Category: রাজনীতি

  • সরকারি দল গণরায়কদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের

    সরকারি দল গণরায়কদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য নাহিদ ইসলামের

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকারী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রতারণার মাধ্যমে জনগণের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেদিন সংসদে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল, সেই একই দিনে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকার তাদের সেটি করাননি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই শপথের মাধ্যমে যোড়ানো ওই প্রক্রিয়াটিও ছিল একটি বড় ধরনের নিস্পত্তিহীনতা। নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ও স্ব স্ব দলের শপথ নেয়া হলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণের জন্য শপথ গ্রহণে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে গণভোটে জনেমতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অবিচার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে, যাতে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক মানসিকতা জাগ্রত হওয়ার আশা ছিল, পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু নানা কারনে সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা এই নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে, তবে তার সঙ্গে কিছু আলাদা দিকও লক্ষ্য করা উচিত। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, শপথ না নেওয়া সরকারের এক ধরনের প্রতারণা, কারণ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেওয়া লাগবে। অথচ, ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনেকের শপথ না নেয়া থেকে সরকার তাদের বিচ্যুত করছে, যা দেশ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করেন তিনি। আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ গ্রহণ করবেন। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া ভবিষ্যতের দেশের কোনো মূল্যই নেই এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব।

  • ইন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামাতে না পারলে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    ইন নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা থামাতে না পারলে আবারো অভ্যুত্থানের আশঙ্কা জামায়াতের হুঁশিয়ারি

    নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলের পূর্ব সমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় ঐক্যের নেতারা দেশের সব রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান জানান।

    নির্বাচন 후 পরবর্তী সহিংসতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন এলাকা হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

    গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সহিংসতা দ্রুত না থামে, তবে বাংলাদেশ আবারো অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, রক্ত দিয়ে গড়া ৭৫ সালের বিভীষিকাময় স্বাধিকৃতি যদি পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হয়, তবে আগের মতই নতুন ফ্যাসিবাদও ফিরে আসবে।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ১১ দলের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো যদি দ্রুত নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে জনগণ তাদের ভোটের ফল নিজেদের হাতেই ফলাসহ নিতে রাস্তায় নেমে আসবে।

    এদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের মানুষকে প্রতারণার মধ্যে ফেলা হয়েছে। তার মতে, ফলাফল যেন সাবেক ও প্রহসনমূলক ছিল, যা দেশজুড়ে শত্রুতা ও জুলুম সৃষ্টি করছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর আর কোন ফ্যাসিবাদ এই দেশের মানুষের মানসিকতা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, যদি জুলুমের এই অবস্থা চলতেই থাকে, তবে আমরা আবারো আন্দোলনে নামব।

  • অবশেষে শপথ নিলেন জামায়াত ও ১১ দলীয় সংসদ সদস্যরা

    অবশেষে শপথ নিলেন জামায়াত ও ১১ দলীয় সংসদ সদস্যরা

    বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রথমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা এবং অন্যান্য জামায়াত কেন্দ্রীয় দলের সদস্যরা সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করান।

    জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিএনপি থেকে নির্বাচিত বিদ্রোহী সাতজন সংসদ সদস্য, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, এবং ঢাকা-৬ আসনের ইশরাক হোসেন শপথ নেন। তবে ইশরাক হোসেন যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেননি, তাই তার শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। একই সঙ্গে শপথ নেন ইসলামী আন্দোলন থেকে নির্বাচিত একমাত্র সদস্য মো. ওয়ালীউল্লাহ।

    এর আগে সকালে বিএনপি সংসদ সদস্যরা শপথ নেন, তবে তাদেরকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে নয়।

    অন্যদিকে, পার্টির নেতারা শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে একটি বৈঠক করে, যেখানে তারা স্পষ্ট করে দেন যে, তারা শপথ নেবেন। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭ আসনে জয় লাভ করে। এখান থেকে বোঝা যায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও শপথের গুরুত্বকে কেন্দ্র করে নতুন এই দিকপাল ঘটনা ঘটেছে।

  • বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপি জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি নিশ্চিত করেছেন যে, তারা ‘জুলাই সনদ’ আক্ষরিক অর্থে বাস্তবায়ন করবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের অর্থপূর্ণ প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, এই সনদে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নের জন্য দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এই ‘জুলাই সনদ’ হলো রাজনৈতিক সমঝোতার একটি ঐতিহাসিক দলিল, যার প্রতিটি অঙ্গীকার তারা পূরণের ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের চেতনা ও রায়কে সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিফলিত করতে এবং দেশকে নতুন ধারা ও গতিতে এগিয়ে নিতে সংসদই হবে মূল প্ল্যাটফর্ম। এর জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হবে।

    তাঁর মতে, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যের শপথ পাঠ করানোর ক্ষমতা বা অধিকার নেই। এ কারণেই এই সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়াও ঘটছে না। তারা সম্পূর্ণভাবে সংসদীয় ও সাংবিধানিক নিয়মনীতি মেনে চলছে। ভবিষ্যতেও দেশের প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ গ্রহণ, সরকার গঠন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের পরিচালনা—allই সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এর পাশাপাশি, সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে দলীয় নেতা নির্বাচিত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান।

    শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সালাহউদ্দিন বলেন, মানুষের গণভোট ও ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পরে তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ অধিষ্ঠিত করবে। তিনি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ২(ক) ধারা উল্লেখ করে বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে না পারলে বা অনুপস্থিত থাকলে, তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। এই প্রক্রিয়াও না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে শপথ পড়াবেন। এই ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করিয়েছেন।

    শপথের পরে সংসদীয় দলের বৈঠকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে দলের নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সালাহউদ্দিন আরও জানান, নেতৃস্থানীয় এই সিদ্ধান্তের পর থেকে, দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য দুটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে— ১. কোন সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি নেবেন না। এবং ২. কোনো সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, অভিন্ন পরিবর্তনের এ সূচনা। সংসদ সদস্য হিসেবে সুবিধা গ্রহণের চলমান ধারণা বদলে যেতে হবে যেন সবাই সমানভাবে দায়িত্বশীল হয়।

  • এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্বে শপথ গ্রহণ করলেন

    এনসিপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শেষ পর্বে শপথ গ্রহণ করলেন

    নানান গুঞ্জনের মধ্য দিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সংসদীয় কার্যক্রমে প্রবেশ করছেন। পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দ্বিতীয় ধাপে শপথ নিয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে, এই তরুণদের অংশ নিয়ে গঠিত দলটির সংসদ সদস্যরা সংসদে উপস্থিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন। তাদের শপথ পড়ান ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এমএম নাসির উদ্দিন।

    এনসিপির যে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন, তারা হলেন- হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাহিদ ইসলাম, আকতার হোসেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ এবং আব্দুল্লাহ আল আমিন।

    শপথ নেওয়ার আগেই, জামায়াত জোটের অন্যান্য এমপিরা একসঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ অনুষ্ঠানে এনসিপির এমপিরা ছিলেন না বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে, আর এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে হয়েছিল এনসিপির সংসদ সদস্যরা শপথে অংশ নেবেন না। তবে সম্প্রতি তারা স্পষ্ট করে জানান, শপথে তারা অংশ নিতে চান। শেষ পর্যন্ত, তারা শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

    শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে তারা সংসদ ভবনের লবিতে উপস্থিত হন। দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথের সময় হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঐতিহ্যবাহী গেঞ্জি, আকতারের কোট এবং নাহিদ ইসলামকে শার্ট পরা দেখা যায়।

  • সরকারের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব হাসিনাসহ আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার কার্য সম্পন্ন করা

    সরকারের গুরুত্বপুর্ণ দায়িত্ব হাসিনাসহ আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার কার্য সম্পন্ন করা

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে তার মতামত দেন।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ সকল আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠামোতে আনা অত্যন্ত জরুরী। এটি এই সরকার의 সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। কোনভাবেই যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয় বা মন্থর গতি না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের এখনও গ্রেফতার করে বিচার শুরু করা হয়নি, যা আমরা ব্যর্থতা হিসেবে দেখছি। এই ব্যর্থতা সরকারের উচিত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা।’

    সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘বিএনপির শপথ না নেওয়ার বিষয়ে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক পরিষদে তাদের অব্যাহত অসহযোগিতা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তারা দেখিয়েছে যে, যাই কিছু হোক না কেন, তারা সংস্কারকে বিপক্ষে থাকবে। শুরু থেকে তারা সংস্কার মোকাবেলায় বিরোধিতা করে আসছে। জনমতের চাপের মুখে তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার জন্য প্রচারণা চালিয়েছে।’

  • নির্বাচনের পরে সহিংসতা বন্ধ না হলে আবারও অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    নির্বাচনের পরে সহিংসতা বন্ধ না হলে আবারও অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি জামায়াতের

    নির্বাচনের পর থেকে চলমান সহিংসতা যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ আবারও একটি অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হবে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য গঠিত একটি বিক্ষোভ মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তিনি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং একে অন্যের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    বিক্ষোভ মিছিলটি দেশের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট, প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন ও শাহবাগের দিকে এগিয়ে শেষ হয়।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের পরে যে সহিংসতা শুরু হয়েছে তা যদি অবিলম্বে রোধ না হয়, তবে বাংলাদেশ আবারও একটি ভয়ঙ্কর অভ্যুত্থানের মুখোমুখি হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, রক্ত দিয়া গড়া সংবিধান বা জুলাই সনদ যদি কার্যকর করা হয় না, তাহলে পুরোনো ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যা হয়েছিল, সেরকমই নতুন ফ্যাসিবাদের সামনেও তাই হতে পারে।

    ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে যে সব নির্বাচনী কেন্দ্রে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান চাইছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি আরো বলেন, যদি কোনো তালবাহানা বা বিলম্ব করে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না হয়, তাহলে জনগণ তাদের ভোটের ফলাফল রাজপথে নেমে নিজস্ব দাবিতে পূরণ করবে।

    এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ ভোটের অধিকার নিয়ে তামাশা দেখা হয়েছে। এই প্রহসনের ফলাফলের পর পুরো দেশ জুড়ে ১১ দলীয় নেতাকর্মীদের উপর নির্মম নিপীড়ন চালানো হচ্ছে।’ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের পর এই দেশের জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদ সহ্য করবে না। জুলাইয়ে যে চেতনা সুদৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে, তা রক্ষা না হলে আবারও মাঠে নামা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

  • সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপির এমপিরা শপথ নেয়নি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদে বিএনপির এমপিরা শপথ নেয়নি

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় তারেক রহমানসহ দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আজ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে উপস্থিত হন। শপথ নেওয়ার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, এই মুহূর্তে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। কারণ, সংবিধানে এ বিষয়ে কোনও বিধান এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সচিবালয়ে আমাদের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। সংবিধানে এখনো এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয় নাই। গণভোটের রায় অনুসারে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়, তবে তা সংবিধানে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এরপরই সদস্যদের শপথের বিষয়টি কেবল তখনই বৈধ হবে। সংবিধানে এই প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও ফর্ম বা নিয়ম আসছে না—এ ধরনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল স্মারক নোটে।

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণত সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথের জন্য প্রয়োজনীয় ফর্ম বা নিয়মটি উল্লেখ থাকে। বর্তমানে যে শপথ পত্রটি ব্যবহার করা হয়, তা সাধারণ বা সাদা কাগজে লেখা। তবে যখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সংসদে আইনি আকারে গ্রহণ হবে, তখনই সদস্যদের শপথ নেয়ার কার্যকারিতার ভিত্তি তৈরি হবে। এর আগে, এই প্রক্রিয়া আইনি স্বীকৃতি পাবে না, কারণ তা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিএনপির এই প্রবীণ নেতৃয়া বলেন, দলের নিয়ম অনুসারে সবসময় সংবিধান মেনে চলা হবে এবং ভবিষ্যতেও তা চালু থাকবে। তারেক রহমানের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    এমপিরা আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও, টেকনিক্যাল ও সাংবিধানিক দিক থেকে কিছু অসঙ্গতি থাকায় তারা সংবিধান অনুযায়ী এই সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশ নিতে এখনও প্রস্তুত নয়। বিএনপি মনে করে, যথাযথ আইনি কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়া আইনসঙ্গত হবে না।

  • এনসিপির দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ শেষ করলেন

    এনসিপির দুই নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ শেষ করলেন

    অবশেষে নানা গুঞ্জনের পর সংসদে শপথ নিলেন বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর নির্বাচিত সদস্যরা। তারা একসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় দফায় শপথ সম্পন্ন করেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে দুটায় সংসদে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এমএম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ পড়ান।

  • অবশেষে শপথ নিলেন জামায়াত ও ১১ দলের এমপিরা

    অবশেষে শপথ নিলেন জামায়াত ও ১১ দলের এমপিরা

    বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে অবশেষে শপথ নিয়েছেন জামায়াত এবং ১১ দলের জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা, যারা আগে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। প্রথমে তারা শপথ নেবে না বললেও, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সংসদ ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

    জামায়াত জোটের এমপিরা সঙ্গে শপথ নেন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, যারা বিএনপির বিদ্রোহী সাতজন এমপির মধ্যে অন্যতম। এছাড়া, তারা শপথ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের সঙ্গেও। তবে, ইশরাক সময়মতো arriving করতে না পারায় তিনি বিএনপির অন্যান্য এমপিদের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেননি। সেই সঙ্গে শপথ নেন ইসলামি আন্দোলন থেকে নির্বাচিত একমাত্র এমপি মো. ওয়ালীউল্লাহ।

    এর আগে, সকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। এর ফলে রাজনৈতিক চিত্র কিছুটা নাটকীয়তায় মোড় নেয়। পরে, রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াত ও অন্যান্য ১১ দলের নেতৃবৃন্দ একটি জরুরি বৈঠক করেন, যেখানে ঠিক হয় তারা শপথ নেবেন।

    অতীতে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দলটি মোট ২১২টি আসনে জয় লাভ করে, যেখানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বিজয় লাভ করে ৭৭ আসনে। এই নির্বাচনের ফলাফলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা সুস্থ হয়।