরমপন্থা, তাই অনুমতি নিয়ে সঠিক সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার কিছু পরে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারপর তারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর, সাড়ে সাতটার মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ৩১ আগস্ট একই স্থান থেকে একদল বিক্ষোভকারীর নেতৃত্বে মারমুখো মিছিল এসে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলটির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এই হামলা বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে হয়েছে। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারধারী মিছিলের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। তারা জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের জন্য শ্লোগান দিচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, জাতীয় পার্টি কেন ভোটে অংশ নিচ্ছে, তা নিয়ে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ ও অন্যান্য দলও যুক্ত থাকতে পারে। এটা স্পষ্ট যে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে বিরোধী শক্তি হিসেবে তুমি থাকতে চায়।”

    এদিকে, রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, কিছু দুষ্কৃতকারী আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উপস্থিত ছিল, জলকামান দিয়ে আগুন মোড়ানো হয় এবং পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল।”

  • উদারপন্থার রাজনীতি দূরে সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    উদারপন্থার রাজনীতি দূরে সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি অবমূল্যায়ন করে ‘উগ্রবাদ’ আনয়ন করার ষড়যন্ত্র চলছে—এ stevige উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার সকালে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করে তোলে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের নতুন বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেখক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা ফাতেমা সালাম। এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো, এইদেশের ঐতিহ্যবাহী মধ্যপন্থা ও উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে না নিয়ে, উগ্ৰবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এটি আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, উদারপন্থি গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।’তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন না হলে দেশের জন্য খুব বড় ক্ষতি হবে। আমরা জানি, রাজনীতিতে বিভিন্ন মত থাকতেই পারে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। মানুষ নানা প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে—যেমন, কি সংসদ নির্বাচন হবে? এই অস্থিরতা ও শঙ্কা বাড়ছে। আমি মনে করি, নির্বাচনের তারিখ যেটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সময়মত হওয়া উচিত। কারণ, না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাবে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলেও এই বিষয়ে আলোচনা চলছে, যারা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছে। তাই, দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারব—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশ একটি বড় বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তাহের আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিল তারা দেশের সংস্কার করবেন। দেশের মানুষও এই সংস্কারের জন্য প্রত্যাশী। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট করছে, যা বোঝায় তারা সংস্কার চান না। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি এই সংস্কারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া হচ্ছে না? বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য। তিনি আরো বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্রহণ করেছি, একইভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    তাহের উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচন কেমন পদ্ধতিতে হবে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। তিনি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল এবং ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের অবস্থা মহাবিপর্যয়ের দিকে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, তাদের আহ্বান জানাই আলোচনা করতে। দেশের জন্য কল্যাণকর যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতের সংঘর্ষ ভালো কিছু আনে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য।

    আবদুল্লাহ তাহের বলেন, নির্বাচনের মাস নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ না করেই নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী তারিখ চাই, কিন্তু তার আগে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে।

  • নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার পর থেকে তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, তাকে সুস্থ দেখানোর একটি পরিকল্পনা চালু রয়েছে। তিনি বলেন, নুরুল হক নুর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয় এবং সেই পরিস্থিতি মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ করেন।

    তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে নুরুল হক নুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে যাচ্ছে, নাকের আকার পরিবর্তিত হয়েছে, মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, হাঁটতেও পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকার জানিয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হবে। তবে, নির্মল পরিস্থিতির যেমন পূর্বে ছিল, এখনো তেমনই অবস্থা বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ খান বলেন, তারা এখনো নুরুল হক নুরের অবস্থার উন্নতি দেখতে পারেননি এবং তিনি প্লেনে উঠার মতো অবস্থায় নেই। তিনি আরও যোগ করেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য তাদের দাবি দীর্ঘদিনের, এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার ট্রিটমেন্ট শুরু হবে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, যা সত্য নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে নুরের অবস্থা আরও বেশি গুরুতর, তার নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে এবং ডাক্তাররা তাকে দেখে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি এখনই তাকে দেখেছি, ডাক্তার ও হাসপাতালের পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে।” তবে, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে- নুর সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা তার প্রকৃত حالতের সঙ্গে মিলছে না।

    রাশেদ খান বলেন, তিনি একাধিকবার নুরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি এখনো কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছেন না, মুখের মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যাথা এবং মাথায় আঘাতের জন্য তার ব্রেনের কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, “নুর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি, তিনি আগের মতোই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছিল।”

    রাশেদ খান উল্লেখ করেন, নুরের ওপর হামলার ঘটনা ঘিরে দেশবাসীর মধ্যে ক্রমশ একতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে যে, এই ধরনের হামলা আর সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য ফ্যাসিজমের সঙ্গে জড়িত দলের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা লজ্জাজনক। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা ব্যতীত এই ধরনের ঘটনা ঘটার নয়। তিনি আরও বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর এবং তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    শেষে রাশেদ খান দাবি করেন, নুরের সুস্থতা নিয়ে চালানো পরিকল্পনা কোন লাভ দেবে না। সত্যিকার বিচার, হামলাকারীদের শাস্তি এবং তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণই যথাযথ পথ। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য যেসব ব্যক্তি এবং সংগঠন জড়িত, তাদের দ্রুত বিচারে আনতে হবে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দলের ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দলের ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভোটের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপের নামে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি কোনও সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আসুন আলোচনার মাধ্যমে তা মুক্ত করি। বিগত দিনগুলোর মতো ফাটল সৃষ্টি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মানসিকতা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়; বরং ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে সব অজুহাত দূর করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি এবং এই সংগ্রামের পথ অবশ্যই শান্ত, স্বচ্ছ ও জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন এমন এক বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ যেন আর রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়। তার বিশ্বাস, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয়তার মাধ্যমে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতারা, যারা গুমের শিকার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ রেখেছেন।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার দাবিতে কাজ করতে না পেরে অন্যায়ের স্বীকার করে আসছে। তিনি বলেন, অপরাধের জন্য তারা অতীতে ক্ষমা চায়নি; বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছে—গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের প্রতি দোষারোপ। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, জনগণ কখনো এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি আহ্বান জানান, এই সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকলে আলোচনা করা উচিত, যাতে সবাই একে অন্যের মনোভাব বুঝে নিতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে অন্ধকার করেছে এমন বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।

    সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেককে ফিরে পেয়েছেন। তিনি আশা করেছিলেন আরও অনেকের ফিরে আসা সম্ভব হবে, তবে সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো, গুমের শিকারদের ফিরিয়ে আনবে, তাদের তথ্য দেবে, যাতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এতদিন তালিকায় কিছুই জানা যায়নি।

    গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের মার্চে তিনি গুমের শিকার হন। সেই সময় আরো চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, তাদের মধ্যে তিনি ও আরেকজন ফিরে আসেন। বাকিরা এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, আমাকে ফিরে পেয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাকে এবং অন্যদের গুম করেছিল যারা এখনো সরকারি চাকরিতে রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার সাজাও হয়েছে, যা আমাকে এখনো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখে। আমি এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছি, কারণ আমার সঙ্গে থাকা তিনজন এখনো ফেরত আসেনি।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলনের সময় রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ; এরপর তার মৃত্যুর খবর আসে। তার ছেলে সজল বলেন, তাদের বাড়ির চায়ের দোকান থেকে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে পল্টন থানায় চালান করে, আবার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারেও দেখা যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, বাবার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসা করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর সজল বলেন, বাবার ওপর দিন দিন নির্যাতন চালানো হত। তিনি আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কারণ তার বাবার সঙ্গে আর দেখা করতে পারেননি।

  • তাহেরের মন্তব্য: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের নীলনকশা

    তাহেরের মন্তব্য: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের নীলনকশা

    আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা যোগ দেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তার বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে নির্মম সত্যতা তুলে ধরেন। তিনি বললেন, নির্বাচন সংক্রান্ত রোডম্যাপ ঘোষণা একটি ঐকান্তিক, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ভণ্ডুলের জন্য নীলনকশা। তাহেরের মতে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য জামায়াতের কোনও আপত্তি নেই। তারা প্রস্তুত, তবে সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান জরুরি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জুলাই চার্টারকে আইনি ভিত্তি প্রদান ও এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ও আইনি প্রস্তুতি বিনা নথিভুক্তি বা প্রস্তুতির বিনা, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তাহের আরও বলেন, তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবেন জুলাই চার্টার ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন কার্যকর করতে। আগে থেকে প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে নতুন পিআর পদ্ধতি বা ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতির মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপ ঘোষণা একটি বড় ভুল ও অপরাধ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই এই বিষয়গুলো নিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাহের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ অপেক্ষা করছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। যদি সেই নির্বাচন হয়, তবে দখলদার, দুর্নীতিবাজ, ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তিগুলো ভোটের মাধ্যমে বিপুল সমর্থন পাবে। এই নির্বাচনের ফলেই আমরা গড়ে তুলব একটি নতুন, উন্নত বাংলাদেশ।’ এ সময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাশেম প্রমুখ।

  • তাহেরের মূল্যবান মন্তব্য: রোডম্যাপের চক্রান্ত স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে বাধা

    তাহেরের মূল্যবান মন্তব্য: রোডম্যাপের চক্রান্ত স্বচ্ছ নির্বাচনের পথে বাধা

    নির্বাচনের জন্য ঘোষিত রোডম্যাপকে একজন দুর্বার বাজে নীল নকশা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এটি জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। এই মন্তব্য তিনি আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে করেন।

    ডা. তাহের বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের প্রতি জামায়াতের কোনো বিরোধ নেই। তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে সম্পন্ন করার জন্য। তবে এর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করতে হবে, যেমন জুলাই চার্টারকে আইনগত ভিত্তি দেওয়া এবং এর ভিত্তিতেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব। কিন্তু, সেটি না করে, নির্বাচনের জন্য ঘোষণা করা নকশাটি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ভন্ডুল করার পরিকল্পনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবো জুলাই চার্টার রিফান্ড ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে। এছাড়া, আগের ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি ও নতুন প্রস্তাবিত পিআর পদ্ধতির মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপের ঘোষণা সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি বড় অপরাধ। এজন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

    তাহের উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায়। যদি আগামী নির্বাচন হয় স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য, তাহলে দেশের চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তিগুলো বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    এ সময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেম প্রমুখ।

  • উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি সরিয়ে উগ্রবাদী রাজনীতি আনার পরিকল্পনা চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিশিষ্ট লেখক সৈয়দা ফাতেমা সালাম, যার লেখা বইটির শিরোনাম ‘রক্তাক্ত JULAI’। বইটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।

    মির্জা ফখরুল জানান, দেশের অন্দরে একটি ষড়যন্ত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে সরিয়ে নিয়ে আসা এবং এর বদলে উগ্রবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা। এই পদক্ষেপটি দেশের জন্য মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সব মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, উদারপন্থী গণতন্ত্রকে রক্ষা করে মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হবে নিশ্চিত, এবং সময় অনুযায়ী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে কোন সন্দেহের স্থান নেই।’ মির্জা ফখরুল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নির্বাচন বাতিল বা বিলম্বিত হলে দেশের ক্ষতি অনিবার্য হয়ে যাবে এবং ফ্যাসিবাদী শাসন আবার ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পক্ষ থেকে আবারো এই ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও নজরুল।

    মির্জা ফখরুল পরিশেষে বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারব। তার আশাবাদ, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা আরো শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক হয়ে উঠবে।