Category: অর্থনীতি

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে তারা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে আরও সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার এক ভরি দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে বেশি। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাবের কারণে এটি কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির মতে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের বাজারেও এই দরভিত্তিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি মূল্য এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    আরো রয়েছে রুপার মূল্যেও সাম্প্রতিক বাড়তি দামে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    অন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আগের তুলনায় ক্রমশ বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যেখানে গতকাল ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। ৩০ জানুয়ারি এর আগে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে সোনার দামের এই অপ্রত্যাশিত উর্ধ্বমুখিতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। গত মাসের শেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে অনেক বেশি বাড়ার কারণে, বাংলাদেশে বাজুস এক দিনের মধ্যে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল। তার ফলে, দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনো এই রকম দর বাড়ানো হয়নি বা এত বেশি দাম বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

  • খুলনায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলজুড়ে ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের পাটশিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে দাম হাঁকার জন্য পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, যার কারণে অনেক মিলেই পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন, আবার মিলগুলোও আর্থিক চাপের মুখে বন্ধ হওয়ার পথে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকরা এখানে এসে কাজ না করেই সময় কাটাচ্ছেন, নীরব এই সংকটের মাঝে। এরকমই পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য মিলেও দেখা যাচ্ছে। কিছু মিল সীমিত আকারে চালু থাকলেও অধিকাংশই বন্ধ বা স্থগিত। শ্রমিকেরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ থেকে বাদ পড়বেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন,

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পরিকল্পনা নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নীত হওয়ার সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার একটি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতিমধ্যে সরকার এ জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিনের অফিস কার্যক্রম শুরু করার সময় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায় এবং এ লক্ষ্যে যা যা করণীয়, দ্রুত ও প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর অব্যাহতভাবে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ও মনোভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। প্রথম সপ্তাহে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এখন থেকেই বিষয়টির ওপর কাজ শুরু করা হয়েছে।

    রপ্তানি ক্ষুদ্রতার বিষয়টি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশের বেশি একক একটি পণ্য বা পণ্য শ্রেণির ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধানে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য সরকারের সহায়তা বাড়ানোও তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন।

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশের জন্য পরিস্থিতি বেশ চ্যালেঞ্জের, কারণ আমাদের সীমিত সুযোগ। দেশের মার্জিন অব এরোর খুব কম থাকায় ভুলের সুযোগ নেই। গত কয়েক মাসে দেখা গেছে মন্থর অর্থনৈতিক গতি; তাই সরকার এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণে কাজ শুরু করেছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। রমজান ও তার পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যথাযথ মজুদ রয়েছে এবং পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্যও আছে। ফলে বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

    বাজারে সিন্ডিকেটের বিষয় যখন আসরে আসে, তখন তিনি জানান, তিনি শুধু কথায় নয়, কাজে ফল দেখাতে চান। বলেন, আমি অতিরিক্ত কথা সৃষ্টি করতে চাই না, ইনশাআল্লাহ কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করব।

    রমজানের শুরুতে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মানুষ পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে না, ফলে চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধি খুব বেশিদিন থাকে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগ কমে আসে। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আশা করা যায় না। ব্যাকরণে বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করে, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিনিময়ে যথাযথ রিটার্ন পাওয়া যাবে।

    তিনি বলেন, দেশের বড় একটি তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে, যেহেতু প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত দুই-তিন বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা এই দিক থেকে দেশের জন্য বড় শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত না থামলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে রমজান মাসের শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রমজানকে সফল ভাবে সামাল দেওয়া এখন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারকে সফল হতে হবে, এবং এ ছাড়া কোনও বিকল্প নেই।

    অবশেষে, তিনি জনগণের কাছে আহ্বান জানান যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব। ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, সবাই মিলে সহযোগিতা করলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সকলের আন্তরিকতা ও একমাত্র প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়ন আসবে নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতেই দেয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতেই দেয়া যাবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক মূলধারাকে ফিরিয়ে আনাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিসের সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা খুবই সমস্যাাপন্ন। তাই প্রথমে খুব গুরুত্বপূর্ণ হলো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুদ্ধার কিভাবে করা যায়, সেটা নির্ধারণ করা। এরপর পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা চালু ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। যদি এসব উপাদান না থাকে, তাহলে আমাদের বড় বড় পরিকল্পনাও ফলপ্রসূ হবে না।

    তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য একটি সমান ভিত্তিতে অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। সব স্টেকহোল্ডার যেন সুযোগ পায় অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার, সেই সঙ্গে এই অর্থনৈতিক সুফল যেন প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে যায়।

    অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্যে সফল হতে হলে সরকারী নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণশীল হয়ে গেছে, যা বাস্তবতায় সমস্যার সৃষ্টি করছে। তিনি দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেন, অভার রেগুলেটেড পরিবেশ থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সকল নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে লিবারলাইজেশন বা মুক্তবাজারনীতিকে উৎসাহিত করতে হবে, যাতে সবই সমানভাবে সমতা বজায় থাকে।

    তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো হবে এবং পাশাপাশি সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে অর্থনৈতিক সম্পদ ও সুফল প্রত্যেকের কাছে পৌঁছবে।

    আলোচনায় তিনি জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো দুটি বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের কারণে অধিক অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ reaching 2 বিলিয়ন ডলার বা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারাবাহিক প্রবাহ বজায় থাকে, তাহলে মাসের শেষের দিকে এর পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে অর্থনীতিবিদরা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজানের সময় পরিবারের খরচ বাড়ানোর জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর এই ধারাটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম মাস হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। এর আগে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল গত মার্চে, যখন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩২৯ কোটি ডলার প্রেরণ করা হয়েছিল।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট রেমিট্যান্সের প্রবাহের দিক থেকে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, Augustে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ, অক্টোবর ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

    ১৮ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত, এই অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২% বেশি। তৎসহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসীদের আয়ে গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা কমে যাওয়ায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

  • খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের পাটকলগুলোতে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামের কারণে উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে, এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য এত বেশি বাড়ায়, উৎপাদন খরচ অনেকখানি বেড়ে গেছে, যার ফলে বেশ কিছু পাটমিল তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, অধিকাংশ কাজ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি মিলগুলোর আর্থিক ক্ষতিও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার মুখে ঠেলে দিতে পারে তাদের।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলে প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে না গিয়ে কেবল সময় কাটাচ্ছেন। দেশের অন্যত্রও অন্তত একটি ডজনের বেশি মিলের বেশির ভাগই এখন কার্যকলাপে স্থবির। কিছু মিল কিছুটা চালু থাকলেও আকারে কম। শ্রমিকদের আশা, যদি এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রায় দেড় মাস ধরে মিল বন্ধ, কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিক মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা থাকে, তবে হয়তো আমাদের কাজ থেকে ছাঁটাই করে দিতে পারেন। তো, আমরা কীভাবে আমাদের পরিবার চালাবো?’’ অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা কাজ করলে মালিক ২ টাকা আয় করেন, আর আমাদের দিতে হন ১ টাকা। শেষ তিন বছরে এই মিল ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বসে আছি। মালিক নিজে না বাঁচলে আমাদের বাঁচাবে কী করে?’’ তারা দাবি করেন, এই সংকটের জন্য সরকারই কঠিন পদক্ষেপ নেবেন।

    মিল মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা মণ, এখন তা গিয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি বাড়লেও বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয়নি সে অনুযায়ী। এর জন্য উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে উদ্যোক্তারা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলছেন, ‘‘বর্ধিত দামে পাট কেনার কারণে এখন উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে ৩২০০ টাকা দরে পাট কিনে এক বস্তা কিনলে আমরা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়। তবে সর্বশেষ ৪০০০ টাকা দরেও পাট কিনে মিল চালিয়েছি। শ্রমিকদের জন্য লোকসান সত্ত্বেও মিল চালু রেখেছিলাম। কিন্তু এখন ৫২০০ টাকা দরে পাট কিনছি, আর এক বস্তার খরচ এখন ૧২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রির মূল্য তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না। ফলে দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।’

    তাঁর দাবি, এই বছর কাঁচা পাটের উৎপাদন গত বছরের মতোই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি নথিপত্র না দেখে, বাজার তদারকি না করেন, তবে মিল চালানো সম্ভব হবে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলে কাঁচা পাটের উৎপাদন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জবে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মে:টন পাট উৎপাদিত হয়, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মে:টন।

    মিল মালিকদের অভিযোগ, কয়েকটি ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করে পাট মজুত করে রাখছে, যার ফলে বাজারে দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ জুট মিল এসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, ‘‘নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি জোরদার করা। অপরাধমূলকভাবে কিছু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যা বা মূলত দাম বাড়ার পিছনে দায়ী।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যাংকের ঋণ সমস্যা ও বাজারে বিভিন্ন সংকটের কারণে এই খাতের সমস্যা জটিল হয়ে পড়ছে। সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি।’’

    এদিকে, পাট অধিদফতর নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘‘আড়তদার বা ডিলাররা সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন, যা আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি। বেশি মজুত পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই বাজার স্বাভাবিক হতে পারে।’’

    খুলনা অঞ্চলে ইজারা ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে ২০টি পাটকল আছে। এসব মিলের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই দেশের বাইরে রফতানি করা হয়। তবে যদি এই সংকট চলমান থাকে, তবে উত্পাদন ও রফতানি দুটোই বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

  • বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশে ভরি সোনার দাম ৩ হাজার টাকা বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে প্রতি ভরি সোনার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সোনার মান সম্পন্ন ২২ ক্যারেটের ভরি এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায় পৌঁছেছে। এর আগে গতকাল একই সময়ে এর মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দাম বাড়ানোর তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দাম সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়।

    সংগঠনটি নিশ্চিত করেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দামের বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারেও সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন নির্ধারিত দামের পরিমাণ অনুসারে, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়াও, অন্যান্য ক্যারেটের দামের মধ্যে রয়েছে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    অতিরিক্ত, সোনার পাশাপাশি রুপার দামো বাড়ানো হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও বাড়ছে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা আগের দিন ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার।

    এর আগে, ৩০ জানুয়ারি বিশ্বের বাজারে স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, আর ২৯ জানুয়ারি এটি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশের বাজারেও চরম মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একেবারে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা মূল্য বৃদ্ধি করলে, এক মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম। একই সময়ে সোনার দাম এতটা বৃদ্ধির নজির আর কখনো দেখায়নি।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া হবে না

    নতুন অর্থমন্ত্রী: পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি চলতে দেওয়া হবে না

    বাংলাদেশের নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে চলা অর্থনীতি এখন আর চালানো যাবে না। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), সচিবালয়ে প্রথম অফিসের দিন সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। তাই প্রথমে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করার উপায় ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব আর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। যদি এসব উপাদান অনুপস্থিত থাকে, তাহলে বড় বড় পরিকল্পনাও ফলবদ হবে না।

    অর্থনীতি চালাতে পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে চলা চলবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি সব মানুষের জন্য সমানভাবে_ACCESSIBLE হওয়া উচিত। সব শ্রেণির মানুষ যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল নির্দিষ্টভাবে তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিও জরুরি।

    তিনি আরো বলেন, এসব লক্ষ্য সফল করতে হলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়। পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই নিয়ন্ত্রণ আরো বেশি হয়ে গেছে। তাই এর থেকে সরে এসে অবশ্যই ডিরেগুলেটেড বা নিয়ন্ত্রণ কমানো দরকার।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, লLiber লাইজেশন ও লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির মাধ্যমে সবাই সমান সুযোগ পাবে। এভাবেই অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও এর সুফল প্রত্যেকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

    অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণে বাংলাদেশে অতিরিক্ত রেগুলেশন জারšao গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এখন সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শ্লথগতির নিয়ন্ত্রণগুলো কমাতে হবে।

    প্রসঙ্গত, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে, বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এ ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পথে রয়েছে। বিষয়টি শুরু থেকেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদ্বিৎকৃত হচ্ছে, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের মেয়াদ পিছানোর ব্যাপারে সরকার দৃঢ়সংকল্প। কোনো বাধ্যবাধকতা থাকলে তা প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চিঠির মাধ্যমে জানাতে হবে—এমন কোনো অঘোষিত নিয়ম নেই, তবে সরকার এ বিষয়ে আজ থেকেই কাজ শুরু করেছে।

    অপরদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো সংকীর্ণ। বর্তমানে মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একমাত্র কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার খুঁজে বের করতে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে ভবিষ্যতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ অবস্থায়, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে সীমিত সুযোগের মধ্যেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মার্জিন অব এরো অনেক কম, ভুলের কোনো সুযোগ নেই। সুতরাং, গত কয়েক মাসে দেখা গিয়েছে মন্থর গতি দ্রুত বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন, পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও এর পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে, এছাড়া পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে। ফলে বাজারে আতঙ্কের কিছু নেই, তিনি এ বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, রমজানের সময় বাজারে সিন্ডিকেট নিয়েও নানা আলোচনা হয়—এ ব্যাপারে তিনি জানান, তিনি শুধু কথার বদলে কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি শুধু সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    পণ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভোগের চাহিদা বিশেষ করে এককালীন বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছু পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়ে। মানুষের বাজারে মাসের পুরো সময়ের চাহিদা একসঙ্গে বৃদ্ধি পেলে দাম ওঠানামা স্বাভাবিক, তবে এর প্রভাব খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না বলে তিনি মনে করেন।

    বৈশ্বিক ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগের প্রবাহ অনেকটাই থমকে আছে। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না। তিনি আরও জানান, দেশে বড় একটি শ্রমশক্তির উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর হাজারों মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগের স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত আরেকবার এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মৌসুম শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কি না—জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রমজান মোকাবেলায় এখনই বড় পরীক্ষার মুখোমুখি সরকার। মানুষের চাহিদা পূরণে সরকার সফল হতে হবে এবং এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। ভুল হলে তা সংশোধন করে এগিয়ে যেতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার বেড়েছে

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার বেড়েছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ নিশ্চিত করেছে যে, দেশীয় বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে মাননীয় ২২ ক্যারেটের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগের দিনের মূল্য ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে বেশি। এই দাম পরিবর্তন আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।

    সংগঠনটির সূত্রে জানা গেছে যে, তেজাবি বা পিওর গোল্ড ধরনের সোনার দামের বৃদ্ধি শহরগঞ্জে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকাশিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দরের নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের জন্য যথাক্রমে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকার মূল্য ধার্য করা হয়েছে।

    তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার জন্য প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    বৈশ্বিক বাজারেও সোনার দাম তুলনামূলকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে ৩০ জানুয়ারি এই দামের স্তর ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, যেখানে ২৯ জানুয়ারি তা ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    অতিরিক্তভাবে, গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, ফলে দেশের বাজারে রেকর্ড পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এই বৃদ্ধি ঘোষণা করে, যেখানে ভরিপ্রতি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে মানসম্পন্ন এক ভরি সোনার দাম পৌঁছে যায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ। এই দাম আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশের বাজারে এমন বৃদ্ধি আগে কখনো দেখা যায়নি।