Category: রাজনীতি

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি ‘জুলাই সনদ’ দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে এত বড় সমর্থন দিয়েছে, সেই আশা পূরণে দল যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তেমনি জুন মাসে অঙ্গীকারিতাগুলোকেও কঠোরভাবে মানা হবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই দলবদ্ধ কাজের মাধ্যমে মাদক, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা বলেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সংবিধান ও আন্তর্জাতিক চুক্তির পরিপালন ও বাস্তবায়নটাই বর্তমান সরকারের মূল অঙ্গীকার। দেশের সংবিধান ও আইনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুদৃঢ় করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

    তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করার জন্য জরুরি আইন ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া চালানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বা তার সদস্যদের শপথ পড়ানোর কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা সরকারের নেই, এ কারণে কোনও অপ্রমাণিত বা অপ্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ভবিষ্যতেও দেশের রাষ্ট্র পরিচালনা সাংবিধানিক পথে চলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, শপথের পর সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করে সংসদীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের সরকারের আনুষ্ঠানিক গঠন চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    শপথপ্রক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটে জনতার রায় ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শপথের ফরম ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) ধারার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন বা অনুপস্থিত থাকেন, তবে তিন দিনের মধ্যে তাঁদের কোনো প্রতিনিধিকে দায়িত্বে নিযুক্ত করা হবে। সেটিও না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সময়মতো শপথ পড়াবেন। এ প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আজই প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়িয়েছেন।

    শপথ গ্রহণের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে দলে নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তারেক রহমানের নির্দেশে সংসদ সদস্যদের জন্য দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়—এক, কোনও সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। দুই, সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি সুবিধা নেয়ার বাইরে থাকবেন। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে আমাদের মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা হবে যেন কেউ বিশেষ সুবিধা ভোগী না হন এবং সংসদ সদস্যরা সত্যিকার অর্থে দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • নির্বাচনের পর সহিংসতা নিয়ে জামায়াতের হুঁশিয়ারি: আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    নির্বাচনের পর সহিংসতা নিয়ে জামায়াতের হুঁশিয়ারি: আবারও অভ্যুত্থানের আশঙ্কা

    নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা অব্যাহত থাকলে দেশ আরও একবার অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ১১ দলের ঐক্যভুক্ত সংগঠনের আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এই সময়, ঐক্যের নেতারা দেশজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সংলাপের পক্ষপাতিত্বের কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে, চলে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন দিয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। গোলাম পরওয়ার জানান, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, দেশ আবারও অশান্তির পথে যাবে, যেখানে রক্তের বিনিময়ে গড়া স্বাধীনতা সনদ বাস্তবায়িত না হলে অতীতের মত নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচনকালীন যে ১১টি আসনের ব্যাপারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেসবের দ্রুত শুনানি ও ন্যায়বিচার না হলে জনগণ রাস্তায় এসে তাদের ভোটের ফলাফল নিজ হাতে আদায় করবে। এই সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তামাশা হয়েছে। প্রহসনের ফলাফলের পর সারাদেশে ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন ও জুলুম চালানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বললেন, রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর আর কোনো ফ্যাসিবাদ এই দেশে মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ার করে বললেন, যদি জুলাইয়ের চেতনা রক্ষা না হয়, তবে তারা আবার মাঠে নামবে, দেশকে মুক্ত করবে।

  • নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রথম, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা দ্বিতীয়, এনসিপির শাপলা কুঁড়ি তৃতীয়

    নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রথম, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা দ্বিতীয়, এনসিপির শাপলা কুঁড়ি তৃতীয়

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে দেখা গেছে, বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে মোট ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাদের মোট ২৯০টি আসনে প্রার্থী ছিল। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট, তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।

    নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, তৃতীয় স্থান দখল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ৩২টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৩.০৫ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঐক্যের অংশ।

    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে মাত্র ০.৮৯ শতাংশ ভোট। এবারের নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।

    চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোট ২৫৭ আসনে প্রার্থী দেয়, তাদের ভোটের হার ২.৭০ শতাংশ। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হাতে পাখা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২.০৯ শতাংশ।

    অন্য দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, মার্কসবাদী বাসদ, গণফোরাম এবং নাগরিক ঐক্যর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে।

  • বিএনপি নেতাদের বাসায় তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

    বিএনপি নেতাদের বাসায় তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

    রোববার সন্ধ্যা ৮টার পর রাজধানীর মগবাজারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নাহিদ ইসলাম নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কের বাসায় পৌঁছান। এই সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন, সারজিস আলম, বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, নজরুল ইসলাম খানসহ অন্য নেতা নেত্রীরা।

    এর আগে, একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের বসুন্ধরা আবাসিক কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত করেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই আগমন রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের সূচনা করতে যাচ্ছে। সংলাপ, দায়িত্বশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন কালো সৃষ্টির আশাবাদ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির।

    প্রথমে শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যত দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা কামনা করেন। তারেক রহমান রোববার বিকেলে নিউজ সেলে আরও বলেন, আগামীতে দেশের জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

    নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ মোর্চার সঙ্গে, যার মধ্যে রয়েছে এনসিপি। নির্বাচনে সরকার গঠন করতে ইতিমধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় লাভ করেছে বিএনপি, যা মোট ২০৯টি আসনে পৌঁছেছে।

    প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দলগুলো ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধীদলে যাচ্ছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে।

  • সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    সন্ধ্যায় চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

    আজ সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান চরমোনাই পীরের বাসায় যাচ্ছেন। নিশ্চিত করেন বিএনপির কেন্দ্রিয় মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি জানান, আজ সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার কাছে উপস্থিত হবেন।

    এর আগে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বাসায় যান। পরে তিনি পৌঁছেন বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায়। এমন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সাথে এর আগে তাঁর সাক্ষাতের খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই সফরগুলোর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় কার্যক্রমের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে বলে ধারণা করছে।

  • নাহিদ-সারজিসকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

    নাহিদ-সারজিসকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করলেন তারেক রহমান

    বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চেয়ারম্যান নাহিদ ইসলাম ও তার সহযোগী সারজিস আলমের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে দেখা যায়, তারেক রহমান নাহিদ ও সারজিসকে উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করে বুকে জড়িয়ে ধরেন। রোববার রাতে রাজধানীর বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসায় এ মিলনমেলা হয়। মূলত, নির্বাচনের পর দেশে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির এবং দলের অন্য নেতা-নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, এনসিপির পক্ষে সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক সারজিস আলমসহ আরও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়ছেন

    তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছাড়ছেন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকায় ঢাকা-১৭ আসন থেকে এবং বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হন। আইন অনুযায়ী, একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ব্যক্তির জন্য একটি আসনই ধরে রাখা সম্ভব, আর অন্য আসনগুলো স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। আইনের দৃষ্টিকোণে, একজন প্রার্থী যদি একাধিক আসনে নির্বাচিত হন, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি একটি আসন স্থির করে অন্যগুলো ছেড়ে দিতে বাধ্য। আরপো (অভ্যন্তরীণ প্রতিপত্তি আদেশ) অনুযায়ী, ধারা ১৯(১)(খ) অনুসারে, একই সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে প্রার্থী হওয়া এবং নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। এছাড়াও, ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, নির্বাচিত হয়ে থাকলে গেজেট প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে কোন আসনে তিনি থাকতে চান।

    অধিনিষ্ট সময়ে এই সিদ্ধান্ত না জানালে নির্বাচন কমিশন আইনের দৃষ্টিকোণে ব্যবস্থা নিবে এবং অবশিষ্ট আসনগুলো শূন্য ঘোষণা করতে পারে।

    ঢাকা-১৭ আসনের ফলাফল অনুযায়ী, তারেক রহমান ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮,৩০০ ভোট। ফলে, তিনি ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। মোট ভোটার ছিলেন ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন, আর ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি। বাতিল হয় ২,২১১ ভোট, ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৭৭।

    অন্যদিকে, বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচনের ফলাফলে, বিএনপি প্রধান তারেক রহমান প্রায় সাড়ে দুই লাখ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।

  • জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রিজেক্ট করেছেন: মির্জা ফখরুল

    জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রিজেক্ট করেছেন: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যখন গণতন্ত্র দুর্বল থাকছে, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলোর উত্থান ঘটে। এই পরিস্থিতিতে তারা মাথা তুলে দাঁড়ায়। দেশের জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও এমন কিছু ঘটনা দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কখনই জনপ্রিয়তা হারায়নি কারণ এটি সবসময় জনগণের জন্য কাজ করেছে। এইটাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিএনপি সরকারে থাকার সময় তাদের কাজে মনোযোগী ছিল এবং জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিল। তিনি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সকাল ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় আমাদের অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় থাকি। যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এবং তাদেরকেই নিয়ে আমরা ভবিষ্যতে সরকার গঠন করব। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে জনগণ তাদের রিজেক্ট করে দিয়েছে। বিএনপি তিন ভাগের দুটি মোটেও অন্যতম সংখ্যা পেয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মানুষ আবারও সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সকল অপপ্রবণতা রুখে দেবে। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতীয় পার্টির বিপর্যয়: খাতাই খুলতে পারেনি দলটি

    জাতীয় পার্টির বিপর্যয়: খাতাই খুলতে পারেনি দলটি

    প্রতিষ্ঠার পর থেকে চার দশকের এক বিস্ময়কর মাইলফলক হিসেবে দেশের সংসদ নির্বাচনে বেশির ভাগ সময়ই শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখিয়েছে এই দল। ১৪তম সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিয়েছিল ১৯৬টি আসনে; কিন্তু কোনওটিতেই জয় লাভ করতে পারেনি। বিশেষ করে রংপুরের দলটির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতেও দেখা গেছে হতাশাজনক ফলাফল। এই ভয়াবহ পরাজয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর শোচনীয় নৈখিক হার। তারা নিজ নিজ আসনে তৃতীয় স্থানেইহ করেছেন।

    রংপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি রয়েছে এই শহরে। আর এখানেই ছিল দলের মূল শক্তির কেন্দ্র। অতীতে এখান থেকে উচ্চমানের ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করত দলটি। আলবানী ঢেলে দিয়ে ১৯৯১ সালে এক নজির সৃষ্টি করে ২২১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৫টি আসনে জয় পায় জাপা। এরপর ১৯৯৬ সালে ৩২টি, ২০০১ সালে ১৪টি আসনে তারা জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ হিসেবে ২৭টি আসনে জয় অর্জন করে। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে দলের ৩৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়। ২০১৮ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে ২২টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় দলটি। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ১১টি আসন। কিন্তু এবার পুরো নির্বাচনে তাদের চোখে কিছুই পড়েনি — দলের কোনও আসন থেকেই জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।

    রংপুর-৩ আসনটি একসময় দলটির অবিসংবাদিত ‘দুর্গ’ ছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তার ছেলে সাদ এরশাদ ও একবার উপনির্বাচনে রওশন এরশাদও জয় লাভ করেছিলেন। এই আসন ছিল তৃণমূলের সংগঠনের মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার দেখা গেছে, জামায়াত জোট এই ঐতিহ্যবাহী আসনটি জয় করে নিয়েছে। রংপুর-৩ এর এই জয় রংপুরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

    অন্যদিকে, রংপুর-৩ সদর আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই আসনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪,৫৭৮ ভোট। আর জিএম কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩,০০০ ভোট, যা দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এবং গৌরবময় শক্তির অবসান ঘটিয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের দিন জিএম কাদের ভোটদানেও যাননি। তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন নিউসেনপাড়া মহল্লার বাসায় এবং কোনও কেন্দ্রও পরিদর্শন করেননি। এই অনুপস্থিতি এবং সামগ্রিক নৈরাজ্য ভোটের মাঠে দলের পরাজয়কে আরও নিশ্চিত করে তুলেছে, পাশাপাশি ভোটারদের মনোবল কমিয়ে দিয়েছে।

    অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। বিএনপির জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী দ্বিতীয় হয়েছেন। তবে শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

    এসব ফলাফলের পেছনে রয়েছে দলটির ভূমিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলা বহু কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড ভোটারদের মধ্যে আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা দলের ভাবমূর্তি লাইনচ্যুত হয়েছে। ভোটাররা এখন মনে করছেন, তারা এক স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি না; বরং জনশূন্য ও দুর্বল।

    এছাড়া দলের অভ্যন্তরে কোন্দল, নেতৃত্বের সংকট ও বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসঙ্গতি এবং নেতৃত্বের অভাব দলীয় প্রচারাভিযান ও মাঠের রাজনীতিকে দুর্বল করে ফেলেছে। নির্বাচনকালীন সময়েও দলের শীর্ষ নেতারা সক্রিয় না থাকায় ও পরোভাগে অনুপস্থিত থাকায় ভোটারদের মনোবল কমে গেছে। দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যক্রমে উপস্থিত না থাকাও ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

  • বিএনপি ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে

    বিএনপি ভারতের কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার দল ভারতের কাছেও তিনি হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে বিএনপি আইনানুযায়ী হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য তার ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, যেখানে মূলত বিষয়টি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা হবে। তারা চান, ভারতের মাধ্যমে হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।