গুরুতর অসুস্থ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর এই অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা আছে এবং চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
জুমার নামাজের পর দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি শয্যাহাস্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তাঁর স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করেন। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানানো হয়।
হাসপাতালের সূত্রে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর মির্জা আব্বাসকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাঁকে ঘন নজরদারিতে রাখছেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চিন্তা আছে। মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি মিললেই সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চালু করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সমস্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, শুক্রবার সকালে মির্জা আব্বাসের সিটি স্ক্যান করা হলে অবস্থার অবনতি দেখা গিয়েছিল; এরপর ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বসে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরিবারের সম্মতিও নেয়া হয়েছে।
ঘটনার সময়কাল সম্পর্কে পরিবার বলেছে, ১১ মার্চ ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে মির্জা আব্বাস হঠাৎজ্ঞান হারান। তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাওয়া হয়েছে।
আজ সকালে বিএনপির মিডিয়া সেলের এক কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর কথা ছিল। তবে শেষপর্যন্ত ওই যাত্রা হচ্ছে না; চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এরআগে বৃহস্পতিবার মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
পরিবার ও চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা নিয়ে সতর্কভাবে কাজ করছেন। মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য এবং পরিস্থিতির উন্নতির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।









