Category: খেলাধুলা

  • ঢাকার জয়ে রাজশাহীর বিপিএল শুরু বাজেভাবে

    ঢাকার জয়ে রাজশাহীর বিপিএল শুরু বাজেভাবে

    ইমাদ ওয়াসিমের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পাশাপাশি ঢাকা ক্যাপিটালসের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিতে থাকেন। একই সঙ্গে, নাসির হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও সালমান মির্জারা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পেল দেন। previous ম্যাচের নায়কদের—নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম—শুরুর দিকে ভালো খেললেও তারা বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। শেষের দিকের বিধ্বংসী ব্যাটে রাজশাহী ১৩২ রানের মোট পুঁজি সংগ্রহ করে। তবে এই লক্ষ্য তাড়ার জন্য ঢাকার জন্য সহজ ছিল না, কারণ রাজশাহীর বোলাররা তাই সহজে জেতার সুযোগ দেয়নি। আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাসির হোসেন, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কল্যাণে জয় নিশ্চিত করে ঢাকা। রাজশাহিকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ঢাকা বিপিএলের এই আসরটি নিজেদের নামে করেন।

    খেলাটি শুরুতেই দুঃসংবাদ নিয়ে আসে ঢাকার জন্য, কারণ ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম তে সাইফ হাসানকে হারায় দলটি। এরপর উসমান খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের দলের জন্য দুর্দান্ত জুটিতে ঝোঁকান পরিস্থিতি। উসমান ১৫ বলে ১৮ রান করে ফিরে যান, আর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ১২ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মামুনের হাফ সেঞ্চুরি করার সম্ভাবনা উড়িয়ে যায়, তিনি ৪৫ রান করে আউট হন।

    অভিজ্ঞ নাসির হোসেন ধীর গতির হলেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যান, ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। শেষদিকে, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির রহমান অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সাব্বির ২ ছক্কায় ১০ বলের মধ্যে ২১ রান করেন, অপর দিকে, শামীমের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। তাদের জুটির মাধ্যমে ১৮ বলে ৩৬ রান যোগ হয়। রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন পাকিস্তানি স্পিনার মোহাম্মদ নাওয়াজ, যিনি ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া তানজিম সাকিব ও সন্দীপ লামিচানে একে একে উইকেট নেয়।

    এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী শুরুতেই ধাক্কা খায়, কারণ প্রথম বলেই সাহিবজাদা ফারহানকে হারায়। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। অফ স্পিনার নাসিরের ব্রেকথ্রু পাওয়ার পর তানজিদ আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন, তবে ১৫ বলে ২০ রান করে বাঁহাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। ইয়াসির আলী রাব্বী ভালো শুরু করলেও, প্রয়োজনের সময় ১৫ বলে ১৩ রান করে শামীমের হাতে ক্যাচ দেন।

    রাজশাহীর অধিনায়ক তামিম প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৩৭ রান করেন। মেহেরবের ব্যাটিংও ভালো থাকেনি, ২৩ বলে ২৪ রান করে জিয়াউর রহমানের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ তুলে দেন। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মুশফিকুর রহিম শেষ পর্যন্ত ২৩ বলের মধ্যে ২৪ রান করতে পারেননি। শেষদিকে, নাওয়াজের ২৬ বলে ২৬ রানের ইনিংসেও রাজশাহী ১৩২ রান সংগ্রহ করে। ঢাকার জন্য তিনটি উইকেট নিয়েছেন স্পিনার ইমাদ, আর নাসির পেয়েছেন দুইটি উইকেট।

  • অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪৬৮ দিন পর ইংল্যান্ডের জয়ের স্বাদ

    অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪৬৮ দিন পর ইংল্যান্ডের জয়ের স্বাদ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শেষবার টেস্ট জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর তারা টানা ১৮টি ম্যাচে কোনো জয় পায়নি। তবে অবশেষে সেই দুঃখজনক জয়হীনতা শেষ হয়েছে। মেলবোর্নে চলমান অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে বেন স্টোকসের দল হার মানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। যদিও এই ম্যাচের বেশিরভাগ খেলাই হয়নি, দিনশেষে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে নির্ধারিত ফল এসেছে। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জিতেছে।

    মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দলের মধ্যে এই টেস্টের চার ইনিংস মোট ৮৫২ বল খেলা হয়েছে। এর আগে পার্থে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট দুই দিনে শেষ হয়েছিল। সেখানে দুই দল মিলিয়ে খেলেছিল ৮৪৭ বল, অর্থাৎ চতুর্থ টেস্টের চেয়ে ৫ বল বেশি। এই জয় দিয়ে টানা ম্যাচ হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ইংল্যান্ড, পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হোয়াইটওয়াশের অপপ্রকাশ থেকে রেহাই পেয়েছে। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে ৫-০, ২০১৭-১৮ সালে ৪-০ এবং ২০২১-২২ সালে ৪-০ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল।

    প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড দুই দলেরই প্রথম ইনিংস শেষ হয়। প্রথমে অস্ট্রেলিয়া ৪৫.২ ওভার ব্যাট করে ১৫২ রান সংগ্রহ করে। এরপর ইংল্যান্ড ১১০ রানে অলআউট হয়, ঠিক ২৯.৫ ওভার খেলেই প্রথম ইনিংস শেষ হয়। ফলে সে দিন শেষ বিকালে আহত দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে স্বাগতিকরা। দিনশেষে তাদের লিড ছিল ৪৬। আজ তারা ৮৬ রান করতে গিয়ে ১০ উইকেট হারায়। স্বাগতিক দলের সর্বোচ্চ রান করেন ট্রাভিস হেড, তাঁর ৪৬ রান, যা তিনি ৬৭ বলের ইনিংসে ৪টি চারে সাজিয়েছেন।

    অস্ট্রেলিয়ার এ জয়ে স্বদেশি কিংবদন্তি গ্যারি সোবারের রেকর্ড অ্যালান বোর্ডারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে স্টিভ স্মিথ শেষ পর্যন্ত ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর বর্তমান রান ৩৫৫৩, যা বোর্ডারকে ৫ রান পিছিয়ে। ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটে দেখা যায় ১৯ রান। মোটে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন। ১৩২ রানে আলোর মূল অজির ইনিংস শেষ হয়, ৩৪.৩ ওভারে।

    বাংলাদেশের পেসার গাস অ্যাটকিনসন চোটের কারণে দুঃখজনকভাবে ৫ ওভারের বেশির ভাগ কাজ করতে পারেননি, তবে তিনি ১ উইকেট নিয়েছেন। অন্য পেসাররা কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হলেও সফল হন। ব্রাইডন কার্স চার উইকেট শিকার করেন, স্টোকস ৩, আর জশ টাং ২ উইকেট নেন।

    ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ইংলিশরা শুরু করে বেশ আগ্রাসীভাবে। প্রথমে জ্যাক ক্রাউলি (২৬ বলে ৩৪) ও বেন ডাকেটের (২৬ বলে ৩৪) উদ্বোধনী জুটি গড়ে ৫১ রান। এরপর ওয়ানডাউনে টেলএন্ডার ব্রাইডন কার্সকে খেলতে দেখা যায়। তিনি ৬ রান করে আউট হলে, জুটি ভেঙে যায়। পরে জ্যাকব বেথেল আর হ্যারি ব্রুকের ছোট but গুরুত্বপূর্ণ জুটি ইংল্যান্ডকে গন্তব্যের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

    অবশেষে, লক্ষ্য অনেক দূরে মনে হলেও রুট, বেথেল ও স্টোকস দ্রুত অতিবেগে আউট হয়ে কাঁটা বাড়িয়ে দেয়। ব্রুক অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে। ব্রুক টেস্টে দ্রুততম ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন, তার জন্য তিনি ৩৪৬৮ বল খেয়েছেন। এর আগে, বেন ডাকেট ৩৪৭৪ বলের মাধ্যমে এই রেকর্ড করেন।

    মেলবোর্ন টেস্টের মাধ্যমে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হারের ধস শেষ হয়। এই পরিস্থিতিতে, এই টেস্টে ইংল্যান্ডের পক্ষে ম্যাচের সেরা পারফরম্যান্স করেন মিচেল স্টার্ক, জাই রিচার্ডসন এবং স্কট বোল্যান্ড, দু’জন করে উইকেট সংগ্রহ করে।

    এുവരെ বক্সিং ডে টেস্টে ভারতের পর ২০১৮ ও ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়া মাত্র তিনবার হেরেছে। এই সিরিজে, ইংল্যান্ডের রান তুলনা ৫.৫ গড়ে হয়েছে, যা অ্যাশেজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পার্থে, ইংলিশরা লক্ষ্য তাড়া করে ৭.২৩ রানের গড়ে ব্যাট করে জিতেছিল। এই টেস্টে দুই দল মোটই ৫৭২ রান করেছে, যা কোনো ব্যাটারের হাফসেঞ্চুরি ছাড়াই টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ মোট স্কোর। এর আগে, ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ৭৮৭ রান এবং ২০১৫ সালে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৫২ রান করেছে, যেখানে কেউ হাফসেঞ্চুরি করেননি।

  • ২১ শতকের সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, শীর্ষে আছেন যারা

    ২১ শতকের সেরা ক্রীড়াবিদ মেসি, শীর্ষে আছেন যারা

    নিজের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে লিওনেল মেসি জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা ও পুরস্কার। ২০২৫ সালের কাছাকাছি এসে তার মুকুটে যোগ হলো আরও এক গৌরবময় অর্জন। ফরাসি ভাষার কানাডীয় সংবাদমাধ্যম লে জার্নাল কুইবেক ঘোষণা করেছে, ২১ শতকের প্রথম ২৫ বছর মধ্যে সবচেয়ে সফল ক্রীড়াবিদ তিনি।মেসির এই স্থান অধিকারটি শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিনি বিভিন্ন ধরনের খেলার সাথে যুক্ত কিংবদন্তিদের মধ্যেও শীর্ষে উঠেছেন। ফুটবল থেকে শুরু করে অলিম্পিক, টেনিস, বাস্কেটবল ও অ্যাথলেটিক্স—সব ক্ষেত্রেই বিশ্বের প্রভাবশালী তারকারা এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আর শীর্ষে রয়েছেন অস্কারে অপেক্ষাকৃত স্তম্ভিত অর্জেন্টাইন মহাতারা মেসি।কলাবৃদ্ধির ফুটবল থেকে শুরু করে জাতীয় দলের জয়-জয়কার, সব ক্ষেত্রে তার সফলতা চোখে পড়ে। বার্সেলোনা দিয়ে শুরু করে পিএসজি, ইন্টার মিয়ামি ও আর্জেন্টিনা দলের হয়ে তিনি জিতেছেন অসংখ্য ট্রফি। দীর্ঘ অর্ধেকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি জিতেছেন তার কাক্সিক্ষত বিশ্বকাপ।ব্যক্তিগত অর্জনের ক্ষেত্রেও তার তুলনা মেলা ভার। তিনি ৮ বার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনন্য স্থান লাভ করেছেন। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড রাখেন। বিভিন্ন লিগ, কাপ ও আন্তর্জাতিক শিরোপার সংকলন তার ঝুলিতে।এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছেন আমেরিকার ফুটবল মহাতারা টম ব্র্যাডি। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস ও ট্যাম্পা বে বুকানিয়ার্সের হয়ে তিনি জিতেছেন রেকর্ড ৭টি সুপার বোল ট্রফি, যা আগে কোনো ফুটবলার বা কোয়ার্টারব্যাক করতে পারেননি।তৃতীয় পজিশনে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি সাঁতারু মাইকেল ফেলপস। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অলিম্পিকে তিনি জয় করেছেন ২৮টি পদক, যার মধ্যে ২৩টি সোনা। ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকে তিনি এক আসরে ৮টি স্বর্ণপদক জিতে রেকর্ড সৃষ্টি করেন।চতুর্থ স্থানে স্থান পেয়েছেন টেনিসের রাণী সেরেনা উইলিয়ামস। এরপর রয়েছেন সংগীতের কিংবদন্তি উসাইন বোল্ট, বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস, টেনিসের নোভাক জোকোভিচ, জিমন্যাস্টিকসের সিমোন বাইলস, বাস্কেটবল কিংবদন্তি কোবি ব্রায়ান্ট এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।পৃথিবীর বিভিন্ন ক্রীড়াঙ্গনের এই তালিকাটি শুধুমাত্র ট্রফি বা পরিসংখ্যানের গল্প নয়, বরং এটি এক শতাব্দীতে কে নিজ খেলার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন তার স্বীকৃতি। এই দিক থেকে দেখা গেলে, লিওনেল মেসি শুধু ফুটবলেরই নয়, পুরো ক্রীড়াজগতের এক অনন্য প্রতিকৃতি ও আইকন।

  • নৌ-দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্প্যানিশ কোচের মৃত্যু

    নৌ-দুর্ঘটনায় তিন সন্তানসহ স্প্যানিশ কোচের মৃত্যু

    স্পেনে ফুটবল জগতের জন্য শোকের এক অন্ধকার পর্ব শুরু হয়েছে। এক হৃদয়বিদারক ঘটনায়, ইন্দোনেশিয়ায় অবকাশযাত্রার সময় একটি নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন স্প্যানিশ ফুটবল কোচ ফার্নান্দো মার্তিন ও তার তিন সন্তান।

    ফার্নান্দো মার্তিন ভ্যালেন্সিয়া সিএফ তরুণ দলের কোচ ছিলেন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন জায়গা লাবুয়ান বাজো দ্বীপের আশেপাশে। একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভ্যালেন্সিয়া ক্লাব নিশ্চিত করেছে, এই মর্মান্তিক নৌ-দুর্ঘটনায় কোচ ও তার তিন সন্তান দুর্ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ইন্দোনেশিয়ার জেলায় ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডিতে মরতে হয়েছে আমাদের কোচ ফার্নান্দো মার্তিন এবং তার তিন সন্তানের। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।”

    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুক্রবার একটি নৌকা প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝে দ্বীপের পাদার আইসল্যান্ড প্রণালীতে ১১ জন আরোহীসহ ডুবে যায়। শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধারকাজ চালানো হলেও, মার্তিন ও তার তিন সন্তান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    চলতি বছরই ভ্যালেন্সিয়ার নারী দলের সাবেক কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মার্তিন। তার মৃত্যুতে ফুটবল প্রেমীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এই দুর্ঘটনার ফলে, মার্তিনের স্ত্রী ও তাদের এক কন্যা নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, চারজন ক্রু সদস্য এবং একজন ট্যুর গাইড প্রাণে বেঁচে গেছেন।

    রিয়াল মাদ্রিদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, এই দু:জন ঘটনায় পুরো ফুটবল জগৎ গভীর শোকাহত।

  • উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতাদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    আইপিএলের ২০২৬ আসর শুরু হতে এখনও প্রায় তিন মাস বাকি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরে ধর্মীয় নেতাদের একাংশ মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে খেলার বিরোধিতা করে হুমকি দিয়েছেন। বাংলাদেশি তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়ার পর, উজ্জয়িনীর কিছু ধর্মীয় নেতা এ বিরোধিতা শুরু করেন। মুখ্য পুরোহিত মহাবীর নাথ প্রকাশ্যে বলেছেন, হিন্দুদের ওপর বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হওয়া নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নীরব থাকায় তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন। তিনি আরো বলেন, এই বিষয়ে একাধিক ধর্মীয় সংগঠন তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বয়কটের আহ্বানও জানানো হয়েছে। এছাড়া, এই পরিস্থিতিতে মোস্তাফিজের আইপিএলে খেলা কতদিন চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, বিষয়টি ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ দেখবে, এবং আইপিএলের সূচি ও দেশের ব্যস্ততা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মার্চ ও এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক সিরিজ রয়েছে, যেখানে মোস্তাফিজকে কয়েকদিনের জন্য দেশে ফিরতে হবে। সম্প্রতি তিনি দুবাইয়ে আইএলটি-টোয়েন্টি খেলে ফিরে এসেছেন, আর কাল তিনি রংপুর রাইডার্সের হয়ে বিপিএল ম্যাচে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে, মোস্তাফিজের জন্য আইপিএলে খেলার ভবিষ্যত অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

  • ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করলেন ভুটানের স্পিনার সোনাম ইয়েশে

    ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড করলেন ভুটানের স্পিনার সোনাম ইয়েশে

    আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একজন ক্রিকেটার দ্বিবারের জন্য সাত উইকেট নেওয়ার দুঃসাহসিক কীর্তি রেখেছেন। ২০২৩ সালে চীনের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার সিয়াজরুল ইদ্রুস এবং এই বছর ভুটানের বিপক্ষে বাহরাইনের আলী দাউদ একই রকম অবিশ্বাস্য পারফরমেন্স দেখিয়েছিলেন, যেখানে তারা যথাক্রমে ৮ ও ১৯ রান দিয়ে সাত ব্যাটারকে আউট করেন। কিন্তু এবার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে ভুটানের তরুণ বাঁহাতি স্পিনার সোনাম ইয়েশে। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ৮ উইকেট নেন, আর তার সঙ্গে দেন কেবল ৭ রান।

    আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর), গেলেফু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভুটান এবং মায়ানমারের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রথম প্রস্তুতি শেষ হয় ভুটানের জয় দিয়ে। টস জিতে ভুটান ফিল্ডিং নেয়। শুরুতেই ভুটানের নারমান গচায়া ৫০ রানে ৯ উইকেট সহ ১২৭ রান সংগ্রহ করেন।

    মায়ানমারকে জেতার জন্য ১২৮ রানের লক্ষ্য দেয় ভুটান। বল হাতে জাদু দেখাতে শুরু করে ভুটানের বাঁহাতি স্পিনার সোনাম। প্রথম ওভারে তার চার বলে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পরবর্তী ওভারে তারা আরও একটি উইকেট নেন। শেষ দুই ওভারে তার জোড়া আঘাতে ভুটান জয় নিশ্চিত করে। ওভারপ্রতি মাত্র ১.৭৫ রান করে তিনি ৪ ওভারে মোট ৭ রান দেন, তার সঙ্গে একটি মেডেনও রয়েছে।

    মায়ানমারের পক্ষে হয় ওপেনাররা, কিন্তু তারা খুব বেশি রান করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ভুটান ৮২ রানে জয়লাভ করে এই সিরিজে ৩-০ ব্যবধান চালিয়ে যায়। এই বিশাল ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গেছে।

  • শান্তর সেঞ্চুরি ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর ৮ উইকেটে জয়

    শান্তর সেঞ্চুরি ও মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর ৮ উইকেটে জয়

    প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেট টাইটান্সের শুরুটা ভালো হলেও দ্রুত রান তুলতে সমস্যায় পড়েন রনি তালুকদার ও সাইম আইয়ুব। রনি ৩৬ রান করে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন সন্দীপ লামিচানে। পরে, ১৫ বলেই ২৮ রান করে তিনি ফিরে যান। এরপর, বাবার হোয়াইট বল বা পেসার বিনুরা ফার্নান্দোর বলের মোকাবেলায় ব্যর্থ হন, স্টাম্পিং হন ২০ রানে। প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে, জাজাইকে ফিরিয়ে আনা হয়, লামিচানে তাকে আউট করেন। এরপর, রনি দুর্দান্ত শুরু করলেও দ্রুত রান তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। রনি ৩৪ বলে ৪১ রান করে বোল্ড হন। ব্যাটিংয়ের বাকিটা সময় ইমন ও আফিফ হোসেন ধীরেসুদৃঢ় কায়দায় খেলে দলের জন্য ১৯০ রান সংগ্রহ করেন। আফিফ ১৯ বলে ৩৩ রান করেন, এবং ইমন অপরাজিত থাকেন ৬৫ রানে। রাজশাহী দলের হয়ে লামিচানে দুটি উইকেট নিয়েছেন। শেষমেশ, রাজশাহীর জয় নিশ্চিত হয় ৮ উইকেটে।

  • মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ

    মাঠেই হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ

    বিপিএল ক্রিকেটের উৎসবের মাঝেই শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে। মাঠে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হলো ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি। তিনি ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

    আজ ঢাকাসহ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুঃখের দিন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এই আসর শুরু করেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। ম্যাচ শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে গা গরম করছিলেন মাহবুব আলী জাকি। হঠাৎ করে অস্বস্তি অনুভব করে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নিশ্চিত করে জানা গেছে, এই সময় তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়।

    তাৎক্ষণিকভাবে তার জন্য সিপিআর দেওয়া হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে দুর্ভাগ্যবশত চিকিত্সকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে।

    একদিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনের জন্যে এটা বড় আর্তনাদ, অন্যদিকে দেশপ্রেমিক এই কোচের জন্য শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাহবুব আলী জাকি ক্রিকেটে তার নানা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশ দলের সাবেক পেসার হিসেবে পরিচিত। ক্যারিয়ার শেষ করে কোচিংয়ে মনোযোগী হন। তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি মাশরাফি, তাসকিন আহমেদের মতো তারকাদের নিয়ে কাজ করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বজয়ী দলের কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন তিনি।

    আজ ঢাকায় ম্যাচের আগে একদম শেষ মুহূর্তে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যা সব ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়কে ছুঁয়ে গেছে। মাহবুব আলী জাকির মতো গুণী এই কোচের জীবনের অপ্রত্যাশিত এই ক্ষতি গভীর শোকের বিষয়।

  • মাঠে হার্ট অ্যাটাক করেছেন কোচ মাহবুব আলী জাকি, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

    মাঠে হার্ট অ্যাটাক করেছেন কোচ মাহবুব আলী জাকি, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

    রাজশাহী ওয়্যারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ঢাকা ক্যাপিটালসের অনুশীলনের সময় ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। দলের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি খেলোয়াড়দের অনুশীলন করাচ্ছিলেন যখন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মাঠের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। তার শরীরে প্রথমে সিপিআর প্রদান করা হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কোথায় পৌঁছেছে বা চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণে আছেন। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ, যার জন্য দুপুর ১টায় সূচি ঠিক ছিল। ম্যাচের ঠিক আগে টস করেন ঢাকা অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মিঠুন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। টসের কিছু সময়ের মধ্যেই জানা যায় যে জাকির অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনুশীলনের সময় তিনি হঠাৎ জ্ঞান হারান এবং মাঠেই তার জন্য প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েক দফা সিপিআর দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের থেকে তাঁর অবস্থা নিয়ে পরবর্তী আপডেট আসলে জানান দেওয়া হবে।

  • অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫৪৬৮ দিন পর জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫৪৬৮ দিন পর জয়ের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে শেষবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর তারা হেরেনি টেস্টে। তবে অবশেষে সেই দুঃখজনক পরাজয়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। মেলবোর্নে চলমান অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টে ইংল্যান্ড শক্তি দেখিয়েছে এবং ৫৪৬৮ দিন পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে তাদের প্রথম জয় অর্জন করেছে। এই ম্যাচের ফল পুরোপুরি দুইদিনের ভিতরে নির্ধারিত হয়নি, তবে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া তাদের ১৭৫ রানের লক্ষ্য কঠোর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছে।

    মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দল মোট ৮৫২ বল খেলেছে চার ইনিংস মিলিয়ে। এর আগে পার্থে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট দুই দিনেই শেষ হয়ে যায়, যেখানে দুই দল মোট ৮৪৭ বল খেলে। ফলে, এই চতুর্থ টেস্টের চেয়ে কিছুটা বেশি বল খেলেছে। দীর্ঘদিনের হারের চক্র থেকে মুক্তি পেয়ে এবং অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে হোয়াইটওয়াশের ধাক্কা সামলে, ইংল্যান্ড এই সিরিজে প্রথমবারের মতো জয় পেল। ২০১৩-১৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ৫-০ ম্যাস, ২০১৭-১৮ সালে ৪-০ এবং ২০২১-২২ সালে আবার ৪-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করেছিল।

    প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের দুই দলেরই প্রথম ইনিংস শেষ হয়, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ১৫২ রান করে ৪৫.২ ওভারে। ইংল্যান্ড ব্যাট করে ১১০ রান, এবং প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৯.৫ ওভারে। এর ফলে, দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার লিড হয় ৪৬ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয়, যেখানে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৮৬ রান করতেই ১০ উইকেট হারায়, যার মধ্যে সর্বোচ্চ অর্ধশতকের দেখা মেলে ট্রাভিস হেডের ৪৬ রানে, তিনি ৬৭ বলের ইনিংসে ৪টি চার হাঁকিয়েছেন।

    অ্যালান বোর্ডারের ৩৫৫৩ রান ছাড়িয়ে যেতে চলা স্টিভ স্মিথ অবিচ্ছেদ্যভাবে অবদান রাখতে থাকেন। তিনি অবশেষে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তার রান ৩৫৫৩ এ পৌঁছে দেয়। অন্যদিকে, ক্যামন গ্রিনের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। অস্ট্রেলিয়ার এই ইনিংস শেষ হয় ১৩২ রানে, ৩৪.৩ ওভারে। ইংল্যান্ডের পেসার গ্যাস অ্যাটকিনসন চোটের কারণে পাঁচ ওভারের বেশি বল করতে না পারলেও, তিনি একটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি চাপ সৃষ্টি করেন। অন্য প্রত্যেক পেসার কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন, ব্রাইডন কার্স ৪ উইকেট, বেন স্টোকস ৩ এবং জশ টাং ২ উইকেট শিকার করেন।

    ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড শুরু করে খুবই আক্রমণপরভাবে। উদ্বোধনী জুটি জ্যাক ক্রাউলি (২৬ বলে ৩৪) এবং জ্যাক ডেকেট (২৬ বলে ৪০) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডেকেটের বিদায়ের পর, জো রুট ও অন্য ব্যাটসম্যানরা দ্রুততম সময়ে আউট হন, যা চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে ব্রুক অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে, এবং এই ম্যাচে দ্রুততম সময়ে ৩০০০ রান সম্পন্ন করেন। ব্রুকের খেলা চলাকালে সে ৩৪৬৮ বল খেলেছেন।

    মেলবোর্ন টেস্টের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে প্রথমবার হার মানে, যা তাদের জন্য ছিল এক বড় আশ্চর্য। অজিদের জন্য এই ম্যাচে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক, জাই রিচার্ডসন ও স্কট বোল্যান্ড। তবে, এই মেলবোর্ন টেস্ট ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ছিল ২০১৮ ও ২০২০ সালের পর তৃতীয়বার যেখানে অস্ট্রেলিয়া বিফলে পড়ল। এই সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য অর্জনে ইংল্যান্ডের গড় রান ছিল ৫.৫, যা অ্যাশেজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পার্থে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৭.২৩ গড়ে রান তুলেছিল। মোট মিলিয়ে এই টেস্টে দুই দল ৫৭২ রান করেছে, যেখানে কোন ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি করেনি, যা আধুনিক ক্রিকেটের ইতিহাসে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এর আগে ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড সিরিজে মোট ৭৮৭ এবং ২০১৫ সালে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ৬৫২ রান হয়েছিল, যেখানে কেউ হাফসেঞ্চুরি করেননি।