Category: আন্তর্জাতিক

  • ইরান দাবি: শিন বেট সদরদপ্তর ও দুই বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

    ইরান দাবি: শিন বেট সদরদপ্তর ও দুই বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

    ইরান বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে তারা ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের সদরদপ্তর এবং দু’টি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ভূমধ্যসাগর উপকূলে অবস্থিত পালমাহিম বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিকে লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি তেল আবিবে অবস্থিত শিন বেটের সদর দফতরও নকশা করা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এ হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৭৯ জন আহত হয়েছেন; তাঁদের অনেকেরই অবস্থা হালকা। মন্ত্রণালয় বলেছে, যুদ্ধে শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে পরিচালিত হামলায় আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২ হাজার ৭৪৫ জনে পৌঁছেছে।

    এদিকে কুয়েতেও বিমানবন্দরে ড্রোন আঘাতের ঘটনা এসেছে। কুয়েতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি ড্রোন আঘাত করেছে এবং দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে এতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

    এই ঘটনার বিবরণ আল জাজিরা ও এএফপি থেকে পাওয়া সংবাদে বলা হয়েছে। উভয় পক্ষের দাবির স্বাধীনভাবে তৎক্ষণাৎ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • বসরার কাছে ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

    বসরার কাছে ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

    ইরাকের বসরা বন্দরের নিকট জলসীমায় এক মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাগদাদস্থ ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় হতাহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। দূতাবাস জানিয়েছে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘সেফসি বিষ্ণু’ বসরা বন্দরের কাছাকাছি হামলার শিকার হয়, এবং সেখানে দুর্ভাগ্যবশত একজন ভারতীয় ক্রু প্রাণ হারান।

    দূতাবাসের বরাতে জানানো হয়েছে, বাকিদের মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় ক্রুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; নিহতের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দূতাবাস মৃত নাবিককে উদ্ধার করা বাকি পরিবারকে সাহায্যসহ প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানে ইরাকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

    ইরাকি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, বসরা প্রদেশের আল-ফাও বন্দরের কাছে দুইটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে আরও ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো বলছে, হামলাটি বিস্ফোরকবাহী বোট ব্যবহার করে করা হয়েছিল যা দুটি ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনার পরে ইরাকের সব তেলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে; যদিও বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে।

    ঘটনার বিবরণ ও হতাহতদের সুস্থতা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া এড়িয়োলে দূতাবাস এবং ইরাকি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আপডেট জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইরাকে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

    ইরাকে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

    ইরাকের বসরা বন্দরের নিকটবর্তী জলসীমায় মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাগদাদের ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনাটি নিশ্চিত করে।

    দূতাবাস জানিয়েছে, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘সেফসি বিষ্ণু’ বসরা এলাকায় হামলার শিকার হয়; এ ঘটনায় একজন ভারতীয় ক্রু সদস্য প্রাণ হারান। নিহতের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    দূতাবাসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে বাকি ১৫ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। দূতাবাস উদ্ধারকৃত নাবিকদের এবং ইরাকি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছে।

    এর আগে ইরাকি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, বসরা প্রদেশের আল-ফাও বন্দরে দু’টি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএনএ জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    বন্দর নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছিল যে ট্যাংকার দুটিতে বিস্ফোরকবাহী বোট ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে ওই জাহাজগুলোতে আগুন লাগে। ঘটনার পর ইরাকে সব তেলবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; তবে বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর কার্যক্রম সচল রয়েছে।

    ইরাকি কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভারতীয় দূতাবাসও ক্ষতিগ্রস্ত নাবিকদের উদ্ধার ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে মনিটরিং করছে।

  • ইরান দাবি: শিন বেট সদরদপ্তর ও দুই বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

    ইরান দাবি: শিন বেট সদরদপ্তর ও দুই বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা

    ইরান জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটের সদরদপ্তরসহ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে ড্রোনে আঘাত করেছে। বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতি এই দাবি করে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক সদস্যরা ড্রোন ব্যবহার করে তেল আবিবে অবস্থিত শিন বেটের সদরদপ্তর এবং দুইটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ করেছিল। আইআরএনএ-র খবরে বলা হয়েছে, হামলায় ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় শহর ইভনের পশ্চিমে অবস্থিত পালমাহিম বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করা হয়। ইরানি বিবৃতিতে হামলার দায়িত্ব ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (ইরানি রেভলিউশনারি গার্ড) নিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৭৯ জন আহত হয়েছেন; তাদের বেশিরভাগই হালকা জখম। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধে শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এসব হামলার ফলে ইসরায়েলে মোট আহতের সংখ্যা বাড়ে ২ হাজার ৭৪৫-এ।

    একই সময়ে কুয়েতে সম্প্রচারিত রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কুনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েকটি ড্রোন আঘাত করেছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আঘাতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোয় ক্ষতি হয়েছে; তবে আহত বা প্রাণহানির বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    উপরের সব তথ্য সংকলন করা হয়েছে আল জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদন থেকে।

  • ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর দাবি: গত ১২ দিনে আরও ১৩ মার্কিন সেনা নিহত

    ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর দাবি: গত ১২ দিনে আরও ১৩ মার্কিন সেনা নিহত

    ইরান সমর্থিত এক জোট ঘোষণা করেছে, গত ১২ দিনে তাদের অভিযানে আরও ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছে। গোষ্ঠীটির বরাত দিয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এই সময়ে মোট ২৯১টি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায়ই ৩১টি অভিযান চালানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে এসব অভিযানে ইরাক ও সংলগ্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, কিছু হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হলো এবং অন্যদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক নামের এই স্বশস্ত্র সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, তারা গতকাল (মঙ্গলবার) দক্ষিণ ইরাকের উত্তর বসরা প্রদেশের আকাশে একটি উন্নত ড্রোন ভূপাতিত করেছে; গোষ্ঠীটি বলেছে সেটি ছিল একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। বিবৃতিতে এই ড্রোনকে লক্ষ্য করে ‘উপযুক্ত অস্ত্র’ ব্যবহার করে তা নামিয়ে আনার কথাও বলা হয়েছে।

    ঘোষণায় আরও দাবি করা হয়েছে যে, অভিযানে মোট ২৯১টি হামলা চালানো হয়েছে এবং এসবের ফলে ১৩ মার্কিন সৈন্য নিহত ও অনেকেই আহত হয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে যে, যদি কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে বা অংশগ্রহণকারি হিসেবে আগ্রাসনে জড়ায়, তাদেরকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ইরাকে ও এই অঞ্চলে তাদের বাহিনী ও স্বার্থগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ করা হবে।

    বিবৃতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকেও একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে; সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বশক্তিগুলো ‘মুক্ত মানুষদের ওপর নিজেদের আধিপত্য চাপিয়ে’ বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ করছে—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। গোষ্ঠী সূত্র আরও অভিযোজন করেছে যে, জায়নিস্ট এবং আমেরিকান শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের মিত্রদের মোকাবিলায় জড়িয়ে ফেলতে চেষ্টা করছে।

    এই দাবিগুলো এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে বর্তমান সংঘর্ষে সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তবে তেহরান ও তাদের সমর্থিত হিসেবে পরিচিত গোষ্ঠীগুলো আলাদা সংখ্যার কথা বলছে এবং ক্রমান্বয়ে হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সূত্রপাত ও তৎপরতাসহ সাম্প্রতিক কর্মসূচির পটভূমিতে পারদ বাড়ছে—প্রতিবেদনগুলোর কথা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন বিমান হামলা চালিয়েছে; এর আগেও উস্কানিমূলক আক্রমণ ও প্রতিক্রিয়া ছিল। তেহরান ও প্রো-ইরান গোষ্ঠীগুলি পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, এই সাম্প্রিক উত্তেজনার ফলে ইতিমধ্যে কয়েকশ নারী ও শিশুসহ শতশত বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে; প্রেস টিভির একাধিক প্রতিবেদন এসব তথ্য পরিবেশন করেছে।

    উল্লেখ্য, এসব দাবির বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং বিভিন্ন পক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বলা সংখ্যাপ্রকাশিত দাবি প্রায়ই বিপরীত বক্তব্যের মুখোমুখি হয়। সংঘাতসংক্রান্ত এই তথ্য-দাবি ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও স্পষ্টতা এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধান দাবি করা হচ্ছে।

    সূত্র: প্রেস টিভি।

  • দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাতে বাংলাদেশিসহ চারজন আহত

    দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাতে বাংলাদেশিসহ চারজন আহত

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে; এতে একজন বাংলাদেশিসহ চারজন আহত হয়েছেন।

    দুবাই মিডিয়া অফিস এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, কিছুক্ষণ আগে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় দুটি ড্রোন আঘাত হানে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় দু’জন ঘানার নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি সামান্যভাবে আহত হন; আরেকজন ভারতীয় নাগরিক মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন।

    বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোট চারজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। জরুরি কর্মপন্থা কার্যকর থাকায় বেশিরভাগ টার্মিনাল থেকে আগেই যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সে কারণে হামলার পরও বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তারা।

    কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অনুরোধ করেছে যে, ফ্লাইট নিশ্চিত না করা পর্যন্ত বিমানবন্দরে আসবেন না, কারণ যেকোনো সময় ফ্লাইটের সূচীতে পরিবর্তন ঘটতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, বলে অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার জানায়, এসব হামলায় এ পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন; নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং একজন নেপালের নাগরিক রয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

    ইরানি হামলার শুরু থেকে বিশ্বের ব্যস্ততম এয়ারপোর্টগুলোর মধ্যে একটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বিমান চলাচলে ব্যাপক ব্যাহত দেখা দিয়েছে; পরবর্তীতে কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু হলেও এয়ারলাইন্সগুলো এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেনি।

    সূত্র: গালফ নিউজ

  • শ্রীলঙ্কার আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তর করতে নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কার আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তর করতে নির্দেশ দিল

    গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার একটি আদালত দেশটির উপকূলে ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহত ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরানীয় দূতাবাসকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য বুধবার (১১ মার্চ) জানিয়েছে।

    ঘটনাস্থলে থাকা সূত্র ও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের টর্পেডো আঘাতের ফলে ধ্বংসর সন্ধানে পড়েছিল। জাহাজটি তখন ভারত আয়োজিত সামরিক মহড়া থেকে ফিরছিল। হামলার পর আন্তর্জাতিক তেলমূল্যের ওঠানামা দেখা গেছে ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।

    গালের কর্তৃপক্ষ (গাল হাবর পুলিশ) লাশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। নিহতদের মরদেহগুলো বর্তমানে গালের ন্যাশনাল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। হামলায় কর্মরত আইআরআইএস ডেনা থেকেও ৩২ জন বেঁচে গেছেন।

    একই সময় শ্রীলঙ্কা আইআরআইএস বুশেহর নামে দ্বিতীয় ইরানি জাহাজের ২০৮ জন ক্রুকে ৩০ দিনের ভিসা দিয়েছে; তারা উপকূলে ইঞ্জিন সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে দেশটিতে ভিড়েছিল। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার ডিসানায়কে জানান যে দ্বিতীয় জাহাজটি পরে ত্রিঙ্কোমালিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এ ছাড়া দক্ষিণ ভারতের একটি বন্দরে আইআরআইএস লাভান নামের তৃতীয় ইরানি জাহাজ ১৮৩ ক্রু নিয়ে নোঙ্গর করে আছে।

    উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার জন্য উভয় দেশই — যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান — গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ ভাগীদার এবং ইরান শ্রীলঙ্কার অন্যতম প্রধান চা ক্রেতা।

  • দুবাই বিমানবন্দরের কাছে দু’টি ড্রোন বিধ্বস্ত; বাংলাদেশিসহ ৪ জন আহত

    দুবাই বিমানবন্দরের কাছে দু’টি ড্রোন বিধ্বস্ত; বাংলাদেশিসহ ৪ জন আহত

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক কাছে দু’টি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে; এতে চারজন আহত হয়েছেন। দুবাই মিডিয়া অফিস এক্সে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় দুইজন ঘানার নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি সামান্য আহত হয়েছেন এবং একজন ভারতীয় নাগরিক মাঝারি পর্যায়ের আহত হয়েছেন।

    বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আহতরা তাদের কর্মী এবং সবারই তৎক্ষণাত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরও বিমানবন্দরের মধ্যে বিমান চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা জরুরি পরিকল্পনা অনুসরণ করে আগেই অধিকাংশ টার্মিনাল থেকে যাত্রীরা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

    আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের ফ্লাইট নিশ্চিত হওয়া না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে এসে ভিড় না করতে অনুরোধ করা হয়েছে, কারণ যেকোনো সময় ফ্লাইটের সূচী পরিবর্তিত হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের তথ্যে এসব হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন নিহত এবং শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি ও একজন নেপালের নাগরিক রয়েছেন; আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    ইরানি হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম আকাশবন্দরগুলোর এক—দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য বন্দরগুলোতেও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হলেও এয়ারলাইনগুলো এখনও পুরো সক্ষমতায় পরিচালনা শুরু করতে পারেনি।

    সূত্র: গালফ নিউজ

  • শ্রীলঙ্কা আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কা আদালত ইরানকে ৮৪ নাবিকের মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশ দিল

    শ্রীলঙ্কার এক আদালত গত সপ্তাহে উপকূলীয় এলাকায় ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলায় নিহত ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরান দূতাবাসকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার (১১ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া অনুসারে আক্রান্ত জাহাজ আইআরআইএস ডেনা একটি সাবমেরিনের টর্পেডো আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; জাহাজটি তখন ভারত আয়োজিত সামরিক মহড়া থেকে ফেরত আসছিল। এই হামলায় ৮৪ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩২ জন পানিগ্রস্ত অবস্থায় বেঁচে যান।

    গলের হাবর পুলিশ লাশ হস্তান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করে এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। মৃতদেহগুলো বর্তমানে গালের ন্যাশনাল হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

    একই সময় শ্রীলঙ্কা ৩০ দিন মেয়াদি ভিসা দিয়েছে আইআরআইএস বুশেহর নামের দ্বিতীয় ইরানি জাহাজের ২০৮ সদস্যকে; তারা জাহাজের ইঞ্জিনগত সমস্যার কারণে শ্রীলঙ্কার উপকূলে এসে নোঙর করেছিল। সরকারের বরাতে জানা গেছে, ওই জাহাজটি পরে ত্রিঙ্কোমালিতে সরিয়ে নেয়া হবে।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। শ্রীলঙ্কার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার; যুক্তরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার পোশাক রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশের ক্রেতা এবং ইরান তাদের বড় চা ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন।

    এর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে আইআরআইএস লাভান নামের তৃতীয় ইরানি জাহাজ ১৮৩ সদস্য নিয়ে নোঙর করেছে। কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতি তদন্ত ও নৌসুরক্ষা জোরদার করেছে।

  • ভারতে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার পথে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

    ভারতে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার পথে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

    সুপ্রিম কোর্ট ভারতে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্যাসিভ ইউথানেশিয়া—অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে জীবন বাঁচানোর চিকিৎসা ব্যবস্থা সরানোর অনুমতি—দিয়েছে। দীর্ঘ তেরো বছর শয্যাশায়ী থাকা দিল্লির যুবক হরীশ রানাকে হাসপাতালে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণের ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটিকে বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    হরীশ রানার বয়স বর্তমানে ৩২। তিনি একসময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আঘাত পান; মেরুদণ্ডে ভোগান্তিকর আঘাতের ফলে তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ওই ঘটনার পর থেকে তার চারটি অঙ্গই কার্যত অচল।

    চিকিৎসকদের বিবরণ অনুযায়ী হরীশের বহুবছরের অবস্থায় তিনি বাহ্যিক জগতের কোনও সচেতনতা রাখতে পারছেন না, নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো অনুভূতিই নেই। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ও ন্যূনতম শারীরিক কার্যক্রম কেবল চিকিৎসা-সহায়তায় বজায় রাখা হচ্ছে। এই অনিশ্চিত ও দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয় যাতে ছেলে প্রয়োজনে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার চিকিৎসা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবারের যুক্তি—দীর্ঘ তেরো বছর ধরে মুসলমানের মতো অনিশ্চিত জীবনে রাখা হচ্ছে এবং স্বাভাবিকভাবে সুস্থ হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই।

    মামলার ভার বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়। ওই বিশেষজ্ঞ দল হরীশের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয় এবং প্রতিবেদনে বলা হয় যে হরীশের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাব্যতা কার্যত নেই।

    কেন্দ্র সরকারের ও চিকিৎসকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে মামলাটিতে একাধিক পর্যায়ের শুনানি হয়। গত বছর বিচারপতিরা মন্তব্য করেছিলেন যে বিষয়টি শুধু আইনি নয়—এটি গভীর মানবিক, নৈতিক ও চিকিৎসা নীতিগত প্রশ্নও ছুঁয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বেঞ্চ হ্যামলেটের “টু বি অর নট টু বি” লাইন উদ্ধৃত করে জীবনের অস্তিত্ব ও মৃত্যুর সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত নরমাল দ্বন্দ্বের ওপর জোর দেন।

    অবশেষে মঙ্গলবার বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে.ভি. বিশ্বনাথনের বেঞ্চ হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে জীবনধারণের চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেন যে সক্রিয় ইউথানেশিয়া (অ্যাকটিভ ইউথানেশিয়া) ভারতে এখনও সম্পূর্ণভাবে বেআইনি; তবে রোগীর শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এবং রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় প্যাসিভ ইউথানেশিয়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য হতে পারে।

    আদালত কেন্দ্র সরকারের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত স্পষ্ট ও সংহত আইন প্রণয়নের পরামর্শও দিয়েছে। আইন ও চিকিৎসা নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় দেশে মেডিকেল নৈতিকতা, রোগীর অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে রোস্টার, চিকিৎসক ও পরিবার—সব পক্ষের জন্য স্পষ্ট বিধান প্রয়োজন হবে।

    কথা বলার মতো যেখানে মানবিক কষ্ট ও আইনি কাঠামোর গুণগত সমন্বয় দরকার, সেখানে এই সিদ্ধান্তটি একটি সুস্পষ্ট নির্দেশনা স্বরূপ কাজ করবে—কিন্তু একই সঙ্গে পরবর্তী আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সংরক্ষণের ওপরও বড় দায়িত্ব আরোপ করবে।