Category: জাতীয়

  • সুপ্রীম কোর্টের ভেতরে ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার

    সুপ্রীম কোর্টের ভেতরে ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার

    রাজধানীর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রধান বিচারপতির মূল প্রবেশপথের পাশে অবিস্ফোরিত অবস্থায় ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা রোববার (৮ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে ঘটেছে, যখন গেটের ডানপাশে ফেলে রাখা অবস্থা থেকে এগুলো শনাক্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানা গেছে, দুপুরের দিকে প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের কাছাকাছি কিছু সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি तुरंत পুলিশকে জানান। এর ফলে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুরো এলাকাটি ঘিরে রাখে, নিরাপত্তা জোরদার করে।

    পরে, এই তথ্য পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা দুপুরের দিকে সাউন্ড গ্রেনেডগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় এবং পরীক্ষানিরীক্ষা করে এগুলো নিষ্ক্রিয় করে।

    ঘটনা স্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের পর সেগুলো বিশেষজ্ঞ দলের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে, কারা বা কোন উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই সাউন্ড গ্রেনেডগুলো রেখে গেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুপুরের দিকে তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের কাছে পাঠানো হয়। এগুলোর স্বরা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মহানগর বিশেষ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

    মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের জন্য নির্ধারিত শুনানির পরে, আদালত বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। আসামি পলাতক থাকায় তার খোঁজ নিতে এবং গ্রেপ্তার করতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরোয়ানা জারি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ মার্চ তারিখ ধার্য করা হয়।

    অ্যাকসেসটি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।

    দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বিষয়টি জানান, তিনি এই গোপনীয়তা মামলার বাদী। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্তের পর, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর, বিষয়টি উত্থাপন করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ ঘোষণা করেন।

    তদন্তে দেখা যায়, তার নামে বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। তবে, হিসাব করে দেখা যায়, তার একক বা যৌথ ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থানে আয় থেকে বেশ কিছু অস্বাভাবিক সম্পদ বা বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মোট আড়াই কোটি টাকারও বেশি অর্থের অস্বাভাবিক অটোবর্ণ ও সম্পদ রয়েছে, যা তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, এই অশান্তি, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বেনজীর বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে, ব্যবসা ও বিনিয়োগে টাকা সরিয়ে নেন। এই অর্থের উৎস হলো অবৈধ, যা তিনি গোপন করেছেন। এর ফলে, তিনি বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ বিনিয়োগে অসাধুভাবে অর্থ স্থানান্তর করেছেন।

  • পাঁচ দেশের বাংলাদেশের কূটনীতিকদের একযোগে প্রত্যাহার

    পাঁচ দেশের বাংলাদেশের কূটনীতিকদের একযোগে প্রত্যাহার

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ রোববার (৮ মার্চ) আধা সরকারি আদেশে পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো, মালদ্বীপ এবং যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সকল বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে একযোগে প্রত্যাহার করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, তাঁদের সবাইকে অবিলম্বে ঢাকা সদর দপ্তরে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

    বিশেষ করে, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে নিযুক্ত চারজন রাষ্ট্রদূতকে তাঁদের চলমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এই চারজন হলেন ড. এম. মাহফুজুল হক (পর্তুগাল), মো. ময়নুল ইসলাম, এনডিসি (পোল্যান্ড), এম মুশফিকুল ফজল আনসারী (মেক্সিকো), এবং ড. মো. নাজমুল ইসলাম (মালদ্বীপ)।

    একই ঘোষণায়, যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজ্ আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকেও দ্রুত লন্ডন থেকে ছেড়ে এসে ঢাকায় ফিরিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের দূতাবাসে সতর্কতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেননি

    প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেননি

    প্রধানমন্ত্রী এই সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি সব ধরনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয় থেকে উপস্থাপিত হয় যে, বর্তমানে প্রতিলিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকার ১৮ থেকে ২০ টাকা লোকসান কাটছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর কথা জানানো হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সায় দেননি। বরং তিনি জোর দিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং বাজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতেই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    বৈঠকে জানানো হয়, দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। আগামী ৯ মার্চ দুটি জাহাজ থেকে ডিজেল আগমন করবে এবং আরও দুটি জাহাজ এর পরে পৌঁছবে বলে জানানো হয়। এছাড়া, হরমুজ প্রণালির অর্ধেক চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ার আশাও প্রকাশ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেছেন, জ্বালানি তেলের মজুতদারী প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দেশের পর্যাপ্ত ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুত রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

    অপরদিকে, প্রথম দিনের জ্বালানি তেল রেশনিং কার্যক্রমে দেশজুড়ে ভয়াবহ যানজটের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যায়, কারণ তেলের ডিপোগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি। শনিবার এই রেশনিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার দিন, গতকালও ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। তেল সংকট কমাতে আজ ডিলার, ফিলিং স্টেশন ও ডিপো থেকে সরবরাহ চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

    ফেব্রুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

    রোববার (৮ মার্চ) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মোট ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এসব দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত এবং ১,০৬৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময় ৮টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়; আর ৪৩টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

    ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ‘ফেব্রুয়ারি মাসের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন’ ওই তথ্যগুলো উপস্থাপন করেছে। প্রতিবেদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করেছে।

    নিহতদের যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহীদের মধ্যে—১৭৪ জন। এছাড়া বাসের যাত্রী ২২ জন, ট্রাক/পিকআপ/ট্রাক্টর/লরি আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ১৬ জন, থ্রি-হুইলারের (ইজিবাইক/সিএনজি/অটোরিকশা/অটোভ্যান/লেগুনা) আরোহী ৬৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি ছোট যানবাহনের আরোহী (নসিমন/ভটভটি/আলমসাধু/টমটম/মাহিন্দ্র) ২৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ৭ জন নিহত হয়েছেন।

    অঞ্চনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে— ১৫৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে, ৮৪টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে। দুর্ঘটনার ধরণ অনুযায়ী সবচেয়ে বেশিটিই ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ—১১৩টি; নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২২৮টি; পথচারী চাপা বা ধাক্কা দেওয়া ১০৪টি; যানবাহনের পেছনে আঘাত ৬৮টি এবং ৪টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    জেলা ও বিভাগের পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩.৫৯% এবং প্রাণহানি ২৫.২৩% ভাগে ছিল সবচেয়ে বেশি। রাজশাহী বিভাগের জয়েন অনুপাত যথাক্রমে ১৪.৭০% দুর্ঘটনা ও ১৪.৮১% প্রাণহানি; চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭.৯৮% দুর্ঘটনা ও ১৬.৮৯% প্রাণহানি; খুলনায় ১৩.১৫% দুর্ঘটনা ও ১৩.১৯% প্রাণহানি; বরিশালে ৫.৪১% দুর্ঘটনা ও ৫.০৯% প্রাণহানি; সিলেটে ৭.১৫% দুর্ঘটনা ও ৬.৭১% প্রাণহানি; রংপুরে ১১.৬০% দুর্ঘটনা ও ১২.০৩% প্রাণহানি; ময়মনসিংহে ৬.৩৮% দুর্ঘটনা ও ৬.০০% প্রাণহানি দেখা গেছে।

    অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে মোট ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম—২৮টি দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় গত মাসে ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

    প্রতিবেদন সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে— ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতিবেগ, চালকদের দায়িত্বহীন মনোভাব, অদক্ষতা ও শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা, বেতনের অনিশ্চয়তা ও অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম অজানা বা মানার অভাব, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি।

    ফাউন্ডেশন several সুপারিশ করেছে— দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীর ওপর ট্রাফিক আইন বাধাহীনভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন বন্ধ করে এসবের জন্য আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণ, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌপরিবহন সংস্কার করে সড়কপথের ওপর চাপ হ্রাস করা, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ যথাযথভাবে প্রয়োগ করা।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, উল্লিখিত সুপারিশ বাস্তবায়ন না করলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা অব্যাহত থাকবে এবং প্রতিনিয়ত পথকারি জনহানির বিষয়টি রোধ করা কঠিন হবে।

  • ঈদের সরকারি ছুটি বাড়ল, পরিপত্র জারি

    ঈদের সরকারি ছুটি বাড়ল, পরিপত্র জারি

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রবিবার (৮ মার্চ) এক পরিপত্রে ঘোষণা করেছে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে। পরিপত্রটি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব এ বি এম আবু বাকার ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত।

    পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত শব-ই-কদর ও ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যবর্তী ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলো। এই সময়ে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

    সূত্রের খবর, গত ৫ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঈদের সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং পরে তা অনুমোদন করা হয়।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগেই ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছিল। ১৮ মার্চ এক দিন যোগ হওয়ায় এখন সরকারি ছুটি ১৮ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত শোভিত হবে, ফলে আনুষ্ঠানিক ছুটির সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয় দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    চূড়ান্ত ঈদের তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে; সেক্ষেত্রে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশনা জারি করবে।

  • রোববার থেকে মার্কেট ও শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধ

    রোববার থেকে মার্কেট ও শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধ

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার খবরের পর থেকেই তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা জেগে উঠেছে, ফলে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট ঠেকাতে নানা সংস্থাই সাশ্রয়ের কৌশল নেবার কথা ভাবছে।

    এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি হেলাল উদ্দিন শনিবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের জানান, সংকটকে প্রাক-শর্ত হিসেবে ধরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোববার থেকে সব মার্কেট ও শপিংমলে আলোকসজ্জা বন্ধ এবং অপ্রয়োজনীয় বাতি নিভিয়ে রাখতে হবে। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিকভাবে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং তারা যেকোনো কারণেই হোক সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।

    সমিতি বিশেষত সাজসজ্জা আলোক, ফ্যাসাদ লাইট ও অপ্রয়োজনীয় নীয়ন বা প্রদর্শনী আলো বন্ধ রাখার অনুরোধ করছে, যাতে বিদ্যুৎ ও তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনা যায়। দোকানগুলোকে গ্রাহক সেবায় কোনো প্রভাব ফেলবে না এমনভাবে প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অপরদিকে সরকার ইতোমধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, তেল নিয়ে উদ্বেগের বাইরে কিছু নেই, কারণ দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, তেল স্টক করে রাখার অপচেষ্টা রোধের জন্য রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) চালানো হবে।

    দোকান মালিক সমিতি ও সরকারের দ্বৈত উদ্যোগের ফলে সংরক্ষণ ও চালান-বণ্টনে সমন্বয় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সমিতি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদেরও সহযোগিতা কামনা করেছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহার কমে এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়া যায়।

  • ফাল্গুন শেষের আগে গরম তীব্র, পাঁচ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা

    ফাল্গুন শেষের আগে গরম তীব্র, পাঁচ দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা

    ফাল্গুনের বিদায়লগ্নে দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা বাড়ায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় গরমের কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রোববার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা নামতে পারে, কিন্তু রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। সোমবার রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    আরও বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার (১০-১২ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গল ও বুধবার দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। যদিও বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে এই পাঁচ দিনের মেয়াদের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আকস্মিক বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

  • আট দিনে ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ঢাকায় প্রতিকূলতা

    আট দিনে ২৬৮ ফ্লাইট বাতিল: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ঢাকায় প্রতিকূলতা

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত আট দিনে মোট ২৬৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

    বেবিচক জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান কয়েকটি দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় এ রকম ব্যাপক বাতিলের নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে।

    আবহাওয়া ও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ তাদের রুট সাময়িকভাবে স্থগিত বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেবিচক প্রদত্ত দৈনিক বিবরণ অনুযায়ী বাতিলের সংখ্যা ছিল:

    ২৮ ফেব্রুয়ারি — ২৩টি,

    ১ মার্চ — ৪০টি,

    ২ মার্চ — ৪৬টি,

    ৩ মার্চ — ৩৯টি,

    ৪ মার্চ — ২৮টি,

    ৫ মার্চ — ৩৬টি,

    ৬ মার্চ — ৩৪টি,

    এবং ৭ মার্চ (শনিবার) — ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

    শনিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আছে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৬টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি এবং এমিরেটসের ৪টি।

    বেবিচকের কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আকাশপথে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে এবং ফ্লাইটসূচি বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের তারা নিজ এয়ারলাইনের কাছ থেকে লেটেস্ট তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় জরুরি যোগাযোগ ও পুনঃনির্ধারণের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন।

  • ৯ মার্চ দেশে আসছে দুই তেলবাহী ভেসেল: জ্বালানিমন্ত্রী

    ৯ মার্চ দেশে আসছে দুই তেলবাহী ভেসেল: জ্বালানিমন্ত্রী

    তেল মজুত নিয়ে উদ্বেগ নেই—আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আগামী ৯ মার্চ দেশে তেলবাহী দুটি ভেসেল এসে পৌঁছাবে।

    মন্ত্রী হাতে থাকা তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘‘বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই জনগণের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেছি এবং সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত আকারে রেশনিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’’

    তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘তেলের কোনো অভাব নেই। রেশনিং কার্যত অনিশ্চয়তার প্রভাব মোকাবিলার জন্য নেয়া হয়েছে। কিছু মানুষ রেশনিং দেখে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন, ফলে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে—এটি অনাবশ্যক।’’

    মন্ত্রী আরও জানান, সরকার নিয়মিত পেট্রল পাম্পে তেল সরবরাহ করছে। কোন পাম্প যদি দ্রুত তেল বিক্রি করে ফেলে, তাদের পরবর্তী সরবরাহ পাওয়ার আগে অপেক্ষা করতে হয়—কিন্তু তা দিয়ে জনগণ আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি গণমাধ্যম ও জনগণকে অনুরোধ করেন, তাড়াহুড়ো করে তেল কেনা বা সারারাত লাইনে অপেক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

    কিছু পেট্রল পাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রেখে অধিক মুনাফা নিতো কি না—এমন সন্দেহ থাকায় বিষয়টি তদন্ত করবে সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোবাইল কোর্ট চালানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, বললেন মন্ত্রী।

    মোটরসাইকেলের জন্য দুই লিটার করে তেলের রেশন বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘আপাতত তা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।’’ তিনি আবারও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বললেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় ব্যক্তিগতভাবে কিছু সঞ্চয়ের পরামর্শ দিলেও প্যানিক অবৈধ।

    এলএনজি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, সরকার কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে এবং বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে যাতে ভবিষ্যতে সংকট না হয়। বর্তমানে দেশে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

    সবশেষে মন্ত্রী জনগণকে অনুরোধ করেন: ‘‘আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। আমরা মজুদ ও সরবরাহ নিশ্চিত করছি। সবাই সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করুন এবং অকারণে তেল মজুদ করবেন না।’’

    এই তথ্যগুলো মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান।