Category: খেলাধুলা

  • বিপিএলের সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী খেলোয়াড় ও সেরা পারফরমাররা

    বিপিএলের সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী খেলোয়াড় ও সেরা পারফরমাররা

    বিপিএলে এই আসরে কিছু তারকা নিউজে নিজেদের দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন সাহিবজাদা ফারহান, তানজিদ হাসান ও তামিম ইকবাল। তামিম ইকবাল ৬২ বলে ১০০ রান করে ফাইনালে অসাধারণ সেঞ্চুরি করে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কৃত হন। তার এই ব্যাটিং জাদুর জন্য তিনি ৫ লাখ টাকার পুরস্কার পান।

    রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দলের নেতৃত্বে থাকাকালীন ম্যাচ জয়ের জন্য ব্যাটিং ও বলের দিক দিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ফাইনালে তিনি পুরো টুর্নামেন্টে ৩৫৬ রান করেছেন, যা তাকে বিশিষ্ট রান সংগ্রাহক হিসেবে তুলে ধরেছে।

    অন্যদিকে, ফাইনালের সেরা পারফরমার হিসেবে নির্বাচিত হন পারভেজ হোসেন ইমন। সিলেট টাইটান্সের এই বাঁহাতি ব্যাটার ৩৯৫ রান করে পুরো টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন, আর তাঁর জন্য পুরস্কার হিসাবে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা।

    অপরদিকে, বলের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের শরিফুল ইসলাম রেকর্ড করেছেন এক আসরের সর্বোচ্চ উইকেট নেয়ার কীর্তি। ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ২৬ উইকেট, যা বিপিএলের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তিনি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা পুরস্কার।

    শরিফুলের পারফরম্যান্সের মধ্যে রয়েছে দারুণ পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে বল ধারাবাহিকতাও। তিনি বলছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগছে, তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া হলে আরও বেশি আনন্দ হতো।’

    পাশাপাশি, টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে শরিফুলের নাম ঘোষণা করা হয়, যা তিনি আরও ১০ লাখ টাকার পুরস্কার পান। এই পুরস্কার তার পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি। বিপিএল এবার অনেক রোমাঞ্চকর ও בלתי প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল, যেখানে বিভিন্ন খেলোয়াড়ের অসামান্য পারফরম্যান্স দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

  • বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী, চট্টগ্রামকে হারালো

    বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী, চট্টগ্রামকে হারালো

    বিপিএল ফাইনালের শুরু থেকে ঘণ্টা দেড়েক আগে হাসির রঙ ছিল মাঠেক। তখনই হেলিকপ্টার থেকে ট্রফি নিয়ে মাঠে এলেন রাজশাহীর জনপ্রিয় ক্রিকেটার এবং অধিনায়ক আকবর আলী, সঙ্গে ছিলেন সালমা খাতুন। আকবর, যিনি বাংলাদেশকে যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পরিচিতি তৈরি করেছেন, তিনি সেই ট্রফি হাতে মিরপুরের দর্শকদের দেখায় উচ্ছ্বাসে মূর্চ্ছিত করলেন। এই বিপিএলে তিনি ডানহাতি উইকেটকিপার ও ব্যাটার হিসেবে রাজশাহীর জন্য খেলেছেন। অন্যদিকে, শেখ মেহেদী ব্যতিক্রমী ফটোসেশন করলেও পুরো দলের অন্য সদস্যরা ট্রফির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাননি। তবে নাইম শেখের জন্য সেই সুযোগটি কেড়ে নিয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, যিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করে সবাইকে অভিভূত করেছেন। তার এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে রাজশাহী দলের সংগ্রহ হয় ১৭৪ রানের বিশাল পুঁজি। লক্ষ্য তাড়ায় চট্টগ্রাম দল নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে। দ্রুতই চট্টগ্রামকে চেপে ধরেন রাজশাহীর স্পিনার বিনুরা ফার্নান্দো, এরপর উইকেটের পর উইকেট লাভ করেন হাসান মুরাদ। শেষ দিকে অসাধারণ বোলিং করে বিনুরা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে তোলেন। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার কারণেআরটু বেশি রান তোলা সম্ভব হয়নি চট্টগ্রামের। তারা শেষ করে ৬৩ রানে অল আউট, আর এই জয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী, যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শন্ত ও মুশফিকুর রহিম। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই দুষ্টু দিক দেখিয়েছে চট্টগ্রাম। তারা শুরু থেকেই ধীরেসুদে খেলেছে, তবে পাওয়ার প্লে শেষে হাত খুলে খেলতে থাকেন ওপেনার তানজিদ। সাতের ওভারে তিনি দু’টি ছক্কা হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করেন। ৯ম ওভারে তিনি আবার দুই ছক্কা মারেন, আর প্রথমে নিজের পারফরমেন্সে আস্থা বাড়ান। তবে সাহসের ঝলক দেখিয়ে ইনিংসের ১৬তম ওভারে উইলিয়ামসনকে দূরে সরিয়ে বড় শট খেলতে গেলে ব্যর্থ হন। এরপর অধিনায়ক জাহিদুজ্জামান সাগর এবং অন্য ব্যাটাররা দ্রুত ফিরে যান। শেষ দিকে, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তানজিদ ৬১ বলের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস রচনা করেন। বিপিএলের ইতিহাসে ত্রাণ্য বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে দ্বিতীয়বার ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন তিনি, এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল করেছিলেন। তার এই রেকর্ডি পারফরমেন্সের কারণে তিনি এখন বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। শেষ পর্যন্ত, রাজশাহীর হয়ে শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রান করেন। এই সেঞ্চুরির যুগে রাজশাহী করে ১৭৪ রানের সংগ্রহ। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানরা শেষ কিছু ওভারে দ্রুত রান করলেও শেষ অবধি তারা ১১১ রানে সব উইকেট হারিয়ে যায়। আবহমের রাজশাহী দলের পুরো পারফরম্যান্সে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন বিনুরা চারটি, এবং মুরাদ নিয়েছেন তিনটি। এই জয়ে রাজশাহীর ট্রফি ঘরে ফেরে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম দলের শুরুটা ছিল ধীর, তবে উইকেট হারানোর পরে তারা ধীরে ধীরে খেলতে থাকেন। ওপেনার সাহিবজাদা শুরুতেই ৩০ বলে ৩০ রান করে উইকেট হারান। এরপর দ্রুতই ফিরে যান তিনে নামা মাহমুদুল হাসান জয়, যিনি ১০ বলে ৯ রান করে সাজঘরে। পরে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মির্জা এবং হাসান নাওয়াজ, কিন্তু নাওয়াজ যতটুকু সম্ভাবনাময় ছিল, তা পূরণ হয়নি। মুরাদের বল থেকে আউট হন নাওয়াজ। এরপর, তাহির ও আসিফ আলীর ব্যর্থতা দলের মানসিকতাকে দুর্বল করে দেয়। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ রান করে স্টাম্পিং হন, আর আসিফ দ্রুত ফিরে যান। শেষের দিকে, ব্যাটসম্যানরা রানের গড় চালিয়ে যান এবং তানজিদ নিজেকে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরির স্বীকৃতি দেন। তিনিই ফাইনালসেরা নিজ দেশের ব্যাটার হিসেবে তৃতীয় বার সেঞ্চুরি করেন রিপোর্ট অনুযায়ী। এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্য তিনি এখন বিপিএলে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। দলের অন্যান্য সদস্যরা সম্মিলিতভাবে অবদানের মাধ্যমে রাজশাহীর শিরোপা নিশ্চিত করেন। এই ফাইনালে রাজশাহীর হয়ে শেষ দিকে অধিনায়ক শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রান করেন। তানজিদের অসাধারণ শত্যাক্রান্তি আর দলের একজোট প্রচেষ্টা শেষে রাজশাহী জেতার সেই স্বপ্ন সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই জয়ে, শরিফুল ব্যাপক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেনও, সেক্ষেত্রে তিনি বিপিএলে এক আলাদা রেকর্ড গড়েছেন। তিনি এখন এক আসরে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেট সংগ্রহকারী একজন ক্রিকেটার। তার এই পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবিদার, আর রাজশাহীর ট্রফি জয় শুধু দলের জন্যই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার।

  • বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের পদত্যাগ

    বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের পদত্যাগ

    সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে গুরুতর ম্যাচ ফিক্সিং সংশ্লিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। এই খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর, তিনি বিপিএলের ১২তম আসরের ফাইনাল ম্যাচের মাঝেই নিজের সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানান, তাঁর বিসিবি পরিচালক এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। এর মূল কারণ, অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে যেন কোনও আপস না হয়, সে জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ফেসবুক পোস্টে শামীম লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে, আমি বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ আমার সব দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা যায়। এটা কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়, বরং দেশের ক্রিকেট ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার দায়বদ্ধতার অংশ।’

    শামীম আরো জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কষ্টের হলেও তিনি দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে আপোস করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের সুনাম অনেক বড়। তদন্তে আমি পুরোপুরি সহযোগিতা করব এবং বিশ্বাস করি, সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা হবে। সবসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।’

  • আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে

    আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ যদি ভারতে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে আইসিসি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ। দুবাইয়ে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বর্তমানে এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    ২০২৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখন নতুন সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আইসিসির মধ্যে এই বিষয়ে মতান্তর চলছিল, যা এখন আরও জোরালো আকার ধারণ করেছে।

    সূত্রের বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, যদি বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ে ভারতের মাটিতে না অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নায়, তাহলে আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বর্তমানে জয় শাহ দোাবাইয়ে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। তবে কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা সম্পর্কে এখনও কিছু জানাননি আইসিসি কর্তৃপক্ষ।

    অন্য এক প্রতিবেদনে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর সূত্র অনুযায়ী, আইসিসি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। কারণ, বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করেননি। তার উপরে, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেও আইসিসির কাছে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ অর্থাৎ অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতিতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডের নামও এখন আলোচনায় আসতে পারে। আইসিসি আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, অন্য কোনও দলের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন দেখা যেতে পারে, এই সংকট সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়।

  • বিপিএলে কারা কোন পুরস্কার পেলেন

    বিপিএলে কারা কোন পুরস্কার পেলেন

    রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বলিষ্ঠ জয়ে শেষ হলো এবারের বিপিএল—নাজমুল হোসেন শান্তের অধীনে দল প্রথম শিরোপা জিতলো। ফাইনালে তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহানের ধারাবাহিক জুটিই রাজশাহীকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে; তানজিদ 62 বলেই সেঞ্চুরি করে 7টি ছক্কায় 100 রানের ইনিংস খেলেন এবং দল 174 রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়।

    রান তাড়া করার পথে শুরু থেকেই হতাশায় ভুগে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দো নাইম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফেরিয়ে বন্দরনগরীর দলকে চাপে ফেলেন। মাঝের ওভারগুলোতে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদও জাদু দেখান—ফাইনালে তিন উইকেট নেন তিনি। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে বিনুরার স্লোয়ার এবং মুরাদের স্পিন মিলিয়ে চট্টগ্রামকে 111 রানে বেধে রাখে রাজশাহী, ফলে শেখ মেহেদীর দল 63 রানে হেরে যায়।

    চ্যাম্পিয়ন প্রতিটি দল 2 কোটি 75 লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছে, রানার্স-আপ চট্টগ্রাম পেয়েছে 1 কোটি 75 লাখ টাকা।

    ব্যক্তিগত পুরস্কারের তালিকা:

    – ফাইনাল সেরা (ম্যান অফ দ্য ম্যাচ): তানজিদ হাসান তামিম — ফাইনালে সেঞ্চুরি করে এই পুরস্কার ও 5 লাখ টাকা অর্জন করেন। টুর্নামেন্টজুড়ে তানজিদ মোট 356 রান করেছিলেন।

    – টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক (বেস্ট ব্যাটার): পারভেজ হোসেন ইমন (সিলেট টাইটান্স) — 395 রান; বেস্ট ব্যাটার হিসেবে তিনি 5 লাখ টাকা পেয়েছেন।

    – সবচেয়ে বেশি ক্যাচ (আউটফিল্ডে): লিটন দাস — পুরো টুর্নামেন্টে কিপিং না করেও আউটফিল্ডে 10টি ক্যাচ নিয়েছেন।

    – সেরা ফিল্ডার: রংপুর রাইডার্সের ডানহাতি ব্যাটার — সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার ও 3 লাখ টাকা পান। (প্রতিযোগিতার বিবরণে খেলোয়াড়ের নাম আলাদা করে দেওয়া হয়নি)

    – ইমার্জিং প্লেয়ার: রিপন মণ্ডল (রাজশাহী)— 8 ম্যাচে 17 উইকেট; ইমার্জিং প্লেয়ারের পুরস্কারসহ তিনি 3 লাখ টাকা পান। রিপন ছিলেন ফাইনালের একাদশে না থাকলেও টুর্নামেন্টে তাঁর পারফর্ম্যান্স নজর কেড়েছে।

    – বেস্ট বোলার: শরিফুল ইসলাম — বাঁহাতি এই পেসার 12 ম্যাচে 26 উইকেট নিয়ে বিপিএলের এক সিজনে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন (পেছনে ফেলেছেন তাসকিনের 25 উইকেটকে)। বেস্ট বোলারের পুরস্কার হিসেবে তিনি 5 লাখ টাকা পান।

    – প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটারও হয়েছেন শরিফুল ইসলাম; প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট হিসেবে তিনি 10 লাখ টাকা পান। এই সম্মানের কথা শেয়ার করে শরিফুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে, তবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগতো।’

    পুরস্কারদানে এবং পারফরম্যান্সে মিলে এবারের বিপিএল স্মরণীয় হয়ে থাকল—রাজশাহীর প্রথম ট্রফি, ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের উঠে আসা।

  • চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

    চট্টগ্রামকে ৬৩ রানে হারিয়ে বিপিএলের নতুন চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

    বিপিএল ফাইনাল শুরুর আনুষ্ঠানিকতায় হেলিকপ্টারযোগে মঞ্চে এলো ট্রফিটি—সাথে ছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন। আকবর আলী যুব বিশ্বকাপজয়ের স্মৃতিচারণ করে ট্রফি মঞ্চে আনেন এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছড়ান।

    মাঠে নেমে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে জিতে দেন। তানজিদ ৬১ বলেই সেঞ্চুরি করে, পরের বলে মুগ্ধরের উইকেটে গিয়ে ৬২ বলে ১০০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার অগ্রগতিতে রাজশাহী ১৭৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ গড়তে পারে এবং জয়ের জন্য চট্টগ্রামকে ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিতে পারে।

    লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বলেই নাইম শেখকে সাজঘরে ফেরানো হয়—বিনুরার ডেলিভারিটি অফ স্টাম্পের বাইরে থেকেই ভেতরে ঢুকতে গিয়ে বোল্ড হয় নাইম। দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদুল হাসান জয়ও। এরপর তানজিদের বলেই সাজঘরে ফেরেন দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানও। মির্জা ও হাসান নাওয়াজ একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও নাওয়াজকে ফেরান হাসান মুরাদ।

    চট্টগ্রামের বেশ কজন ব্যাটসম্যান টিকতে পারেননি; মেহেদী, জাহিদুজ্জামান সাগর ও অন্যান্যরাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান তাহির ও আসিফ আলি দায়িত্বশীলভাবে খেললেও কোনো বড় জুটিও গড়ে তুলতে পারেননি। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ ও আসিফ ২১ রানে ফেরার পর চট্টগ্রামের জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এবং তারা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয়। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো চারটি উইকেট নেন, আর হাসান মুরাদ তিনটি উইকেটের অবদান রাখেন।

    আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ভালো শুরু পায়—সাহিবজাদা ও তানজিদ ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন। পাওয়ার প্লে পেরিয়ে গেলে তারা আক্রমণাত্মক খেলায় তাবড় প্রভাব ছড়ান; তানজিদ ২৯ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। ওপেনিং জুটির সংগ্রহ ছিল ৮৩ রানের ওপর। পরে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ সেই জুটি ভাঙেন। কিয়ান উইলিয়মসন কিছুটা দ্রুত মারতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঝড় তোলেন তানজিদ। উইলিয়ামসন সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন।

    তানজিদের সেঞ্চুরি ইতিহাসের পাতায় জায়গাও করে নিল—বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তিনি তৃতীয় ক্রিকেটার। এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তানজিদের এই ক্যারিয়ার-উপলক্ষ্যে একটি অন্য মাইলফলতিও এসেছে: বিপিএলে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা তালিকায় তানজিদ এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, তিনটি সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি শান্ত, তাওহিদ হৃদয় ও তামিমকে পেছনে ফেলেছেন; কেবল ক্রিস গেইলের পাঁচটি সেঞ্চুরি এখনও তার ওপরে আছে।

    রাজশাহীর সাজগোজের শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রানে ইনিংস শেষ করেন। তানজিদের সেঞ্চুরিতে রানের পুঁজি দাঁড়ায় ১৭৪।

    টুর্নামেন্ট লিডারশিপকেও নতুন কোনো রূপ দেয়া হয়েছে: ইনিংসের শেষ বলে শান্তকে ফেরিয়ে তাসকিন আহমেদকে ছাড়িয়ে এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের মালিক হয়েছেন শরিফুল ইসলাম—গত আসরে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেন তাসকিন; এবারের সমান ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন শরিফুল।

    চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স উজ্জ্বল একটি জয় থেকে ট্রফি জিতে নেয়—ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্তে দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তানজিদের ধ্বংসাত্মক ইনিংসই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

  • বিসিবি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির হস্তক্ষেপ চায়

    বিসিবি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির হস্তক্ষেপ চায়

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে না করে অন্য দেশে আয়োজনের দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বারস্থ হয়েছে। বোর্ডটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে আইসিসিকে অনুরোধ করেছে যেন বিষয়টি স্বাধীন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি)-তে পাঠানো হয়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিসিবি এ বিষয়ে আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং মঞ্চ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষপাতী হয়ে তর্ক তুলে ধরেছে। বিসিবি বিশেষ করে চান যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নির্ধারিত ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে না হয়ে অন্য কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হোক।

    আইসিসির স্বাধীন সালিশি সংস্থা ডিআরসি সদস্য বোর্ড, আইসিসি কিংবা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা-ব্যবস্থার মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখে। সাধারণত অভ্যন্তরীণ সব প্রসেস শেষ হওয়ার পরই এই কমিটি হস্তক্ষেপ করে; বিসিবি আশা করে, তাদের আবেদন গ্রহণ করলে আইসিসি বিষয়টি ডিআরসিতে পাঠাবে।

    এর আগে বোর্ড সভার পর আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে এবং টুর্নামেন্টের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সময়ে আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানান দিতে বলেছে যে বাংলাদেশ দল কীভাবে এই পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণ করবে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, তারা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় খেলার বিকল্পের ব্যাপারে তারা এখনও আশাবাদী এবং এই দাবিতে হাল ছাড়ছে না।

    বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে চলমান এই কূটনীতি আগামী কয়েকদিনে টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ ও ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে—বিশেষত এমন সময়ে যখন সময় সীমিত এবং প্রতিযোগিতার সূচি আগে থেকেই ঘোষণা করা রয়েছে।

  • ফাইনাল শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরে পৌঁছালো বিপিএল ট্রফি

    ফাইনাল শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরে পৌঁছালো বিপিএল ট্রফি

    ২০২৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফাইনালে সন্ধ্যা ছয়টায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স মোকাবেলার অপেক্ষায় ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। ম্যাচ শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হাজির করা হলো এবারের টুর্নামেন্টের নতুন ট্রফি।

    পূর্ব ঘোশণামতে বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে মাঠে এসে ট্রফিটি আনেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলী এবং দেশের সাবেক নারী দল অধিনায়ক সালমা খাতুন। এরপর ট্রফি উন্মোচন করেন দুই ফাইনালিস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও শেখ মেহেদী হাসান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রফিটি পিকআপে নিয়ে মাঠে প্রদর্শন করা হয়, দর্শকরা সেটি ঘিরে ভিড় জমান।

    প্রথম দফায় গভর্নিং কাউন্সিল একটি ট্রফি এনেছিল, কিন্তু সেটি গৃহীত হয়নি বলে নতুন করে ট্রফি অর্ডার দেয়া হয়। বিসিবির তথ্য অনুযায়ী এবারের ট্রফিটি দুবাই থেকে তৈরি করে আনা হয়েছে এবং এর জন্য খরচ হয়েছে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩০ লাখ টাকা।

    বিপিএলের এবারের পর্ব শুরু হয়েছিল সিলেট টাইটানস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে। ওই উদ্বোধনী দিনে ট্রফি না থাকায় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেছিলেন। ফাইনালের আগে দর্শক ও গণমাধ্যমকে চমক দেখাতে ট্রফি নিয়ে আলাদা ফটোসেশন ও প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল, ফলে অবশেষে নতুন নকশার ট্রফি সবাই চোখে দেখলো।

    বিপিএলের ফাইনালের আয়োজনে বিনোদন সরঞ্জামও জোগার করে বিসিবি; ট্রফি উন্মোচন পর্বের শেষে দেশের জনপ্রিয় মডেল তানজিন তিশা স্টেজে পারফর্ম করেন। তিনি উদ্বোধনী দিনেও সিলেটে স্টেজ শো করেন।

  • আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভারতের বাইরে না খেলতে যায়, তবে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে। যদিও এর জন্য আগে থেকেই অনড় অবস্থানে থাকলেও, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিসিবি। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসনকারী সংস্থার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মত আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে চান। বিসিবি মনে করছেন, আইসিসির কাছ থেকে তারা যেন ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটানোর আশায় আছেন।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে ভারতের বাইরে না খেলার ব্যাপারে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। তারা এই অনুরোধে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে চায়।’

    আমিনুলের মতে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনই অনুকূল নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট position হলো—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। তাই আমরা শ্রীলংকায় খেলার পক্ষে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরে তা আইসিসিকে জানানো হবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অনেকটাই অভিপ্রেত, তবে এখন মূল বিষয়ে হলো নিরাপত্তার কারণেই সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘আসলে, ক্রিকেটাররা চান দেশের হয়ে খেলতে, সরকারও চায়। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকারের চিন্তা-ভাবনা গুরুত্ব পায়।

    এমন পরিস্থিতিতে, আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটার জন্য তারা প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া, ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। তারা বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ব্যক্ত করলেও, গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি। বিসিবি আগামিতে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাদের গ্রুপের স্থান বিবেচনা করেছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা তাদের প্রস্তাব বিরত থেকেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা হলো ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। ঢাকায় প্রথম তিনটি ম্যাচ, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ মুক্তির দিন ৭ ফেব্রুয়ারি, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে।

    নিরাপত্তা ইস্যু শুরু হয় ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছিল, যদিও এর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হয়, ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কিছু অবনতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত আসে।

    পরের দিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে জানায় যে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়। তারপর বিভিন্ন বৈঠক হলেও, বোর্ডের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে আইসিসি মোস্তাফিজের ইস্যুকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ধরছেন না। সংস্থার মতে, একটি ঘরোয়া লীগের খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের ঘটনার সাথে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা চিত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।

    বিসিবি এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সময় খুবই কম থাকায়, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড পুরোপুরি নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হয়, তবে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা গাঢ় হয়ে উঠছে।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা পাকিস্তানের

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা পাকিস্তানের

    বাংলাদেশ যদি ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলংকায় সরানোর আবেদন গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ সরে যেতে পারে। এর ফলে, ২০০৯ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সূত্র মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজই (বৃহস্পতিবার) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা করে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জানা গেছে, বেশ কিছু ক্রিকেটার এই অনুষ্ঠানে দেশের স্বার্থে শ্রীলঙ্কায় খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, তখন পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকানিউজ ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের চরম টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। আইপিএলের আসন্ন আসরেও বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ায় দেশের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের জন্য জোরালো দাবি তোলে।আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে দিয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ভারতের বাইরে অন্য কোনও দেশে আয়োজন করা সম্ভব নয়। বার্তা দেয়া হয়, যদি নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলেও সূচিতে পরিবর্তন আনা হলে ভবিষ্যৎ আইসিসি টুর্নামেন্টের জন্য এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।এক দিন আগে, আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করার অনুরোধ করলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে লৌহপ্রাচীর। বোর্ড ঘোষণা করে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলোও সেখানে হওয়া বৈধ।বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি সরকারের সঙ্গে “শেষ আলোচনার” জন্য আইসিসির কাছ থেকে সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আইসিসি বলেছে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং তারা আমাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। আমরা সরাসরি ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই কারণ আমরা মনে করি, ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি, কোন অবাক করে দেওয়া সমাধান আসতে পারে। আমাদের খেলোয়াড় ও সরকার সবাই চান বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক, তবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন।”আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ এই সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।আইসিসির সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের শেষ সিদ্ধান্তের জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আমরা চাই শ্রীলঙ্কায় খেলতে, কারণ আমাদের নিরাপত্তা বিষয়ে এখনও সন্দেহ রয়েছে। আইসিসিকে আমরা আবারও বলেছি, আমাদের নিরাপত্তার জন্য দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, সরকারের মতামত দ্রুত আসবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খেলোয়াড়, সরকার ও বোর্ড সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হতো না যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকত। আমরা আশা করি সরকার ও আইসিসি মিলিতভাবে একটি সমাধানে পৌঁছাবে যাতে সবাই খুশি।”