Category: জাতীয়

  • তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

    তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক চলছে

    রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলের স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকটি ডেকেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন এবং সভার সভাপতিত্ব করছেন। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বৈঠকের পর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি, বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জানা গেছে, বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে বলা হয়েছে, গতকাল গুলশানে হোটেলে প্রবাসী নেতা কর্মীদের প্রাথমিক সদস্যপদ নবায়ন, নতুন সদস্যপদ গ্রহণ এবং দলের ওয়েবসাইটে দ্রুত একক তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা চলছে। তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, শিগগিরই দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নাম জানানো হবে, যারা আসনে নমিনেশন পাবেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে অনুরোধ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, আশেপাশে গুপ্ত স্বৈরাচার ও স্বার্থান্বেষী মহল ওত পেতে রয়েছে, তাই দলের ভেতরে রেষারেষি, বিরোধ ও বিরোধিতা এড়াতে সবাই সতর্ক থাকবেন। দলের স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে দল ও জোটের প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হবে। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত আছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গুলশানের এই কার্যালয়ে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তারেক রহমান। প্রার্থীদের কাছে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, দল যেসব প্রার্থীকে ধানের শীষের প্রতীকের জন্য মনোনীত করবে, তাদের পক্ষে কাজ করতে হবে। প্রথম দফায় প্রায় দুইশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতএ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের প্রথম দিকে প্রায় দুইশ’ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। সকল প্রার্থীকে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ না করে অনুগত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

    উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদ এবং তার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি জরুরি উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভাটি সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রেস ইউং থেকে জানা গেছে, এই সভায় দেশের সংকট সমাধানে ঐক্য গড়ে তোলার জন্য এবং বিভিন্ন বিষয়ে সম্মতিতে পৌঁছানোর জন্য দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়। এছাড়া, আলোচনা করা হয়েছে জুলাই মাসে প্রণীত জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার), এর প্রয়োগ, গণভোটের আয়োজন ও এর বিষয়বস্তু সংক্রান্ত বিষয়গুলো।

    অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, বহু দিন ধরে চলমান আলোচনা সত্ত্বেও কিছু সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে মতভেদ রয়ে গেছে। এছাড়া, গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং তার বিষয়বস্তু নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে, গণভোটের সময় নির্ধারণ, এর বিষয়বস্তু এবং জুলাই সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন মতের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

    সভার প্রধান বার্তা ছিল, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে দ্রুত আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা প্রদান করার। এই নির্দেশনা পেলে, সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে বলে মনে করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সময় ক্ষয় না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, এ বিষয়ে সবাই একমত হন।

    সভার অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা।

  • ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোর ঝুঁকি: সরকারের নতুন নীতির ফলাফল

    ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোর ঝুঁকি: সরকারের নতুন নীতির ফলাফল

    সরকারের প্রস্তাবিত নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালার কারণে দেশের গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট সেবার খরচ অন্তত ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতারা। তারা মনে করছেন, এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের হাতে গেলে আরও ভালো হবে, কারণ এতে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এই প্রসঙ্গে তারা রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন।

    আজ সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এই সব তথ্য জানান। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি গাইডলাইন খসড়া তৈরি করেছে, যেখানে নতুন নিয়মের আওতায় ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এফটিএসপি) জন্য বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর বিরোধিতা করে আইএসপিএবি জানায়, নতুন গাইডলাইনে রেভিনিউ শেয়ার ৫.৫ শতাংশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের জন্য ১ শতাংশ এবং এফটিএসপি প্রকল্পের জন্য ক্রয়মূল্য ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, “সরকার টেলিযোগাযোগ খাতের উপর থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং এটি জনগণের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। সরকার ভুল পথে হাঁটছে।” তিনি তুলনা করে দেখান, বর্তমানে বিদ্যমান নীতিতে সরকারের আয়ের হার ২১.৪৫ শতাংশ হলেও নতুন নীতিতে তা বেড়ে ৪০.২৫ শতাংশ হবে। তিনি বলেন, এতে শহর ও গ্রামে বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

    আমিনুল হাকিম আরো অভিযোগ করে বলেন, “বৈষম্য আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার এই বিষয়গুলো বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু এখন আবার বৈষম্য বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ইন্টারনেটের দাম কমানোর কথা বললেও, সরকার নিজে দাম বাড়াচ্ছে।”

    তাদের দাবি, স্টারলিংকের জন্য সরকার লাইসেন্স ফি ধার্য করেছে ১০ হাজার ডলার (প্রায় ১২ লাখ টাকা), তবে দেশের আইএসপিদের জন্য সেটি ধরা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। তিনি প্রশ্ন করেন, “স্টারলিংক সার্ভিসের জন্য এত সুবিধা কেন দিচ্ছে সরকার?”

    সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি আরও জানায়, প্রস্তাবিত নতুন গাইডলাইনে মোবাইল অপারেটরদের জন্য ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকচেস এবং লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগের মাধ্যমে ফিক্সড কানেক্টিভিটির স্পষ্ট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা দেশের স্বাভাবিক, দেশীয় ও স্বয়ংসম্পূর্ণ আইএসপিগুলোর জন্য চরম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়বে, বলে জানিয়েছে তারা।

  • নামাজরত বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে আটক ও তিন পুলিশ আহত

    নামাজরত বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে আটক ও তিন পুলিশ আহত

    পাবনা সদর উপজেলায় রোববার রাতে নামাজের সময় একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে যেখানে এক ছেলে নিজের বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করতে গেলে তার ছুরিকাঘাতে তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ঘটনাটি ঘটে চরতারাপুর ইউনিয়নের পুরাতন ভাদুরডাঙ্গী গ্রামে, যেখানে নিহত নিজাম প্রামাণিক (৬০) নামের একজন কৃষক নিজের ঘরে এশার নামাজ পড়ছিলেন। হঠাৎ করে তার ছেলে মোস্তফা প্রামাণিক (৩৫) ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং হাতে থাকা হাঁসুয়া দিয়ে বাবাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে পরিবারের লোকজন তাদের সঙ্গে কোনো শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে লাশ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

    অভিযুক্ত মোস্তফাকে আটক করতে গেলে তিনি ছুরিকাঘাত করেন তিন পুলিশ সদস্যকে—এসআই আবুবকর সিদ্দিক, জিয়াউর রহমান ও আবু রায়হান। জিয়াউর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য দু’জনেরকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্ধকারে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তার মাদকের টাকার জন্য বাবার সঙ্গে ঝগড়া চলত। টাকা না দিলে বাড়িতে ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপকর্ম করত। মাসখানেক আগে সে বড় ভাইকে মারধর করেছিল। আজও বাবার কাছে মাদকের জন্য টাকা চাচ্ছিল, না পাওয়ায় তাকে হত্যা করে।

    পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “নিহত ব্যক্তির লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • গাইবান্ধায় গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩

    গাইবান্ধায় গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ৩

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে সন্দেহভাজন তিনজনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাটি শনিবার (১ নভেম্বর) গভীর রাতের দিকে উপজেলার কাটাবাড়ি ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামে ঘটেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে তিনজন ব্যক্তি গ্রামবাসীর চোখে দেখা গেছে গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে চোরচক্রের সদস্যরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা রাস্তার পাশের একটি পুকুরে লাফ দেয়। কিন্তু এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।

    খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা সবাই পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি সংঘবদ্ধ গরু চোর চক্রের সদস্য।

    গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম জানান, মরদেহগুলি বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হলে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নির্বাচনের আগে তাবলিগের ইজতেমা হচ্ছে না

    নির্বাচনের আগে তাবলিগের ইজতেমা হচ্ছে না

    প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় এই বর্ষাকালীন ধর্মীয় সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সরকার ও তাবলিগ জামাত কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে ইজতেমা আয়োজন করা উচিত নয়। বিকল্প হিসেবেআরেকটি সুবিধাজনক সময়ে, অর্থাৎ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে, এই আয়োজনে ফিরে আসা হতে পারে।

    আজ রোববার (২ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাবলিগের দুই পক্ষের মুরব্বিদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের প্রকোপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকপ্রধানরা আরও জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ড. খালিদ বলেন, “চলমান নির্বাচনি পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায়, এই বড় ধরনের সমাবেশের জন্য ঝুঁকি বেশি। বিদেশি মেহমানরাও আন্তর্জাতিক এই ইজতেমায় অংশ নেন, তাই এই সময়ে অনুষ্ঠিত না করাই সবার জন্য উত্তম হবে।”

    তিনি আরও বলেছেন, দুটি পক্ষের সঙ্গেই আলোচনার মাধ্যমে তারা সম্মত হয়েছেন যে, নির্বাচনের পরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। যদি নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে হয়, তবে রমজান মাসের পরে ইজতেমা হতে পারে বলে তাঁদের মত প্রকাশ। তবে, ঠিক কবে ইজতেমা হবে, সেটা নির্ধারিত হয়নি; এর জন্য দুই পক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি জানান, পরিস্থিতির অবনতি হলে আলাদা আলাদা ইজতেমার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। আরেক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, নির্বাচনের তারিখ পেছানোর পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্বাচন সময়ে সম্পন্ন হবে এবং এই লক্ষ্যে তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।

  • আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    আওয়ামী লীগের ৪ নেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা এবং aantal আহতের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ ব্যাপারে আদেশ দেন। এতে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ의 যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ যথাযথভাবে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় বিচার শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

    আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এর আগে, ২৮ অক্টোবর হানিফসহ পলাতক চার আসামির পক্ষে অভিযোগপত্র পড়েন আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি শুরুতেই অভিযোগের ব্যপারে সমালোচনা করেন এবং আসামিদের জন্য অব্যাহতির আবেদন করেন। পরে, সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ পড়ে আদালত অভিযোগ গঠনের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

    উল্লেখ্য, হানিফ ছাড়াও চারজনের বিরুদ্ধে এ ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া চলছিল। তারা হলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।

    গত ২৩ অক্টোবর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং তাদের হাজিরার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও, পলাতক থাকায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ট্রাইব্যুনাল এই চারজনের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয়। এদের বিরুদ্ধে ৬ অক্টোবর প্রথম অভিযোগপত্র জমা পড়ে এবং ৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের জন্য আনুষ্ঠানিক শুনানি হয়।

    অভিযোগে তুলে ধরা হয়, উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র ও কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এর জের ধরে জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

  • যমুনা অভিমুখী শিক্ষকদের লংমার্চে পুলিশ বাধা দিল

    যমুনা অভিমুখী শিক্ষকদের লংমার্চে পুলিশ বাধা দিল

    জাতীয়করণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষকদের নেতৃত্বে একটি বড় লংমার্চ রোয়ানা করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে যমুনা অভিমুখে রওনা হন। তবে এই কর্মসূচির মধ্যে পুলিশ হাইকোর্ট মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। 이에 বাধ্য হয়ে রাস্তায় বসে পড়েন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকরা।

    রোববার (২ নভেম্বর) দুপুর প্রায় ২টার সময় তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করেন। এর আগে, তারা টানা ২১তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।

    অদৃশ্য, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের বিভিন্ন অজুহাতে ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে, দীর্ঘ মাসের বিরতিতে থাকা এই আন্দোলনের সফলতা এখনো অধরা। নানা দাবির মধ্যে মূল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর জাতীয়করণের গেজেট প্রকাশ। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়া নানা অজ্ঞতা ও প্রতিহিংসার কারণে আটকে রয়েছে। বহু সময় অতিক্রম হলেও হয়তো এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

    শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে তাদের দাবি দমনের চেষ্টা চলছে। এ কারণে তারা আবারও এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হচ্ছে, তারা অব্যাহত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

  • জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু, প্রথম টিজার প্রকাশ

    জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন শুরু, প্রথম টিজার প্রকাশ

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর জন্য প্রাক্কালের প্রচারণা শুরু হয়েছে। আজ, রোববার (২ নভেম্বর), অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই নির্বাচনের প্রথম টিজার প্রকাশিত হয়। ৪৮ সেকেন্ডের এই ভিডিও টিজারে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্ব এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রকাশনাকালে ক্যাপশনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন আজ থেকেই শুরু হলো। এই প্রথম টিজারে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ক্যাপ্টেন (অব) ড. খান সুবায়েল বিন রফিক অংশগ্রহণ করেন। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে সবাই প্রস্তুত हो। দেশের মালিকানা তাদের হাতে, এটাই হবে তাদের সুযোগ দেশের আসল চিত্রটি বোঝার।

    রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    প্রসঙ্গত, টিজারের শুরুতেই দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে বলতে শোনা যায়, আমি ভারতের কাছে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে যা যা প্রয়োজন, তা করতে আমি অনুরোধ করবো। তার এই বক্তব্যটিই পরবর্তীতে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং নির্বাচনের প্রথম প্রচারনায় প্রভাব ফেলে।

    ক্যাপ্টেন (অব) ড. খান সুবায়েল বিন রফিক বলেন, আজ বাংলাদেশের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সুযোগ। এই নির্বাচন দ্বারা জনগণ দেশের ভবিষ্যৎ এবং ক্ষমতার দখল বুঝে নেবে। তিনি যোগ করেন, ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কেমন বাংলাদেশ হবে। নির্বাচন ২০২৬, দেশের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে।

    প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে।

  • প্রধান বিচারপতির ডাকে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতির ডাকে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি উপস্থিতিতে আগামী মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় এক গুরুত্বপূর্ণ ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকটি সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. আসিফ ইকবাল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এই ফুলকোর্ট সভায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিষয়সমূহের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ফুলকোর্ট সভা হলো দেশের বিচারপতিদের নিজস্ব একটি আঞ্চলিক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্থান, যেখানে বিচার বিভাগকে পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।