Category: রাজনীতি

  • ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

    ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপিসহ মোট ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ এলাকায় (ফকিরখালি রোডের মুখে) অবস্থিত এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রের ভোটদান শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমি সকল নাগরিককে আহ্বান করছি—আপনি সবাই যেন রায় দিতে আসেন। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ পাননি; আজ সেই সুযোগ এসেছে ভোটের মাধ্যমে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা কোনও প্রতিকূলতা নিয়ে বেশি ভাবছি না। মানুষের ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। প্রশাসন, মিডিয়া ও সেনাবাহিনী যেন নিরপেক্ষ থাকেন, এই কামনা করি।’’

    সরকার গঠনের প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, আমরা সরকার গঠনের খুবই কাছাকাছি। ভোটের ফলাফল পর্যন্ত আমরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আমরা জনগণের রায় মেনে নিব। জয় নিশ্চিতভাবেই হাতে রয়েছে; তবে জয়-পরাজয় থেকে বেশি আমাদের গুরুত্ব নিয়েছে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন এবং জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—এটাই আমাদের মূল অঙ্গীকার।’’

    আজ সকাল সাড়ে সাতটায় সারাদেশের মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকাল থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে ভিড় জমাতে শুরু করেন। অনেকেই ফজরের সালাম দিয়ে সরাসরি ভোটকেন্দ্রের লাইনেও দাঁড়ান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রত্যেক কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

    এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দিতা চলছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থী মৃত্যুর কারণে ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।

  • বড় কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দেব না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

    বড় কোনো ক্ষেত্রে ছাড় দেব না: জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ছোটোখাটো ঘটনা মেনে নেবেন, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা বা অবিচার ঘটলে তিনি ছাড় দেবেন না। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর মণিপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হয়েই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা জানান।

    ভোটের পরিবেশের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, আমি কেবল কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছি, এখন অন্যান্য কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব এবং সারা দেশের খবর নেব। তিনি জানান, ছোটখাটো বিষয় এখনও যদি হয়ে যায় তবে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে খুব একটা ভাবব না, কিন্তু বড় কোনো সমস্যা হলে আমরা ছাড় দেব না। তিনি উল্লেখ করে বলেন, মানুষ যেন তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, এ বিষয়ে আমরা কঠোর।

    শফিকুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগ দেশবাসী ভোট দিতে পারেনি, আমিও পারিনি। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনটি ভোটের বিরতির পর আজ আল্লাহ আমাদের আবার এই স্বাধীনতা দিয়েছেন।

    তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আমি নিজেই নই, বিশেষ করে যুবসমাজ—যারা জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি—তারা এই ভোটের জন্য অপেক্ষা করছিল। এটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও দখলমুক্তভাবে সম্পন্ন হওয়া উচিত। তিনি আরও জানান, এই ভোট যেন সবাই গ্রহণ করে, সেই জন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে এমন সরকার গঠিত হবে, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।

    তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বললেন, নির্ভয়ে কেন্দ্রে যান, নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশের একটি গর্বিত অংশীদার হোন। সবাই যেন নিজের ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত গড়তে সহায়তা করেন, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। দেশ গড়ার কাজে মিডিয়ার পাশে তার প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি সকলের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমাদের ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মিডিয়ায় একই খবর ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। কেউ অপরাধ করলে আমি তার বিপক্ষে, তবে যা অপরাধ নয়, তাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরও বড় অপরাধ।

  • ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেব: তারেক রহমান

    ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ফলাফল অবশ্যই মেনে নেব: তারেক রহমান

    বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমি ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ চালেছি। গতরাতেও কিছু চেষ্টা চালানো হয়েছে, আজও তারা অব্যাহত রাখতে পারে, তবে আশার কথা হলো জনগণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার সম্পন্ন করতে পারছেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মানুষ এই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, এখন সেই অসুবিধা কিছুটা কম হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের қабলে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব—আমরা সবাই একত্রে চেষ্টা করি যেন ভোটাররা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে তাদের ভোট দেওয়ার অধিকারটি ব্যবহার করতে পারেন। আমাদের সকলের উচিৎ যেন একসঙ্গে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করা।

    জয়ের ব্যাপারে বিএনপি কতটা আশাবাদী, এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী, ইনশাআল্লাহ, আমরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

    অতো আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি যত বেশি সম্ভব আসনে জিততে পারব, যাতে করে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে সুবিধা হয়।

    নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে আশা-কামনা রয়েছে কি না, এই বিষয়ে তিনি বলেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের সবাইকেই নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই।

    সারা দেশের ভোটের পরিস্থিতি কী, তা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি এতক্ষণ বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরেছি, এখনো দেশের সার্বিক খবর পাইনি। কিছু সময় ব্যয় হয়েছে, তবে মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ দেখে শুনেছি, কিছু কিছু স্থানেই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। একাধিক রাজনৈতিক দল এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটাচ্ছে। আমরা চাই না এ সব ঘটনা ঘটুক।

    তিনি বলেন, দেশের মালিক হচ্ছে দেশের জনগণ। যদি তারা ভোটের জন্য নিয়ে এগিয়ে আসে এবং অধিকার প্রয়োগ করে, তাহলে সবাই মিলে ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারব।

    তবে যারা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরূপ ধারণা বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এসব কাজ সমাজের জন্য বাস্তুহানি এবং অনৈতিক।

    ভোটের গণনা যখন ক্ষণস্থায়ী সময়ের মধ্যে শেষ হবে, সেই বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ফলাফল প্রকাশের জন্য দেরি হওয়ার কোনও কারণ দেখছি না। কেন যে ফলাফল দেরি হবে? দেশের সব মানুষ এখনই ফল জানতে চান। নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত সম্ভব ভোটের ফল ঘোষণা করবে।

    বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখেছি। ফলাফল ঘোষণা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা থাকে, কিন্তু আশা করি এবারও মানুষ দ্রুত তাদের ভোটের ফলপত্র পাবেন।

    তিনি বললেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিতর্কহীন নির্বাচন হলে আমরা অবশ্যই সেটা মান্য করব। সব দলের জন্য শর্ত হলো—নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া দরকার।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি। মানুষ বিভ্রান্ত করার জন্য নানা চেষ্টা চলছে, এটি অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়, কেউই মানবে না।

    ভোটের পরিবেশ নিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি ঢাকা শহরে যে পরিবেশ দেখেছি, তাতে মনে হয়েছে মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ এবং আবেগের সাথে ভোট দিচ্ছে। এই উৎসাহ দেখে মনে হয়েছে, দেশের ভবিষ্যত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হবে।

  • নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক আটক, ৩ বছরের কারাদণ্ড

    নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক আটক, ৩ বছরের কারাদণ্ড

    পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় নমুনা ব্যালটসহ যুবশক্তির আহ্বায়ক সুকুমার দাস বাবু (৪৮)কে আটক করা হয়েছে। পরে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

    ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে, আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের গেটের সামনে। পুলিশ তাকে তখনই আটক করে। বিচারক রানা পারভেজ ওই দিনই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাস বাবুর বাড়ি হলো উপজেলাতোড়িয়া ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজার খ্রিস্টানপাড়া। তিনি এলাকায় বিমল দাসের ছেলে হিসেবে পরিচিত। এছাড়া, জানা গেছে তিনি ‘অভিযান নিউজ টিভি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

    স্থানীয় সূত্রের মতে, সুকুমার দাস বাবু আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে একটি নমুনা ব্যালট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে যান। এসময় তিনি ভোটারদের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দেখতে পেয়ে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

    বিচারক তার তিন বছরের সাজা এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। পরে তাকে আটোয়ারী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত সুকুমার দাসকে দ্রুত জেলহাজতে পাঠানো হবে।

    এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো অনিয়মই সহ্য করবে না।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান

    বনিবিধ যে দেশের ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবেন ১২ ফেব্রুয়ারি — এমন মন্তব্য করেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দাবি করেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে এবং সেটি রুখে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত লাখো মানুষের উদ্দীপনা এবং উত্তেজনা লক্ষ্যণীয় ছিল।

    তারেক রহমান রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির উন্নয়ন ও সেচবিপ্লব টেকসই করার লক্ষ্যে ১০০০ কোটি টাকার আটকে থাকা পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, ধানের শীষের বিজয়ে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে।

    চেয়ারম্যান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয় এবং পরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। কিন্তু পদ্মা কেন্দ্রিক ওই বিশাল সেচ প্রকল্পটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে এখন সেটি প্রায় বন্ধপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পকে পূর্ণ শক্তিতে পুনরায় চালু করবেন।

    তারেক রহমান বলেন, সেচ ব্যবস্থা শুধু রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রতিটি মাঠে সেচের পানি পৌঁছে দিতেই তারা কাজ করবেন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে—কৃষক হাসলে পুরো দেশের মঙ্গল হবে, বলেও তিনি যোগ করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষীদের কষ্টের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থাপনা নেই। ক্ষমতায় এলে তারা আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক গুদাম নির্মাণ করবে, যাতে মৌসুমে আম নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে চাষীরা মুক্তি পায় এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের যাতায়াত বদলাতে পদ্মা নদীর ওপর নতুন ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি বলেন, এটি হবে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।

    প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং তাদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠার পথ তৈরি হবে।

    ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমানের সশরীর উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা জাগিয়েছে। তিনি উপস্থিত দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়নের এই বার্তাগুলো নিয়মিতভাবে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ’ শুধু প্রতীক নয়—উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমাগম করেন, যা পুরো রাজশাহী মহানগরীকে কার্যত অচল করে দেয়।

  • এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘একটি দল নির্বিচারের মতো সারা দেশে মামলা দিয়ে, মামলা-বাণিজ্য করে ও প্রতারণা চালাচ্ছে। তারা ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিতেও মানুষকে প্রতারিত করছে; কেউ মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হবেন না।’’

    আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় এসব অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। এই জনসভা মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়ে উঠবে। ৫ আগস্টের আগে যে অন্ধকার সময়ের পরিণতি আমরা দেখেছি, আমরা আর তা চাই না। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে; যারা অবিচার করেননি তাদের হয়রানি করা হবে না।’’

    তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা দেখেছি—এক দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারি হত্যা করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট এই সংরূপ সহিংসতা সহ্য করবে না; জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।’’

    নাহিদ ইসলাম নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকায় নেই। তাদের নিরপেক্ষ হতে হবে, নয়তো ১১ দলীয় জোট এটি মেনে নিবে না।’’

    তিনি জোটের প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন, নির্বাচিত হলে ১১ দলীয় জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থান শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবে।

    আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা এই আসনে প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজারের চার আসনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের সংগ্রামে জেলও কেটেছেন; তিনি ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কারাবাসভোগ করেছেন।’’

    নাহিদ ইসলাম শেষ করে বলেন, ‘‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়বে; সবাই একসাথে কাজ করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হোক বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান ঘটুক। আমরা মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবো। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফল আমাদের হবেই, ইনশা আল্লাহ। মৌলভীবাজার-৪ থেকে এনসিপির যাত্রা আমরা আজ শুরু করলাম।’’

    এ নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

  • নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    নাহিদ ইসলাম: একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একটি দল নির্বিচারে সারা দেশে মামলা দিচ্ছে, মামলা-বাণিজ্য করছে এবং জনকে প্রতারণার শিকার করছে।’ তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমগ্নলে নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন। ওই সভা অনুষ্ঠিত হয় মৌলভীবাজার-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের পক্ষে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন ৩১ দফার কথা — তারা ৩১ দফার সঙ্গেও প্রতারণা করছে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে কেউ প্রতারিত হবেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন যে কিছু গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপপ্রচারের জন্য রাজনৈতিক মামলা ব্যবহার করছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরকার বাংলাদেশ নতুন হবে। ৫ আগস্টের আগে কী পরিণতি হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি; আর এমন পরিস্থিতি আর চাই না। আইন-শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যারা নির্দোষ তাদের হয়রানি করা হবে না।’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখেছি একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে; তারা জামায়াতে ইসলামীর এক উপজেলা সেক্রেটারি কোথাও হত্যা করেছে—এমন জঘন্য ঘটনায় ১১ দলীয় জোট সহ্য করবে না। জনগণ ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে।’

    তিনি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। ‘তারা যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে ১১ দলীয় জোট তা মেনে নিবে না,’ নাহিদ বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জোট শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে কাজ করবে।

    আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘এ আসনে আমরা প্রীতম দাশকে মনোনীত করেছি। আমরা মৌলভীবাজার-৪ আসনকে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রীতম দাশ চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য ফ্যাসিস্ট আমলে জেলও কেটেছেন।’ তিনি প্রীতমকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

    নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ‘১১ দলীয় জোট ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করবে। আমরা চাই না চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে আবার ক্ষমতা পাক, বা নতুন কোনো স্বৈরাচারের উত্থান হোক। ১১ দলীয় জোট মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা ফল পাবই, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি জানান, এনসিপির রাজনৈতিক যাত্রা মৌলভীবাজার-৪ থেকেই শুরু হয়েছে।

    নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঞা, মৌলভীবাজার-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী প্রীতম দাশ ও আরও অনেকে।

  • নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ এবং তা হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু মহল নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে; সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে তিনি সর্বসাধারণকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মাঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ও আশপাশের এলাকার হাজার হাজার সমর্থক।

    সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব টিকিয়ে রাখতে এবং সেচের আওতা বাড়াতে তিনি প্রথম দিকে থমকে থাকা প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করবেন। তিনি আশ্বাস দেন, ধানের শীষ বিজয়ী হলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত প্রত্যেক কৃষকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খননের কাজ শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে নেওয়া বড় সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল। তিনি গলায় কষ্ট নিয়ে বলেন, পদ্মা নদী কেন্দ্রিক যে বিশাল সেচ প্রকল্পটির নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, সেটি গত ১৬ বছরে পরিকল্পিতভাবে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি আজ প্রায় বন্ধপ্রায়। আমাদের লক্ষ্য ঐতিহাসিক ওই প্রকল্পকে পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা—এটাই তার প্রকল্পের প্রধান অঙ্গ।

    বিএনপি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেন, সেচ ব্যবস্থা কেবল রাজশাহীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে শুরু করে উপরের পঞ্চগড় পর্যন্ত সেচের পানি পৌঁছানো হবে। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, কৃষক হাসলেই দেশের উন্নয়ন হবে—এ কথাই তিনি বারবার উদ্ধৃত করেন।

    রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, আম সংরক্ষণের কোনো আধুনিক ব্যবস্থা নেই। ক্ষমতায় এলে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে মৌসুমে আম পচে যাওয়ার ভয় কমে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায়।

    সেচ প্রকল্পের পাশাপাশি তিনি পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ‘পদ্মা ব্রিজ’ নির্মাণের আশ্বাস দেন, যা নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ আর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে উন্নত হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক নারী-শক্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন; এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন এবং স্বনির্ভর হবেন।

    ২২ বছর পর সরাসরি রাজশাহীতে উপস্থিত হয়ে জনসভায় তারেক রহমানের আগমন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, উন্নয়ন ও নির্বাচনী বার্তাগুলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি পুনরায় বন্ধ্যা করে বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু প্রতীক নয়, এটা উত্তরবঙ্গের কৃষকের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি।’

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন, যা শহরকে কার্যত অচল করে দেয়। জনতার এই প্রভাব ও মহত্ত্বের মাঝেই তারেক রহমান নির্বাচনী লড়াই জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।

  • বিএনপি এতই খারাপ হলে ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি এতই খারাপ হলে ওই দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি: তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা এখন বিএনপিকে দুর্নীতির অভিযোগে আক্রমণ করছে তারা নিজেরাই মিথ্যা বলছে—কারণ ২০০১-২০০৬ সালেও তাদেরই দুইজন মন্ত্রী তখন বিএনপি সরকারের অংশ ছিলেন। যদি বিএনপি এতই দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তবে ওই দুই মন্ত্রী কেন তখন পদত্যাগ করে চলে আসেননি? তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বেলা ৪টা ০৩ মিনিটে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন তিনি। বক্তব্য শুরু করার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের মঞ্চে দাঁড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। ৪টা ২৬ মিনিটে উপস্থিত জনতাকে সালাম করে বক্তব্য শুরু করেন এবং ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য শেষ করেন। সভার শেষে তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

    তারেক রহমান বলেন, তারা (বহির্গামী বলছে) বিএনপি দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন ছিল—তবে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর দেশ দুর্নীতির করাল শাসন থেকে মুক্ত হতে শুরু করে। ওই সময় যে দুই মন্ত্রী ছিলেন, তারা কেন পদত্যাগ করেননি—এই প্রশ্নের মধ্যে সার্বিকতা বোঝানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ওই দুই মন্ত্রী জানতেন যে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, তাই তারা তখনই বিএনপির সাথে থাকতে চাননি না।

    অনুষ্ঠানে তিনি অভিযুক্ত দলের বৈরিতার উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক নানা পরিসংখ্যানও প্রমাণ করে যে আগের স্বৈরাচারি শাসনামলে দেশের দুর্নীতির মাত্রা ছিল খুব বেশি। সেই প্রেক্ষাপটে ২০০১ থেকে বদলে যাওয়া পরিস্থিতির কথা তিনি সামনে তুলেছেন।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান ভোটের দিন কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন—তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার পর সকলে কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করে, তারপর লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু ভোট দিয়ে চলে আসলেই হবে না; ভোট পড়া ও ফল রক্ষা নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ ভোট লুট করতে না পারে।

    আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটের পর খাল খনন কর্মসূচিতে আবার সবাইকে দেখতে চান—সেদিন সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন এবং তিনি নিজেও সেখানে থাকবেন।

    সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা উল্লসিত স্লোগান দিতে থাকেন—‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ও ‘আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান’—এসময় তাকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। মঞ্চে উঠে স্থানীয় নেতারা ময়মনসিংহের তারাকান্দা পৌরসভায় রূপান্তরের দাবি তুলেন।

    তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ধানের শীষ প্রতীকের ২৪ জন প্রার্থী বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু ও লতফুরজ্জামান বাবর। প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ছিল তা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান এবং স্লোগান দেন—‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’।

    লতফুরজ্জামান বাবর সভায় বলেন, আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই এবং ভবিষ্যতে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।

  • নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াত আমির

    নারীদের সম্মান না করলে পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াত আমির

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সারাদেশে কর্মরত নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলাকারীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তারা তওবা করে ক্ষমা চাইতে পারে; তবে বলেন, ‘‘আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য বেশি। মাকে সম্মান করো, অন্যথায় ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো। মায়েদের প্রতি অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’’

    সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, মায়েদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এছাড়া ডে কেয়ার ও বেবিকেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সম্মানের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি জানান, এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, মায়েদের জন্য পাঁচ কর্মঘন্টার প্রস্তাবের কারণে কিছু মহল অযথা সমালোচনায় মেতেছে। তবে এই প্রস্তাবটি এমন মায়েদের কথা ভাবেই করা হয়েছে, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এতে মায়েদের সম্মান ক্ষুন্ন করার কোনো বিষয় নেই—এটাই তার মন্তব্য।

    মায়ের মর্যাদা ও ত্যাগের বিবরণ তুলে তিনি বলেন, একজন মানুষ মায়ের গর্ভে প্রায় ২৮৫ দিন থেকে পৃথিবীতে আসে এবং সন্তানের জীবনের শুরু থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের অবদান অপরিসীম। বর্তমান বাস্তবে শিশুপালনের মূল দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের ওপরই পড়ে; তাই প্রত্যেক পুরুষের উচিত তার স্ত্রী ও মায়ের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।

    ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, কঠোর সময়েও নারীরা দায়িত্ব পালন করেছে এবং সাহসী নারীরা—যেমন হযরত নুসাইবা (রাঃ) ও হিন্দা (রাঃ)—ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ করেছেন; তাদের মতো নারীদের ভবিষ্যতে কোনো ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

    আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখের ভোটে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুবতীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের হাতে বেকার ভাতা না দিয়ে যথাযথ শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা দিয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।

    সমাবেশে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ১২ ফেব্রুয়ারির বিজয় হবে দেশের মানুষের বিজয়, আর দেশের মানুষের বিজয় মানেই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা।