জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সারাদেশে কর্মরত নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হামলাকারীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর মনিপুর স্কুল মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের এক বিশাল মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তারা তওবা করে ক্ষমা চাইতে পারে; তবে বলেন, ‘‘আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য বেশি। মাকে সম্মান করো, অন্যথায় ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো। মায়েদের প্রতি অবমাননা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’’
সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, মায়েদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এছাড়া ডে কেয়ার ও বেবিকেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে কর্মজীবী মা সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি সম্মানের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তিনি জানান, এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, মায়েদের জন্য পাঁচ কর্মঘন্টার প্রস্তাবের কারণে কিছু মহল অযথা সমালোচনায় মেতেছে। তবে এই প্রস্তাবটি এমন মায়েদের কথা ভাবেই করা হয়েছে, যারা সন্তান লালন-পালনের জন্য চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। এতে মায়েদের সম্মান ক্ষুন্ন করার কোনো বিষয় নেই—এটাই তার মন্তব্য।
মায়ের মর্যাদা ও ত্যাগের বিবরণ তুলে তিনি বলেন, একজন মানুষ মায়ের গর্ভে প্রায় ২৮৫ দিন থেকে পৃথিবীতে আসে এবং সন্তানের জীবনের শুরু থেকে বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত মায়ের অবদান অপরিসীম। বর্তমান বাস্তবে শিশুপালনের মূল দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রেই মায়ের ওপরই পড়ে; তাই প্রত্যেক পুরুষের উচিত তার স্ত্রী ও মায়ের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
ইসলামের ইতিহাস থেকে উদাহরণ টেনে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, কঠোর সময়েও নারীরা দায়িত্ব পালন করেছে এবং সাহসী নারীরা—যেমন হযরত নুসাইবা (রাঃ) ও হিন্দা (রাঃ)—ইসলামের পক্ষে আত্মত্যাগ করেছেন; তাদের মতো নারীদের ভবিষ্যতে কোনো ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, নারীদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ১২ তারিখের ভোটে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যুবতীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের হাতে বেকার ভাতা না দিয়ে যথাযথ শিক্ষা ও ভাষাগত দক্ষতা দিয়ে আত্মমর্যাদার সঙ্গে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
সমাবেশে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ১২ ফেব্রুয়ারির বিজয় হবে দেশের মানুষের বিজয়, আর দেশের মানুষের বিজয় মানেই ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রযাত্রা।
