Author: bangladiganta

  • পাকিস্তানের ঘোষণা: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরু, কাবুল ও কান্দাহারে সংঘর্ষ

    পাকিস্তানের ঘোষণা: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শুরু, কাবুল ও কান্দাহারে সংঘর্ষ

    আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। তারের সীমান্তে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন দিক নিল। গত কয়েকদিন ধরে কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য অঞ্চলে পাকিস্তানের হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে পাকিস্তানি সেনাদের অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক তালেবান বেসামরিক ও সামরিক পর্যায়ে নিহত হয়েছে।

    বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে এক কঠোর ভাষণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। তিনি এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে এখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। এখন আমাদের ও তোমাদের মধ্যে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী।’

    শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্সে পোস্টে জানান, পাকিস্তানি বিমান ও সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সুমরিক আক্রমণ চালানো হয়। অভিযানের মাধ্যমে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারায় ২৭টি সেনাকুড়ি ধ্বংস এবং নয়টি দখল করে নিয়েছে পাকিস্তানি সেনারা।

    তিনি আরও জানান, এই আঘাতে আফগান সেনাবাহিনীর দুটি প্রধান সদরদপ্তর, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, লজিস্টিক কেন্দ্র, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, সেক্টর হেডকোয়ার্টারসহ ৮০টিরও বেশি ট্যাংক ও বিভিন্ন ধরনের সুপ্রাচীন অস্ত্রবাহী যান ধ্বংস হয়েছে।

    প্রায় এক বছর আগে, গত বছর অক্টোবরে, দুই পক্ষই যুদ্ধবিরতির জন্য আপস করলেও, বিচ্ছিন্ন অপারেশনের ঘটনা অব্যাহত ছিল। গত শুক্রবার রাতে কাবুলে জোরদার বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে রাতে বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের ঘটনা ঘটে। তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দাবি করেছিলেন, শুক্রবার ভোরের হামলায় পাকিস্তানিরা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, তবে পরে এই দাবি ডিলিট করা হয়।

    পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অভিযানে ১৩৩ তালেবান নিহত হয়েছে এবং আরও ২০০ জন আহত হয়েছে। তবে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও আহত হয়নি। এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হস্তক্ষেপে বেশ কয়েকজন নিহত হন। আর তালেবান দাবি করে, তারা এই হামলার জন্য পাকিস্তানের সেনা ও বিমান বাহিনীকে জবাব দেবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর সঙ্গে সংযোগ রেখে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে, ২০০১ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান অভিযানের পরে পাকিস্তান তালেবান সমর্থন দিয়ে আসছিল, কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগে উঠে, তারা তালেবানদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে।

    অন্তর্ঘর্ষের এই সময়ে, সীমান্তে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে তালেবান। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বহু এলাকা জঙ্গি হামলার শিকার হয়, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দুই দেশের এই সংঘর্ষের ফলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারে যেতে চলেছে।

  • পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আহত বা নিহত হওয়ার আশংকা

    পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আহত বা নিহত হওয়ার আশংকা

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারো সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি আফগানিস্তানে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে একটি অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানের ফলে আফগানিস্তানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)-এর ইউরোপ শাখা।

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। ওসিন্টের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতাসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে, এই তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    ২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে অবসর নেওয়ার পর, তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতা গ্রহণ করে এবং নতুন সরকার গঠন করে। হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    অপরদিকে, ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযান চালানোর অভিযোগ ওঠে। আফগান পক্ষ দাবি করে, ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি লোক নিহত হয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে হামলা চালায়।

    আজ শুক্রবার ভোরে আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় পাকিস্তান হামলা চালায়। এর জবাবে, আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    তালেবানের মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বিমান আঘাত হেনেছে। তবে, তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। দামান জেলায় তালেবানের একটি সীমান্তরক্ষা ঘাঁটি রয়েছে।

    আফগানিস্তানের তালেবান কর্মকর্তা জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, তাদের বাহিনী দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও জানান, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে, যদিও এই সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

    অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তালেবান বাহিনীকে। এই সংঘর্ষে দেশ দুটির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব: পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাতে শান্তির আশ্বাস

    ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব: পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সংঘাতে শান্তির আশ্বাস

    আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর জন্য ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি রমজানের পবিত্রতা তুলে ধরে বলেছেন, এই মাসটি আত্মসংযম ও ইসলামী ঐক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশদুটির মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সংকটময় পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে সব ধরনের গঠনমূলক সংলাপের পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ানো এবং সহযোগিতা জোরদার করতে ইরান তার ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান প্রকাশ্যে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স-এ পোস্ট করে জানিয়েছেন, আফগান বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে পাকিস্তানিরা আক্রমণ চালানোর পর এই ঘোষণা আসে। পাকিস্তানের দাবি, তারা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখন আরো চরমে পৌঁছেছে — তাই তারা প্রকাশ্য যুদ্ধের পথে। পাকিস্তানের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে পাকিস্তানের হামলার ফলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে, তালেবানের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের আক্রমণে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। واک্যতায়, পাল্টা হামলায় তালেবান দাবি করেছে অর্ধশতাধিক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

  • পাকিস্তানের দাবি, ২২৮ তালেবান নিহত, আহত ৩শ’ বেশি

    পাকিস্তানের দাবি, ২২৮ তালেবান নিহত, আহত ৩শ’ বেশি

    পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ২২৮ তালেবান সদস্য নিহত হয়েছে এবং আরও ৩১৪ জন আহত হয়েছে। খবরটি নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

    শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তানের সেনা মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী উল্লেখ করেন, ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ এর আওতায় পাকিস্তানি সেনারা ৭৪টি তালেবান কম্যান্ড পোস্ট ধ্বংস করে একই সঙ্গে ১৮ জন তালেবান সদস্যকে আটক করেছে।

    এর আগে পাকিস্তান জানিয়েছিল, তালেবানের হামলায় তাদের ২৭ সেনা আহত হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করে বলেছে, তাদের আটজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং ১১ জন আহত।

    অপরদিকে, তালেবান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের হামলায় তাদের ৫৫ সৈন্য নিহত হয়েছে। আফগানিস্তানের কর্মকর্তা ও সরকার মতামত দেন, তারা গত বুধবার ডুরাল্ড লাইন (পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত) বরাবর পাকিস্তানি সেনাদের অবস্থানে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যেখানে ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে।

    বছরখানেকের উত্তেজনার পর অবশেষে দুই মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। অঙ্গীকারবদ্ধভাবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে এই সংঘর্ষে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চলতি মাসের প্রথম দিকে, পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায়।

    আফগানিস্তানের জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, এতে ১৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, এই হামলায় ৮০ জনের বেশি সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে কাবুলের দাবি, এই হামলায় ১৮ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে।

    প্রতিক্রিয়াস্বরূপ, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। এতে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

    তারপর, গত রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহরে পাকিস্তান আবারো হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষমন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।

  • নেপালে জেন-জি প্রতিবাদে পুলিশের নির্বিচার গুলির পেছনে গোপন নাটক

    নেপালে জেন-জি প্রতিবাদে পুলিশের নির্বিচার গুলির পেছনে গোপন নাটক

    গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর নেপালের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজধানী কাঠমান্ডুর মৈতিঘর মণ্ডলা থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি আন্দোলনের প্রতিবাদে সেদিন রক্তঝরা হয়েছিল। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিষয়টি প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, নিরস্ত্র ও পলায়নরত তরুণদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ দেয় পুলিশ প্রধানের সামনেই কর্তৃপক্ষ।

    বিবিসির বিশেষ সূত্র মতে, পুলিশের গোপন ‘লগ বুক’ ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্রে দেখা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ১২টা ৩০ মিনিটে কারফিউ জারির পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে রেডিও বার্তায় একটি নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশ দেতা ঘোষণা করেন ‘পিটার ১’ কল সাইন ব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তা, যার সূত্রে জানা যায়, তিনি নেপালের আশির্ধ্ণতর পুলিশ মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুং।

    নথিপত্রে আরও বলা হয়েছে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বারবার প্রাণনাশক গোলার অনুমতি চেয়ে রেডিওর মাধ্যমে নির্দেশের জন্য আবেদন করেন। তখনই ‘পিটার ১’ থেকে নির্দেশ আসে, ‘কারফিউ জারি হয়েছে, পর্যাপ্ত অনুমতি প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন অনুযায়ী বল প্রয়োগ করুন।’ এই পর্যায়ে শুরু হয় নির্বিচার গুলির বর্বরতা।

    অত্যন্ত দুঃখজনক হলো, ওই দিন নিহত ১৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে করুণ কাহিনি হলো ১৭ বছর বয়সী শ্রীয়াম চৌলাগাঁইয়ের। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, সেদিন সে কোনও সহিংসতায় যুক্ত ছিল না। স্কুলের ব্যাগ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল থেকে সরে আসছিল, তখনই তার মাথার পিছনে গুলি লেগে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    শ্রীয়ামের মা-বাবা জানায়, তার ছেলে রাজনীতির অনেক সচেতন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। একবার তাদের বলেছিল, ‘আমরা তো ছোট, পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালাবে না।’ কিন্তু তার বিশ্বাসের মূল্য দিতে হল প্রাণ দিয়ে।

    নেপালের এই আন্দোলন মূলত কোনো প্রাচীন রাজনৈতিক দলের আয়োজিত নয়। বিশ্লেষকেরা এটিকে বলছেন ‘ডিজিটাল বিপ্লব’। আগস্ট থেকেই তরুণেরা অনলাইনে ‘নেপো বেবি’ বা অভিজাত পরিবারের সন্তানদের বিরুদ্ধে আভিজাত্য বিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সরকার যখন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে দিল, তখন তারা গেমিং প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে সংগঠিত হয়। ‘ইউথ অ্যাগেইনস্ট করাপশন’ নামে এই সার্ভারে বিশাল সমাবেশ ও পরিকল্পনা চলছিল।

    অন্য এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম গোপন রেখেই বলেন, তারা তরুণ প্রজন্মের এই ডিজিটাল সংগঠনের ক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজান ছিল। সেখানে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৩০,০০০।

    তদন্তের সময় আরও খুঁজে পাওয়া যায়, পুলিশ কেবল রাস্তা থেকেই নয়, সংসদ ভবনের উঁচু প্রাচীর ও গেটহাউস থেকেও বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে গুলি চালিয়েছে। ২টা ২১ মিনিটে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ ভবনের প্রাচীরের আড়াল থেকে ধোঁয়া বের হতে, যা স্পষ্ট করে দেয় টার্গেট করে গুলি করা হচ্ছিল। সেই গুলিতে প্রাণ হারান ২৪ বছরের যুবক যোগেন্দ্র নিউপানে।

    ৮ সেপ্টেম্বরের এই নিষ্ঠুরতার পরিপ্রেক্ষিতে, নেপাল রাজনীতিতে গভীর এক ঝড় ওঠে। পরের দিন, ৯ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ জনতা দেশব্যাপী থানায় ও সরকারি ভবনে আগুন লাগায়। পরিস্থিতি আর সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়লে, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে, দুই দিনে সারা দেশে নিহত হন মোট ৭৭ জন।

    আগামী ৫ মার্চ নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, ৮ সেপ্টেম্বরের এই হত্যাকাণ্ডের দায় কেউ গ্রেপ্তার বা প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নেননি। সাবেক আইজিপি খাপুং অবসরে গিয়ে নিস্তব্ধতা পালন করছেন। একইভাবে, তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের আরও কিছু কর্মকর্তারা দায় এড়ানোর জন্য লুকোচুরি খেলায় লিপ্ত।

    এত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি পাবলিক ইনকোয়ারি কমিশন গঠন হলেও তার প্রতিবেদন আজো প্রকাশ পায়নি। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    শহীদ শ্রীয়ামের মা আজও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকেন, মনে করেন, হয়তো স্কুলের ইউনিফর্ম পরা তার ছেলে ব্যাগ নিয়ে ফিরে আসবে। তরুণ সমাজ এই বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে, তারা বলছেন, এই জুলুম আর চলতে দেওয়া হবে না।

  • বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে

    বর্তমান সরকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে

    খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আজিজুল বারি হেলাল বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার শক্ত হাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অপরাধী মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, জমি দখল করে এবং চাঁদাবাজি চালিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও সুখী জীবন যাপন করতে পারছে না। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময় এক স্বার্থান্বেষী মহল দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ ধরনের অশুভ কর্মকাণ্ড দমনে নব গঠিত বিএনপি সরকার কড়া হাতে ব্যবস্থা নিবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, খুলনা-৪ আসনে মাদক ক্রয়-বিক্রেসহ সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স অবস্থানে। মাদক বিক্রেতা বা সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।

    অমুকনিয়ে তিনি বলেন, সরকারজনপ্রিয় নেতৃত্ব দেশের সুষ্ঠু ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকল দপ্তরের কার্যক্রম যাতে জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে বর্তমান সরকার। সকল কর্মকর্তাকে দলতীতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির কাছে মাথা নোয়ানো যাবে না, বরং দেশের ভঙ্গুর অবকাঠামো উন্নয়নে অব্যাহত কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি রূপসা উপজেলার প্রশাসন আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। এর আগে তিনি রূপসা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি, তিনি খুলনা জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

    সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রিক্তা সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-নেত্রীরা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা, স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষগণ, যুব ও মহিলা নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কালীগঞ্জে থানার সামনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১২

    কালীগঞ্জে থানার সামনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১২

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটে এক অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষের ঘটনা। এইদিন, থানার সামনে বিএনপির পার্টি অফিসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান নেতৃত্বে একটি আলোচনা সভা চলাকালে হঠাৎ দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তিক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্বতঃপ্রণোদিত গণ্ডগোলের ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু এই সময় সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা পুলিশ তত্ত্বাবধানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে গেলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে পুলিশের সদস্যসহ মোট ১২ জন আহত হন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

    কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা লুৎফুর রহমান লেন্টু বলেন, রাশেদ খানের নেতৃত্বে পার্টি অফিসে আলোচনা সভা চলাকালে মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম তার সমর্থকদের নিয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান নেন। এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা এখন অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

    অপরদিকে, কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জেল্লাল হোসেন বলেন, থানায় একই দিন তাবাসসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামী আবু তাহেরকে গ্রেফতার করার জন্য তদন্তের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। তখনই থানার সামনে বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বাধা দেয় ব্যক্তিরা, এবং তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনার ফলে ওই সময়ে পুলিশসহ ১২ জন আহত হন।

    পুলিশ জানায়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা বলেছে, এই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল শনাক্ত

    সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল শনাক্ত

    সাতক্ষীরায় ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হলো। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই আকস্মিক ভূকম্পনে পুরো জেলা এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতিতে পড়ে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সরাসরি সাতক্ষীরা জেলার অভ্যন্তরে, যেখানে ভূমিকম্পটির মূল কেন্দ্র ছিল আঞ্চলিকভাবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, দুপুরের সময় হঠাৎ করেই ভয়ঙ্কর ঝাঁকুনি শুরু হয়। এতে উপস্থিত মুসল্লিরা তিলাবৎ আতঙ্কে পড়েন, কারণ জুমার নামাজের সময় ছিল এবং অনেকেই মসজিদে ছিলেন। তীব্র কম্পনে সাধারণ মানুষ দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে খানিকটা দেরি না করে নিরাপদ স্থানে যান। শহরের বহুতল ভবনগুলো থেকে বাসিন্দারা রাস্তায় ছুটে বের হন। তবে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

    সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফেকার আলী রিপন নিশ্চিত করেছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫.৩। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, এর আগে তারা কখনও এত শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভব করেননি। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ভিতরে থাকা এই এলাকায় কম্পনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এই ফলাফলে জানা গেছে, ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে, যাতে এই ধরনের বিপর্যয় মোকাবেলা করা যায়।

  • প্রাক্তন বৈষম্যবিরোধী নেতা রিয়াদ সহ তিনজন গ্রেপ্তার হত্যাচেষ্টা মামলায়

    প্রাক্তন বৈষম্যবিরোধী নেতা রিয়াদ সহ তিনজন গ্রেপ্তার হত্যাচেষ্টা মামলায়

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার নামেও গ্রেপ্তারকৃতরা শনাক্ত হয়েছেন। আজ শুক্রবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরমান আলী তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

    এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে, যেখানে নির্জন সরদার বাঁধন নামের এক ছাত্রের অভিযোগে তিনি ও আরও ১০/২২ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির একান্ত আলোচনা রুমে আসামিরা তাকে ক্যাম্পাসে স্থায়ী থাকতে এবং কনভোকেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বলেন। এ সময় রাজ্জাকের নেতৃত্বে আসামিরা তাকে মারধর শুরু করে। তারা তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করে, পরে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে মুখে আঘাত করে, যার ফলে তার মুখ ও নাকের উপরিভাগ কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর তাকে শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর বন্ধুবান্ধব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে আসামিরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। পরে গুলশান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামিদের আটক করে। পুলিশ বলছে, আসামিরা সক্রিয়ভাবে মারপিটের সঙ্গে জড়িত এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

  • কালীগঞ্জে শিশু তাবাচ্ছুম হত্যায় মূল অভিযুক্ত আবু তাহের আটক

    কালীগঞ্জে শিশু তাবাচ্ছুম হত্যায় মূল অভিযুক্ত আবু তাহের আটক

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পৈত্রিক গ্রামে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুম হত্যার মূল অভিযুক্ত আবু তাহেরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীন নামে এক ব্যক্তির ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবু তাহের একজন সিগারেট কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি এবং তার মাদকাসক্তি রয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিশু হত্যার অন্যতম মূল আসামির গ্রেফতারি নিশ্চিত করে। এএসপি মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শিশুটির নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরের দিন, یعنی বৃহস্পতিবার, বাদুরগাছা গ্রামের একটি সেফটি ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে তৎপরতা চালিয়ে আরও দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জানা যায়, আবু তাহের কুষ্টিয়ায় তার ভায়ের বাসায় অবস্থান করছে, যেখানে তাকে কুষ্টিয়া পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু তাহের দাবি করে, ঘটনার দিন শিশুটিকে চিপস ও জুসের লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে যায়। এরপর শারীরিক নির্যাতনের শিকার করে। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তাকে লুঙ্গি দিয়ে মুখ চেপে ধরে। মুখ চেপে ধরার এক পর্যায়ে শিশুটি মারা যায়। এরপর রাতের অন্ধকারে শিশুটিকে একটি বস্তায় ভরে পাশের স্কুলের সেফটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি ও এই শিশু হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি বুধবার দুপুর দুইটার দিকে নিখোঁজ হয়। তার পরিবার বন্দরবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকেন। নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম একজন স্থানীয় দর্জির কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশনে কাজ করেন।