আমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনও দূর প্রসারিত। দুটো দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা সম্পন্ন হলেও কোনও ফলাফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক শক্তি প্রদর্শনে ব্যাপক বাড়তি নজর দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫। তবে কেন এই শক্তি প্রদর্শনী, তা এখনো স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের মতে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি অনেকগুণ বেড়েছে, যা কেবল একেবারে নজরদারির জন্য নয়, সম্ভবত আরও শক্তিপ্রদর্শনের একটি অংশ। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, মার্কিন শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন সহ তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। জানুয়ারির শেষের দিকে এই জাহাজগুলো এই অঞ্চলে গিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে। এর পাশপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন হয়েছে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। অন্যদিকে, এই শক্তিপ্রদর্শনের উত্তেজনা চলাকালে ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সেনার এই পদক্ষেপকে। হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তারা, যদিও ইরান দাবি করেছে এগুলো শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক। তবে অনেকের বিশ্বাস, এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিছক পরীক্ষা নয়, বরং একপ্রকার প্ররোচনা। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চলার পাশাপাশি, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বৈঠক থেকে ফলাফল স্পষ্ট নয়। আমেরিকা জানিয়েছে, তারা ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দিচ্ছে, আবার ইরান বলছে, ভবিষ্যতের আলোচনায় কোনও বড় অগ্রগতি ঘটেনি। ইরানের দাবি, তাদের সাথে আরও আলোচনা হবে, কিন্তু শীঘ্রই পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
Category: আন্তর্জাতিক
-

আল আকসায় প্রথম তারাবি নামাজ আদায় করলেন হাজারো মুসল্লি
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো ফিলিস্তিনেও গতকাল মঙ্গলবার চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে ইসলাম ধর্মের নিযম অনুযায়ী, গত রাতের সন্ধ্যার পর প্রথমবারের মতো তারাবির নামাজ সম্পন্ন করা হয় আল আকসা মসজিদে। এটি ছিল রমজানের প্রথম তারাবির নামাজ। এই খবর তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার আল আকসায় ইমামতি করেন খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনেহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বেশকিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, নিরাপত্তার কারণের জন্য বহু ইসরায়েলি পুলিশও আল আকসা চত্বরে মোতায়েন ছিলেন।
ফিলিস্তিনের গেরাঁ্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইন চাঁদ দেখার ঘোষণা দেন, যা রমজানের শুরুকে চিহ্নিত করে। এই ঘোষণার পরে, ধর্মীয় রীতিনীতির পরিপূর্ণ অনুসারে, সন্ধ্যার সময় হাজার হাজার মুসল্লি আল আকসা মসজিদে জড়ো হন তারাবির নামাজ পড়তে।
আল আকসা মসজিদ অবস্থিত পূর্ব জেরুজালেমে, যেখানে প্রাচীন সময় থেকে ফিলিস্তিনের রাজধানী বলে বিবেচিত। একসময় এই অঞ্চল ছিল মুক্ত, কিন্তু ১৯৫৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েল এই এলাকাটি দখল করে নেয়। এখনো এই দুই দলের মধ্যে বিভাজন রয়ে গেছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর থেকে জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরায়েল। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতির পর থেকে কিছুটা শিথিলতা এসেছে।
আমরা আশা করি, এই পবিত্র রমজান উপলক্ষে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে ইবাদত চালিয়ে যেতে পারবেন। এই ঐতিহাসিক স্থান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়গুলো মনে রাখতে হবে।
-

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ। এই মামলায় একজন গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে উঠে আসে যে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটকানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেছিলেন, তবে আদালত তাকে ৬৫ বছর বয়সের এই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
তবে এটি একমাত্র নয়। একই মামলায় দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েককে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবে, বলেও জানানো হয়।
এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে তার দায়িত্বের সময় ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। ৬১ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী গণমাধ্যমগুলোকে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তাছাড়া, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যিনি সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার জন্য দায়ী ছিলেন। তিনি ইউনের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় সদস্য।
আর এই পুরো ঘটনাবলি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যখন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এর ফলে ১৪ ডিসেম্বর তাকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করে বরখাস্ত করা হয়, এবং পরে ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সবশেষে, এই ঘটনাক্রমে উল্লেখযোগ্য ভাবে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনের শাসন পরিস্থিতি আবারো আলোচনায় এসেছে।
-

করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধ্বসে নিহত ১৬
পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনের বিস্ফোরণে трагির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি সোলজার বাজারের গুল রানা কলোনির এক বাড়িতে ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, 初তঃ গ্যাস লিকের কারণে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। খবর দিয়া ডন।
সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও ১৮ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পুলিশের দাবি, এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ হয়েছে গ্যাস লাইনের লিক, যা দিনভর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পরপরই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। এলাকাটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ এই ঘটনার খবর নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি নিহতের পরিবারে গভীর শোক প্রকাশ করে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা দিতে এবং ঘটনাস্থলের কারণ খতিয়ে দেখতে।
তথ্য অনুযায়ী, করাচির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়া উল হাসান এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন।
-

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা
গত নভেম্বরের এক দিনে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাউয়ালপুরে ঘটে যায় তারকা একটি জঘন্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তখন পাঞ্জাব পুলিশ ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) একটি সশস্ত্র দল বাড়ি ঢুকে মা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়, পাশাপাশি তাদের তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে অপহরণ করে।
ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হয় পাঁচজনের মরদেহ। নিহতরা হলেন জুবাইদা বিবির তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩), ও আদনান (১৮)—সহ আরও দুজন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পাকিস্তানের বৃহত্তম মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এর নথিপত্রে তালিকাভুক্ত হয়েছে। জুবাইদা বিবি মিডিয়াকে বলেছিলেন, ‘তারা ঝড়ের মতো বাহাউয়ালপুরে আমাদের বাড়িতে ঢুকে সব কিছু নিয়ে যায়।’
তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা তাদের পিছু পিছু লাহোর পর্যন্ত গিয়েও জেলখানার গেটে পৌঁছালাম, তবুও তাদের খুঁজে পেলাম না। পরের দিন আমাদের ছেলে ও জামাতাদের লাশ পেয়েছি।’
অভিযোগের ভিত্তিতে তারা আদালতেও গিয়েছিলেন, কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের হুমকির মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার জানিয়েছেন, ‘আমরা বুঝতে পারিনি যে তারা আমাদের পরিবারকে এভাবে হত্যা করবে। তারা কোনও অপরাধী নয়, তারা ছিল খেটে খাওয়া মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।’
২০৫৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনার সাক্ষ্য দিয়েছেন হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে গঠিত হয় সিসিডি, যার লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবে সংগঠিত অপরাধ ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেছিলেন, ‘আমরা চাই সব অপরাধ দূর করে একটি নিরাপদ পাঞ্জাব গড়ে তুলতে।’ তবে, বাস্তবে দেখা যায়, সিসিডি কার্যক্রমের নেপথ্যে অলিখিত অনুমোদন ও এক ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে। প্রেস ট্রাস্টের রিপোর্ট অনুসারে, গত ৮ মাসে পাঞ্জাবে নিখোঁজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯২৪ জনের বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে।
সিসিডি গঠনের পরে থেকে শুরু হয় এই নির্যাতনের কল্পনা। এই বাহিনী, নির্মিত হয় মূলত অপরাধ দমন ও গ্যাংসভার বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল হতে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এটি অনেক সময় অবৈধ হত্যা ও অপপ্রয়োগের আসরে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তব পরিস্থিতিতে তারা বিচারহীনতার সুবিধা নিয়ে দিনকে দিন অপরাধের মাত্রা বাড়াচ্ছে।
প্রাদেশিক বাহিনীটির কার্যক্রম শুধুমাত্র পাঞ্জাবেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই অভিনেতা অন্য রাজ্যে কোনো কার্যক্রম চালায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এইচআরসিপি’র প্রতিবেদনে বলেছে, এই বাহিনী একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। ফারাহ জিয়া, এইচআরসিপির পরিচালক, আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, ‘১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ২০২৪ সালে, যেখানে শুধুমাত্র জানুয়ারি থেকে ডিসেম्बর পর্যন্ত ৩৪১টি such হত্যাকাণ্ডের নিদর্শন পাওয়া গেছে, সেখানে ২০২৫ সালে মাত্র ৮ মাসে ৯২৪টি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা আবশ্যক।’
-

এশিয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সামরিক অভিযান বাড়ছে
অমেরিকা-ইরান পারমাণবিক চুক্তি এখনও অনেক দূরে। দুই দেশ দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনায় বসে থাকলেও কোনও ফলাফলের দেখা মেলেনি। এর মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক শক্তির উপস্থিতি দ্রুত বেড়ে চলেছে, যা বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
বর্তমানে সেখানে ৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ সহ একাধিক উন্নতমানের বিমান এই কার্যক্রমের অংশ। তবে কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের কাছাকাছি মার্কিন বিমানবাহিনীর উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে मीडिया প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ তথ্যের সূত্র জানিয়েছে একটি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা। ঐ অঞ্চলে আরও কয়েকটি উন্নতমানের বিমান পাঠানো হয়েছে, যা আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বাড়তি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও তার সঙ্গে থাকা তিনটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইরান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে এই জাহাজগুলো। এর পাশাপাশি, দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন এক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও এখন পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অপর দিকে, ইরান পাল্টা শক্তি দেখাতে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলেছে। ইরানের দাবী, এগুলো ছিল পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, তবে মজুতদার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি হতে পারে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত মার্কিন জাহাজগুলো এই ঘটনাকে ঘিরে সমালোচনাও বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে, মার্কিন-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনাও চলতে থাকছে। যদিও বৈঠকগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভি ভান্স জানিয়েছেন, ইরান মূল শর্তগুলো মানতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন পক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, তারা ইরানকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরানের দাবি, দ্বিতীয় দফায় আলোচনা হয়েছে এবং কোনও সাধারণ সমঝোতা হয়েছে। তবে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না। এ পরিস্থিতিতে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
-

আল আকসায় প্রথম রমজানের তারাবি আদায় করেছেন হাজারো মুসল্লি
আল-আকসা মসজিদ পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত, যা প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে বিবেচিত। এক সময় এটি মুক্ত ছিল, কিন্তু ১৯৫৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরে ইসরায়েল এই এলাকাটি দখল করে নেয়। বর্তমানে, এই অঞ্চল ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরু হলে, জেরুজালেমে মুসল্লিদের প্রবেশে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তবে, ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কিছু শর্ত শিথিল করে, মুসল্লিদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা কমে এসেছে।
-

করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধসে নিহত ১৬
পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি আবাসিক ভবনের গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণে ঘটে যাওয়া ঘটনার ফলে কমপক্ষে ১৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। ঘটনা ঘটার পরপরই উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।
ঘটনাটি মূলত গুল রানা কলোনির একটি বাড়িতে ঘটেছে। প্রতিবেদনে জানা গেছে, সিভিল হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন বলেছেন, মৃতের সংখ্যা এখন ১৩ জনে পৌঁছেছে এবং আহত ১৮ জনকে درمانের জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গ্যাস লাইনে লিকের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় দ্রুত উপস্থিত হয়ে উদ্ধার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদ্ধারকারীরা গাঢ় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ঘটনাটির খবর নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, ওই মানুষজনের প্রাণহানির ঘটনায় তিনি দুঃখিত। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে ফেঁপে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অতিরিক্তভাবে, তিনি করাচির ঘটনার ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও এই দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং আহতদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
-

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক আদালত দক্ষিণের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের ভিত্তিতে তাঁকে মূলত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা তিনি ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য করেছিলেন। দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা যেখানে একজন শাসককে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি), সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট कोर्टের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে আরও জানানো হয়, অভিযোগের মধ্যে ছিল সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটক করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি, যা ইউনের বিরুদ্ধে আনীত হয়।
প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু আদালত প্রায় ৬৫ বছর বয়সী ইউনকে কঠিন শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়াও, এই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা—সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উন, পুলিশ প্রধান চো জি-হো, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিক ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েক—কে বিভিন্ন সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
এ ছাড়া, এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনের সাথে আরও কয়েকজনকেও দণ্ড দেওয়া হয়। তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি মূলত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সরকারের সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে এই মামলাটি মূলত সামরিক আইন জারি বা না জারির ঘটনায় কেন্দ্রীভূত ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টা পরে সেটি প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলো, যেখানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘশিক্ষাজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
-

পাঞ্জাবে ৮ মাসে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা ৯২৪ জন
গত নভেম্বরের একটি দিন পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাওয়ালপুরে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেখানে উদ্বেগজনকভাবে পুলিশ বাহিনী বাহাওয়ালপুরের বাসিন্দা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর পরিচালিত হয়। তখন এ পুলিশ বাহিনী ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) এক সশস্ত্র টিম বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং অলংকার লুট করে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে ধরে নিয়ে যায় জুবাইদা বিবির তিন ছেলে ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) ও আদনান (১৮), এবং দুই জামায়াত ব্যক্তিকে।
ঘটনার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা পর পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় উদ্ধার হয় তাদের পাঁচজনের মরদেহ। এক বিবৃতিতে জুবাইদা বিবি বলেছেন, পুলিশ বাহিনী তাদের বাড়িতে ঢুকে এমনভাবে হামলা চালায় যেন ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে। তিনি বলেন, “তারা ঝড়ের মতো বাহাওয়ালপুরে এসে আমাদের ঘর-বাড়ি ভেঙে দেয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়।”
অবৈধভাবে তাদের পলায়ন-প্রয়াস ব্যর্থ করে দিতে জন্য, জুবাইদা ও তার স্বামী আবদুল জব্বার লাহোর পর্যন্ত গিয়ে অভিযোগ করেন। কিন্তু এরপরই তাদের তিন ছেলে মারাত্মকভাবে হত্যা করা হয়। পরিবারটি আদালতের কাছে বিচার চাইলেও, পাঞ্জাব পুলিশের হুমকিতে তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, যদি অভিযোগ উঠানো না হয়, তবে তাদের পরিবারের সর্বস্তরকেই হত্যা করা হবে। এই ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে বাধ্য হয়েই তারা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।
আবদুল জব্বার বলেন, “আমরা ছিলাম সাধারণ মানুষ, অপরাধে জড়িত না, কোন অতীত অপরাধের রেকর্ডও নেই। তারা সবসময় আমাদের কর্মজীবী মানুষ, বিবাহিত ও সন্তানের পিতা।”
এই ঘটনার কয়েক দিন পরে, ১৭ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, গত ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’ অভিযান চালিয়েছে সিসিডি। এই অভিযানের মধ্যে নিহত হয়েছেন মোট ৯২৪ জন।
সিসিডি গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়, যা মে ২০২৫ সালে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের অধীনে গঠিত হয়। এই বিভাগটি পাঞ্জাবের সংগঠিত অপরাধগুলো মোকাবিলা করতে, গ্যাং ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের ধরতে তৈরি। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিডি এক প্রশিক্ষিত বাহিনী, যারা গুরুতর অপরাধীদের দ্রুত এবং কঠোরভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম। এর এলাকা বা কর্তৃত্ব শুধুমাত্র পাঞ্জাবই, অন্যান্য অঞ্চলে এর কোন কার্যকারিতা নেই।
তবে, এইচআরসিপির অভিযোগ হলো, বাস্তবে এই সিসিডি একটি ‘সমান্তরাল পুলিশ বাহিনী’ হিসেবে কাজ করছে এবং অলিখিত দায়মুক্তির সুবিধা নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দিনকে দিন বাড়িয়ে তুলছে। সংস্থার পরিচালক ফারাহ জিয়া আলজাজিরাকে বলেন, “১৯৬০ সালের পর থেকে পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচারের বাইরে হত্যাকাণ্ড শুরু। তবু এখন, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মাত্র ৮ মাসে, পাঞ্জাবেই নিখোঁজ হয়ে গেছে ৯২৪ জনেরও বেশি মানুষ—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নড়বড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির संकेत।” তিনি আরো বলেন, “পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরে পর্যন্ত দুই রাজ্যে মোট ৩৪১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে এই সংখ্যা মাত্র ৮ মাসে পাঞ্জাবেই পৌঁছে গেছে ৯২৪-এ, যা উদ্বেগজনক।
