Category: খেলাধুলা

  • এক ম্যাচ বাকি রেখে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

    এক ম্যাচ বাকি রেখে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

    মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক ম্যাচ বাকি রেখে সিরিজ জয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশ শুরুতেই পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে। ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে।

    সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে নিয়েছিল। তাই একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ পেয়ে এসেছে টিম টাইগার্স। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতির জন্য এই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বাংলাদেশ হারাতে চায় না। প্রথম ম্যাচের পর একাদশ অপরিবর্তিত রেখেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

    অন্যদিকে অতিথি পাকিস্তান সিরিজে টিকে থাকার ব্যাপারে আগ্রাসী। তাদের দলে এক পরিবর্তন করা হয়েছে — স্পিনার আবরার আহমেদের জায়গায় পেসার হারিস রউফকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।

    সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা চমক দেখিয়েছেন; ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, যা পাকিস্তানের টপঅর্ডার ভেঙে দিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ নিয়েও আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, ‘এটা দুর্দান্ত শুরু ছিল। অনেকদিন পর আমরা ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। চ্যালেঞ্জিং হলেও সবাই পরিস্থিতি ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। আশা করি খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমে আমরা সিরিজ জিততে পারব।’

    বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাওহিদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা।

    পাকিস্তান একাদশ: সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, হুসেইন তালাত, আবদুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, শাহিন আফ্রিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, হারিস রউফ।

  • পাকিস্তানি পেসার সালমান মির্জা কেন সাংবাদিক ও এআরওয়াই নিউজকে আইনি নোটিশ পাঠালেন

    পাকিস্তানি পেসার সালমান মির্জা কেন সাংবাদিক ও এআরওয়াই নিউজকে আইনি নোটিশ পাঠালেন

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় এক নারী হোটেলকর্মীর সঙ্গে বাজে আচরণের অভিযোগে নামে উঠেছিল পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসার সালমান মির্জার বিরুদ্ধে। সেই খবরটি প্রথম প্রচার হলে সালমান তা কড়া ভাবে অস্বীকার করেন এবং সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

    গত রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সালমান হাশমি নামের ওই সাংবাদিক ও এআরওয়াই নিউজকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানাচ্ছেন। তিনি সেখানে লিখেছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদন মিথ্যা, মনগড়া ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। খবরটি সত্য না হওয়ায় এবং কোনো রকম জরিমানা করা না হওয়ার পরও তাঁর, পিসিবি ও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সালমান পোস্টে আইনি নোটিশের তিনটি কপি জুড়ে দেন। নোটিশে বলা হয়েছে, পিসিবি তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে (X) প্রকাশ্যে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে এবং ঘটনার কোনো প্রমাণ নেই। এজন্য ওই সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে সালমান সংবাদমাধ্যমকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সত্য যাচাই না করে সস্তা কদর্য সাংবাদিকতা করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং কোনো মিডিয়া প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ প্রচার করতে পারবে না।

    বিষয়টি আগে ৪ মার্চ টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছিল যে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কায় একজন পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে হোটেলকর্মীর সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। ওই সময়ে ক্রিকেটারের নাম গোপন রাখা হয়েছিল। পরে পাকিস্তানির মাধ্যমে সালমান মির্জার নাম উঠে আসে, যা তিনি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    বর্তমানে সালমান মির্জা আইনি পথে যুক্ত হয়ে নিজের সুনাম রক্ষা করতে চাইছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি এখন পর্যন্ত ১৭টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সেটাই এখন নজর কাড়ছে।

  • বিম-১০ লিগে দুর্নীতির অভিযোগে তিনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে আইসিসি-সিডব্লিউআই

    বিম-১০ লিগে দুর্নীতির অভিযোগে তিনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করে আইসিসি-সিডব্লিউআই

    বার্মুডোর ঘরোয়া টি-টেন লিগ বিম-১০কে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জাভন সিয়ার্লস, টিম মালিক চিত্রঞ্জন রাঠোর এবং এক কর্মকর্তা ট্রেভন গ্রিফিথকে সমস্ত ধরণের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যৌথভাবে নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)।

    আইসিসি ও সিডব্লিউআই জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ মরসুমের বিম-১০ টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফিক্সিং এবং দুর্নীতির চেষ্টা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্য খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে উৎসাহিত করা (ধারা ২.১.৪), বুকমেকারের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষকে না জানানো (ধারা ২.৪.২) ও দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে বাধা দেওয়া বা তথ্য লুকিয়ে রাখা।

    বিশেষত ট্রেভন গ্রিফিথের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও আছে যে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্পর্কিত দুর্নীতির তথ্য গোপন করেছেন — এই দিকটি আইসিসি তদন্তকারীরা আলাদাভাবে তল্লাশি করছেন। তিনজনকেই ২৫ মার্চের মধ্যে অভিযোগের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত পুরোপুরি শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    জাভন সিয়ার্লস ক্যারিবীয় ক্রিকেটে পরিচিত এক মুখ; তিনি আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন, সিপিএলে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং ২০১৮ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সদস্য ছিলেন।

    এই ঘটনায় আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে — গত জানুয়ারিতে একই টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটার অ্যারন জোন্সকেও দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছিল। বিম-১০ নিয়ে উঠা এসব অভিযোগ কিভাবে তদন্তে গیتেছে এবং পরের ধাপগুলো কী হবে, সেটাই এখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সকলের নজরকেড়ে রাখছে।

  • বাংলাদেশের উইকেটে হতাশ পাকিস্তান: ‘সহযোগী দেশ হয়ে যাই কি না’—মোহাম্মদ আমির

    বাংলাদেশের উইকেটে হতাশ পাকিস্তান: ‘সহযোগী দেশ হয়ে যাই কি না’—মোহাম্মদ আমির

    বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোনামে এসেছে টাইগাররা। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের মারমুখী বোলিংয়ে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয় সফরকারী দল; পরে লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ মাত্র ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি জিতে নেয়।

    এই ফল ও মাঠের উইকেট নিয়ে তীব্র বিশ্লেষণ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা মন্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমনভাবে উইকেট তৈরি করেছে যা পাকিস্তানকে ‘‘সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নে’’ আটকে দিয়েছে। যেখানে সবাই টার্নিং উইকেটের আশা করছিল, ওখানে দেশের প্রতিপক্ষকে গতির উইকেটের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে বাংলাদেশ।

    আমির আরও বলেন, ‘‘মিরপুরে সবাই ভাবছিল স্পিন উইকেট হবে, কিন্তু তারা বাউন্সি, গতিসম্পন্ন উইকেট বানিয়ে আমাদের চমকে দিলো। এটা একদম ‘আউট অব সিলেবাস’। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ১৪০-ক্লাবের পেসে সমস্যায় পড়ে। নাহিদ ও মেহেদীর বোলিং অসাধারণ ছিল—বিশেষ করে নাহিদ ১৪০ এর বেশি গতিতে বল করেছেন।’’

    তিনি পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের প্রস্তুতি ও টেকনিকে গুণতর ত্রুটি দেখেন। অনুশীলনের ঘাটতি ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তও আমিরের সমালোচনার লক্ষ্য। ‘‘উপর থেকে বল পড়লে খেলার অনুশীলন প্রয়োজন—এটা পাওয়ার হিটিং বা ডিফেন্স নয়। আসল পেসের বিপক্ষে খেলতে পারার ক্ষমতা থাকতে হবে। মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিক এখনও উন্নত নয়; তারা মিড-উইকেটে খেলতে চাইলে অফ স্টাম্পের বল বুঝতে পারেন না,’’ তিনি বলেন।

    পাকিস্তান দলের ভারসাম্য নিয়ে মুখেই चिंता প্রকাশ করে আমির বলেন, ‘‘৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের নিয়ে দলে চলবে না। সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। আমার ভয় হচ্ছে, আমরা যদি এভাবে চলি তাহলে শেষ পর্যন্ত সহযোগী দেশের পর্যায়ে নেমে যেতে পারি।’’ তিনি বলেন যে কিছু সক্ষম পারফর্মার—কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো—প্রয়োজনীয় সুযোগ পাচ্ছেন না।

    বাংলাদেশের ব্যাটিং ও পেস আক্রমণের প্রশংসা করে আমির যোগ করেন, ‘‘তারা আমাদের ‘দুমবার’ মতো মেরেছে, যেন খেলতে নিজেদের অনেক মজা লাগছিল। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রানে অলআউট হয়েছি, সেই উইকেটেই তারা ১০–১২ ওভারের মধ্যেই রান তাড়া করে ফেলল। আমি বলছি—বাংলাদেশ কোনো স্পিন ট্র্যাক দেবে না, তারা এমন উইকেট দেবে যেখানে তাদের তিনজন ফাস্ট বোলার—বিশেষ করে নাহিদ রানা—খুব শক্তিশালী।”

    আমিরের মন্তব্যগুলো পাকিস্তান দলের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে—টিম ম্যানেজমেন্ট, অনুশীলন ও প্লেয়ার সিলেকশন নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেই হবে, নাহলে সিরিজ এবং ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে আরওই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

  • বিম-১০ে দুর্নীতির অভিযোগ: জাভন সিয়ার্লস, মালিক ও একজন কর্মকর্তা সাময়িক নিষিদ্ধ

    বিম-১০ে দুর্নীতির অভিযোগ: জাভন সিয়ার্লস, মালিক ও একজন কর্মকর্তা সাময়িক নিষিদ্ধ

    বার্মুডার ঘরোয়া টি-টেন লিগ বিম-১০-এর দুর্নীতির তদন্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জাভন সিয়ার্লস, টুর্নামেন্টের একটি দলের মালিক চিত্রঞ্জন রাঠোর এবং কর্মকর্তাদের একজন ট্রেভন গ্রিফিথকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি আইসিসি ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (CWI) যৌথভাবে নিয়েছে।

    সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ মরশুমে অনুষ্ঠিত বিম-১০ টুর্নামেন্টে ম্যাচ ফিক্সিং এবং অন্যান্য দুর্নীতির চেষ্টা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাচ ফিক্সিং প্রস্তাব বা চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্য খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে প্রলোবিত করা (ধারা ২.১.৪), জুয়াড়িদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব পাওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষকে না জানানো (ধারা ২.৪.২) এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের তদন্তে বাধা বা তথ্য গোপন করা।

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অভিযোগগুলো গুরুতর প্রকৃতির এবং খেলায় নীতিবোধ বজায় রাখার স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে ট্রেভন গ্রিফিথের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ উঠেছে যে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দুর্নীতির তথ্য গোপন করেছেন।

    তিনজনকেই আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে প্রতিকারমূলক বক্তব্য বা জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই জবাব পাওয়ার পর এবং সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ হলে CWI ও আইসিসি পরবর্তী শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। তদন্তটি চলমান এবং এর অংশ হিসেবে আরও নাম যুক্ত হতে পারে বা অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

    জাভন সিয়ার্লস ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে পরিচিত এক মুখ; তিনি গ্রাসফুটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা, সিপিএলে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সঙ্গে খেলার পাশাপাশি ২০১৮ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দলে রয়েছেন—এমন তথ্য রয়েছে।

    এদিকে, একই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই সাড়া ফেলেছে দুর্নীতির ঘটনায় আরেকটি বড় অভিযোগ: এ বছর জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সকে নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর ক্রিকেট অঙ্গনে সততা ও নিয়মকানুন রক্ষা করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    CWI ও আইসিসি সব দলকে অনুরোধ করেছে তদন্তের সঙ্গে সহযোগিতা করতে এবং খেলায় স্বচ্ছতা রক্ষা করতে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পরে নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশ আমাদের ‘দুমবার’ মতো পিটিয়েছে, ভয় লাগছে—সহযোগী দেশ হয়ে যাচ্ছি কি না: মোহাম্মদ আমির

    বাংলাদেশ আমাদের ‘দুমবার’ মতো পিটিয়েছে, ভয় লাগছে—সহযোগী দেশ হয়ে যাচ্ছি কি না: মোহাম্মদ আমির

    বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টাইগাররা পাকিস্তানকে আট উইকেটের বদলে ৮ উইকেটে হারিয়েছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের তৎপর বোলিংয়ে সফরকারীরা মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়; এরপর লক্ষ্য তাড়া করে বাংলাদেশ মাত্র ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে।

    পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ ও পাকিস্তান দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কাটাছেঁড়া বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এই ফল এমন যেন “সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন” – বাংলাদেশ এমন উইকেট তৈরি করেছে যা পাকিস্তান চিন্তা করেই পাইনি।

    আমির বলেন, “মিরপুরে আমরা ভাবছিলাম স্পিনিং উইকেট হবে, কিন্তু বাংলাদেশ এমন বাউন্সি, গতিসম্পন্ন উইকেট বানিয়ে আমাদের অবাক করেছে। আমরা টার্নিং উইকেটের কথা ভাবছিলাম; ওরা বানিয়ে দিল গতির উইকেট — একেবারে ‘আউট অব সিলেবাস’ প্রশ্ন। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ১৪০ প্লাস গতির বোলিং দেখলেই অনভ্যাসিক আচরণ শুরু করে দেয়। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দুর্দান্ত বল করেছে, বিশেষ করে নাহিদ ১৪০ কিঃমিঃ বেশি গতিতে বল করছিল।”

    আমির পাকিস্তানি ব্যাটিং ও নির্বাচনী নীতিকেও কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি অনুশীলনের অভাব, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রযুক্তিগত দুর্বলতা এবং সিনিয়রদের অভাবকে দায়ী করেন। তার মন্তব্য, “শুধু তরুণদের লাগিয়ে দল হওয়া যায় না; সঠিক নির্দেশনার জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দরকার। মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো কয়েকজনের টেকনিকে ভুল আছে — তারা মিড উইকেটে খেলতে চায়, অফ স্টাম্পের বল বোঝে না।”

    তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে ফ্রন্ট লাইন ব্যাটিংয়ে এমন দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ‘অ্যাসোসিয়েট’ বা সহযোগী দলের স্তরে নেমে যেতে পারে। “আমরা এখন বাংলাদেশকেও হারছি; আমার ভয় হচ্ছে, আমরা কি সহযোগী দেশের মানে নামতে যাচ্ছি?”—এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন আমির। তিনি কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ না দেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

    শেষে তিনি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে কড়া সম্বর্ধনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য একই ধরনের উইকেট রাখার কথাও বলেছেন। “তারা আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে, যেন নিজেদেরও মজা পাচ্ছিল। সেই উইকেটে আমরা ১১৪ করি, তারা ১০–১২ ওভারে রান তাড়া করে ফেলল। আমি বলছি—বাংলাদেশ আপনাদের কাছে স্পিন ট্র্যাক দেবে না; তারা এমনই গতিসম্পন্ন উইকেটে খেলবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, বিশেষ করে নাহিদ রানা; তারা সিরিজ জিততে এই সুযোগটাই নেবে।”

    পাকিস্তান সিরিজের বাকী ম্যাচগুলোতে এই নিয়ে সমাধান ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত কেমন হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • বাংলাদেশ আমাদের আকস্মিকভাবে চাপে ফেলেছে, ভাবছে কি আমরা ‘সহযোগী দেশ’ হয়ে যাচ্ছি: মোহাম্মদ আমির

    বাংলাদেশ আমাদের আকস্মিকভাবে চাপে ফেলেছে, ভাবছে কি আমরা ‘সহযোগী দেশ’ হয়ে যাচ্ছি: মোহাম্মদ আমির

    বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাকিস্তানকে আট উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের তীব্র বোলিংয়ে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী পাকিস্তান দল। পরে লক্ষ্য তাড়া করে টাইগাররা মাত্র ১৫.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই ফলাফল নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমির ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, বাংলাদেশ এমন উইকেট বানিয়েছে যা পাকিস্তান আশাব্যঞ্জক ভাবেই চিন্তা করেছিল না — সে ছিল ‘‘সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন’’। মিরপুরে স্পিন উইকেট হবে বলে ধারণা ছিল, কিন্তু ঘাসে ঢাকা, বাউন্সি উইকেট করে বাংলাদেশ দ্রুত গতিপ্রবণ শর্ত তৈরী করেছে। এতে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যথাযথভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি।

    আমির বলেন, ‘‘আমরা টার্নিং উইকেট ভাবছিলাম, কিন্তু ওরা গতির উইকেট বানিয়েছে। ঠিক যেন অ্যাসাইনমেন্টের বাইরে প্রশ্ন এসে গেল। আমাদের ব্যাটসম্যানেরা ১৪০ কিলোমিটারের ওপরে গতির বোলার দেখতে পেলে চিন্তা করে ফেলছে। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ দুর্দান্ত বল করেছে—বিশেষ করে নাহিদ ১৪০-এর বেশি গতি করে।’’

    পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পেছনে আমির অনুশীলনের অভাব ও নির্বাচকদের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের অনেক ক্ষেত্রে টেকনিকগত দুর্বলতা আছে; তারা মিড উইকেটে খেলা ছাড়া অফ-স্টাম্পের বল বোঝে না। অনুশীলনের জায়গায় উপরের থেকে বল সরাসরি ছুড়ে দিলে সেটা হাতে খেলা নয় — আসল পেসের বিপরীতে খেলার জন্য সঠিক প্রস্তুতি দরকার।

    নির্বাচনী নীতির সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘‘৫-৬ জন সিনিয়রকে বাদ দিয়ে শুধু তরুণদের দিয়েই দল রচনা করা ঠিক না। দলে সিনিয়র ও জুনিয়রের ভারসাম্য থাকতে হবে। আমরা এখন বাংলাদেশকেও হারতে শুরু করেছি—এটা দেখে আমি ভয় পাই, শেষ পর্যন্ত আমরা কি সহযোগী দেশে পরিণত হয়ে যাচ্ছি?’’ তিনি দাবি করেছেন যে কামরান গুলাম ও ইরফান খান নিয়াজির মতো পারফর্মাররা যথাযথ সুযোগ পাননি।

    আমির আশা করছেন সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ একই ধরনের উইকেটই রাখতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘তারা আমাদের ওপর এমনভাবে ধাক্কা দিয়েছে—মনে হচ্ছিল ওরাও অনেক মজা পাচ্ছিল। যে উইকেটে আমরা ১১৪ করেছি, সেই উইকেটে ওরা ১০-১২ ওভারের মধ্যে—or বাস্তবে ১৫.১ ওভারেই—রান তাড়া করে ফেলেছে। আমি বলছি, বাংলাদেশ আপনাদের স্পিন ট্র্যাক দেবে না; তারা গতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ কিলোমিটারে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। সিরিজ জিততে তারা এই সুযোগ কাজে লাগাবে।’’

    এসব মন্তব্যের মাধ্যমে আমির পাকিস্তান দলের সমন্বয়, প্রস্তুতি ও নির্বাচনী নীতিকে প্রশ্ন করেছে। সামনে বাকি ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান কীভাবে এই সমালোচনা ও সমস্যা মোকাবিলা করে—এটিই এখন দেখার বিষয়।

  • বিম-১০ে দুর্নীতির অভিযোগ: উইন্ডিজ পেসার জাভন সিয়ার্লসসহ তিনজন সাময়িক নিষিদ্ধ

    বিম-১০ে দুর্নীতির অভিযোগ: উইন্ডিজ পেসার জাভন সিয়ার্লসসহ তিনজন সাময়িক নিষিদ্ধ

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই) বার্বাডোসে চলমান ঘরোয়া টু-টেন লিগ ‘বিম-১০’ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে তিন জনকে সবরকম ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এতে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার জাভন সিয়ার্লস, টুর্নামেন্টের একজন দল মালিক চিত্রঞ্জন রাঠোর এবং কর্মকর্তা ট্রেভন গ্রিফিথ।

    তিনজনের বিরুদ্ধে ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিম-১০ টুর্নামেন্টে ম্যাচফিক্সিং এবং দুর্নীতির চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ধারাগুলি হচ্ছে—ম্যাচফিক্সিংয়ের চেষ্টা (ধারা ২.১.১), অন্য খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সাথে যুক্ত হতে উসকানিবেন (ধারা ২.১.৪), জুয়াড়িদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষকে না জানানো (ধারা ২.৪.২) এবং দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের তদন্তে বাধা দেওয়া বা তথ্য লুকানো।

    বিশেষ করে ট্রেভন গ্রিফিথের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরের ম্যাচেও দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগ রয়েছে—এটি আইসিসির নোটে উঠে এসেছে। আইসিসি ও সিডব্লিউআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সর্বসম্মত প্রতিক্রিয়া জানাতে ২৫ মার্চের মধ্যে সময় দেওয়া হয়েছে।

    এই পদক্ষেপটি একটি বিস্তৃত তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ; তদন্ত সম্পন্ন হলে কড়াকাড়ি বা চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করা হবে। আপাতত সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগই কেন্দ্রবিন্দু, নেমে আসা সিদ্ধান্ত তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।

    জাভন সিয়ার্লস ক্যারিবীয় ক্রিকেটে পরিচিত একজন পেসার। তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা ছাড়াও ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন এবং ২০১৮ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াডেও ছিলেন। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতেও একই টুর্নামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটসম্যান অ্যারন জোন্সকে দুর্নীতির অভিযোগে নামানো হয়েছিল।

    আইসিসি ও সিডব্লিউআই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে সেই তথ্য প্রকাশ করা হবে, এখন পর্যন্ত নেওয়া এই পদক্ষেপ অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে এবং টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • নাহিদ রানার ফাইফারে পাকিস্তান অলআউট ১১৪ রানে

    নাহিদ রানার ফাইফারে পাকিস্তান অলআউট ১১৪ রানে

    মিরপুরের স্লো উইকেটে সাধারণত স্পিনাররা সুবিধা পান—তবুও আজ আগুন ঝরালেন পেসার নাহিদ রানা। তরুণ এই পেসারের গতি ও বাউন্সে মুগ্ধ হন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ফাইফার তুলে নাহিদ পাকিস্তানকে অলআউট করে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দেন।

    টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানে থামে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা।

    নতুন বলের সময় মিতব্যয়ী বোলিং দেখিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, কিন্তু উইকেট আদায় করতে পারেন নি তারা। ইনিংসের সপ্তম ওভারে শেষ হলে স্পিনের বিকল্প নেওয়া হলো এবং কপাল খুলেনি—তবু পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ নাহিদের হাতে বল তুলে দেন এবং সেটাই প্রথম বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়। ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে সাহিবজাদা ফারহান আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন, ২৭ করে ফিরলে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি।

    এরপরের চার ওভারেই ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নেন নাহিদ। যথাক্রমে শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে এবং নাহিদ নিজের প্রথম ওয়ানডে ফাইফার সম্পন্ন করেন।

    ওই কাবুরেই ১৯তম ওভারে মিরাজও উইকেটের পার্টিতে যোগ দেন—ওভারের শেষ বলে আব্দুল সামাদকে লিটনের গ্লাভসে ধরিয়ে ফেরান। পরের দিকে হোসাইন তালাতকে ২৩তম ওভারেই লেগ-বিফোরে আউট করে আরেকটি ধাক্কা দেন মিরাজ; একই ওভারের শেষ বলেই ফিরিয়েছেন শাহিন আফ্রিদিককে।

    দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তাসকিনও উইকেট নিতে সফল হন। ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তের হাতে ধরা পড়ান তাসকিন।

    নবম উইকেট পড়ে যখন স্কোর ছিল ৮২, তখন পাকিস্তান শুরুর দিকে একশর নিচে অলআউট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। কিন্তু ফাহিম আশরাফ কিছুটা লড়াই করেন এবং আবরার আহমেদের সঙ্গে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোর একশর ওপরে নিয়ে আসেন। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপ শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে অলআউট হয়।

    সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বোলিং—বিশেষ করে নাহিদের প্রাণবন্ত পেসিং—পাকিস্তানের ব্যাটিংকে উত্তর দিতেই দেয়নি এবং ম্যাচে এখন বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে।

  • ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করে সহজ জয় বাংলাদেশে

    ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করে সহজ জয় বাংলাদেশে

    কয়েক মাসের বিরতির পর ওয়ানডে ফিরেই তাণ্ডব ঘটাল বাংলাদেশ। জাতীয় দল দুর্দান্ত বোলিং ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মিশিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে দিয়ে সিরিজের তিন সংখ্যায় বিশাল হাতিয়ায় নিল। প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৩০.৪ ওভারেই গুটিয়ে দিয়ে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ।

    পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন ফাহিম আশরাফ। শুরুটা ভালো না হলেও শেষ সময়ে তিনি আব্রার আহমেদের সঙ্গে ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ন শেষ উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন; তা ছাড়া দলের বাকি ব্যাটাররা বড় দেয়নি।

    বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ছিল সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। ইনিংসের শুরুতে নতুন বলে মিতব্যয়ী বোলিং দেখালেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, কিন্তু উইকেটটা করতে পারেননি তারা। দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ স্পিনার হিসেবে দ্রুত আনা হয়েও প্রাথমিক সফলতা পাননি।

    তবে এরপর তরুণ পেসার নাহিদ খেলায় নামে ভাঙন ধরান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারেই নাহিদকে বোলিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি আক্রমণ ধরেন এবং ওভারশেষে সাহিবজাদা ফারহানকে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ করিয়ে দলকে বড় ব্রেকথ্রু দেন। এরপর পরপর কয়েকটি ওভারেই শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরিয়ে নাহিদ পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে দেন। নিজের পরবর্তী চার ওভারের প্রতিটি ওভারে উইকেট তুলে নেয়ার সুবাদে নাহিদের নামে লেখা গেল ৫ উইকেট, এবং এটা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।

    আজি মিরাজও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ১৯তম ওভারে তিনি আব্দুল সামাদকে লিটনের হাতে ক্যাচ করিয়ে ফিরিয়েছেন এবং পরে হোসাইন তালাত ও শাহিন আফ্রিদিকেও ফেরান। তাসকিনের হাতে একটি উইকেটও এসেছিল—২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে নাজমুল হোসেন শান্তই প্রথম স্লিপে ধরা পড়ানো ক্যাচে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে সাজঘরে পাঠান।

    সব মিলিয়ে পাকিস্তান ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তান দিয়ে এ হয়েছিল বড় ধাক্কা; এ অবস্থায় ফাহিমের ইনিংস ছাড়া বড় অবদানের অভাব ছিল।

    জবাবে তুচ্ছ লক্ষ্যের তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ খেলেছে স্বাধীন ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান প্রথমে ৪ রান করে ফেরলেও দলের অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। তামিম মাত্র ৩২ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬৭ রানে দলকে ১৫.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

    শেষত বাংলাদেশের স্কোর পড়ে ১১৫/২—দুটি উইকেট হারিয়ে স্বচ্ছন্দ জয়। তানজিদের এই ইনিংস ছিল দ্রুত এবং কার্যকর, যা দলের জন্য সুফল বয়ে এনেছে।

    পৃথকভাবে বললে, নাহিদের বোলিংই ছিল ম্যাচটিকে বাংলাদেশি দিকেই টানার মূল কারণ; আর তানজিদের অনবদ্য ইনিংস জয় নিশ্চিত করেছে। বিরতির পর দেশের ক্রিকেটের এমন দাপট দর্শকদের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ করল।