Category: জাতীয়

  • রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হট্টগোল, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

    রাষ্ট্রপতির নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংসদে হট্টগোল, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের নাম ঘোষণা হতেই সংসদে তীব্র হট্টগোল শুরু হয় এবং প্রধান বিরোধীদলসহ বিরোধী জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্য স্যার থেকে বেরিয়ে আসেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর জন্য তার নাম ঘোষণা করা হলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের আসন ত্যাগ করলে দ্রুত অন্যরাও পেছনের দিকে উঠে চলে যান এবং ওয়াকআউট করেন।

    ওয়াকআউটকারীরা ‘গেট গেট গেট আউট, কিলার চুপ্পু গেট আউট’, ‘গণতন্ত্র ফ্যাসিবাদ, একসঙ্গে চলে না’—রকমের স্লোগান দেন এবং ‘গাদ্দার চুপ্পু’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। জাতীয় সংগীতের সময় তারা দাঁড়িয়েও কণ্ঠ দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানায়নি; তারা বলেছে, ‘আমরা জাতীয় সংগীতকে সম্মান জানাচ্ছি, রাষ্ট্রপতিকে না।’

    এর আগে অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনী কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়। কণ্ঠভোটে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। ভোটাভুটির সময় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নিরব থেকেছে; তারা হ্যাঁ বা না—কোনও রকম সমর্থন জানাননি।

    হাফিজ উদ্দিনের একমাত্র প্রস্তাবকারী ছিলেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, এবং খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম তার প্রস্তাবে সমর্থন জানান। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্বকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কণ্ঠভোটে প্রস্তাব পাশ করে হাফিজ উদ্দিনকে স্পিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।

    অধিবেশনটি শুরু হয়েছিল স্পিকারের অনুপস্থিতিতেই—পূর্বসূরি স্পিকার পলাতক আছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় শুরুতে দলীয় নেতার প্রস্তাবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতিত্ব করেন। পরে কার্যক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অধিবেশন এগিয়ে যায়।

  • ছেলে আনোয়ারের হত্যায় সালমান-আনিসুলকে দায়ী করে সাক্ষ্য দিলেন বাবা

    ছেলে আনোয়ারের হত্যায় সালমান-আনিসুলকে দায়ী করে সাক্ষ্য দিলেন বাবা

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় ছেলের হত্যার দায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের উপর চাপান বলে অভিযোগ করেছেন শহীদ আনোয়ারের বাবা আল আমিন পাটোয়ারী। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর একক বেঞ্চের সামনে তিনি চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

    বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তৃতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। ৬৫ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মাদরাসাশিক্ষক আল আমিন তার ৩৫ বছর বয়সী ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর মৃত্যুকথা জরাজীর্ণ ভঙ্গিতে সংসদ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মিরপুর-১০ নম্বরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর আনোয়ার নিহত হন।

    আল আমিন জানান, ওই দিন বিকেলে ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি ও তাঁর স্ত্রী তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে লোকমুখে জানতে পারেন আনোয়ার গুলিবিদ্ধ হয়ে মিরপুরের ডা. আজমল হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালে গিয়ে মেঝেতে আনোয়ারসহ প্রায় ১৫-২০ জনের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সবাই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। নিজের ছেলেকে শনাক্ত করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আল আমিন।

    সাক্ষ্যলায় তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ছেলের শরীর ও অন্যান্যদের ওপর রক্ত দেখে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার সঙ্গে আমার ছোট ছেলে মো. আব্দুল্লাহও ছিল।’ এরপর আনোয়ারের লাশ বাড়িতে নিয়ে এসে মৃত্যু সনদপত্র সংগ্রহ করেন। রাত এগারো-দশটার দিকে রূপনগর আবাসিক এলাকায় জানাজা সম্পন্ন করে পরে তাকে লক্ষ্মীপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়, বলে জানায় তিনি।

    আল আমিন আরও অভিযোগ করেন যে তাঁর জানতে পেরেছি হত্যার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞান প্রণয়ন, কারফিউ আরোপ এবং অভিযান পরিকল্পনায় সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন — প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কিত ব্যক্তিত্বদের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সড়ক-মহাসড়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দসহ অনেকে। তার বক্তব্য, কারফিউ দিয়ে আন্দোলন দমন এবং ছাত্র-জনতাকে শেষ করার উদ্দেশ্যে বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল; এই কারণেই তিনি এসব নেতাদের ছেলের হত্যার জন্য দায়ী করছেন।

    সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন সালমান ও আনিসুলের স্থায়ী আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মামলার ওপরের পক্ষে প্রসিকিউশনের দিক থেকে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম; সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্যরা। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন হিসেবে ৫ এপ্রিল ধার্য করেছেন।

    আল আমিন সাক্ষ্য শেষে ন্যায়বিচার ও এমন পুনরাবৃত্তি না ঘটার মত শান্তিকামী ভবিষ্যত চেয়ে আবেদন করেন।

  • অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল বাংলাদেশ

    অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিল বাংলাদেশ

    দীর্ঘমেয়াদি তেলচুক্তির পাশাপাশি ভারত থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানের আগ্রহ জানিয়েছে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের অতিরিক্ত সরবরাহ চাওয়া হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    সপ্তাহজুড়ে চলা আলোচনার পর আজ বুধবার জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠকে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেন। সরকার এবিষয়ে ভারতের কাছে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়েছে।

    ২০২৩ সালের মার্চে ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়। পাইপলাইনের বাৎসরিক পরিবহনক্ষমতা প্রায় ২ লাখ টন হলেও বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী এই বছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল পরিবহনের কথা রয়েছে। বর্তমান বাস্তবায়নে মাসে আনুমানিক ১৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে।

    বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আপৎকালীন অবস্থার জন্য আমরা আমাদের ডিজেল সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছি। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে কতটা বাড়ানো সম্ভব।’ প্রণয় ভার্মাও জানান, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে জ্বালানিসহায়তার আবেদন করেছে এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিটি পরবর্তীতে ভারত সরকারকে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং কীভাবে তা আরও শক্তিশালী করা যায়—এসব দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    গত রোববারও ঢাকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার আলোচনায় মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে এটি আপৎকালীন চাহিদা মেটাতে তড়িঘড়ি নেওয়া যেতে পারে এমনই প্রস্তাব।

    সরকার এবং ভারতীয় পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনায় পাইপলাইনের সক্ষমতা, চুক্তির শর্ত এবং সরবরাহ বৃদ্ধির সময়সূচি নিয়েও খুঁটিনাটি আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষ কবে এবং কতটা অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে তা চূড়ান্ত হওয়া বাকি আছে।

  • ভাঙার ১৭ মাস পর আজ ত্রয়োদশ সংসদ; সভাপতিত্বে কে?

    ভাঙার ১৭ মাস পর আজ ত্রয়োদশ সংসদ; সভাপতিত্বে কে?

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ থেকে শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বেলা ১১টায় উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং এরপর সংসদ সদস্যরা বিতর্কে অংশ নেবেন।

    পটভূমি: ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। সেই থেকে সংসদে কোনও অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়নি। এখন নির্বাচিত সদস্যদের মাধ্যমে শুক্রবার থেকে সংসদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনটিই ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশনও বটে।

    রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ক্ষমতাবলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা চূড়ান্ত হবে। সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রথম কাজ হবে সরকার যে সব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করাতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা। গত ১৮ মাসে অন্তর্বতীকালীন সরকার মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছিল।

    সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়; এ আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে হয়। ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচনী কার্যক্রম গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের ফল গেজেট প্রকাশিত হয়। তাতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়ী হয়েছে; এর মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিন বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে; দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    নেতৃত্ব ও সভাপতিত্ব: নতুন সংসদে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদ নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে উদ্বোধনী অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে—কারণ দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে আছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বিভিন্ন মামলায় কারান্তরীণ অবস্থায় রয়েছেন। সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই সভাপতিত্ব করেন এবং তাদের উপস্থিতিতে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। কিন্তু বর্তমানে দু’জনেই দায়িত্ব পালনের অবস্থায় না থাকায় বিকল্প প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

    বৈঠক ও সিদ্ধান্ত: ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র সংসদীয় দলের এক বৈঠকে উদ্বোধনী দিন কীভাবে অধিবেশন পরিচালনা হবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকের পর বিএনপি’র চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশন শুরু করা হবে। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের পর সংসদ নেতা একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সভার অস্থায়ী সভাপতির জন্য প্রস্তাব করবেন; অন্য এক সদস্য এটি সমর্থন করলে ওই জ্যেষ্ঠ সদস্য সাময়িকভাবে অধিবেশন পরিচালনা করবেন। তার পরিচালনায় নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে এবং শপথ গ্রহণের পর তারা অধিবেশনে স্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করবেন। শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশনটি ১৫–২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে। সংসদীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

    সংবিধান ও বিশেষজ্ঞ মতামত: সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। আর সংবিধানের ৭২(৬) অনুচ্ছেদ বলে, নতুন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পদে বহাল থাকেন বলে গণ্য হবেন। বর্তমান বাস্তবতায় তা প্রযোজ্য না হওয়ায় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির আলোকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সংসদীয় রাজনীতি নিয়ে গবেষক অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে থাকেন, কিন্তু বর্তমানে উভয়ের অনুপস্থিতিতে শূন্যতা দেখা দিয়েছে। তিনি যোগ করেন, কার্যপ্রণালী বিধি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ব্যবহার করে উদ্বোধনী অধিবেশন পরিপাটি করে পরিচালনার পথ খোঁজা সম্ভব।

    উপসংহার: প্রথম অধিবেশনটি দেড় বছরের অন্তর্বতী সরকারের পর দেশের নির্বাচিত সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার দিন হিসেবেই গুরুত্ব বহন করছে। উদ্বোধনী দিনে কোথা থেকে এবং কার নেতৃত্বে কাজ শুরু হবে—সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দ্রুত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ঢুকবে।

  • মন্ত্রী ও এমপিদের চলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

    মন্ত্রী ও এমপিদের চলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপির চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের চলনে-বলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন।

    সভায় উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময়ও মন্ত্রী ও এমপিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষ করে জোর দিয়ে বলেছেন, প্রত্যেকে তার দায়িত্বসীমার মধ্যে থেকে বক্তব্য দেবেন এবং ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব ছেড়ে অপ্রয়োজনে মন্তব্য করবেন না।

    সভা সকাল সোয়া ১১টায় তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয়ে বেলা ১টায় শেষ হয়। সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন। মঞ্চে তারেক রহমানের এক পাশে ছিলেন মির্জা ফখরুল এবং অপর পাশে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সভায় মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী সভায় দলনের নানাবিধ জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষভাবে তিনি দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা তোলেন এবং বলেন, এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়েছে; তবু আমরা ভোটের আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছি। এভাবেই বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, জনগণ এই দলটাকেই দেখতে চায়—এমনটাই তার প্রকাশ।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং পাশাপাশি সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। সামনে ডেঙ্গু মৌসুমকে বিবেচনায় রেখে পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি যত্ন নিতে সবাইকে নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় তিনি জেলাগুলোর অফিস সময় ও নিয়মিত উপস্থিতির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন, বিশেষ করে মন্ত্রণালয়ের তরুণ সদস্যদের নিয়ন্ত্রিত সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার দাবিতে জোর দেন। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠরা রয়েছেন—তবু তরুণদের সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে প্রবেশ করতে হবে এবং অফিস যাতায়াতে ট্রাফিক আইন মেনে চলতেও সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে; নিজেরাও তা মানেন বলেও তিনি সভায় উল্লেখ করেন।

    জুলাইয়ের জাতীয় সনদ সংক্রান্ত প্রসঙ্গ তুলते তিনি বলেন, সনদ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে; যেখানে সরকার বাস্তবায়নযোগ্য মনে করবে, সেগুলো হাতে নেওয়া হবে।

    অবশেষে প্রধানমন্ত্রী দৈনন্দিন জীবনযাপনে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য—বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে; তাই অর্থনীতির প্রভাব মাথায় রেখে সংযমী জীবনযাপন জরুরি।

  • সৌদি উপহারের ১২,৫০০ কার্টুন খেজুর: জেলা অনুযায়ী বরাদ্দ তালিকা

    সৌদি উপহারের ১২,৫০০ কার্টুন খেজুর: জেলা অনুযায়ী বরাদ্দ তালিকা

    সৌদি আরবের ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে উপহারে পাওয়া মোট ১২,৫০০ কার্টুন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ করেছে সরকার। এসব খেজুর জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

    সম্প্রতি এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব খেজুর স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    বরাদ্দের বিস্তারিত জেলা অনুযায়ী নিম্নরূপ:

    ঢাকা বিভাগ: ঢাকা ২৯৭, নারায়ণগঞ্জ ১০১, গাজীপুর ১০৩, মুন্সিগঞ্জ ১৮০, মানিকগঞ্জ ১৭১, নরসিংদী ১৮৮, টাঙ্গাইল ৩১৮, কিশোরগঞ্জ ২৮৭, ফরিদপুর ২১৪, গোপালগঞ্জ ১৭৫, মাদারীপুর ১৫৭, শরীয়তপুর ১৭৩ ও রাজবাড়ী ১১০ কার্টুন।

    ময়মনসিংহ বিভাগ ও পার্শ্ববর্তী জেলা: ময়মনসিংহ ৩৮৪, নেত্রকোনা ২২৬, জামালপুর ১৭৭ ও শেরপুর ১৩৭ কার্টুন।

    চট্টগ্রাম বিভাগ ও পার্বত্য অঞ্চল: চট্টগ্রাম ৫১৮, কক্সবাজার ১৮৭, রাঙ্গামাটি ১৩০, খাগড়াছড়ি ৯৭, বান্দরবান ৯০, কুমিল্লা ৫২০, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৬৭, চাঁদপুর ২৩৫, নোয়াখালী ২৪৩, লক্ষ্মীপুর ১৫৪ ও ফেনী ১১২ কার্টুন।

    রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১১৬, নওগাঁ ২৫৯, নাটোর ১৩৫, পাবনা ১৯৬, সিরাজগঞ্জ ২২১, বগুড়া ২৯১ ও জয়পুরহাট ৮১ কার্টুন।

    রংপুর বিভাগ: রংপুর ২০১, কুড়িগ্রাম ১৯২, নীলফামারী ১৬১, গাইবান্ধা ২১৪, লালমনিরহাট ১১৬, দিনাজপুর ২৭৪, ঠাকুরগাঁও ১৪১ ও পঞ্চগড় ১১২ কার্টুন।

    খুলনা বিভাগ: খুলনা ১৮২, বাগেরহাট ২০৩, সাতক্ষীরা ২০৭, যশোর ২৪৭, ঝিনাইদহ ১৭৫, মাগুরা ৯২, নড়াইল ১০১, কুষ্টিয়া ১৭৪, মেহেরপুর ৫১ ও চুয়াডাঙ্গা ১০৫ কার্টুন।

    বরিশাল ও সিলেট বিভাগ: বরিশাল ২৩৪, পটুয়াখালী ২০২, ভোলা ১৮৭, পিরোজপুর ১৩৯, বরগুনা ১১০, ঝালকাঠি ৮২; সিলেট ২৯০, হবিগঞ্জ ২০৬, মৌলভীবাজার ১৭৮ ও সুনামগঞ্জ ২৩৪ কার্টুন।

    অন্যান্য বিশেষ বরাদ্দ: ঢাকায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ১৮৫ কার্টুন, ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসকে ৫০ কার্টুন এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্টুন খেজুর আলাদা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি সূত্র বলছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী দ্রুত এসব খেজুর জেলা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তা তৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনমত বিতরণ করা যায়।

  • চিফ প্রসিকিউটর: ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে

    চিফ প্রসিকিউটর: ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সদ্য অবসানপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ ও ফাঁস হওয়া অডিওর ঘটনায় ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় সব ধরণের অনিয়ম খতিয়ে দেখা হবে—এমনটাই জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, তথ্য-অনুসন্ধানকারী এই কমিটি যদি অনিয়ম পায়, তবে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    চিফ প্রসিকিউটর মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। কমিটিতে পাঁচ জন সদস্য থাকবেন এবং তার কার্যক্রম বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু করেছে বলেও তিনি জানান। কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রসিকিউশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।

    জুলাই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় বিচার চলাকালীন সময়ে নতুনভাবে গরমালো ঘুষসংক্রান্ত অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। চিফ প্রসিকিউটর নিজেই জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়াকে সন্দেহাতীতভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

    ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত গুম, হত্যাসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলাগুলোতে বিচার শুরু হয়; ইতোমধ্যে তিন মামলায় রায় দেওয়া হয়েছে এবং আগামী মাসে আরেকটি মামলার রায় ঘোষণা হবে। পাশাপাশি কয়েকটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রসিকিউশনের বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে—কিন্তু সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর তালুকদারের ঘুষচাওয়ার অডিও ফাঁস হওয়া ঘটনার পর আলোচনা ও বিতর্ক তীব্র হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর ঘটনাটিকে গুরুত্বসহকারে দেখে বলছেন, অনুসন্ধানে যা পাওয়া যাবে তা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

    একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মামলার শুনানিও হয়। ট্রাইব্যুনাল ৩০ মার্চ এই মামলাগুলোতে মামলার বিচার শুরু হওয়া বা না হওয়ার বিষয়ে আদেশ জানাবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চালানো হয়েছে।

    চিফ প্রসিকিউটর পুনরায় জানিয়েছে, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি সত্য উদঘাটন করতে কাজ করবে এবং যদি তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ে, তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত স্বচ্ছ ও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

  • সারাদেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা

    সারাদেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্কতা

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। বুধবার সকাল ৯টায় প্রকাশিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের সব বিভাগে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হতে পারে।

    আজ (বুধবার) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা কিছু জায়গায় কমতে পারে। এতে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেটের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ওই দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমে যেতে পারে, রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকবে।

    বৃষ্টির এই ধারাটি ১৩ মার্চ (শুক্রবার)ও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ধারণা করেছে, ১৪ মার্চ থেকে বিশেষত সিলেট এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে, তাই সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    অবservation: গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ৩৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর রাজধানী ঢাকায় ছিল ৩২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাঙামাটিতে রেকর্ড করা হয় ১৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর জেলায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

  • ঢাবি ছাত্র হত্যা: পিবিআই অভিযোগপত্র গ্রহণ, ২২ পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    ঢাবি ছাত্র হত্যা: পিবিআই অভিযোগপত্র গ্রহণ, ২২ পলাতকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দাখিল করা ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আজ (১০ মার্চ) গ্রহণ করেছেন ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা। একইসঙ্গে আদালত পলাতক ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

    অভিযুক্তদের নামের তালিকায় আছে— জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।

    তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ (বিপুল) ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। জালাল মিয়া, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী জানান, মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে নারাজি জানানোর কথা বলেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি কোনো নারাজি দেননি।

    পটভূমি: গত বছরের ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় পরে ২১ জন শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তোফাজ্জল (৩৫) কে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করে। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আঘাত ও রক্তক্ষরণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।

    অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হলের প্রাক্তন প্রভোস্ট ও ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা করা হয়েছিল, যা পরে স্থগিত ছিল। ঢাবি প্রক্টোরিয়াল টিম অভিযোগপত্রে জবাব দিতে বিলম্বের কথা উল্লেখ করেনি বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও তদন্ত ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চালানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • অনুমতি ছাড়াই অফিস ছেড়ে মন্ত্রণালয়ে তদবির বন্ধের নির্দেশ আইজিপির

    অনুমতি ছাড়াই অফিস ছেড়ে মন্ত্রণালয়ে তদবির বন্ধের নির্দেশ আইজিপির

    পদোন্নতি বা অন্যান্য অনুরোধে মন্ত্রণালয়ে তদবির করতে অফিস ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা রোধে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির করার ঘটনা পুলিশের সততা ও ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলছে এবং সরকারি দৈনন্দিন কাজও বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপির স্বাক্ষরে গত সোমবার জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের কিছু সদস্য অফিস চলাকালীন নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং ইতিমধ্যে পুনরায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের তদবিরের কারণে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিব্রত হচ্ছেন এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পাশাপাশি এটি সরকারি কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। তাই কোনো পুলিশ সদস্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। পদোন্নতি বা অন্য কোনো বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় লবিং থেকে বিরত থাকার জন্যও বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অফিস চলাকালে অনুমতি ছাড়া নিজ দপ্তর ছাড়িয়ে কোনো মন্ত্রণালয় বা গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অবস্থান করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এটি প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় নিয়মাবলী মেনে চলার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এই চিঠি আবারও জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, একই নির্দেশনা প্রায় এক বছর আগে দেওয়া হয়েছিল, তা পুনরায় জারি করাই হচ্ছে।

    পূর্বে বিষয়টি সরকারীয় স্মারক ও পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশের মাধ্যমে সব ইউনিট ও প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারদের জানানো হয়েছিল; তবু এই প্রবণতা ফের দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশনার লক্ষ্য—অপক্ষপাতে বাধা দেওয়া, কর্মকর্তাদের বিভ্রান্তি কমানো এবং পুলিশের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির যথাযথ রক্ষা নিশ্চিত করা।