Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসফাহানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৫ নিহত

    ইসফাহানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৫ নিহত

    ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি শিল্প এলাকায় শনিবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হলে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে দেখা গেছে, হামলা ওই কারখানার ভিতরে থাকা শ্রমিকদের ওপর directed ছিল।

    ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে যে আঘাতটি হিটিং ও কুলিং সরঞ্জাম উৎপাদনকারী একটি কারখানায় লাগে। প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে থাকা কর্মীরা হামলার সময় মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

    আল জাজিরার ভেরিফায়েড করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে শহরের আকাশ ভোরে ঘন কোলাহলে ঢাকা; ধোঁয়ার লম্বা কুণ্ডলী উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে আশপাশের এলাকায়। এক ভিডিওতে খুব নিচু উচ্চতায় একটি যুদ্ধবিমানও উড়তে দেখা গেছে।

    ইসফাহান ইরানের জনবহুল ও শিল্পসমৃদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশটির সামরিক ও শিল্প комплек্সগুলোর ঘনত্ব মাথায় রেখে ইরানের বেশ কিছু শহেই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে—ইসফাহানও তার মধ্যে রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানী তেহরান ছাড়াও ২০০-এর বেশি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    এদিকে, ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে চলমান সংঘর্ষে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক হাজার চারশ চৌল্লিশ (১,৪৪৪) জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আনুমানিক সাড়ে ১৮ হাজার (১৮,৫০০) জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ও স্থানীয় সূত্রে এই সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারীরা এখনই উল্লিখিত বক্তব্যের সত্যতা যাচাই ও আহতদের চিকিৎসায় ব্যস্ত রয়েছেন। প্রতিক্রিয়া ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশিত।

  • রিয়াদ ও আল-ধাফরাকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ

    রিয়াদ ও আল-ধাফরাকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ

    ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিয়াদের আকাশে পৌঁছানোর আগেই কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে রোববার (১৫ মার্চ) বলা হয়েছে, রিয়াদ মহানগর এলাকায় চারটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, আল-ধাফরা ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও অজ্ঞাতসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করেছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে—এই তারিখে দাবি করা হয়েছে যে লক্ষ্য সেই স্থাপনাকেই ছিল। এসব দাবি ও প্রতিরোধ কার্যক্রম স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে; আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলোতে জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও জনবহুল এলাকা লক্ষ্য হতে পারে বলে বলা হয়েছে। ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত সৌদিতে অন্তত দুইজন নিহত ও ১২জন আহত হয়েছেন, এমন খবর পাওয়া গেছে।

    একই সময়ে ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে—টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে ওই সময় আহত ১০৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের সুনির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিত জানায়নি; ধারণা করা হচ্ছে দফায় দফায় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা লেবানন থেকে নিক্ষিপ্ত রকেটের আঘাত,বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে আহত হওয়ার ঘটনাও থাকতে পারে।

    সরকারি ও মিডিয়া সূত্র মিলিয়ে বলা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৮১ জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।

  • ইসফাহানে হামলা: ধোঁয়ার কুণ্ডলী, নিহত কমপক্ষে ১৫

    ইসফাহানে হামলা: ধোঁয়ার কুণ্ডলী, নিহত কমপক্ষে ১৫

    ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানের একটি শিল্প এলাকায় বিমান হামলার পর ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে; স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে হতাহতদের মধ্যে কারখানায় কাজ করা শ্রমিকও রয়েছেন এবং কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে।

    ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে শহরের একটি হিটিং ও কুলিং সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কারখানায় আঘাত লাগে। সংস্থাটির উদ্ধৃত সূত্রগুলোতে বলা হয়েছে যে হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলার মাধ্যমে হয়েছে, তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

    আল জাজিরার ভেরিফায়েড করা ছবিও ভিডিওতে দেখা যায় ভোরের আলো ফোটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে ঘন ধোঁয়া উত্থিত হচ্ছে এবং একাধিক মুহূর্তে খুব নিচু উচ্চতায় একটি যুদ্ধবিমান উড়ন্ত অবস্থায় ধরা পড়ে।

    ইসফাহানকে ইরানের অন্যতম প্রধান জনবহুল ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়; এখানে বহু শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও সামরিক কমপ্লেক্স রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ছাড়াও ২০০-টিরও বেশি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে এবং ইসফাহানও ঐ তালিকায় অন্যতম।

    এদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সাম্প্রতিক সংঘাতে মোট ১,৪৪৪ জন মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন সাড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ (প্রায় ১৮,৫০০)। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে এবং দায়িত্বরত সূত্র থেকেই আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • রিয়াদ ও আল-ধাফরা লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ

    রিয়াদ ও আল-ধাফরা লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার অভিযোগ

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, রিয়াদের আকাশে পৌঁছানোর আগেই বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

    সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে রোববার (১৫ মার্চ) জানানো হয়েছে, রিয়াদ মহানগর এলাকায় চারটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানি হামলার কারণে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত দুইজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন।

    ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক ড্রোন ব্যবহার করেছে। ওই ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে তিন পক্ষের আলাদা বক্তব্য পাওয়া গেলেও ঘটনা সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।

    বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত এবং প্রতিশোধের পালা শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবকে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে থাকতে দেখা গেছে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি অবকাঠামো, মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও জনবসতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

    একই সময়ে ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইস্রায়েল জানিয়েছে; প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আহত ১০৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আহতদের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি; ধারণা করা হচ্ছে কেউ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা লিবানন থেকে নিক্ষিপ্ত রকেটের আঘাতে আহত হয়েছেন, আবার নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময়ে হুড়োহুড়িতেও অনেকে আহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    রোববার একটি এক্স (টুইটার) পোস্টে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮১ জন তখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঘটনাগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই চলছে। সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: হোয়াইট হাউস প্যানেলের একমাত্র মুসলিম নারী সামিরা মুনশি পদত্যাগ

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: হোয়াইট হাউস প্যানেলের একমাত্র মুসলিম নারী সামিরা মুনশি পদত্যাগ

    হোয়াইট হাউসের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের একমাত্র মুসলিম নারী সদস্য সামিরা মুনশি কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি সরাসরি ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি প্রশাসনের ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে যুদ্ধ ঘোষণা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অন্যায় ও নৃশংসতা’কে আখ্যায়িত করেছেন।

    মুনশি তার বক্তব্যে বলেন, মার্কিন সংবিধান ও কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়ে শুরু করা এই ‘অবৈধ যুদ্ধ’ এবং বেসামরিক মানুষের মৃত্যু তিনি আর মেনে নিতে পারবেন না। তিনি অভিযোগ করেন যে বর্তমান প্রশাসন মূলত ইসরাইলকে সামর্থান দিতে এই ধ্বংসাত্মক পথে এগোচ্ছে এবং ইসরাইলকে একটি ‘গণহত্যাকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    পদত্যাগের সিদ্ধান্তে আরও একটি কারণে তিনি কমিশনের অন্য সদস্য ক্যারি প্রিজিয়ান বোলারকে অন্যায়ভাবে অপসারণকে উল্লেখ করেছেন। মুনশি বলেন, তিনি সাধারণ আমেরিকানদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু কাজ করার সময় বুঝেছেন কমিশনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার রক্ষার বদলে গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত।

    নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মুনশি বলেন, ‘‘আমি আমেরিকাকে ইসরাইলের চেয়ে বেশি ভালোবাসি, আর সেই কারণেই ট্রাম্প বা বর্তমান প্রশাসনের রক্তক্ষয়ী নীতিকে সমর্থন করা আমার পক্ষে অসম্ভব।’’

    সামিরা মুনশির পদত্যাগ হোয়াইট হাউসের ওই কমিশনের স্বার্থ সাম্যতা ও রাজনৈতিক স্বাধিনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে এবং কমিশনের কার্যক্রম কতটা নিরপেক্ষ তা নিয়ে আলোচনা তীব্র করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ইরানের বিপ্লবী গার্ড নেতানিয়াহুকে খুঁজে পেলে হত্যা করার অঙ্গীকার

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড নেতানিয়াহুকে খুঁজে পেলে হত্যা করার অঙ্গীকার

    ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করার অঙ্গীকার করেছে। রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে তাকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির উদ্ধৃতিতে আইআরজিসির নির্দেশিত সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজে বলা হয়েছে, ‘‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকেন, আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাড়া করে তাকে হত্যা করব।’’ বিবৃতিটি তার চলমান যুদ্ধবিধির প্রেক্ষাপটে আসে, যেখানে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তীব্রভাবে বজায় আছে।

    নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে সম্প্রতি অনিশ্চয়তা ছড়িয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তিনি জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চ তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও নিয়ে ভারি জল্পনা তৈরি হয়—ভিডিওতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।

    কিছুতে ইঙ্গিত করা হয়েছে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তবাকা বা ঘেঁসানো হতে পারে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ব্যাখ্যায় বলা হয় ভিডিওতে আসলে পাঁচটি আঙুলই ছিল; ক্যামেরার কোণ, আলো ও ফোকাসের কারণে ভ্রম দেখা দেওয়ায় ছয়টি আঙুল মনে হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে বিমান হামলার পর ওই বয়সে (৭৬) নেতানিয়াহুর প্রথম প্রেসকনফারেন্সের ভিডিওটিই ছিল সেই সময়কার প্রধান বার্তা। সেই ভাষণে তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্ব মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং ইরানি শাসনবিরোধী তৎপরতার বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন।

    আইআরজিসির হুঁশিয়ারি ও নেতানিয়াহুর দুর্লভ জনসমক্ষে উপস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তোলার পাশাপাশি কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন—প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান কি নাকি গোপন রাখা হচ্ছে? ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মতো কিছু মার্কিন রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বও এই ধরনের সন্দেহ উত্থাপন করেছেন।

    অন্যদিকে নেতানিয়াহুর দপ্তর তার মৃত্যুর যে কোনও গুঞ্জন অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিরাপদ আছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দপ্তর জানিয়েছে, ‘‘এসব ভুয়া খবর। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ আছেন।’’ তবে দপ্তর বা নেতার সহকারীরা ব্যাপক বিবৃতি প্রদান করেননি। কিছু ব্যবহারকারী বলেছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুর সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতি ধরে দেখা যাচ্ছে যে তিনি ৯ মার্চের পর থেকে পোস্ট করেননি।

    এই প্রতিবেদনটির তথ্যসূত্র: এএফপি।

  • দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত

    দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত

    দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল জেলায় শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতের ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং নার্স রয়েছেন।

    হামলা বুর্জ কালাওইয়াহ গ্রামে ঘটে; মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে নিহতরা হামলার সময় দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিষয়টি সম্পর্কে সরকারি সূত্র এখনও তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিহতদের সনাক্তকরণের কাজ চলছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন প্যারামেডিক রয়েছেন।

    বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অনেক স্থানে এখনও নিখোঁজদের খোঁজ চলছে, তাই হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এটি স্বাস্থ্য খাতের দ্বিতীয় বড় হামলা হিসেবে ধরা পড়েছে। আগেই দক্ষিণ লেবাননের সুয়ানে গ্রামে একটি প্যারামেডিক কেন্দ্রে হামলায় দুই প্যারামেডিক নিহত ও পাঁচজন আহত হন— এমনটিই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    স্থানীয় হাসপাতাল ও ত্রাণকর্মীরা আহতদের চিকিৎসা ও নিখোঁজদের খোঁজে তৎপর থাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই রোগ ও জরুরি সেবা প্রদানকারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন করে সতর্কতা বাড়িয়েছে।

  • ইরানের দাবি: আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা

    ইরানের দাবি: আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলা

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ধাপে ধাপে হামলা চালানো হয়েছে।

    শনিবার ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির বরাতে এই দাবি জানায়। তিনি জানিয়েছেন, আল-ধাফরা (সংযুক্ত আরব আমিরাত), আল-আদিরি (কুয়েত) এবং শেখ ঈসা (বাহরাইন) ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ‘পরপর কয়েক দফায়’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

    অ্যাডমিরাল তাংসিরি বলেন, আল-ধাফরা ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, একটি নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও বিমান বিধ্বংসী স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে এবং সেগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি শেখ ঈসা ঘাঁটিও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে বিস্তৃত হামলায় সরঞ্জাম গুদাম ও হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন দাবি করা হয়েছে।

    তবে এই সব ঘটনার বিষয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্যও জানানো হয়নি।

    পটভূমি হিসেবে জানিয়েছে, আগে খার্গ দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার পর আইআরজিসি ঘোষণা দিয়েছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা সকল গোপন মার্কিন আস্তানাকে তারা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার হিসেবে যে সব মার্কিন শত্রু আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎসস্থল, ব্যবহারকৃত বন্দর ও ডক এবং সৈন্যদের আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করা হবে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • দক্ষিণ লেবাননে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত

    দক্ষিণ লেবাননে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত

    দক্ষিণ লেবাননের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং নার্স রয়েছেন; মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার সময় তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    হামলার ঘটনা শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বিন্ত জবেইল জেলার বুর্জ কালাওইয়াহ গ্রামে ঘটেছে। মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন প্যারামেডিক রয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    বৈরুত থেকে আল জাজিরার একটি প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অনেক স্থানে এখনও নিখোঁজদের খোঁজ চলছে; তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এর আগে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতে এটি দ্বিতীয় হামলা হিসেবে ধরা পড়ে। দক্ষিণ লেবাননের সুয়ানে গ্রামে একটি প্যারামেডিক কেন্দ্রে হামলায় আরও দুই প্যারামেডিক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নিহত ও আহতদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজদের খোঁজ চালানো চলছে। পরিস্থিতি অনিশ্চিত অবস্থায় আছে এবং প্রাথমিক তথ্য অনুসারে চিকিৎসা সেবায় বড় ধরনের ব্যাহতির আশঙ্কা রয়েছে।

  • ইরান হুঁশিয়ারি: ভারত মহাসাগরে নৌজাহাজে হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে

    ইরান হুঁশিয়ারি: ভারত মহাসাগরে নৌজাহাজে হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে

    ইরান জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে তাদের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা-তে হামলার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। এই ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।

    ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল হাতামি বলেছেন, আইআরআইএস দেনা-র ক্রুরা একটি শান্তিপূর্ণ মিশন শেষে দেশে ফিরছিল। ওই সময় জাহাজটিতে ‘সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে’ হামলা চালিয়ে শতাধিক ক্রুকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার প্রতিশোধ অনিবার্য এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    হাতামি বলেন, আইআরআইএস দেনা-র ক্রুরা ইরানের নৌবাহিনীর ইতিহাসে দেশপ্রেম, সাহস এবং আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে থাকবেন। তিনি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও নৌবাহিনীকে দেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় এবং শক্তি বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ভারতের বিশাখাপত্তনমে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া ‘মিলান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়; এতে ৭০টিরও বেশি দেশ এক বা একাধিক যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অংশ নেন। ঐ মহড়ায় অংশ নেয় ইরানও এবং তাদের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা সেখানে অংশগ্রহণ করেছিল।

    মহড়া শেষে ইরানে ফিরে যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছাকাছি এসে আইআরআইএস দেনা ধ্বংস হয়ে যায় বলে জানানো হয়েছে। তাতে জাহাজটিতে থাকা ১০৪ জনের মধ্যে ৯৪ জন নিহত হয়েছেন—রিপোর্ট অনুসারে নিহতদের মধ্যে ৮৪ জনের মরদেহ শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী উদ্ধার করে। গতকাল শুক্রবার কলম্বো ওই মরদেহগুলো তেহরানে ফিরিয়ে দিয়েছে।

    ঘটনার দায় কে বা কার ওপর চাপানো হবে—এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্ত বা তর্ক চলতে পারে। ইরানের ঘনীভূত প্রতিক্রিয়া ও হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সূত্র: আলজাজিরা