Category: বিনোদন

  • নব্বইয়ে নগরবাউল জেমস আজ বাষট্টিতে

    নব্বইয়ে নগরবাউল জেমস আজ বাষট্টিতে

    উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী ও জনপ্রিয় গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। আজ তিনি বয়সের প্রথম বৃত্ত সম্পন্ন করে ৬২-এ পা রাখলেন।

    দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই রকবাদক এখন একটি শক্তিশালী অবস্থানে। জেমস শুধু একজন গায়ক নয়, বরং অনুভূতির এক দিগন্ত-প্রসারী নাম, যাঁর গায়কি ও সৃষ্টির জন্য বহু মানুষ তাকে ভালোবাসে। ভক্তরা তাকে সম্মান ও ভালোবাসায় গুরু হিসেবে ডাকে।

    বয়সের ধারকেও অতিক্রম করে, পুরোপুরি চির তরুণ এই শিল্পী এখনও তার ঝাকড়া চুলে গিটার হাতে গানে গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। বয়স তার কাছে কেবল Zahlen, কারণ এই গায়ক এখনো গানের জাদুকর হিসেবে הפעולה চালিয়ে যাচ্ছেন।

    জেমসের জীবনযাত্রার গল্প বেশ রোমাঞ্চকর। তার বাবা একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছোটবেলায় শৈল্পিক ঝোঁক থাকলেও পরিবারের অনিচ্ছাকেই অবজ্ঞা করে তিনি সংগীতের পথে এগিয়ে যান। বাবার সঙ্গে গানের প্রতি আবেগবিহ্বল হয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকাকালীন তাঁর সংগীতের যাত্রা শুরু হয়।

    ১৯৮০ সালে তিনি একটি ব্যান্ড গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন, যার নাম ‘ফিলিংস’। এই ব্যান্ডের তিনি ছিলেন প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকাল। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়, যদিও তখন বেশ জনপ্রিয়তা পায়নি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ‘অনন্যা’ অ্যালবামটি একের পর এক সুপারহিট হয়ে ওঠে।

    তারপরের বছর অর্থাৎ ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অব ফিলিংস’—এই সমস্ত অ্যালবামগুলো তার ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ায়। এছাড়াও তার অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ও একক অ্যালবাম যেমন ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, এবং ‘কাল যমুনা’।

    অ্যালবামের গানের পাশাপাশি জেমস চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও অর্জন করেছেন ব্যাপক সফলতা। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি গানে গলাপ গেয়েছেন, এবং সে গানের জন্য দিয়েছেন কোটি ভক্তের হৃদয়। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ও ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং) গানের চাহিদা অনেকে মানতে বাধ্য। এছাড়াও বাংলাদেশের ‘সত্তা’ সিনেমায় গাওয়া গান তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও এনে দেয়।

  • প্রবাদপ্রতিম সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই

    প্রবাদপ্রতিম সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই

    উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন কিংবদন্তি শিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র বুধবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত তাকে মির্জাপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। তবে তার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে। এই শোকের খবর শুনে ভারত এবং বাংলাদেশের সংগীতজগৎ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

    শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে বিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে তার শারীরিক পরিস্থিতির আরো খারাপের খবর পাওয়া যায়, এরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি দেখে ১১ সেপ্টেম্বর মির্জাপুরের মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের বিশেষ চিকিৎসকদের একটি দল তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।

    ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি তার প্রেমের শুরু বাবার, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাবার দেখাদেখি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখা দেয়। বাবার নির্দেশনায় সংগীতের ধারায় তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রায় এক শ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের নানা রাগ, ভজন ও ধারা সমৃদ্ধ করেছেন। তার কণ্ঠে রচিত রাগ ও ভজনের দলগুলো দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছে। ভারতীয় সংগীতজগৎ তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে স্মরণ করবে।

    শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট ও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং ভারতীয় সংগীতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরেছেন। তাঁর অপ্রতিরোধ্য সঙ্গীত জীবন ও অবদানে বাংলা-বাংলাদেশ ও ভারতের সংগীতপ্রেমীরা গভীর শোক প্রকাশ করছে। তাঁর প্রয়াণে সংগীতের অঙ্গন এক গভীর শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে।

  • রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ও আলোচিত চলচ্চিত্র জুটি রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা অবশেষে তাদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে গেলেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই দুই তারকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন করেছেন।

    এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) একটি পারিবারিক समारोहের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্য ও কাছের বন্ধুদের উপস্থিতিতে এই দীর্ঘ প্রত্যাশিত বাগদান সম্পন্ন হয়। তবে, তারা এখনও নিজেদের বাগদান বা বিয়ের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

    শোনা যাচ্ছে, এই প্রেমের জুটি আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

    ভক্তরা তাদের সম্পর্কের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যেই সম্প্রতি রাশমিকা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই জল্পনায় ইন্ধন দিলেন। দশেরার দিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে কপালে তিলক পরা এক ছবি তিনি শেয়ার করেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ দশেরা আমার প্রিয়জন… এই বছর আমি বিশেষ করে কৃতজ্ঞ। কারণ, ‘তাম্মা’ ট্রেলার এবং আমাদের গানের জন্য আপনারা যে ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তার জন্য আমি সত্যিই ধন্য। আপনাদের বার্তা, উৎসাহ ও সমর্থন আমার জন্য অনেক কিছু। শিগগিরই সিনেমার প্রচার শুরু হবে; আপনাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি অপেক্ষা করতে পারছি না।’

    অভিনেত্রীর এই পোস্টে কিছু স্পষ্টভাবেই ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।

    রাশমিকা মান্দানাকে খুব শিগগিরই পরিচালক আদিত্য সারপোতদার এর ভৌতিক-কমেডি সিনেমা ‘তাম্মা’ তে দেখা যাবে। সেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করবেন আয়ুষ্মান খুরানা। এই ছবিতে আরও রয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, পরেশ রাওয়ালসহ অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরা। এই ছবি আসছে ২১ অক্টোবর মুক্তির অপেক্ষায়।

    অন্যদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল গৌতম তির্ণানুরির তেলুগু স্পাই অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিংডম’ (২০২৫) সিনেমায়।

  • বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিনকে, স্বজনের অভিযোগ বিস্ফোরক

    বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিনকে, স্বজনের অভিযোগ বিস্ফোরক

    প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যু নিয়ে এখনো নানা জল্পনা-কল্পনা চলচ্ছে। নতুন করে এক বাবা-ভাবনা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, জুবিনকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তার ব্যান্ড সদস্য এবং মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির রিপোর্টে জানা গেছে, রিমান্ড নোটে সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী উল্লেখ করেছেন, জুবিনের মৃত্যু যা ঘটেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। প্রচুর সন্দেহজনকভাবে এটি একটা দুর্ঘটনা নয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, এই হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক হোটেলকেই বাছাই করা হয়, যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রায় এক মাস আগে, ৫২ বছর বয়সী এই গায়ক রে জুবিন গার্গ, ভারতীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী ও ভারত-আসিয়ান পর্যটনের উৎসবের অংশ হিসেবে সিঙ্গাপুরে যাত্রা করেছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্য একটি দ্বীপে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময়ে ডুবে গিয়ে তার মৃত্যু হয়, যা প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়।

    রিমান্ডের বরাত দিয়ে নিউজ ১৮ জানায়, মূল সাক্ষী তথা জুবিনের ব্যান্ড সদস্য শেখর জ্যোতি গোস্বামী বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যখন জুবিনের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে, তখন দেখানো হয় যেন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু একেবারে চিকিৎসায় সাহায্য না করে, শুধুমাত্র ‘অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এই অবহেলা, গোস্বামীর মতে, জুবিনের মৃত্যুর পথটা আরও ত্বরান্বিত করেছে।

    গোস্বামী আরও দাবি করেছেন, জুবিন একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন, এরূপ পরিস্থিতিতে তার স্বাভাবিক ডুবে যাওয়ার কোনও কারণ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেছেন, শ্যামকানু মহন্ত ও শর্মা এই ঘটনার প্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ইয়ট দুর্ঘটনার কোনও ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করতে নাকোচ করেছিলেন।

    এ পর্যন্ত, এই ঘটনায় মোট চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নিয়েছে। তাদের মধ্যে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত, মূল সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী এবং অন্য এক শিল্পী রয়েছেন। এই ঘটনায় তদন্ত এখনো চলমান।

  • কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই

    কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র আর নেই

    উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ছান্নুলাল মিশ্র বাংলা বিশ্বের গভীর শোকের ছায়া ফেলেছেন। ৯১ বছর বয়সে তিনি বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভারতের সংগীতাঙ্গন এই দুঃসংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।

    শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানিয়েছেন, তিনি বুধবার (১ অক্টোবর) রাত থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, ছান্নুলাল বাড়িতেই নানা চিকিৎসা চলছিল কয়েক মাস ধরে অসুস্থ থাকার কারণে। ১১ সেপ্টেম্বর তার অবস্থার আরও অবনতি হলে মির্জাপুরের মেডিকেল কলেজে ১৫ জন চিকিৎসকের একটি বিশেষ দল তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিল।

    ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার সংগীতের পথচলা শুরু হয় বাবার, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিলো তার, যা তিনি বাবার নির্দেশনায় শাস্ত্রীয় সংগীত অনুশীলন করে অর্জন করেন। প্রায় এক শতিকার বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার কণ্ঠে রচিত রাগ এবং ভজনের ধারা দেশ-বিদেশে শ্রোতাদের মনকে আকর্ষণ করে রেখেছে। ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় ‘লেজেন্ড’ হিসেবে।

    শাস্ত্রীয় সংগীতের ক্ষেত্রেও ছান্নুলাল মিশ্রের অবদান অসামান্য। তিনি বহু কনসার্ট, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় সংগীতের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ সংগীতপ্রেমীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

  • বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিন গার্গকে, দাবি ব্যান্ড সদস্যের

    বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে জুবিন গার্গকে, দাবি ব্যান্ড সদস্যের

    প্রখ্যাত ভারতীয় গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে গোলমাল সৃষ্টি হয়েছে। এবার তার ব্যান্ড সদস্য এবং প্রধান সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী দাবি করছেন, জুবিনকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, ম্যানেজার শ্রীধর শর্মা ও ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত ষড়যন্ত্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিমান্ডের নোটে গোস্বামী উল্লেখ করেছেন, জুবিনের মৃত্যু ছিল একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। হঠাৎ এই ঘটনা ঘটানোর জন্য বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক হোটেলকে নির্বাচন করা হয়, যাতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানো যায়।

    ভারত ও সিঙ্গাপুরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬০তম বার্ষিকী ও ভারত-আসিয়ান পর্যটনবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে জুবিন গার্গ সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বীপের কাছে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিউজ ১৮ এর সূত্রে জানা যায়, মূল সাক্ষী হিসাবে অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ আনেন শেখর জ্যোতি গোস্বামী। তিনি বলেছিলেন, যখন জুবিনের মুখ ও নাক দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল, তখন তার ম্যানেজার শর্মাকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘যাব দে, যাব দে’ (যে কিছু বলো য়ে কিছু করো)। তখন শর্মা জরুরি চিকিৎসা না দিয়ে বলে, ‘অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স’, যা অবহেলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাক্ষীরা মনে করছেন, এই অবহেলা জুবিনের মৃত্যুক ত্বরান্বিত করেছে।

    গোস্বামী আরো দাবি করেন, জুবিন একজন দক্ষ সাঁতারু ছিলেন। ফলে তার স্বাভাবিকভাবে ডুবে যাওয়ার কোনও কারণ না থাকলেও, শর্মা তাঁকে ইয়ট দুর্ঘটনার কোনও ফুটেজ না দেখানোর নির্দেশ দেন, যা প্রমাণ লুকানোর চেষ্টার অংশ বলে ধারণা করছেন।

    অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত চারজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে—জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্ত, ব্যান্ডের সদস্য ও প্রধান সাক্ষী শেখর জ্যোতি গোস্বামী, এবং অন্যএক জন সহশিল্পী।

  • রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা গোপনে বাগদান সম্পন্ন

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা ও বিজয় দেবেরাকোন্ডা নিজেদের গভীর প্রেমের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাগদান সম্পন্ন করেছেন।

    এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, এই পারিবারিক অনুষ্ঠানটি হয়েছিল গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর), যেখানে ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং কাছের বন্ধুদের উপস্থিতিতে তাদের বাগদান হয়। তবে, এই দুই তারকা এখনো তাদের বাগদান বা বিবাহের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে ঘোষণা করেননি।

    অতীতে জানা গেছে, এই জুটি ভবিষ্যতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহের পরিকল্পনা করেছেন। প্রেমের এই সম্পর্কের ব্যাপারে ভক্তদের মধ্যে দারুণ আগ্রহ ও উত্তেজনা ছিল। সম্প্রতি রাশমিকা সামাজিক মাধ্যমেও এই জল্পনাকে উসকে দেন একটি পোস্টের মাধ্যমে। তিনি দশেরার দিনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে কপালে তিলক পরেছেন। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ দশেরা প্রিয়জন… এই বছর আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা যে আমার জন্য এত শুভেচ্ছা, ট্রেলার ও গানের জন্য অবিস্মরণীয় ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, তা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। শিগগিরই সিনেমার প্রচার শুরু হবে, এবং আমি আপনাদের সাথে দেখা করার অপেক্ষায় থাকতেছি।’

    বিশেষ করে এই পোস্টে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটছে বলে ধারণা করছেন অনুরাগীরা।

    অন্যদিকে, রাশমিকা মান্দানা আসন্ন পরিচালক আদিত্য সারপোতদারের ভৌতিক-কমেডি সিনেমা ‘তাম্মা’-তে দেখা যাবে, যেখানে তার বিপরীতে আছেন আয়ুষ্মান খুরানা। এই ছবিতে আরও উপস্থিত রয়েছেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী, পরেশ রাওয়ালসহ অন্যান্য তারকারা। এই সিনেমার মুক্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২১ অক্টোবর।

    অপরদিকে, বিজয় দেবেরাকোন্ডা সর্বশেষ দেখা গিয়েছে গৌতম তিন্নানুরির তেলুগু অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিংডম’ (২০২৫) ছবিতে।

  • নেটিজেনদের অবজ্ঞা প্রবঞ্চনায় ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের ঝড়, সমর্থনে মেহজাবীন ও আরশ খান

    নেটিজেনদের অবজ্ঞা প্রবঞ্চনায় ইয়াশ রোহানকে কটাক্ষের ঝড়, সমর্থনে মেহজাবীন ও আরশ খান

    ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ইয়াশ রোহান তার অসাধারণ অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন সিনেমা ও নাটক জগতের সবখানে। সম্প্রতি তার একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার, বিজয়া দশমির দিন, তিনি কপালে সিঁদুর তিলক দিয়ে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন। ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ বিজয়া।’ এ পোস্টটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে এ ছবির সঙ্গে নেটিজেনদের কিছু কমেন্টও উঠে আসে, যেখানে বেশ কিছু ব্যক্তি তার ধর্মের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিদ্রুপমূলক মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘মুসলমান ভেবে ভুল করেছিলাম!’, ‘আপনার নাটক এখন থেকে দেখবো না, কারণ ভাবতে হয় আপনি মুসলিম!’, এমন তির্যক মন্তব্যে ভীড় জমেছে তার পোস্টে। এই মন্তব্যগুলো বিনোদন অঙ্গনের তারকাদের গভীরভাবে আঘাত করেছে। তবে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও আরশ খান। মেহজাবীন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কারও পোস্টে বাজে মন্তব্য করা, স্ল্যাং ব্যবহার করা বা ভুয়া প্রোফাইল দিয়ে কথা বলা ব্যক্তি নিজেকে নির্লজ্জ ও মন মানসিকতার অধিকারী হিসেবে প্রকাশ করে। এতে সে তার মানসিকতার পরিচয় দেয়। এত ঘৃণা ও অপরাধবোধ নিয়ে রাতে কিভাবে ঘুমায় তারা?’ অন্যদিকে, আরশ খান বলেছেন, ‘ইয়াশ রোহান বাংলাদেশের একজন অন্যতম প্রতিভাবান অভিনেতা। তার অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব আমাকে খুবই প্রিয়। এই অভিনেতা তার ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, তার শিল্পকর্ম, তারুণ্য ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ধর্মের বিভাজন টপকে সে দেশের জন্য কাজ করে চলেছে।’ ইয়াশ রোহান ধর্মের পার্থক্য ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি খুবই সরল ও মনের মানুষ। তার মন্তব্যের ঘরে উঠে আসা কটাক্ষের জবাবে অনেকেই সৌন্দর্য ও ধৈর্য্য দেখিয়েছেন। তবে সব প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক নয়, অনেকেই তাকে ভালোবাসা দিয়ে প্রমাণ করেছেন তার জনপ্রিয়তা। একজন লিখেছেন, ‘আজ জানলাম রোহান ভাই হিন্দু। ভাল, প্রেম যেন অবিরাম থাকে।’ অন্য কেউ বলেছেন, ‘কমেন্ট দেখে বুঝা যায় মানুষের মানসিকতার অবনতি হয়েছে।’ ইয়াশ রোহান বরেণ্য অভিনেতা নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান। তিনি গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিত ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে অভিষেক করেন।

  • বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    বাষট্টিতে নগরবাউল জেমসের জন্মদিন

    উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় আর সম্মানিত গায়ক মাহফুজ আনাম জেমসের আজ জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন নওগাঁয়। তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে, যেখানে তিনি সংগীতের প্রতি আগ্রহ অনেক আগে থেকেই জাগিয়ে তুলেছেন। আজ তিনি পেরিয়ে গিয়েছেন ৬১ বছর, তবে তার অঙ্গন এখনও তাজা ও উদ্দীপনায় ভরপুর।

    জেমসের ক্যারিয়ারে নানা চড়াই-উতরাই আসলেও তিনি আজও এক সুপারস্টার, যার নামে এক বিশাল ভক্তশ্রেণির আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে। গানের মাধ্যমে তিনি পুরো দুনিয়ার হৃদয় জয় করেছেন, কিন্তু ভক্তদের কাছে তিনি স্মরণীয় এক গুরু হিসেবেও পরিচিত।

    অতিক্রান্ত জীবনে তিনি এখনও চিরতরুণ। ঝাকড়া চুলে গিটার হাতে দাঁড়িয়ে, নতুন গানে নতুন ভক্ত যোগাচ্ছেন। বয়স তার কাছে কেবল একটি সংখ্যা, যা তার অজস্র গানের জাদুকরীর ক্ষমতাকে কিছুই কমাতে পারে না।

    জেমসের জীবনেও এসেছে অনেক মোড়, তার পরিবার ও পেশাজীবনের নানা কাহিনী। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল, এমনকি বাবার সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে আসা পর্যন্ত হয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকতে থাকতে তিনি সংগীতের মূল পথ খুঁজে পান।

    ১৯৮০ সালে তিনি ‘ফিলিংস’ নামের একটি ব্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে তিনি গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশিত হলেও তা তখন খুব বেশি জনপ্রিয়তা পাননি। তবে ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অন্যা’ অ্যালবামটি তার ক্যারিয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল।

    পরবর্তী সময়ে তিনি নানা অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যেমন ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ যার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

    অ্যালবাম ছাড়াও জেমসের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য কনসার্ট ও একক অ্যালবাম রয়েছে, যেমন ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’সহ অন্যান্য। তিনি কেবল গানের মধ্যে না থেকে চলচ্চিত্রেও প্লেব্যাক করে অর্জন করেছেন ব্যাপক সফলতা।

    এছাড়াও তিনি হিন্দি গানে কণ্ঠ দিয়ে বলিউডে তার জন্য সুচিত্রার স্থান তৈরি করেছেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ভিগি ভিগি’ (গ্যাংস্টার), ‘চল চলে’ (ও লামহে), ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’ (লাইফ ইন অ্যা মেট্টো), ‘বেবাসি’ (ওয়ার্নিং)। বাংলাদেশের সিনেমা ‘সত্তা’তেও গেয়ে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

    আজকের এই বিশেষ দিনে, জেমসের জন্মদিনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে অসংখ্য প্রেরণা ও স্মৃতি সবার মাঝে থাকুক। তার সংগীতজীবনের এই অনন্য পথে ভবিষ্যতেও তিনি নতুন নতুন গানে ভক্ত-শ্রোতাদের মাতোয়ারা করতে থাকবেন।

  • প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র

    প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র

    উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের এক কিংবদন্তি শিল্পী, বিশিষ্ট গণমাধ্যমশিল্পী ও সংগীতজ্ঞ ছান্নুলাল মিশ্র, ৯১ বছর বয়সে আজ বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পরপারে পাড়ি জমালেন। তাঁর আকস্মিক এই প্রয়াণে ভারতের সংগীতাঙ্গনসহ বিশ্বব্যাপী সংগীতপ্রেমীরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    শিল্পীর কন্যা নম্রতা মিশ্র জানান, বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরের নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন, বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। ১১ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মির্জাপুর মেডিকেল কলেজের ১৫ জনের একটি বিশেষ চিকিৎসক দল তার চিকিত্সা চলান।

    ছান্নুলাল মিশ্র ১৯৩৬ সালের ৩ আগস্ট উত্তরপ্রদেশের হরুহরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সংগীতজীবন শুরু হয় তিনি তার পিতা, বদ্রীনাথ মিশ্রের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই গভীর আগ্রহে সংগীতের প্রতি বিমুগ্ধ হয়ে তিনি বাবার নির্দেশনায় শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুশীলন শুরু করেন। দীর্ঘ জীবনকাল ধরে তার সংগ্রামী দক্ষতায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সমুজ্জ্বল করেছেন। তাঁর কণ্ঠে প্রকাশিত রাগ ও ভজনের উন্নতধারা দেশের নানা প্রান্তে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শ্রোতাদের মন জয় করে চলেছে। ভারতের সংগীতবিশ্ব তাকে ‘লেজেন্ড’ হিসেবে সম্মান করে থাকেন।

    শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাসে ছান্নুলাল মিশ্রের অবদান অসামান্য। তিনি অসংখ্য কনসার্ট, সংগীতানুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ দান করেছেন, পাশাপাশি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতের সংগীতকে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই অক্লান্ত অবদানে সংগীতপ্রেমীদের মনে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা বিদ্যমান।