Category: খেলাধুলা

  • বাংলাদেশের স্বার্থে সৌদি আরবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিবি

    বাংলাদেশের স্বার্থে সৌদি আরবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিসিবি

    বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ক্রিকেটার ও কোচ নিয়োগ করে সেই দেশের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের পরিচিতি গড়ে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ওমানসহ আরও কিছু দেশ এই পথে এগোতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে সৌদি আরবও ক্রিকেটের প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা করছে, যেখানে বাংলাদেশ থেকেও কিছু ক্রিকেটার ও কোচ নেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি আরবের এ ধরনের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে সৌদি আরব আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমি সেই সময়ই তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। তারা পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের ক্রিকেটার ও কোচ পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে। এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, নিজের দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে অন্য দেশে ক্রিকেটার বা কোচ পাঠানো সম্ভব নয়।’

    ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান রাখার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ক্রিকেটেও তারা দ্রুত অগ্রসর হতে চাইছে, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এই পথ অনুসরণ করেছিল।

    ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি সৌদি আরব বিসিবির কাছে খেলোয়াড় পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটের নিয়ম মানতে না চাওয়া ও দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিসিবি এই বিকল্পে রাজি হয়নি।

    বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সৌদি আরবের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। লিভ গলফ, ফর্মুলা ওয়ান, এবং ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দেশটি বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এখন তারা ক্রিকেটেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চেষ্টা করছে। আইসিসি ও এসিসির সহযোগিতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রিকেটের নতুন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দেশটি।

  • ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

    ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

    অভিষেকের পর থেকে অনূর্ধ্ব-১৯ বাংলাদেশের দল টানা দুইবার এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে। তবে এইবারের আসরে তাদের মনের আশা ভঙ্গ হয় সেমি ফাইনালে, যেখানে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে হার মানেন জুনিয়র টাইগাররা। চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠা পাকিস্তান বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেলো এবং ভারতের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে ১৯১ রানের জয়ে এশিয়া কাপের শিরোপা প্রত্যাশা তৈরি করল।

    দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৪৭ রান তোলে। দলের হয়ে প্রখ্যাত ব্যাটসম্যান সামির মিনহাস ১৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জয়ের ভিত শক্ত করেন। ভারতের জন্য নিশ্ছিদ্র এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৬ ওভারে ১৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

    ভারতের শুরুটা ভালো ছিল না। ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক থাকলেও বেশিক্ষণ টিকে থাকেননি। মাত্র ১০ বলে ২৬ রান করে ছয়টি চার ও একটি ছক্কার মাধ্যমে ধরা পড়েন। এর পরে মিডল অর্ডারে অবিজ্ঞান কুন্ডু ও কনিশ চৌহানরা চেষ্টা করলেও ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত।

    অপ্রত্যাশিত এই বড় ব্যবধানে হেরে যায় ভারত, যেখানে বড় সংগ্রহের জন্য তারা হতাশ। অবশ্য শেষের দিকে খিলান প্যাটেল ও দীপেশ দেবেন্দ্র কিছুটা লড়াই করে দেখান। খিলান ২৩ বলে ১৯, আর দীপেশ ১৬ বলে ৩৬ রান করেন, যা কিছুটা হলেও হারের ব্যবধান কমিয়ে দেয়।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংস শুরু হয় ধীরগতিতে। প্রথম উইকেট পড়ার পর উসমান খান ও সামির মিনহাস মুহূর্তের জন্য দলকে স্বস্তিতে এনে দেন। উসমান খান ৭৯ বলের মধ্যে ৯২ রান করেন এবং মিনহাস তার সতীর্থ আহমেদ হুসেইনের সাথে ১২৫ বলে ১৩৭ রান যোগ করেন, যা উল্লেখযোগ্য। মিনহাস ৭১ বলে ১২ চার ও ৪ ছয়ে ১৭২ রান করে আউট হন। এই অসাধারণ সেঞ্চুরির পর পাকিস্তান বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে। এরপর আহমেদ হুসেইন ৫৬ রানে আউট হলেও পাকিস্তান ৩০২ রান করে ৪৩ ওভারে। শেষ দিকে, শফিক ও সাইয়াম ২০ বলে ২০ রান যোগ করে দলকে ৩৪৭ রানে পৌঁছে দেন, যা এশিয়া কাপের ফাইনালে সর্বোচ্চ স্কোর। দীপেশ দেবেন্দ্র তিনটি উইকেট নেন, হেনিল প্যাটেল দুটির দেখা পান। চূড়ান্তভাবে পাকিস্তান এই জয়ে ৮ উইকেট হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়।

  • ৪ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে বলিষ্ঠ জয় দুবাইয়ের

    ৪ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে বলিষ্ঠ জয় দুবাইয়ের

    সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দারুণ দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। রোববার 자신의 সপ্তম ম্যাচে গালফ জায়ান্টসের বিপক্ষে তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। মাত্র ৪ বলের মধ্যে ৩ উইকেট শিকার করে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। এই পারফরম্যান্সের জন্য দলের জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছেন তিনি।

    আবুধাবির শেখ জায়েদের স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় গালফ জায়ান্টস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে আসেন মোস্তাফিজ, তবে প্রথম ওভারে তিনি কিছুটা খারাপ করেন এবং ১৩ রান দেন। এরপর ১৪তম ওভারে আবারো বল হাতে নেন ফিজ, তখনই তিনি ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেন। মুশফিকের প্রথম বলেই চার মারেন জেমস ভিন্স, তবে পরের বলটি ওয়াইড হয়। দ্বিতীয় বলের মোকাবেলায় ভিন্স সাজঘরে ফিরে যান, ৩৪ বলে ৩৬ রান করে তিনি ক্যাচ দিয়ে আউট হন।

    পরের ওভারে স্ট্রাইক পান কাইল মায়ার্স। মোস্তাফিজের অফ কাটার বলটি খেলতে গিয়ে ভিন্সের মতোই আউট হন আফগান ব্যাটার আজমতউল্লাহ ওমরজাই, ২৬ বলে ৪৩ রান করে তিনি বোল্ড হয়ে যান। এরপর তিনি এক অসাধারণ ডেলিভারিতে আরও একটি উইকেট তুলে নেন, ডান হাতি ডিকসনের ব্যাটের বাইরের কানা দিয়ে। বাবার মতো মেজাজে থাকায় এই ডেলিভারিটি অসাধারণ ছিল।

    মোস্তাফিজ নিজে ৩ ওভার বল করে ৩৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত গালফ জায়ান্টস সবকিছু হার মানিয়ে ১৫৬ রান করে অলআউট হয়। সেই রান টপকাতে নেমে দুবাই দ্রুত শুরু করে এবং ৪ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় লাভ করে। ম্যাচের সেরা পারফরমার্স হিসেবে তিনি পুরস্কার পান। এই জয়ে মোস্তাফিজের দক্ষতা আবারও প্রমাণিত হলো, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করে নিল।

  • রূপসায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন

    রূপসায় ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন

    রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা আদর্শ যুব সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে একান্ত উত্তেজনাপূর্ণ ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব, যার সাথে সম্পৃক্ত ছিল পুরস্কার বিতরণি ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠান। রবিবার বিকেলে এই উৎসবমুখর আয়োজনটি স্থান পেয়েছিল বামনডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে।

    ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় রূপসার কাজদিয়া শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ এবং মোল্লাহাট মানিক স্মৃতি একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলায় শুরুতেই আধিপত্য দেখায় শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ। প্রথম ৪ মিনিটের মধ্যেই খেলোয়াড় মিরাজ (৭ নম্বর জার্সি) এবং লিপু (১০ নম্বর জার্সি) পরপর দুটি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন।

    এরপর মানিক স্মৃতি একাদশের ১১ নম্বর জার্সিধারী শহিদুল একটি গোল করে ম্যাচে কিছুটা ঝাঁঝ যোগ করেন। ম্যাচের শেষ সময়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলাটি জমাট বোঝায়, তবে আর কোনো দল গোল করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় লাভ করে শহীদ মনসুর স্মৃতি সংসদ। এই জয়ে তারা টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গৌরব অর্জন করে।

    খেলা পরিচালনা করেন রেফারি শেখ কামাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম ও মুক্তার হোসেন মিঠু। ধারাভাষ্য দেন মুস্তাহিদুর রহমান মুক্ত।

    খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল কবীর সজল, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আঃ রশিদ, আরিফুর রহমান, শেখ আনিসুর রহমান আনিস এবং মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক অধ্যাপক খান আহমেদুল কবীর (চাইনিজ) এবং সাবেক মেরিন অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ আবুল মাসুম।

    ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোঃ হালিম মোল্যার সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা মোল্লা দুরুল হুদা ও মোঃ রেজাউল্লাহ সরদারের যৌথ পরিচালনায় এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক হুমায়ূন কবীর, ঘাটভোগ ইউনিয়ন সার্চ কমিটির সদস্য এস এম আঃ মালেক, মিকাইল বিশ্বাস, সাইফুল ইসলাম পাইক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর শেখ, মোস্তফা শেখ, জিন্নাত শেখ, আরিফ মোля, আবুল কাশেম কালা, মহিতোষ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের শেষতালে বিশেষ দোয়া করা হয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে, যেখানে সৃষ্টিকর্তার কাছে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার জন্য প্রার্থনা করা হয়।

  • মেসি ভারত সফরে কত টাকা খরচ করেছেন জানা গেল

    মেসি ভারত সফরে কত টাকা খরচ করেছেন জানা গেল

    ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পেছনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার কারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর জেরায় তিনি জানান, অনুষ্ঠানের সময় অতিরিক্ত ভিড়, অপ্রত্যাশিত স্পর্শ ও বিশৃঙ্খলার কারণে বিশ্ববিখ্যাত এই ফুটবল তারকা নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ত্যাগ করেন।

    সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে দত্ত বলেন, ‘মেসি পিঠে হাত দেওয়া বা জড়িয়ে ধরা একদমই পছন্দ করেন না।’ তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিদেশি নিরাপত্তাকর্মীরা আয়োজকদের সতর্ক করেছিলেন এই বিষয়ে।

    দত্তের ভাষ্য অনুসারে, মাইক দিয়ে বারবার দর্শকদের সংযত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও কেউ ততটা মনোযোগ দেয়নি। ‘যেভাবে মেসিকে ঘিরে ভিড় সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা তাঁর জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ছিল,’ জানান তিনি।

    অতিথি অতিথিদের মধ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে অনুষ্ঠান শেষে মেসির কাছাকাছি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মোবাইল ছবি তোলার সময় মেসির কোমরে হাত রেখেছেন। এই দৃশ্যের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন অরূপ বিশ্বাস। পরে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের পদ থেকে অব্যাহতি নেন।

    তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, কতজন মানুষ মাঠে প্রবেশের অনুমতি পেল এবং কীভাবে এত বিশাল সংখ্যক দর্শক স্টেডিয়ামের ভিতরে ঢুকতে সক্ষম হয়। দত্ত দাবি করেছেন, প্রথমে স্টেডিয়ামে মাত্র ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু এক ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি’ স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর সেই সংখ্যা তিনগুণে বৃদ্ধি পায়। তিনি অভিযোগ করেন, এই ব্যক্তির হস্তক্ষেপের কারণে পুরো অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ভেঙে যায় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের পরিস্থিতি অসুবিধায় পড়ে।

    দত্তের আরও দাবি, ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি মাঠে প্রবেশের পর সকল পরিকল্পনা বদলে যায়, যার ফলে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এ বিষয়ে পুলিশ এখন তদন্ত করছে যে, পাসের সংখ্যা বাড়ানো কি ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণ ছিল।

    অতিরিক্তভাবে, শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, মেসির ভারত সফরের মোট খরচ ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেসির পারিশ্রমিক ৮৯ কোটি টাকা, যা ছিল মূল খরচ। এছাড়া, ভারত সরকারকে কর হিসেবে দেওয়া হয় ১১ কোটি টাকা। এই সব খরচের মধ্যে ৩০ শতাংশ আসে স্পনসরদের কাছ থেকে, অন্য ৩০ শতাংশ আসে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে।

    অর্ধশতকের বেশি টাকা দত্তের কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া গেছে, যেখানে তিনি ডলার ও টাকা পেয়েছেন। শুক্রবার তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ হয়েছে। দত্ত অভিযোগ করেছেন, তার এই অর্থের উৎস হলো কলকাতা ও হায়দরাবাদের মেসি ইভেন্টের টিকিট বিক্রি ও স্পনসরদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ। তবে, তদন্তকারীরা এখনও এই দাবির সত্যতা যাচাই করছে।

    সল্টলেক স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক উচ্চমূল্যের টিকিট কিনেছিলেন, কিন্তু বিনোদনের সময় খারাপ পরিস্থিতির কারণে অনেকের দর্শনীয় স্থান দেখা সম্ভব হয়নি। ভিড়ের বিশৃঙ্খলার কারণে কিছু দর্শক ক্ষুব্ধ হয়ে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালায়।

    এই ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। দলে রয়েছেন পীযূষ পাণ্ডে, জাভেদ শামিম, সুপ্রতিম সরকার এবং মুরলিধর। তারা বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ভাঙচুর, নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অনুমতিপত্র লঙ্ঘন, এবং আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা। এই সব বিষয় এখন এসআইটির তদন্তের আওতায়।

  • ব্যাটিং দেখা যায়নি: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ থেকে হারিয়ে বিদায়

    ব্যাটিং দেখা যায়নি: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ থেকে হারিয়ে বিদায়

    বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে যুব এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে অপরাজিত ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল, যার ফলে তারা ফাইনাল খেলার দৌড়ে ছিল অন্যতম স্পর্ধিত দল। তবে সেমিফাইনালে এসে সবকিছু পালটে গেল। বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া এই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা খুবই দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যর্থতা দেখায়, আর পাকিস্তানের দাপুটে পারফরম্যান্সের কারণে তারা বড় হার মানে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পরে মাঠে নামে দুবাইয়ে, যেখানে ২৭ ওভারের কমব্যাক ম্যাচে বাংলাদেশের আর কিছুই করার ছিল না—মাত্র ১২১ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে পাকিস্তানের সাবেক তারকা সুমি মিনহাসের ফিফটিতে ৬৩ বল বাকি থাকতেই জয়ের দিকে এগিয়ে যায় পাকিস্তান।

    ১২১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ছিল কিছুটা দুর্বিষহ। প্রথম ওভারেই ওপেনার হামজা জোহর ইকবাল হোসেন ইমনের বলে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফিরে যান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সামির মিনহাস ও উসমান খান জুনিয়র ৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশের জন্য বিপদ তৈরি করে। উসমান (২৭) ফিরলেও, সামির মিনহাস দলের জয়সূচক ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তিনি ৫৭ বলে ৬৯ রান করেন।

    প্রথমে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন শুরুতেই ধীরগতি দেখা দেয় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ দ্রুত আউট হয়ে গেলে দল কিছুটা চাপে পড়ে। দলের জন্য এর পর বেশ কিছু বিপদ আসে, বিশেষ করে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিকি বিপর্যয় সামাল দিতে চেষ্টা করেন। তবে ১৩তম ওভারে আব্দুল সুবহান দারুণ ত্রাস ছড়ান, যেখানে আজিজুল ও কালাম দ্রুত ফিরে যান। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক ফিরে যেতে থাকেন, দলের স্কোর ৭৩-এ ৬ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। শেষমেষ দলের লড়াই শেষ হয় ১২১ রানে, যেখানে শেষ উইকেট পতনের সময় ২৬.৩ ওভারে দাঁড়ায়।

    বোলারদের মধ্যে আব্দুল সুবহান চার উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে, হুজাইফা আহসান ২ উইকেট লাভ করেন। এদিকে, দিন শেষে অন্য সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে লড়াই হবে। বাংলাদেশ এখন টানা তৃতীয় শিরোপা স্বপ্ন ভুলে গিয়ে ফিরে যাচ্ছে খালি হাতে, তবে তরুণ এই চিত্রে ভবিষ্যতের জন্য আশার আলোর আভাস রাখছেন তারা।

  • ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে বড় চমক, বাদ শুভমান গিল

    ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে বড় চমক, বাদ শুভমান গিল

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে। এতে সবচেয়ে বড় চমক হলো, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শুভমান গিলের জায়গা হয়নি। এর পরিবর্তে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত সংক্ষিপ্ত ওভারের বিশ্বকাপ খেলবে। তার ডেপুটি হিসেবে থাকবেন অক্ষর প্যাটেল।

    ২০২৩ সালের এশিয়া কাপের আগে গিলকে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যাটিং রান খরার কারণে তিনি এই বিশ্বকাপের দলে টিকতে পারেননি। শেষ ১৮ ইনিংসের কোনো ফিফটি করতে না পারা গিলের পাশাপাশি বাদ পড়েছেন জিতেশ শর্মা। তাদের বদলে দলে নেওয়া হয়েছে সঞ্জু স্যামসনকে, যিনি অভিষেকের সময় ওপেনিং করেছিলেন ব্যাটার হিসেবে।

    এছাড়া প্রয়োজনে ওপেনিং দলে ফিরেছেন ইশান কিশান, যার সাথে আবার খেলবেন স্যামসন। কিশান গত বছরের নভেম্বরে শেষবার ভারতের জার্সিতে খেলেছিলেন, তবে এই ২৫ মাস পরে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে অসাধারণ ব্যাটিং করে আবার দলে ফেরেন তিনি। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ ৫১৭ রান করেন।

    বোলিং বিভাগে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভারতের পেস আক্রমণ সামলাবেন জাসপ্রিত বুমরাহ, হর্ষিত রানা ও আর্শদিপ সিং। স্পিনে থাকছেন কুলদিপ যাদব ও বরুন চক্রবর্তী। অলরাউন্ডার হিসেবে থাকছেন হার্দিক পান্ডিয়া, শিভম দুবে ও ওয়াশিংটন সুন্দর।

    বিরাট সূর্যের ব্যর্থতা সত্ত্বেও, বিসিসিআইয়ের নির্বাচকরা এখনও তাঁকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী মাসে ভারতের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্যও একই দলই থাকছে।

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজন শুরুর দিনে, ৭ ফেব্রুয়ারি, ভারতের প্রথম ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান।

    বিশ্বকাপের জন্য ভারতের স্কোয়াডে উল্লেখ করা হয়েছে: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক ভার্মা, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটরক্ষক), ইশান কিশান (উইকেটরক্ষক), বরুণ চক্রবর্তী, শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিং, অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), ওয়াশিংটন সুন্দর, কুলদীপ যাদব, হর্ষিত রানা, আর্শদীপ সিং, যশপ্রিত বুমরাহ।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন অধিনায়ক দাসুন শানাকা

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কা দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন, নতুন অধিনায়ক দাসুন শানাকা

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসাবে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) নতুন পতাকা হাতে নিয়েছে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা এবার শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, এই দায়িত্ব তিনি নিজেকে উপযুক্ত প্রমাণের জন্য নিয়েছেন। এর আগে, চারিথ আসালঙ্কার জায়গায় তাকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। শানাকা চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে মাঠে নামেন এবং বেশ ভালো পারফরম্যান্স করেন। তার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশ কিছু বড় সাফল্য পেয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ এশিয়া কাপ জয় ও বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অন্যতম। অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী বিবেচনা করেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। এই বছর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তিনি পাকিস্তানের বিরোধী সিরিজ দিয়ে নেতৃত্ব শুরু করবেন। প্রধান কোচ সনাথ জয়াসুরিয়াও তার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। তাদের সিদ্ধান্তে সহায়ক হিসেবে নতুন প্রধান নির্বাচক প্রমোদ্য উইকরামাসিংহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বলছেন, কোচ জয়াসুরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেই শানাকাকে অধিনায়ক করা হয়েছে। এছাড়াও, তারা নির্বাচকের ২৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে এই শ্রীলঙ্কার দলকে চূড়ান্ত করেছেন। এবারের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ‘বি’ গ্রুপে খেলবে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান ও জিম্বাবুয়ে। শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক দলে রয়েছেন: দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস, কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, নিরোশান ডিকওয়েলা, জানিথ লিয়ানাগে, চারিথ আসালাঙ্কা, কামিন্দু মেন্ডিস, পবন রতœায়েকে, সোহান আরাচ্চিগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ভেল্লালাগে, মিলান রতœায়েকে, নুয়ান তুষারা, ঈশান মালিঙ্গা, দুশমন্থ চামিরা, প্রমোদ মাদুশান, মাথিশা পাথিরানা, দিলশান মাদুশঙ্কা, মাহিশ থিকশানা, দুশান হেমন্ত, বিজয়কান্ত বিশ্বকান্ত ও ত্রাভিন ম্যাথু।

  • খুলনায় তৈরি হচ্ছে নতুন ক্রিকেট বোর্ড অফিস

    খুলনায় তৈরি হচ্ছে নতুন ক্রিকেট বোর্ড অফিস

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, খুলনায় নতুন একটি ক্রিকেট অফিসের নির্মাণ কাজ চলছে। এই নতুন অফিসের মাধ্যমে বিভাগীয় পর্যায় থেকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কোচিং ব্যবস্থা, সুবিধা-সুবিধা এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের আয়োজন করে আমরা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে চাই।

    শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) যশোরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রোটারি ক্লাব অব যশোর ইস্টের ৩৯তম অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গুণীজনের সংবর্ধনা, হুইল চেয়ারে বিতরণ, এবং অন্যান্য নানা আয়োজন ছিল।

    তিনি আরও বলেন, ক্রিকেট মানুষের ভালোবাসার খেলা। আমরা এই মাধ্যমের মাধ্যমে কিভাবে দেশের ভালো নাগরিক গড়ে তোলা যায়, সেই বিষয়েও কাজ করছি। এই ভালোবাসা দ্বারা বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

    বিসিবির সভাপতির মতে, বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার এখনও অনেক স্বপ্ন ও লক্ষ্য রয়েছে। তিনি রোটারি ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠানে অনেক কিছু শিখেছেন, যেগুলো পরবর্তীতে ক্রিকেটের জন্য কাজে লাগাবেন। তিনি রোটারির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চান।

    অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারি অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোপাশা। নতুন কমিটির সভাপতি ছিলেন রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে, সেখানে বক্তব্য দেন কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম সেনু ও সাবেক জয়েন্ট সেক্রেটারি সেলিম মোর্শেদ। এর আগে, বিদায়ী সভাপতি আবু সাঈদ দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

    অনুষ্ঠানে দুইজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার প্রদান করা হয়। এছাড়া চারজন চাটার্ড সদস্য এবং পাঁচজন গুণী শিক্ষককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • ইংল্যান্ডের জন্য দুঃসংবাদ, অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য চলমান

    ইংল্যান্ডের জন্য দুঃসংবাদ, অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য চলমান

    অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলমান অ্যাশেজ সিরিজে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের আশা শেষ হয়ে গেছে। ২ ম্যাচ এখনও বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ জিতে নিয়েছে, যা তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অপরাজিত থাকলেও ব্রাইডন কার্স কোনো বিশেষ মাইলফলক করেননি, তবে তার দৃঢ়চেতা ব্যাটিং ইংলিশ সমর্থকদের মন আরও উজ্জীবিত করেছে। জেমি স্মিথ ও উইল জ্যাকসের বিদায়ের পরই ইংল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনা কমে যায়। অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডের বিপক্ষে তাদের ভরাডুবি হয়নি, বরং অস্ট্রেলিয়া ৮২ রানে জয় লাভ করে এবং দুই ম্যাচ হাতে রেখেই অ্যাশেজের ট্রফি নিজেদের দলে নিয়ে যায়।

    অ্যাডিলেডে ১২৩ বছর আগে প্রথমবারের মতো, কোনো টেস্টে একটি দল ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয় অর্জন করে। তবে এবার ইংল্যান্ডের জন্য এই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল, কারণ তাদের কাছে লক্ষ্য ছিল ৪৩৬ রানের, যা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়েছিল। চতুর্থ দিন শেষের সময় ইংল্যান্ডের রান ছিল ৬ উইকেটে ২০৭, অর্থাৎ তাদের স্বপ্নটা আরও ক্ষীণ হয়ে উঠেছে। তবুও, স্মিথ, জ্যাকস ও কার্স আশা জাগিয়েছিলেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ডীঘবিরতিতে ব্যাটিং গুটিয়ে যায় ৩৫২ রানে।

    অস্ট্রেলিয়া প্রথম দুটো টেস্টে যথাক্রমে পারদর্শীভাবে জয়লাভ করেছিল পার্থ ও ব্রিসবেনে, প্রথমটি দু’দিনের মধ্যে এবং অন্যটি চার দিনে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ ম্যাচটি অবশ্য পাঁচ দিন অতিক্রম করেছে, যা এই সিরিজে প্রথম। ইংল্যান্ড তার বাজবল মনোভাব থেকে বের হয়ে আরও সাবধানে ব্যাট করে, তবে একটি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের এই কৌশল সুফল দেয়নি। পুরো সিরিজে ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা ১৯০.১ ওভারে বেশি সময় ব্যাট করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় বেশি। এই সময়ে তারা একটি ম্যাচে ৩০–এর বেশি ওভার মেডেনও দিয়েছে, যা খেলাধুলার ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড। তবুও, তারা হারের আশংকা থেকে মুক্তি পায়নি।

    ঘরের মাঠে হওয়া শেষ তিনটি অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে, যা তাদের দাপুটে শক্তির প্রমাণ। ২০২৫-২৬ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া যদি ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে যায়, তবে সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এরআগে ২০১৩-১৪, ২০১৭-১৮ ও ২০২১-২২ সালে অস্ট্রেলিয়া ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল।

    অ্যাডিলেডে টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৩৭১ রান করে, যেখানে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৮৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা আরও ৩৪৯ রান যোগ করে এবং মোট ৪৩৫ রানের লিড নিয়ে জয়ের পথে এগিয়ে যায়। ট্রাভিস হেড সর্বোচ্চ ১৭০, অ্যালেক্স ক্যারি ৭২ এবং উসমান খাজা ৪০ রান করেন। ইংলিশ পেসার জশ টাং চার উইকেট নেন, ব্রাইডন কার্স তিনটি। তবে শুরুটা তারা প্রত্যাশা মতো করতে পারেনি; ওপেনার বেন ডাকেট মাত্র ৪ রান করে আউট হন।

    জ্যাক ক্রাউলি, জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের জুটিতে আশা জাগিয়েও পরিস্থিতি তা বদলাতে পারেনি। রুট ৩৯ এবং ব্রুক ৩০ রানে আউট হন; অন্যদিকে, ওলি পোপ এবং স্টোকসের ইনিংস ছিল খুবই স্বল্প। ক্রাউলি ১৫১ বলে ৮৫ রানে ফিরলে ইংল্যান্ডের জয়ের আশা আরও ঝুপড়ে পড়ে। পঞ্চম দিনে, জেমি স্মিথ ও জ্যাকসের ৯১ রানের জুটির মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রতিপক্ষকে বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়। স্মিথ ৬০ করে ফিরলেও, জ্যাকস ১৩৭ বলে ৪৭ রান করে থাকেন। সঙ্গে গড়ে ওঠে ব্রাইডন কার্সের ৫৩ রানের জুটি, তবে তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৩৯ রানে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনজন পেসার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন, তিনটি করে উইকেট শিকার করেন।