Author: bangladiganta

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ‘আশার আলো’, পাকিস্তান মধ্যস্থতা

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ‘আশার আলো’, পাকিস্তান মধ্যস্থতা

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা কমানো ও অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নতুন করে জেগে উঠেছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে—এই আশা তৈরি করেছে এবং তার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নজর কাড়ছে।

    গত শনিবার ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা; সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এটি বিরল এক সরাসরি সংলাপ ছিল। তবে ওই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়া শেষ হয় এবং দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের দেশে ফিরে যান।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপ শুরু হতে পারে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটিকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।” হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদেরকেও তিনি বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং পাকিস্তানকে যথার্থ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আরো বলেছেন, “ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ—এ কারণে আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের তৎপরতা ও সংযোগই মধ্যস্থতার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    পাকিস্তানের এই উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক থাকা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা আলোচনার এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

    আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব ও কাতারে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে এবং তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে তিনি অংশ নেবেন; সেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা আছে। তার সঙ্গে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারও রয়েছেন।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনার সমন্বয়ে তাঁর নেতৃত্বে এই সফর। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়া সম্ভব।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রথম দফার আলোচনার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ইরান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরমাণু সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, তবে এ কর্মসূচির ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার জায়গা আছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে দুই পক্ষকেই কঠোর কিছু বলে ছাড় দিতে হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেভিড মিলার বলেছেন যে দীর্ঘসময় ধরে ফলপ্রসূ আলোচনায় অভাব থাকায় কৌশলগতভাবে ইরান কিছুটা এগিয়ে আছে এবং তারা তাড়াহুড়ো করে ছাড় দেবে না। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পারসি বলেছেন, প্রেক্ষাপট বদলেছে; সামরিক হুমকির পরও ইরান নতিস্বীকার করেনি, তাই যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক আপসের পথ অবলম্বন করতে হবে। ইসলামাবাদভিত্তিক বিশ্লেষক জাহিদ হুসাইন দ্বিতীয় রাউন্ডের আলোচনা সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন এটি আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে।

    পাকিস্তানের সাবেক নৌকমোডর ও কূটনীতিক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল জাজিরার মতে, প্রথম দফায় বড় অগ্রগতি আশা করা অবাস্তব ছিল, তবে দুই পক্ষকে মুখোমুখি করে বসানোই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য; দ্বিতীয় দফার উদ্যোগ এই কূটনীতিকে এখনও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ করার ইঙ্গিত দেয়।

    বর্তমানে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও কূটনীতির চেষ্টাগুলো চলমান থাকাই উৎসাহব্যাঞ্জক। ইসলামাবাদে যদি আলোচনার দ্বিতীয় দফা হয় এবং তা থেকে বাস্তবসম্মত সমাধানের সূত্রপাত ঘটে, তবে অঞ্চলকে ঝুঁকি থেকে বাঁচানোর দিক থেকে তা বড় এক ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

  • পুলিশ নিয়োগ হবে শতভাগ মেধাভিত্তিক, দালালের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান

    পুলিশ নিয়োগ হবে শতভাগ মেধাভিত্তিক, দালালের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান

    খুলনা রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) বলছেন — পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ, তদবির বা দালালচক্রকে একেবারেই গ্রহণ করা হবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল) কনফারেন্স রুমে আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।

    ডিআইজি বলেন, ‘‘পুলিশে চাকরি পেতে টাকা লাগে—এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। জমিজমা বিক্রি করে বা ধার করে কোনো দালালের হাতে টাকা দেবেন না।’’ তিনি আবেদনকারীদের সতর্ক করে জানান, নিয়োগ পুরোপুরি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক রাখা হবে—পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতিই নির্দেশক।

    দালালদের দৌড়ঝাঁপ বন্ধে পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি। তিনি আরও বলেন, যদি কেউ অর্থের বিনিময়ে চাকরি নেবে এবং সেটি পরবর্তীতে তিন বছরের মধ্যে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার নিয়োগ বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রতারণার অভিযোগে কয়েকজন দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    ডিআইজি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম প্রার্থীদের স্বার্থে বিশেষ জোর দেন—যোগ্যতা থাকলে তারা অগ্রাধিকারে নিয়োজিত হবেন। ‘‘তাদের জন্য কোনো তদবিরের প্রয়োজন নেই; মেধাই একমাত্র যোগ্যতা হবে,’’ তিনি বলেন।

    এবারকার নিয়োগে প্রবল প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরে ডিআইজি জানান, খুলনা রেঞ্জে প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৬৬৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। কোটাভিত্তিক পদে যদি উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্যপদ পূরণ করা হবে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনসাধারণকে সচেতন করার অনুরোধ জানান—পুলিশে চাকরিতে কোনো টাকা লাগে না। কোথাও অনিয়মের তথ্য পান তৎক্ষণাৎ জানাতে বলেও তিনি অনুরোধ করেন; পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

    সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • কেএমপিতে ১১ কর্মকর্তাকে বদলী, সাত থানায় নতুন ওসি

    কেএমপিতে ১১ কর্মকর্তাকে বদলী, সাত থানায় নতুন ওসি

    খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) বুধবার ১১ জন কর্মকর্তাকে বদলী করেছে। এর মধ্যে সাতটি থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়োগ করা হয়েছে। বদলীর সিদ্ধান্তটি কেএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) এম এম শাকিলুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

    এর আগে ১২ এপ্রিল কেএমপির চার থানার অফিসার ইনচার্জকে খুলনার বাইরে রাজশাহী ও বরিশাল রেঞ্জে বদলী করা হয়েছিল।

    প্রজ্ঞাপনে বদলী হওয়ার কর্মকর্তা ও তাদের নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে: পুলিশ পরিদর্শক এস এম জাবীদ হাসান — খালিশপুর থানা; পুলিশ পরিদর্শক মু. মোরাদুল ইসলাম — দৌলতপুর থানা; পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হালিমুর রহমান — আড়ংঘাটা থানা; পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবুল বাশার — খানজাহান আলী থানা; পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শফিকুল ইসলামকে দৌলতপুর থানা থেকে খুলনা থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে; পুলিশ পরিদর্শক (ডিবি) মোঃ হেলাল উদ্দিন — হরিণটানা থানা; এবং রেশন স্টোর ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোশারেফ হোসেন — লবনচরা থানা।

    একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশ পরিদর্শক লোকমান হোসেন, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদুজ্জামান এবং আড়ংঘাটা থানার ওসি শাহজাহান আহমেদকে গোয়েন্দা বিভাগে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেনকে রেশন স্টোরের ইনচার্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে।

    বদলীর এই রদবদল বিকল্প দায়িত্ব ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে করা হয়েছে বলে কেএমপি সূত্র জানিয়েছে।

  • সিমন্স: এখন আর কোনো কিছুই আমাকে অবাক করে না

    সিমন্স: এখন আর কোনো কিছুই আমাকে অবাক করে না

    ২০২৪ সালের অক্টোবরেই চণ্ডিকা হাথুরুসিংহকে বদলে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে যোগ দেন ফিল সিমন্স। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ফারুক আহমেদ। এরপর বোর্ডের শীর্ষে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে—ফারুককে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুল দায়িত্ব নেন। পরে বিসিবি নির্বাচনে বুলবুল পুনরায় জিতে বোর্ড পরিচালনার সুযোগ পান। শৃঙ্খলে আরও এক দফার পরিবর্তনের পর সাম্প্রতিক সময়ে বুলবুলকে সরিয়ে বোর্ড সভাপতির পদে আসেন তামিম ইকবাল।

    বোর্ডে এই অস্থিরতার অভিজ্ঞতায় জাতীয় দলের ওপর কি প্রভাব পড়ছে, জানতে চাওয়া হয় প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কাছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সিমন্স স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘জীবনের কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না।’’ তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশ নিয়ে নয়—জীবনেই এমন ওঠা-নামা থাকতে পারে, তাই কোনো ঘটনা তাকে সহজে চমকায় না।

    খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থার বিষয়ে সিমন্স বলেন, তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে এই পরিবর্তনের প্রভাব কী। অবশ্যতি তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো নেতিবাচক মানসিক প্রভাব দেখেন না। ‘‘তারা আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছে। সিরিজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তারা সম্পূর্ণ করছে,’’ যোগ করেন সিমন্স।

    কোচের কথায় বোর্ড প্রধান পরিবর্তন তাঁর কোচিং কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে না। সিমন্স বলেন, ‘‘যে পরিকল্পনা নিয়েই আমরা কাজ শুরু করেছি, তাতে এখনো কোনো পরিবর্তনের চেষ্টার মুখে পড়িনি। তাই আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি।’’

    তিনি আরও জানান, নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে তার এবং কোচিং স্টাফদের কিছুবার কথা হয়েছে। ‘‘দুই দিন আগে খেলার সময় তিনি ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন, আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন—এভাবে কয়েকবার দেখা হয়েছে,’’ সিমন্স বলেন।

    সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের মাঝেও সিমন্সের মনোভাব স্পষ্ট: তিনি দলের প্রস্তুতিকে অব্যাহত রাখতে চান এবং খেলোয়াড়দের লক্ষ্যভিত্তিক কাজ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছেন।

  • আশা ভোঁসলে চিরবিদায়, মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য

    আশা ভোঁসলে চিরবিদায়, মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য

    প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে মুখাগ্নি দেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। খবরটি প্রথমটি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলের আশার বাসভবন ছিল মানুষের সমাগমে অভিভূত—চাঁদের হাটে পরিণত হয়েছিল পুরো এলাকা। তবে সেখানে উৎসবের কোনো মেজাজ ছিল না, বরং গভীর শোক এবং নীরব শ্রদ্ধার আবহ ছিল। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের কন্যা মীনা খাড়িকর সহ বহু শিল্পী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সেখানে হাজির ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকার, সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমান, গায়ক জাভেদ আলি, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ ও জ্যাকি শ্রফসহ বিনোদন জগতের বহু প্রভাবশালী মুখ। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্ষীয়ান নেতারা ও অন্যান্য ক্ষেত্রের মানুষও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

    বাসভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মরদেহকে শিবাজি পার্ক শ্মশানে নেওয়া হয়। শববাহী গাড়িটি আশার প্রিয় সাদা-হলুদ ফুলে ঝরা ছিল এবং রাস্তার দু’ধারে ভক্ত-অনুরাগীদের অনড় সমবেত হয়; অনেকের কণ্ঠে গান, অনেকের চোখে অশ্রু—তাদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার ছায়ায় শেষ বিদায়টা সাদাকালো মিশ্র অনুভূতিতে ভরে উঠে। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন, রাজনীতি ও ক্রীড়া অঙ্গনের বহু মানুষ।

    আশা ভোঁসলেকে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন শুরু হয় ১৯৪৩ সালে এবং ৮ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান করে গেছেন। শুধু হিন্দি নয়—আরও প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষায় এবং কয়েকটি বিদেশি ভাষাতেও তিনি গীতায় শিল্পী হয়েছেন। সংগীতজীবনে তিনি মোট ৯২৫টিরও বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন এবং সাধারণত ধারণা করা হয় তিনি প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ দিয়েছিল। ২০১১ সালে গিনেস বুকে তিনি সর্বাধিক সংখ্যক রেকর্ডকৃত গানের মাধ্যমে স্বীকৃতি পান।

    ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোঁসলের প্রথম বিয়ে হয় গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে—যিনি 당시 লতা মঙ্গেশকরের সেক্রেটারি ছিলেন। বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ এবং গণপতরাওর বয়স ৩১; এই সম্পর্ক ১৯৬০ সালে ভেঙে যায়। পরে ১৯৮০ সালে তিনি গায়ক সৈয়দ মালেক রাহমান, অর্থাৎ আরডি বর্মনের (আর.ডি. বর্মন) সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন; ১৯৯৪ সালে আরডি বর্মন মারা যান।

    সুর ও মাধুর্যের একটি অধ্যায় আজ বন্ধ হলেও, আশা ভোঁসলের গাওয়া গানগুলো এখনও বহু প্রজন্মের স্মৃতিকোষে বেঁচে থাকবে—তার কণ্ঠ, তার ছন্দ, তার শিল্পীজীবনের অবদান ভারতের সংগীত ইতিহাসে অনস্বীকার্য।

  • আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে অনুপস্থিত ছিলেন সালমান-শাহরুখ — জানা গেল কারণ

    আশা ভোঁসলের শেষ বিদায়ে অনুপস্থিত ছিলেন সালমান-শাহরুখ — জানা গেল কারণ

    সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তাঁর পরিব্রাজক জীবনের সমাপ্তিতে গোটা বলিউড কাঁদছে—রণবীর সিংসহ বহু তারকা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। তবু দুই সুপরিচিত তারকা সালমান খান ও শাহরুখ খান সেখানে যেতে পারেননি, যা অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর সময়ই সালমান ও শাহরুখ মুম্বাইতে ছিলেন। তবে তাদের নিরাপত্তার কারণে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কিং খান বা ভাইজানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি।

    অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারাই শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শাহরুখ লেখেন, ‘‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে আশা তাই চলে গেলেন। তাঁর কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার একটি অটল স্তম্ভ ছিল—তার ছাপ আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত থাকবে।’’ সালমান লিখেছেন, ‘‘এটি ভারতীয় সংগীতের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। আশা জির কণ্ঠ আমাকে উলঙ্গ করে দিয়েছে—এক অপূরণীয় শূন্যতা। তাঁর গান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।’’

    আশা ভোঁসলে গত ১২ এপ্রিল শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে ১১ এপ্রিল বুকের ব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে নেওয়া হন এবং চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে আশার সেরে ওঠার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

    আশা ভোঁসলের অবদান ভারতীয় সংগীত ও সিনেমার ইতিহাসে অমলীন। দেশি-বিদেশি অসংখ্য গান, মিলনসার কণ্ঠস্বর ও শিল্পী হিসেবে তাঁর দীপ্তি বহু মানুষের মনে রেখে গেছে। তাঁর প্রয়াণে শিল্পভুবনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে ঘুচবে না।

  • চট্টগ্রামে দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুই জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে: চিফ হুইপ

    চট্টগ্রামে দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুই জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে: চিফ হুইপ

    চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বন্ধ সংক্রান্ত খবরের সঙ্গে একই সূত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ ছিল—দুই লাখ টন তেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এই তথ্যও মিডিয়ায় গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা উচিত, কারণ নেতিবাচক খবরে এতেই ক্ষুদ্র না থেকে ইতিবাচক দিকগুলোওজন নেয়া দরকার।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি সংক্রান্ত সংবাদ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারণা হয়েছে, তথাপি বন্দরে নোঙরকৃত জাহাজ ও তেলের ব্যবস্থা সম্পর্কেও জনগণকে জানানো জরুরি।

    চিফ হুইপ প্রধানমন্ত্রীকে জাতির কল্যাণে কাজ করা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে মানবিক কল্যাণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

    কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে বিভিন্ন কাজের বাজার অনুসারে ভাষায় শিক্ষিত করতে হবে—মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য আরবি, চীনে কাজের জন্য ম্যান্ডারিন, ইতালিতে ইতালিয়ান, কোরিয়ায় কোরিয়ান ও জাপানে জাপানিজ শেখানো প্রয়োজন। তবু দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজির গুরুত্ব অপরিসীম; এটি একটি বৈশ্বিক ভাষা হওয়ায় ইংরেজি শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী সারাদেশ ঘুরে এ বিষয় নিয়ে একটি নির্দেশিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করবেন, জানান তিনি।

    সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের এবং বিরোধী দলের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও তারা সর্বশেষে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রকে মজবুত করা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দেশের গঠনমূলক উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, সংসদে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই আমরা সমৃদ্ধ হব—দেশপ্রেমের জায়গা থেকেই ঐকমত্য অর্জন করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

    সংক্ষেপে চিফ হুইপের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়: সংবাদ পরিবেশে ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা জরুরি, সরকার দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং দক্ষ জনশক্তি গঠনে ভাষা শিক্ষা ও সংবিধান সংশোধনে সকল পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন।

  • জ্বালানি সংকটে দুই বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানি সংকটে দুই বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    জ্বালানি তেলের চলমান সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে দুই বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) বৈশ্বিক সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সংসদ সচিবালয়ের দফতর থেকে এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস আয়োজিত অনলাইন সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘‘জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে’’ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানান।

    চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এই সংকট পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে; একাই কোনো দেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রাদেশিকভাবে সমন্বিত, দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরবরাহ বিঘ্নের সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজকে প্রভাবিত করছে এবং এই প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কিছু স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা, পাশাপাশি ভোক্তা সুরক্ষার জন্য রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ মতো উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান আগাম সতর্ক করে বলেন, সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকে উন্নয়ন কাজকে স্থবির করে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নের যেসব অর্জন রয়েছে, সেগুলো পিছিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এই সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একাই এই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ অপরিহার্য।

    সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন; সমাপনী বক্তব্য দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

    প্রধানমন্ত্রী বিকেলে সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

  • সংস্কার পরিষদ না হলে সংকটে পড়বে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে সংকটে পড়বে বিএনপি সরকার: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নগর আন্দোলন ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন না হলে তার ফল বিএনপি সরকারকে ভোগ করতে হবে—এমন সর্তকবাণী দিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ওই মন্তব্য করেন সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশে দুইটি বড় প্রশ্ন জন্ম নিয়েছিল। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদ নির্মূল, বিএনপি তখন দ্রুত নির্বাচনের দাবি করেছিল, আর তাদের পক্ষ থেকে আমরা গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংস্কারের দাবি তুলেছিলাম। পরে ঐ প্রেক্ষাপটেই বিএনপি সংস্কারের আলোচনায় অংশ নেয়; ফলে আমরা গণপরিষদের বদলে সংস্কার পরিষদের দাবি মেনে নিই।

    তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিএনপি কৃত্রিমভাবে বিরোধিতা তৈরি করছে এবং ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই আদেশ’কে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপি তাদের পক্ষে জুলাই সনদকে দলীয় ইশতেহার হিসেবে পরিব্যক্ত করায় গণভোট সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নাহিদ বলেন, সংবিধানের কাঠামো ভেতরে গিয়ে মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়—এজন্য গাঠনিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্যই সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে অগ্রাহ্য করেছে।

    গণভোট ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করার পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে চিফ হুইপ আরও বলেন, এখন আমাদের জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে নিতে হবে ও চিত্রতৎপর্য—যুদ্ধজমিনির মতো—সঙ্কট মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে। জ্বালানি সমস্যা সমাধানসহ দেশের চলমান দুর্যোগ মোকাবেলা নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। নাহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের দিক টিপে দেখিয়েছিল, সেগুলো এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় জাতিকে আজকের দুর্বিপাকে ফেলে বিএনপিকে এর দায়ভার পোহাতে হবে এবং পরিণতি সহজ হবে না।

    সংকট নিরসনে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংবিধিগত সুরাহা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য বজায় রাখুন। নাহলে এর ফল আপনাদের ভোগ করতে হবে।’

    সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্যটি দিয়েছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে—শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে স্বাধীনতার ও গণ-আন্দোলনের সময়। ১৯৪৭-এর স্বাধিকার আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানগুলোতে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের অনেকেই শ্রমজীবী মানুষই ছিলেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমিকদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি মাত্র এক মাসের মাথায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে; এক মাসের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এবং গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এটি একটি গণবিরোধী সরকার।’’

    নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর করা এবং সুদৃঢ় সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের পরিণতি ভালো হবে না; তাই গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।

    এক নতুন জাতীয় ঐক্যের কথা উল্লেখ করে নাহিদ заяв করেন, ‘‘আমরা ওই ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি—জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ব; রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করব। এই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’ তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে।

    প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) জবাবদিহিতার দাবিতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, ‘‘আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে—জুলাইয়ের বাংলাদেশকে—সামনে নিয়ে যেতে হবে।’’

    চূড়ান্তভাবে সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্যে রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদকে নয়, রাজপথের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে ঈমানদার হতে বাধ্য করব এবং জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করব।’’