Category: জাতীয়

  • ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ছয় রুটে ফ্লাইট বাতিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের

    ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ছয় রুটে ফ্লাইট বাতিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিমানের শিডিউলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। পরিস্থিতি বিবেচনায় আধাসংগঠিত এই সংস্থা ঘোষণা করেছে যে, আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে। এর আগে, এই রুটগুলোতে ফ্লাইট বন্ধ ছিল ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত। এখন এই সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ৮ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং যাত্রীদেরকে এই তথ্য নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়। বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত।

    বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলো নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চালুর আপডেট দেবে।

    উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাপক প্রভাব পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের সূচি বিঘ্নিত হয়।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল হয় শুধুমাত্র শুক্রবার পর্যন্ত।

    বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা প্রশমিত ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। তাই তারা যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

  • ৮ দিনে ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি

    ৮ দিনে ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির অবনতি

    মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া এবং বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত সাত দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের এক শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে চলতি মাসের ৬ মার্চ পর্যন্ত এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে বিমানবন্দরের কর্ম পরিচালনায়। এই সময়ের মধ্যে, বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ফ্লাইট পরিকল্পনা বিঘ্নিত হয়।

    একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সাত দিনে মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ মার্চ, শনিবার, মোট ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

    শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে-কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের ৪টি।

    বেবিচক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অবনতি অব্যাহত থাকায় আকাশপথ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা রয়ে যাবে।

  • ৯ মার্চ দুটি তেলের ভেসেল আসছে: জ্বালানিমন্ত্রী

    ৯ মার্চ দুটি তেলের ভেসেল আসছে: জ্বালানিমন্ত্রী

    দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আগামী ৯ মার্চ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ সেই দিনই দেশে আসবে দুটি তেলবাহী ভেসেল বা জাহাজ। তিনি এই তথ্য শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা উদ্বেগে রয়েছে, তবে সরকারের পক্ষ থেকে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনিশ্চয়তার মাঝেও তিনি আশ্বাস দেন, দেশে তেলপ্রাপ্যতা পর্যাপ্ত এবং কোন সংকট নেই।

    তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশ্বজুড়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব আমাদের জ্বালানি খাতে দেখা যায়, তবে আমরা সচেতন রয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রীকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেছি। আমি আবার বলছি, তেল নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’’ তিনি জানান, সরকার সতর্কতার অংশ হিসেবে কিছু সময়ের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে এই রেশনিং দেখে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল স্টক করার চেষ্টা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    এসময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট জনগণকে আশা দেন যে, তেলের কোনও অভাব নেই এবং নতুন করে আরও দুটি ভেসেল আসছে। সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান, যেন তারা আতঙ্কে না পড়ে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বারবার বলছেন, “অতিরিক্ত যানবাহন চালানোর বা অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিয়মিত তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।’’ কেউ কেউ যদি তেল পাম্পে তেল না পায়, তাহলে তাদের জানানো হয়, সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে এবং পক্ষপাতমূলকভাবে কোনও পাম্প বেশি লাভের আশায় তেল বিক্রি বন্ধ করলে, তাদের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হবে।

    মন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।’ একই সঙ্গে, তিনি এই মুহূর্তে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নিয়মনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান।

    বিশেষ করে, মোটরসাইকেল চালকদের জন্য দুই লিটার করে তেল দেওয়ার রেশনিং বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা এখন নেই বলেও জানান তিনি। তবে সরকার নিজস্ব মজুত সম্পদ দেখে সতর্ক থাকছে, কারণ যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারে না। তাই আগাম সঞ্চয় বা মজুতের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হচ্ছে।

    মানুষের মধ্যে আতঙ্কের কারণ কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটি স্বাভাবিক মানবমনস্তত্ত্ব। ভবিষ্যতের অজানা আশঙ্কায় কেউ কেউ আগেভাগে তেলমজুতের চেষ্টা করেন।’’ একই সঙ্গে বলেন, ‘‘সরকারের বার্তায় অনেক সময় মানুষ প্যানিক করে, তবে এটা মানুষের সাধারণ আচরণ। পরে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’’

    এলএনজি সরবরাহের ব্যাপারে জানিয়েছন, সরকার কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের জন্যও কাজ চলছে। এখন দেশে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও সংকট এড়াতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    অবশেষে, মন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশবাসীকে আমি বলবো, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং জ্বালানি সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।’’ তিনি সবাইকে আহ্বান জানান যেন তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করে, আবেগে বা অকারণে অতিরিক্ত স্টক না করে।

  • জ্বালানি মজুদ যথেষ্ট, তেলের সংকটের আশঙ্কা নেই: জ্বালানিমন্ত্রী

    জ্বালানি মজুদ যথেষ্ট, তেলের সংকটের আশঙ্কা নেই: জ্বালানিমন্ত্রী

    জ্বালানি, জটিল পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধের কারণে দেশব্যাপী তেল সরবরাহ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগের মধ্যে বাজে কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, দেশের ভান্ডারে যথেষ্ট পরিমাণে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন এবং অন্যান্য জ্বালানি তেল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ যেন আতঙ্কিত না হন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করেন, এ বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।

  • সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি: তথ্যমন্ত্রী

    সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি: তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, সংসদীয় ব্যবস্থার অনুযায়ী আগামী সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। এ ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ শনিবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বিকেলে চতুর্থ সেশনের মধ্য দিয়ে এই কর্মশালা শেষ হবে।’

    তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জনসেবা দেওয়ার পাশাপাশি, আমরা আমাদের আইন বিভাগ এবং জাতীয় সংসদকে কিভাবে আরও কার্যকর করে তুলতে পারি—এখন সেই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের নেতৃত্বে সংসদকে সবসময় জীবন্ত ও কার্যকর রাখতে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে, সেটাই আমরা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি।’

    তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের নেতা, দেশনায়ক তারেক রহমান ক্ষমতায় যাওয়ার আগে ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংস্কার ও উন্নয়নের কথাই বলেছেন। আমরা মাধ্যমিক নির্বাচনে জেতার পর, এই দফাগুলোর উপর ভিত্তি করে আমাদের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছি। জনগণকে সেবা দিতে হয়েছে পাশাপাশি, আমাদের এই আইন বিভাগ ও সংসদকে কিভাবে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলা যায়—সে বিষয়ে আমরা অবদান রেখে চলছি।’

  • ৯ মার্চ দেশে আসছে দুই তেলবাহী জাহাজ: তেলের মজুত পর্যাপ্ত — জ্বালানি মন্ত্রী

    ৯ মার্চ দেশে আসছে দুই তেলবাহী জাহাজ: তেলের মজুত পর্যাপ্ত — জ্বালানি মন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে তেলের যথেষ্ট মজুত আছে; তাই সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ণ হওয়ার দরকার নেই। তিনি জানান, আগামী ৯ মার্চ দেশে তেলবাহী দুটি জাহাজ পৌঁছাবে।

    শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হওয়া বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হচ্ছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করেছেন মন্ত্রী।

    টুকু জানান, সরকার সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে রেশনিং ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু কিছু মানুষ এই রেশনিং দেখে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার চেষ্টা করায় স্থানীয় কিছু পেট্রল পাম্পে সাময়িকভাবে তেলশূন্যতা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমাদের মজুত রয়েছে এবং ৯ তারিখে আরও দুইটি ভেসেল আসছে; তাই তেলের কোনো ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।’’

    মন্ত্রী জনগণকে অহেতুক প্যানিক না করে স্বাভাবিকভাবে তেল কেনার আহ্বান জানান। তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেন, জনগণকে জানান যেন তারা দ্রুত তেল কিনতে না ছুটে ভীড় না করে—রাতভর লাইনে থাকার প্রয়োজন নেই।

    কিছু পাম্পে তেল না পাওয়া সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণে সরবরাহ করে। কোনো পাম্প যদি দ্রুত তেল বিক্রি করে ফেলে, তবে তাদের পরবর্তী সরবরাহ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, পাম্পগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি মুনাফার আশায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে রাখছে কি না—তারও তদন্ত করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট নামিয়ে দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।

    মোটরসাইকেলের জন্য দুই লিটার তেলের রেশনিং বাড়ানো হবে কি না—এই বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আপাতত এরকম কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘‘কোথাও তেল নেই—এরকম কোনো পরিস্থিতি নেই, তবে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা আছে, তাই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’’

    এলএনজি নিয়ে তিনি জানান, সরকার কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে এবং বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে সমস্যা না হয়। বর্তমানে দেশের এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন।

    সবশেষে মন্ত্রী দেশবাসীকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; তাও সচেতন থাকতে হবে এবং জ্বালানি দায়িত্ববলভাবে ব্যবহার করতে হবে। গণমাধ্যমকে তিনি পুনরায় অনুরোধ করেন—সঠিক তথ্য দ্রুত জনগণের কাছে পৌঁছে দিন যাতে প্যানিক কেনাকাটা রোধ হয়।

  • মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ দিনে ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল

    মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ৮ দিনে ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাজটিলতার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    বেবিচক সূত্রে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করলে এ সিদ্ধান্তগুলোর প্রভাব পরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর উপর।

    প্রতিদিনের বাতিলের তালিকা অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। শনিবার (৭ মার্চ) আরও ২০টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে।

    শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৪টি ফ্লাইট।

    বেবিচকের কর্মকর্তারা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে অনিশ্চয়তা ও রুট পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিলের ঘটনা চলতেই পারে। যাত্রী ও এয়ারলাইন্সকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ানো হয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধে ৮ দিনে ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল

    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধে ৮ দিনে ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল

    মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ রাখায় গত অল্প দিনের মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করে এবং ওই সময় থেকেই বাতিলের তালিকা বাড়ছে।

    বেবিচক সূত্রে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। সেই সিদ্ধান্তের ফলে ঢাকা ছাড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের বহু রুটে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত আসে।

    তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত সূত্র বলছে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি এবং ৬ মার্চ ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি শনিবার (৭ মার্চ) বাতিল হয়েছে ২০টি ফ্লাইট। কর্তৃপক্ষের হিসাবে সাময়িকভাবে মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে রিপোর্ট করা হয়েছে।

    শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইনসের ৪টি ফ্লাইট।

    বেবিচকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে যাত্রীরা তাদের নির্ধারিত বিমানের অবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আপডেট নিয়মিত দেখে যোগাযোগ করতে বলেন। বিমানযাত্রীরা বিকল্প রুট, ভ্রমণ পরিবর্তন ও প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত নীতিও আগে থেকে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

  • ৯ মার্চ দুই তেলবাহী ভেসেল আসছে, উদ্বেগের কারণ নেই: জ্বালানিমন্ত্রী

    ৯ মার্চ দুই তেলবাহী ভেসেল আসছে, উদ্বেগের কারণ নেই: জ্বালানিমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি জানিয়েছেন যে আগামী ৯ মার্চ দুইটি তেলবাহী ভেসেল দেশে পৌঁছবে।

    শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংলগ্ন স্থানে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার প্রধানমন্ত্রীর নিকটও বর্ণনা করেছেন মন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে তেলের রেশনিং ঘোষণ করা হয়েছে। কিন্তু রেশনিংয়ের খবরে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে তেল জমাতে শুরু করেছেন, যা স্থানীয়ভাবে সরবরাহ চেইনকে জটিল করে তুলছে। মন্ত্রী পুনরায় জানিয়েছেন, দেশের কোনো তেলের ঘাটতি নেই।

    কিছু পেট্রল পাম্পে তেল না পাওয়া যাচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে। কোনো পাম্প দ্রুতই স্টক বিক্রি করে ফেলে গেলে তাদের পরবর্তী সরবরাহ না আসা পর্যন্ত গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হয়। বিষয়টি সরকার মনিটর করছে এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

    মন্ত্রী বলেন, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করে রাখছে কি না—এই ধরনের অনিয়ম তদন্ত করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্ট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাল থেকে মোবাইল কোর্ট নামিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

    মোটরসাইকেলের জন্য থাকা দুই লিটার রেশনিং বাড়ানোর কোনো চিন্তা এখনই নেই—এ কথাও মন্ত্রী স্পষ্ট করেন।

    এলএনজি সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানান, সরকার কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করছে এবং পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি নিশ্চিত করার উদ্যোগ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে সংকট না হয়। বর্তমানে দেশে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।

    মন্ত্রী গণমাধ্যম এবং জনগণকে অনুরোধ করেন—হঠ করে তেল কিনতে যাবেন না, প্যানিক করবেন না। পেট্রল পাম্পে নিয়মিত সরবরাহ চলছে; মানুষ চাইলে তেল পাবে, সারারাত লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই।

    সবশেষে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি অদৃশ্য পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। তবুও আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; সবাইকে সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করার আহ্বান জানাচ্ছেন মন্ত্রী।

  • কাতারে বাংলাদেশের প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতাবাণী

    কাতারে বাংলাদেশের প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতাবাণী

    ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতিতে যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় কাতারে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস একটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সকল প্রবাসীকে নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। তারা এলোপাতাড়ি সন্ত্রাস, সংঘর্ষ বা অস্থিরতা এড়াতে কRequest-এপর্যন্ত সামরিক স্থাপনার আশেপাশ থেকে দূর থাকতে এবং নিজ নিজ বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বিপদ কাটতে সময় লাগতে পারে, তাই অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

    এছাড়া, জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন নগদ টাকা, কাতার আইডি (কিউআইডি), হেলথ কার্ড, প্রয়োজনীয় ওষুধ, মোবাইল চার্জার ও শুকনো খাবার সবসময় সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দোসরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতে কাতারি আইনবিধি মানতে এবং সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করতে সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কিত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা কাতারের আইন অনুসারে নিষেধ, এ জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    প্রয়োজনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য দোহার বাংলাদেশ দূতাবাসের হটলাইন নম্বর ও ইমেইল ([email protected]) দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ পাওয়া যায়।