Category: খেলাধুলা

  • বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে চলছে তুমুল বিতর্ক। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, দল ভারতে গিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলবে না। তবে আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ক্রিকেটাররা অবশ্যই ভারতে উপস্থিত হতে হবে, এবং সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এমনকি বাংলাদেশের জন্য এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে, নইলে অন্য কোনো দল—যেমন স্কটল্যান্ড—কেঁদে উঠতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার একটি টেলিভিশন আলোচনায় বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে গিয়েছিল না, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে গিয়েছিল না, নিউজিল্যান্ড কানাডায় গিয়েছিল না—এগুলো কি তাদের ক্রিকেট বন্ধ করে দিয়েছে? ঠিক একইভাবে, যদি বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে না খেলে, তার মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।’

    অন্যদিকে, সরকার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছে। আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অতীতে, বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তারা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে—যেমন শ্রীলঙ্কা বা অন্য স্থান—আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করেছে, বলেছে, নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা যায়নি। এ কারণে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এতে বিশ্বকাপের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

    বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড এখনো ভারতের নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনড় অবস্থান পালন করছে। আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ার পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সিদ্ধান্তে অটল। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ক্রীড়া উপদেস্টা ও কিছু ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠকের পর জোর গলায় বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, কিন্তু সেটা ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন এবং শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

    গত বৃহস্পতিবার আইসিসি সভার পরিপ্রেক্ষিতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও চেষ্টা করবো কি কি পথ রয়েছে তা আইসিসিকে জানাতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে আমরা খুব গর্ববোধ করি, কিন্তু বিশ্বক্রিকেটের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দ্বিধায় আছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল আইসিসি আমাদের আবেদন মেনে নিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে যখন আল্টিমেটাম দেয় হয়েছে, তখনও আমরা আমাদের সব চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

    বুলবুল আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ যদি এই বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে আইসিসির জন্য বড় একটা ক্ষতি হবে। যেখানে ভারত কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটপ্রিয় দেশের না খেলা জনসমর্থকদের জন্য মনঃক্ষুণ্ণকর আর বড় ব্যর্থতা হবে।’

    আইসিসি আলটিমেটাম দেয়ার পরও বুলবুল নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো, হাল ছাড়ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো আরও কিছু বিষয় নিয়ে যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে।’

    অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে ভারতে যেতে চাই না। আমাদের দল প্রস্তুত। খেলার জন্য শ্রীলঙ্কায় যেতে হবে, সেখানে আমরা খেলতে আগ্রহী।’

  • ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

    ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

    গত কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশ এখন দুটি সম্ভাব্য পথের মুখোমুখি। আইসিসি তাদেরকে বলেছে, বা ভারতে গিয়ে খেলতে হবে বা আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এখনো ভারতের পরিবর্তে অন্য কোথাও খেলনোর বিকল্প খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে তারা আশা ছাড়ছে না; ক্রীড়া ও বোর্ডের কর্মকর্তারা এখনো অন্য কোনও ভেন্যুতে খেলার সুযোগ খুঁজতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্মকর্তারা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে, উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোন সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর বাংলাদেশের সরকার মনে করছে, তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কমে যায়নি। এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন কোনো আশ্বাসও আইসিসি দিতে পারেনি। তাই এই পরিস্থিতিতে তারা ভারতের পরিবর্তে অন্য ভেন্যু খুঁজে বের করতে উদ্যোগী থাকবেন।

    উপদেষ্টা আরও জানান, তারা আইসিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন যাতে বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি; বললেন, এটিই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    নিজের মনোভাব ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজেও একজন অতি বড় ক্রিকেট ভক্ত। আমার স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। কারণ, আমাদের ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করে এই পর্যায়ে এসেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি এখানো অপরিবর্তিত থাকায়, সেটা কোনভাবেই পরিবর্তন হচ্ছে না। আমি মনে করি, ঠিক যেখানে মোস্তাফিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আপত্তি করা হয়েছে, সেখানে অন্য খেলোয়াড়, সাংবাদিক বা দর্শকদের নিরাপত্তাও তেমন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, আইসিসি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ বা নিশ্চিতকরণ দেয়নি। তারা মূল সমস্যা থেকে আলাদা থেকে গ্রাউন্ড স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা protocols নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু মূল ঘটনাটির উপর তাদের কোনো অবস্থান নেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সন্তুষ্টি বা নিশ্চিতকরণ আসেনি। ফলে, বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে অটল থাকছে যে, তারা ভারতে খেলবে না।

    উপদেষ্টা দাবি করেন, আইসিসি তাদের প্রকৃত সত্য বা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা বা আশ্বাস দেয়নি। এ কারণেই তারা মনে করে, ভারতের নিরাপত্তা এখনও সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বলেন, মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি ভারত, তাহলে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটার বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কি হবে? এই প্রশ্নটি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

    এছাড়াও, তিনি জানান, আইসিসি মূল ঘটনা বা মোস্তাফিজের ঘটনাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তার জাতীয় নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আলোচনা করেছে, যা তারা সমর্থন করে না। মূল ঘটনাটির উপর কোনো অবস্থান বা সিদ্ধান্তে তারাও পৌঁছায়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার ব্যাপারে বুঝাতে বা নিশ্চয়তা দিতে কোনো চেষ্টা হয়নি।

    সুতরাং, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত প্রবলভাবে অটল—ভারতে না গিয়ে অন্য ভেন্যুতে খেলবে না। তারা আশা করছে, আইসিসি তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ বিবেচনা করবে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে পারেন এমন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখনও শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে, তিনি বলেছেন, এটাকে একান্তই উসকানি হিসেবে দেখানো ভুল। মুস্তাফিজ নিজে সরেননি, ইনজুরিও হয়নি—এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকায় অন্য ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। তাই তারা এখনও আশা করছেন, সম্ভব হলে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার সুযোগ পাবেন। তারা আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে চলেছেন।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ক্রিকেটাররা এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মতামত বা আলোচনায় এখনো স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো মূলত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

  • বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    বুলবুল: আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, কিন্তু ভারতে নয়

    নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সময়টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের মাটিতে নামতে ইচ্ছুক নয় — এমন অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও তারা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

    বুলবুল বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও खिलाड़ियों সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের জানান, ‘‘আমরা আবারও আইসিসির কাছে সমস্ত সম্ভাব্য বিকল্প উপস্থাপন করব। বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আমাদের গর্ব আছে, কিন্তু বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সন্দিহীন নই।’’

    আলোচনার পর বোর্ড সভাপতি আরও বলেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন যাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা নিরাপদ পরিবেশে বিশ্বকাপে নামে। ‘‘আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প বিবেচনা করে, আমরা সেটিই চাই। আমরা হাল ছাড়ছি না — বিভিন্ন দিক থেকে যোগাযোগ করে যাচ্ছি যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে,’’ তিনি যোগ করেন।

    বুলবুল আরও বলেন, ‘‘ক্রিকেটপ্রিয় দেশের প্রতিনিধিত্ব যদি কোনো কারণে World Cup-এ না করতে পারে, সেটা আইসিসির ব্যাপক ব্যর্থতা হবে। যেখানে আয়োজকরা কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় ইভেন্টের চেষ্টা করছে, সেখানে জনবহুল ক্রিকেটপ্রিয় দেশগুলোকে নিরাপদ বিকল্প না দিলে তা বিবেচনার দাবি রাখে।’’

    শেষ পর্যন্ত, বুলবুল নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে চায় — কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত নয়; শ্রীলঙ্কায় খেলাই তাদের অনুকূল বিকল্প। তিনি জানান, দল প্রস্তুত আছে এবং বোর্ডও আইসিসির সঙ্গে বিকল্প পথ অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।

  • ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ভারতে খেলা নিয়ে স্থির সিদ্ধান্ত: বিশ্বকাপে না যাওয়ার পক্ষে অনড় বাংলাদেশ

    ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিসিবির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট — বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ভারতের মাটিতে যেতে রাজি নয়। আজ (২২ জানুয়ারি) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই।’

    সেই সঙ্গে তিনি আইসিসিকে ন্যায়বিচার করেনি বলে অভিযোগ করেছেন। শেষ কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো—বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা—এমন একটি নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি করেছে, যার ভিত্তিতে সরকার ও বিসিবি ভারতের মাটিতে খেলায় রাজি হতে পারে না বলে উপদেষ্টা জানান। তাঁর বক্তব্য, এক মাসে নিরাপত্তার পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং আইসিসির মৌলিক আশ্বাসগুলো সরকারকে কনভিন্স করতে পারেনি।

    আসিফ নজরুল বলেন, মোস্তাফিজুর ঘটনাটি কোনো বাতাসে ভাসমান ধারণা নয়; এটি বাস্তব ও সংবেদনশীল ঘটনা। ‘যেখানে আমাদের একজন সেরা খেলোয়াড়ই উগ্রপ্রবণ জবরদস্তির কারণে নিরাপত্তা পায়নি, সেই দেশে আমরা কীভাবে শত শত খেলোয়াড়, সংবাদকর্মী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিতবে—এটা আমরা কী থেকে বিশ্বাস করবো?’—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    তবে বিসিবি ও সরকারের উদ্যোগ হিসেবে বিকল্প ভেন্যু পেলেই বিশ্বকাপে খেলতে ইচ্ছুক থাকবে বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন এবং শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগের আশায় রয়েছেন। ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপ ভেন্যু বদলানোর বহু নজির আছে’—বলেছেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেছেন আইসিসি বিষয়টিকে সুবিবেচনা করবে।

    বৈঠকের পর গণমাধ্যমে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। তিনি বলেন, এখনও শ্রীলঙ্কা-ভেন্যুতে খেলাই তাদের বদল না করা রীতি এবং এ লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন। বুলবুল আইসিসির সমালোচনায় বলেন, মুস্তাফিজুর ঘটনা শুধুমাত্র ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখালে তা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝায় না; নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, নিজে সরে যায়নি বা ইনজুরির কারণে নয়—এমনকি বিসিবির এনওসি বাতিলও করা হয়নি।

    অপরদিকে আইসিসি বলেছে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বাইরে খেললে বাংলাদেশকে বদলে অন্য দলকে বিশ্বকাপে নেওয়া হবে এবং তারা জানিয়েছেন, ভারতে খেললে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই—এই অবস্থান বিসিবি ও সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে মাত্র একটি ভোট পায়; বাকি সদস্য দেশগুলোর সমর্থন না থাকায় সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত ছিল।

    আজকের বৈঠকে বিসিবি ও সরকারের আমন্ত্রণে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বেশকিছু ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন; তাদের মধ্যে লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তের মতো কয়েকজনের নাম অনুপস্থিত ছিল না। ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি উভয়েই খেলোয়াড়দের বক্তব্য প্রকাশ করতে চাননি—তিনি বলেন এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    বিশেষ করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বিসিবি আগে থেকেই আইসিসিকে বলেছিল ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সুসংহতভাবে আয়োজন করা হলে ভালো হবে; কিন্তু আইসিসি ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই ম্য়াচ খেলতে হবে।

    সংক্ষেপে, বর্তমান সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত: সরকার ও বিসিবি জানাচ্ছে—ভারতে না গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ। তবুও তারা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আশা ছাড়েনি।

  • ভারতে বিশ্বকাপ না খাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    ভারতে বিশ্বকাপ না খাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

    আইসিসি সময়সীমা বেঁধে আশ্বাস দিলেও ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান।

    উপদেষ্টার কথায়, ভারতের দিক থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সন্তোষজনক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সেই কারণেই সরকার পুরো দলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং এই অবস্থায় ভারতেই ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

    আইসিসি এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে আশ্বাস দেওয়ায়ও সরকার সেটিতে ভরসা করতে পারছে না, জানান তিনি। তবু ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রচেষ্টা চলবে বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আজ আবারও আইসিসির সঙ্গে বিসিবি যোগাযোগ করবে।

  • বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ না খেললে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতে অস্বীকার করে ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাতে সম্মিলিতভাবে টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

    জিও নিউজের সূত্র বলেছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বিসিবি যদি পান ভারতীয় ভেন্যুগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে না পারলে দল নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির বোর্ড সভার পর সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্ট হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে। আইসিসি বলেছে, কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে সূচি বদলানো বিবেচ্য নয়; এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে।

    আইসিসি সভার ঠিক একদিন আগে বিসিবির আবেদন বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল—কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি।

    বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, বোর্ড বৃহস্পতিবারই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতে দল পাঠানো বা না পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। খেলোয়াড়দের বড় অংশই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছে, তবে শেষ মুহূর্তে বিসিবি যদি পাকিস্তানের মতোই সরে যায় তাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

    বিগত সময়ে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক টানাপোড়েন ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। সেটাই ছিলো বিসিবির অনুরোধ জানার পেছনের প্রধান কারণগুলোর একটি—বিশেষ করে আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাসহ সম্পর্কিত ইস্যুগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করেছে। ঘটনার পরে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বিসিবি তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জোরালো করেছে।

    এই সব অচলাবস্থায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি আইসিসির কাছ থেকে ‘‘আর একটু সময়’’ চেয়েছেন—২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা—সরকারের সঙ্গে শেষ আলোচনার জন্য। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

    তবে তিনি যোগ করেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারেই তাদের পরামর্শ জানানো হবে। আমিনুল বলেন, ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের প্রত্যাশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চাই আমাদের দল বিশ্বকাপে খেলুক, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কেবল খেলোয়াড়কেই নয়, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রসঙ্গকেও বিবেচনা করতে হবে।’’

    এ অবস্থায় বিসিবির সামনে মৌলিক দু’টি পথ খুলে গেছে—নিজেরা অবস্থান প্রত্যাহার করে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলা, না হলে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ানো। টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি।

    সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলবে; গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইতে নেপালের বিপক্ষে।

    এই ইস্যু কেবল ক্রীড়াগত সিদ্ধান্ত নয়—এটি কূটনীতি, নিরাপত্তা ও খেলার স্বার্থের সংমিশ্রণ। পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বিসিবি ও সরকারের মধ্যকার আলোচনাই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ফাইনাল সিদ্ধান্ত এবং সম্ভবত বিশ্বকাপের সামগ্রিক চিত্রও।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে—বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে যাওয়ার অনুরোধ প্রত্যাহার করে টুর্নামেন্ট বর্জন করে, তাহলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে।

    জিও নিউজের সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন করেছিল। যদি সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে এবং সেই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন ইঙ্গিত পাঠানো হয়েছে।

    বিসিবি বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের বিরুদ্ধে দল পাঠানো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্রের খবর, খেলোয়াড়দের বড় অংশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পক্ষে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বোর্ড যদি সরে যায় তবে পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বলা হচ্ছে।

    বিগত সময়ে রাজনীতিকভাবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের উত্তেজনা ক্রিকেটেও প্রভাব ফেলেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়—আগামী আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে পরে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল; এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার স্থগিত করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতেই বিসিবি নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।

    আইসিসি জনপ্রতিনিধিদের এক বোর্ড সভায় বিসিবির আবেদন খারিজ করে বলে জানানো হয়েছে। আইসিসি বলেছে—নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হবে; কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি না থাকলে সূচি পরিবর্তন ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টগুলোর জন্য বিপজ্জনক নজির গড়বে। আইসিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়—৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ—ই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতেই আয়োজন করা হবে।

    আইসিসি বোর্ডের ভিডিও কনফারেন্স হওয়ার একদিন পরই এই সিদ্ধান্ত উত্থাপিত হয়। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছিল, কিন্তু বোর্ড নিয়মিত সূচি বজায় রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সরকারের সঙ্গে ‘‘আর একবার শেষ আলোচনার’’ জন্য আইসিসির কাছে সময় চেয়েছেন। আমিনুলের কথায়, আইসিসি বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করেছে এবং তাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি সরকারকে চাপ দিতে চাই না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই, কারণ আমরা মনে করি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।’’

    তিনি আরও বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হবে। ‘‘আমি এখনও আইসিসির কাছ থেকে কোনো অলৌকিক সমাধানের আশা করছি। খেলোয়াড়রা এবং সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নেবার সময় কেবল খেলোয়াড়দের ইচ্ছাই নয়, সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে,’’ যোগ করেন আমিনুল ইসলাম।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবির সামনে দুটি পথ খোলা—নিজেদের দাবি প্রত্যাহার করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালির বিপক্ষে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে—বিসিবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আইসিসির চূড়ান্ত বার্তার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

  • উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    উপ-প্রেস সচিব: একটা বিশ্বকাপ না খেললেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বন্ধ হবে না

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে। নিরাপত্তার উদ্বেগ উত্থাপন করে বিসিবি আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে দল ভারত যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আইসিসি সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ — তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ম্যাচগুলোই ভারতেই হবে এবং সূচিতে পরিবর্তন গ্রহনযোগ্য নয়। আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পালে আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে; তা না হলে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ (যেমন স্কটল্যান্ড) নেওয়ার কথাও চলছে।

    এই প্রেক্ষাপটে টেলিভিশন আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি, নিউজিল্যান্ড কানাডায় খেলতে যায়নি — তাতে তাদের ক্রিকেট থেমে গিয়েছে কি? যদি বাংলাদেশ একটা বিশ্বকাপ না খেলেই, তাহলে আমাদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে?’’ তাঁর এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে জোর দেন এবং দেশীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

    সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অবশেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

    বিসিবি আগেই আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র (যেমন শ্রীলঙ্কা) আয়োজনের অনুরোধ করেছে। তবে আইসিসি আত্মবিশ্বাসী; তাদের নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো বড় ঝুঁকি পাওয়া যায়নি, ফলে পুরো সূচি বদলানো সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, সূচি বদলালে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা হুমকিতে পড়বে।

    বিসিবি ও সরকারের মধ্যে যে বিতর্ক ও বৈঠক চলছে, তার ফলটাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় খুলে যাবে — চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাকে অনুসরণ করবে, বিসিবি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নাকি আইসিসির অনমনীয় সময়সীমাই চূড়ান্ত করবে। সেক্ষেত্রে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

  • আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    আইসিসি ভোটে বাংলাদেশ পেল মাত্র ২টি সমর্থন

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) President আমিনুল ইসলাম বুলবুল শেষ মুহূর্তে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা করেছিলেন। গত কয়েক দিনে তিনি বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে সমর্থন আদায় করার চেষ্টা করেন। তবুও অধিকাংশ বোর্ডের সমর্থন মিলেনি এবং বাংলাদেশ সেই লড়াই জিততে পারেনি।

    আজ সন্ধ্যায় আইসিসির বোর্ড বৈঠকে বাংলাদেশ ইস্যুতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিসিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ভোটে বাংলাদেশ মাত্র ২টি ভোট পেয়েছে এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে ১২-২ ব্যবধানেই। ভোটে ১২টি পূর্ণ সদস্য বোর্ড ও ২টি সহযোগী দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভোট দিয়েছে।

    ভোটের পর আইসিসি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের নির্ধারিত সব ম্যাচই ভারতেই হবে। বিসিবি আগেই দাবি করা ছিল যে তাদের সব матч শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে হবে—এই প্রস্তাব নিয়ে আইসিসি বোর্ড ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় যে টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, আইসিসি বিসিবিকে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দেশ দিয়েছে। বিসিবিকে এক দিনের সময় দেয়া হয়েছে। যদি বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ভারতে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে তাদের স্থলে স্কটল্যান্ডকে দেখা যেতে পারে।

    বর্তমানে সবাই অপেক্ষায় আছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি কী সিদ্ধান্ত জানাবে। সূত্র: আজকের পত্রিকা।