Category: আন্তর্জাতিক

  • শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা ৬১৮ এ পৌঁছেছে, ভূমিধসের কথা ভাবনায় উদ্বেগ বাড়ছে

    শ্রীলঙ্কায় মৃতের সংখ্যা ৬১৮ এ পৌঁছেছে, ভূমিধসের কথা ভাবনায় উদ্বেগ বাড়ছে

    শ্রীলঙ্কায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি নতুন করে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে ইতোমধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬১৮ জনে দাঁড়িয়েছে, আরও নিখোঁজ রয়েছেন ২০৯ জন। রোববার শ্রীলঙ্কান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, চলমান মৌসুমি ঝড়ের কারণে দেশজুড়ে বারবার ভারী বর্ষণ হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকাগুলোর ঢাল দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিম মধ্যভূমি অংশগুলোতে। জলবায়ু সংকটের কারণে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার ফলে গত সপ্তাহে থেকেই বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১০ শতাংশ জনসংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অর্থাৎ দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাদের বাসস্থান হারিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন হেলিকপ্টার এবং বিমান দিয়ে সহায়তা পাঠাচ্ছে, বিশেষ করে কেন্দ্রস্থল এলাকাগুলোতে। দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, এই ক্ষতি মোচনের জন্য প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে, এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০০ পার করেছে। থাইল্যান্ডে কমপক্ষে ২৭৬ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে, আর মালয়েশিয়ায় দু’জন নিহত হয়েছেন। ভিয়েতনামে ভারী বর্ষণের ফলে ধারাবাহিক ভূমিধসে কমপক্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সব ঘটনার মধ্যে প্রকৃতি আমাদের ওপর এর প্রভাব আরও বেশি স্পষ্ট করে দিয়েছে, আরেকবার提醒 দিচ্ছে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের আশঙ্কার কথা।

  • পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, ইমরান খান ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

    পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, ইমরান খান ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান Tehreek-e-Insaf (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানকে দেশের সেনাবাহিনী এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, তিনি ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী ও সেনা সম্প্রদায়ের প্রধান মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এ কথা বলেন।

    আইএসপিআর প্রধান উল্লেখ করেন যে, ইমরান খান ও তার দল নানা উপায়ে সেনাবাহিনী বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, বিদেশি কূটনীতির সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইমরান খান এমন এক অহংবোধে ভুগছেন যে মনে করেন, তার ছাড়া কোন উপায় নেই। এই আত্মকেন্দ্রিক ও বিভ্রান্ত মানসিকতা বর্তমানে জাতিগত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

    চৌধুরী জানান, জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকে ইমরান খান বারবার সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও বদনাম চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ভারত ও আফগানিস্তানের কিছু সংবাদ মাধ্যম ইমরানের বক্তব্য প্রচার করছে যাতে দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্ত করেন, সেনাবাহিনীসহ স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ চালানো মানে হলো, একটি নতুন সেনাবাহিনী সৃষ্টি করার মতো ব্যাপার।

    আইএসপিআর প্রধান আরও বলেন, ইমরানের সাম্প্রতিক টুইটগুলো আত্মবিশ্বাসের অমূলক অহংকারের প্রকাশ এবং এই অহংকার জাতির স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক। তিনি নিজের তুলনাও করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ইমরান খানের তুলনা ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেন।

    সেনাবাহিনীর জন্য তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে সব সময় প্রধান কর্তৃপক্ষ হলো রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার। সেনাবাহিনী তাদের অধীনস্ত, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেটা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা যাবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।

    তিনি আধুনিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করা উচিত। কোনো ষড়যন্ত্র বা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেওয়া হবে না। পাকিস্তান থাকবে, সেনাবাহিনী থাকবে, এই প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন তিনি।

    সূত্র: জিও নিউজ

  • পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট প্রস্তাব: ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলোর উপরে জোর

    পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোট প্রস্তাব: ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলোর উপরে জোর

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার বলেছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং চীনকে কেন্দ্র করে একটি ত্রিদেশীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জোটে আরও অন্যান্য দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পরিধি আরও বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। এ ছাড়া, তিনি জানান, এই অঞ্চলের বাহিরে অন্য কোনও দেশের অংশগ্রহণও সম্ভব হতে পারে।

    গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কনক্লেভ ফোরামে এক বক্তৃতায় ইশহাক দার বললেন, “আমরা আন্দোলিত হয়ে অন্যের ক্ষতি নয়, বরং সহযোগিতার মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। আমরা সবসময় সংঘাতের বদলে সম্প্রীতির দিকে এগোতে পছন্দ করি।” তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই জোট পাকিস্তানের জন্য সার্কের বিকল্প কিছু প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অংশ, কারণ ভারতে বিরাজমান উত্তেজনার কারণে সার্ক কার্যকর থাকতে পারেনি।

    জানা গেছে, 지난 জুনে চীন-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কর্মকর্তারা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছিলেন, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়। তারা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এ আলোচনা কোনও অন্য দেশের লক্ষ্য নয়।

    অবশ্য, ইশহাক দার এই কথাবার্তার সময় আঞ্চলিক উত্তেজনা চলমান থাকাকালে সেই আলোচনাগুলোর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেন। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ-সংঘাত চলে আসছে, যার মধ্যে মে মাসে দুই দেশের মধ্যে চারদিনের যুদ্ধও হয়েছিল। এছাড়া, গত বছর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় সম্পর্কের তিরি ডুবতে থাকে। মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখনো তাকে ফেরত পাঠানোর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

    পাকিস্তানের এই প্রস্তাব বা উদ্যোগ কেমন ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা চলছে। ইসলামাবাদ কনক্লেভে ইশহাক দার বললেন, “আমাদের নিজের জাতীয় উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্বার্থ বড়, সুতরাং কোনও রাজনৈতিক অচলাবস্থা আমাদের অগ্রগতি রুখে দেবে না। আমি জানি, ভারতের সাথে সম্পর্ক আরও আরও ভালো করার ওপর আমাদের গুরুত্ব দেওয়া দরকার।”

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সীমাবদ্ধ সম্পর্কের কারণে আমাদের অর্থনৈতিক অঙ্গনে অনেক সম্ভাবনা অপচয় হচ্ছে। তবে, সার্কের বদলে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে বের করতে চাই।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের এই উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল হবে এবং চীন-ভারত সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি হবে।

    সাধারণত, দক্ষিণ এশিয়া বড় আঞ্চলিক সংগঠনের ব্যর্থতা, উচ্চ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের কারণে স্বল্প পরিসরে উঠে আসা এই প্রস্তাব নতুন আঞ্চলিক জোটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে তোলে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উদ্যোগ কার্যকরী হলে এর ফলাফল আরেকবার দেখাতে পারে আঞ্চলিক সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বের বাড়বাড়ন্ত। সবকিছুর উপর নির্ভর করছে এই জোট কেমনভাবে গড়ে ওঠে ও দেশের স্বার্থে কতটা কার্যকর হয় সেটাই দেখার বিষয়।

  • পাকিস্তানে কারাগারে ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    পাকিস্তানে কারাগারে ইমরান খানের সাক্ষাৎ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    কারাগারে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তিনি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন। তিনি ইমরানকে ‘যুদ্ধ উন্মাদনায় মগ্ন চরমপন্থি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে, দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ইমরানকে ‘মানসিক রোগী’ ও দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এর কিছু সময়ের মধ্যে সরকার তার সঙ্গে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করে। তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা জিও টিভির ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে বলেছেন, “কয়েদিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় আইন এবং নিয়মানুযায়ী। এখন আর কোনো সাক্ষাৎ হচ্ছে না। সব ধরনের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি কেউ জোরপূর্বক ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে চায় বা এ নিয়ে আন্দোলন করে, তাহলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেল থেকে শত্রুদের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। উল্লেখ্য, দুই দিন আগে ইমরান খান তার বোন উজমা খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে গিয়ে দেখা করেন। এরপর তিনি জানাতে পারেন, সেনাপ্রধান অসীম মনিরের কর্মকাণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ। ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে কারাগারে থাকছেন। গত সপ্তাহে তার সঙ্গে কারাগারে কারো যোগাযোগ হয়নি বলে সমালোচনাও উঠেছিল। এরই মধ্যে পিটিআই প্রতিষ্ঠার জন্য বিক্ষোভও শুরু হয়েছিল। তবে তার বোন উজমা খানকে দেখা করতে দেওয়া হয় ক্ষণিক সময়ের জন্য।

  • ফোনে আড়িপাততে মরিয়া ভারত সরকার, এবার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা

    ফোনে আড়িপাততে মরিয়া ভারত সরকার, এবার স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের পরিকল্পনা

    ভারত সরকার নজরদারির আধুনিকীকরণে নতুন একটি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে, যেখানে আরেকধাপে স্মার্টফোনগুলোতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্থানে থাকার খবর বা স্থান নির্ধারণের সেবা সবসময় চালু থাকবে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অনুমতি বা সেটি বন্ধ করার সুযোগ থাকবে না, যা অধিকতর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে সরকার বা প্রভাবশালী সংস্থাগুলির জন্য ব্যবহারকারীকে নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করাও অনেক সহজ হয়ে যাবে।

    খবরের সূত্র অনুযায়ী, বিভিন্ন নথি, ইমেল এবং মোট পাঁচটি স্বতন্ত্র সূত্রের ভিত্তিতে রয়টার্স এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তাহলে স্মার্টফোনে থাকা লোকেশন পরিষেবাগুলোর উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে, এবং ব্যবহারকারী চাইলে সেই পরিষেবাগুলো ডিঅ্যাকটিভেট বা বন্ধ করতে পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাধারণত এই-জিপিএস প্রযুক্তি তখনই সক্রিয় হয় যখন ব্যবহারকারী কোন অ্যাপ চালু করে বা জরুরি কল করে, কিন্তু নতুন প্রস্তাব এড়াতে পারবে না। ফলে, সরকারের জন্য ব্যবহারকারীর অবস্থান প্রায় নিখুঁতভাবে জানতে পারা সহজ হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটেনের ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জুনাদে আলী এই নতুন পরিকল্পনাকে ‘একটি সম্পূর্ণ নজরদারি ডিভাইস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে ফোনগুলো সম্পূর্ণরূপে বর্তমানের থেকে আলাদা একটি নজরদারির যন্ত্র হয়ে উঠবে।

    এর আগে, মোদি সরকার সকল ডিভাইসের মধ্যে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত সাইবার নিরাপত্তা অ্যাপ প্রি-লোড করার নির্দেশ দিলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্কের মুখে সেটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। এই পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই নতুন পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    অতিরিক্ত তদন্তে দেখা যায়, টেলিকম সংস্থাগুলোর কাছে আইনি অনুরোধ করেও তারা ব্যবহারকারীর সঠিক অবস্থান নির্ধারণে অক্ষম। বর্তমান ব্যবস্থায়, সংস্থাগুলো কেবলমাত্র সেলুলার টাওয়ার ডেটা ব্যবহার করে থাকে, যা আনুমানিক এলাকা নির্দেশ করে। এই ডেটা অনেকাংশে ব্যবহারকারী থেকে কিছু মিটার দূরে দেখায়। অন্যদিকে, এই-জিপিএস প্রযুক্তি এক মিটারের মধ্যেই অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

    প্রস্তাবিত এই প্রযুক্তির ব্যাপারে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগ সংস্থা যেমন রিলায়েন্সের জিও ও ভারতী এয়ারটেল-এর প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারের যদি নির্দেশনা থাকে, তবে তারা এ-জিপিএস প্রযুক্তিক সক্রিয় করতে পারে।

    বিশেষ করে, লবিং সংস্থা ইন্ডিয়া সেলুলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন (আইসিইএ), যা অ্যাপল ও গুগলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের এক গোপন চিঠিতে জানিয়েছে, এই ধরনের স্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা অন্য কোথাও দেখা যায় না এবং এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে।

    অপরদিকে, মার্কিন ভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষক কুপার কুইন্টিন এমন পরিকল্পনাকে ‘সত্যিই ভয়ানক’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ এই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের 위험 বাড়াতে পারে।

    এখনো ভারতের সরকার এই বিষয়ে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেনি, তবে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ও লবিং সংস্থা এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা মনে করছে, এই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী যেমন সামরিক অফিসার, বিচারক, কর্পোরেট কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠবে, কারণ তাঁদের সংবেদনশীল তথ্য থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়বে।

    অন্যদিকে, টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোর দাবি, পুরোনো ট্র্যাকিং পদ্ধতিগুলোর কারণে অনেক সময় সমস্যা হয়, বিশেষ করে যখন মোবাইল প্রস্তুতকারীরা ব্যবহারকারীদের সতর্ক করার জন্য পপ-আপ বার্তা দেখায়। সেই বার্তাগুলোতে লেখা থাকে যে, তাদের নেটওয়ার্কের দ্বারা তাঁদের স্থানাঙ্কের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারে যে তাদের স্থান ট্র্যাক করা হচ্ছে। ফলে, সংস্থাগুলো সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, এই পপ-আপ ফিচারটি ডিঅ্যাকটিভেট করার সুযোগ দিতে। তবে আইসিইএ বলছে, ব্যবহারকারীর স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই ধরনের সতর্কতা সংবিধান ও গোপনীয়তা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

  • পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগানিস্তানে চারজন নিহত

    পাকিস্তানি সেনাদের হামলায় আফগানিস্তানে চারজন নিহত

    আফগানিস্তানের বোলদাক বিভাগের সীমান্তে পাকিস্তানি ও আফগানি সেনাদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে চারজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। কাবুলের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, এই চারজনে সাধারণ নাগরিক ছিলেন। ঘটনাটি ঘটে গত রাতের প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে, যখন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গুলির শব্দে ভágioপ্রাপ্ত হয় পুরো এলাকাটি। বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই গোলাগুলি চলতে থাকায় আকাশে ও জমিতে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।

    উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতি গত অক্টোবর থেকে অব্যাহত আছে। ঐ মাসে দেশের সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়, যেখানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হন। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সেই সংঘাত কিছুটা কমে আসলেও সম্প্রতি আবার সেটি জোরদার হয়েছে।

    কিছুদিন আগে সৌদি আরবে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে কে আগে গুলি চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়; উভয় পক্ষই একে-অপরের উপর দোষারোপ করছে।

    কান্দাহার প্রদেশের গভর্নর জানান, চারজনের মৃত্যুর তথ্যটি তারা নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি দাবি করেছেন, চামান সীমান্তে পূর্বাভাসবিহীনভাবে আফগান সেনারা প্রথমে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলী মোহাম্মদ হাকমাল বলেছেন, পাকিস্তানি সেনারা হালকা ও ভারী কামান দিয়ে হামলা চালিয়েছে, যার ফলস্বরূপ কামানের গোলা বেসামরিক মানুষের বাড়িতে আঘাত হেনেছে।

    দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শান্তি বজায় রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • পুতিনের কঠোর হুঁশিয়ারি: ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা

    পুতিনের কঠোর হুঁশিয়ারি: ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পোর্টগুলোতে এবং জাহাজে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা সামুদ্রিক দমন-পীড়নের একটি অপ্রতিরোধ্য পদক্ষেপ হবে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুতিন এই হুমকি ঘোষণা করেন।

    প্রকৃতপক্ষে, রুশ পতাকাবাহী বেশ কিছু ট্যাংকারে সাম্প্রতিক হামলার জন্য ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীকে দুষছেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনী যা করছে, তা হলো দস্যুতা। প্রথমত, রাশিয়া তাদের বন্দর ও জাহাজে হামলা চালাবে। দ্বিতীয়ত, যদি এই দস্যুতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তাহলে আমরা সম্ভাব্যতা যাচাই করব— আমি বলছি না, করব—but সম্ভব হলে তাদের জাহাজে হামলা চালানো হবে।’

    পুতিন আরও উল্লেখ করেন, ‘সবচেয়ে বড় বিকল্প হচ্ছে ইউক্রেনকে সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। তখন তাদের দস্যুতা চালানো সম্ভব হবে না।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইউক্রেনের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা এবং যারা এই হামলার পেছনে রয়েছে, তারা বুঝতে পারবেন যে, এর কোনও ফলাফল হবে না।

    গত দুই দিনের মধ্যে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সামুদ্রিক ড্রোন ব্যবহার করে এই জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি চুক্তি নিয়ে মস্কোতে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং জের্ড ক্রুসনার। তারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন, কিন্তু ইউরি উসাকোভের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আলোচনার কোনও ফলাফল হয়েছে বলে মনে হয় না।

  • চার দেশ বকেয়া রেখে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে জাতিসংঘ

    চার দেশ বকেয়া রেখে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে জাতিসংঘ

    সদস্য দেশগুলোর বকেয়া অর্থ না দেওয়ায় বর্তমানে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে জাতিসংঘ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২০২৬ সালে সংস্থার বাজেট হ্রাস করা হবে ১৫.১ শতাংশ এবং কর্মী সংখ্যাও কমানো হবে ১৮.৮ শতাংশ। খবর আল জাজিরার। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, সদস্য দেশগুলোর বকেয়া এখন এক ট্রিলিয়ন ৫৯০ বিলিয়ন ডলার, যা সরাসরি সংস্থার কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত হুমকি স্বরূপ। তিনি আরও বলেছেন, ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত বাজেট হবে ৩.২৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ এর তুলনায় প্রায় ৫৭৭ মিলিয়ন ডলার কম। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ সবচেয়ে বেশি বকেয়া রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও মেক্সিকো। তবে, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা ইউএনআরডবিøউ-এর বাজেট কমানো হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। মহাসচিব গুতেরেস বলেন, ‘গাজার মানবিক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হলো ইউএনআরডবিøউ। এ সংস্থার বাজেট কমালে ভয়াবহ পরিণতি ঘটবে।’ পাশাপাশি, ডেভেলপমেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং আফ্রিকার উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রচারণার বাজেট ২০২৫ সালের স্তরেই রাখা হবে। বাজেটের ঘাটতি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মোট ২,৬৮১টি পদ বাতিল করা হবে, যেখানে এসব পদ এমন কাজে নিয়োজিত যা অন্য কোনও সংস্থা আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে পারে বা দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কমানো সম্ভব। এছাড়া, লিকুইডিটি ক্রাইসিসের কারণে প্রায় ১৮ শতাংশ পদ ইতিমধ্যেই শূন্য। তবে এগুলো সরাসরি কাটা হবে না। ২০২৬ সালে বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোতে বরাদ্দ হবে ৫৪৩.৬ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৪৯.৫ মিলিয়ন ডলার বা ২১.৬ শতাংশ কম। কিছু মিশন বন্ধ বা কার্যক্রম সীমিত করে এই সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে খরচ কমানোর পরিকল্পনায়, জাতিসংঘ ২০২৭ সালের মধ্যে আরও দুটি অফিস লিজ বাতিলের পরিকল্পনা করছে, যার ফলে ২০২৯ সাল থেকে বছরে প্রায় ২৪.৫ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। গুতেরেস আরও জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল থেকে নিউইয়র্কের কিছু অফিস বন্ধের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ১২৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে সাশ্রয় করা হয়েছে।

  • গিনেস বুক এবার ইসরাইলের রেকর্ড বয়কট করল

    গিনেস বুক এবার ইসরাইলের রেকর্ড বয়কট করল

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখন থেকে ইসরাইল থেকে কোনও নতুন রেকর্ড নিবন্ধনের জন্য আবেদন পর্যালোচনা করবে না। সম্প্রতি এক ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে। এটি এমন সময় যখন ইসরাইলে থাকা এক অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডের আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইসরাইল থেকে পাঠানো কিছু আবেদন তারা এখন নিষ্পত্তি করছে না। বিশেষ করে, একটি ইসরাইলি সংস্থার কাছ থেকে কিডনি দান উৎসাহিত করতে গিনেসে আবেদন জমা পড়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সংস্থা, যার নাম ‘মাতনাত চাইম’, দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল—পশ্চিম তীর ও গাজা—সহ বিচরণকারি অঞ্চলে স্বেচ্ছায় কিডনি দাতাদের সংখ্যা ভিত্তিক রেকর্ডের জন্য আবেদন করেছিল।

    গিনেস কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে একটি চিঠি পাঠায়, যেখানে লেখা হয়, ‘আমরা বর্তমানে ইসরাইল থেকে রেকর্ড নিবন্ধনের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করছি না।’ এর পাশাপাশি, এই সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিবেশী ফিলিস্তিনি অঞ্চলে স্বেচ্ছায় কিডনি দান সংগ্রহকারীরা যেমন ‘মাতনাত চাইম’ সংস্থার হয়ে কাজ করছেন, সেখানে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এই সংস্থা দাবি করেছে, তারা মোট ২০০০ জন দাতাকে সংগঠিত করেছে, যারা অপরিচিত ব্যক্তিদের কিডনি দান করেছেন এবং তারা ওই দাতাদের নিয়ে গিনেসে আবেদন করেছিল।

    তবে ব্রিটিশ রেকর্ড সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানটি তাদের এ আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। রিপোর্টে বলা হয়, গিনেস কর্তৃপক্ষ তাদের প্রক্রিয়া স্থগিত করে ইমেইলে জানিয়েছে যে, তারা ‘বর্তমানে ইসরাইল বা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে রেকর্ড আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করছে না’।

    এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে ইসরাইলিরা, যারা মনে করেন, গিনেসের এই পদক্ষেপ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তবে এখনো গিনেস কর্তৃপক্ষ কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এটি স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ প্রভাব ফেলছে।

  • করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বাংলাদেশ বিমান, সপ্তাহে ৩ দিন

    করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বাংলাদেশ বিমান, সপ্তাহে ৩ দিন

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশপথে সরাসরি সেবা চালু হচ্ছে আবার। পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসাইন খান জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই করাচি রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে বাংলাদেশ বিমান। এই উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও সংযোগ আরও বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    খবরটি জানানো হয়, বুধবার ভারতের ফরেন সার্ভিসেস অ্যাকাডেমিতে এক বক্তৃতায় এই তথ্য দেন হাইকমিশনার ইকবাল হুসাইন খান। এই বক্তৃতার সময় তিনি জানান, সম্প্রতি এই অ্যাকাডেমিতে বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য নতুন করে লেকচার সিরিজ শুরু হয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণরত তরুণ পাকিস্তানি কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

    উপস্থিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু করছি। আমাদের জাতীয় বিমান সংস্থা সপ্তাহে তিনবার করাচিতে ফ্লাইট পরিচালনা করবে।’ পাশাপাশি ভারতীয় আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, যেমনটি বাংলাদেশের উড়োজাহাজ ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করে, তেমনি পাকিস্তানের ফ্লাইটগুলোও ভারতের ওপর দিয়ে উড়বে।

    সূত্রের ভাষ্য, পাকিস্তানের ওপর ভারতের চলমান আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে পাকিস্তানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বাংলাদেশি এই হাইকমিশনার তরুণ কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বক্তৃতা দেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

    তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, সংযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির অসাধারণ সুযোগ থাকলেও সীমিত প্রবেশাধিকার, সীমান্ত সমস্যা ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক জটিলতা এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর অনেক সুযোগ থাকলেও সীমিত প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। অতীতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রেল পথে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন সহজ ছিল, কিন্তু এখন কাজের অগ্রগতির বদলে খেজুরসহ অন্যান্য পণ্য বিভিন্ন পথে বহন করে আনা হয়, এমনকি দুবাই ঘুরে পৌঁছে যাচ্ছে।

    তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সরাসরি বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন এবং কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কাশ্মিরের শতবর্ষী পশমিনা শিল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, খেজুর ও পশমিনার মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্য সরাসরি রুটে বাণিজ্য করলে তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

    দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে ক্ষতিগ্রস্ত ভৌগোলিক সংযোগকে তিনি সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেন। একসময়ে কাবুল, পেশোয়ার, ঢাকা থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রাচীন বাণিজ্যপথ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে সেই সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, কেউ একা উন্নতি করতে পারে না, তাই আঞ্চলিক সহযোগিতা দরকার, যার জন্য বিমসটেক গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।

    তার মতে, ঔপনিবেশিক মনোভাব, মতাদর্শের আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে দুর্বল করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন, পরিবর্তনপ্রত্যাশী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের যুব সমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

    ইকবাল হুসাইন খান বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব গঠিত হলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দ্রুত হবে, পুরোনো বাধাগুলো ভেঙে যাবে। কিছু কৃত্রিম সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানুষ একে–অপরের কাছে আসার অভিলাষী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে এবং উন্নত নেতৃত্ব তৈরি হবে।’