Author: bangladiganta

  • হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে গড়ে তুলবো মানবিক বাংলাদেশ

    হিন্দু-মুসলিম মিলেমিশে গড়ে তুলবো মানবিক বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, তিনি চান দেশের হিন্দু এবং মুসলিম দলের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে একটি সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলুক। তিনি আরও বলেছে, কোনও অপপ্রচারে তারা কান দেবে না এবং অন্ধকারের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন যারা, তারাই আসলে ‘রাজাকার’ নামক অপপ্রচারে লিপ্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন প্রজন্ম এই বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারকে বিশ্বাস করে না।

    তিনি বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই সব কথা বলেন, যেখানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুন্সী মিজানুর রহমান। নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেব প্রসাদ মন্ডল, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মোক্তার হোসাইন, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোলো, ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, খানজাহান আলী থানা আমীর ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সহ-সভাপতি ডাঃ হরিদাস মন্ডল এবং কোষাধ্যক্ষ গৌতম মন্ডল সহ অন্যরা।

    সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, যারা দাড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করছেন, তাদেরকে কেউ হুমকি দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকেই ছাড় দেবে না। তিনি আরও বলেছেন, সবাই নিজের মতামত প্রকাশ করার স্বাধীন অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

  • অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান হেলালের

    অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান হেলালের

    বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, দেশের সামজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দুর্গোৎসবের সময় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির এক অন্যতম পর্যায়। অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের জয় প্রতিষ্ঠার মূলনীতিকে সামনে রেখে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপন করার আহ্বান জানান হেলাল। দুর্গোৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গুরুতর অবদান, তাই সবাইকে গ্রহণযোগ্য ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়ে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিলনমেলা সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করেন। তিনি প্রশাসনের ভূমিকা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। রাজনীতি থেকে সুস্পষ্টভাবে দূরে থেকে, রাজনৈতিক কর্মীদের উচিত নয় হাতের অস্ত্র বা আইন হাতে তুলে নেওয়া; বরং তারা প্রশাসনের পাশে থাকতে হবে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রূপসা উপজেলার কাজদিয়া বিআরডিবি মিলনায়তনে পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

  • রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত

    রিজার্ভ চুরি: ফিলিপাইনের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত একজন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া প্রায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে এই অর্থ ফেরত আনার জন্য ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কার্যক্রম শুরু করেছেন।

    ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সাইবার চুরি ঘটনায় এই টাকা মূলত লুকানো হয়েছিল। সেই বছর, বাংলাদেশের ব্যাংকের নিউইয়র্কে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার জাল সুইফট বার্তা মাধ্যমে চুরি হয়। এর মধ্যে, শ্রীলঙ্কায় পাঠানো প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা সম্ভব হলেও, বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাকাতি শহরের জুপিটার শাখার ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়।

    পরে, এই অর্থ বিভিন্ন ক্যাসিনো ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে পাচার হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে তদন্ত শুরু হয় এবং ফিলিপাইনের আদালত রিজাল ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মায়া ডিগুইটোকে মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। এই পুরো ঘটনায় দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনে গৃহীত কার্যক্রম এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্তের মুখোমুখি।

  • পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা নিশ্চিত নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    পুঁজিবাজারে সবসময় মুনাফা নিশ্চিত নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজার থেকে সবসময় মুনাফা লাভের ভাবনা ভুল। তিনি এ ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে বলেন, কেউ যদি মনে করে, এটি নিয়মিত আয়ের স্থায়ী উৎস, তবে তা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। মূলধন বাজারে যেমন মুনাফার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ক্ষতির ঝুঁকিও লুকানো নয়। তাই বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে যে শেয়ার ও বন্ড কেনার মানে কখনো কখনো ক্ষতিও ভাগ করে নিতে হতে পারে।

    সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বন্ড ও সিকিউরিটি বাজার উন্মোচন: রাজস্ব ক্ষেত্র, অবকাঠামো সরবরাহ এবং ইসলামী মানি মার্কেট উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন।

    ড. আহমেদ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে এখনো মূলধন বাজার উন্নত হয়নি। সরকারী বন্ড সেক্টরে কিছু থাকলেও বেসরকারি অংশগ্রহণ খুবই কম, আর শেয়ারবাজার প্রায় নগণ্য। এর ফলে বড় বড় প্রকল্পের অর্থায়ন ঝুঁকি ভাগাভাগি না করে কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে, যা দেশের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ঋণখেলাপি আর তহবিলের অপব্যবহারের ঘটনা বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ট্র্যাজেডি। প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকি কমানোর জন্য মানুষকে বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ার বিনিয়োগ করতে হবে। ব্যাংক থেকে কেবল ঋণ নিয়ে তা অপব্যবহারের মাধ্যমে কোন সমাধান হয় না। এজন্য মূলধন বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের এই বিষয়ে সচেতন করতে হবে যে, এখানে ঝুঁকি থাকলেও লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুকুক বাজারে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বন্ড রয়েছে, তবে সেগুলো শিক্ষা ও স্যানিটেশন খাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে এ বন্ডগুলো থেকে আয়ের হার কম। তবে যদি এসব বন্ডকে উৎপাদনমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, তবে লাভবান হওয়া সম্ভব এবং ব্যাংকের উপর চাপ কমবে। সিকিউরিটি মার্কেট অবশ্যই প্রকৃত সম্পদভিত্তিক হতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা জাগে।

    অর্থ উপদেষ্টা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে এখনও সিকিউরিটাইজেশন কার্যকর হয়নি, যা বড় প্রকল্প যেমন মেট্রোরেল-এ ব্যবহার হলে বিশ্বব্যাংকের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। আরও বলেন, পেনশন ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডের ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এগুলো সরকারি দায়বদ্ধতা।

    তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র মূলধন ও সিকিউরিটি বাজার নয়, পাশাপাশি বীমা বাজারের উন্নয়নেও নজর দিতে হবে। কর কাঠামো ও প্রণোদনা সংস্কার করে দেশের বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

    সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ প্রমুখ।

  • গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা বাজার তৈরি হবে দ্রুত

    গভর্নরের পরামর্শ: সঞ্চয়পত্র ও বন্ডের জন্য আলাদা বাজার তৈরি হবে দ্রুত

    আবেগের শেষে গভর্নর জানিয়ে করেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। খুব শিগগির এই প্রতিবেদনে অতিরিক্ত সুপারিশসহ ব্রোকারেজ ও সুকুক উভয় ধরনের বন্ডের উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।

  • বিশ্বাস্য রেকর্ডে স্বর্ণের দাম, ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    বিশ্বাস্য রেকর্ডে স্বর্ণের দাম, ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার টাকা

    বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে স্বর্ণের দাম এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এবার দেশীয় বাজারে ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকায় নতুন করে নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম রেকর্ড। এই দাম সোমবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ড স্বর্ণের মূল্যে বিপুল বৃদ্ধি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু হবে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সাধারণ ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এছাড়াও, নিউ ওয়ার্ল্ডের মূল্য অনুযায়ী ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকায়।

    বাজুসের আরেকটি তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণ বিক্রির মূল্যের সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। এর পাশাপাশি গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির ব্যয় ভিন্ন হতে পারে।

    বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম এখনো কখনো ৩ হাজার ৭০০ ডলার অতিক্রম করেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক দিনে ৩৪ ডলার দাম বৃদ্ধির ফলে এক মাসে সোনার দাম বেড়েছে ১০.৩৫ ডলার। এক মাসের মধ্যে, প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৪০০ ডলার বেড়ে গেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার, তখন দেশের বাজারে মূল্য নির্ধারণের পূর্বে এক হস্তান্তর হয়। এরপরবিশ্ববাজারে দাম কমে গেলেও আবার ফিরতে থাকায় বিভিন্ন সময়ে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পায়।

    বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ট্যারিফ অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক-সংক্রান্ত ঝামেলা, চীন, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে চলমান বৈঠক, এবং এই সব কারণে ডলারের সার্বিক মূল্যপ্রভাব সফল হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্যও বিভিন্ন দেশ সোনা কিনে রিজার্ভ করে চলেছে। এর ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সোনার দাম ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়েছে, দেশের স্বর্ণের বাজারের আকার সংকুচিত হচ্ছে।

  • একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি

    একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি

    ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য আবারো বেড়েছে, যা ইতিহাসে অন্যতম highest. বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে ভরিতে ৩ হাজার ৬৬৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেছে, এবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, যা গত মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নতুন দামের কার্যকারিতা শুরু হবে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই। উপস্থাপিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে, অন্যান্য সূচকের সাথে মিলিয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন, প্রতি ভরি (১১.৬৬4 গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, যা আগের তুলনায় আরও বেশি। এছাড়াও, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ১ লাখ হৃদয়তা এটি ৫৯ হাজার ৪২৪ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫১ টাকা। এবার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি, বাজুস জানিয়েছে যে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে সরকারের নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির পরিমাণ আলাদা হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস, সেই সময় ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ টাকা। এতদিনে এই দাম ছিল দেশের সর্বোচ্চ। সেই সময়ের অন্য দাম ছিল, ২১ ক্যারেটের ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪২৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৯৭ টাকা। ওই দামগুলি কার্যকর হয়েছিল ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে। এই বছর মোট ৫৭ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪০ বার এবং কমানো হয়েছে ১৭ বার। আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬২ বার; এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছিল ৩৫ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৭ বার। এছাড়াও, স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভরিতে ১৫২ টাকা বাড়িয়ে, ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যান্য ক্যাটাগরির জন্য দাম হলো, ২১ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৪৫৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ২ হাজার ২২৮ টাকা।

  • নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার কারণ ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত নেতা ডা. তাহের

    নিউইয়র্কে বিমানবন্দরে হেনস্তার কারণ ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াত নেতা ডা. তাহের

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, জামায়াত এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। এই সফর নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিমানবন্দরে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর প্রবাসী আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়।

    ঘটনার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কেন দেখা যায়নি, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ মনে করেন, হয়তো তাকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল অথবা তিনি আগে থেকে খবর Knowing ছিলেন। এই বিষয়টি তিনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন।

    নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি বাংলা সংবাদপত্র ঠিকানায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. তাহের বলেন, শুরুতে আমাদেরকে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর সঙ্গে নেওয়ার জন্য গাড়িতে উঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভিসার জটিলতার কারণে পরে আমাদের আলাদা হওয়ার প্রয়োজন হয়। সরকারি দলে ভিসা ছিল জি-ওয়ান ক্যাটাগরিতে, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রয়োজন হয় না। তবে আমাদের ভিসা ছিল ট্যুরিস্ট ক্যাটাগরির, যেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হয়। আর এখানেই কিছু যোগাযোগের ঘাটতি থাকায় আমাদের আলাদা করা হয়। এই জন্য আমরা হেঁটে ইমিগ্রেশনে যাই।

    তাহের আরও জানান, তখনও প্রধান উপদেষ্টা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অন্তত ১০ মিনিটের বেশি সময়। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে আমরা একসঙ্গে বের হতে পারিনি।

    বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা ও কার্যক্রম নিয়েও তিনি সমালোচনা করে বলেন, তাদের দায়িত্ব ছিল আমাদের যথাযথভাবে জানানো ও সমন্বয় করা। যদি সেটা করা হতো, তাহলে হয়তো হামলার ঘটনাও ঘটত না। তবে ব্যর্থতার জন্যই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    অন্যদিকে, যখন প্রবাসী আওয়ামী লীগ কর্মীরা এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপ করে, তখন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তাসনিম জারা পাশে ছিলেন। কিন্তু ডা. তাহেরকে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগে থেকেই ছিল আশঙ্কাজনক। যদিও তখন বাইরে কি ঘটছে, তা আমরা শুরুতে বুঝতে পারিনি।

    তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, আমি নেতাদের পাশেই ছিলাম। তখন আমাদের কিছু ছেলে স্লোগান দিচ্ছিল ‘তাহের ভাই জিন্দাবাদ’। আমি চাইছিলাম, ফখরুল সাহেবের জন্যও স্লোগান দিতে, যাতে তিনি বিব্রত না হন। কিন্তু উত্তেজিত ছেলে ছেড়ে দিচ্ছিল না। ফলে আমি কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াই। পরে আমাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়, এবং আমি কয়েক মিনিট বক্তৃতাও দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

    তাহের আরও জানান, টিভির ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, আখতার হোসেনের রক্ষা করার চেষ্টা যারা করেছিলেন, তারা আমাদেরই কর্মী। তবে আখতার ভাইয়ের ওপর হামলা ঘটানো যায়, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

  • তারেক রহমান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরছেন

    তারেক রহমান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরছেন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শেষ লগ্নের নেতৃত্ব দিতে শিগগিরই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি গত কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমান দেশে ফিরে আসবেন। ইনশাআল্লাহ, এই সময়ের মধ্যে তিনি বিএনপির নির্বাচনপ্রক্রিয়া নয়, বরং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের শেষ পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেবেন।

    বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু দলের নেতৃত্ব নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই তারেক রহমানের নেতা। তিনি বলেন, ‘দেশে নাশকতা সৃষ্টির সম্পর্কে আমি সব সময় বলেছি, স্বৈরাচারের দোসর কারা ছিল সেটিও আমি জানি। ১৯৮৬ সালে দেখেছেন, আজো দেখতে পাচ্ছেন। এজন্য আমি সকল সংবাদ কর্মী ও দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করব। দেশের মানুষ বুঝতে পারছে যে, সত্যিকার অর্থে স্বৈরাচারের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা কারা। এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে আর কিছু বলার দরকার নেই। বিএনপি জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতি প্রবলভাবে সোচ্চার থাকবে।’

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে, ন্যূইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকালে বিএনপির মহাসচিবসহ তিন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ওপর আওয়ামী লীগ হেনস্তার ঘটনাকে কেন্দ্র করে, জাহিদ হোসেন বলছেন, ‘এই দলের ইতিহাস ও নেতাদের ইতিহাস কখনোই মানুষের পক্ষে ছিল না। তারা প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার দাপটে লিপ্ত; জনগণের ওপরে চাপ তৈরি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের রাজনীতি করে। তারা এই দেশের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে, যেকোনো সময় ইচ্ছেমতো চালানোর চেষ্টা করে। তাদের এই অযোগ্যতা ও অশুভ আচার-আচরণ অতীতেও ছিল, বর্তমানে চলছে। তবে মনে রাখতে হবে, শেষ বিচারে জনগণই জানে how to সম্মুখীন হতে এবং তাদের প্রত্যাখ্যান করতে।’

  • পিআর পদ্ধতিতে দুর্বল বা ফ্যাসিস্ট সরকার তৈরি হতে পারে: সালাহউদ্দিন

    পিআর পদ্ধতিতে দুর্বল বা ফ্যাসিস্ট সরকার তৈরি হতে পারে: সালাহউদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই পদ্ধতিতে যখন বেশি সিটের জন্য লোভ থাকছে, তখন ফ্যাসিস্ট বা দুর্বল সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়ে। এর ফলে দেশের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন বলেন, পিআর পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বেশি আসন পাওয়া। পাশাপাশি, এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যায় যাতে মূল দলের সুবিধাজনক সরকার আসতে না পারে। তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতিতে যারা কম জনপ্রিয় তাদের জন্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন বাধ্যতামূলক। এটি বাইরের কোনো সংশয় বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার দরকার নেই। তিনি পাল্টা আপত্তি জানিয়েছেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে কিছু মানুষ পিআর পদ্ধতি চেয়ে দাবি করছে— যেখানে তারা বলছে, ৭০ শতাংশ মানুষ এই পদ্ধতি চায়। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের তথ্য সত্য নয় এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এইসব কথা বলছে। তিনি অবশেষে জোর দেন, এই ধরনের বিভ্রান্তিপূর্ণ তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই এবং সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।