Category: আন্তর্জাতিক

  • আদালতের রায়ের পর ফের ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

    আদালতের রায়ের পর ফের ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

    বিশ্বব্যাপী ঢালাও শুল্ক আরোপের নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়ের পরপরই বাতিল হওয়া শুল্কের পরিবর্তে নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অপমানজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বিচারকদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, তিনি অন্য আইনী পথ অবলম্বন করে শুল্ক আরোপের নীতি চালিয়ে যাবেন, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির ওপর নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

    উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের জন্য নির্বিশেষে ক্ষমতা দেয় না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রশাসন জাতীয় জরুরি অবস্থার অধীনে থাকা সংবিধানবিরুদ্ধে এই শুল্ক কার্যকর করেছে। এই আইনটি মূলত কংগ্রেসের কাছ থেকে ক্ষমতা নেয়, এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বে রায়ày বলেন, প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই ধরনের শুল্কের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে কংগ্রেসের অনুমোদন থাকতে হবে; ট্রাম্প তা প্রদান করেননি।

    গত এপ্রিল মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সকল দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে সেই নীতি অবৈধ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট, যা তার কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় একে ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করে বলেন, আদালতের বেশ কয়েকজন সদস্যকে তিনি লজ্জা দেন এবং বলেন, তাদের সাহসের অভাব রয়েছে।

    বিচারপতিদের এই রায়র মাধ্যমে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির উপর বড় আঘাত এসেছে, বিশেষ করে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা নিয়ম স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্পের ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন থেকে তার এই শক্তিশালী আরোপের ক্ষমতা আরও সীমিত হয়ে গেছে। এই রায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের জন্য বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তারা এই শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিল।

    আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে শুল্ক জোর করেন বা উচ্চ শুল্কের দাবি থাকলেও এখন অনেক কোম্পানি এ থেকে বিমূর্ত হতে চায়। তবে, ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে বিকল্প ভাবনা ভাবছেন। হোয়াইট হাউজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অন্যান্য আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ চালিয়ে যেতে পারেন যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তার প্রভাব বজায় থাকে।

    বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, তিনি এখন এমন একটি আইন ব্যবহার করতে পারেন যা প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়। এর মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যও টার্গেট করা সম্ভব। পাশাপাশি, কিছু শুল্ক ইতিমধ্যে বহাল রয়েছে, যা নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল। ফলে প্রশাসনের জন্য একদিকে নতুন শুল্ক নীতি তৈরি বা সাময়িক নিরীক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে, এই ইস্যু থেকে সহজে পিছু হবেন না বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অনুযায়ী, ট্রাম্পের শুল্ক ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদাররাও আরও সাহসী হয়ে উঠতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, গত এক বছরে যে শুল্কের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় হয়েছিল, তার বড় অংশ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, প্রশাসন অন্য আইনী পথ অবলম্বন করে এই সমস্যা এড়াতে পারে বলেও ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    প্রতিক্রিয়া হিসেবে ট্রাম্প রায় নিয়ে বলেন, ‘এটি খুবই হতাশাজনক, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত যারা ব্রতী হয়েছেন, তারাও লজ্জিত হওয়া উচিত। তারা সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে পারেননি।’ এই ভাষণে তার মনে পড়ে যায় নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে বর্তমানে চলমান চ্যালেঞ্জের সূচনা।

    অবশেষে, কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প রায়টির বিরুদ্ধে আবারও কঠোর সমালোচনা চালিয়ে বলেন, তিনি অন্যান্য দেশের ওপর শুল্ক আরোপ অব্যাহত রাখতে নতুন পথ খুঁজে বের করবেন। তবে তিনি আবারও বিচারকদের প্রতি আক্রমণ করে ব্যক্তিগত আঘাতের ইঙ্গিত দেন, যা গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টানাপড়েনের সংকেত দেয়। এ রায়ের ফলস্বরূপ, ট্রাম্পের জন্য কঠিন পরীক্ষা হলেও, তিনি এবং তার শিবির নানা আইনী বিকল্প ভাবনা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ইংল্যান্ডে মসজিদের সামনে মুসলিম যুবকে কুপিয়ে হত্যা

    ইংল্যান্ডে মসজিদের সামনে মুসলিম যুবকে কুপিয়ে হত্যা

    পবিত্র রমজান মাসের সময় ইংল্যান্ডে এক নৃশংস ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয়রা। বার্মিংহামের কাছে স্মেথউইকে এক মুসলিম যুবককে, যার নাম জানা গেছে জেশান আফজাল, তাকে বিশৃঙ্খল দুবৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য দুজন যুবকও ছুরিকাহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর বিবিসি ও আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলা স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত নয়টার দিকে ঘটে। নিহত জেশান আফজাল তারাবি নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এই হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তিনি ও আরও দুই মুসল্লি মসজিদের সামনে থাকা সন্ত্রাসীদের দ্বারা হামলার শিকার হন। তবে, পুলিশ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলছে, এই হত্যাকাণ্ডকে তারা এখনই বর্ণবাদী বা ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা বলে মনে করছে না। তারা বর্তমানে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো পরিস্থিতি বোঝার জন্য তারা এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছে এবং অপরাধীদের শনাক্তে তৎপর। এই ঘটনার ফলস্বরূপ মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা এই ধরনের ঘটনাকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখছেন।

  • থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানায় একসঙ্গে ৭২টি বাঘের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানায় একসঙ্গে ৭২টি বাঘের মৃত্যু

    থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের এক বেসরকারি চিড়িয়াখানায় গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৭২টি বাঘ মারা গেছে, যার পেছনে প্রায়ই প্রাণঘাতী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের প্রভাব উল্লেখ করা হচ্ছে। এই দুর্যোগের খবর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে চিয়াং মাইয়ের প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ দপ্তর, যা দৈনিক দ্যা গার্ডিয়ানের রিপোর্টেও প্রকাশিত হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় সংক্রামক ক্যানাইন ডিসটেম্পার ভাইরাস (কিডিএভি) শনাক্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত সংক্রামক বা ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস। এর পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রে আঘাত হানে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও ধরা পড়েছে।

    জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতানামুংকলানন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাঘের মত বড় প্রাণী অসুস্থ হলে এগুলোর রোগ লক্ষ্য করা কঠিন। তুলনামূলকভাবে কুকুর বা বিড়ালের মতো ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে যেখানে রোগ নির্ণয় সহজ, সেখানে বড়দের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখন তারা বুঝতে পারেন বাঘগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তখন বড় দেরি হয়ে যায়।

    জানা গেছে, যে চিড়িয়াখানায় এই ঘটনা ঘটেছে, তার নাম ‘টাইগার কিংডম’। তবে এই বিষয়ে যোগাযোগের জন্য শনিবার চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি। তাদের ওয়েবসাইটে এখনও দর্শনার্থীদের জন্য বাঘ স্পর্শ ও ছবি তোলার বিজ্ঞাপন রয়েছে।

    প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটা এশিয়া এই ঘটনাকে ভয়াবহ মনে করে বলেছে, এই বাঘগুলো দুঃখ, বন্দিত্ব ও ভয়ের মধ্যে জীবন যাপন করেছিল, আর এই পরিস্থিতির ফলে তাদের মৃত্যুও দ্রুত ও অসম্পূর্ণভাবে হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে রয়েছে স্থানীয় ঢেঁকিঝুঁকি ও অসহায় পরিস্থিতির আলোচনাও।

  • কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ ঘোষণা

    কোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ ঘোষণা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বৈশ্বিক শুল্কহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি গত সপ্তাহে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের দুই ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে শুল্কহার বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন। আগে তিনি জানিয়েছিলেন, দেশটির আমদানি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক থাকবে, তবে এখন তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতে চান।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, তিনি এমন এক আইনের আওতায় এই শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা আগে কখনো ব্যবহার হয়নি। এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো যখন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শুল্ক ফেরত চাচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার।

    তিনি আরও জানান, নতুন এই শুল্কটি ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে। ট্রাম্পের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায় ‘অযৌক্তিক, দুর্বলভাবে লেখা এবং অত্যন্ত আমেরিকাবিরোধী’। এখন শুল্ক নতুন রূপে কার্যকর হবে আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে। তবে, যদি শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়, তবে তা কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত দেয় যে, ট্রাম্পের অবৈধ ঘোষণা করা শুল্কে আস্থা রাখা যাবে না। তাদের রায় ৬-৩ ভোটে সিদ্ধান্তে আসে, যেখানে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায়ের পক্ষে ভোট দেয়।

    শুল্কের এই সিদ্ধান্তে বেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন দেশ। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেন, আপিল আদালতের এই রায় যদি কার্যকর হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নতুন শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রেডে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

  • ভোরে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা

    ভোরে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা

    আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তানের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে, যারা বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। ပাকিস্তানের এই 홉ামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত তালেবান সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আফগান সূত্র সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, পাকিস্তানি সেনারা দুটি প্রদেশে হামলা করেছে।

    সূত্রের মতে, পাকিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও নানগারহার প্রদেশেও আলাদা আক্রমণ পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীত্ব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী গোয়েন্দা সূচনার ভিত্তিতে কাজ করে বলে দাবি করে, তারা সাতটি গোপন আস্তানা ও ক্যাম্পে অভিযান চালিয়েছে, যেখানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি লুকিয়ে আছে।

    এছাড়াও, ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ক্যাম্পেও হামলা হয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি রাজধানী ইসলামাবাদের বিভিন্ন হামলার পেছনে আফগানিস্তানের সশস্ত্র নেতাদের নির্দেশনা রয়েছে।

    অপরদিকে, শনিবার রাতে কাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু বিভাগে এক আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেনেন্ট কর্নেলসহ দুই সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এর সঙ্গে যাবতীয় সংযোগ রয়েছে আফগানিস্তানে পাকিস্তানির অভিযান ও হামলার।

    এর আগে, গত সোমবার বাজাউরে অস্ত্রধারীর সহায়তায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করে, এতে ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। পাকিস্তানের দাবি, এই হামলার পেছনে রয়েছে আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র নেতাদের নির্দেশনা।

    এছাড়া, ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জন নিহত হয়। এই ধারাবাহিক হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কের গভীর অস্থিরতা ফুটে উঠে।

  • করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে আবাসিক ভবন ধসে নিহত ১৬

    করাচিতে গ্যাস বিস্ফোরণে আবাসিক ভবন ধসে নিহত ১৬

    পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক গুরুতর বাসাবাড়ির গ্যাস পাইপলাইনের অগ্নিসংযোগে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও আরও ১৮ জন আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

    ঘটনাটি ঘটে গুল রানা কলোনির একটি ভাড়াবাড়িতে, যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়। করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ সাবির মেমন জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি মৃতদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলমান।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই বিস্ফোরণের কারণ সম্ভবত গ্যাস পাইপলাইনে লিকের জন্য। বিস্ফোরণের ফলে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে এবং আঘাতপ্রাপ্তদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুতই উদ্ধারকারী দল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। উদ্ধারকারীরা জীবিতদের খোঁজা ও নিখোঁজদের উদ্ধারে তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলী শাহ ওই ঘটনার খবর নিয়েছেন এবং এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি অচিরেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার ও আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার জন্য বলেছেন এবং ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য করাচি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    সিন্ধুর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসানও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি উদ্ধার কাজ চালানোর গতি বাড়াতে এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার উদ্বেগ

    পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ৮ মাসে ৯২৪ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার উদ্বেগ

    গত নভেম্বরের এক দিন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বাহাওয়ালপুরে ঘটে এক চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। সেই দিন পাঞ্জাব পুলিশে ক্রাইম কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট (সিসিডি)-এর একটি সশস্ত্র দল বাড়িতে প্রবেশ করে ধরপাকড় চালায়। তারা জুবাইদা বিবি ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মোবাইল ফোন, ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও অলঙ্কার লুট করে নেয় এবং ধরিয়ে নিয়ে যায় তার তিন ছেলে ও দুই জামাতাকে।

    ঘটনার মাত্র ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার হয় মোট পাঁচজনের লাশ। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন ছেলে—ইমরান (২৫), ইরফান (২৩) এবং আদনান (১৮)— রয়েছেন। এই ঘটনার বিস্তারিত ছবি ভারতের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি)-এর নথিতে উঠে এসেছে। এইচআরসিপিকে জুবাইদা বিবি বলেন, “তাদের ঝড়ের মতো বাহাওয়ালপুরে ঢুকে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে সব Some মূল্যবান জিনিস লুট করে নিয়ে যায়।”

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছেলে-জামাতাদের ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য আমরা লাহোর পর্যন্ত গিয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তীতে তাদের লাশ উদ্ধার করে আমরা জানতে পারি, তারা হত্যা করা হয়েছে।” এই ঘটনার বিচার চেয়ে জুবাইদা বিবি ও তার স্বামী আবদুল জব্বার আদালতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের হুমকি দেওয়া হয়, যদি অভিযোগ প্রত্যাহার না করেন, তাহলে পরিবারের সবাইকেই হত্যা করা হবে। এই ভয়াবহ হুমকির মুখে বাধ্য হয়েই অভিযোগ প্রত্যাহার করেন তারা।

    আবদুল জব্বার বলেন, “আমরা তাদের অপরাধী বলছি না। তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ছিল, বিবাহিত এবং সন্তানের পিতা-মাতা।” গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এইচআরসিপি এই ঘটনা নিয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মাত্র ৮ মাসে পাঞ্জাবের সিসিডি ৬৭০টি ‘এনকাউন্টার’ অভিযান পরিচালনা করে, যার نتیجے ৯২৪ জন নিহত হয়েছেন।

    পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বে ২০২৫ সালে গঠন করা হয় এই বিভাগ। মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর অপরাধ ও সংঘবদ্ধ গ্যাংদের দমন। তিনি এক ভাষণে ঘোষণা করেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে পাঞ্জাবকে অপরাধমুক্ত করার জন্য আমরা কঠোর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সিসিডি একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী, যারা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে কঠিন অপরাধীদের ধরতে সক্ষম।”

    সিসিডির কার্যক্রম কেবল পাঞ্জাবের ভেতর সীমিত। এই বাহিনী অলিখিতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এইচআরসিপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বাহিনী ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

    পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন জোটের অন্তর্গত পাকিস্তান মুসলিম লীগের অবদান আর রাজনৈতিক যোগসূত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়। মরিয়ম নওয়াজ, যারা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের নেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের চাচী, তারাও এই সিসিডির গুড পারফরম্যান্সের জন্য ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

    তবে, এইচআরসিপির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিসিডি ‘সমান্তরাল পুলিশ’ হিসেবে কাজ করে আসছে এবং অলিখিত দায়মুক্তি সুবিধা নিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির প্রবণতা প্রবল হয়ে পড়েছে। এর পরিচালক ফারাহ জিয়া আলজাজিরাকে বলেন, “১৯৬০ সালের পর থেকেই পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলার নামে হত্যা বেড়ে চলেছে। তবে বর্তমানে এই প্রবণতা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঞ্জাব ও সিন্ধু মিলিয়ে ৩৪১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে মাত্র আট মাসে পাঞ্জাবেই নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৯২৪। এটি খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি।”

  • দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

    দিল্লিতে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

    প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবার চালু হয়েছে বাংলাদেশি ভিসা কার্যক্রম। বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ, শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশি ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এটি ছিল দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন দিনের মধ্যে ঘটে। এটি সম্ভব হয়েছে যখন বাংলাদেশি সরকার দ্রুতই সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। এ পরিস্থিতিতে, গত ডিসেম্বর মাসে কিছু অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছিল, যেমন ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাসের ঘোষণা অনুযায়ী, সাময়িকভাবে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত রাখা হয়। এর পেছনে মূল কারণ ছিল, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনা এবং তার পরের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। ডিসেম্বরের শেষ দিকে, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঢাকায় বিভিন্ন পত্রিকা অফিস ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা হয়। পাশাপাশি, চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে গত ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতে যাওয়ার ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, যদিও ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ভিসার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় না। অল্পপরে, ভারতের দিল্লি ও আগরতলার মিশনগুলো থেকে বাংলাদেশে ভিসা ও কনস্যুলার সেবা ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে, ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে অনেকটাই উন্নতি ঘটে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনের আগে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। নির্বাচনের পর, মোদী তার সাথে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে সমর্থন ও শুভকামনা প্রকাশ করেন। এরপর, ঢাকা ও দিল্লির শপথ অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের’ কারণে তিনি আসতে পারেননি। পরিবর্তে, অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক নতুন দিশায় এগোতে শুরু করেছে।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে দেশের একটি আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তাকে ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যা তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের মূল অভিযোগের আওতায় করেছেন। একইসঙ্গে তার কারাদণ্ডের সঙ্গে সামরিক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে জানা যায়, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মোংকে সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে আটক করার জন্য নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের দণ্ড হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের জন্য আবেদন করেছিল, তবে আদালত বোঝে ৬৫ বছর বয়সী ইউন ইওলকে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

    অপরদিকে, একই মামলায় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছর, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছর, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছর এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েকে তিন বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলে আদালত জানিয়েছে।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি, দেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৬১ বছর বয়সী লি কেএনপি-র পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে সরকারের সমালোচক মিডিয়া ও গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হন।

    এছাড়াও, জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুককে ২৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সামরিক আইন জারির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং এই মামলার দ্বিতীয় মন্ত্রী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল শক্তিশালী ও প্রচণ্ড বিতর্কিতভাবে সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে একই দিন সন্ধ্যায় মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর, ১৪ ডিসেম্বর, ইউনকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় এবং তার সাময়িক পদচ্যুতি ঘটে। এরপর, ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সূত্র: রয়টার্স

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ছে

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ছে

    বিশ্ববাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দামে আবারও বড় পতনের আভাস দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি), ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭১.৯৯ ডলাররে পৌঁছিয়েছে, যেখানে আগের দিনের তুলনায় ৩৩ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬৭.০৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় ৬২ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেশি।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে টানা তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো, কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, কারণ এই অঞ্চল থেকে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ব্যাঘাত ঘটলে বিশ্বের তেল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে দাম আরও চড়া হতে পারে।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি তারা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দ্রুত কোনো সমঝোতা না করে, তাহলে আনুমানিক খারাপ ফলাফল হবে। তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার পরিকল্পনা করেছে। এর আগেও সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি, অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ার কারণেও দাম বাড়ছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ তেলের মজুত ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। এই সময় শোধনাগারের ব্যবহার ও রফতানি বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    অতএব, এই পরিস্থিতি বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। উত্তেজনা কমে না গেলে আরও বড় দামের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।