Category: অর্থনীতি

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দ্বিগুণ ডলার 측

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়ালো দ্বিগুণ ডলার 측

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাসের approaching কারণে দেশের বাইরে থেকে অর্থ পাঠানোর হার বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরিবারের খরচ মেটাতে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনে দেশের বাইরে থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের হার ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে মাসের শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নামাজের মৌসুমে প্রবাসীরা পরিবারে জন্য বাড়তি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালের মার্চে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বোচ্চ ৩২২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    প্রবাসী আয়ের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে, ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ২২.৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পরিসংখ্যান বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারির অবধি দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ একটু কম, যা ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে পুনরায় গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক খাতে অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে যাওয়ার পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা অনায়াসে বৈধ মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন। সেই সঙ্গে, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ভবিষ্যতেও রেমিট্যান্সের ধারাকে সচল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এটি গত দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার দাম বাড়ছে।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাজুস একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করে। নতুন দামে বিক্রি শুরু হয়েছে সকাল ১০টা থেকে। সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। অন্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম: ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনা ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।

    এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ১২ দফায় কমানো। গত বছর মোট ৯৩ বার মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো ও ২৯ বার কমানো হয়।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২০ টাকা।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে এবং ৭ বার কমেছে। গত বছরে মোট ১৩ দফায় দাম পরিবর্তন হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বাড়ছিল এবং ৩ বার কমছিল।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস শুরু করতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আর জন্যে শ্রম দিচ্ছে। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কার্যপ্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

    ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি স্বীকার করে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম সপ্তাহেই এই বিষয়ে চিঠি পাঠানোর প্রয়োজন নেই, তবে সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    রপ্তানির বর্তমান সময়ের ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়া এখনো সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ একমাত্র কিছু পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই দুর্বলতা কাটাতে হলে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য সংযুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজারের সন্ধান চালাতে হবে। এছাড়া, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে টিকে থাকছে। তিনি বলেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই ক্ষুদ্র, যেখানে ভুলের সুযোগ কম। ফলে, গত কয়েক মাসে যে মন্থর গতিচলন দেখা গেছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার জন্য সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    রমজান উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে। সরকার রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনে ব্যবহৃত পণ্য পর্যাপ্ত মজুত ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন, ফলে বাজারে কোনো আতঙ্কের সময় না।

    রমজান মাসে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য নয়, কাজের মাধ্যমে ফলাফল দেখাতে চান। এ জন্য তিনি বলেন, ‘আমি সাউন্ড বাইট দিচ্ছি না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।’

    বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করে, ফলে ভোগের প্রয়োজন বাড়ে, এবং এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে। তবে বলে থাকেন, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাব খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ অনিরাপদ হয়। স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ আসবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ও শ্রমের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি প্রত্যাশা করে। তিনি আরও জানান, দেশে বড় সংখ্যক জনশক্তি রয়েছে, প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। পুরনো বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকায় দেশের জন্য বড় চাপে পড়েছে, এবং এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রমজান শুরু হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তিনি বলছেন, রমজান কার্যক্রম সুসম্পন্ন করতে হলে সরকারকে সফল হতে হবে। দেশের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে সবাই একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি ব্যক্তিগত নয়, দেশের স্বার্থের বিষয়। এই কাজে সকলের সহযোগিতা চান, যদি কোথাও ভুল হয় তখন তা ধার করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন, মিলেঝুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের বেশ কিছু ইজারা দেওয়া ও বেসরকারি পাটকলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। শেষ কয়েক সপ্তাহে কাঁচা পাটের দাম হঠাৎ করে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। এর ফলে বেশিরভাগ মিলই এখন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, এবং এতে হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। শ্রমিকেরা বলছেন, শ্রমিকেরা প্রতিদিন সামান্য সময় বসে থাকছেন, কারণ কাঁচা পাটের সংকটের কারণে মালিকরা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে।

    খুলনার দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিল গত দেড় মাস ধরে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকরা বলছেন, কাঁচা পাটের অভাবে মিলগুলোতে কাজ নেই, তাই তারা কাজ করতে আসছেন না। শ্রমিকদের একজন আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি গত দেড় মাস ধরে এখানে আসছি, কাজের জন্য হালকা আশায় থাকি, কিন্তু কোনো কাজ নেই। কাঁচা পাটের অভাবে মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না, আর যদি যত দ্রুত সম্ভব এই সংকট সমাধান না হয়, তবে কেবল কাজ হারানোর আশঙ্কাই বেড়েই চলবে।” অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ বলেছেন, “আমাদের দিয়ে মালিকরা খুব কম টাকা আয় করেন, আর আমরা সেই টাকা নিতে পারি না। এই তিন বছর আমাদের জীবন ভালো চলছিল, কিন্তু এখন দেড় মাস ধরে আমরা বিনা কাজের মাঝে আছি। মালিকেরা যদি সরকারি নীতিনির্ধারণে সক্রিয় না হন, তবে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যেতে পারে।”

    মিলের মালিকেরা জানাচ্ছেন, মৌসুমের শুরুতে তাঁরা যদি পাটের দাম প্রতি মণ ৩২০০ টাকা কিনে থাকেন, এখন দেড় মাস পরে দাম বেড়ে ৫২০০ টাকায় উঠেছে। দ্বিগুণের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে, আবার বাজারে পণ্য বিক্রি দরও বেড়েছে না। ফলে উৎপাদনে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মোল্লা জানান, “অতিরিক্ত দামে পাট কিনে এখন সামর্থ্য থাকছে না, আগে যেখানে প্রতি মণে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকা দরে চাদর বিক্রি করতাম, এখন ৪০০০ টাকা দরেও কিনে মিল চালানোর কথা ভাবা যায়। তবে এখন খরচ এত বেশি যে বিক্রির মূল্য তার চেয়ে কম। ফলে বাধ্য হয়ে দেড় মাস থেকে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।”

    তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাটের এই সংকট তৈরি হয়েছে ভুয়া সংকট দেখানোর জন্য। আসলে, গত দুই বছরে এই অঞ্চলের উৎপাদন মাত্রই হয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম artificially বৃদ্ধি করেছে। সরকার যদি তদারকি না করে, তাহলে এই মিলগুলো চালানো সম্ভব নয়।”

    অন্যদিকে, কৃষি বিভাগের তথ্য অনুসারে, গত দুই বছর ধরে এই অঞ্চলের কাঁচা পাটের উৎপাদন স্থিতিশীল ছিল, যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৪,৬৬৬ মে. টন এবং ২০২৫-২৬ সালে ৯১,১৩৫ মে. টন উৎপাদন হয়েছিল। কৃষি অধিদফতরের গড় হিসেবেও দেখা যায়, এই দুই বছর জেলাগুলোর উৎপাদন খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

    বাজারের অস্থিতিশীলতা ও উর্ধ্বমুখী দামের জন্য কিছু সিন্ডিকেট মূলত পাট মজুত করে রাখছে এবং দাম artificially বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলছেন, “নতুন সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি আর তদারকি আরও বাড়ানো দরকার। অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা পাট মজুত করে চকচকে করে দিচ্ছে, যার ফলে বাজারের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সংকটও রয়েছে, যা এই খাতে বড় সমস্যা। তাই সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    পাট অধিদফতর জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বললেন, “আমরা আহ্বান জানিয়েছি, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত রাখতে পারবেন, এই নিয়মের যথাযথ প্রয়োগের জন্য নজরদারি চালাচ্ছি। দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে এবং বাজার স্বাভাবিক হবে।”

    খুলনা অঞ্চলে ইজারাকৃত ও বেসরকারি মিল মিলিয়ে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে। এখানে প্রায় প্রতি মাসে ২৫,০০০ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে বর্তমানে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে, উৎপাদন ও রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়ে গেছে

    সোনার দাম প্রতি ভরি ৩ হাজার টাকা বেড়ে গেছে

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে সোনার মূল্য বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতিটি ভরির দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে মানসম্পন্ন (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি বর্তমানে দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা পূর্ববর্তী দিনে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকা।

    সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে এই নতুন দামের কার্যকারিতা শুরু হয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে সোনার দামও আপডেট হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, নতুন দামের মধ্যে সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ডেলিভারির জন্য প্রতি ভরি দামের ঘোষণা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার জন্য একই ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।

    এছাড়া, সোনার সঙ্গে রুপার দরেও বৃদ্ধি আনা হয়েছে। এখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    বিশ্ব বাজারে সোনার দামও ক্রমশ বৃদ্ধির পথে। গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ১০৬ ডলারে, যা এর আগের দিনে ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। এর আগে, জানুয়ারি মাসের শেষদিকেও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। ৩০ জানুয়ারি দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারিতে তা উঠে যায় ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে।

    গত মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কিছুটা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে দেশের বাজারেও বিপুল পরিমাণ দাম বৃদ্ধির ঘটনা ঘটে। ২৯ জানুয়ারি সকালেই বাজুস ডেবলভারের জন্য ১৬ হাজার ২১৩ টাকা দাম বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছে দেয়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই মূল্যবৃদ্ধি আর কোনো সময় এতটা বেড়ে যায়নি।

  • ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌঁছাল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির ১৮ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পৌঁছাল দুই বিলিয়ন ডলার

    জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং আসন্ন pবিত্র রমজান মাসের প্রভাবের কারণে দেশের মানুষের মধ্যে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা অতীতের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশের বৈধ পথে প্রবাসীরা মোট ২ বিলিয়ন ডলাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার আশার কথা বলা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ও রমজান মাসের জন্য পরিবারের খরচ বাড়ার কারণে প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ প্রেরণ করছেন। এই রেমিটেন্স প্রবাহের বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার বা অর্থাৎ ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাসের রেকর্ড। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স ছিলো ৩২২ কোটি ডলার, যা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দেশের রেকর্ড অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চ মাসে, তখন ঈদের কারণে ৩২৯ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল।

    ২০২৫ সালের অর্থোব্দে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরতে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, октябрে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার প্রেরিত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে এখনো পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ২২ শতাংশের বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ১৭ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর মানদণ্ডে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ হচ্ছে ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের গতি ফিরে আসতে শুরু করে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার গত কিছু মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ মতো অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

  • দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার মূল্য

    দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার মূল্য

    দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এই মূল্য সম্প্রতি সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে এবং সকাল ১০টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্যে সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দামের ভিত্তিতে, ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) মূল্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়। তবে, এই দামের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানা গেছে।

    এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকায়।

    চলতি বছরের প্রথম দিকে, যেকোনো সময়ের তুলনায়, এখন পর্যন্ত ৩২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ দফায় দাম বেড়েছে, আর ১২ দফায় কমেছে। ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ৬৪ দফায় দাম বৃদ্ধি পায় এবং ২৯ দফায় কমে।

    অপরদিকে, সোনার দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকায়। অন্যান্য ক্যাটাগরির রুপার মূল্য হলো ২১ ক্যারেটের জন্য ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    চলতি বছরে রুপার দাম ১৮ দফায় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ বার দাম বেড়েছে, এবং ৭ বার কমেছে। গত বছর মোট ১৩ দফায় দাম সমন্বয় হয়, যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছে ও ৩ বার কমেছে।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার সরকার স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য উদ্যোগ নেবে। তিনি বললেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে এই কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে তার প্রথম দিন অফিসে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণে দেরি করানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ লক্ষ্য পূরণের জন্য যা দরকার, তা দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বহুমুখী চাপ ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিয়ে, সরকার আজ থেকেই এই বিষয়ে কাজ করছে।

    রপ্তানির নিম্নগতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করতে এবং নতুন মার্কেটের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তাদের যথাসত্ত্ব সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে, বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ, যেহেতু দরিদ্র দেশ, খুব সীমিত সুযোগের মধ্যে টিকে থাকছে। তার মতে, দেশের মার্জিন খুবই কম, ভুলের কোনো জায়গা নেই। তাই, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লক্ষ্য করা মন্থর গতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে বাজারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। রমজান মাস এবং পরবর্তী সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও পাইপলাইনে পণ্য রয়েছে। এ কারণে বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    রমজানে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

    প্রথম দিকে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, সেই বিষয়টি জানিয়ে তিনি বললেন, এটি সাধারণত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। মাসের প্রথম থেকেই মানুষ একসঙ্গে বেশি কিনতে শুরু করে, ফলে দাম অস্থির হয়ে ওঠে। তবে এ অবস্থা সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে আশা প্রকাশ করেন।

    বিবিধ বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ আসেনা। স্থিতিশীল পরিবেশই বিনিয়োগের শর্ত। দেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন মানুষ প্রবেশ করছে। তবে, বিগত দুই-তিন বছর বিনিয়োগের চাপ কম থাকায় কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি পড়তেছে সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজানকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, বলেন, রমজান প্রস্তুতি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারের বড় পরীক্ষা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে। এসব কাজ দেশের স্বার্থের জন্য, বলেন তিনি। সবাইের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ভুল হলে তা দুঃখের বিষয় নয়, বরং ভুল ধরিয়ে দেওয়াই উত্তম। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিটেন্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিটেন্স ছাড়ালো দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা দেশের জন্য অর্থ পাঠানোর হার বাড়ছে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন পবিত্র রমজান মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করে। এর ফলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই দেশে মোট ২ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার से বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এটি অব্যাহত থাকে, মাস শেষে এই পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজান মহুমা ঘিরে বাড়তি খরচের জন্য প্রবাসীরা বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এই প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য আনন্দের খবরে পরিণত হয়েছে, কারণ এটি প্রতিপাদন করছে যে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা) পাঠিয়েছেন। এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ একক মাসের রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ ছিল মার্চ মাসের ৩২৯ কোটি ডলার, যা ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ছিল।

    ২০২৫ সালে দেশীয় প্রবাসী আয়ের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি, অক্টোবর ২৫৬ কোটি, নভেম্বর ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে।

    ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১৫৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছর একই সময়ের তুলনায় ২২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে আগের বছর প্রবাসী আয় ছিল ১১৫ কোটি ডলার কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে এখনকার প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের গতি বেড়ে গেছে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, ডলারের বিনিময় হার গত কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথেই অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এই সব উদাহরণ দেখাচ্ছে যে, দেশের অর্থনীতি গতিশীল হতে সক্ষম হচ্ছে।

  • খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ইজারা পাওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া দাম। যেখানে আগে সহজে পাট সংগ্রহ করা যেত, এখন কাঁচা পাটের খুচরা মূল্য দ্বিগুণের বেশি উঠেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং অনেক মিলের পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় বসে রয়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতিসহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা চোখে পড়ছে।

    দৌলতপুরে অবস্থিত দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আশাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত দেড় মাস ধরে মিলটি বন্ধ রয়েছে কারণ কাঁচা পাটের সংকট। তারা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কাজের জন্য কাঁচা পাটের অভাব থাকায় কর্মহীন থাকছেন। একই পরিস্থিতি অন্যান্য মিলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন, যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে কাজ থেকে ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, মালিকরা পাটের জন্য এখন দ্বিগুণের বেশি দামে কিনছেন, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি তবে উৎপাদন চালানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

    মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শুরুতে প্রতি মণ পাটের মূল্য ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে তারা বলছেন, আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকায় বিক্রি করতেন, এখন ৪০০০ টাকায় কিনে হলেও লাভের জন্য কেউ তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না। এখন পাটের দাম skyrocket হওয়া এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল না থাকায় তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

    তারা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাটের মজুত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা ও আশপাশের जिलাগুলিতে পাটের উৎপাদন মোটেও কমেনি। তবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কারণে বাজারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন সরকারের ভাষ্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মাধ্যমে মূলত অবৈধভাবে পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। ফলে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ সুবিধাও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সরকারের দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

    পাট অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার উল্লেখ করেন যে, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবে এবং এ বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রোজ নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়।

    খুলনা অঞ্চলে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি। এসব মিলগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রফতানি করা হয়। তবে চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতি ও রফতানি খাতে বড় ধাক্কা লাগার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মত সরকার যদি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে, তবে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ক্ষতি হাত থেকে রেহাই পাবে না।